- প্রচ্ছদ
- Topic
মেক্সিকো
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান মাত্র ১৭ বছর ৫ দিন বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে গোল করা খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার, ৩ অক্টোবর অ্যারিজোনার গ্লেনডেলের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে গোল করে এই কীর্তি গড়েন কাভান। ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩–০ গোলে হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মেজর লিগ সকারের প্রতিবেদনে তাঁর রেকর্ড গড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে মেক্সিকোর গোলরক্ষক হোসে রাঙ্গেলের ভুল পাসের সুযোগ কাজে লাগান কাভান। বলটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দূর থেকে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে দারুণ এক শটে জালে পাঠান তিনি। ৬২ মিনিটের এই গোলেই ব্যবধান ২–০ করে যুক্তরাষ্ট্র। জাতীয় দলের হয়ে এটিই ছিল কাভানের প্রথম গোল, আর সেই গোল দিয়েই জায়গা করে নিলেন ইতিহাসের পাতায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটি ছিল ম্যাথিস আলবার্টের। চিলির বিপক্ষে ৪–২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মাত্র কয়েক দিন আগে গোল করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন তিনি। কাভান মেক্সিকোর বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচেই সেই রেকর্ড ভেঙে দেন। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ১৮ বছর বয়সী জুলিয়ান হল। ২৮ মিনিটে তাঁর গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে কাভান ব্যবধান বাড়ান। শেষ দিকে মালিক টিলম্যানের গোলে ৩–০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচ শেষে কাভান জানান, ছোটবেলা থেকেই জাতীয় দলের হয়ে এমন মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। নিজের ও পরিবারের জন্য এটি বিশেষ একটি মুহূর্ত হলেও দলের জয়কেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন এই তরুণ। কাভানের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্রও বেশ ঘনিষ্ঠ। তাঁর নানি সুলতানা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসতি গড়েছিলেন। তাঁর দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জার্সিতে কাভানের এই সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদেরও রয়েছে পারিবারিক এক যোগসূত্র। গত ২৬ সেপ্টেম্বর পেরুর বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয় কাভানের। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর। অরল্যান্ডোয় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৪–১ গোলে জয় পায়। জাতীয় দলের অভিষেকেও তিনি গড়েছিলেন বয়সের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য এক রেকর্ড। ক্লাব ফুটবলে কাভান খেলেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে। জাতীয় দলের হয়ে ইতিহাস গড়ার মাত্র কয়েক দিন আগেই সেপ্টেম্বর মাসের মেজর লিগ সকারের মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। চলতি মৌসুমে ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলেও অল্প সময়ের মধ্যে নিজের সামর্থ্যের জানান দিলেন এই তরুণ। মেক্সিকোর বিপক্ষে এই গোল শুধু কাভানের জাতীয় দলের প্রথম গোলই নয়, এটি তাঁর দ্রুত উত্থানের আরেকটি বড় মাইলফলক। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ভবিষ্যতের জন্য বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনার তদন্তে নতুন তথ্য দিয়েছে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। শুক্রবার সংস্থাটি জানিয়েছে, সং ক্র মণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেক্সিকোর একটি খামারে সাইক্লোস্পোরা নামের পর জী বি শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতোতে অবস্থিত ওই খামারে এফডিএর তদন্তকারীরা গিয়েছিলেন ছয় সপ্তাহেরও বেশি আগে। সেখানে লেটুস চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি স্থানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় একটি বর্জ্যপানি সংরক্ষণ ট্যাংক এবং একটি ড্রেনেজ খালে সাইক্লোস্পোরা শনাক্ত হয়েছে। তবে কীভাবে ওই পর জী বি লেটুসে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এফডিএ জানিয়েছে, পাওয়া নমুনাগুলোতে এমন শক্তিশালী মহামারিবিদ্যাগত তথ্য রয়েছে, যা সং ক্র মণের ঘটনাটির সঙ্গে টেইলর ফার্মসের ওই খামারের সম্পর্ককে আরও জোরালো করে। টেইলর ফার্মস অবশ্য আলাদা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এফডিএ যে দূষণের কথা বলেছে, সেটি তাদের একজন স্বতন্ত্র চাষির সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই চাষি এখন আর প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকারী কর্মসূচির অংশ নন বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি আরও বলেছে, মধ্য মেক্সিকোতে তাদের সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এখনো বন্ধ রয়েছে। মাঠ থেকে শুরু করে উৎপাদনস্থল পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা দলের সঙ্গে কাজ করছে তারা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত মাসে এই সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন। এফডিএ জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সং ক্র মণের সঙ্গে সম্পর্কিত বাজার থেকে প্রত্যাহার করা সব আইসবার্গ লেটুস সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা নিশ্চিত। তবে এবারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যজুড়ে এই সং ক্র মণের ঘটনায় প্রায় ১৩ হাজার রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছর পর জী বি জনিত ডায়রিয়ায় আ ক্রা ন্তের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বড় অংশই এই প্রা দু র্ভা বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ২০১৯ সাল। সে বছর দেশজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ অসুস্থতার খবর পাওয়া যায়। এবারের সংখ্যা সেই রেকর্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। সাইক্লোস্পোরা একটি অতি ক্ষুদ্র গোলাকার পর জী বি। এটি মানুষের অন্ত্রে সং ক্র মণ ঘটিয়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের অন্যতম প্রধান উপসর্গ হলো পানির মতো পাতলা পায়খানা। এর সঙ্গে পেটের অস্বস্তি, ক্লান্তি ও অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। সাইক্লোস্পোরা সং ক্র মণের ঘটনা সাধারণত বসন্তের শেষ দিক ও গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়। অন্যান্য জীবাণু, যেমন সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের কারণে হওয়া খাদ্যজনিত অসুস্থতার তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সং ক্র মণের নির্দিষ্ট খাদ্য বা উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এফডিএর নতুন তদন্তের তথ্য তাই সং ক্র মণের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রা দু র্ভা ব শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে, মেক্সিকোর খামারে পর জী বি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে।
হন্ডুরাস থেকে যাত্রা শুরু করা ৬০০-এর বেশি অভিবাসীর একটি বহর বর্তমানে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে। ‘ফে ই এসপেরানজা’ বা ‘বিশ্বাস ও আশা’ নামের এই বহরে হন্ডুরাসের পাশাপাশি এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হাইতির নাগরিকরাও রয়েছেন। স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউজউইক জানিয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর হন্ডুরাসের সান পেদ্রো সুলা থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ অভিবাসী ছোট ছোট দলে উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করেন। তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল গুয়াতেমালার সীমান্তে পৌঁছানো। এরপর মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছে বহরটির সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এতে ৬০০-এর বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০০ সদস্য নিয়ে দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তাপাচুলায় পৌঁছেছিল। পরে দক্ষিণ মেক্সিকোতে আগে থেকেই অবস্থান করা আরও অভিবাসীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ফলে বর্তমানে ৬০০-এর বেশি মানুষের এই বহরকে শুধু হন্ডুরাস থেকে যাত্রা করা অভিবাসীদের দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অভিবাসীদের কয়েকজন ইএফইকে জানিয়েছেন, হন্ডুরাস ছাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক সংকট ও কাজের অভাব। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করা এক নারী জানান, দেশে তার জন্য কোনো কাজ নেই। আরেক অভিবাসী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো কঠিন হবে জানলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান। সান পেদ্রো সুলার বাসিন্দা হোসে সেলাইয়া জানান, তিনি ২০ সেপ্টেম্বর পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে হন্ডুরাস ছাড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে কাজ করে দেশে থাকা স্বজনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। অভিবাসীদের কেউ তাদের পরিচালনা করছে না বলেও দাবি করেন সেলাইয়া। তার ভাষায়, তাদের সামনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ নেই, ক্ষুধা ও প্রয়োজনই তাদের এগিয়ে নিচ্ছে। তবে এই বহর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। শেষ পর্যন্ত কতজন উত্তর মেক্সিকো পর্যন্ত যেতে পারবেন বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতেও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়া অভিবাসী বহরের অনেকগুলো সংগঠিত দল হিসেবে মার্কিন সীমান্তে পৌঁছাতে পারেনি। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ অতীতেও উত্তরমুখী অভিবাসী বহরগুলোকে থামিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে। কখনো অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে, আবার কখনো তাদের মেক্সিকোর অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলতি বছর আগস্টেও তাপাচুলা থেকে প্রায় ৮০০ অভিবাসীর একটি বহর মেক্সিকো সিটির দিকে যাত্রা করেছিল। ওই দলটির অনেক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিবর্তে মেক্সিকোতেই বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এবারের বহরের যাত্রা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। সীমান্ত নিরাপত্তায় সামরিক ও ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন, আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত করা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব নীতির পর যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আগস্ট ২০২৬-এ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ৮ হাজার ৮৭০টি গ্রেপ্তারের ঘটনা রেকর্ড করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ের মাসিক গড়ের তুলনায় এটি ৯৪ শতাংশ কম। একই মাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে ছেড়ে দেয়নি এবং টানা ১৬ মাস ধরে এমন পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ নতুন বহরের সদস্যদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তেগুসিগালপায় মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। বিপজ্জনক যাত্রা থেকে বিরত থাকতে এবং মানবপাচারকারীদের কথায় বিশ্বাস না করতেও অভিবাসীদের সতর্ক করা হয়। বহরটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন রাজনীতিক এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেলর গ্রিন এই বহরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিবাসন ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার এই বক্তব্য একটি রাজনৈতিক দাবি, যার পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে তাপাচুলা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকাগামী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার পর শহরটিতে বহু অভিবাসী আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। চলতি বছরের আগস্টে ইএফই জানিয়েছিল, বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার অভিবাসী মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে নথিপত্র ও বৈধ অবস্থানের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। বর্তমান বহরটি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় এবং মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ তাদের কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছানোর পর এই অভিবাসীরা প্রবেশের চেষ্টা করবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক
প্রশান্ত মহাসাগরে মেক্সিকোর উপকূলের কাছে শক্তিশালী হ্যারিকেন পোলা অবস্থান করছে। একই সময়ে আটলান্টিক মহাসাগরে তৈরি হওয়া আরেকটি আবহাওয়া ব্যবস্থা সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস ও উপকূলে ক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হ্যারিকেন পোলা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বর্তমানে ঘণ্টায় প্রায় ১৫৫ মাইল বেগে বাতাস নিয়ে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে রয়েছে। এর আগে ঝড়টির সর্বোচ্চ বাতাসের গতি প্রায় ১৮০ মাইল প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছেছিল। সর্বশেষ জাতীয় হ্যারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, পোলা বর্তমানে ক্যাটাগরি ৪ হ্যারিকেন হিসেবে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী অবস্থায় থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পোলার প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঝড়টির কেন্দ্র মেক্সিকোর উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও পূর্বাভাস অনুযায়ী এটি মূলত সমুদ্রের ওপর দিয়েই থাকার কথা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপকূলের কাছেও নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। মধ্য-আটলান্টিক উপকূলের কাছে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়ে সপ্তাহান্তে নিউ ইংল্যান্ডের দিকে অগ্রসর হতে পারে। তবে এর সঠিক গতিপথ নিয়ে আবহাওয়ার মডেলগুলোর মধ্যে এখনও পার্থক্য রয়েছে। কোন পথে নিম্নচাপটি এগোবে, তার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করবে। তবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস, জলোচ্ছ্বাস এবং সৈকত ক্ষয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ফক্স ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে সপ্তাহান্তের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হবে। আটলান্টিক অববাহিকায় সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি প্রশান্ত মহাসাগরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম উদ্বেগজনক। আফ্রিকার উপকূল থেকে দূরে একটি ক্রান্তীয় তরঙ্গ রয়েছে, যেটি আগামী সাত দিনে নামকরণযোগ্য ঝড়ে পরিণত হওয়ার ৪০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কম্পিউটার মডেলগুলো বলছে, ওই সিস্টেমটি কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের কাছে উত্তরমুখী হয়ে যেতে পারে। ফলে বর্তমানে এটি জনবসতিপূর্ণ স্থলভাগ থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ কমার পাশাপাশি অনলাইন অশালীন কনটেন্টে আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ব্যবহারে লাগাম টানতে নভেম্বর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেক্সিকো সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালে এবং বিরতির সময়ও শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। তবে জরুরি পরিস্থিতি কিংবা আগে থেকে পরিকল্পিত শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম বলেছেন, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং মোবাইল ফোনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমানো এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহারের সঙ্গে অনলাইন অশালীন কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় মোবাইল ও সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ শিক্ষক বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পরই নতুন এই নীতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থীর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। কলেজে যাওয়ার আগের শেষ তিন বছরের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে মূলত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। মেক্সিকো ছাড়াও ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও পেরুসহ বেশ কয়েকটি দেশ স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিশু-কিশোরদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে শিক্ষার পরিবেশ আরও মনোযোগী করাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
মেক্সিকো উপকূলের কাছে কার্নিভাল প্যানোরামা ক্রুজ জাহাজ থেকে ৫৬ বছর বয়সী এক পুরুষ যাত্রী সাগরে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভায়ার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড, মেক্সিকোর নৌবাহিনী এবং ওই এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিখোঁজ যাত্রীকে উদ্ধারে তল্লাশিতে অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে আলামেডা রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার ঘটনাটির খবর পায়। এরপর নিখোঁজ যাত্রীকে খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করা হয়। তল্লাশিতে সহায়তার জন্য একটি আকাশযানও মোতায়েন করা হয়েছে। মেক্সিকোর নৌবাহিনী এবং আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অনুসন্ধান অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর জাহাজের ক্রুরা প্রথমে পুরো জাহাজে তল্লাশি চালান। পরে জাহাজের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তি জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে গেছেন। এরপর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ঘটনার সময় কার্নিভাল প্যানোরামা পুয়ের্তো ভায়ার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে ফিরছিল। এটি ছিল সাত রাতের মেক্সিকান রিভিয়েরা ক্রুজ ভ্রমণের শেষ পর্যায়। জাহাজটি ১৩ সেপ্টেম্বর লং বিচ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভায়ার্তা ঘুরে এটি আবার ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে ফিরছিল। যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পর জাহাজের ভেতরেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। যাত্রীদের কিছু সময়ের জন্য নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করতে বলা হয়, যাতে ক্রুরা পুরো জাহাজে অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন যে নিখোঁজ ব্যক্তি জাহাজের অন্য কোথাও অবস্থান করছেন কি না। পরে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি সাগরে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর কার্নিভাল প্যানোরামা কিছু সময়ের জন্য গতিপথ পরিবর্তন করে আশপাশের সমুদ্র এলাকায় তল্লাশি চালায়। পরে জাহাজটি আবার লং বিচের দিকে যাত্রা শুরু করে। একই সময়ে মেক্সিকোর নৌবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এবং আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সম্ভাব্য এলাকায় অনুসন্ধান চালাতে থাকে। কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, নিখোঁজ যাত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি কী কারণে সাগরে পড়ে গেলেন বা জাহাজ থেকে কীভাবে পানিতে গেলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বা ক্রুজ কোম্পানির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সমুদ্রের মাঝখানে কোনো ব্যক্তি জাহাজ থেকে পড়ে গেলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সাগরের স্রোত, বাতাস এবং জাহাজের গতিপথের কারণে দুর্ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই একজন নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান অনেক দূরে সরে যেতে পারে। এ কারণেই এ ধরনের ঘটনায় আকাশযান, নৌযান এবং আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজকে একসঙ্গে তল্লাশিতে যুক্ত করা হয়। নিখোঁজ ৫৬ বছর বয়সী যাত্রীর সন্ধানে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মেক্সিকোর আকাপুলকোয় ভয়াবহ হ্যারিকেন ওটিসের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় ক্ষুধার্ত চার মাস বয়সী এক শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে আলোচনায় আসেন মেক্সিকো সিটির পুলিশ কর্মকর্তা আরিজবেথ ডিওনিসিও অ্যামব্রোসিও। মানবিক এই উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘পুলিশিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে ‘সুবঅফিসিয়াল’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে, হ্যারিকেন ওটিস আকাপুলকোয় আঘাত হানার পর। ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর মেক্সিকোর আকাপুলকোয় ক্যাটাগরি ৫ হ্যারিকেন ওটিস আঘাত হানে। ঝড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর মেক্সিকো সিটির পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উদ্ধার, ত্রাণ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে সেখানে মোতায়েন হন। অ্যামব্রোসিওও তাদের সঙ্গে আকাপুলকোয় যান। তিনি তখন ৩৩ বছর বয়সী এবং নিজেও দুই সন্তানের মা ছিলেন। একই সময়ে তিনি নিজের এক বছর বয়সী শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। ঝড়ের পর উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় অ্যামব্রোসিও একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তিনি কান্নার উৎসের দিকে গিয়ে এক নারীর সঙ্গে কথা বলেন। ওই নারী শিশুটির মা অথবা স্বজন ছিলেন বলে অ্যামব্রোসিও পরে জানান। শিশুটির বয়স ছিল প্রায় চার মাস। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটি দীর্ঘ সময় ধরে খাবার পায়নি এবং ক্ষুধায় কাঁদছিল। মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা খাবার ছাড়াই ছিল। অ্যামব্রোসিও তখন বুঝতে পারেন, তিনি নিজেও যেহেতু সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তাই শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে পারেন। তিনি ওই নারীর অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়ান। অ্যামব্রোসিওর ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে তার কাছে দেওয়ার পর কান্না ধীরে ধীরে থেমে যায়। তিনি পরে বলেন, ওই মুহূর্তে নিজের দুই সন্তানের কথা তার মনে পড়েছিল এবং প্রয়োজনের সময় শিশুটিকে প্রয়োজনীয় কিছু দিতে পেরে তার মনে শান্তি এসেছিল। ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে অ্যামব্রোসিওকে শিশুটিকে বুকের দুধ খাওয়াতে দেখা যায়। আকাপুলকোয় তখন যোগাযোগব্যবস্থা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় অ্যামব্রোসিও নিজেও প্রথমে জানতে পারেননি যে ছবিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি প্রায় আট দিন সেখানে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নেন বলে মেক্সিকোর সংবাদমাধ্যম এল ইউনিভার্সাল জানিয়েছে। আকাপুলকো থেকে ফিরে আসার পর তাকে মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা বিভাগের সদর দপ্তরে ডাকা হয়। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাবলো ভাসকেস কামাচো তার কাছে শিশুটিকে সহায়তা করার ঘটনাটি জানতে চান। এরপরই তাকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। তিনি ‘পুলিশিয়া প্রিমেরো’ পদ থেকে ‘সুবঅফিসিয়াল’ পদে উন্নীত হন, যা তাকে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। কামাচো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যামব্রোসিওর সেবার প্রশংসা করে বলেন, আকাপুলকোয় শিশুটির জীবন রক্ষায় তার ভূমিকা মানবিকতার উদাহরণ। তবে অ্যামব্রোসিও নিজে ঘটনাটিকে অসাধারণ বা বীরত্বপূর্ণ কিছু হিসেবে দেখেননি। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনের মুহূর্তে যা করা দরকার ছিল, তিনি সেটিই করেছেন। শিশুটিকে সাহায্য করার পর তিনি আবার হেলমেট, ফার্স্ট এইড কিট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে ফিরে যান। শিশুটির সঙ্গে সেটিই ছিল তার শেষ দেখা। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সুযোগ পেলে সেই পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করে শিশুটিকে দেখতে চাইতেন। হ্যারিকেন ওটিসের পর আকাপুলকোয় ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে অ্যামব্রোসিওর এই ঘটনা উদ্ধারকাজের আরেকটি মানবিক দিক সামনে আনে। ধ্বংসস্তূপ সরানো ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো দায়িত্বের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের প্রতি নজর দেওয়ার ঘটনাটিও তখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষও তার এই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলের ঘন সবুজ পাহাড়ের নির্জন এলাকায় লোকচক্ষুর আড়ালে চলছিল একটি গোপন ক্রিপ্টোকারেন্সি খামার। দুর্গম এলাকায় একটি কাঁচা রাস্তার পাশে থাকা জরাজীর্ণ ভবনটিতে দিনরাত চলছিল শত শত শক্তিশালী কম্পিউটার। পুলিশের ধারণা, ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের আড়ালে অবৈধ অর্থপাচারের কাজও হয়ে থাকতে পারে। পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের সিয়েরা নোর্তে এলাকায় থাকা ওই স্থাপনার সন্ধান মেলে সেখান থেকে আসা অস্বাভাবিক যান্ত্রিক শব্দ এবং বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে। আশপাশের ছোট ছোট গ্রামগুলোর তুলনায় সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেখানে প্রায় ৩০০টি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ, ৮০টি মাঝারি ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক টার্মিনাল এবং আটটি স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা পায়। এসব যন্ত্র ব্যবহার করে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের তুলনায় এটি ছোট একটি কার্যক্রম হলেও গত বছরের শুরু থেকে ওই এলাকায় এমন চতুর্থ ক্রিপ্টো খামারের সন্ধান পাওয়া গেল। মেক্সিকোভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ডেভিড সসেডো বলেন, মাদক কার্টেলগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তার মতে, এ ধরনের ক্রিপ্টো মাইনিং খামার চালাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। ফলে এর পেছনে মেক্সিকোর শক্তিশালী কোনো অপরাধী গোষ্ঠী থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে মেক্সিকোর ফেডারেল অ্যাটর্নি কার্যালয় চলমান তদন্তের কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ে সবচেয়ে বড় খরচ হলো বিদ্যুৎ। বিপুল সংখ্যক শক্তিশালী কম্পিউটার সার্বক্ষণিক চালু রাখার পাশাপাশি সেগুলো ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এ কারণেই কম খরচে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় এমন জায়গা বা অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় এ ধরনের গোপন কার্যক্রম গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টো ওয়ালেটগুলোতে প্রায় ১৫৪ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়েছে। এক বছর আগে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ বিলিয়ন ডলার। চেইনঅ্যানালাইসিসের লাতিন আমেরিকা বিশেষজ্ঞ কাইও মোত্তা বলেন, মেক্সিকোর মতো দেশে সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলো অর্থপাচারের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার ও মাইনিং কার্যক্রমে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, যেখানে বিদ্যুৎ সস্তা অথবা অপরাধীদের প্রভাব রয়েছে, সেখানে বিদ্যুৎ চুরি করে বড় আকারের ক্রিপ্টো মাইনিং অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, একটি বিটকয়েন মাইন করতে বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। বিটকয়েনের বর্তমান দাম প্রায় ৭৮ হাজার ডলার হওয়ায় মাইনিং থেকে বড় ধরনের লাভের সুযোগ রয়েছে। আর বিদ্যুৎ চুরি করা হলে এই খরচ আরও কমে যায়। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ এখন তদন্ত করছে, পুয়েবলার ওই ক্রিপ্টো খামারে কাছের একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়েছিল কি না। ঘন বন, দুর্গম পাহাড় এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জনবসতির কারণে সিয়েরা নোর্তে অঞ্চলটি এমন গোপন কার্যক্রমের জন্য সুবিধাজনক। স্থানীয় দুই বাসিন্দা জানান, খামারটির কম্পিউটারের শব্দ প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যেত। অথচ স্থাপনাটি সবচেয়ে কাছের গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ছিল। গত বছর কাছের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে আরও তিনটি একই ধরনের ক্রিপ্টো খামার শনাক্ত করা হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর সঙ্গে মিলে এ ধরনের আরও গোপন স্থাপনা রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখছে। মেক্সিকোর পাশাপাশি ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও অবৈধ ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই খাতকে ব্যবহার করে অপরাধও আরও বাড়তে পারে। তবে একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও ক্রিপ্টো লেনদেন শনাক্ত ও অনুসরণ করার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ২৫ বছর বয়সী ব্রায়ান হোসে মোরালেস গার্সিয়াকে মেক্সিকোয় ডিপোর্ট করার পর প্রায় চার মাসের আইনি লড়াই শেষে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দেওয়া হয়েছে। টেক্সাসে একটি ট্রাফিক থামানোর ঘটনার পর তিনি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে যান এবং পরে ৭ এপ্রিল তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। পরে তার আইনজীবীরা তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ সামনে এনে দেশে ফেরানোর জন্য আইনি পদক্ষেপ নেন। মোরালেস গার্সিয়ার জন্ম ডেনভারে। তবে শৈশবের বড় একটি সময় তিনি মেক্সিকোয় কাটিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাজের উদ্দেশ্যে তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তিনি নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। পরে টেক্সাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ করছিলেন তিনি। এপ্রিল মাসে ফ্রেডেরিক্সবার্গের কাছে বসকে সঙ্গে নিয়ে একটি গাড়িতে করে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় টেক্সাসের এক রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা তাদের গাড়ি থামান। অভিযোগ ছিল গাড়ির জানালার কাচে অতিরিক্ত কালো রং করা নিয়ে। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো টিকিট দেওয়া হয়নি। এরপর মোরালেস গার্সিয়াকে কয়েকটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়। মোরালেস গার্সিয়া তখন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে দাবি করেন এবং তার নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর কথা জানান। তার আইনজীবীর অভিযোগ, আটক থাকার সময় তাকে শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়। চার দিন বিভিন্ন হেফাজতকেন্দ্রে থাকার পর তাকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়। সরকারপক্ষ অবশ্য আদালতে দাবি করেছে, মোরালেস গার্সিয়া শুরুতে নিজেকে মেক্সিকোয় জন্ম নেওয়া ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং স্বেচ্ছায় মেক্সিকোয় ফেরার কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। মেক্সিকোয় যাওয়ার পর তার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের বিষয়টি সামনে এনে ফেডারেল আদালতে মামলা করেন। তারা যুক্তি দেন, মোরালেস গার্সিয়া ডেনভারে জন্মেছেন এবং তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসনদ রয়েছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ মেক্সিকোর কিছু নথির কথা তুলে ধরে, যেখানে তার নামের বানান ও জন্মতারিখে পার্থক্য রয়েছে। এসব নথিতে তার জন্মস্থানও মেক্সিকোর জাকাতেকাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার সময় দুই দেশের নথিতে থাকা তথ্যের এই পার্থক্য নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তার আইনজীবীদের দাবি, মেক্সিকোয় তার জন্ম নিবন্ধনের সময় তথ্যের ভুল হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে নথিপত্র ও জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ পান মোরালেস গার্সিয়া। আগস্টের শেষ দিকে মেক্সিকোর আগুয়াসকালিয়েন্তেস থেকে বাসে করে তিনি সীমান্তের দিকে যান। ৩০ আগস্ট সীমান্তে পৌঁছানোর পর তার কলোরাডোর জন্মসনদ গ্রহণ করা হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ মাস দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তার আইনজীবীরা তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যান। তবে দেশে ফিরলেও পুরো ঘটনার মানসিক চাপ কাটেনি বলে জানিয়েছেন মোরালেস গার্সিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে চেহারা ও ইংরেজিতে কথা বলতে না পারার কারণে বিচার করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। ভবিষ্যতে আবার কোনো পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়লে একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে তার। এদিকে তাকে মেক্সিকোয় পাঠানোর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে করা মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে কতজন নাগরিককে অভিবাসন ব্যবস্থার আওতায় আটক বা বহিষ্কার করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করে না। সরকারি হিসাব পর্যালোচনা করে অতীতেও এমন ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আটক ও বহিষ্কারের নজির পাওয়া গেছে। মোরালেস গার্সিয়ার ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। সূত্র: ইউএসএ টুডে
মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে একটি ধর্মীয় উৎসব চলাকালে আতশবাজির বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর একটি দেয়ালও ধসে পড়ে। শনিবার রাতে মেক্সিকো স্টেটের তেমাসকালসিঙ্গো এলাকায় নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে লা লুস গির্জার পাশে এ বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে পৃষ্ঠপোষক সন্তের সম্মানে আয়োজিত ধর্মীয় উৎসবের অংশ হিসেবে আতশবাজির প্রদর্শনী দেখতে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ধোঁয়া ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজছেন। আহতদের মধ্যে স্থানীয় দুই ধর্মযাজকও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার এক বিশপ। বিস্ফোরণের কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্তে মেক্সিকো স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্ত শুরু করেছে। মেক্সিকোয় আতশবাজি বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। দেশটিতে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে ব্যাপকভাবে আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। প্রায় চার বছর আগে দেশটির হিদালগো রাজ্যের হুয়েহুতলা এলাকায় আতশবাজির একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে ১৭ জন আহত হয়েছিলেন।
মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক এক রায়ে পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আদালত বলেছে, মুখমণ্ডল পুরোপুরি দৃশ্যমান থাকলে ধর্মীয় পোশাক হিসেবে হিজাব পরা পাসপোর্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়া এই রায়ে চিহুয়াহুয়া ও মেক্সিকো সিটির দুই মুসলিম নারীর করা মামলায় তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। মামলাগুলোর একটি করেছিলেন মেক্সিকোর মুসলিম নারী আনা মারিয়া গার্সিয়া। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মেক্সিকো সিটিতে পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে তাকে জানানো হয়, হিজাব পরে ছবি তোলা হলে পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না। এরপর তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন। মেক্সিকোর পাসপোর্ট বিধিমালায় সাধারণভাবে ছবি তোলার সময় মাথা অনাবৃত রাখার শর্ত রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বলেছে, ধর্মীয় কারণে কেউ হিজাব পরলে এবং তাতে তার মুখ শনাক্ত করতে কোনো সমস্যা না হলে ওই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, হিজাব মুখ ঢেকে না রাখায় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারও সমন্বয় করা যায়। এ ক্ষেত্রে হিজাব পরার কারণে পাসপোর্টের আবেদন আটকে রাখা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রায়টি ৮-১ ভোটে গৃহীত হয়। সুপ্রিম কোর্ট একই সঙ্গে দুই মামলার আবেদনকারীকে অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হিজাব পরা ছবি ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মেক্সিকোয় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সরকারি পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হয়েছে। তবে আদালত পাসপোর্টের ছবিতে মাথা অনাবৃত রাখার সাধারণ নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করেনি; ধর্মীয় পোশাকের ক্ষেত্রে, যখন তা মুখ শনাক্তকরণে বাধা সৃষ্টি করে না, তখন ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
মেক্সিকোর মিচোয়াকান অঙ্গরাজ্যে ১৯৯২ সালে ঘটে যাওয়া এক অদ্ভুত বিয়ের গল্পের পুরোনো ছবি কয়েক দশক পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, বিয়ের পোশাকের বদলে সাধারণ পোলো শার্ট ও জিনস পরেই নিজের বিয়েতে হাজির হয়েছিলেন হেক্টর মোরালেস। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে ছড়িয়ে পড়া গল্প অনুযায়ী, হেক্টর ভেবেছিলেন তিনি একটি সাধারণ পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। তাই পরেছিলেন ডোরাকাটা পোলো শার্ট ও জিনস। বিয়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই কোনো পোশাকই ছিল না তার। কিন্তু সেখানে পৌঁছে হেক্টর দেখেন, প্রায় ১৫০ অতিথি আনুষ্ঠানিক পোশাকে উপস্থিত। অনুষ্ঠানে ছিলেন একজন পুরোহিত, ছিল মারিয়াচি ব্যান্ডও। সবচেয়ে বড় চমক ছিল, সেখানে তার প্রেমিকা লুপিতাও অপেক্ষা করছিলেন তাকে বিয়ে করার জন্য। হেক্টরকে নাকি আগে জানানোই হয়নি যে ওই আয়োজনের আসল উদ্দেশ্য ছিল তার বিয়ে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি আপত্তি না করে লুপিতাকে সেখানেই বিয়ে করেন। আর পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই তার পরনে ছিল সেই পোলো শার্ট ও জিনস। পুরোনো ছবিতে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিক পোশাকে থাকা নববধূ লুপিতার পাশে সাধারণ পোশাকে দাঁড়িয়ে আছেন হেক্টর। পরে বিয়ের কেক কাটার ছবিতেও একই পোশাকে দেখা যায় তাকে। বিয়ের কয়েক দশক পর সেই ছবিগুলো আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। অন্য অনেক বিয়ের ছবি সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়ে গেলেও হেক্টরের অপ্রস্তুত পোশাকের সেই ছবিগুলো বরং সময় পেরিয়ে আরও মজার স্মৃতি হয়ে উঠেছে।
সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলার হুমকির কারণে মেক্সিকোর মেক্সিকালি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভ্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মেক্সিকালিতে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলার কার্যক্রমও পুনরায় চালু হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়ার পর মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শুক্রবার এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়। মেক্সিকালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনায় ‘লস রুসোস’ নামে একটি অপরাধী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলার আশঙ্কা থেকেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। মার্কিন দূতাবাস ওই সময় মেক্সিকালিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সরকারি ভবন এড়িয়ে চলা, কোনো ঘটনা ঘটলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেয়। তবে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেও মেক্সিকালি ও আশপাশের বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের জন্য তৃতীয় স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা বহাল রয়েছে। অপরাধ, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মেক্সিকালিতে একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল জব্দ করে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ফেন্টানিল জব্দ করা হয়, যা কর্তৃপক্ষের হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ ডোজের সমপরিমাণ। এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই সম্ভাব্য হামলার হুমকির তথ্য সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মেক্সিকালিতে সরকারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী এই শহরে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মেক্সিকালির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্যালেক্সিকোর ঠিক বিপরীতে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খুব পরিচিত না হলেও সীমান্ত বাণিজ্য ও যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় শহরটিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন।
মেক্সিকোর সেলাইয়া শহরে ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ স্ত্রীকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে খেলনা বিক্রি করতে বসেছিলেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারি ‘দিয়া দে রেয়েস’ উপলক্ষে ব্যস্ত বাজারেও তার খেলনা বিক্রি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে যখন তিনি দোকান গুটাতে শুরু করেন, তখন স্থানীয় সাংবাদিক মার্কো মানসেরা তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এরপরই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি। মেক্সিকোতে ‘দিয়া দে রেয়েস’ বা ‘তিন রাজা দিবস’ শিশুদের উপহার দেওয়ার একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য। এই উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাতে সেলাইয়ার বুলেভার্দ আদলফো লোপেস মাতেওস এলাকায় খেলনা বিক্রির অস্থায়ী দোকান বসেছিল। সেখানেই নিজের ছোট্ট দোকান নিয়ে বসেছিলেন ডন হুয়ানিতো। বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ত্রী অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা ও সংসারের খরচ মেটাতে অর্থের প্রয়োজন ছিল তার। সেই আশায় তিনি নতুন ও ব্যবহৃত কিছু খেলনা কিনে বিক্রির জন্য দোকান সাজিয়েছিলেন। খেলনা কেনার জন্য তিনি আগেই ঋণও নিয়েছিলেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও আশানুরূপ ক্রেতা পাননি তিনি। চারপাশে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও তার দোকানে বিক্রি ছিল খুবই কম। দিনের শেষে মাত্র প্রায় এক হাজার মেক্সিকান পেসোর খেলনা বিক্রি করতে পেরেছিলেন বলে একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরদিন সকালে দোকান গুটানোর সময় তাকে হতাশ অবস্থায় দেখতে পান সাংবাদিক মার্কো মানসেরা। কথা বলার একপর্যায়ে হুয়ানিতো তার আর্থিক সংকট ও স্ত্রীর অসুস্থতার কথা জানান। এরপর সাংবাদিক তার পরিস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি তুলে ধরেন এবং মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে হুয়ানিতোর গল্প দেখে সেলাইয়ার মানুষজন তার দোকানে আসতে শুরু করেন। কেউ খেলনা কিনেছেন, কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছেন, আবার কেউ শুধু তাকে উৎসাহ দিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় আগের দৃশ্য। একের পর এক মানুষ খেলনা কিনতে থাকায় তার দোকানের পণ্য দ্রুত কমে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আজতেকা বাজিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তার প্রায় পুরো পণ্যই বিক্রি হয়ে যায়। শুধু খেলনা কেনাই নয়, অনেকেই হুয়ানিতোর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে আর্থিক সহায়তা ও উৎসাহ দেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে এমনকি কয়েকজন ট্রাফিক কর্মকর্তারও তার সঙ্গে দেখা করে অর্থসহায়তা দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। হুয়ানিতোর গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানো নাগরিকদের প্রশংসা করেন এবং বয়স্ক মানুষের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান। একটি ব্যর্থ বিক্রির দিন শেষ পর্যন্ত সেলাইয়ার মানুষের সম্মিলিত সহায়তার ঘটনায় পরিণত হয়। ৮১ বছর বয়সী হুয়ানিতোর ছোট্ট খেলনার দোকান হয়তো বড় কোনো ব্যবসা ছিল না, কিন্তু তার গল্প সামাজিক মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যে সহমর্মিতা তৈরি করেছে, সেটিই হয়ে উঠেছে দিয়া দে রেয়েসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিরোধ ও সমালোচনার মধ্যে এই দুই দেশের সমর্থন পেলেন ইনফান্তিনো। একই সময়ে ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় ফুটবল সংস্থার মধ্যে মতবিরোধও তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন নিজেদের আঞ্চলিক কনফেডারেশনের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থা কনকাকাফ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ফিফার ২১১ সদস্যের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে কোনো প্রক্রিয়াকে তারা স্বীকৃতি বা অনুমোদন করবে না। মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর আহ্বানের সঙ্গে একমত হয়ে ২১১ সদস্য সংস্থার স্বার্থে সম্মিলিতভাবে ফুটবলের উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চায়। ফেডারেশনটি বলেছে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে ফুটবলের উন্নয়নে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে তারা সমর্থন করছে। এদিকে বৃহস্পতিবার আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সর্বসম্মতভাবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনও ইউরোপীয় ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার সংস্থাগুলোর অবস্থানের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনও বৃহস্পতিবার এমন যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে ফিফার ২১১ সদস্যের ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন একই অবস্থান প্রকাশ করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে রাবাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যতের একটি অংশ বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে তৈরি বিতর্কের জন্য সদস্যদের কাছে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিতর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি। এই বিতর্ক আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি হওয়ার প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলেছে। দুই মাস আগেও তার পুনর্নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে হলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তবে মার্চের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো স্পষ্ট প্রার্থী এখনো সামনে আসেননি। এর মধ্যেও তিনি উল্লেখযোগ্য সমর্থন ধরে রেখেছেন। ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বৃহস্পতিবার ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইনফান্তিনোকে দেওয়া এক চিঠিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত ১০ বছরে ফিফার কাজের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তাদের মতে, এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও পরিষ্কার শাসনব্যবস্থার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্বীকার করেছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবটি নিশ্চিততার তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং এতে ভুলও হয়েছে। তাদের মতে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ হলো আগামী বছরের কংগ্রেসের আগে ফিফার নেতৃত্বে কাজ চালিয়ে যাওয়া। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন এর আগে ফিফার পক্ষ থেকে বারবার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংলাপের পথে না যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। একই সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ফিফায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য চালু করা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। এদিকে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর আগে ইংল্যান্ড ও আলবেনিয়ার ফুটবল ফেডারেশনও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। ক্রোয়েশিয়ার ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আলোচনার পর অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর প্রস্তাবটি শুধু পরিচালনাগত ব্যর্থতা নয়, বরং সভাপতির ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার। অন্যদিকে ফিফা জানিয়েছে, বাণিজ্যিক স্বত্বের প্রস্তাব নিয়ে নেওয়া সব পদক্ষেপ তাদের নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ভুলগুলো পরিচালনাগত নিয়ম ভঙ্গের কারণে নয়; বরং প্রক্রিয়া ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল। সূত্র: রয়টার্স
মেক্সিকো থেকে আমদানি করা তাজা হ্যালোপিনো মরিচের সঙ্গে যুক্ত সালমোনেলা প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৪৫ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচগুলো মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চল থেকে উৎপাদিত এবং কোস্ট সিট্রাস ডিস্ট্রিবিউটরসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, পাইকারি বিক্রেতা ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এখন সংশ্লিষ্ট পণ্য রিকল করছে এবং যেসব গ্রাহকের কাছে মরিচ পৌঁছেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অসুস্থতা শুরু হয়েছে ১৯ জুন থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে। তদন্তকারীরা ১৯১ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে ১৭৭ জন, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ, অসুস্থ হওয়ার আগে কোনো না কোনো মেক্সিকান-স্টাইল রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব রেস্টুরেন্টের মধ্যে চিপোটলে মেক্সিকান গ্রিল ও কিউডোবার নামও এসেছে। তবে এফডিএ ও সিডিসি জানিয়েছে, চিপোটলে ও কিউডোবা বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য চলমান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। চিপোটলে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী তাদের হ্যালোপিনো সরবরাহকারী পরিবর্তন করেছে। কিউডোবা ২৮ জুলাই থেকে হ্যালোপিনো পরিবেশন বন্ধ করেছে এবং তাদের সব রেস্টুরেন্টে বর্তমানে এই মরিচ সরবরাহ স্থগিত রয়েছে। তদন্তে চিপোটলে ও কিউডোবার বিভিন্ন লোকেশনে ২৭টি অসুস্থতার ক্লাস্টার শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তরা হ্যালোপিনোর পাশাপাশি লাল পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও অ্যাভোকাডো খাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে ট্রেসব্যাক তদন্তে সিনালোয়ার একটি সাধারণ উৎপাদন উৎস থেকে আসা **হ্যালোপিনো**কেই সম্ভাব্য মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এফডিএ রেস্টুরেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিকল করা হ্যালোপিনো বিক্রি বা পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছে। যেসব পাত্র, কাউন্টার বা রান্নাঘরের সরঞ্জাম এসব মরিচের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মরিচের উৎস নিশ্চিত না হলে সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো যাচাই করছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচ কোনো গ্রোসারি স্টোরে সরাসরি বিক্রি হয়েছিল কি না। প্রাথমিকভাবে এগুলো মূলত রেস্টুরেন্ট ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়েছিল। বাড়িতে থাকা হ্যালোপিনোর উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা না খেয়ে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। সালমোনেলায় আক্রান্ত হলে সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটব্যথা দেখা দেয়। জীবাণু শরীরে প্রবেশের ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হতে পারে এবং বেশির ভাগ মানুষ চার থেকে সাত দিনের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে অসুস্থতা গুরুতর হতে পারে। তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, অতিরিক্ত বমি বা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার বা হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে সিডিসি। তদন্ত চলমান থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ও রিকলের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
মাসের পর মাস অনলাইনে কথা বলার পর অবশেষে প্রেমিকের সঙ্গে প্রথমবার দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায় যান এক তরুণী। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত সেই সাক্ষাতের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পরই শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণ হারান তার প্রেমিক। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ওই তরুণীর অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, "lobita_xx94" নামে পরিচিত ওই তরুণী গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে ফুল ও উপহার নিয়ে তাকে স্বাগত জানান তার প্রেমিক ভিক। দীর্ঘদিনের ভার্চুয়াল সম্পর্ক সেদিনই প্রথম বাস্তবে রূপ নেয়। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তরুণীর দাবি, সাক্ষাতের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে শক্তিশালী দ্বৈত ভূমিকম্প। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই ঘটনায় ভিক নিহত হন, আর তিনি নিজে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন। ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তরুণী লিখেছেন, "জীবন আমাদের একসঙ্গে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল।" এই একটি বাক্যই যেন তাদের অসমাপ্ত ভালোবাসার পুরো গল্প তুলে ধরে। বহুদিনের অপেক্ষার পর যে সম্পর্ক বাস্তবে শুরু হয়েছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে শেষ হয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার এই অভিজ্ঞতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ভালোবাসা, ভাগ্য এবং জীবনের অনিশ্চয়তার এক হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার ব্যক্তিগত বর্ণনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পে প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করলেও, তরুণীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো কখনো কখনো সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, বরং অনুভূতির গভীরতায় মাপা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে শৈশবে এসে বেড়ে ওঠা এবং ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস কর্মসূচির সুরক্ষায় বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি থাকা টেক্সাসের এক মা এবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, বৈধ সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও তাকে অবৈধভাবে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর পরে সেই বহিষ্কারকেই অজুহাত দেখিয়ে তার ডিএসিএ মর্যাদা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী জেসিকা ত্রেভিনো টেক্সাসে সাত বছর বয়সে আসেন এবং পরে ডিএসিএ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। তার বর্তমান ডিএসিএ অনুমোদনের মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ ছিল। তবে গত মার্চে তাকে এবং তার স্বামীকে মেক্সিকোতে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তারা মেক্সিকোর মাতামোরোসে অবস্থান করছেন, আর তাদের তিন সন্তান, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, টেক্সাসে স্বজনদের কাছে রয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা পরে তাকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে জানায়, তিনি "অননুমোদিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন", এই কারণ দেখিয়ে তার ডিএসিএ সুবিধা বাতিল করা হবে। ত্রেভিনোর আইনজীবীর ভাষ্য, সরকারই যখন তাকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করেছে, তখন সেই ঘটনাকেই আবার ডিএসিএ বাতিলের কারণ হিসেবে দেখানো আইনি ও যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, ত্রেভিনো স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং আপিলের অধিকার ত্যাগ করেছিলেন। তবে ত্রেভিনো এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখনোই স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে রাজি হননি এবং কোনো নথিতে স্বাক্ষরও করেননি। ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ত্রেভিনো তার ডিএসিএ মর্যাদা পুনর্বহাল, বহিষ্কারকে অবৈধ ঘোষণা এবং তাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছেন। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ডিএসিএ সুবিধাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ডিএসিএ কর্মসূচি ২০১২ সালে চালু হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অবস্থায় আসা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী অভিবাসীদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা এবং কাজের অনুমতি দেয়। তবে এই কর্মসূচি স্থায়ী নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা প্রদান করে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও টেক্সাসের এক মাকে মেক্সিকোতে জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারের পক্ষ থেকে সেই নির্বাসন প্রক্রিয়ার কারণকেই এখন ‘অবৈধ ভ্রমণ’ আখ্যা দিয়ে তার ড্যাকা (DACA) বা বৈধভাবে থাকার অনুমতি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেসিকা ট্রেভিনো নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই নারী এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে চলতি সপ্তাহে তার আইনজীবীর মাধ্যমে একজন ফেডারেল বিচারকের হস্তক্ষেপ কামনা করে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ টেক্সাসের একটি হোম ডিপোর পার্কিং লট থেকে জেসিকা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে ফেডারেল এজেন্টরা। সে সময় তাদের দুই মেয়েও সাথে ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাদের মেক্সিকোর মাতামোরোসে নির্বাসিত করা হয়। অথচ তাদের তিন সন্তানই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং বর্তমানে মার্কিন ভূখণ্ডে আত্মীয়দের কাছে অবস্থান করছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা জেসিকা ২০ বছর বয়সে 'ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস' বা ড্যাকা কর্মসূচির আওতায় বৈধভাবে থাকার অনুমতি পান। ২০১২ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, সুবিধাভোগীদের পরিচ্ছন্ন অপরাধমূলক রেকর্ড বজায় রাখতে হয় এবং তারা সাধারণত বিনা অনুমতিতে দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে পারেন না। জেসিকার আইনজীবীর মতে, তার এই বৈধ স্ট্যাটাস ও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অনুমোদিত ছিল। গত সপ্তাহে মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জেসিকাকে একটি নোটিশ পাঠায়, যেখানে ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ তার ‘অবৈধভাবে দেশের বাইরে ভ্রমণ’-এর কারণ দেখিয়ে ড্যাকা স্ট্যাটাস বাতিলের কথা বলা হয়। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ঠিক একই দিনে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) তাকে মেক্সিকোতে নির্বাসিত করেছিল। ডিএইচএস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গ্রেপ্তারের সময় জেসিকার স্বামী অবৈধভাবে দেশে অবস্থান করছিলেন এবং গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একটি আনমার্কড হোমল্যান্ড সিকিউরিটি যানের সাথে তাদের গাড়ির ধাক্কা লাগার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, জেসিকা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে রাজি হয়েছিলেন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেসিকা জানিয়েছেন, তিনি ডিটেনশন সেন্টারে কোনো ফর্মে স্বাক্ষর করেননি এবং তিনি কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে চাননি। জেসিকার আইনজীবী ডেভিড রোজাস ব্রাউনসভিলের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা আবেদনে এই নির্বাসনকে বেআইনি ঘোষণার পাশাপাশি জেসিকাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার ড্যাকা স্ট্যাটাস পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। আগামী মাসে জেসিকার সন্তানদের স্কুল শুরু হতে যাচ্ছে, আর সেই মুহূর্তে একজন মায়ের কাছে নিজের সন্তানদের পাশে থাকার চেয়ে বড় আর কোনো চাওয়া নেই বলে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে জানান। ইমিগ্রেশন রাইটস নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফরোয়ার্ড ডট আস (FWD.us)-এর প্রেসিডেন্ট টড শুল্টে জানান, বর্তমান প্রশাসন সুপরিকল্পিতভাবে ড্যাকা কর্মসূচি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ, যেখানে সুবিধাভোগীদের একে একে টার্গেট করে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে অযৌক্তিক আইনি কারণ দাঁড় করিয়ে তাদের সন্তানদের কাছ থেকে চিরতরে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে।
মেক্সিকোর পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের সান হোসে মিয়াহুয়াতলান শহরে এক বাবার ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ি বা লিমুজিনের পরিবর্তে ফুল ও বেলুনে সাজানো নিজের সাইকেলেই মেয়ে ক্রিস্টিনা ভেনেসা কাচো সিলভাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেন বাবা হুয়ান কার্লোস কাচো। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাদা বিয়ের পোশাক পরে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে সাইকেলের পেছনের ক্যারিয়ারে বসেছিলেন কনে। সামনে বসে সাইকেল চালাচ্ছিলেন তার বাবা। বিশেষ দিনের জন্য তিনি নিজের কালো সাইকেলটি সাদা ফুল ও বেলুন দিয়ে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন, যেন সেটি ছোট্ট একটি বিয়ের রথে পরিণত হয়েছে। বাবা-মেয়ের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শহরের বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পথচারীরা দাঁড়িয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান, আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিগুলো মেক্সিকোজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, হুয়ান কার্লোস কাচোর ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না। তাই তিনি ভাড়া করা গাড়ির পরিবর্তে নিজের সাইকেলটিকেই সাজিয়ে মেয়েকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় সিভিল রেজিস্ট্রিতে ক্রিস্টিনা ভেনেসা কাচো সিলভা ও মিগুয়েলের বিয়ে সম্পন্ন হয়। উপস্থিত অতিথিরা বাবার এই উদ্যোগকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। অনেকেই মন্তব্য করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে—একজন বাবার ভালোবাসার কাছে বিলাসিতা নয়, আন্তরিকতাই সবচেয়ে বড় উপহার।
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জোকালো চত্বরের অদূরে সশস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকে ‘সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণ’ হিসেবে দেখছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয়ের তথ্যমতে, বেলিসারিও দোমিঙ্গেস ও রিপুবলিকা দে ব্রাসিল সড়কের সংযোগস্থলে মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তিন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত দুই ব্যক্তি, দুজনেরই বয়স ৩৯ বছর, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পরপরই মোটরসাইকেলে করে সন্দেহভাজন হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রের একটি ব্যস্ত এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে জাল নথি তৈরি ও বিক্রির জন্য পরিচিত। যদিও মেক্সিকো সিটির কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে, রাজধানীর পর্যটন ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের এত কাছে এ ধরনের প্রকাশ্য বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। কর্তৃপক্ষ এখনও হামলার উদ্দেশ্য বা নিহত-আহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটিকে পূর্বপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।