যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ট্রিপল এ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন রেগুলার পেট্রোলের গড় দাম ৫ সেন্ট বেড়ে এখন ৪.০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে একদিনে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ উল্লম্ফন। ২০২২ সালের পর এই প্রথম তেলের দাম ৪ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল। গত এক সপ্তাহে দামের সামান্য উঠানামা থাকলেও এখন তা স্থিতিশীলভাবে ঊর্ধ্বমুখী। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গ্যালন প্রতি দাম বেড়েছে ১.০৮ ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৫ সালের হারিকেন ক্যাটরিনা কিংবা ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার সময়ও এক মাসে এতো দ্রুত দাম বাড়তে দেখা যায়নি। মূলত ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হতে পারে, তবুও ইরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের প্রস্তুতির আভাস দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা কাটছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে।
ভয়াবহ সৈন্য সংকটের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে নতুন আইন প্রণয়ন করে আরও বেশি জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইফতি দেফরিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাদের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থী ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর অনবরত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে তাদের চারটি শক্তিশালী সামরিক ডিভিশন মোতায়েন করা হয়েছে যা বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কেবল ইরান বা লেবানন নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকায়ও ইসরায়েলের বিশাল একটি বাহিনী সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। এতগুলো ফ্রন্টে একসাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর জন্য এখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের এক গোপন বৈঠকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনবল সংকটের এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে পুরো সামরিক কাঠামো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে কট্টরপন্থী হারেদি ইহুদিদের অনীহা এবং আইনি জটিলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধের ময়দানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একসাথে একাধিক রণাঙ্গনে লড়াই করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। অতিরিক্ত ডিউটি এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে সাধারণ সৈন্যদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ চরম আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলি চ্যানেল টুয়েলভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া গাজা ও লেবাননের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হবে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে নতুন করে সৈন্য সংস্থাপন করা না গেলে রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এদিকে বিরোধী দলগুলো সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলছে যে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আজ সেনাবাহিনীকে এই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তেই সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি ইসরায়েলের সামরিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভরতা সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই সংকট উত্তরণে সরকারের নতুন আইন তৈরির পদক্ষেপ যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান প্রয়োজনে অন্তত আগামী ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধ ও পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে সক্ষম। বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) তেহরানে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। আরাগচি স্পষ্টভাবে জানান, শত্রুপক্ষ কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলেও ইরান তা গ্রাহ্য করবে না। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম কতদিন চলবে তা আমরাই নির্ধারণ করব। ইরান অন্তত ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আমাদের বাহিনীর সেই সক্ষমতা রয়েছে।” ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার যে দাবি করা হচ্ছে, তাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় দুই দেশের মুখোমুখি বসে সমঝোতায় পৌঁছানোকে ‘আলোচনা’ বলে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তেমন কোনো পরিস্থিতি নেই।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে, বন্ধুরাষ্ট্র বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বার্তার আদান-প্রদান চলছে, যা কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন প্রশাসনের ওপর ইরানের আস্থার হার বর্তমানে ‘শূন্য’। আরাগচি জানান, ইরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায়। তার মতে, যুদ্ধের অবসানে ইরানের শর্তগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট: ১. ইরানসহ পুরো অঞ্চলে (লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন) যুদ্ধের অবসান। ২. আগ্রাসন আর ঘটবে না—এমন গ্যারান্টি প্রদান। ৩. ইরানি জনগণের ওপর হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ। হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ইরান ও ওমানের অভ্যন্তরীণ জলসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এটি উন্মুক্ত থাকলেও যেসব দেশ ইরানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, তাদের জাহাজের জন্য এই পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর নিরাপদ যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আঞ্চলিক দেশগুলোর মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান ওইসব দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারণাকে নাকচ করে আরাগচি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও হামলা চালানোর ক্ষমতা অটুট রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, মাত্র দুই দিন আগেই ইরানের একটি স্বল্পমূল্যের ড্রোনের আঘাতে মার্কিন 'অ্যাওয়াকস' (AWACS) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে। সবশেষে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানকে হুমকি বা আল্টিমেটাম দিয়ে কোনো লাভ হবে না। ইরান যুদ্ধের জন্য উস্কানি দেয়নি, কিন্তু আত্মরক্ষার প্রয়োজনে যেকোনো সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত।
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত কি তবে এসেই গেল? ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে ভাষণকে ঘিরে যখন যুদ্ধের অবসানের গুঞ্জন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পাওয়া গেল এক ভিন্ন ইঙ্গিত। মঙ্গলবার রাত থেকেই গুঞ্জন ছিল যে, ট্রাম্প সম্ভবত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। তবে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান বলছে অন্য কথা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প এখনই যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছেন না। বরং যুদ্ধের সময়সীমা আরও কয়েক সপ্তাহ বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের এই ভাষণের মূল সুর হতে পারে 'সাময়িক কষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাপ্তি'। তিনি আমেরিকান পরিবারগুলোর ওপর যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করবেন, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের সাথে সহমর্মিতা জানাবেন। তবে তার যুক্তির কেন্দ্রে থাকছে একটিই লক্ষ্য—একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে রুখে দেওয়া। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানের এই অর্থনৈতিক টানাপোড়েন দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বেশ কম এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার রেটিংও নিম্নমুখী। এমতাবস্থায়, আমেরিকান জনগণের সমর্থন পুনরুদ্ধারের শেষ চেষ্টা হিসেবেই তিনি এই ভাষণকে ব্যবহার করতে চাইছেন।
ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জল্পনা তুঙ্গে, তখন এক নতুন এবং কঠিন শর্ত জুড়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো যুদ্ধবিরতির কথা ভাববে না। ফ্লোরিডায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য এবং এতে কোনো বাধা বরদাশত করা হবে না। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করেন ইরান যদি আন্তর্জাতিক নৌপথ অবরোধ করে রাখে, তবে আলোচনার কোনো পরিবেশ তৈরি হতে পারে না। এই প্রণালীটি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে উত্তেজনার কারণে স্থবির হয়ে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে আবারও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই শর্তের ফলে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়বে। এদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এই শর্তের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ইরানি সামরিক কমান্ডাররা আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তাদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালীতে কোনো বিদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন কারণ জ্বালানি সংকটে তারা সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্রাসেলস ও লন্ডন থেকে ওয়াশিংটনের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যেন তারা শর্ত শিথিল করে দ্রুত আলোচনায় বসে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তান ও চীন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন শর্ত সেই শান্তি প্রক্রিয়ার পথে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। পেন্টাগনের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, মার্কিন নৌবাহিনী ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। তারা যেকোনো মূল্যে এই বাণিজ্যিক রুটটি দখলমুক্ত রাখতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে আরও বড় ধরনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকার সাধারণ নাগরিকরা তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ট্রাম্পের এই শর্ত যদি যুদ্ধের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেয়, তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমেরিকা শান্তি চায় তবে তা অবশ্যই তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার শর্ত মেনে হতে হবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখে ইরান যে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তার কাছে ওয়াশিংটন নতি স্বীকার করবে না বলেও জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে কারণ এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ধসে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই অনিশ্চয়তা এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির যে ক্ষীণ আশা দেখা দিয়েছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তা আবারও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান আন্তর্জাতিক চাপ মেনে নিয়ে নৌপথ উন্মুক্ত করে দেয় নাকি এই সংঘাত আরও ভয়াবহ ও চরম রূপ ধারণ করে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়ের মধ্যেই জানা যাবে সমঝোতার কোনো পথ খোলা আছে কি না। পুরো বিশ্ব এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে ইতিহাস।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে সরাসরি ইরান যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টিভ ব্যানন এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুলেছেন যে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে, তখন ইয়ার কেন মায়ামিতে ছুটি কাটাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অবিলম্বে নেতানিয়াহুর ছেলেকে দেশটি থেকে বের করে দিয়ে তার গায়ে যুদ্ধের ইউনিফর্ম পরিয়ে প্রথম সারির যোদ্ধাদের সাথে পাঠানো উচিত। ব্যানন কেবল ইয়ার নেতানিয়াহুকেই নয়, বরং লন্ডনে অবস্থানরত আরবের মিত্র দেশগুলোর রাজপুত্রদেরও একই কায়দায় বিতাড়িত করে নিজ নিজ দেশের সীমান্ত রক্ষায় যুদ্ধে পাঠানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। জানা গেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ইয়ার এবং আবনার কেউই ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা সম্পন্ন করেননি, যা নিয়ে খোদ ইসরায়েলের ভেতরেই বর্তমানে বেশ সমালোচনা ও তীব্র বিতর্ক রয়েছে। স্টিভ ব্যানন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অন্যতম প্রভাবশালী উপদেষ্টা ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বও রয়েছেন। ইরানের পক্ষ থেকে এর জবাবে ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। ব্যাননের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে, অথচ ইসরায়েল সেই অভিযানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিত্র দেশের নেতার ছেলের বিলাসী জীবন নিয়ে ব্যাননের এই কঠোর অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।
ইরানে সম্ভাব্য যেকোনো মার্কিন স্থল অভিযানে অংশ না নেওয়ার সাফ ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইসরায়েলি সৈন্যরা তাতে যোগ দেবে না। অর্থাৎ, এই ধরনের ভয়াবহ অভিযানের সব ঝুঁকি ও দায়ভার কেবল আমেরিকার ওপরই ছেড়ে দিতে চায় তেল আবিব। এদিকে পেন্টাগন ইরানে সীমিত আকারে বিশেষ অভিযান চালানোর বিভিন্ন কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করছে বলে জানা গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও এই ধরনের কোনো স্থল অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি বলে হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে। আমেরিকার এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মার্কিন সৈন্যরা যদি তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তবে তাদের শোচনীয় পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হবে। সামরিক বিশ্লেষকরা ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো একটি ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দশ দিন নির্ধারণ করবে এই বিমান হামলা শেষ পর্যন্ত স্থল যুদ্ধে রূপ নেবে কি না। ইসরায়েলের এই অস্বীকৃতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধবিরোধী কর্মীরা বলছেন যে, যে যুদ্ধের নেপথ্যে ইসরায়েলের বড় ভূমিকা ছিল, এখন তার সব ঝুঁকি আমেরিকান সৈন্যদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন কেবল আমেরিকানদের জীবন বাজি রাখা হবে? এই নিয়ে দেশটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে, যা নির্বাচনের আগে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ যদি আমেরিকার জন্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তবে তা বিশ্বমঞ্চে দেশটির আধিপত্যের পতনকে ত্বরান্বিত করবে। সেক্ষেত্রে ইসরায়েলকে কেবল একটি দায়ভার হিসেবেই দেখা হতে পারে যা ওয়াশিংটনকে বিপদে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো ছোট ভুল বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, আমেরিকা একা এই যুদ্ধের ভার কতদিন বয়ে নিতে সক্ষম হবে। সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের এই পিছু হটা আমেরিকার সামরিক মহলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প এই একতরফা যুদ্ধের পথে হাঁটেন নাকি কোনো বিকল্প কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান এবং চীন যৌথভাবে একটি পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়। উভয় পক্ষই এই অঞ্চলে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। এই শান্তি প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার লড়াই থামিয়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘাত নিরসনে এটি একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাঁচ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, দ্রুত শান্তি আলোচনা শুরু করা এবং সাধারণ নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাকিস্তান ও চীন দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছে যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তারা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সুগম রাখার কঠোর আহ্বান জানিয়েছে দুই দেশ। তারা মনে করে, বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচাইতে জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি অনুসরণ করে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং ও ইসলামাবাদ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে। ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলায় ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রাণহানি ঘটার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও আমেরিকান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি বলে মনে করছে পাকিস্তান ও চীন। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই পাঁচ দফা প্রস্তাব বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংঘাতরত পক্ষগুলো এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে কি না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই মধ্যস্থতা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দিতে পারে। যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তবে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ও তেলের দামে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্গঠনেও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয় বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও এক অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বেইজিংয়ের এই উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে গ্রহণ করে তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে। শান্তি প্রস্তাবের এই খসড়াটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই প্রস্তাবটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে যা এই রক্তাক্ত অধ্যায়ের ইতি টানবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে আরব দেশগুলো। যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এই পাঁচ দফা প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ ইরান যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোয় এই আহ্বান জানানো হয়েছে। রয়টার্স ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা ওয়াশিংটনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ জনমত এবং তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে তিনি এখন একটি সম্মানজনক প্রস্থান বা যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সামরিক শক্তির চেয়ে এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন জরুরি। তারা মনে করছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হবে, যা এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থান কিছুটা নরম করেছে বলে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, যদি তাদের ওপর থেকে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়, তবে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে প্রস্তুত রয়েছে। তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা এখনও যুদ্ধের ময়দানে শক্তি প্রদর্শনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন না করে সরে আসলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব ম্লান হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি। সাধারণ আমেরিকানরা এখন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হতে পারে। বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। যুদ্ধের এই দামামা শান্ত হয়ে পৃথিবীতে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে কি না, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে রাশিয়া সরাসরি উপকৃত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (৩০ মার্চ) এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউক্রেন থেকে পশ্চিমাদের মনোযোগ সরে যাবে, যা মস্কোর জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে। জেলেনস্কির মতে, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রাশিয়ার তেল রপ্তানি আয় কয়েকগুণ বেড়েছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা ইউক্রেনের অস্ত্র সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কিয়েভ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে জানিয়েছে যে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করছে। জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সাথে শান্তি আলোচনার জন্য নিজেদের ভূমি ছাড়তে চাপ দিতে পারে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জেলেনস্কির এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে তেহরানের পক্ষে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার চেচেন আর্মি। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানায়, ওয়াশিংটন যদি ইরানে কোনো প্রকার স্থল অভিযান শুরু করে, তবে রমজান কাদিরভের অনুগত চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো সেখানে মোতায়েন হতে প্রস্তুত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলা ৩২ দিন পার হলেও ইরানকে পরাজিত করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্র এখন স্থল যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাদিরভপন্থী এই বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা যুদ্ধকে ‘জিহাদ’ ও ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মূলত কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংঘাত শুরু হয়েছিল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার সময়। এর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারদের হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জবাবে তেহরানও বসে নেই; তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলি অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তত ৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন এই অভিযানে সহায়তা করতে কয়েকশ বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। চেচেন বাহিনীর সম্পৃক্ততা এবং ইউক্রেনীয়দের কথিত সহায়তার বিষয়টি এই সংঘাতকে একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধে রূপ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। সূত্র: দ্য ইয়ন
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বা অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের নীতি অনুসরণ করছেন। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উপস্থাপনায় পাওয়েল বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রভাবে ইরান, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে—তা দেখার জন্য সময় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের নীতিগত অবস্থান এমন জায়গায় রয়েছে, যা আমাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তেলের দামের মতো আকস্মিক ধাক্কা সাধারণত সময়ের সঙ্গে অর্থনীতিতে শোষিত হয় এবং নীতিনির্ধারকেরা সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে প্রায় ৪ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ফেডের দুই প্রধান লক্ষ্য—পূর্ণ কর্মসংস্থান ও মূল্য স্থিতিশীলতা—চাপের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাওয়েল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তবে পরিস্থিতি কী দিকে মোড় নেয়, তার ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে এই মাসের শুরুতে দুই দিনের নীতি বৈঠক শেষে ফেড তার ওভারনাইট বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে।
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ব্যয় বহনে আরব দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। রোববার (৩০ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিভিট বলেন, ইরান যুদ্ধের ব্যয় ভাগাভাগি করার ধারণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে রয়েছে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বক্তব্য আসতে পারে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোকে এই ব্যয় বহনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে প্রেসিডেন্ট আগ্রহী হতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-এর শ্রমবাজারে। এক বছরের স্থবিরতার পর বাজারে যে সামান্য স্থিতিশীলতার আশা দেখা যাচ্ছিল, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইরান ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে ধীরগতি আসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে কর্মী ছাঁটাই শুরু করতে পারে। বর্তমানে শ্রমবাজারে একটি ‘অপেক্ষমাণ’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিয়োগ কম হলেও বড় আকারে ছাঁটাইও দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের প্রথমার্ধে চাকরি বৃদ্ধির হার সীমিত থাকবে এবং বেকারত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মন্দার ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও মূল্যস্ফীতি হ্রাস, সুদের হার কমানো এবং নতুন করনীতির কারণে চলতি বছরে শ্রমবাজারে উন্নতির আশা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ‘স্থিতিশীল হলেও স্থবির’ অবস্থায় রয়েছে।
ইরানে চলমান সামরিক অভিযান থেকে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই সরে আসবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, দেশটি ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশ সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির কোনো পরিকল্পনা নেই। মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার বেনি জনসনের পডকাস্ট ‘বেনি শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এ মন্তব্য করেন। সেখানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অনেকাংশেই সফল হয়েছে। এমনকি কেউ চাইলে বলতে পারেন, নির্ধারিত লক্ষ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। তবে এই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে—এমন স্বীকারোক্তিও দেন ভ্যান্স। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট আরও কিছুদিন অভিযান চালিয়ে যেতে চান, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর একই ধরনের সংঘাতে পুনরায় জড়াতে না হয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, ইরান এখনও বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানকে দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ভ্যান্স এটিকে সাময়িক প্রভাব হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, এটি স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের প্রতিক্রিয়া মাত্র। তিনি বলেন, এক বা দুই বছর ইরানে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা দ্রুত আমাদের কার্যক্রম গুছিয়ে নিচ্ছি এবং শিগগিরই সেখান থেকে বেরিয়ে আসব। এতে তেলের দামও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে নিজের উত্তরাধিকার হিসেবে একজন ‘শান্তির দূত’ হিসেবে পরিচিত হতে চান। শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি চাই ইতিহাসে আমার নাম একজন মহান শান্তির দূত হিসেবে লেখা থাকুক।" বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় বিষয়টি সাংঘর্ষিক মনে হলেও, তিনি নিজেকে মনেপ্রাণে একজন শান্তিস্থাপক বলে দাবি করেন। তবে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তির কথা বললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানে আঘাত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এক সময় শক্তিশালী দেশ থাকলেও বর্তমানে তারা সেই সামর্থ্য হারিয়েছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ এখনো চলছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকেই শেষ করতে হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধে জয় ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। সরাসরি বিজয় ঘোষণা না করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই লড়াইয়ে আমেরিকা জয়ী হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আবারও বড় আকারে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে লাখো মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নজির হতে পারে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৩,২০০-এর বেশি কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রধানত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ‘৫০৫০১’ নামক সংগঠনের সমন্বয়ক সারা পার্কার জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানে ‘অবৈধ’ যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষ এখন চরম ক্ষুব্ধ। সাম্প্রতিক এক জরিপেও দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় অধিকাংশ ভোটার অসন্তুষ্ট। এই আন্দোলনের পেছনে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন ও পাবলিক সিটিজেনের মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলো কাজ করছে। এর আগে গত অক্টোবরে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। পাবলিক সিটিজেনের সহ-প্রধান লিসা গিলবার্ট বলেন, “এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়, বরং দেশপ্রেমের প্রশ্ন। আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে, আমেরিকায় কোনো রাজা নেই।” উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ট্রাম্পের জন্মদিনে সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজনের প্রতিবাদে প্রথম ‘নো কিংস’ আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই তাদের দাবি জানিয়ে যাবেন। আজকের এই গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং শান্তি আলোচনার পথ খুঁজছে। লন্ডনভিত্তিক দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে ইসলামাবাদের প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি ও ইরানের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা শিগগিরই শুরু হতে পারে। এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সক্রিয়তার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। কারণ, একদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে একে ‘বিশ্বজনীন কৌতুক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে, যার ফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। এদিকে, নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে ভারত। তিনি হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ পথ বন্ধ হয়ে গেলে ভারতসহ এশিয়ার বহু দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সীমান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং সৌদি আরব ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক—এসব কারণেই পাকিস্তান এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে আসতে পারছে। তবে সাবেক ভারতীয় কূটনীতিকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সংঘাতের অবসান হলে তা ভারতসহ পুরো অঞ্চলের জন্যই ইতিবাচক হবে।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর হঠাৎ ‘হামলা-বিরতি’ ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ইরানকে আরও পাঁচ দিন সময় দেওয়ার ঘোষণা দেন, যা বিশ্লেষকদের মতে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। শুরুর দিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়, যখন ইরান পাল্টা হুমকি দেয়—মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘পানি অস্ত্র’ বা পানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করার হুমকিই ট্রাম্প প্রশাসনকে কিছুটা সতর্ক করে তোলে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল পানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল সমুদ্রের পানি পরিশোধনাগারের ওপর। এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও জ্বালানি শিল্প বিপর্যস্ত হতে পারে। ইতিহাস বলছে, পানিকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ সংঘাতের আশঙ্কা বহুদিন ধরেই আলোচিত। বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট Ismail Serageldin একসময় সতর্ক করে বলেছিলেন, “এই শতাব্দী তেল নিয়ে যুদ্ধ করলেও পরবর্তী শতাব্দীতে যুদ্ধ হবে পানিকে কেন্দ্র করে।” একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব Boutros Boutros-Ghali-ও। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই আশঙ্কাই যেন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর পানির চাহিদার বড় অংশই মেটানো হয় সমুদ্রের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে। ফলে এসব স্থাপনা ধ্বংস হলে তাৎক্ষণিকভাবে পানীয় জলের সংকট তৈরি হবে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ভেঙে দিতে পারে। চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে পানি শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও উঠেছে। এতে করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্র কেবল সামরিক নয়, বরং অবকাঠামোগত ও মানবিক সংকটের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, ইরানের এই কৌশলগত হুমকি ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাকে অন্তত সাময়িকভাবে ‘পিছিয়ে’ আসতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেও দেখছেন, যেখানে সময় নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ইরানের ‘পানি অস্ত্র’ হুমকি কি সত্যিই ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে, নাকি এটি কেবল বড় কোনো কৌশলগত চালের অংশ? উত্তর যাই হোক, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে পানি এখন সম্ভাব্য ‘নতুন অস্ত্র’ হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এই পরিস্থিতিকে সাময়িক ধাক্কা বলে উল্লেখ করে যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দিলেও, অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা ভিন্ন আশঙ্কার কথা বলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরতে সময় লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। ফলে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবে না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দামও বেড়ে প্রায় ৩.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় এক ডলার বৃদ্ধি নির্দেশ করে। অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডির ভাষায়, জ্বালানি বাজারে একটি প্রচলিত বাস্তবতা হলো—দাম বাড়ে দ্রুত, কিন্তু কমে ধীরে। তার মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও তেল সরবরাহ ও উৎপাদন স্বাভাবিক হতে অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর দাম কিছুটা কমে এলেও তা যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নাও ফিরতে পারে। এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীর আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে খাদ্যপণ্য, পরিবহন এবং বিমান ভাড়ার ওপরও। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা বিমান ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। এদিকে, জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও অনিশ্চয়তার কথা বলা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সময়সীমা—সব মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতি এখনও অস্থির। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি দামের ওপর চাপ পুরোপুরি কমতে সময় লাগবে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ওমানের বিশিষ্ট সাংবাদিক সালেম আল-জুহুরি বিবিসি অ্যারাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেছেন। ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, এই দাবি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া অথবা বন্ধ করা—উভয় বিষয়ের সঙ্গেই জড়িত। জুহুরি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন আরব দেশগুলোকে এক কঠিন সমীকরণের মুখে ফেলেছে। যদি তারা এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, তবে তাদের প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হবে। আর যদি তারা দ্রুত এই যুদ্ধ বন্ধ করতে চায়, তবে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অর্জনের বিনিময়ে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই সংঘাতের আর্থিক ও সামরিক দায়ভার গ্রহণে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর এই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানও এর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যদিও ট্রাম্পের এই বিশাল অংকের অর্থ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা জিসিসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবে এই খবর বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।