যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যানের এক সাবেক কর্মীর করা চাঞ্চল্যকর যৌন হয়রানির মামলা ভেস্তে যাওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। চিরায়ু রানা নামের ওই ব্যাংকার তার নারী বস লর্না হাজডিনির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ‘যৌনদাস’ বা সেক্স স্লেভ বানানোর গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন।
তবে সম্প্রতি এই হাই-প্রোফাইল মামলার গতিপ্রকৃতি এবং বাদীর আইনজীবীদের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের কারণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মামলাটি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ছে। ম্যানহাটনের আদালতে চলা এই মামলাটিকে ‘আবেগজনিত হতাশা’ এবং একটি ভিত্তিহীন অভিযোগের দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কর্মক্ষেত্র বিষয়ক আইনজীবী নিকোল ব্রেনেকি।
মামলাটির দুর্বলতার অন্যতম বড় লক্ষণ হলো, রানার নতুন পাঁচ সদস্যের আইনজীবী দল গত সপ্তাহে রাজ্য আদালত বা স্টেট কোর্ট থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে ফেডারেল কোর্টে নেওয়ার আবেদন করেছে। প্রকাশ্যে তারা নতুন প্রমাণ ও ফেডারেল আইনের কথা বললেও, বিশেষজ্ঞরা এটিকে স্রেফ ‘ফোরাম-শপিং’ বা নিজেদের সুবিধামতো বিচারক খোঁজার কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
স্টেট কোর্টের বিচারক ডাকোটা রামসিউর অত্যন্ত কড়া ধাচের মানুষ এবং তিনি ইতিমধ্যে মামলাটির যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে এটি আদালতের বাইরে মীমাংসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। মূলত এই বিচারকের হাত থেকে বাঁচতেই ফেডারেল কোর্টে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আরেক আইনজীবী ডেভিড রিং সতর্ক করে বলেছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে ফেডারেল কোর্টে গেলে রানাকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে, কারণ সেখানকার বিচারকরা এ ধরনের অসদাচরণ একেবারেই বরদাশত করেন না।
মামলাটি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন রানার প্রথম আইনজীবী ড্যানিয়েল কায়সার বাদীর নাম গোপন রাখার একটি শুনানির ঠিক আগমুহূর্তে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সুসান ক্রুমিলার জানিয়েছেন, এত সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও রানার আইনজীবীরা এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো শক্ত প্রমাণ—যেমন টেক্সট মেসেজ বা ইমেইল—উপস্থাপন করতে পারেননি।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে লর্না হাজডিনি উল্টো রানার বিরুদ্ধে মানহানির পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। তার দাবি, এই ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। কোনো ধরনের ডিজিটাল বা লিখিত প্রমাণ ছাড়া চিরায়ু রানা আদৌ এই মামলায় টিকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বাস্কেটবল দল নিকসের ভক্তদের উন্মাদনা চরম ধ্বংসযজ্ঞ ও তাণ্ডবে রূপ নিয়েছে। এই উৎসবমুখর এলাকায় জড়ো হওয়া উচ্ছৃঙ্খল ভক্তরা বেশ কয়েকটি স্কুল বাস ব্যাপক ভাঙচুর করার পাশাপাশি একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, উন্মত্ত জনতা জ্বলন্ত পোশাক বাসের ভেতর ছুড়ে মারছে এবং দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা বাসের ছাদে উঠে বন্য উল্লাসে নাচানাচি করছে। ৪২তম স্ট্রিট সাবওয়ে স্টেশনের কাছে পার্ক করে রাখা বাসগুলোকে রীতিমতো ছিন্নভিন্ন করে ফেলে এই দাঙ্গাকারীরা। হামলাকারীরা বাসের ইঞ্জিন কভার বা হুড উপড়ে ফেলে এবং কেউ কেউ সেই উন্মুক্ত ইঞ্জিনের ওপর দাঁড়িয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ উল্লাস প্রকাশ করে। রাস্তায় কাঁচের বিয়ারের বোতল ভাঙার শব্দ এবং চারদিকের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে এক আতঙ্কিত ভক্ত চিৎকার করে বলে ওঠেন, "আমি আমার বন্ধুদের জন্য ভয় পাচ্ছি!" অন্য একটি ভিডিওতে এক নারীকে এই ধ্বংসযজ্ঞের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, "আপনারা কি জানেন আমাদের করের টাকায় সরকারি স্কুলগুলো চলে?" তাণ্ডবকারীদের বাসের গ্রিল ও আয়না ভেঙে রাস্তায় ফেলে তার ওপর লাফিয়ে টুকরো টুকরো করতে দেখা যায়। ধ্বংস হওয়া একটি বাসের গায়ে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে "লেটস গো নিকস" এবং "ফাক আইস" লিখে দেওয়া হয়। এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর রাত আড়াইটার দিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি হস্তক্ষেপে বাধ্য হয়। রবিবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই তাণ্ডবের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাণ্ডব চলাকালে ওই এলাকায় পার্ক করে রাখা আরেকটি বাসেও হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে বাসের অসহায় চালক নিজের শরীর দিয়ে বাসটিকে আড়াল করে হামলাকারীদের কাছে সেটি অক্ষত রাখার আকুতি জানান। হতাশাগ্রস্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, "এতে আমার রুটিরুজি নষ্ট হচ্ছে, এই ক্ষতিপূরণ আমার বেতন থেকেই কাটা যাবে!" এই ঘটনার পর শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অদূরে মিসৌরিতে স্কাইডাইভার বা আকাশ থেকে লাফ দেওয়ার রোমাঞ্চকর খেলায় অংশ নেওয়া আরোহীদের বহনকারী একটি ব্যক্তিগত বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন স্কাইডাইভার এবং একজন পাইলট ছিলেন। রবিবার (স্থানীয় সময়) মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। উড্ডয়নের পর মাঝআকাশে বিমানটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করার পরপরই ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিসৌরির বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করেছিল। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিজনেস ৪৯ হাইওয়ের কাছে অজ্ঞাত কারণে বিমানটি হঠাৎ উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে এবং এর অল্প সময়ের মধ্যেই মাটিতে আছড়ে পড়ে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সব আরোহীই প্রাণ হারান। তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগমুহূর্তে প্রাণ বাঁচাতে কোনো স্কাইডাইভার নিচে লাফিয়ে পড়েছিলেন কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। বেটস কাউন্টি শেরিফ অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেওয়া এবং প্রাথমিক তদন্তের সুবিধার্থে বিমানবন্দরের কাছাকাছি বিজনেস ৪৯ হাইওয়ের সব লেনে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত কোয়েটা কাউন্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য বিশাল কম্পিউটার ডাটা সেন্টার বা প্রযুক্তি পার্ক তৈরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ‘প্রজেক্ট সেল’ নামের আটশ একরেরও বেশি বড় এই ডাটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ রুখে দিতে তারা সেখানে এক বিশাল গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন। নিজেদের গ্রামীণ পরিবেশ, চাষের জমি, ভূগর্ভস্থ পানি ও সামগ্রিক প্রকৃতি রক্ষা করতে এবার সম্পূর্ণ একজোট হয়েছেন আমেরিকার এই প্রান্তিক অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা। কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই গণস্বাক্ষর আন্দোলনে ইতোমধ্যেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার স্থানীয় মানুষ নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৪ হাজার মানুষের নিশ্চিত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। যদি এই গণস্বাক্ষর অভিযান সফল হয়, তবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে এটি হবে মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ তৈরি হবে। সাম্প্রতিক এক জাতীয় জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন মানুষই তাদের বসতবাড়ির কাছাকাছি এমন বড় কোনো প্রযুক্তি পার্ক বা ডাটা সেন্টার তৈরির তীব্র বিরোধিতা করছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পের কারণে গ্রামীণ এলাকায় মারাত্মক শব্দদূষণ বাড়বে এবং সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ পড়বে। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের গবেষকরাও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাদের মতে, এই বিশাল কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণকাজের ফলে স্থানীয় নদীগুলোতে পলি জমে পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে পারে, যা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একই সাথে বনাঞ্চল ধ্বংস করার কারণে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। কোয়েটা কাউন্টির স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে জমিটিকে গ্রামীণ সংরক্ষণ এলাকা থেকে শিল্প এলাকা হিসেবে ঘোষণা করায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্ক নামক শহরটি আমেরিকার প্রথম শহর হিসেবে এই ধরনের ডাটা সেন্টারের বিরুদ্ধে গণভোটে জয়লাভ করেছিল। আমেরিকার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের তৈরি হওয়া আন্দোলন এখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদেরও বড় বড় কর্পোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন সাহস জোগাচ্ছে।