আমেরিকা

৬ হাজার ডলারের টিকিট কিনেও বিশ্বকাপের মাঠে ঢুকতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৮৯ বছরের বৃদ্ধ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৬:১৭
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ফিফা বিশ্বকাপের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার আজীবনের স্বপ্ন ছিল ৮৯ বছর বয়সী চিকো মেন্ডেজের। দাদার সেই স্বপ্ন পূরণে ৬ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচের টিকিট কিনেছিলেন ২৬ বছর বয়সী নাতনি পাওলা হার্নান্দেজ। কিন্তু স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে গিয়ে সেই আনন্দ রূপ নেয় চরম হতাশায়। টিকিট সংক্রান্ত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামেই ঢোকা হয়নি তাঁদের। মেক্সিকোর গুয়াদালাজারার একটি হোটেল থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেদের এই হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন পাওলা।

 

পাওলা জানান, প্রিয় দলের খেলা দেখতে ম্যাচের দিন সকালেই তাঁরা গুয়াদালাজারায় পৌঁছান এবং উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে খেলা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা আগেই জাপোপানের এস্তাদিও আকরন স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হন। জনপ্রিয় টিকিট রিসেল প্ল্যাটফর্ম ‘স্টাবহাব’ থেকে ৬ হাজার ডলারে কেনা টিকিটগুলো অ্যাপে লোড না হওয়ার পরই মূলত সমস্যার সূত্রপাত হয়।

 

পাওলা জানান, পেমেন্ট সফল হওয়ার মেসেজ এলেও টিকিটগুলো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভেবে স্টাবহাবের কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে তাঁকে বলা হয়, ফিফা অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট ট্রান্সফার করতে বিক্রেতার কিছুটা সময় প্রয়োজন, তাই হাফটাইম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রতীক্ষিত টিকিট আর কখনোই তাঁদের হাতে আসেনি।

 

মাঠের ভেতর ৪৫ হাজার ৫২২ জন দর্শকের গগনবিদারী উল্লাস যখন বাইরে ভেসে আসছিল, ঠিক তখনই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় স্টেডিয়ামের বাইরে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন মেক্সিকোর জার্সি, জ্যাকেট ও টুপি পরিহিত ৮৯ বছরের মেন্ডেজ। এই দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি নাতনি পাওলা। স্টেডিয়ামের বাইরে মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে দাদার খেলা দেখার সেই করুণ দৃশ্যটি ভিডিও করে টিকটকে শেয়ার করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এটি দেখেন। নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্টাবহাবকে এর দায়ভার নেওয়ার জোর দাবি জানান।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত স্টাবহাব পাওলার পুরো অর্থ ফেরত দেয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্বকাপের পরবর্তী যেকোনো একটি ম্যাচের টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে মেক্সিকোর পরবর্তী ম্যাচগুলো মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অবস্থার কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পাওলা।

 

তিনি জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ওই শহরে গেলে তাঁর দাদার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। স্টাবহাব কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করলেও একজন বৃদ্ধের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা হয়তো আর কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোস থেকে শুরু করে ট্রাম্পকন্যার বাস এই ছোট্ট দ্বীপে l ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের ধনকুবেরদের গোপন আশ্রয়স্থল ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’: যেখানে প্রতিবেশী বেজোস, জাকারবার্গ ও টম ব্র্যাডি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি উপকূলে অবস্থিত ছোট্ট একটি দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। ইন্ডিয়ান ক্রিক ভিলেজ নামের এই দ্বীপটিকে অনেকেই ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ বলে ডাকেন। কঠোর নিরাপত্তা, সীমিত প্রবেশাধিকার এবং বিলাসবহুল জলতীরবর্তী প্রাসাদগুলোর কারণে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের নতুন সম্পত্তি কেনার খবর প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় আসে দ্বীপটি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকারবার্গ সেখানে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রাসাদ কিনেছেন, যা দক্ষিণ ফ্লোরিডার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   মাত্র ৪১টি আবাসিক প্লট নিয়ে গড়ে ওঠা ইন্ডিয়ান ক্রিক ভিলেজে বসবাস বা সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে বিশ্বের পরিচিত কয়েকজন ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তির। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্র্যাডি, সংগীতশিল্পী হুলিও ইগলেসিয়াস, বিনিয়োগকারী কার্ল আইকান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনার।   প্রায় ৩০০ একর আয়তনের এই দ্বীপের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে একটি ব্যক্তিগত গলফ ক্লাব। বাকি অংশে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল আবাসন। দ্বীপটির স্থায়ী জনসংখ্যা খুবই কম হলেও এখানকার সম্পত্তির মূল্য এবং বাসিন্দাদের পরিচয়ের কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে এক্সক্লুসিভ আবাসিক এলাকাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।   ইন্ডিয়ান ক্রিক ভিলেজের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দ্বীপে প্রবেশের জন্য রয়েছে মাত্র একটি সেতু, যা সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকে। অনুমতি ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা কার্যত অসম্ভব। স্থানীয় পুলিশ বাহিনী ছাড়াও জলপথে টহল, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, রাডার এবং তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।   মাত্র ৮৬ জন বাসিন্দার এই দ্বীপে ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ প্রতি কয়েকজন বাসিন্দার জন্য একজন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো আবাসিক এলাকার তুলনায় ব্যতিক্রমী।   ইন্ডিয়ান ক্রিক ভিলেজের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯২০-এর দশকে মিয়ামির বিসকেইন উপসাগরে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। পরে ধনী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্যোগে এটি একটি অভিজাত আবাসিক এলাকায় রূপ নেয়। ১৯৩৯ সালে এলাকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।   রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং একান্ত ব্যক্তিগত পরিবেশের কারণে বিশ্বের ধনকুবেরদের কাছে ইন্ডিয়ান ক্রিক ভিলেজের আকর্ষণ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ শুধু একটি বিলাসবহুল আবাসিক এলাকা নয়, বরং আধুনিক আমেরিকায় সম্পদ ও প্রভাবের এক অনন্য প্রতীক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৭:১৪
ছবি: সংগৃহীত

চাকরির দ্বিতীয় দিনেই গাড়িচাপায় নিহত বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামের দায়িত্বে থাকা ২২ বছরের নিরাপত্তারক্ষী

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

৬ হাজার ডলারের টিকিট কিনেও বিশ্বকাপের মাঠে ঢুকতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৮৯ বছরের বৃদ্ধ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের বিলের নামকরণ হলো নিহত ভারতীয় কিশোরের নামে

ছবি: সংগৃহীত
৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো না হলে হরমুজ প্রণালিতে এককভাবে টোল বা শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেবে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়কাল বা পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে এই প্রণালিতে কোনো টোল দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে টোল আরোপ করবে।   তিনি আরও বলেন, চুক্তি না হলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র অতীতে, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে যে নিরাপত্তা ও সহায়তা দিয়ে আসছে, তার ব্যয় তুলতে এই টোল আরোপ করা হতে পারে। তার দাবি অনুযায়ী, এই নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সামরিক উপস্থিতি ও অভিযানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা হচ্ছে।   মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যখন এই হুঁশিয়ারি দেন, তখন ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেন হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলার পর এই নৌপথ আবারও বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।   ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, জুনের শুরুতে একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে এই জলপথ দিয়ে ২০০টিরও বেশি জাহাজে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল নিরাপদে পরিবহন করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধের আগের সময়ে বিশ্বের দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। পরবর্তী সময়ে এই পথ ঘিরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো একাধিকবার আলোচনা করলেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে এই নৌপথে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়।   গত বুধবার সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে ১৪ দফা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।   শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল এবং সেটি সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে ভিন্ন অবস্থান জানানো হয়। লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দেয় তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়।   চলমান পরিস্থিতির মধ্যে রোববার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১৩:১৩
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলে ‘ইরানকে ধ্বংস’ করার হুমকি ট্রাম্পের, তেলের ওপর ২০ শতাংশ টোলের ইঙ্গিত

ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার ২১০ ফ্রিওয়েতে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩২

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কনসার্ট চলাকালে ৫১ বছর বয়সী দর্শকের মৃত্যু, উঁচু স্থান থেকে পড়ে প্রাণহানি

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কের হারলেম পার্কে গোলাগুলি, দুই কিশোরসহ আহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির হারলেম এলাকার একটি পার্কে গোলাগুলির ঘটনায় দুই কিশোরসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় সময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চার্লস ইয়াং পার্কের খেলার মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD)।   পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। একই ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক যুবক কুঁচকিতে এবং ২১ বছর বয়সী আরেকজন ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।   আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে NYPD। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, পার্কের চারপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত বোতল ও আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।   এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, গুলির সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২১, ২০২৬ ১২:৬
ছবি: রয়টার্স

গুদামকে অভিবাসী আটক কেন্দ্র বানানোর পরিকল্পনা থেকে সরে এলো আইস

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সেলফ ড্রাইভ এ থাকা টেসলা বাসার দেয়াল ভেঙে নারীকে নিহত করল

ব্রেকিং ব্যাডখ্যাত মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো | ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন ব্রেকিং ব্যাডখ্যাত মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো

0 Comments