ভারতে মুসলিম নারীদের অনলাইনে হেনস্তা ও মানহানি করার জন্য জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-কে নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি বিকৃত করে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসবাসরত কাশ্মীরি মডেল সামরিন আইয়ুবের সাথে ঘটা একটি ঘটনা এর অন্যতম বড় প্রমাণ। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছবিগুলো এআই দিয়ে জুড়ে দিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়, যেখানে মিথ্যা দাবি করা হয় যে তিনি দেহব্যবসায় জড়িত। ভিডিওটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে স্বয়ং সামরিনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (সিএসওএইচ)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এক্স (টুইটার), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা ১,৩২৬টি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা এসব আপত্তিকর কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে, যার ইন্টারঅ্যাকশন বা ভিউ প্রায় ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো কারিগরি দক্ষতা ছাড়াই যে কেউ বিনামূল্যে এবং খুব দ্রুত যেকোনো মানুষের ছবিকে বিকৃত করে বাস্তবসম্মত আপত্তিকর ছবি বা ডিপফেক তৈরি করতে পারছে।
মুম্বাই ভিত্তিক রাতি (RATI) ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত অনলাইন হেল্পলাইন 'মেরি ট্রাস্টলাইন'-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও এই উদ্বেগের সত্যতা মিলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআই অপব্যবহারের শিকার হিসেবে গণমাধ্যমে সাধারণত তারকা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম বেশি আসলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে সাধারণ নারীরাও এর বড় শিকার হচ্ছেন। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই হেল্পলাইনটি ৪৮২টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ মামলাই ছিল ডিজিটালি বিকৃত বা এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট সংক্রান্ত। লোকলজ্জা, ভয় এবং ট্রমার কারণে ভুক্তভোগী নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নির্যাতনের কথা নিজের পরিবারকেও জানাতে পারেন না।
মিউনিখের লুডউইগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যানথ্রোপলজিস্ট সাহানা উদুপা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে 'রাজনীতির পর্নোলাইজেশন' বা নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। উগ্রপন্থী কিছু ডিজিটাল গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক, মিম এবং আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে এই ধরনের হয়রানিকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল নারীবিদ্বেষ নয়, বরং এর পেছনে গভীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে নারীদের পরিবারের সম্মান হিসেবে দেখা হয়, তাই মুসলিম নারীদের এভাবে টার্গেট করার মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে ভারতে 'সুল্লি ডিলস' এবং 'বুল্লি বাই' নামক অ্যাপের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি আপলোড করে ভুয়া 'অনলাইন নিলাম'-এর আয়োজন করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনৈতিক নেতা আতিফ রশিদ অবশ্য এই ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ভালো ও মন্দ উভয় কাজেই ব্যবহার হতে পারে এবং এর অপব্যবহার রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে পূর্বের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিজেপি সব ধর্মের নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে ভারতের বর্তমান আইনি কাঠামো এআই-প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের সাথে তাল মেলাতে পারছে না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং আইনজীবী অপর গুপ্তা জানান, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ধারা অনুযায়ী সম্মতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করা অপরাধ। কিন্তু ছবি বা শরীর যদি সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়, তবে এই ধারাটি প্রয়োগ করা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া মেটা বা গুগলের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জটিল রিপোর্টিং সিস্টেমের কারণে সাধারণ নারীরা সহজে এসব ডিপফেক বা আপত্তিকর কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা তাদের জীবন ও ক্যারিয়ারকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফকোয়াল' (Ofqual) আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক ত্রুটির কারণে কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেমব্রিজ ইংলিশ কর্তৃপক্ষ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষাগুলোতে এই বিপর্যয় ঘটে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লাখ আইইএলটিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নজরে এই ত্রুটি ধরা পড়েনি। ভুল চিহ্নিত হওয়ার পরপরই আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ (যার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট) দ্রুত অফকোয়ালকে বিষয়টি অবহিত করে। এই ভুল ফলাফলের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। কেমব্রিজ ইংলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায়ভার গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফলাফল সংশোধন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন প্রযুক্তিগত সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি ব্যয় করেছে। ত্রুটি সংশোধনের পর দেখা যায়, প্রায় ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর সংশোধিত স্কোর আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ত্রুটির শিকার হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১০৮টি ছিল যুক্তরাজ্যের ভিসা সংক্রান্ত পরীক্ষা। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে মাত্র ৪টি ক্ষেত্রে ভুল ফলাফলের কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিসার যোগ্যতা প্রভাবিত হয়েছিল; তবে পরবর্তীতে ওই পরীক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। অফকোয়ালের নির্বাহী পরিচালক (ডেলিভারি) অ্যামান্ডা সোয়ান এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "যারা এই পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা এই ফলাফলগুলো মূল্যায়ন কাজে ব্যবহার করেছেন, তারা দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের এই বড় অঙ্কের জরিমানা মূলত সেই ব্যর্থতারই কঠোর প্রতিফলন।" এদিকে, আইইএলটিএস-এর একজন মুখপাত্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানান, সমস্যাটি চিহ্নিত হওয়ার পরপরই তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল সংশোধন ও পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) অথবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি না ঘটে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলে আশ্বস্ত করেছে।
ভারতে মুসলিম নারীদের অনলাইনে হেনস্তা ও মানহানি করার জন্য জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-কে নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি বিকৃত করে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসবাসরত কাশ্মীরি মডেল সামরিন আইয়ুবের সাথে ঘটা একটি ঘটনা এর অন্যতম বড় প্রমাণ। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছবিগুলো এআই দিয়ে জুড়ে দিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়, যেখানে মিথ্যা দাবি করা হয় যে তিনি দেহব্যবসায় জড়িত। ভিডিওটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে স্বয়ং সামরিনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন ভিত্তিক 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (সিএসওএইচ)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এক্স (টুইটার), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা ১,৩২৬টি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা এসব আপত্তিকর কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে, যার ইন্টারঅ্যাকশন বা ভিউ প্রায় ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো কারিগরি দক্ষতা ছাড়াই যে কেউ বিনামূল্যে এবং খুব দ্রুত যেকোনো মানুষের ছবিকে বিকৃত করে বাস্তবসম্মত আপত্তিকর ছবি বা ডিপফেক তৈরি করতে পারছে। মুম্বাই ভিত্তিক রাতি (RATI) ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত অনলাইন হেল্পলাইন 'মেরি ট্রাস্টলাইন'-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও এই উদ্বেগের সত্যতা মিলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআই অপব্যবহারের শিকার হিসেবে গণমাধ্যমে সাধারণত তারকা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম বেশি আসলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে সাধারণ নারীরাও এর বড় শিকার হচ্ছেন। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই হেল্পলাইনটি ৪৮২টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ মামলাই ছিল ডিজিটালি বিকৃত বা এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট সংক্রান্ত। লোকলজ্জা, ভয় এবং ট্রমার কারণে ভুক্তভোগী নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নির্যাতনের কথা নিজের পরিবারকেও জানাতে পারেন না। মিউনিখের লুডউইগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যানথ্রোপলজিস্ট সাহানা উদুপা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে 'রাজনীতির পর্নোলাইজেশন' বা নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। উগ্রপন্থী কিছু ডিজিটাল গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক, মিম এবং আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে এই ধরনের হয়রানিকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল নারীবিদ্বেষ নয়, বরং এর পেছনে গভীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে নারীদের পরিবারের সম্মান হিসেবে দেখা হয়, তাই মুসলিম নারীদের এভাবে টার্গেট করার মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে ভারতে 'সুল্লি ডিলস' এবং 'বুল্লি বাই' নামক অ্যাপের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি আপলোড করে ভুয়া 'অনলাইন নিলাম'-এর আয়োজন করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনৈতিক নেতা আতিফ রশিদ অবশ্য এই ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ভালো ও মন্দ উভয় কাজেই ব্যবহার হতে পারে এবং এর অপব্যবহার রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে পূর্বের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিজেপি সব ধর্মের নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে ভারতের বর্তমান আইনি কাঠামো এআই-প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের সাথে তাল মেলাতে পারছে না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং আইনজীবী অপর গুপ্তা জানান, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ধারা অনুযায়ী সম্মতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করা অপরাধ। কিন্তু ছবি বা শরীর যদি সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়, তবে এই ধারাটি প্রয়োগ করা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া মেটা বা গুগলের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জটিল রিপোর্টিং সিস্টেমের কারণে সাধারণ নারীরা সহজে এসব ডিপফেক বা আপত্তিকর কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা তাদের জীবন ও ক্যারিয়ারকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা রশি ছাড়া বিপজ্জনকভাবে পাহাড়ে চড়ার জন্য ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ নামে পরিচিত ৩০ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স ক্লাইম্বার আল-কাকা ইবনে আনতার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গত শুক্রবার দক্ষিণ ইয়েমেনের দামত শহরের কাছে হারদাহ বাঁধ সংলগ্ন প্রায় ৪০০ ফুট গভীর একটি নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরির খাদে নিজের ক্লাইম্বিং কৌশল প্রদর্শনের সময় নিচে পড়ে গিয়ে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, আনতার কোনো রকম সেফটি গিয়ার ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে আগ্নেয়গিরির খাদের খাড়া পাথুরে দেওয়ালে ঝুলে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগেও তিনি এই একই স্থানে বহুবার এমন দুঃসাহসিক কসরত দেখিয়েছেন। তবে গত শুক্রবারের প্রদর্শনী চলাকালে দুর্ভাগ্যবশত হঠাৎ করেই দেওয়াল থেকে তাঁর হাতের গ্রিপ বা মুঠো ফসকে যায় এবং তিনি সরাসরি ৪০০ ফুট গভীর খাদের তলদেশে আছড়ে পড়েন। শনিবার ইয়েমেনের সিভিল ডিফেন্স অথরিটি এক বিবৃতিতে জানায়, খাদের তলদেশে থাকা একটি গভীর হ্রদ থেকে দীর্ঘ চার ঘণ্টার এক অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আনতারের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকারী দল জানায়, হ্রদের পানির প্রায় ৬৫ ফুট গভীর থেকে তাঁর লাশটি ওপরে তোলা হয়। সালফার সমৃদ্ধ ওই হ্রদের পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আরও জানান, খাদের তলদেশ থেকে অনবরত তীব্র ও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে পুরো এলাকাটি উদ্ধারকারী দলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে লাশটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ইয়েমেনের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ দেশের সাধারণ নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পেশাদার এই ক্লাইম্বারের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য তাঁর এমন অতিরিক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি নেওয়ার তীব্র সমালোচনাও করেছেন। এর জবাবে আনতারের অনুসারী ও সমর্থকেরা জানান, চরম অর্থনৈতিক দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়ের আশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিয়মিত এমন রোমাঞ্চকর ভিডিও তৈরি করতেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েমেনের প্রশাসন দেশের সমস্ত দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সময় পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে আগ্নেয়গিরির খাদের কিনারা, খাড়া পাহাড়ের ঢাল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপত্যকা থেকে সবাইকে দূরে থাকার এবং সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফ্রি ক্লাইম্বিং স্পোর্টসটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া এমন প্রচেষ্টা জীবনের জন্য মারাত্মক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।