গ্রিন কার্ড

গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে আটক হওয়া এবং টানা ৬৬ দিন বন্দি থাকার পর নিজ দেশে ডিপোর্ট হওয়া লিথুয়ানিয়ান নারী অ্যারাইডা গুল্ড। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে গ্রেপ্তার, মার্কিন সেনার স্ত্রীকে ডিপোর্ট করল আইসিই

আমেরিকান আর্মি ভেটেরানের লিথুয়ানিয়ান স্ত্রী অ্যারাইডা গুল্ডকে গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে যাওয়ার পর আটক করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। টানা ৬৬ দিন বন্দি রাখার পর শিকাগো ও’হেয়ার বিমানবন্দর থেকে তাকে লিথুয়ানিয়ায় ডিপোর্ট করা হয়। গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে বিয়েটি বৈধ বলে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তাঁকে একই ভবনে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।   আমেরিকান সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) তাদের বিয়ে ও পিটিশন অনুমোদন করলেও ২০০৯ সালের একটি পুরনো রিমুভাল অর্ডারের অজুহাতে তাঁকে আটক করা হয়। মূলত রাস্তাঘাটে জ্যাম থাকায় ২০০৯ সালে আদালতের শুনানিতে দেরি করে পৌঁছানোর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই একটি আদেশ জারি হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি না মেনেই আইসিই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবার ও আইনজীবী।   লিথুয়ানিয়ার নাগরিক অ্যারাইডা ২০০০ সালে বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ৫৩ বছর বয়সী এই নারী গত দুই দশক ধরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানকে লালন-পালন করেছেন। ইউএস আর্মি ভেটেরান মার্ক গুল্ডের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দাম্পত্য জীবন কাটালেও তাঁদের কোনো সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ এমন কড়া পদক্ষেপ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।   আটকের পর অ্যারাইডাকে ইলিনয় থেকে কেনটাকি এবং পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে ঘুরিয়ে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে পরিবারের সদস্য বা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি। আইসিইর ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের অবস্থা চরম অস্বাস্থ্যকর বলে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন। ডিপোর্টেশনের ফ্লাইটের আগে তাঁকে শুধু কিছু নগদ অর্থ ও জরুরি সরঞ্জাম দেওয়ার অনুমতি পান তাঁর স্বামী।   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, নির্ধারিত ভিসার মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দেশে না ফেরায় ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিয়ে অনুমোদন পেলেই আইনি নিরাপত্তা পাওয়া নিশ্চিত হয় না বলেও তারা দাবি করে। অ্যারাইডার আইনি দল ইতিমধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডে জরুরি আবেদন দাখিল করেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এসেছে ইতিবাচক অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি গ্রিন কার্ডে বড় অগ্রগতি, তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় চরম হতাশা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন বুলেটিনে পারিবারিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক অগ্রগতির খবর এসেছে। তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেক আবেদনকারীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ইবি-১ (EB-1) ক্যাটাগরিও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   আগস্টের ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, F2A ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই ক্যাটাগরি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) ব্যক্তিদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য।   জুলাই মাসে যেখানে F2A ক্যাটাগরির ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারি, সেখানে আগস্টে তা এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ জুলাই হয়েছে। এর ফলে এই ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অনেক আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া দ্রুত এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।   অন্যদিকে, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং অর্থবছরের শেষের দিকে ভিসার বার্ষিক কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতীয় আবেদনকারীদের ইবি-১ ক্যাটাগরিতে আবেদন এবং ভিসা ব্যবহারের হার অত্যন্ত বেশি। ফলে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই দেশভিত্তিক বরাদ্দ পূর্ণ হয়ে গেলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই ক্যাটাগরিকে "অনুপলব্ধ" (Unavailable) ঘোষণা করা হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে।   এছাড়া ইবি-২ (EB-2) ক্যাটাগরিতেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট আরও পিছিয়ে যেতে পারে অথবা ক্যাটাগরিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য ইবি-২ এবং ইবি-৫ (অনির্ধারিত অংশ) ক্যাটাগরি ইতোমধ্যেই অনুপলব্ধ রয়েছে।   আগস্ট ভিসা বুলেটিনে ভারতের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের সর্বশেষ ফাইনাল অ্যাকশন ডেট হলো: ইবি-১: ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইবি-২: অনুপলব্ধ ইবি-৩: ১ জানুয়ারি ২০১৪ ইবি-৪: ১৫ অক্টোবর ২০২২ ইবি-৫: অনুপলব্ধ   মার্কিন ভিসা বুলেটিন প্রতি মাসে প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, কোন ক্যাটাগরির আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ড বা অভিবাসী ভিসার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যোগ্য হয়েছেন। যাদের প্রায়োরিটি ডেট বুলেটিনে উল্লেখিত ফাইনাল অ্যাকশন ডেটের আগের, তারাই সাধারণত পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক ক্যাটাগরিতে অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ইতিবাচক হলেও, কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা হাজারো দক্ষ পেশাজীবীর অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বিশেষ করে ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য আগামী কয়েক মাস পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারের পর আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারে গিয়ে আটক নারী, যেকোনো মুহূর্তে হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত

বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন শিকাগো এলাকার এক নারী। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) হেফাজতে থাকা ওই নারীকে যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবী। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এবিসি৭ শিকাগোর অনুসন্ধানী বিভাগ আই টিম।    প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে তাকে ইলিনয়ের ব্রডভিউ আইসিই প্রসেসিং সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে ইন্ডিয়ানার ব্রাজিল শহরের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জায়গাটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সেটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। ভিডিও কলে তিনি এবিসি৭ শিকাগোকে বলেন, “মানুষ তাদের বিড়াল-কুকুরেরও এর চেয়ে ভালো যত্ন নেয়। জায়গাটি এতটাই খারাপ ছিল যে এটি সম্ভবত বন্ধ করে দেওয়া উচিত।”   বর্তমানে তিনি কেন্টাকির একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। সেখানে একই কক্ষে আরও ১৩ জন নারীর সঙ্গে থাকতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে একবারও তাজা ফল বা সবজি পাননি। সপ্তাহে মাত্র তিন দিন, প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে খোলা বাতাসে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।   এদিকে তার স্বামী মার্ক গুল্ড একজন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি শিকাগো এলাকায় বসবাস করছেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বর্তমানে ৩০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব। সাম্প্রতিক এক ভিডিও কলে মার্ক গুল্ড বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি তার একটি বার্তার অপেক্ষায় থাকি। প্রথম মেসেজটি পেলেই কিছুটা স্বস্তি পাই।”   বর্তমানে দম্পতির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেক্সট বার্তা এবং মাঝে মধ্যে বন্দিদের জন্য অনুমোদিত ভিডিও কল। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই নারী। তিনি বলেন, যেকোনো সময় তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। তবে তিনি আশা হারাননি।   তার ভাষায়, “সেই দিন আসবে। আমি জানি খুব শিগগিরই আসবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক, আমরা আবার একসঙ্গে হব, আর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।” পরে প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই নারীর নাম এয়ারিদা গুল্ড। তিনি মূলত ইউরোপের দেশ লিথুয়ানিয়ার নাগরিক। মার্কিন নাগরিক মার্ক গুল্ডকে বিয়ের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন এবং বৈবাহিক ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। সেই আবেদনের অংশ হিসেবে সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়েই তিনি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হন।   এবিসি৭ শিকাগোর প্রতিবেদনে তার আইনজীবী জানান, এয়ারিদা গুল্ডের অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। প্রতিবেদনে তাকে আটকের নির্দিষ্ট আইনি কারণ বা তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-১এ ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এদুয়ার্দো বলসোনারো। ছবি: সংগৃহীত
কারাদণ্ডের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেলেন ব্রাজিলের সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ও সাবেক আইনপ্রণেতা এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। নিজ দেশে কারাদণ্ডের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি।   রয়টার্সকে এদুয়ার্দো বলসোনারো জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-১এ (EB-1A) ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এই ক্যাটাগরিতে বিজ্ঞান, শিল্প, ব্যবসা, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্রিয়াটি প্রায় এক বছর আগে শুরু হয়েছিল।   এদুয়ার্দো ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি দাবি করেন, ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার কারণেই তিনি দেশে ফিরছেন না। তার মতে, ব্রাজিলে ফিরে গেলে তিনি স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন না।   গত জুনে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট এদুয়ার্দো বলসোনারোকে চার বছর দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়ে তার বাবা জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান মামলায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে এদুয়ার্দো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নয়, সাংবিধানিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।   জাইর বলসোনারোও বর্তমানে ব্রাজিলে আইনি জটিলতার মুখে রয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর কথিত অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। সম্প্রতি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তার সঙ্গে সাক্ষাতের ওপরও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।    এদিকে এদুয়ার্দো বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বা ব্রাজিলের ওপর আরোপিত শুল্কের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
কাগজে জমা দেওয়া নাগরিকত্ব আবেদন ফরমের ফি ৭৬০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার স্বপ্ন কি এখন শুধু ধনীদের? নাগরিকত্বের খরচ বাড়িয়ে নতুন চাপে নিম্ন আয়ের অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন করতে আগ্রহী অভিবাসীদের ব্যয় বড় ধরনের বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কাগজে জমা দেওয়া নাগরিকত্ব আবেদন ফরমের ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারে পৌঁছাবে। অনলাইনে আবেদনের খরচও ৭১০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে।   প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে একে পাসপোর্ট ফি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এটি সরাসরি মার্কিন পাসপোর্টের মূল্য নয়। এই অর্থ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য এন ৪০০ ফরম জমা দেওয়া বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন, শপথ গ্রহণ এবং নাগরিকত্ব সনদ পাওয়ার পরই একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন।   নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হলে কাগজে নাগরিকত্ব আবেদন করার খরচ প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং অনলাইনে আবেদনের খরচ প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বর্তমানে থাকা ৩৮০ ডলারের বিশেষ কম ফি বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।   নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ব্যবহৃত এন ৩৩৬ ফরমের ফিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কাগজে এই আবেদন জমা দিতে প্রস্তাবিত ফি ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে জমা দিলে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে।   বর্তমানে এন ৪০০ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আবেদনকারী প্রশাসনিক শুনানির অনুরোধ জানাতে এন ৩৩৬ ফরম ব্যবহার করতে পারেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, এ দুই ধরনের আবেদনেই ফি মওকুফের সুযোগ সীমিত বা বাতিল করা হতে পারে।   মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া থেকে যারা সরাসরি সুবিধা পান, তাদের কাছ থেকে এর পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশ নেওয়া হলে ব্যবস্থা আরও ন্যায্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস মূলত আবেদন ও অন্যান্য অভিবাসন সেবার ফি দিয়ে পরিচালিত হয়।   তবে প্রস্তাবিত নতুন হার এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। নিয়ম তৈরির সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই নতুন ফি কার্যকর হতে পারে। ফলে বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি ফি তালিকা দেখে সঠিক অর্থসহ আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য সাধারণভাবে একজন আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময় বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়। এরপর এন ৪০০ ফরম জমা দেওয়ার পাশাপাশি পরিচয় ও অভিবাসনসংক্রান্ত যাচাই, সাক্ষাৎকার এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা ও নাগরিক জ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।   নতুন প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার আগে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়ার চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন অভিবাসনসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ছাড় বাতিল হলে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ড ব্যবস্থার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডে ১ লাখ ডলারের বন্ড নিয়ে আলোচনা, যা জানা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ মার্কিন ডলারের ফেরতযোগ্য (Refundable) বন্ড চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা তথ্য ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো কার্যকর আইন বা নীতি নয়; ট্রাম্প প্রশাসনের বিবেচনাধীন একটি প্রস্তাব মাত্র।    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদন করা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলারের বন্ড নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, নতুন অভিবাসীরা যাতে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে।    প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারী অথবা তার কোনো স্বজন এই বন্ড জমা দিতে পারবেন। আলোচনায় রয়েছে, আবেদনকারী পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করলে নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে। তবে বন্ডের পরিমাণ সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এক হবে না; ব্যক্তিভেদে তা কম বা বেশি হতে পারে। এছাড়া এটি শুরুতে সীমিত কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।    এদিকে, বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি-আমেরিকান ইমিগ্রেশন আইনজীবী অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি এখনো কেবল একটি প্রস্তাব। এটি কোনো কার্যকর আইন নয়। তাই এ ধরনের খবর শুনে হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কোনো তথ্য শুনলেই তা বিশ্বাস না করে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা উচিত।”   ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই প্রস্তাব প্রযোজ্য হবে না বলেই আলোচনা রয়েছে। তবে সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি। তাই গুজবে কান না দিয়ে সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেন তিনি।   মইন চৌধুরী আরও বলেন, ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের কোনো নীতি কার্যকরও হয়, তাহলে সেটি আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশাসন বিদ্যমান আইনি ক্ষমতার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ডের বিধান ব্যবহার করা যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিকল্পটি বিবেচনায় রয়েছে।    সব মিলিয়ে, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড নিয়ে আলোচনা বাস্তব হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত নীতি নয়। ফলে এটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বা সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন নির্দেশনা এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন, কঠোর হচ্ছে আবেদন যাচাই

 যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল অভিবাসীদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ লক্ষ্যে বাইডেন প্রশাসনের ২০২২ সালের নীতি বাতিল করে নতুন বিধিমালার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)।   নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চাকরির ইতিহাস, আয়, সম্পদ, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং অতীতে সরকারি সহায়তা নেওয়ার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা যদি মনে করেন, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে নিজের আয়ের পরিবর্তে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাহলে তার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।   ডিএইচএস জানিয়েছে, মূল্যায়নের সময় মেডিকেইড (স্বল্প আয়ের মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা), এসএনএপি বা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, সরকারি আবাসন সহায়তা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অন্যান্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে শুধুমাত্র একটি সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না; আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই নীতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া উচিত এবং তারা যেন দেশের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, সেটিই নতুন নীতির মূল উদ্দেশ্য।   এর পাশাপাশি বিদেশ থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের কাছ থেকে এক লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (বন্ড) নেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।   ডিএইচএসের হিসাব অনুযায়ী, নতুন নীতি কার্যকর হলে আগামী ১০ বছরে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে প্রায় ১১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় কমতে পারে। সংস্থাটির ধারণা, নতুন নিয়মের কারণে অনেক অভিবাসী সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।   তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের একাংশ এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এর ফলে অনেক বৈধ অভিবাসীও স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা ও আবাসন সুবিধার মতো আইনগতভাবে প্রাপ্য সরকারি সেবা নিতে ভয় পাবেন। এছাড়া কর্মকর্তাদের হাতে বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়ায় একই ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসার আশঙ্কাও রয়েছে।   উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সরকারি সুবিধা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিকে জোর দিয়ে আসছেন।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দেবে না ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
সরকারি সহায়তা নিলে মিলতে নাও পারে গ্রিন কার্ড, পুরোনো যে  নিয়ম ফিরিয়ে আনছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে আবারও বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব অভিবাসী খাদ্য সহায়তা, মেডিকেইড, আবাসন ভাউচারসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল বলে বিবেচিত হবেন, তাদের গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পুনর্বহালের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, নতুন নিয়মটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করবেন।    ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি প্রথম ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে কার্যকর হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন এটি বাতিল করে আগের তুলনায় শিথিল নীতি চালু করে। এবার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের নীতিই আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।    প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। নতুন নীতির লক্ষ্যও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা।    তবে এই নীতিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হবে না। আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক আর্থিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।    নতুন নিয়মটি এমন সময় আনা হচ্ছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন কঠোর করার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ড আবেদনের নিয়মে পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতে কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি আর্থিক সহায়তা বা কল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যবহারের ইতিহাস গ্রিন কার্ড আবেদন মূল্যায়নে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাবে। এর ফলে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও গভীরভাবে যাচাই করবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন যে নীতিমালা চালু করেছিল, সেটি বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। প্রশাসনের দাবি, আগের নীতির কারণে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ও সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছিলেন না।   মার্কিন অভিবাসন আইনে 'পাবলিক চার্জ' বা 'সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তি' ধারণাটি বহুদিন ধরেই রয়েছে। কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিজের আয়ের পরিবর্তে প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করবেন বলে মনে হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। আবেদন মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের ইতিহাস, দক্ষতা, সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্যসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।   নতুন নীতির ফলে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি), আবাসন সহায়তাসহ আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্যও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। বরং প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার প্রত্যাশাই এই নীতির মূল ভিত্তি। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইনের মতে, ইউএসসিআইএস থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী কর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন। একই সময়ে কর্মকর্তাদের হাতে আরও বেশি বিবেচনাধিকার দেওয়া হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তার মতে, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও কার্যকর তদারকি ছাড়া অতিরিক্ত বিবেচনাধিকার সমস্যার কারণ হতে পারে।   নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে বলে ধারণা করছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিবছর ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার সরকারি ব্যয় কমতে পারে। তবে প্রশাসন স্বীকার করেছে, এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুদি দোকান, বাড়িওয়ালাসহ বিভিন্ন খাতেও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি নতুন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্ডের পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারবেন যে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।   অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দেওয়া অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য বাস্তবসম্মত হবে না। ফলে এটি অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সমালোচকদের মতে, নতুন নীতির কারণে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকা অনেক অভিবাসীও ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আশঙ্কায় এসব সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন।   ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, নতুন 'পাবলিক চার্জ' নীতি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন বা তার পর থেকে যারা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন, তাদের নতুন সংস্করণের আই-৪৮৫ আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হবে এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন মূল্যায়ন করা হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
Donald Trump ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
গ্রিন কার্ড পেতে লাগতে পারে ১ লাখ ডলারের জামানত, নতুন যে পরিকল্পনায় ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলারের জামানত নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত আর্থিকভাবে দুর্বল বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশে জমা দেওয়া স্থায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের জামানত বা বন্ড চালুর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এই জামানতের পরিমাণ ১ লাখ ডলার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন।   প্রাথমিকভাবে অল্প কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে আগে এই অর্থ জমা রাখতে হবে। পরে তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে নাগরিকত্ব পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।   প্রশাসনের যুক্তি, এই জামানত সরকারের জন্য একটি আর্থিক নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের খরচ বহন করতে ব্যর্থ হন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে।   পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে চান, তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে।”   তিনি আরও জানান, "কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জামানত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ভরণপোষণের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারেন"।   এত বড় অঙ্কের জামানত আরোপ করা হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর অনেক আবেদনকারীর পক্ষেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে অভিবাসনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।   এ ধরনের অভিবাসী ভিসা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিকটাত্মীয়—যেমন স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা এবং ভাই-বোনদের জন্য ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ ধরনের প্রায় ৫ লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল।   এর আগেও অভিবাসন কঠোর করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। যদিও সেই সিদ্ধান্ত এখন বিভিন্ন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।   এছাড়া জুন মাসে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ান-বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর ১ লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। তবে একজন ফেডারেল বিচারক রায় দেন, এমন ফি কার্যত করের সমতুল্য এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রশাসন তা আরোপ করতে পারে না।   এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের একটি কর্মসূচি চালু করেছিল। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ১০ লাখ ডলার এবং অতিরিক্ত ১৫ হাজার ডলার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন আবেদন করেছিলেন এবং অনুমোদন পেয়েছিল মাত্র একটি আবেদন।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার
গ্রিন কার্ড থাকলেও উপায় নেই: ইরানি বংশসূত্রে আটক পুরো পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারী এক ইরানি পরিবারকে স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে তুরস্কে চলে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না ট্রাম্প প্রশাসন। পরিবারটির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ না থাকলেও, ১৯৭৯ সালের তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের অন্যতম আলোচিত মুখ মাসুমেহ এবতেকারের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের আটক রাখা হয়েছে বলে আদালতের নথি ও আইনজীবীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইয়্যেদ ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী মরিয়ম তাহমাসেবি এবং তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে গত এপ্রিল থেকে টেক্সাসের আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে রয়েছেন। তারা নিজেদের খরচে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে তুরস্কে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।   ঈসা হাশেমি হলেন মাসুমেহ এবতেকারের ছেলে। ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলকারী শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার মুখপাত্র ছিলেন এবতেকার। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে তিনি “স্ক্রিমিং মেরি” নামে পরিচিতি পান। পরে তিনি ইরানের সরকারের পরিবেশবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।   পরিবারটির আইনজীবীরা জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত এপ্রিল মাসে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে হাশেমি, তার স্ত্রী এবং ছেলের গ্রিন কার্ড বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ, সহিংস কর্মকাণ্ড বা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়নি। সরকারের মামলা মূলত হাশেমির মায়ের পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, হাশেমি পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হয়েছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, “যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকে, তাহলে তার গ্রিন কার্ড বাতিল করা হবে।”   আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারটি ইরানে ফিরতে চায় না। তাদের দাবি, সেখানে ফিরে গেলে নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণে তারা নিজেদের খরচে তুরস্কে চলে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু ডিএইচএস সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তে বহিষ্কারের আদেশের সঙ্গে আটক অব্যাহত রাখার অবস্থান নেয়।   পরিবারটির আইনজীবী মারিয়া কারি বলেন, এই পরিবার বহু বছর ধরেই ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করে এসেছে। তাই ইরানে ফিরলে তাদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।   মরিয়ম তাহমাসেবি ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস পিয়ার্স কলেজের মনোবিজ্ঞান ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল তিনি ক্লাস নেওয়ার সময় জানতে পারেন, তার স্বামীকে আইসিই আটক করেছে। পরে তাকেও এবং তাদের ছেলেকেও আটক করা হয়।   আদালতের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাশেমি শিকাগো স্কুল অব প্রফেশনাল সাইকোলজি থেকে অর্গানাইজেশনাল লিডারশিপে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন এবং সেখানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।   পরিবারটির আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে তিনজনই উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন। বিশেষ করে তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে, যে জীবনের বেশিরভাগ সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় কাটিয়েছে এবং কেবল ইংরেজিতে কথা বলতে পারে, সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের দাবি, পূর্বপুরুষের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে একটি কিশোরকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়।   বর্তমানে পরিবারটির মামলা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা আইসিইর হেফাজতেই থাকবেন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা যাচাইয়ে ১০ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য, বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ওয়াশিংটন, ১৪ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব ও ভ্রমণ অনুমতিসহ বিভিন্ন অভিবাসন আবেদনে আবেদনকারীর সর্বোচ্চ ১০ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি এবং পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের অনলাইন কার্যক্রম যাচাই বাড়ায় প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ এবং বিদেশে গিয়ে আটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও কর্মী ব্যবস্থাপনায়।   থোমসন রয়টার্সের ওয়েস্টল টুডেতে ৬ জুলাই প্রকাশিত অভিবাসন আইনবিষয়ক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশিদের জন্য নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরিধি ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় ভিসা ও অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব, একই ধরনের আবেদনে ভিন্ন ফল এবং নিয়োগ পরিকল্পনায় বিঘ্ন দেখা দিচ্ছে। বিশ্লেষণটি সংবাদ প্রতিবেদন নয়; বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা আইনজীবী মনীশ দাফতারির পেশাগত মূল্যায়ন।    নতুন যাচাই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আদেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী ও অভিবাসন সুবিধার আবেদনকারীদের জন্য আরও কঠোর ও অভিন্ন নিরাপত্তা যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড, আর্থিক তথ্য এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই বাড়ানোর একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা—USCIS জানিয়েছে, পরিচয় যাচাই, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি সংগ্রহের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, নির্দিষ্ট অভিবাসন আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীর নাম বা ‘হ্যান্ডল’ সংগ্রহের জন্য USCIS একটি সাধারণ অনুমোদন কাঠামো তৈরি করছে। এখানে পাসওয়ার্ড নয়, আবেদনকারী কোন প্ল্যাটফর্মে কোন পরিচিতি ব্যবহার করেছেন, সেই তথ্য চাওয়ার কথা বলা হয়েছে।   রয়টার্সে প্রকাশিত আইনজীবী বিশ্লেষণ অনুযায়ী, USCIS স্থায়ী বসবাস, নাগরিকত্ব ও ভ্রমণ অনুমতিসংক্রান্ত বিভিন্ন ফর্ম সংশোধনের পরিকল্পনা করেছে। নতুন ফর্মে আবেদনকারীর সর্বোচ্চ ১০ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হ্যান্ডল চাওয়া হতে পারে—এমনকি ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া অ্যাকাউন্টের তথ্যও। আবেদনকারীর মা-বাবা, ভাই-বোনসহ নিকটাত্মীয়দের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে ৬ জুলাই পর্যন্ত এসব ফর্মের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও বাস্তবায়নপদ্ধতি প্রকাশিত হয়নি।    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ নতুন নয়। ২০১৯ সালের ৩১ মে থেকে অধিকাংশ অভিবাসী ও অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীকে DS-160 ও DS-260 ফর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতি দিতে হচ্ছে। তখন মূলত আগের পাঁচ বছরের তথ্য চাওয়া হয়েছিল। বর্তমান উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে USCIS-এর কাছে গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুবিধার আবেদনকারীদের ওপরও আরও বিস্তৃতভাবে যাচাই প্রয়োগের পথ তৈরি করছে।    ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর H-1B কর্মভিসা আবেদনকারী ও তাঁদের H-4 নির্ভরশীলদের জন্য অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা সম্প্রসারণ করে। এর আগে শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির F, M ও J ভিসা আবেদনকারীদের ওপর এ ধরনের পর্যালোচনা চালু ছিল। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রকাশ্য তথ্য পর্যালোচনা করতে পারেন। ২০২৬ সালের মার্চে আরও কয়েকটি অ-অভিবাসী ভিসা শ্রেণিতেও এই যাচাই সম্প্রসারিত হয়েছে।    নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ‘আমেরিকাবিরোধী’ বা আপত্তিকর বক্তব্য শনাক্ত করার কথা বলা হলেও কোন ধরনের পোস্ট, মন্তব্য বা অনলাইন কার্যক্রমকে এই সংজ্ঞার মধ্যে ধরা হবে, তা স্পষ্ট নয়। সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো সরকারি নীতি বা প্রেসিডেন্টের সমালোচনা, বিক্ষোভে অংশগ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক মত প্রকাশ ভিসা বা কাজের অনুমতির সিদ্ধান্তে নেতিবাচকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে কি না। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পরিষ্কার ও বিস্তারিত সরকারি মানদণ্ড প্রকাশ করা হয়নি।    পুরোনো বা বন্ধ অ্যাকাউন্ট বাদ পড়ে যাওয়াও আবেদনকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একজন আবেদনকারী বহু বছর আগে ব্যবহার করা কোনো ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য প্ল্যাটফর্মের অ্যাকাউন্ট ভুলে গেলে এবং পরে সরকারি যাচাইয়ে সেটি পাওয়া গেলে তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং ইচ্ছাকৃত তথ্য গোপনের মধ্যে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পার্থক্য করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নির্দেশনা নেই।    কঠোর যাচাইয়ের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে বিদেশে গিয়ে ভিসা স্ট্যাম্প নিতে যাওয়া কর্মীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করলেও বিদেশ সফরের পর ফিরে আসার জন্য অনেক H-1B কর্মীকে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে নতুন ভিসা স্ট্যাম্প নিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের কারণে সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া এবং পাসপোর্ট ফেরত পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।   রয়টার্সের আইনজীবী বিশ্লেষণে ভারতের একটি ঘটনার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। নতুন অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতির সময় দেশটিতে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত বহু H-1B ও H-4 ভিসা সাক্ষাৎকার মার্চ বা তার পরের সময়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এতে ছুটিতে দেশে যাওয়া কয়েকজন বিদেশি কর্মী মাসের পর মাস যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারেননি এবং তাঁদের চাকরিতে যোগদান ব্যাহত হয়।    কোনো ভিসা আবেদনে অতিরিক্ত প্রশাসনিক যাচাই প্রয়োজন হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা Immigration and Nationality Act-এর 221(g) ধারায় আবেদনটি সাময়িকভাবে আটকে রেখে আরও তথ্য চাইতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা প্রতিটি মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবং আবেদনকারীদের পরিকল্পিত সফরের অনেক আগে আবেদন করতে হবে।    এ ধরনের বিলম্ব শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। কর্মী সময়মতো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে না পারলে প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প, গ্রাহকসেবা, গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও নিয়োগ পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। নতুন বিদেশি কর্মীর যোগদানের তারিখ পিছিয়ে গেলে কোম্পানিকে পদটি খালি রাখতে, কাজ অন্য কর্মীদের মধ্যে ভাগ করতে অথবা প্রকল্পের সময়সীমা পরিবর্তন করতে হতে পারে।   সীমান্তে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ পরীক্ষা নিয়েও নিয়োগদাতাদের উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন সীমান্তে বিদ্যমান ক্ষমতার আওতায় কোনো ভ্রমণকারীকে ডিভাইস আনলক করতে বলতে পারে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এমন পরীক্ষা বাড়লে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের গোপন নথি, গ্রাহকের তথ্য ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ উন্মুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক সফরের আগে সম্ভাব্য ভিসা বিলম্ব সম্পর্কে সতর্ক করা প্রয়োজন। কর্মীদের ব্যক্তিগত ডিভাইসে কোম্পানির সংবেদনশীল নথি সংরক্ষণ না করা, তথ্য নিরাপত্তার নীতি মেনে চলা এবং ছুটির সময় ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি H-1B কর্মী, H-4 নির্ভরশীল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গ্রিন কার্ড আবেদনকারী ও নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্যও পরিবর্তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন করার আগে গত কয়েক বছরে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম, ব্যবহারকারীর নাম, পুরোনো ও বন্ধ অ্যাকাউন্ট এবং নাম পরিবর্তনের তথ্য গুছিয়ে রাখা প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনপত্রে দেওয়া নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, চাকরি ও পরিবারের তথ্যের সঙ্গে অনলাইন তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি থাকলে অতিরিক্ত প্রশ্ন উঠতে পারে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত থাকা বা সরকারের সমালোচনা করলেই ভিসা প্রত্যাখ্যাত হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি এখনো নেই। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কারণে ব্যাপকভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের সুস্পষ্ট প্রবণতা এখনো দেখা যায়নি। নতুন ফর্ম ও নীতির পূর্ণ বাস্তবায়নের পর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও পরিষ্কার হবে।    বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো অনিশ্চয়তা। আবেদনকারীদের আরও ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হতে পারে, কর্মকর্তাদের পর্যালোচনায় বেশি সময় লাগতে পারে এবং নিয়োগদাতাদের বিদেশি কর্মীর যোগদান ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় অতিরিক্ত সময় রাখতে হতে পারে। নতুন ফর্ম প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোন আবেদনকারীর কাছে ঠিক কত বছরের তথ্য চাওয়া হবে, কোন প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং পুরোনো অ্যাকাউন্ট বাদ পড়লে কীভাবে তা বিবেচনা করা হবে—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
H-1B ও গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড ও H-1B আবেদনকারীদের সতর্কতা, যে ভুলে বাতিল হতে পারে আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) ১০ জুলাই থেকে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে। নতুন নীতির ফলে H-1B ভিসা, গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আবেদনে টাইপ করা নাম, অটো-জেনারেটেড বা কপি-পেস্ট করা ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে অবশ্যই আবেদনকারীর নিজ হাতে করা স্বাক্ষর অথবা সেই হাতে করা স্বাক্ষরের আসল কপি থাকতে হবে। স্ক্যান করা বা ফটোকপি করা স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি সেটি মূল হাতে করা স্বাক্ষরের সঠিক অনুলিপি হয়। তবে কেবল নাম টাইপ করে লেখা, কম্পিউটার-জেনারেটেড সিগনেচার, ফন্টভিত্তিক স্বাক্ষর বা কপি-পেস্ট করা ডিজিটাল সিগনেচার বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।   সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে সঠিক স্বাক্ষর না থাকলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন জমা দিতে হতে পারে, যার ফলে অতিরিক্ত সময়, অর্থ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হবে।   এই নির্দেশনা H-1B কর্মভিসা, স্থায়ী বাসিন্দার জন্য গ্রিন কার্ড, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন, কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ফর্ম এবং ইউএসসিআইএসে জমা দেওয়া অন্যান্য অধিকাংশ কাগজপত্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।   অভিবাসন আইনজীবীরা আবেদনকারীদের কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া ডিজিটাল সিগনেচারের কারণে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো আবেদনপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ করা এবং আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য করা।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বা নতুন করে ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য নতুন এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নিয়ম অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও আবেদন বাতিলের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় লিন্ডসেকে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, যুক্তরাষ্ট্রে শতভাগ বৈধ গ্রিন কার্ডধারীদেরও আটক করছে ICE

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বৈধভাবে বসবাসের পরও ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে নামের এক গ্রিন কার্ডধারীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। জ্যামাইকায় ছুটি কাটিয়ে শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসন অভিবাসন আইন কঠোর করার পর থেকে লিন্ডসের মতো বহু বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদেরও এখন অভিবাসন দপ্তরের কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এবং আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে মূলত জ্যামাইকার নাগরিক হলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে বৈধ পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ইলিনয়ের জোলিয়েটে একটি ওয়ালমার্ট ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি রেস্তোরাঁয় শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে গত ছয় বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং তাদের যৌথ পরিবারে ৫ সন্তান ও ৭ নাতি-নাতনি রয়েছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ও’হেয়ার বিমানবন্দরে নামার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা লিন্ডসেকে আটকে দেন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করায় বিমানবন্দরে সাধারণ গ্রিন কার্ডধারীদের নথিপত্র এবং অতীত ইতিহাস পুনরায় নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১৪ সালে লিন্ডসের বিরুদ্ধে একটি পারিবারিক সাধারণ সহিংসতার (মিসডিমিনর ডোমেস্টিক ব্যাটারি) অভিযোগ এবং প্রায় ১০ বছর আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিইউআই) একটি ট্রাফিক মামলা ছিল।   স্থানীয় গণমাধ্যম ডব্লিউজিএন ৯ (WGN 9) জানায়, লিন্ডসে এর আগেও বহুবার কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেছেন। আদালতের রায়ে বিচারক উল্লেখ করেছেন যে, লিন্ডসের অতীত অপরাধগুলো এককভাবে বিবেচনা করলে তেমন গুরুতর নয়, তবে একসঙ্গে দেখলে তা আইনের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞার ইঙ্গিত দেয়। লিন্ডসে জামিন পাওয়ার যোগ্য হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মুক্তি না দিয়ে কেন্টাকির হপকিন্স কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে।   এই ঘটনার পর লিন্ডসের স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই, কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ডও নেই। সে শতভাগ বৈধ একজন মানুষ, তাও আইস তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে।” দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। লিন্ডসের আইনজীবীরা গত জুন মাসে কেন্টাকির ফেডারেল আদালতে একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ (অবৈধ আটকাদেশ চ্যালেঞ্জকারী রিট) পিটিশন দায়ের করেছেন।   প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসের এই ধরপাকড় চ্যালেঞ্জ করে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যা বিগত তিনটি প্রশাসনের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। কেন্টাকির যে কেন্টাকি ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে লিন্ডসের মামলাটি বিচারাধীন, সেখানে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি রিট আবেদন জমা পড়েছে।   ইউসি বার্কলের ‘ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে আইস গ্রেপ্তার করেছে। জুন মাসের শেষ দিকে মাত্র ৫ দিনে ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়। বর্তমানে আইসের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার।   অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, শুধু লিন্ডসে একাই নন, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নাতক মাহমুদ খলিল এবং মিলওয়াকি ইসলামিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসুরের মতো দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ডধারীদেরও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক মাস করে আটকে রাখা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তারা মুক্তি পান। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, যারা অবৈধ বা নিয়মের বাইরে আছেন, তাদের নিজ খরচে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। লিন্ডসের পরিবার এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের আবেদন করার ঠিক এক দিন পরই টেক্সাসে ২০ বছর বয়সী মেক্সিকান সংগীতশিল্পী হার্বার্ট ইবারাকে আটক করেছে আইসিই। ছবি: এপি
গ্রিন কার্ডের আবেদন করার পরদিনই মার্কিন নাগরিকের স্বামীকে আটক করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) টেক্সাসে মারিয়াচি ব্যান্ডের এক ২০ বছর বয়সী মেক্সিকান সংগীতশিল্পীকে আটক করেছে। হার্বার্ট ক্যালেথ ইবারা কাস্ত্রো নামের ওই তরুণ একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ঠিক এক দিন পরই তাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আটক করে। গত জুনের শেষ সপ্তাহে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এখন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   আইসিই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আটক হওয়া ওই তরুণ মেক্সিকো থেকে আসা একজন অবৈধ অভিবাসী। বর্তমানে তাকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টেক্সাসের পিয়ারসলের একটি ডিটেনশন সেন্টারে হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এই আটকের ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডেমোক্রেটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ জোয়াকিন কাস্ত্রো। তিনি জানান, মেক্সিকোর সহিংসতা থেকে বাঁচতে ইবারার পরিবার যখন তাকে ৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। কাস্ত্রো আরও অভিযোগ করেন যে ডিটেনশন সেন্টারের এক কর্মী ইবারাকে উদ্দেশ্য করে ঠাট্টা করে বলেছেন, “আমাকে একটি গান গেয়ে শোনালে তোমাকে ছেড়ে দেব।”   গত ২৫ জুন একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মারিয়াচি ব্যান্ডের হয়ে পারফর্ম করে বাড়ি ফেরার পথে ইবারাকে আটক করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বাড়ানোর যে নীতি নেওয়া হয়েছে, এটি তারই অংশ। আইনজীবীরা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারী বা মার্কিন নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীদেরও এভাবে আটক করার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক তথ্যে জানা গেছে, জুনের শেষে মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে আইসিই।   ইবারার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আটক হওয়ার ঠিক আগের দিনই তিনি গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য নিয়মমাফিক আবেদন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করা গ্রিন কার্ড পাওয়ার অন্যতম প্রধান ও সাধারণ একটি মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও তার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থাতেও গত ৪ঠা জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ইবারা বন্দিশালায় মার্কিন জাতীয় সঙ্গীত “দ্য স্টার-স্প্যাংগেল্ড ব্যানার” গেয়ে শুনিয়েছেন বলে তার আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন।   অবশেষে গত বুধবার ইবারার দুটি আদালতের শুনানির পর তার আইনজীবী দল নিশ্চিত করেছে যে ইমিগ্রেশন বিচারক তার জামিনের অনুরোধ মঞ্জুর করেছেন। জামিনের অর্থ পরিশোধ করার পর আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিই এজেন্টের গুলিতে একজন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে পুরো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) অবশ্য তাদের কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে যারা অবৈধভাবে আছেন, তাদের সরকারের পক্ষ থেকে ২৬০০ ডলার এবং বিনামূল্যে বিমানের টিকিট দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এই সুযোগ না নিলে তাদেরকে গ্রেফতার ও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।

তাবাস্সুম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আটকে থাকা গ্রিন কার্ডের আবেদন আবার চালুর নির্দেশ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের রায়

ওহাইওর একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে স্থগিত থাকা নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন পুনরায় নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এ আদেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া আবারও শুরু করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-কে।   স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক অ্যালজেনন এল. মার্বলি এ বিষয়ে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা (প্রিলিমিনারি ইনজাংশন) জারি করেন। নিউজউইক জানিয়েছে, ২৫ জন বিদেশি নাগরিকের করা একটি মামলার শুনানি শেষে তিনি এই আদেশ দেন।   মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কয়েকটি দেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য অভিবাসন-সুবিধার আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্পত্তি না করে স্থগিত রাখা হয়েছে।   যাদের ওপর প্রভাব পড়বে   আদালতের এ রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসরত এবং আবেদন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অনেক অভিবাসীর জন্য স্বস্তি ফিরতে পারে। ইউএসসিআইএস গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি, নাগরিকত্ব, আশ্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন সুবিধার আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। এসব আবেদন দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলে আবেদনকারীদের কর্মসংস্থান, আইনি অবস্থান, বিদেশ ভ্রমণ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এই মামলার বাদীদের মধ্যে মিয়ানমার, কানাডা, ইরান, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, তানজানিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাগরিক রয়েছেন। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট, একজন নিবন্ধিত নার্স, একজন ক্যানসার গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে চাকরির অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন স্নাতকও রয়েছেন।   আদালতের পর্যবেক্ষণ   রায়ে বিচারক মার্বলি বলেন, সরকারের চ্যালেঞ্জকৃত নীতিমালার কারণে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে এবং তাদের জাতীয়তাকে আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মামলার বাদীরা বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি নন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং অনেকেই বহু বছর ধরে সেখানে রয়েছেন। তাদের অনেকেরই আগে থেকেই কাজ করার বৈধ অনুমতি রয়েছে। বিচারকের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বৈধভাবে অবস্থানরত আবেদনকারীদের ফাইল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখার যৌক্তিকতা সরকার দেখাতে পারেনি। রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, "জাতীয় নিরাপত্তা এমন কোনো জাদুকরি শব্দ নয়, যা ব্যবহার করে সব আইনি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায়।"   আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়   আদালতের আদেশের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা কর্মসংস্থানের অনুমতি পাবেন। বরং ইউএসসিআইএসকে এখন প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী প্রতিটি আবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। অর্থাৎ আবেদন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। বিচারক বিশেষভাবে ইউএসসিআইএস ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-কে বাদীদের দাখিল করা ফর্ম আই-৪৮৫ (গ্রিন কার্ডের জন্য স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন) এবং ফর্ম আই-১৩১ (নির্দিষ্ট ভ্রমণ নথির আবেদন) পুনরায় প্রক্রিয়াকরণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ফর্ম আই-৭৬৫-এর আওতায় কর্মসংস্থানের অনুমতির আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এর আগেও প্রশ্ন তুলেছিল আদালত   এটি প্রথমবার নয় যে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে আদালত রায় দিল। গত মাসে রোড আইল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতও ইউএসসিআইএসের চারটি নীতিমালা বাতিল করে দেয়। ওই নীতিগুলোর আওতায় ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, কর্মসংস্থানের অনুমতি, নাগরিকত্ব ও আশ্রয়ের আবেদন স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে ইউএসসিআইএস আদালতের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করলেও জানায়, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে আদালতের নির্দেশ মেনে তারা সংশ্লিষ্ট নীতিমালা কার্যকর করবে না।   সামনে কী হতে পারে   আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তবে আপিলের আগে পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ কার্যকর থাকবে এবং ইউএসসিআইএসকে বাদীদের স্থগিত থাকা আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে হবে। আদালত আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে লিখিত প্রতিবেদনও দাখিল করতে বলেছে সরকারকে।   অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের মতে, এ রায় যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বহু অভিবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। কারণ আবেদন বাতিল হলে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্তু অনির্দিষ্টকালের জন্য আবেদন ঝুলে থাকলে আবেদনকারীরা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিতে প্রভাব পড়ছে মার্কিন নাগরিকের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের ওপর। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই আর মিলছে না আগের সুবিধা, বদলে যাচ্ছে অভিবাসন নীতি

মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত বিদেশি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে আসছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া একাধিক কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে সেই সুবিধা এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী, অধিকারকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের দাবি, নতুন নীতির কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে এবং বৈধ অভিবাসনের পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে।   ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৫টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখা, গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের আরও বিস্তৃত তদন্ত এবং যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তাদের পরিধি বাড়ানো।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, আগে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে সাধারণ অভিবাসীদের তুলনায় আইনি দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তারা অভিবাসী কোটার আওতায় পড়তেন না এবং অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি সুবিধা পেতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এই শ্রেণিকেও অন্যান্য অভিবাসীদের মতো একইভাবে বিবেচনা করছে।   আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাশলি ডি'আজেভেদো বলেন, "যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে জন্ম নেওয়া কাউকে বিয়ে করেছেন, তাদের জীবন এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে।" তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ এবং দেশের বাইরে আরও প্রায় ৩ লাখ মানুষ তাদের সহায়তা চাইছেন।   তিনি জানান, অনির্দিষ্ট সময় আটক থাকার আশঙ্কায় অনেক পরিবার স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটকও করা হয়েছে, যা অতীতে খুব কমই দেখা যেত।   অন্যদিকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শারভারি দালাল-ধেইনি বলেন, মার্কিন সরকার সব সময়ই বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাই করত। তবে আগে এই আবেদনকারীরা সাধারণ অভিবাসন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতেন না। কারণ আইনে তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ছিল।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এনপিআরকে বলেন, গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের পরিচয়, অতীত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, কেবল মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা পান না।   তার ভাষায়, আই-১৩০ পারিবারিক আবেদন অনুমোদিত হলেও সেটি নিজে থেকে কোনো অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। যারা বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এটি মোট গ্রিন কার্ড অনুমোদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সন্তান ও বাবা-মায়ের মতো নিকট আত্মীয়দের যুক্ত করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ পারিবারিক অভিবাসন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের অন্যতম প্রধান পথ।   তথ্য অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনের গড় নিষ্পত্তি সময় ছিল প্রায় ১৩ মাস এবং বাগদত্তা বা বাগদত্তার ভিসার ক্ষেত্রে প্রায় ৭ মাস। তবে আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের পর অনেক আবেদনেই অতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে।   নতুন নীতির প্রভাব পড়েছে সামরিক পরিবারের ওপরও। এনপিআরের প্রতিবেদনে এমন এক নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি একজন মার্কিন সেনাসদস্যের স্ত্রী এবং নিজেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি এমন একটি দেশের নাগরিক, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও তার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।   ওই নারীর স্বামীকে জার্মানিতে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু তার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বাড়ির কী হবে, তারা একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এবং দুই মার্কিন নাগরিক সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না।   অভিবাসন আইনজীবী এরিক ওয়েলশ বলেন, বর্তমানে আবেদনকারীদের শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতাই নয়, ব্যক্তিগত চরিত্র, অতীত জীবন এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। আগে যেসব তথ্য সাধারণত বাধ্যতামূলক ছিল না, এখন সেগুলোও চাওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বিদেশি কাউকে বিয়ে করলেই স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি কখনোই এমন ছিল না। তবে বর্তমান নীতির কারণে আবেদনকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার এখন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এগোতেই ভয় পাচ্ছে। কারণ আবেদন করলেই অতিরিক্ত তদন্ত, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা আটক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগ থাকলেও অনেকেই সেই পথ অনুসরণ করতে দ্বিধায় পড়ছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সিতে অবস্থিত মার্কিন শ্রম বিভাগের কার্যালয় ‘ফ্রান্সিস পার্কিন্স ডিপার্টমেন্ট অব লেবার বিল্ডিং’ | ছবি: গেটি ইমেজেস
গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন: আমেরিকায় বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী হওয়া আরও কঠিন করছে ট্রাম্প প্রশাসন!

আমেরিকায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা বিদেশী কর্মীদের জন্য এবার বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান যেন সহজে বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী নাগরিকত্বের জন্য স্পন্সর (আবেদন) করতে না পারে, সেজন্য নিয়মনীতি আরও কঠোর করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে দেশটির শ্রম বিভাগ।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের কারণে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এর ফলে আমেরিকায় কর্মরত হাজার হাজার বিদেশী দক্ষ পেশাজীবীর স্থায়ী হওয়ার পথ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।   সাধারণত কোনো বিদেশী কর্মীকে গ্রিন কার্ড দিতে হলে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে 'পার্ম' (PERM) নামক একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটি হলো এক ধরনের লেবার সার্টিফিকেশন বা শ্রম অনুমোদন প্রক্রিয়া।   এই নিয়মে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হয় যে, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য তারা কোনো যোগ্য মার্কিন নাগরিক খুঁজে পায়নি। এছাড়া বিদেশী কর্মী নেওয়ার কারণে স্থানীয়দের বেতন বা কর্মসংস্থানে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না—তাও নিশ্চিত করতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, ২০০৪ সালের পর এই 'পার্ম' নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তাই বর্তমান শ্রমবাজারের কথা মাথায় রেখে এবার এই পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিকায়নের নামে আরও জটিল ও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নতুন এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগদাতাদের কর্মী খোঁজার প্রক্রিয়া এবং কাগজের নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন শ্রম বাজার পরীক্ষার নিয়মগুলো আরও কড়া করা হবে।   শ্রম বিভাগের নতুন এজেন্ডা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানিতে কর্মী ছাঁটাই হলে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ, কোনো সংস্থায় ছাঁটাই চললে সেখানে বিদেশী কর্মী স্পন্সর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া শুধু ধীরগতিরই হবে না, বরং ছোট-বড় কোম্পানিগুলোর আইনি ও প্রশাসনিক খরচও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সামান্য অস্পষ্টতার কারণেও আবেদন সরাসরি বাতিল বা কড়া তদন্তের মুখে পড়তে পারে।   অবৈধ অভিবাসী দমনের পাশাপাশি বৈধভাবে আমেরিকায় আসার এবং স্থায়ী হওয়ার পথগুলোকেও সংকুচিত করার যে নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত তারই অংশ। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ডের জন্য ইন-কান্ট্রি 'অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস' কমিয়ে কনসুলার প্রসেসিং বা নিজ দেশে ফিরে ইন্টারভিউ দেওয়ার নিয়মও জোরদার করার চেষ্টা করছে।   এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি (H-1B) ভিসার নিয়ম এবং বিদেশী কর্মীদের ন্যূনতম বেতনের কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল। নতুন এই 'পার্ম' ব্যবস্থার পরিবর্তন কার্যকর হলে আমেরিকার আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কর্পোরেট খাতে কর্মরত বাংলাদেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়বেন।   সূত্র: নিউজউইক

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
বস্টনে শপথ অনুষ্ঠান শেষে হাত উঁচিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন নতুন মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীরা | ছবি: এএফপি
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেও ছাড় নেই, ট্রাম্পের কড়া নিয়মে বিপাকে বিদেশি স্বামী-স্ত্রীরা!

আমেরিকায় বৈধভাবে আসার ও থাকার নিয়মগুলো আরও কঠিন করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার এই কড়া নিয়মের খড়্গ পড়েছে এমন এক দলের ওপর, যারা এতদিন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতেন। তারা হলেন—আমেরিকান নাগরিকদের বিদেশি (নন-সিটিজেন) স্বামী অথবা স্ত্রী।   সাধারণত কোনো আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করলে তার বিদেশি সঙ্গী সহজেই গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পেয়ে যেতেন এবং তাদের তাড়া করার ভয় থাকত না। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে, গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে করা হচ্ছে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল প্রশ্ন, এবং অবৈধভাবে থাকা মানুষদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার (ডিপোর্টেশন) নিয়ম আরও জোরালো করা হয়েছে।   এর ফলে অনেকেই এখন গ্রেফতার বা দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ভয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছেন। 'আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড' নামের একটি সংস্থার প্রধান জানান, এই আতঙ্কের কারণে অনেক বিদেশি সঙ্গী নিজেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এই সংকটে পড়ে তাদের সাহায্য চেয়েছেন।   আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক শারভারী দালাল-ধেইনি বলেন, "আইন অনুযায়ী আমেরিকান নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীরা সবসময় বিশেষ সুবিধা পেতেন। তাদের জন্য কোনো কোটা বা সংখ্যার সীমা থাকত না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের সাধারণ আর ১০ জন অবৈধ অভিবাসীর মতোই দেখছে।"   এদিকে ইমিগ্রেশন বিভাগের (USCIS) মুখপাত্র জ্যাক কাহলার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া যাচাই-বাছাই। তিনি সাফ বলেন, কোনো মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার পেয়ে যাবেন না। যারা নিয়ম না মেনে ভিসা ছাড়া দেশে ঢুকেছেন বা মেয়াদের চেয়ে বেশি দিন ধরে আছেন, তাদের ‘অবৈধ’ হিসেবেই ধরা হবে এবং প্রয়োজনে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।   আইনজীবীরা তাই সতর্ক করে বলছেন, আমেরিকানদের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের এখন থেকে আর ভাবার সুযোগ নেই যে বিয়ে করলেই আমেরিকায় থাকার শতভাগ অধিকার নিশ্চিত হয়ে যায়। এই নতুন কড়াকড়ির কারণে হাজার হাজার সাধারণ পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।   সূত্র: এনপিআর (NPR)

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ফিরে আবেদন করার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতির ফলে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে সরাসরি গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।   মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) সম্প্রতি প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এতদিন যে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস (Adjustment of Status) পদ্ধতির মাধ্যমে অনেক অস্থায়ী ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন করতেন, সেটি এখন আর সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে না। বরং বিদেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন, অর্থাৎ কনস্যুলার প্রসেসিং (Consular Processing) হবে মূল প্রক্রিয়া।   কী পরিবর্তন হলো?   এর আগে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াই ভিসার ধরন পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারতেন। এতে আবেদনকারীরা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতেন।   নতুন নীতির ফলে সেই সুবিধা কার্যত সীমিত হয়ে গেছে। এখন অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে। USCIS বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন এখন আর স্বাভাবিক অধিকার নয়, বরং এটি হবে ব্যতিক্রমধর্মী একটি সুযোগ, যা বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেওয়া হতে পারে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব বেশি   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে এফ-১ (F-1) শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় যাওয়া শিক্ষার্থীদের মূল উদ্দেশ্য থাকে পড়াশোনা শেষ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অভিবাসন আইন তাদের অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT) কর্মসূচির আওতায় কাজ করার এবং পরে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার সুযোগ দিত।   নতুন নীতিতে সেই পথ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে। কারণ এখন আবেদনকারীদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিজ দেশে ফিরে কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।   আবেদন মূল্যায়নে কর্মকর্তাদের বাড়তি ক্ষমতা   USCIS-এর নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন কেসভিত্তিক এবং বিবেচনাধিকার অনুযায়ী মূল্যায়ন করবেন।   অর্থাৎ, আবেদন অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা থাকবে। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে অনেক আবেদনকারীর জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।   কর্মসংস্থানের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের পথ   যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত চাকরি পাওয়ার পর নিয়োগকর্তার সহায়তায় কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন। এর প্রধান তিনটি বিভাগ হলো:   ইবি-১ (EB-1): বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা বা ক্রীড়ায় অসাধারণ দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য, পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধ্যাপক, গবেষক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কিছু নির্বাহীর জন্য। ইবি-২ (EB-2): উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী, বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা জাতীয় স্বার্থে কাজ করছেন এমন আবেদনকারীদের জন্য। ইবি-৩ (EB-3): দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং নির্দিষ্ট কিছু অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য।   বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়োগকর্তাকে প্রথমে অভিবাসন আবেদন দাখিল করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   এই পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ?   মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নীতিগত পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা। একই সঙ্গে USCIS জানিয়েছে, এতে সংস্থাটি অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তিতে আরও বেশি সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে।   তবে অভিবাসন আইনজীবী এবং অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, নতুন নিয়ম অনেক বৈধ অভিবাসীর কর্মজীবন, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং দীর্ঘদিনের স্থায়ী বসবাসের লক্ষ্যকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে। এছাড়া এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে বলে USCIS-এর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্য কনস্যুলার প্রসেসিংই এখন মূল পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০