‘খ্রিস্টান হওয়ায় হত্যা করেছি’, নিজেকে জিহাদি দাবি করল ব্রিটিশ নারী হত্যাকারী
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি পরিত্যক্ত ভবনে স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ সমাজকর্মী এলিজাবেথ জেন রস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এলিজাবেথ জেন রস স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসে শরণার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি জুলাই মাসে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে এথেন্সে যান। ১৫ জুলাই নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ১৮ জুলাই শহরের কিপসেলি এলাকার একটি পরিত্যক্ত নির্মাণাধীন ভবনে সবুজ রঙের একটি স্যুটকেসের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়।
তদন্তে গ্রিক পুলিশ জানায়, ২৬ বছর বয়সী এক আফগান বংশোদ্ভূত পেশাদার বক্সারকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রিসের গোপনীয়তা আইনের কারণে কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম প্রকাশ করেনি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে দাবি করেন তিনি রসকে মৃত অবস্থায় পেয়েছিলেন এবং ভয় পেয়ে মরদেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে দেন। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে স্যুটকেস টেনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া রসের মোবাইল ফোন ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশ তার বাসা থেকে একটি ছুরি ও একটি নকল পিস্তল উদ্ধার করেছে।
ময়নাতদন্তে মরদেহে পচন ধরায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
আদালত অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। এরপর তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তে গ্রিক পুলিশ ছাড়াও যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, পুলিশ স্কটল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সহায়তা করছেন।
তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreভারতের উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার অভিযোগ করেছেন। সাধনা নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দীপক তার মাথায় আঘাত করেন, পরে কামড়ে তার নাকের একটি অংশ ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন। ঘটনার পর পুলিশ স্বামীকে আটক করেছে এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে। পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটে। প্রায় আড়াই মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর সাধনা হঠাৎ সেখানে ফিরে আসেন। পুলিশ বলছে, প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ দিয়ে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের পর দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। সাধনার অভিযোগ, ওই সময় তার স্বামী দীপক তাকে মাথায় আঘাত করেন এবং কামড়ে তার নাকের অংশ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সেটি নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। তার আরও অভিযোগ, শ্বশুর ও শাশুড়ি ওই সময় তার হাত ধরে রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই থানায় নিয়ে আসে। পরে দীপককে আটক করা হয়। আহত সাধনাকে প্রথমে সান্ডি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হারদই মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার বিষয়ে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। দীপকের মা দাবি করেছেন, সাধনা প্রায় আড়াই মাস আগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিষয়টি আগে পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। দীপকের মায়ের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সাধনা হঠাৎ বাড়িতে ফিরে এসে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে সাধনাই প্রথমে তার স্বামীর শরীরের সংবেদনশীল অংশে কামড় দেন এবং পরে নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এসব অভিযোগও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাধনা ও দীপকের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের বয়স ৮, ৬ ও ৩ বছর। ঘটনার পর দুই পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও হামলার ধারাবাহিকতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধনার পক্ষ থেকে তখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অন্যদিকে দীপকের মা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কার অভিযোগ কতটা সত্য, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলার সান্ডি থানা এলাকায় ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ, নাকের হাড় স্থানচ্যুত
করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত
রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক
নিজের পূর্বপুরুষদের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ টেস্ট করিয়েছিলেন এক মা। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর তার পরিবার সেটি প্রকাশ্যেও আনে। কিন্তু ফল প্রকাশের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে পূর্বপুরুষের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহের অবসান হয়নি। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ওই নারীর পরিবার ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলেও অনলাইনে থাকা অনেক মানুষের সন্দেহ দূর হয়নি। বরং ছবিটি যেসব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানেই তার বংশপরিচয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। ঘটনাটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তত একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল সামনে আনা হয়েছিল। বংশপরিচয় বা পূর্বপুরুষের উৎস সম্পর্কে জানতে ডিএনএ টেস্ট বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। এ ধরনের পরীক্ষায় জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তির পূর্বপুরুষের সম্ভাব্য ভৌগোলিক উৎস ও আত্মীয়তার কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলকে ঘিরেও মানুষের প্রত্যাশা ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ের ancestry DNA test সাধারণত কোনো ব্যক্তির পূর্বপুরুষের সম্ভাব্য অঞ্চল বা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক তথ্য দেয়। এটি সবসময় পারিবারিক ইতিহাসের প্রতিটি প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয় না। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আলোচিত ঘটনাটিতে পরিবারের পক্ষ থেকে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও অনলাইনের সন্দেহ থামেনি। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে একবার ধারণা তৈরি হয়ে গেলে প্রমাণ সামনে আসার পরও সেই ধারণা কীভাবে টিকে থাকতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে। তবে ওই নারী বা তার পরিবারের পরিচয়, ডিএনএ পরীক্ষার নির্দিষ্ট ফল এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। পরিবারের প্রকাশ করা পরীক্ষার ফল থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য বা সন্দেহকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে চীনের নতুন পদক্ষেপ, তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ড্রোন 'মাদারশিপ'
জার্মানিতে এএফডির উত্থান, দেশটিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় অভিবাসীরা
'গাজায় ইসরায়েলের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়': মঞ্চে কেঁদে বললেন এড শিরান
তুরস্কে ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্তৃপক্ষের দাবি, তুরস্ক থেকে পরিচালিত এই চক্রটি ভুয়া ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযানে ৯ ইসরায়েলি নাগরিকসহ ২০১ জনকে আটক করা হয়েছে। ইস্তাম্বুলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের চারটি পৃথক তদন্তের ভিত্তিতে শুক্রবার ইস্তাম্বুল ও মুগলা প্রদেশে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত ৪২টি কল সেন্টারসহ ২৮৬টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ২৩৯ জনের বিরুদ্ধে আটকাদেশ ছিল। পরে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন ইসরায়েলি নাগরিক। এছাড়া পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সার্চ ইঞ্জিন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিনিয়োগের বিজ্ঞাপন দিত। সেখানে ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে দ্রুত ও বড় অঙ্কের লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন চক্রের কর্মীরা। পরে তাদের নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। তদন্তে উঠে এসেছে, বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম লাভের হিসাব দেখানো হতো। এতে অনেকেই আরও বেশি অর্থ জমা দিতেন। কিন্তু টাকা তোলার চেষ্টা করলে তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হতো। এরপর অ্যাকাউন্ট খুলতে বা কর পরিশোধের নামে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া হতো। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকৃতপক্ষে এসব অর্থ কোনো বিনিয়োগে ব্যবহার করা হয়নি। বরং বিভিন্ন দেশের ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের অনুসন্ধানে চক্রটির কোম্পানিগুলোর মালিকানা এবং চূড়ান্ত সুবিধাভোগীদের মধ্যে ইসরায়েল-সংযুক্ত ব্যক্তিদের প্রাধান্য পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিচারমন্ত্রী গুরলেক। তদন্তে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া শত শত অভিযোগ এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, চক্রটির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ব্যবস্থাপনার জন্য লোক নিয়োগ করতেন। কোম্পানি নিবন্ধন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণসহ সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার জন্য এসব ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হতো। এরপর লক্ষ্য করা দেশের বাইরে কল সেন্টার স্থাপন করে সেখান থেকে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রের কর্মীদের নির্দিষ্ট পরিচয় ও ছদ্মনাম ব্যবহার করতে বলা হতো। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে তাদের ভাষায় যোগাযোগ করে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলাই ছিল মূল লক্ষ্য। ভুয়া লাভের হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আরও অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বলছে, চক্রটি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। ভুক্তভোগীদের মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, দুই বছরে চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন তুর্কি লিরায় পৌঁছেছিল, যা প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। এই অর্থের একটি বড় অংশ অফিস পরিচালনা ও কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অবৈধ অর্থের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বলে তদন্তকারীদের দাবি। অভিযানে সন্দেহভাজনদের প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন তুর্কি লিরা মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে যানবাহন, সম্পত্তি এবং বিভিন্ন আর্থিক ও ক্রিপ্টো সম্পদের হিসাব রয়েছে বলে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানের পরও চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানটি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি, পুলিশ, সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট, আর্থিক অপরাধ তদন্ত বোর্ড এবং ইন্টারপোলের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। সূত্র: তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয়, আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স
গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ছাড়ছে না ডেনমার্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন চুক্তি
যে যুদ্ধের মধ্যে বেঁচে আছেন, সেই যুদ্ধই মঞ্চে অভিনয় করছেন গাজার শিল্পীরা