আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বেস জাম্পিং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পপ তারকা মডোনার সহ-শিল্পী অ্যান্ডি লুইসের মৃত্যু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১০:৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি গিরিখাতে সপ্তাহান্তে এক ভয়াবহ বেস জাম্পিং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন প্রখ্যাত দুঃসাহসী অ্যাথলেট অ্যান্ডি লুইস, যিনি ২০১২ সালের সুপার বোলে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা মডোনার সাথে একই মঞ্চে পারফর্ম করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ইউটাহর গ্র্যান্ড কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, নিহতদের একজন অ্যান্ডি লুইস। বেস জাম্পিং হলো একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ চরম ক্রীড়া বা এক্সট্রিম স্পোর্ট, যেখানে আকাশচুম্বী ভবন, সেতু বা গভীর গিরিখাতের মতো কোনো উঁচু ও স্থির স্থান থেকে প্যারাসুট নিয়ে নিচে ঝাঁপ দেওয়া হয়।

 

অ্যান্ডি লুইস শুধু বেস জাম্পিংয়েই নয়, বরং 'স্ল্যাকলাইনিং' এবং 'ট্রিকলাইনিং'-এর মতো বিশেষ ধরনের খেলাধুলার জগতেও এক অত্যন্ত সুপরিচিত নাম ছিলেন। এই খেলাগুলোতে অত্যন্ত বিপজ্জনক উচ্চতায় সরু লাইনের ওপর হেঁটে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আকাশছোঁয়া শারীরিক কসরত বা অ্যাক্রোবেটিক্স প্রদর্শন করতে হয়। লুইস ২০১২ সালের সুপার বোল হাফ-টাইম শোতে মডোনার সাথে পারফর্ম করার পর রাতারাতি বিশ্বব্যাপী তারকাখ্যাতি অর্জন করেন। রোমান টোগা পোশাক পরিহিত লুইস সে সময় মাত্র এক ইঞ্চি চওড়া একটি লাইনের ওপর ট্র্যাম্পোলিনের মতো লাফিয়ে নানা কসরত দেখিয়েছিলেন, যার ঠিক পেছনেই গান গাইছিলেন মডোনা।

 

এই ঘটনার পর জনপ্রিয় মার্কিন লেট-নাইট টক শো 'কোনান ও'ব্রায়েন'-এ অংশ নিয়ে লুইস রসিকতা করে বলেছিলেন যে, সেই সময়ে তার ফোনটি টানা তিন দিন ধরে অনবরত কল আসার কারণে এক প্রকার অচল হয়ে পড়েছিল। শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ইউটাহ-কলোরাডো সীমান্তের কাছে অবস্থিত মিনারেল বটম নামক একটি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকায় বেস জাম্পিংয়ের সময় কিছু মানুষ আহত হওয়ার খবর পেয়ে গত রবিবার জরুরি উদ্ধারকারী দল সেখানে ছুটে যায়। তবে লুইস এবং তার সাথে থাকা অপর এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

লুইস 'বেস জাম্প মোয়াব' নামের একটি নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা মূলত অনভিজ্ঞ গ্রাহকদের অভিজ্ঞ গাইডের সাথে যৌথ বা ট্যান্ডেম জাম্পের মাধ্যমে এই রোমাঞ্চকর খেলার অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ করে দিত। তবে লুইস সব সময়ই এই খেলার সহজাত ও চরম বিপদ সম্পর্কে সচেতন এবং অকপট ছিলেন। গত বছর প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে পরিচালক এলা ওয়ার্নিকের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুইস বলেছিলেন, "এই খেলায় কত মানুষ যে মারা গেছে তা ভাবলে অদ্ভুত লাগে, কারণ এটি এখানে খুবই সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

 

লুইস ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার প্রতিযোগিতামূলক স্ল্যাকলাইনিংয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। ২০১১ সালে চীনের ডিয়াওশুইলৌ জলপ্রপাতের ওপর নিজের ভারসাম্য বজায় রেখে সার্ফিংয়ের মতো পা দুলিয়ে স্ল্যাকলাইন সার্ফিং করার মাধ্যমে তিনি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডও গড়েছিলেন। এরপর ২০১৪ সালে নেভাদা মরুভূমির ৪,০০০ ফুটেরও (১,২০০ মিটার) বেশি উঁচুতে আকাশে ভাসমান দুটি হট এয়ার বেলুনের মধ্যে টানানো একটি সরু লাইনের ওপর দিয়ে হেঁটে তিনি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

 

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা। তিনি হলেন অ্যারিজোনার ৬৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী ড্যানি জো ক্রেগল। ক্রেগলের স্বজন সিডনি ল্যাভার্টি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'মোয়াব টাইমস-ইন্ডিপেনডেন্ট'-এর কাছে পাঠানো এক ইমেইলে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, ড্যানি ছিলেন দুই কন্যার একজন নিবেদিতপ্রাণ বাবা এবং তার নাতনির কাছে এক গর্বিত নানা। প্যারাডাইস ভ্যালি এবং মেসা কমিউনিটির একজন সক্রিয় সদস্য ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি বক্সিং এবং বিশ্বভ্রমণের প্রতি তার এক অনন্য আবেগ ও ভালোবাসা ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আই-২৮৫ মহাসড়কে ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও তীব্র যানজট

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গ্লেনউড রোডের কাছে ইন্টারস্টেট ২৮৫ (আই-২৮৫) মহাসড়কে মঙ্গলবার সকালে একটি বড় ট্রেইলর ট্রাকসহ চারটি গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে ঘটা এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাতায়াতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ডিকাব ফায়ার রেসকিউ বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির সব আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং সৌভাগ্যবশত কেবল কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।   ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে হয়তো কেউ আটকে পড়েছেন। তবে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত করে যে, সব আরোহী অক্ষত ও নিরাপদে আছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ট্রেইলর ট্রাকের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা। কারণ দুর্ঘটনার পরপরই ওই ট্রেইলরে ঠিক কী ধরনের মালামাল ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি এবং ওই এলাকায় পানির সরবরাহও ছিল সীমিত।   আগুন পুরোপুরি নেভাতে ফায়ার ফাইটারদের অন্য এলাকা থেকে গাড়িতে করে পানি এনে কাজ চালাতে হয়েছিল। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানের পর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, ট্রেইলর ট্রাকটিতে মূলত প্রচুর পরিমাণে কাগজের কার্টন বা কার্ডবোর্ড বক্স বহন করা হচ্ছিল। আর এ কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তা নেভাতে বেগ পেতে হয়েছিল।   আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যান। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেইলরের ভেতরে আর কোনো সুপ্ত আগুন বা 'হট স্পট' যেন লুকিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে তারা 'ওভারহল' বা পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। আগুন যেন কোনোভাবেই পুনরায় জ্বলে উঠতে না পারে, সেজন্য ট্রেইলরে থাকা সমস্ত মালামাল আনলোড বা খালাস করে ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়।   এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে আই-২৮৫ মহাসড়কের সমস্ত সাউথবাউন্ড বা দক্ষিণমুখী লেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো রাস্তা জুড়ে অবস্থান নেওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ওই রুটের সকালের নিয়মিত যাত্রীরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে বাধ্য হন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ চালকদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার এবং বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। বিকল্প রুট হিসেবে চালকদের ইন্টারস্টেট ৭৫/৮৫ অথবা মেমোরিয়াল ড্রাইভ হয়ে ইন্টারস্টেট ২০ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১০:২৫
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বেস জাম্পিং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পপ তারকা মডোনার সহ-শিল্পী অ্যান্ডি লুইসের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

৬০ বিলিয়ন ডলারে এআই কোডিং সফটওয়্যার কিনে নিল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স

ছবি: সংগৃহীত

লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ফ্লাইটে মোবাইল ফোনে আগুন, নিরাপদে অবতরণ

ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে সবচেয়ে বেশি পুনর্বাসন পাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শরণার্থীরা, বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি

যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নতুন সরকারি পরিসংখ্যানে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে টেক্সাসে পুনর্বাসনের জন্য অনুমোদিত ৮১৭ জন শরণার্থীর সবাই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা। জাতীয় পর্যায়ে এ বছর যেসব শরণার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ১২ শতাংশেরও বেশি টেক্সাসে পুনর্বাসিত হওয়ার কথা রয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন ও শরণার্থী নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণের ধরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা কার্যত একমাত্র দেশ, যেখান থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় শরণার্থী গ্রহণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের পর সবচেয়ে বেশি শরণার্থী পুনর্বাসন পেয়েছে ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়া। তবে চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে থেকে মাত্র তিনজন শরণার্থীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যাদের আফগানিস্তান থেকে কলোরাডোতে পাঠানো হয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী কর্মসূচির ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি। কারণ অতীতে বিভিন্ন অঞ্চল ও সংঘাতপ্রবণ দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ পুনর্বাসনের সুযোগ পেলেও বর্তমানে সেই বৈচিত্র্য প্রায় অনুপস্থিত।   দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ মনোযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে নির্দেশ দেন, দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের সদস্যদের শরণার্থী আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে। আফ্রিকানাররা মূলত ডাচ, ফরাসি ও জার্মান বংশোদ্ভূত ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের উত্তরসূরি।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকায় এই জনগোষ্ঠী বর্ণগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এ অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগ একাধিক বিবৃতিতে বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় কথিত “শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা” বা ব্যাপক নিপীড়নের দাবি নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত নয়। বরং আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিও প্রকাশ্যে এই ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।   গত মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৬ অর্থবছরের শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা ৭ হাজার ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৫০০ জনে উন্নীত করে। এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় প্রশাসন দাবি করে, দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি “অপ্রত্যাশিত শরণার্থী সংকট” তৈরি হয়েছে।   অভিবাসন ও শরণার্থী আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে নির্দিষ্ট দেশ বা জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও বর্তমান প্রশাসনের পরিবর্তনগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্রুত ও ব্যাপক।   সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির আইন অধ্যাপক নাটালি নানাসি, যিনি শরণার্থী ও আশ্রয় আইন নিয়ে গবেষণা করেন, বলেন, শরণার্থী পুনর্বাসন অনেক সময় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে। কারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, সেই সিদ্ধান্তেও রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যেতে পারে।   তিনি আরও বলেন, শরণার্থীরা সাধারণত নিজেরা ঠিক করতে পারেন না কোথায় তাদের পাঠানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নির্দিষ্ট অঙ্গরাজ্যে পুনর্বাসন করা হয়।   টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী পুনর্বাসনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তবে আগে সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষকে পুনর্বাসন দেওয়া হতো। ২০২৪ অর্থবছরে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় টেক্সাস প্রায় ৯ হাজার ৮০০ শরণার্থী গ্রহণ করেছিল। তারা এসেছিলেন ৪৪টি ভিন্ন দেশ থেকে। ওই সময় ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ছিল শরণার্থীদের প্রধান উৎসদেশ।   তখন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কোনো শরণার্থী টেক্সাসে পুনর্বাসিত হয়নি। ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও একই চিত্র দেখা যায়। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে টেক্সাসে ৪১টি দেশ থেকে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি শরণার্থী এসেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টেক্সাসে মোট ৭২ জন শরণার্থী পুনর্বাসিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকার, সাতজন এল সালভাদরের এবং একজন নরওয়ের নাগরিক।   বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তা হলে এটি গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কম শরণার্থী গ্রহণের রেকর্ডগুলোর একটি হবে।   অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা গবেষকরা বলছেন, শরণার্থী কর্মসূচিতে এই পরিবর্তন শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মানবিক ও বহুজাতিক পুনর্বাসন নীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ এক মোড় নির্দেশ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২০:৫৮
ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় উড্ডয়নের পরই বিধ্বস্ত মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান, নিহত ৮

আমেরিকা বাংলা কোলাজ

মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর পেটন গেনড্রনের বিচার, জুরি নির্বাচন শুরু

নাবিলাহ পার্কস । ছবি: ফাইল ছবি

আগামীকাল রানঅফ নির্বাচন, জর্জিয়ায় নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন । ছবি: ফাইল ছবি
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিতের পর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের শুরু

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) তার এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউজমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই অভিযোগ করেন।   মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজম তদন্তের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেডারেল এজেন্টরা তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং সাবেক কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার ভাষায়, “কোনো অপরাধ খোঁজার কারণে নয়, বরং একটি অপরাধ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করছে এবং গ্র্যান্ড জুরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বছরের পর বছর পুরোনো রেকর্ড খোঁজা হচ্ছে। নিউজমের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্য করছেন, কারণ তিনি ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন।   নিউজম বলেন, “ট্রাম্প আমার টুইটের কারণে নয়, বরং তিনি জানেন আমি তার মিথ্যা ও প্রতারণা প্রকাশ করেছি, সেই কারণেই তিনি আমার পেছনে লেগেছেন।”   ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প, আপনি চাইলে আমার নথি তলব করতে পারেন, আমাকে তদন্ত করতে পারেন, আমাকে হয়রানি করতে পারেন, কিন্তু আমার পরিবারকে এই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বাইরে রাখুন।”   এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিউজমের রাজনৈতিক বিরোধ একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফেডারেল বাহিনী মোতায়েন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।   ট্রাম্প তখন আইন অমান্যের অভিযোগে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনার কথা বলেন। এর জবাবে নিউজম প্রকাশ্যে বলেন, “আমাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে এসে করুন।” এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১৬:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের প্রতীকী দৃশ্য

তহবিল সংকটে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা কমার ঝুঁকি, নিউইয়র্কে অবসরপ্রাপ্তদের মাসে গড়ে ৫১১ ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে

ছবি:সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান

ছবি: অ্যালবানি টাইমস ইউনিয়ন

হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশনে রিজেন্টস পরীক্ষা বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে নিউইয়র্ক স্টেট এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট

0 Comments