নিখোঁজ ছেলের খোঁজে ৫০ বছর লড়াই করা আর্জেন্টিনার মানবাধিকার কর্মী তাতি আলমেইদার মৃত্যু
আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার আমলে জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া নিজের ছেলের খোঁজে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কিংবদন্তি মানবাধিকার কর্মী লিদিয়া 'তাতি' আলমেইদা মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তার এই প্রয়াণে আর্জেন্টিনা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আলমেইদা ছিলেন দেশটির বিখ্যাত অধিকার রক্ষা সংগঠন 'মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো'-র সভাপতি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চলা দেশটির রক্তক্ষয়ী একনায়কতন্ত্রের সময় নিখোঁজ হওয়া সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এই মায়েরা ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের সামনের চত্বরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতীকী পদযাত্রা করে আসছিলেন।
১৯৭৫ সালের জুন মাসে আর্জেন্টিনার সামরিক অভ্যুত্থানের ঠিক নয় মাস আগে আলমেইদার ছেলে আলেহান্দ্রোকে কমিউনিস্ট-বিরোধী আধাসামরিক বাহিনী অপহরণ করে। এরপর থেকে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে আলমেইদা তার সন্তানের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, সেই সত্য উন্মোচনের জন্য অবিরাম সন্ধান চালিয়ে যান। আলেহান্দ্রোকে আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে এই দীর্ঘ পথচলায় আলমেইদা হয়ে উঠেছিলেন এক অনুকরণীয় নৈতিক শক্তির প্রতীক এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের এক অন্যতম বাতিঘর। তিনি জীবনের শেষ বছর পর্যন্ত একনায়কতন্ত্রের বর্বরতার বিচার দাবির পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে প্রকাশ্যে সক্রিয় ভূমিকা রেখে গেছেন।
আলমেইদার পরিবার জানিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে বুয়েনস আইরেসের একটি হাসপাতালে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো জানিয়েছে, গত কয়েক দিন আগে অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার এই মানবিক কাজ চালিয়ে গেছেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক আবেগঘন শ্রদ্ধাবার্তায় বলা হয়, "আমাদের এটি শেখানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ যে ভালোবাসার অপর নামই হলো প্রতিরোধ করা। আমরা কেবল সেই লড়াইয়েই হেরে যাই যা আমরা ছেড়ে দিই এবং ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো শক্তি পৃথিবীতে আর নেই।"
লিদিয়া স্তেলা মার্সিডিজ মি উরাঙ্গা নামের এই সাহসী নারী ১৯৩০ সালের ২৮ জুন বুয়েনস আইরেসে জন্মগ্রহণ করেন। স্বামী হোর্হে আলমেইদার সাথে সংসারে তাদের তিনটি সন্তান ছিল। সমাজকর্মী বা আন্দোলনের কর্মী হওয়ার আগে তিনি মূলত একজন শিক্ষক ছিলেন এবং পরবর্তীতে নিজের পরিবার লালন-পালনেই ব্যস্ত ছিলেন। আলমেইদার বাবা ছিলেন একজন সামরিক ক্যাভালরি অফিসার। ফলে ১৯৭৫ সালে যখন আলেহান্দ্রো নিখোঁজ হন, তখন তার প্রথম সহজাত তাগিদ ছিল সহায়তার জন্য সামরিক জানাশোনা লোকদের কাছে যাওয়া। কিন্তু পরবর্তীতে যখন তিনি স্বৈরাচারের ভয়াবহ নৃশংসতার সত্য জানতে পারেন এবং নিজের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের খোঁজে থাকা অন্যান্য মায়েদের সাথে পরিচিত হন, তখন তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠেন।
নিখোঁজ হওয়ার সময় আলেহান্দ্রো বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন এবং একই সাথে তিনি একটি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী গেরিলা দল 'পিপলস রেভল্যুশনারি আর্মি'-র সদস্য ছিলেন। তিনি একাধারে একজন কবিও ছিলেন। ২০০৮ সালে আলমেইদা তার ছেলের একটি ডায়েরি থেকে খুঁজে পাওয়া কবিতার সংকলন বই আকারে প্রকাশ করেছিলেন, যা তিনি ছেলের অপহরণের পর উদ্ধার করেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ১৯৮০-এর দশকে মূল সংগঠনটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর ২০২৪ সালে আলমেইদা 'মাদার্স অব প্লাজা দে মায়ো ফাউন্ডিং লাইন'-এর সভাপতি নির্বাচিত হন। আর্জেন্টিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কির্চনারসহ দেশটির বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই মহান নেত্রীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে এমন একজন অক্লান্ত যোদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি জীবনকে সম্মানিত করে গেছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View more
ইতালির অন্যতম ব্যস্ত নেপলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংস্কারকাজের জন্য আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রানওয়ের বড় ধরনের সংস্কারের কারণে পুরো নভেম্বর মাসে বিমানবন্দরটিতে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ থাকবে। এতে ইতালির জনপ্রিয় পর্যটন শহর নেপলসে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপলস ক্যাপোডিকিনো বিমানবন্দরের রানওয়ে সংস্কারের জন্য প্রায় তিন কোটি ইউরো ব্যয় করা হচ্ছে। এটি বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া প্রায় ২৫ কোটি ইউরোর বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা এবং ভবিষ্যতে বাড়তি যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিকল্পিত সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে নভেম্বরজুড়ে বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করেই রানওয়ের উন্নয়নকাজ পরিচালিত হবে। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় নভেম্বরে যাত্রী চলাচল কম থাকায় সংস্কারের জন্য এই মাসটি বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে তুলনামূলকভাবে কম যাত্রীর ভ্রমণসূচি প্রভাবিত হবে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা। নেপলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইতালির গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগকেন্দ্রগুলোর একটি। রোম ও মিলানের পর দেশের ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে এর অবস্থান উল্লেখযোগ্য। প্রতিবছর প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ যাত্রী বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেন। ভবিষ্যতে যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে এক কোটি ৭৩ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করা। নেপলস বিমানবন্দর থেকে রায়ানএয়ার, ইজিজেট ও উইজ এয়ারের মতো কম খরচের এয়ারলাইনস নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন গ্যাটউইক থেকে ইজিজেট এবং ম্যানচেস্টার, লন্ডন স্ট্যানস্টেড ও এডিনবরা থেকে রায়ানএয়ারের ফ্লাইট রয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকার সময় এসব রুটের যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি ও গন্তব্য বিমানবন্দর সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নেপলসে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য বিকল্প হিসেবে সালেরনো পন্তেকানিয়ানো বিমানবন্দর ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই বিমানবন্দর থেকে নেপলসে পৌঁছাতে শাটল বাসের সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাটল বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ইউরো। অন্যদিকে সালেরনো থেকে ট্রেনে নেপলস সেন্ট্রাল স্টেশনে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। ট্রেনের ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় পাঁচ ব্রিটিশ পাউন্ড। বিমানবন্দর বন্ধের কারণে যাত্রীদের শুধু ফ্লাইটের সময়সূচি নয়, বিমানবন্দর থেকে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিবহনব্যবস্থাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই নেপলসে যাওয়ার টিকিট কিনেছেন, তাঁদের এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প ফ্লাইট, বিমানবন্দর পরিবর্তন এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে নেপলস থেকে অন্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকা যাত্রীদেরও পরিবর্তিত সূচি যাচাই করতে হবে। নেপলস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের সংস্কারকাজ শেষ করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে। তবে যাত্রীদের নির্ধারিত ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করতে বলা হচ্ছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে উন্নত রানওয়ে ও অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা জিইএসএসি জানিয়েছে, ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সালেরনো বিমানবন্দর থেকে ১৫টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আমস্টারডাম, বার্সেলোনা, দুবাই, মাদ্রিদ ও প্যারিসের মতো শহর রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে নেপলসের পিয়াজা গারিবালদি থেকে সালেরনো বিমানবন্দর পর্যন্ত বিশেষ বাস সার্ভিসও চালু করা হয়েছে। তবে নেপলসের সব ফ্লাইট সালেরনোতে স্থানান্তর করা হচ্ছে না। তাই যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনসের পরিবর্তিত সূচি নিশ্চিত করতে হবে।
অ্যামাজনের গুদামে ১০ লাখের বেশি রোবট, মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ
ইউক্রেনের জন্য ২১০ কোটি ডলারের ৫০০ প্যাট্রিয়ট মিসাইল অনুমোদন, দ্রুত সরবরাহ চান জেলেনস্কি
ইসরায়েলের নির্বাচনে আসন কমেছে নেতানিয়াহুর, সরকার গঠনের সুযোগ দেখছেন না লাপিদ
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের একটি সরকারি স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে ঢুকে দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা চালিয়েছেন ২১ বছর বয়সী এক তরুণ। এতে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আ হ ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রদেশের অনন্তপুর জেলা পরিষদ উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। স্কুলটির দশম শ্রেণির একটি কক্ষে শিক্ষক পাঠদান করানোর সময় হঠাৎ বৈদ্যুতিক করাত হাতে সেখানে প্রবেশ করেন ওই তরুণ। পরে শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের সামনেই দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা চালান তিনি। আ হ ত দুই শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তার অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানা গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হা ম লায় অ ভি যুক্ত তরুণের নাম হেমন্ত, যিনি দুম্মু নামেও পরিচিত। তিনি শ্রী সত্য সাই জেলার ধর্মবরম এলাকার নাগালুর গ্রামের বাসিন্দা। আ হ ত এক ছাত্রীর সঙ্গে অ ভি যুক্তের দূরসম্পর্কের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। হা ম লার পর স্কুল থেকে পালিয়ে যান হেমন্ত। পরে ধর্মবরম রেলস্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে ওই তরুণ দুই ছাত্রীর ওপর হা ম লা চালিয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হা ম লার পেছনের কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত করছে পুলিশ। এদিকে, অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্কুলের শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর ওপর এমন হা ম লার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে স্কুলে হা ম লা কারীদের সমাজে কোনো জায়গা নেই বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে দেড় বছরে ২০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র আমদানি ইরানের
দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণ প্রজন্মের নতুন ট্রেন্ড 'বই পড়া', কমছে স্ক্রলিংয়ের আকর্ষণ
যুক্তরাজ্যে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে আইএস সংশ্লিষ্ট অভিবাসী ব্যক্তিকে ঘিরে প্রতিবেদন
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভারতীয় চিকিৎসকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতা ইয়োসি মিজরাহি। তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত ও ইসরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব এবং ভারতীয়দের জীবনযাপন নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিজরাহিকে ভারতের গরু পূজার প্রচলিত ধারণা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের কিছু মানুষ গোমূত্র পান করেন এবং তাঁদের মধ্যে চিকিৎসকরাও রয়েছেন। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে গোমূত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উপহাস করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সড়কে গরুর উপস্থিতি এবং এর কারণে যানজট তৈরির বিষয় নিয়েও তিনি রসিকতা করেন বলে জানা গেছে। সমালোচকদের মতে, একটি দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে এ ধরনের সাধারণীকরণ বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের মতো একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় অংশের কাছে গরু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ঐতিহ্যে গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ভারতের সব হিন্দু একইভাবে ধর্মীয় আচার পালন করেন না। অঞ্চল, সম্প্রদায় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী এসব রীতিনীতিতে পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোনো একটি প্রচলিত আচরণকে সমগ্র ভারতীয় জনগোষ্ঠীর অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরা যথাযথ নয়। গোমূত্রের ব্যবহার নিয়েও ভারতে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। কিছু ঐতিহ্যগত ধর্মীয় ও লোকজ অনুশীলনে এর উল্লেখ থাকলেও তা সব ভারতীয় বা সব হিন্দুর সাধারণ অভ্যাস নয়। একইভাবে চিকিৎসকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠী হিসেবে এ ধরনের অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। মিজরাহির বক্তব্যে এমন তথ্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি লেখক ইয়েশায়া রোজেনম্যানও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে অন্য দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতেও সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। এ অবস্থায় একজন ইহুদি ধর্মীয় নেতার ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মিজরাহির বক্তব্যকে ইসরায়েল সরকার কিংবা দেশটির ইহুদি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তিনি একজন স্বতন্ত্র ধর্মীয় বক্তা এবং তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য কোনো রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াকে ভারত বা ইসরায়েলের সব নাগরিকের মতামত হিসেবেও ধরে নেওয়া যায় না। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং কোন অনুষ্ঠানে মিজরাহি এসব মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিতর্কের পর তিনি প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কিংবা বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন। ঘটনাটি ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনুসারী থাকা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মন্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইয়োসি মিজরাহির ভিডিও ঘিরে চলমান বিতর্কেও সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।
১৫ বছরের বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন ভেঙে মাঝপথে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো মার্কিন যাত্রীদের
ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সন্দেহ উত্তর কোরিয়াকে