যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতিপত্র, যা সাধারণভাবে ‘গ্রিন কার্ড’ নামে পরিচিত, সেটি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখো মানুষ। অনেকের ধারণা গ্রিন কার্ড পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো বিয়ে বা লটারি। বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার একাধিক বৈধ পথ রয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, পারিবারিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ সক্ষমতা কিংবা মানবিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত পথগুলোর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক স্পনসরশিপ, চাকরিভিত্তিক অভিবাসন, বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক আবেদন, বিনিয়োগ, আশ্রয়, শরণার্থী কর্মসূচি এবং ডাইভারসিটি ভিসা লটারি।
পারিবারিক স্পনসরশিপের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। মার্কিন নাগরিকরা তাদের স্বামী বা স্ত্রী, অবিবাহিত সন্তান, বিবাহিত সন্তান এবং বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন।
বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড
মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী কাউকে বিয়ে করলে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে বিয়েটি প্রকৃত এবং শুধু অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। এজন্য দম্পতির যৌথ বসবাস, আর্থিক লেনদেন, ছবি ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রয়োজন হলে সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়।
এইচ-ওয়ান বি ভিসা থেকে গ্রিন কার্ড
প্রতি বছর হাজারো বিদেশি পেশাজীবী এইচ-ওয়ান বি কর্মভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে যান। এই ভিসাধারীদের অনেকেই পরে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করেন। সাধারণত নিয়োগকর্তা কর্মীর পক্ষে স্থায়ী চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেন। শ্রমবাজার যাচাই, অভিবাসন আবেদন এবং ভিসা নম্বর পাওয়ার পর গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত আবেদন করা হয়।
ইবি-১: অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্নদের জন্য
বিজ্ঞান, গবেষণা, শিক্ষা, শিল্পকলা, ব্যবসা বা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসাধারণ অর্জন রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গবেষণা প্রকাশনা, বড় পুরস্কার বা নেতৃত্বের প্রমাণ থাকলে এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই আবেদন করা সম্ভব।
ইবি-২: উচ্চশিক্ষিত ও বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী
মাস্টার্স ডিগ্রি বা সমমানের উচ্চশিক্ষা এবং বিশেষ দক্ষতা থাকলে ইবি-২ ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক এবং অন্যান্য উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবীরা সাধারণত এই পথ ব্যবহার করেন। জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন এমন আবেদনকারীরা ‘ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভার’-এর মাধ্যমে নিয়োগকর্তা ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ পান।
ইবি-৩: দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের জন্য
দক্ষ শ্রমিক, পেশাজীবী এবং কিছু ক্ষেত্রে অদক্ষ কর্মীদের জন্য ইবি-৩ ক্যাটাগরি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর জন্য চাকরির অফার দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। বর্তমানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেও এই পথের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড
ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে আবেদনকারী এবং তার পরিবারের সদস্যরা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান।
আশ্রয়প্রাপ্তদের জন্য গ্রিন কার্ড
যারা রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতিগত বা অন্যান্য নির্যাতনের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পান, তারা আশ্রয় অনুমোদনের এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আশ্রয় মর্যাদা বহাল থাকতে হয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।
শরণার্থী কর্মসূচির মাধ্যমে
শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ব্যক্তিরা সাধারণত এক বছর পর গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। মানবিক বিবেচনায় পরিচালিত এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডাইভারসিটি ভিসা বা গ্রিন কার্ড লটারি
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সরকার নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি পরিচালনা করে। কম অভিবাসনপ্রবণ দেশগুলোর নাগরিকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত হলে নিরাপত্তা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে অভিবাসী ভিসা এবং পরবর্তীতে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়। এই ক্যাটাগরি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এখন!
বিশেষ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ড
ধর্মীয় কর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মচারী, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ সহযোগী এবং কিছু মানবিক কর্মসূচির আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ গ্রিন কার্ড কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও নথিপত্রের প্রয়োজন হয়।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ একাধিক হলেও প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা, নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন পুরো প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে পরিবারভিত্তিক আবেদন, কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন এবং বিশেষ দক্ষতাভিত্তিক ক্যাটাগরিগুলো গ্রিন কার্ড পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যবহৃত পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
আমেরিকায় অভিবাসী তরুণ বা 'ড্রিমার'রা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস বা ড্যাকা (DACA) কর্মসূচির আওতায় থাকা এই তরুণরা তাদের স্ট্যাটাস নবায়নের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নবায়ন প্রক্রিয়ায় এই অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকেই তাদের চাকরি হারাচ্ছেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একসময়ে যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ লাগত, বর্তমানে তা মাসের পর মাস আটকে থাকছে। ২০১২ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল শৈশবে নথিপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের নির্বাসন থেকে রক্ষা করা, যা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। ক্লাউদিয়া নামের এক ড্রিমার গত ডিসেম্বরে তার ড্যাকা নবায়নের আবেদন করেছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সে আমেরিকায় আসা এই তরুণী জানান, নির্ধারিত সময়ে আবেদন ও সব নিয়মকানুন মেনে বায়োমেট্রিক্স সম্পন্ন করার পরও দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তিনি কোনো উত্তর পাননি। ওয়ার্ক পারমিটের (কাজের অনুমতি) মেয়াদ শেষ হওয়ায় তার শিক্ষা ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়া ক্যারিয়ার এখন ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি 'ব্যক্তিগত আক্রমণ' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, সিজার নামের আরেক তরুণ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এইচআর (HR) বিভাগের চাকরি হারিয়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় বুরিটো বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হতাশাগ্রস্ত সিজার বলেন, "মনে হচ্ছে আমি আমার সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এখানেই বড় হয়েছি, আমাদের কমিউনিটি এখানেই, আর এখন মনে হচ্ছে আমাদের আমেরিকান স্বপ্নটা হঠাৎ করেই মিলিয়ে গেছে।" এই প্রশাসনিক বিলম্ব এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ড্রিমাররা ক্রমবর্ধমান বৈরিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের অভিবাসন দমন নীতির অংশ হিসেবে গত এক বছরে শত শত ড্যাকা গ্রহীতাকে গ্রেপ্তার ও অনেককে বিতাড়িত করা হয়েছে। প্রশাসন যদিও দাবি করছে যে তারা অপরাধের রেকর্ড থাকা অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করছে, তবে দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে নির্বাসনের মুখোমুখি হওয়া ৭৭ শতাংশ মানুষেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০০টি ভিন্ন দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি সক্রিয় ড্যাকা গ্রহীতা রয়েছেন, যারা মার্কিন অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রেখে চলেছেন। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ইউনাইটেড উই ড্রিমের উপ-পরিচালক জুলিয়ানা ম্যাসেডো দো নাসিমেন্তোর মতে, এই বিলম্ব আসলে ড্রিমারদের কর্মক্ষেত্র থেকে ছিটকে ফেলার একটি সুকৌশল। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ড্যাকা গ্রহীতাদের জন্য নতুন কিছু কাজের বিধিনিষেধও প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে নিয়োগকর্তাদের 'ই-ভেরিফাই' ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অন্যতম। ম্যাসেডো দো নাসিমেন্তো একে একটি "ব্যাপক অবৈধকরণ প্রচেষ্টা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এদিকে, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ড্যাকা দেশে কোনো আইনি বৈধতা দেয় না এবং সংস্থাটি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় অভিবাসীদের আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা মার্কিন কংগ্রেসের কাছে একটি দ্বিদলীয় 'ড্রিম অ্যাক্ট' পাসের আহ্বান জানাচ্ছেন, যা এই তরুণদের স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা ও নাগরিকত্বের পথ প্রশস্ত করবে। দ্য ড্রিম ডট ইউএস-এর প্রেসিডেন্ট গ্যাবি পাচেকো বলেন, বছরের পর বছর অবদান রাখা এই মানুষগুলো আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব ও রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে সবকিছু হারাচ্ছে, যা আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নিষ্ঠুর একটি অধ্যায়।
অরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা: প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এবিএম আতীকুজ্জামান সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক পোস্টে দুই বাংলাদেশি তরুণ চিকিৎসক রাইসা ও জান্নাতের প্রশংসা করে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। ডা. আতীকুজ্জামান জানান, রাইসা ও জান্নাত সম্প্রতি তাঁর কর্মস্থলে ক্লিনিক্যাল রোটেশনে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় তাদের কর্মনিষ্ঠা, চিকিৎসা জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ এবং মানুষের জন্য কাজ করার আন্তরিক মানসিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, রাইসা সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। একজন মেধাবী ও লক্ষ্যনিষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি নিজেকে আরও দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি Planetary Health Academia-এর সহায়তায় পরিচালিত Road to Residency প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে জান্নাত চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক সম্পন্ন করার পর জনস্বাস্থ্য ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় কাজ করে তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। ডা. আতীকুজ্জামান তাঁর পোস্টে আরও বলেন, রাইসা ও জান্নাতের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের জন্য কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তারা শুধু নিজেদের পেশাগত জীবনেই সফল হবেন না, বরং ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ চিকিৎসকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবেন। প্রবাসে চিকিৎসা পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা এই দুই বাংলাদেশি তরুণীর অর্জন ও সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই কমিউনিটির অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ডা. আতীকুজ্জামানের মতো একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের এমন প্রশংসা তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের উপস্থিতিতে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে। চুক্তি সইয়ের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিস্তারিত প্রকাশ করবেন। দুই দেশের এই সমঝোতা স্মারকে মূলত সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমত, সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ও লেবানন পরিস্থিতির বিষয়ে উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে তাদের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির পর লেবাননে ইসরায়েলের আর কোনো হামলা হবে না এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে পাল্টা কোনো হামলা চালাবে না। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবানন, সিরিয়া ও গাজার দখলকৃত নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে আপাতত অবস্থান করবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার মতে, স্মারক সই হওয়ার পর সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই আন্তর্জাতিক জলপথ খুলে দেওয়া হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফারস জানিয়েছে, চুক্তির অধীনে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। তৃতীয়ত, পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টানতে ইরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে এবং নতুন করে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না। এর বিনিময়ে ইরানে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি অবশ্যই মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে পর্যালোচনা ও অনুমোদিত হতে হবে। চতুর্থত, নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থ ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট দ্বিমত ও ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার দাবি, এই নগদ অর্থ আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা ও ফাইন্যান্সিয়াল ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে ছাড় করা হবে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে এখনই কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হবে না, তবে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্ভাব্যভাবে প্রত্যাহার করা হতে পারে। সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইরানের জন্য একটি বিশেষ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে এই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে। এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর, আগামী ৬০ দিন ধরে পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞার মতো অপেক্ষাকৃত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলবে।