যুক্তরাষ্ট্রে বেস জাম্পিং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পপ তারকা মডোনার সহ-শিল্পী অ্যান্ডি লুইসের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি গিরিখাতে সপ্তাহান্তে এক ভয়াবহ বেস জাম্পিং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন প্রখ্যাত দুঃসাহসী অ্যাথলেট অ্যান্ডি লুইস, যিনি ২০১২ সালের সুপার বোলে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মডোনার সাথে একই মঞ্চে পারফর্ম করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ইউটাহর গ্র্যান্ড কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের একজন অ্যান্ডি লুইস। বেস জাম্পিং হলো একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ চরম ক্রীড়া বা এক্সট্রিম স্পোর্ট, যেখানে আকাশচুম্বী ভবন, সেতু বা গভীর গিরিখাতের মতো কোনো উঁচু ও স্থির স্থান থেকে প্যারাসুট নিয়ে নিচে ঝাঁপ দেওয়া হয়।
অ্যান্ডি লুইস শুধু বেস জাম্পিংয়েই নয়, বরং 'স্ল্যাকলাইনিং' এবং 'ট্রিকলাইনিং'-এর মতো বিশেষ ধরনের খেলাধুলার জগতেও এক অত্যন্ত সুপরিচিত নাম ছিলেন। এই খেলাগুলোতে অত্যন্ত বিপজ্জনক উচ্চতায় সরু লাইনের ওপর হেঁটে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আকাশছোঁয়া শারীরিক কসরত বা অ্যাক্রোবেটিক্স প্রদর্শন করতে হয়। লুইস ২০১২ সালের সুপার বোল হাফ-টাইম শোতে মডোনার সাথে পারফর্ম করার পর রাতারাতি বিশ্বব্যাপী তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। রোমান টোগা পোশাক পরিহিত লুইস সে সময় মাত্র এক ইঞ্চি চওড়া একটি লাইনের ওপর ট্র্যাম্পোলিনের মতো লাফিয়ে নানা কসরত দেখিয়েছিলেন, যার ঠিক পেছনেই গান গাইছিলেন মডোনা।
এই ঘটনার পর জনপ্রিয় মার্কিন লেট-নাইট টক শো 'কোনান ও'ব্রায়েন'-এ অংশ নিয়ে লুইস রসিকতা করে বলেছিলেন যে, সেই সময়ে তার ফোনটি টানা তিন দিন ধরে অনবরত কল আসার কারণে এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছিল। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ইউটাহ-কলোরাডো সীমান্তের কাছে অবস্থিত মিনারেল বটম নামক একটি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকায় বেস জাম্পিংয়ের সময় কিছু মানুষ আহত হওয়ার খবর পেয়ে গত রবিবার জরুরি উদ্ধারকারী দল সেখানে ছুটে যায়। তবে লুইস এবং তার সাথে থাকা অপর এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
লুইস 'বেস জাম্প মোয়াব' নামের একটি নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা মূলত অনভিজ্ঞ গ্রাহকদের অভিজ্ঞ গাইডের সাথে যৌথ বা ট্যান্ডেম জাম্পের মাধ্যমে এই রোমাঞ্চকর খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ করে দিত। তবে লুইস সব সময়ই এই খেলার সহজাত ও চরম বিপদ সম্পর্কে সচেতন এবং অকপট ছিলেন। গত বছর প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে পরিচালক এলা ওয়ার্নিকের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুইস বলেছিলেন, "এই খেলায় কত মানুষ যে মারা গেছে তা ভাবলে অদ্ভুত লাগে, কারণ এটি এখানে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
লুইস ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার প্রতিযোগিতামূলক স্ল্যাকলাইনিংয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। ২০১১ সালে চীনের ডিয়াওশুইলৌ জলপ্রপাতের ওপর নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে সার্ফিংয়ের মতো পা দুলিয়ে স্ল্যাকলাইন সার্ফিং করার মাধ্যমে তিনি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও গড়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে নেভাদা মরুভূমির ৪,০০০ ফুটেরও (১,২০০ মিটার) বেশি উঁচুতে আকাশে ভাসমান দুটি হট এয়ার বেলুনের মধ্যে টানানো একটি সরু লাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে তিনি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা। তিনি হলেন অ্যারিজোনার ৬৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ড্যানি জো ক্রেগল। ক্রেগলের স্বজন সিডনি ল্যাভার্টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'মোয়াব টাইমস-ইন্ডিপেনডেন্ট'-এর কাছে পাঠানো এক ইমেইলে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ড্যানি ছিলেন দুই কন্যার একজন নিবেদিতপ্রাণ বাবা এবং তার নাতনির কাছে এক গর্বিত নানা। প্যারাডাইস ভ্যালি এবং মেসা কমিউনিটির একজন সক্রিয় সদস্য ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি বক্সিং এবং বিশ্বভ্রমণের প্রতি তার এক অনন্য আবেগ ও ভালোবাসা ছিল।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসে আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ও মডেল অ্যাডভা লাভি, যিনি ‘মিয়া ভেনচুরা’ নামেও পরিচিত। ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে ডেটিংয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলে মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে আগে থেকেই মামলার মুখোমুখি থাকা এই ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে এবার নতুন করে গুরুতর চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ বছর বয়সী লাভিকে ২৮ জুলাই বেভারলি হিলস পুলিশ গ্রেপ্তার করে। রিভারসাইড কাউন্টির একটি ফৌজদারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তার পায়ে পরিয়ে দেওয়া ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর খুলে ফেলার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে একটি মিসডিমিনর মামলা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। নতুন মামলাটি ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন্ডিও শহরে সংঘটিত একটি চুরির ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৬০০ ডলার মূল্যের একটি রোলেক্স ঘড়ি, লুই ভুইতঁর চশমা, একটি কার্ডহোল্ডার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করা হয়েছিল। তদন্তে ওই ঘটনায় লাভির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে লাভি বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে বয়স্ক ধনী পুরুষ এবং কিছু তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতেন। পরে প্রেমিকা বা ভ্রমণসঙ্গীর পরিচয়ে তাদের বাসায় প্রবেশ করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের সামগ্রী চুরি করতেন। এ অভিযোগে এর আগেও তার বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড থেফট ও আবাসিক চুরিসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। মার্চ মাসে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আদালত তার বিরুদ্ধে আনা কয়েকটি অভিযোগ বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। তবে নতুন গ্রেপ্তারের ফলে তার আইনি জটিলতা আরও বেড়েছে। অ্যাডভা লাভি অতীতে প্লেবয় ও পেন্টহাউস সাময়িকীতে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উল্লেখযোগ্য অনুসারী রয়েছে। তবে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে দোষী প্রমাণিত নন।
৪ জন মহিলাকে একসাথে বিয়ে করে বুঝলেন সবাই তারা ট্রান্সজেন্ডার! শুরু বিতর্ক
ভুয়া প্রতিবন্ধিতা সনদে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ডলারের গৃহঋণ, ডিএইচএস কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
চুরি করা গাড়ি থামানোয়, পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা! অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা তরুণদের জন্য নিউইয়র্কে চাকরি পাওয়া যেমন বড় সুযোগ, তেমনি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটির ভাড়া বাজার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থায় পৌঁছেছে, ফলে কর্মজীবন শুরু করা অনেক স্নাতকের আয়ের বড় অংশই চলে যাচ্ছে ভাড়ার পেছনে। রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) নিউইয়র্ক সিটি রেন্টাল রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরটিতে মধ্যম (মিডিয়ান) মাসিক চাওয়া ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৭ ডলারে। এটি এক বছরের ব্যবধানে ১৬৪ ডলার বা ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি এবং ২০১৯ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্পিউটার সায়েন্সে সদ্য স্নাতক একজন কর্মীর নিউইয়র্কের প্রারম্ভিক বেতনের প্রায় ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ শুধু একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়ায় ব্যয় হতে পারে। ব্যবসায় শিক্ষা (বিজনেস) বিভাগের স্নাতকদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় নিউইয়র্কের পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগরে একজন নতুন কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকের আয়ের গড়ে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বিজনেস স্নাতকের ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়ায় ব্যয় হয়। অর্থাৎ, নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসা ভাড়া নিতে আয়ের প্রায় দ্বিগুণ অংশ খরচ করতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কের চারটি বরোতেই ভাড়া বেড়েছে। এর মধ্যে ম্যানহাটনে ভাড়া বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি, যা শহরের সামগ্রিক আবাসন ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউইয়র্কে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি চাহিদার তুলনায় কম থাকায় ভাড়ার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উচ্চ বেতনের কারণে দেশ-বিদেশের বহু তরুণ এই শহরে আসায় ভাড়া বাজারে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। ফলে, ২০২৬ সালে কর্মজীবন শুরু করতে নিউইয়র্কে আসা নতুন স্নাতকদের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসা খুঁজে পাওয়া।
মিনেসোটার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলায়, ইরান নয়, ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করলেন ট্রাম্প
‘মেড ইন ইউএসএ’ মিথ্যা দাবিতে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে অ্যামাজন-ওয়ালমার্ট! :গবেষণা
শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নেবেন, নাকি পরে আনবেন? কী বলছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষককে আটক করেছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গবেষকের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষকের আইনজীবীদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গবেষক একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছালে আইস কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। পরে তাকে অভিবাসন হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে তাকে আটকের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গবেষক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রতিষ্ঠানটি তার আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আইনি সহায়তা দিচ্ছে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দর, কর্মস্থল ও অন্যান্য স্থানে আইসের অভিযান বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এসব অভিযানে বৈধ কাগজপত্রধারী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও গবেষকদেরও আটকের ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে বিদেশি গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকায় এ ধরনের গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।
দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা! নিউইয়র্কের সরকারি আবাসন লটারি দ্রুত করতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা, বিনিয়োগ কমল ৩৫ শতাংশ