সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২:৫৬
তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা
তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা

যুক্তরাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ রান্নাঘর, বাগান কিংবা বারান্দায় ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ কাজে ছুটি নিচ্ছেন, আবার সামর্থ্যবানদের একটি অংশ ঠান্ডা পরিবেশে রাত কাটাতে হোটেল বুক করছেন। নাগরিক সহায়তা সংস্থা সিটিজেনস অ্যাডভাইসের এক জরিপে উঠে এসেছে, দেশটির প্রতি ছয়জনের একজন গরম মোকাবিলায় এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। 

 

সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাজ্যের লাখ লাখ মানুষ এমন বাড়িতে আটকে আছেন, যেগুলো গরমের সময় সহজে ঠান্ডা করা যায় না। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪ শতাংশ মানুষ জানান, ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অসহায় মনে করেন। দুর্বল নকশা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব এবং এয়ার কন্ডিশনারসহ কুলিং সরঞ্জামের উচ্চ খরচকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

 

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জানালায় টিন ফয়েল, কার্ডবোর্ড বা ভেজা চাদর লাগানোর মতো অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেক পরিবার শোবার ঘরে টিকে থাকতে না পেরে তুলনামূলক ঠান্ডা রান্নাঘরে ঘুমাচ্ছে। কেউ বাগান ও বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে অসুস্থতার ছুটি বা বেতনবিহীন ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন।

 

ভাড়াটিয়াদের অবস্থা আরও কঠিন বলে জরিপে উঠে এসেছে। প্রাইভেট ও সোশ্যাল হাউজিংয়ে বসবাসকারী ৫১ শতাংশ ভাড়াটিয়া মনে করেন, ঘর অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই। বাড়ির মালিকদের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, হিট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক গ্রীষ্মকালেও তাদের সেন্ট্রাল হিটিং বন্ধ করতে পারেননি বলে জরিপে জানানো হয়েছে। 

 

সিটিজেনস অ্যাডভাইসের প্রধান নির্বাহী ডেম ক্লেয়ার মরিয়ার্টি বলেন, বহু মানুষের কাছে গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ রোদ উপভোগের বিষয় নয়। বরং অসহনীয় গরমের ঘরে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের অনেক বাড়ি গ্রীষ্মে বড় ধরনের হিট ট্র্যাপ এবং শীতে বরফশীতল ঘরে পরিণত হচ্ছে।

 

সংস্থাটি সরকারের কাছে বাড়ির ইনসুলেশন, ভেন্টিলেশন এবং হিট নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ঘরগুলোকে শুধু শীতে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করলেই হবে না, গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য রাখতে হবে।

 

গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের রেকর্ডে সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই। ইংল্যান্ডে মাসজুড়ে মাত্র ৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং ওয়েলসে ৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯ মিলিমিটার, যা ওই অঞ্চলের যেকোনো মাসের সর্বনিম্ন রেকর্ড। 

 

জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। তীব্র গরম ও বৃষ্টির ঘাটতিতে দাবানল, খরা এবং পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় উষ্ণতম এবং রেকর্ডে সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল জুলাই ছিল। 

 

সিটিজেনস অ্যাডভাইসের জরিপটি জুলাইয়ের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ১০৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠলে অপর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে  মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার, তীব্র বিতর্ক

ম্যাসাচুসেটসে সন্তান জন্মের পর নতুন মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠিয়ে স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার স্ক্রিনিং করার কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। গভর্নর মাউরা হিলি ১৫ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচি সম্প্রসারণে ২০ লাখ ডলার এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কর্মসূচিটি স্বেচ্ছামূলক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।    রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ কর্মসূচির মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর প্রশিক্ষিত মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য নার্স পরিবারের বাড়িতে গিয়ে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নেন। নার্সরা নবজাতকের যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ানো, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে পরিবারকে চিকিৎসা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থাও করা হয়।    গভর্নর হিলির প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো এই সেবা পুরো ম্যাসাচুসেটসে আরও সহজলভ্য করা। রাজ্য সরকারের হিসাবে, বর্তমানে ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ বছরে প্রায় ৩ হাজার পরিবারকে সেবা দেয়। অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার সন্তান জন্ম দেওয়া পরিবারকে এই বাড়ি পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাধ্যতামূলক কর্মসূচি নয়। রাজ্য সরকারের ঘোষণায় এটিকে বিনামূল্যের স্বেচ্ছামূলক সেবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    বাড়িতে গিয়ে নার্সরা শুধু শিশুর স্বাস্থ্য নয়, মায়ের প্রসব-পরবর্তী মানসিক অবস্থাও মূল্যায়ন করতে পারেন। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মাদক ব্যবহারের মতো উদ্বেগের লক্ষণ শনাক্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে পরিবারকে যুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৬২০টি প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার স্ক্রিনিং করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০৮ জনের স্ক্রিনিংয়ে উদ্বেগের লক্ষণ পাওয়া যায় এবং প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় সেবার জন্য রেফার করা হয় বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে।    ম্যাসাচুসেটসে প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলাকে ঘিরে। সাবেক এই নার্সের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তাঁর তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলায় তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় মামলাটিতে মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। হিলির নতুন উদ্যোগ ঘোষণার সময় এই মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে।    তবে কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনাও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকজন ব্যবহারকারী বাড়িতে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। কেউ এটিকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ অভিভাবকদের বাড়িতে এ ধরনের পরিদর্শন গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসর, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগকে সামনে এনেছে।    অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটস সরকার বলছে, কর্মসূচির উদ্দেশ্য পরিবারকে নজরদারি করা নয়, বরং সন্তান জন্মের পরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তার সঙ্গে দ্রুত যুক্ত করা। রাজ্যের আইনে ইতোমধ্যে প্রসব-পরবর্তী বাড়ি পরিদর্শন সেবা স্বেচ্ছামূলক ও প্রমাণভিত্তিক সেবা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আইনে অন্তত একটি পরিদর্শন সন্তান জন্মের পর আট সপ্তাহের মধ্যে বাড়িতে অথবা পরিবার ও সেবাদাতার সম্মত অন্য কোনো স্থানে করার কথা বলা হয়েছে।    ফলে নতুন উদ্যোগটি ম্যাসাচুসেটসে মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রসব-পরবর্তী মানসিক সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার কতটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রাখবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কোথায় পর্যন্ত পৌঁছানো উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। রাজ্য সরকার এখন অর্থায়ন ও কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সেবা আরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ০:৪৭
ক্রুজ জাহাজের কেবিনের বারান্দা থেকে সাগরে ঝাঁপ

ক্রুজ জাহাজের কেবিনের বারান্দা থেকে সাগরে ঝাঁপ, মেক্সিকো উপকূলে তল্লাশি

গাজায় যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন একদল স্থানীয় শিল্পী

মঞ্চে অভিনয় নাকি বাস্তব জীবন! গাজার অভিনেতাদের কাছে দুটোই এক

মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর

মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর

মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী
মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার অভিযোগ করেছেন। সাধনা নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দীপক তার মাথায় আঘাত করেন, পরে কামড়ে তার নাকের একটি অংশ ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন। ঘটনার পর পুলিশ স্বামীকে আটক করেছে এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে।    পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটে। প্রায় আড়াই মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর সাধনা হঠাৎ সেখানে ফিরে আসেন। পুলিশ বলছে, প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ দিয়ে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের পর দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।   সাধনার অভিযোগ, ওই সময় তার স্বামী দীপক তাকে মাথায় আঘাত করেন এবং কামড়ে তার নাকের অংশ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সেটি নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। তার আরও অভিযোগ, শ্বশুর ও শাশুড়ি ওই সময় তার হাত ধরে রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই থানায় নিয়ে আসে। পরে দীপককে আটক করা হয়। আহত সাধনাকে প্রথমে সান্ডি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হারদই মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।    তবে ঘটনার বিষয়ে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। দীপকের মা দাবি করেছেন, সাধনা প্রায় আড়াই মাস আগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিষয়টি আগে পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল।   দীপকের মায়ের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সাধনা হঠাৎ বাড়িতে ফিরে এসে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে সাধনাই প্রথমে তার স্বামীর শরীরের সংবেদনশীল অংশে কামড় দেন এবং পরে নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এসব অভিযোগও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।    পুলিশ জানিয়েছে, সাধনা ও দীপকের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের বয়স ৮, ৬ ও ৩ বছর। ঘটনার পর দুই পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও হামলার ধারাবাহিকতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।   পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধনার পক্ষ থেকে তখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অন্যদিকে দীপকের মা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কার অভিযোগ কতটা সত্য, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।    ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলার সান্ডি থানা এলাকায় ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৩:৩৫
গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ

গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ, নাকের হাড় স্থানচ্যুত

করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত

করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত

রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক

রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক

পূর্বপুরুষের জিনের কারণে শিশুর গায়ের রং কালো
পূর্বপুরুষের জিনের কারণে শিশুর গায়ের রং কালো, দাবি শ্বেতাঙ্গ মায়ের! ডিএনএ টেস্টের পরও থামেনি বিতর্ক

নিজের পূর্বপুরুষদের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ টেস্ট করিয়েছিলেন এক মা। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর তার পরিবার সেটি প্রকাশ্যেও আনে। কিন্তু ফল প্রকাশের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে পূর্বপুরুষের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহের অবসান হয়নি।   এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ওই নারীর পরিবার ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলেও অনলাইনে থাকা অনেক মানুষের সন্দেহ দূর হয়নি। বরং ছবিটি যেসব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানেই তার বংশপরিচয় নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে।   ঘটনাটির উল্লেখযোগ্য দিক হলো, সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকে অন্তত একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল সামনে আনা হয়েছিল। বংশপরিচয় বা পূর্বপুরুষের উৎস সম্পর্কে জানতে ডিএনএ টেস্ট বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। এ ধরনের পরীক্ষায় জেনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ব্যক্তির পূর্বপুরুষের সম্ভাব্য ভৌগোলিক উৎস ও আত্মীয়তার কিছু তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   তবে ডিএনএ পরীক্ষার ফলকে ঘিরেও মানুষের প্রত্যাশা ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। ভোক্তা পর্যায়ের ancestry DNA test সাধারণত কোনো ব্যক্তির পূর্বপুরুষের সম্ভাব্য অঞ্চল বা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে অনুমানভিত্তিক তথ্য দেয়। এটি সবসময় পারিবারিক ইতিহাসের প্রতিটি প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয় না।   এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে আলোচিত ঘটনাটিতে পরিবারের পক্ষ থেকে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও অনলাইনের সন্দেহ থামেনি। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে একবার ধারণা তৈরি হয়ে গেলে প্রমাণ সামনে আসার পরও সেই ধারণা কীভাবে টিকে থাকতে পারে, সেই বিষয়টিও সামনে এনেছে।   তবে ওই নারী বা তার পরিবারের পরিচয়, ডিএনএ পরীক্ষার নির্দিষ্ট ফল এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। পরিবারের প্রকাশ করা পরীক্ষার ফল থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য বা সন্দেহকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১:১৪
সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে বড় আকারের চালকবিহীন ড্রোন সাবমেরিন তৈরি করছে চীন। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রে আধিপত্য বাড়াতে চীনের নতুন পদক্ষেপ, তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ড্রোন 'মাদারশিপ'

জার্মানিতে ডানপন্থি দল এএফডির উত্থানে অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিতে এএফডির উত্থান, দেশটিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় অভিবাসীরা

ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে বক্তব্য দিচ্ছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরান। ছবি: সংগৃহীত

'গাজায় ইসরায়েলের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়': মঞ্চে কেঁদে বললেন এড শিরান

0 Comments