আমেরিকা

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: বারাক ওবামা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২১:৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহের সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়, সামরিক চাপ এবং প্রাণহানির পরও এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

 

শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবামা এসব কথা বলেন। শিকাগোতে নির্মিত ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টারের উদ্বোধনের প্রাক্কালে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ইরান নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেন।

 

ওবামা বলেন, কয়েক মাসের এই সংঘাতে শত শত কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য অর্জনের কথা বলেছিল, বাস্তবে তা অর্জিত হয়নি।

তার ভাষায়, “আমরা শেষ পর্যন্ত আবার সেই জায়গাতেই ফিরে এসেছি, যেখানে সংঘাত শুরুর আগে ছিলাম। বরং অনেক ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল এবং উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।”

 

সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশেষভাবে সমালোচনা করেন ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের। তিনি বলেন, তার প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে হওয়া যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছিল।

ওবামার দাবি, ইরান তখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি উল্টো আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পায়।

 

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে, সেটিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

 

তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনায় তেহরানের নির্ধারিত সীমারেখা বা ‘রেড লাইন’ মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ইরান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

 

যুদ্ধের অন্যতম বড় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

জ্বালানি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান এক্সন মবিলের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল চ্যাপম্যান সতর্ক করে বলেছেন, যদি কৌশলগত মজুত সংকটজনক পর্যায়ে নেমে আসে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওবামা। তিনি বলেন, দেশটিতে রাজনৈতিক বিভাজন ক্রমেই বাড়ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা ক্ষয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

গণতন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা করা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকবে। ওবামার এই মন্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম বাড়ার নেপথ্যে প্রশাসনিক ব্যয় ও বিধিনিষেধ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ি কেনা সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। উচ্চ সুদের হার, বাড়ির দাম বৃদ্ধি এবং সীমিত সরবরাহের পাশাপাশি এবার নতুন এক কারণ সামনে এসেছে। দেশটির আবাসন নির্মাতাদের শীর্ষ সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব হোম বিল্ডার্স (এনএএইচবি) বলছে, বিভিন্ন সরকারি বিধিনিষেধ, অনুমোদন প্রক্রিয়া, ফি ও প্রশাসনিক ব্যয়ের কারণে একটি নতুন একক-পরিবারের বাড়ির দামে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে।   সম্প্রতি প্রকাশিত এনএএইচবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নির্মিত একটি বাড়ির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের ২৬ দশমিক ৪ শতাংশই আসে বিভিন্ন ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয় থেকে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নির্মিত একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ ডলার। সেই হিসাবে প্রতি বাড়িতে গড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ডলার ব্যয় সরাসরি বিভিন্ন সরকারি নিয়মকানুন, কর, অনুমোদন ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে যুক্ত হচ্ছে।   এনএএইচবির গবেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২১ সালে একই ধরনের একটি বাড়ির ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধজনিত অতিরিক্ত ব্যয় ছিল প্রায় ৯৩ হাজার ৮৭০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩৪ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।   প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যয় বাড়িয়েছে নির্মাণবিধি বা বিল্ডিং কোডে আনা পরিবর্তনগুলো। গত এক দশকে এসব বিধির পরিবর্তনের ফলে একটি নতুন বাড়ির নির্মাণ ব্যয় গড়ে ৪০ হাজার ২৮৮ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া আবাসন নির্মাতাদের বিভিন্ন পর্যায়ে জোনিং অনুমোদন, নির্মাণ অনুমতিপত্র, পরিদর্শন ফি, পরিবেশগত সমীক্ষা, যানবাহন চলাচল বিশ্লেষণ, ভূমি ব্যবহারের শর্ত, শ্রমবিষয়ক বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।   এনএএইচবির প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট ডিয়েটজ এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যয়বহুল এবং অকার্যকর নিয়ন্ত্রক নীতিমালা নতুন বাড়ি নির্মাণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, সরকারি বিধিনিষেধ, কর, ফি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় বর্তমানে একটি সাধারণ একক-পরিবারের বাড়ির মূল্যের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে।   তিনি বলেন, “অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন নির্মাণে সীমাবদ্ধতা শিথিল করা এবং অকার্যকর জোনিং নীতির সংস্কার করা গেলে বাড়ির নির্মাণ ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন বাড়ি নির্মাণও বাড়বে।”   প্রতিবেদনের জরিপে অংশ নেওয়া আবাসন উন্নয়নকারীদের মধ্যে ৯৪ দশমিক ২ শতাংশ জানিয়েছেন, সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তাদের প্রকল্পে বিলম্ব ঘটে। অন্যদিকে ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্মাতা বলেছেন, অনেক ক্ষেত্রে তাদের এমন উন্নয়ন মানদণ্ড মেনে চলতে হয়, যা সাধারণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হতো না।   এনএএইচবির চেয়ারম্যান বিল ওয়েন্স বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। ফলে আবাসন বাজারে সরবরাহ বাড়াতে না পারলে এবং নির্মাণে বাধাগুলো দূর না করলে সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি বলেন, “দেশজুড়ে বাড়ির যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করতে হলে নির্মাণ খাতের সামনে থাকা বাধাগুলো দূর করতে হবে। অন্যথায় নির্মাতাদের আস্থা এবং নতুন বিনিয়োগের প্রবণতা দুর্বলই থাকবে।”   আবাসন নির্মাণ খাতের বর্তমান পরিস্থিতিও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এনএএইচবি ও ওয়েলস ফার্গো যৌথভাবে প্রকাশিত সর্বশেষ হাউজিং মার্কেট ইনডেক্স অনুযায়ী, জুন মাসে নির্মাতাদের আস্থা সূচক ৩৫-এ নেমে এসেছে। টানা ১৪ মাস ধরে এই সূচক ৪০-এর নিচে অবস্থান করছে। একই জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে জুন মাসে ৩৫ শতাংশ নির্মাতা বাড়ির দাম কমিয়েছেন। পাশাপাশি ৬২ শতাংশ নির্মাতা বিশেষ ছাড়, প্রণোদনা বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।   এনএএইচবির গবেষণাটি মার্চ মাসে ৫৪ জন ভূমি উন্নয়নকারী এবং ৩৩৭ জন একক-পরিবারের বাড়ি নির্মাতার ওপর পরিচালিত জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর আবাসনসংক্রান্ত তথ্য এবং শিল্পখাতের বিভিন্ন ব্যয়ের হিসাব একত্র করে এই বিশ্লেষণ প্রস্তুত করেছেন।   তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, তাদের উদ্দেশ্য সব ধরনের সরকারি বিধিনিষেধ বাতিলের দাবি তোলা নয়। বরং আবাসন ব্যয় বৃদ্ধিতে এসব নীতিমালার প্রভাব কতটা, তা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরা এবং আবাসন খাতকে আরও সাশ্রয়ী করার সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করাই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২২:১
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মসজিদে মুসল্লিদের জন্য বিনামূল্যে খেজুর, বিস্কুট আর পানিও আছে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কাউন্সিলম্যান গ্রেপ্তার, একসময় ছিলেন কুখ্যাত মাফিয়া সদস্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: বারাক ওবামা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় কর্মীদের আয় মার্কিনিদের চেয়েও বেশি, নতুন বিশ্লেষণে উঠে এলো এইচ-১বি ভিসার বাস্তব চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মভিসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সমালোচকদের দাবি, বিদেশি কর্মীদের কম বেতনে নিয়োগ দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কর্মীদের চাকরি ও মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে নতুন এক বিশ্লেষণ বলছে, বাস্তব চিত্র এতটা সরল নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের গড় আয় দেশটিতে জন্ম নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম Newsweek–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টুডেন্টইবি৫ (StudentEB5) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জুন ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের বার্ষিক মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কলেজ স্নাতকদের মধ্যম আয় প্রায় ৮৭ হাজার ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় কর্মীদের আয় গড়ে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বেশি।   বিশ্লেষণটি ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের (EIG) তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, যারা প্রথমে শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার। এটি দেশীয় স্নাতকদের তুলনায় অনেক বেশি।   তবে একই সঙ্গে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসাধারীরা একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের তুলনায় কম বেতনও পেতে পারেন। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গড়ে এইচ-১বি কর্মীদের আয় তুলনামূলক মার্কিন কর্মীদের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ কম হতে পারে।   এইচ-১বি কর্মসূচি মূলত প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর নতুন ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা অনুমোদনের সীমা রয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত।   গবেষকদের মতে, ভারতীয় কর্মীদের উচ্চ আয়ের পেছনে বড় কারণ হলো তাদের একটি বড় অংশ প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের মতো উচ্চ বেতনের খাতে কাজ করেন। ফলে সামগ্রিকভাবে তাদের আয় অনেক বেশি দেখা যায়।   ইকোনমিক ইনোভেশন গ্রুপের নীতিবিষয়ক ব্যবস্থাপক স্যাম পিক নিউজউইককে বলেন, একই পেশা ও দক্ষতার কর্মীদের তুলনা করলে বেতনের ব্যবধান অনেক কমে আসে। তাঁর মতে, এইচ-১বি লটারিতে নির্বাচিত কর্মীরা একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের তুলনায় গড়ে মাত্র ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম আয় করেন। তবে অধিকাংশ ভিসাধারীই বাস্তবে অনেক মার্কিন কর্মীর চেয়ে বেশি আয় করেন।   তিনি আরও বলেন, বয়সভেদেও পার্থক্য দেখা যায়। অপেক্ষাকৃত তরুণ এইচ-১বি কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে সমমানের মার্কিন কর্মীদের চেয়ে বেশি আয় করেন। অন্যদিকে বয়সে বড় কর্মীদের মধ্যে তুলনামূলক কম আয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এর একটি কারণ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং খাতে মধ্য-পর্যায়ের কর্মী নিয়োগকে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নতুন এইচ-১বি আবেদনগুলোর ওপর এক লাখ ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগ নেন। প্রশাসনের দাবি ছিল, এর মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমবে এবং বেশি দক্ষ ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব হবে।   তবে চলতি বছরের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। মার্কিন জেলা বিচারক Leo Sorokin রায় দেন, এমন ফি আরোপের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের নেই এবং এটি কার্যত নতুন কর আরোপের সমতুল্য। পরে প্রশাসন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দেয়।   এদিকে বিভিন্ন গবেষণায় এইচ-১বি কর্মীদের আয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক মানবসম্পদ প্রতিষ্ঠান ডিলের তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যম বেতন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যেখানে একই ধরনের মার্কিন কর্মীদের মধ্যম আয় প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গবেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সফটওয়্যার প্রকৌশল ও বিশেষায়িত প্রযুক্তিখাতে দক্ষ জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   বিশ্লেষকদের ধারণা, আদালতের রায়, সম্ভাব্য আপিল এবং ভিসা সংস্কার নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে এইচ-১বি কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। সর্বশেষ তথ্যগুলো দেখাচ্ছে, অভিবাসন, কর্মসংস্থান ও মজুরির সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত অনেক ধারণার চেয়ে বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ২০:২৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নকশার ত্রুটি ও ওশেনগেটের অবহেলাতেই ধ্বংস হয়েছিল টাইটান সাবমেরিন, জানাল তদন্ত প্রতিবেদন

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সামার ক্যাম্পের প্রথম দিনেই সাঁতার শিখতে গিয়ে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ভারতীয় কিশোরের মৃত্যুর পর ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের দাবিতে চাপে মেয়র মামদানি

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় ছয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে শিক্ষিকা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এক বিজ্ঞান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ছয়জন কিশোর শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি আদালতের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, ম্যারিস নিকোলস নামের ওই শিক্ষিকার একটি গোপন 'ওনলিফ্যানস' (OnlyFans) অ্যাকাউন্ট ছিল। আর এই বিষয়টি জেনে যাওয়ার পর পরীক্ষায় ভালো গ্রেড পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা তাকে রীতিমতো ব্ল্যাকমেইল করত।   ডগলাস কাউন্টি শেরিফ অফিস এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতোমধ্যে স্ন্যাপচ্যাট, ওনলিফ্যানস, এটিঅ্যান্ডটি (AT&T) এবং একাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি পরোয়ানা জারি করেছে।   ২৫ বছর বয়সি এই শিক্ষিকা জর্জিয়ার আলেকজান্ডার হাইস্কুলে বিজ্ঞান পড়াতেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তল্লাশি পরোয়ানায় এই মামলার বেশ কিছু আপত্তিকর ও রুদ্ধশ্বাস বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই শিক্ষিকা গায়ে 'জিসাস লাভস ইউ' লেখা একটি সোয়েটার পরিহিত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হয়েছেন।   এছাড়া ক্লাসরুমের আলমারি বা ক্লোজেট, একটি পার্ক করা হামার গাড়ি এবং গলফ কোর্সে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি শিক্ষার্থীদের কাছে আপত্তিকর ছবি পাঠানো এবং তাদের সঙ্গে ‘সেক্সটিং’ বা বার্তা আদান-প্রদানের প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।   ক্লাসরুমের ক্লোজেট ও হামার গাড়িতে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে ম্যারিস নিকোলসকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পর আরও পাঁচ শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌনতা, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং শিশুদের প্রলোভন দেখানোর মতো ১১টি অতিরিক্ত অভিযোগে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।   প্রথমবার গ্রেপ্তারের ঠিক আগে তিনি এক শিক্ষার্থীকে তাদের কথোপকথনের সমস্ত ডিজিটাল রেকর্ড মুছে ফেলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তারা গলফ কোর্সের সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিশেষ করে দুজন শিক্ষার্থীর আঙুলের ছাপ ও জেনেটিক উপাদান সংগ্রহ করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন।   উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ম্যারিস নিকোলস লিবার্টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এটি একটি স্বনামধন্য বেসরকারি ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে বিয়ের আগে যেকোনো ধরনের শারীরিক বা যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর নীতি মেনে চলা হয়। এমন একটি কট্টর নীতিমালার প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা শেষ করে তার এই ধরনের গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৬:২৮
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘অল মাই চিলড্রেন’ খ্যাত অভিনেতা পল অ্যাভেরি ও স্ত্রীর মৃত্যু

মিশেল ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ l ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝেও বন্ধুত্বের বার্তা, মিশেল ওবামাকে উপহার দিয়ে আবারও আলোচনায় জর্জ ডব্লিউ বুশ

ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কে অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা, নিহত সন্দেহভাজন

0 Comments