সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

টেসলা ও ক্লাউডকিচেনসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এআইভিত্তিক কোম্পানি গড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ১১:২৭
এআইভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ম্যাটার’ প্রতিষ্ঠা করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী আদি প্রসাদ। ছবি: সংগৃহীত
এআইভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ম্যাটার’ প্রতিষ্ঠা করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী আদি প্রসাদ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের দুই প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও ট্রাভিস কালানিকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী আদি প্রসাদ। টেসলায় উৎপাদন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ থেকে শুরু করে ক্লাউডকিচেনসে দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এই দুই পর্যায়ের শিক্ষা আজ তার নতুন স্টার্টআপ ‘ম্যাটার’ এর ভিত্তি।

 

বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে ৩৫ বছর বয়সী আদি প্রসাদ জানান, তিনি শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলেন। তবে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ার আগে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি নেতাদের কাছ থেকে শেখাকে তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই ২০১৫ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে যোগ দেন টেসলায়।

 

সেই সময় টেসলা বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছিল। আদি প্রসাদকে কাজ করতে হয় মডেল এক্স গাড়ির জটিল ‘ফ্যালকন উইং’ দরজার উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্পে, যা তখন কোম্পানির অন্যতম কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে তিনি কাছ থেকে ইলন মাস্কের নেতৃত্বের ধরন, সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সংস্কৃতি দেখার সুযোগ পান।

 

তার ভাষায়, ইলন মাস্কের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা। কোনো কিছু দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে করা হচ্ছে, শুধু সেই কারণেই সেটি ঠিক এমন ধারণায় তিনি বিশ্বাস করতেন না। বরং প্রথম নীতি বা ‘ফার্স্ট প্রিন্সিপলস’ থেকে চিন্তা করে নতুন সমাধান বের করার ওপর জোর দিতেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীতে আদি প্রসাদের উদ্যোক্তা জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।

 

টেসলার পর তিনি অ্যাপলে প্রোডাক্ট কোয়ালিটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। এরপর যোগ দেন উবারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী ট্রাভিস কালানিকের নতুন প্রতিষ্ঠান ক্লাউডকিচেনসে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকের কর্মীদের একজন হিসেবে খুব কাছ থেকে একটি দ্রুত সম্প্রসারণশীল প্রযুক্তি কোম্পানির ভেতরের কার্যক্রম দেখার সুযোগ পান।

 

আদি প্রসাদের মতে, ট্রাভিস কালানিকের কাছ থেকে তিনি শিখেছেন সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে বড় পরিসরে ব্যবসা গড়ে তুলতে হয়। প্রতিটি সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব, ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের সংস্কৃতি তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে আরও বাস্তববাদী হতে সাহায্য করেছে। তিনি মনে করেন, একটি সফল প্রযুক্তি কোম্পানি শুধু ভালো ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; দক্ষ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

 

এই অভিজ্ঞতার পর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন আদি প্রসাদ। এরপর ২০২৫ সালে তিনি সহ-প্রতিষ্ঠা করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাটার’। চাকরির নিরাপদ জীবন ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন।

 

ম্যাটার মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে আরও দক্ষ, দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয় করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য এমন একটি ‘স্মার্ট ফ্যাক্টরি’ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যেখানে সফটওয়্যার, রোবট এবং এআই একসঙ্গে কাজ করে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ পরিচালনা করবে। বিশেষ করে ড্রোন, রোবোটিকস, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, শিল্পযন্ত্র এবং জটিল ইলেকট্রোমেকানিক্যাল পণ্য উৎপাদনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

শুধু সফটওয়্যার তৈরি করেই থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটি। ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভ্যালে তারা নিজস্ব একটি আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রও পরিচালনা করছে। বাস্তব কারখানায় উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে তাদের এআই প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তোলা হচ্ছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য ভবিষ্যতে এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান সহজেই ব্যবহার করতে পারবে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন শিল্পেও বড় পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে দেশীয় কারখানায় নতুন বিনিয়োগ করছে। এই পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতেই ম্যাটারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআইনির্ভর উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

 

আদি প্রসাদের বিশ্বাস, উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কখনোই শতভাগ প্রস্তুত হওয়া সম্ভব নয়। তবে বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার অভিজ্ঞতা একজন উদ্যোক্তাকে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দেয়। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, বাস্তব শিল্পের অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে মিশিগানে গ্রেপ্তার

মিশিগানের ৬২ বছর বয়সী এমোরি ম্যাথিউজকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজের মালিকানাধীন ডেট্রয়েটের একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেওয়া হয়নি এমন সাইকোথেরাপি সেবার বিল মেডিকেয়ারে জমা দেওয়া হয়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এমোরি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি মেডিকেয়ারে জমা দেন। এমন রোগীদের নামেও বিল করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কর্মীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। এমোরি ম্যাথিউজ এর আগে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবৈধ ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে মেডিকেয়ারে বিল করার ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার বিষয়টি গোপন করে তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।   এই মামলায় তাঁর স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজ আগেই স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এমোরি ম্যাথিউজের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৭:৫৯
৪৬ বছর বয়সী মাইকেল ইয়াং এবং ৪৮ বছর বয়সী লাকিয়া ম্যালোন

গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ ১২ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সুদের হার বাড়াচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ, ঋণগ্রহীতাদের খরচ বাড়লেও লাভ সঞ্চয়কারীদের

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও সুদের হার বাড়াচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ, ঋণগ্রহীতাদের খরচ বাড়লেও লাভ সঞ্চয়কারীদের

মার্কিন বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ছাড়াই ইমিগ্রেশন, বিদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক চেক

মার্কিন বিমানবন্দরে পাসপোর্ট ছাড়াই ইমিগ্রেশন, বিদেশিদের জন্য বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক চেক

নিউইয়র্ক ছাড়াও আমেরিকায় ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’ দেশি খাবার ও বাজারে জমজমাট আড্ডা
নিউইয়র্ক ছাড়াও আমেরিকায় ১০ ‘ছোট বাংলাদেশ’ দেশি খাবার ও বাজারে জমজমাট আড্ডা

নিউইয়র্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হলেও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে আরও বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি। কোথাও বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারি, কোথাও মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষা, আবার কোথাও ব্যবসা ও পেশাজীবী নেটওয়ার্ককে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিবেশ, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের ভাষা, খাবার, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন অনেকটাই ধরে রাখতে পারছেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভে বিশ্লেষণে নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি ও বোস্টনের মতো মেট্রোপলিটন এলাকার নাম এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তথ্যভিত্তিক ওই তালিকায় আটলান্টিক সিটিও ছিল শীর্ষ ১০-এর মধ্যে।   এখানে ‘ছোট বাংলাদেশ’ কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নাম নয়। এটি এমন এলাকাকে বোঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশি পরিবার, ব্যবসা, খাবার, গ্রোসারি, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সেবা মিলিয়ে একটি দৃশ্যমান কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক, মিশিগান: নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির কথা উঠলে মিশিগানের ডেট্রয়েট ও হ্যামট্রাম্যাক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিশেষ করে হ্যামট্রাম্যাকের কন্যান্ট অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ব্যবসা ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।   ডেট্রয়েটের পর্যটন সংস্থা ভিজিট ডেট্রয়েটের তথ্য অনুযায়ী, হ্যামট্রাম্যাক ও উত্তর ডেট্রয়েট এলাকায় আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন বলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মেট্রো ডেট্রয়েটের হিসাব। এলাকাটিতে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের পাশাপাশি গ্রোসারি ও হালাল খাবারের দোকানও রয়েছে।    হ্যামট্রাম্যাকে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধর্মীয় অবকাঠামোরও দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আল-ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশি অভিবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরে মাদ্রাসা বা ইসলামিক স্কুলের কার্যক্রমও চালু করা হয়।    কন্যান্ট স্ট্রিটে ফ্যামিলি বাজার, মেঘনা বাজার, মারহাবা বাজার ও হেরা ফিশ মার্কেটের মতো দোকানে বাংলাদেশি গ্রোসারি, মসলা, সবজি, হালাল মাংস ও মাছ পাওয়া যায়।    লস অ্যাঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া: লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘লিটল বাংলাদেশ’ সম্ভবত নিউইয়র্কের বাইরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে পরিচিত নামগুলোর একটি। থার্ড স্ট্রিট ও আলেকজান্দ্রিয়া অ্যাভিনিউ ঘিরে গড়ে ওঠা চার ব্লকের এই এলাকাটি ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। এলাকায় রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট, আবাসিক এলাকা ও বাংলাদেশি কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।    লিটল বাংলাদেশের রাস্তায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি গ্রোসারি, বিউটি সেলুন, মোবাইলের দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা দেখা যায়। বাংলা ভাষার কথাবার্তা, দেশি খাবারের গন্ধ এবং বাংলাদেশি পণ্য বিক্রি করা দোকান এলাকাটিকে অন্য অনেক আমেরিকান এলাকার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।   থার্ড স্ট্রিটের বিভিন্ন দোকানে দেশি মাছ, মসলা, চাল, ডাল ও হালাল পণ্য পাওয়া যায়। কিছু ব্যবসায় একই সঙ্গে গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট পরিচালিত হচ্ছে।    ওয়াশিংটন মেট্রো, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড: ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন এলাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির আরেকটি বড় কেন্দ্র। এই কমিউনিটি শুধু ডিসি শহরে সীমাবদ্ধ নয়; নর্দার্ন ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসা ছড়িয়ে আছে।   পিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক বাংলাদেশি জনসংখ্যা বিশ্লেষণে নিউইয়র্ক ও ডেট্রয়েটের পর ওয়াশিংটন মেট্রোকে বড় বাংলাদেশি কেন্দ্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা এই বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার এবং এর ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    এই অঞ্চলের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো পেশাজীবীদের শক্ত উপস্থিতি। সরকারি চাকরি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, মসজিদ ও কমিউনিটি সংগঠনও রয়েছে।   ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া: পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়া মেট্রো এলাকাও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের বিশ্লেষণে ফিলাডেলফিয়া মেট্রোতে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশির বসবাসের হিসাব পাওয়া যায়।    শহর ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, গ্রোসারি, হালাল খাবারের ব্যবসা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বাংলা ভাষার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এই কমিউনিটির পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   আটলান্টা, জর্জিয়া: দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র আটলান্টা মেট্রো। বিশেষ করে ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, নরক্রস এবং বাফোর্ড হাইওয়ের আশপাশে বাংলাদেশি ব্যবসার দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে।   বর্তমানে আটলান্টা এলাকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারির বিস্তৃত তালিকা পাওয়া যায়। স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসা ডিরেক্টরিতে রুচি বাংলাদেশি কুইজিন, দেশি স্ট্রিট ফুড, আলিফ ক্যাফে, আল-আমিনসহ একাধিক বাংলাদেশি খাবারের ব্যবসা এবং একাধিক গ্রোসারি ও হালাল মাংসের দোকানের তালিকা রয়েছে।    ডোরাভিলের আল-আমিনের ও  জমজমের মতো কিছু ব্যবসায় একই ছাদের নিচে বাংলাদেশি খাবার, গ্রোসারি ও হালাল মাংসের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একজন বাংলাদেশি পরিবারের জন্য রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দেশি বাজার করা দুটোই একই জায়গায় সম্ভব।    ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ, টেক্সাস: টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায়ও গত কয়েক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মেট্রো বিশ্লেষণে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থে প্রায় ৬ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।    এই অঞ্চলের বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি খাবার ও গ্রোসারি ব্যবসাও তৈরি হয়েছে।   ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের পাশাপাশি টেক্সাসের হিউস্টনেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে।   হিউস্টন, টেক্সাস: হিউস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো দেশি খাবার ও বাজারের সমন্বয়। রুপশি বাংলা গ্রোসারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নিজেদের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং মিলনস্থল হিসেবে পরিচয় দেয়। হাইওয়ে ৬ এলাকার এই ব্যবসায় বাংলাদেশি খাবারের পাশাপাশি মাছ, সবজি, চাল, মসলা ও হালাল মাংসসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়।    পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে হিউস্টন মেট্রোতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল।    মিয়ামি, ফ্লোরিডা: দক্ষিণ ফ্লোরিডার মিয়ামি মেট্রোতেও বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। পিউ রিসার্চের একই মেট্রো বিশ্লেষণে মিয়ামিতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির হিসাব পাওয়া যায়।    এখানে বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, হালাল খাবার, গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে দূরত্বের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ ধরে রাখছেন অনেকে।   বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস: নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পুরোনো কেন্দ্র বোস্টন। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের হিসাবে বোস্টন মেট্রোতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির বসবাস ছিল।    তবে জনসংখ্যার সংখ্যা দিয়ে কমিউনিটির সাংগঠনিক শক্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বোস্টনে কয়েক দশকের বাংলাদেশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ইতিহাস রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ডও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।   আটলান্টিক সিটি, নিউ জার্সি: নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিও বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের শীর্ষ ১০ মেট্রো তালিকায় আটলান্টিক সিটিতে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির হিসাব ছিল।    এখানে বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। মাসজিদ আল-হেরা নিজেদেরকে আটলান্টিক সিটির বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির প্রথম মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সেখানে নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি শিশুদের ইসলামিক স্কুল ও প্রাপ্তবয়স্কদের কোরআন শিক্ষার কার্যক্রম রয়েছে।    বাংলাদেশি কমিউনিটি শুধু জনসংখ্যার হিসাব নয়: যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি নিয়ে কথা বলার সময় শুধু কতজন বাংলাদেশি কোথায় থাকেন, সেই সংখ্যা দিয়ে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। একটি কমিউনিটি কতটা প্রতিষ্ঠিত, সেটি বোঝার জন্য সেখানে বাংলাদেশি ব্যবসা, গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন এবং পেশাজীবী নেটওয়ার্ক কতটা গড়ে উঠেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-একা জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ নিউইয়র্কে বসবাস করে। একই বিশ্লেষণে মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও নিউ জার্সিকে বাংলাদেশি জনসংখ্যার বড় রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।    অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকাভিত্তিক তথ্য দেখায়, নিউইয়র্কের বাইরেও ডেট্রয়েট, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, বোস্টন ও আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের দৃশ্যমান উপস্থিতি রয়েছে।    এই এলাকাগুলোর কোথাও হয়তো নিউইয়র্কের মতো বিশাল বাংলাদেশি জনসংখ্যা নেই। কিন্তু দেশি খাবারের রেস্টুরেন্ট, বাংলাদেশি বাজার, মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা, সামাজিক অনুষ্ঠান আর বাংলায় আড্ডার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রবাসী জীবনে এসব জায়গা নিজেদের মতো করে একেকটি ‘ছোট বাংলাদেশ’-এর রূপ নিয়েছে।   নিউইয়র্ক তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি জীবনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হলেও, বাংলাদেশি আমেরিকানদের গল্প এখন আর একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে হাজার হাজার মাইল দূরে, আমেরিকার নানা প্রান্তে তৈরি হয়েছে এমন কিছু কমিউনিটি, যেখানে একটি রেস্টুরেন্টের টেবিলে বসে দেশি খাবার খাওয়া, পাশের দোকান থেকে বাংলাদেশের মাছ-মসলা কেনা এবং পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাংলায় কয়েক ঘণ্টা আড্ডা দেওয়া এখন প্রবাসী জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:১৯
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ইসরায়েলের স্বার্থের অনুগত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কথামতো মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: ট্রাম্পের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া ট্রাকচালকদের ওপর কড়া নজরদারি ও কমার্শিয়াল ড্রাইভার লাইসেন্স বা সিডিএল নিয়ে নতুন নিয়ম জারি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, ২ লাখের সিডিএল বাতিলের ঝুঁকি

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানকে ঘিরে নিউইয়র্কে দলীয় মতবিরোধ, সংবর্ধনা নিয়ে টানাপোড়েন; ক্যালিফোর্নিয়া সফরও বাতিল

টেক্সাসের ট্রিনিডাডে স্থানীয় পানির মান নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার অপরাধে এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুকে পানির অভিযোগ করায় মাকে গ্রেপ্তার, ভেঙে দেওয়া হচ্ছে টেক্সাসের সেই পুলিশ বিভাগ

টেক্সাসের ছোট শহর ট্রিনিডাডের পুলিশ বিভাগকে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় পানির মান নিয়ে ফেসবুকে অভিযোগ করার পর এক নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘিরে বিভাগটির কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, পুলিশ বিভাগটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা হিসেবে ন্যূনতম কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডও পূরণ করছিল না।    টেক্সাস কমিশন অন ল এনফোর্সমেন্ট বা টিসিওএলই ৯ সেপ্টেম্বর ট্রিনিডাডের মেয়র ডেনিস হজকে চিঠি দিয়ে পুলিশ বিভাগের কার্যক্রমের অনুমোদন প্রত্যাহারের কথা জানায়। কমিশনের তদন্তে বলা হয়, বিভাগটি ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য পুলিশ বিভাগ হিসেবে কী ধরনের জনকল্যাণমূলক ভূমিকা পালন করছে, তারও যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি।    ট্রিনিডাডে প্রায় ৮০০ মানুষের বসবাস। শহরটি ডালাস থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে হেন্ডারসন কাউন্টিতে অবস্থিত। ছোট এই পুলিশ বিভাগে পাঁচজন ফুলটাইম অফিসারসহ কয়েকজন পার্টটাইম কর্মকর্তা কাজ করতেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিভাগটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব নেবে হেন্ডারসন কাউন্টি শেরিফের অফিস।    পুলিশ বিভাগটির বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্রপাত হয় স্থানীয় বাসিন্দা জেনিফার কম্বসকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। মে মাসে কম্বস ফেসবুকে ট্রিনিডাডের পানির মান নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং এর কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগের কথা তুলে ধরেছিলেন। পরে ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে তাকে ‘মিথ্যা সতর্কতা বা রিপোর্ট’ সংক্রান্ত একটি গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি এক রাত জেলে ছিলেন। পরে সেই অভিযোগ আর বহাল থাকেনি।    পুলিশের তৎকালীন প্রধান চার্লস গ্রেগরি সে সময় কম্বসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি ছিল, তার ফেসবুক পোস্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা অপ্রয়োজনীয় জরুরি প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তবে ঘটনাটি দ্রুতই ব্যাপক আলোচনায় আসে, কারণ কম্বসের অভিযোগের কয়েক সপ্তাহ আগে শহর কর্তৃপক্ষ নিজেই পানির ব্যাপারে বাসিন্দাদের সতর্ক করে ফুটিয়ে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছিল।    পরবর্তীতে টেক্সাস কমিশন অন এনভায়রনমেন্টাল কোয়ালিটির তদন্তেও ট্রিনিডাডের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা থাকার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে কম্বস যে পানির মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, সেটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দাবির প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।    কম্বসকে গ্রেপ্তারের পরদিন তার এক সমর্থক উইনস্টন নোলসকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সিটি হলের বাইরে পুলিশের সমালোচনা করে একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই অভিযোগও পরে প্রত্যাহার করা হয়।    ঘটনাগুলোর পর টিসিওএলই পুলিশ বিভাগটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে শুধু বিতর্কিত গ্রেপ্তারের বিষয়ই নয়, পুলিশ বিভাগের সামগ্রিক কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, বিভাগটির কাছে কর্মকর্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম ছিল না। এর মধ্যে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ও উঠে আসে।    এ ছাড়া পুলিশের ব্যবহারবিধি, বলপ্রয়োগ, গাড়ি ধাওয়া, সক্রিয় বন্দুকধারী পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা এবং কর্মকর্তাদের পেশাগত আচরণ নিয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালার ঘাটতিও তদন্তে পাওয়া যায়। টিসিওএলইর তদন্তে মোট ১৮টি প্রয়োজনীয় নীতিমালার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে বলে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    এই ঘটনার মধ্যে জুনে পুলিশ প্রধান চার্লস গ্রেগরি পদত্যাগ করেন। পরে হেন্ডারসন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসও ট্রিনিডাড পুলিশ বিভাগের মামলা গ্রহণ বন্ধ করার কথা জানায়। কম্বসের গ্রেপ্তারের জন্য যে তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট নেওয়া হয়েছিল, সেটি নিয়েও বিচারকের পক্ষ থেকে তথ্যের নির্ভুলতা ও পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।    ট্রিনিডাডের মেয়র ডেনিস হজ পুলিশ বিভাগ বন্ধের সিদ্ধান্তকে বিস্ময়কর মনে করেননি বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিভাগটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার সমস্যা ছিল এবং এখন শহরকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।    পুলিশ বিভাগ বন্ধ হওয়ার পর আপাতত শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব হেন্ডারসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের হাতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ বিভাগের পুরোনো কার্যক্রম, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া চলবে।    কম্বস এরই মধ্যে নিজের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে শহরের বিরুদ্ধে ভুলভাবে গ্রেপ্তার ও প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন। তবে সেই মামলার অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। অন্যদিকে রাজ্য তদন্তের ফলাফলও কম্বসের বিরুদ্ধে আনা আগের অভিযোগকে আদালতের রায়ে মিথ্যা ঘোষণা করেনি। নিশ্চিতভাবে যা জানা গেছে, তা হলো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আর কার্যকর নেই এবং যে পুলিশ বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল, সেটি ন্যূনতম পরিচালনাগত মান পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১১:৬
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

ভোটার তালিকা নিয়ে কড়াকড়ি, অবৈধ ভোটের অভিযোগে গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে মার্কিন হাউসে পাস হওয়া ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের ক্ষমতা কমাতে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৭ রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট

চাহিদা ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে কস্টকোতে মোটর অয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কস্টকোতে মোটর অয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ, ক্রেতা কতটুকু তেল কিনবেন, তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ

0 Comments