২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কিছুদিন। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্ট। তবে মেক্সিকোর সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই উৎসব বিষাদে রূপ নিচ্ছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টিকিটের অত্যধিক দামের কারণে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা এখন মেক্সিকানদের কাছে কেবল এক দুঃস্বপ্ন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উদ্বোধনী ম্যাচসহ গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মেক্সিকোর বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি এবং সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় টিকিটের এই মূল্য আকাশছোঁয়া। একজন সাধারণ মেক্সিকান শ্রমিকের কয়েক মাসের সম্পূর্ণ বেতন দিলেও একটি টিকিট কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফা যদিও দাবি করেছে যে তারা সর্বনিম্ন ৬০ ডলারের (প্রায় ৭,০০০ টাকা) টিকিটও রেখেছে, তবে সিএনএন-এর অনুসন্ধান বলছে, রিসেল বা পুনরায় বিক্রির বাজারে একেকটি টিকিটের দাম ৩,০০০ ডলার থেকে ১০,০০০ ডলার (প্রায় ৩.৫ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা) পর্যন্ত উঠেছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সিসকো জাভিয়ের নামের এক সত্তরোর্ধ্ব ফুটবল ভক্ত, যিনি ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন, আক্ষেপ করে বলেন, "এই বিশ্বকাপ আর সাধারণ মানুষের নেই। এটি কেবল ধনীদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিজের দেশে খেলা হওয়া সত্ত্বেও আমি এবার গ্যালারিতে যেতে পারছি না।" উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোতে। অল্প ম্যাচ এবং বিপুল চাহিদার সুযোগ নিয়ে টিকিট সিন্ডিকেট এবং ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং পলিসি সাধারণ ভক্তদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট(আইস)-এর হেফাজতে এক মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭-এ পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে এনেছে। মৃত ব্যক্তির নাম আলেহান্দ্রো ক্যাবরেরা ক্লেমেন্তে (৪৯)। তিনি উইন করেকশনাল সেন্টার -এ আটক ছিলেন। আইস-এর পাঠানো নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযানের পর থেকে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লেমেন্তে এই সময়ের মধ্যে ১৫তম মেক্সিকান নাগরিক, যিনি আটক অবস্থায় মারা গেলেন। মেক্সিকোর কূটনীতিক ভেনেসা কালভা রুইজ এই মৃত্যুগুলোকে “অ্যালার্মিং” ও “অগ্রহণযোগ্য প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা পদ্ধতিগত ব্যর্থতা, পরিচালনাগত দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আইস ডিটেনশন সেন্টারগুলোর পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। এদিকে আইস জানিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু তদন্ত নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ফিফার সম্মতি মিললে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে প্রস্তুত রয়েছে মেক্সিকো—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পর ইরানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় ফিফার কাছে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে ইরান। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জানিয়েছেন, ফিফা অনুমোদন দিলে ইরানের ম্যাচ আয়োজন করতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। সূত্র: আল জাজিরা
নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যে ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে আয়োজন করা হয়। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উল্লেখ করলেও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার এই মন্তব্যের পরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয় ইরান। মেক্সিকোয় নিযুক্ত ইরানের দূতাবাসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না, তখন সেখানে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ফিফার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করছে। সূচি অনুযায়ী ইরানের গ্রুপপর্বের দুটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে হওয়ার কথা ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেন্যু পরিবর্তন না হলে ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী এবং ভয়ংকর মাদক কার্টেল ‘জেলিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (CJNG)-এর প্রধান নেমেসিও ওসেগুয়েরা, যিনি বিশ্বজুড়ে ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত, গত রবিবার এক সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন। এক সময়ের পুলিশ কর্মকর্তা থেকে বিশ্বের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীতে পরিণত হওয়া এই ডন মেক্সিকোজুড়ে রেখে গেছেন লাশের স্তূপ আর এক রক্তাক্ত উত্তরাধিকার। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য জেলিস্কোর পার্বত্য অঞ্চলে এক ঝটিকা অভিযানে মারাত্মকভাবে আহত হন ৬০ বছর বয়সী ওসেগুয়েরা। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তরের সময় তার মৃত্যু হয়। মেক্সিকোর ইতিহাসে মাদক পাচার বিরোধী লড়াইয়ে এটিকে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অভিযানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। ওসেগুয়েরার জীবন কোনো থ্রিলার সিনেমার চেয়ে কম নয়। ১৯৬৬ সালে মিশোয়াকান রাজ্যের এক দরিদ্র গ্রামে জন্ম নেওয়া এল মেনচো প্রথম জীবনে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে আইনি ব্যবস্থার চেয়ে অন্ধকার জগৎ তাকে বেশি টানে। প্রথমে মাদক কার্টেলের হিটম্যান বা ঘাতক হিসেবে কাজ শুরু করলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন তিনি। জেলিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল বা CJNG-কে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অপরাধী চক্র মনে করা হয়। এল মেনচোর নেতৃত্বে এই গোষ্ঠীটি মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেলের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। সিনালোয়ার কারাবন্দি নেতা ‘এল চাপো’ গুজম্যানের পর এল মেনচোই ছিলেন মেক্সিকোর সবচেয়ে প্রভাবশালী ড্রাগ লর্ড। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক ‘ফেন্টানিল’ পাচারের মূল হোতা হিসেবে তাকে অভিযুক্ত করা হতো। তার নির্দেশে মেক্সিকোর শত শত পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৫ সালে মেক্সিকোর একটি সামরিক হেলিকপ্টার রকেট লাঞ্চার দিয়ে ভূপাতিত করার পেছনেও ছিল এল মেনচোর হাত। এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মেক্সিকোর বিভিন্ন রাজ্যে শুরু হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। তার অনুসারী কার্টেল সদস্যরা আটটি রাজ্যে বাস ও ট্রাকে আগুন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রেখেছে। অনেক জায়গায় গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। মেক্সিকোর নতুন প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউমের নিরাপত্তা কৌশলের জন্য এটিকে একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এল মেনচোর মৃত্যু মাদক সাম্রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইকে আরও উসকে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় রক্তপাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন খোদ তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা! মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারীর এমন চাঞ্চল্যকর দাবিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে কূটনৈতিক অঙ্গনে। কেন প্রভাবশালী এই পদের লড়াই থেকে ছিটকে যেতে হলো তাকে? নেপথ্যে কি ছিল কোনো ব্যক্তিগত রেষারেষি নাকি কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র? বিস্তারিত জানুন আজকের প্রতিবেদনে। মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারী অভিযোগ করেছেন যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে তার প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার থেকে প্রয়োজনীয় 'নোট ভারবাল' বা আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়া হয়নি। তিনি সরাসরি সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। মুশফিক ফজল আনসারী জানান, জাতিসংঘের এই পদটি শূন্য হওয়ার পর এক বিদেশি সহকর্মীর উৎসাহে তিনি আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি সরকার প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানালে তিনি তাকে উৎসাহিত করেন এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে কথা বলতে বলেন। রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মৌখিক সম্মতি দিলেও আবেদন জমা দেওয়ার পর তাকে 'অগ্রসর না হতে' নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তৎকালীন উপদেষ্টা তার ফোন ধরা বন্ধ করে দেন। রাষ্ট্রীয় সমর্থন না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়াটি আর এগোতে পারেনি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে মুশফিক ফজল আনসারী আক্ষেপ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘকাল কাজ করার পরও নিজ দেশ থেকে ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, মেক্সিকোতে পোস্টিং এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও তার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়েছিল যে, মুশফিক ফজল আনসারীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই সমর্থন দেওয়া হয়নি। তবে রাষ্ট্রদূত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানান, এ পদের নিয়োগ ভোটাভুটির মাধ্যমে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে হয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি বই লিখছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি, যেখানে এই অভিজ্ঞতার আরও গভীরতর তথ্য উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।