বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টয়োটা’ তাদের জনপ্রিয় ‘টাকোমা’ পিকআপ ট্রাকের সিংহভাগ উৎপাদন মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানি এই অটোমোবাইল জায়ান্ট আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও কারখানায় ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৬০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। মেক্সিকোর টিজুয়ানা কারখানা থেকে এই উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করতে প্রায় ৪ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার মধ্যকার উত্তর আমেরিকান বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন করতে ওয়াশিংটন অস্বীকৃতি জানানোর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় টয়োটার পক্ষ থেকে এই বড় ঘোষণা এল। এর আগে গত নভেম্বর মাসেই টয়োটা জানিয়েছিল যে, আগামী ৫ বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। টয়োটার দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন এই বিনিয়োগের ফলে স্যান অ্যান্টোনিওর কারখানায় দ্বিতীয় একটি অ্যাসেম্বলি বা গাড়ি সংযোজন লাইন তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে সেখানে ২ হাজারেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা আরও ১ লাখ ৫০ হাজার ইউনিট বৃদ্ধি পাবে। অবশ্য মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো কারখানায় অল্প কিছু টাকোমা ট্রাকের উৎপাদন আগের মতোই চালু থাকবে। বর্তমানে স্যান অ্যান্টোনিও কারখানায় ‘টুন্ড্রা’ পিকআপ এবং ‘সেকোয়া’ এসইউভি তৈরি করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক আমদানি করা গাড়ি, স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক বা ট্যারিফ বৃদ্ধি করার কারণে টয়োটার মতো বড় বড় বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতারা এখন তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা মেক্সিকো থেকে সরিয়ে সরাসরি আমেরিকার মাটিতে নিয়ে আসছে। এতদিন পর্যন্ত মার্কিন ও বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো সস্তা শ্রম এবং বাণিজ্য সুবিধার কারণে মেক্সিকোতে প্রচুর গাড়ি তৈরি করত। যদিও বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিটি আরও ১০ বছর কার্যকর থাকার কথা, তবুও ওয়াশিংটন গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে এই চুক্তিটি এখন থেকে প্রতি বছর পুনর্বিবেচনা বা রিভিউ করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলেই মূলত বড় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে উত্তর আমেরিকার বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাণিজ্য জটিলতার দ্রুত সমাধান আশা করছে টয়োটা কর্তৃপক্ষ।
মেক্সিকোতে চিকিৎসা খাতের বৈষম্য দূর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম। তিনি দেশটিতে ‘ইউনিভার্সাল হেলথ সার্ভিস’ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা চালুর ঘোষণা দিয়ে একটি সরকারি ডিক্রি জারি করেছেন। এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মেক্সিকোর প্রধান তিনটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা—আইএমএসএস (IMSS), আইএসএসএসটিই (ISSSTE) এবং আইএমএসএস-বিয়েনস্তার (IMSS-Bienestar)-কে একটি একক ও সমন্বিত জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। এই কার্যক্রমকে সহজ করতে সরকার ইতিমধ্যেই ‘ইউনিভার্সাল হেলথ ক্রেডেনশিয়াল’ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া শুরু করেছে, যা প্রাথমিকভাবে প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই এই কার্ডের জন্য ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এই একটি মাত্র ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে মেক্সিকোর ১৩ কোটি নাগরিক তাদের আগের বীমা বা ইন্সুরেন্স স্ট্যাটাস নির্বিশেষে যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি পুরো দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মেডিকেল রেকর্ড সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই ঘোষণাকে একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখা হলেও, এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে জরুরি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার মাধ্যমে এই সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে সমালোচক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতেও মেক্সিকোতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু বাজেট ও সম্পদের ঘাটতির কারণে তা সফল হয়নি। শিনবাউমের এই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার মূল সাফল্য নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ এবং হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর, যাতে করে ভবিষ্যতে হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় বা ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি না হয়। মেক্সিকোর এই বিশাল সমাজতান্ত্রিক চিকিৎসা বিপ্লবের পর এখন বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) মতো উন্নত দেশেরও কি একই ব্যবস্থা অনুসরণ করে নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা উচিত? আমেরিকার বর্তমান চড়া চিকিৎসা ব্যয়ের বাজারে এই বিতর্ক নতুন করে মোড় নিয়েছে।
উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে মাঝারি মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ০। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল এল প্রোগ্রেসো থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। কম্পনটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হতে পারে। ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর এলাকায় এই ভূমিকম্পটি ঘটে। যদিও কম্পনের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর মধ্যে অবস্থান করায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে থাকে। ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনও এখানে অস্বাভাবিক নয়। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে—প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে ‘ডাবলেট’ বলা হয়, যা একই এলাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় সমমাত্রার দুটি ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়াকে বোঝায় এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৪ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ৯৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যা বৈশ্বিকভাবে ভূমিকম্পের তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় রেডউড ভ্যালির কাছেও ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মেনডোসিনো কাউন্টিতে অবস্থিত এর কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫ মাইল নিচে ছিল বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনার পেছনে ভূত্বকের স্বাভাবিক গতিশীলতা কাজ করলেও, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
মেক্সিকোর জনপ্রিয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভালার্তার একটি সমুদ্রসৈকতে কুমিরের হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে হামলার পর একটি বিশাল কুমিরকে সৈকতের কাছে মুখ হা করে থাকতে দেখা যায়। জালিসকো অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি মেক্সিকোর নাগরিক। কাজের সূত্রে তিনি পুয়ের্তো ভালার্তায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেরিনা ভালার্তা সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় কাছের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা পর্যটক জেমি ইয়েটার, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি এবং ইয়েটারের কিশোরী মেয়ে। জেমি ইয়েটার জানান, হোটেলের সুইমিংপুলের পাশে বসে থাকার সময় তারা সৈকতের দিক থেকে চিৎকার শুনতে পান। প্রথমে তাদের ধারণা হয়েছিল, একজন ব্যক্তি সমুদ্রের প্রবল স্রোতে আটকা পড়েছেন। তিনি বলেন, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি দ্রুত সৈকতের দিকে ছুটে গিয়ে বৈঠাবিহীন একটি কায়াকে উঠে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। ক্রিস বুরি বলেন, সৈকতে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম ছিল না। তারা যা সম্ভব হয়েছে, তা দিয়েই সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি কায়াকে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিরটি ওই ব্যক্তিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।তাদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর জেমি ইয়েটার অভিযোগ করেন, সৈকতে কুমিরের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যটকদের যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি। তিনি বলেন, সৈকতের পাশে জেলিফিশ, স্টিংরে মাছ ও কুমিরের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল। তবে তারা কুমিরের প্রতীকটিকে প্রথমে ইগুয়ানার ছবি বলে ভুল করেছিলেন। তার দাবি, কেউ তাদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করেননি। এমনকি পরদিন সকালেও সৈকতটি খোলা ছিল এবং সেখানে সাঁতার কাটতে মানুষকে দেখা গেছে। সৈকত বন্ধ ছিল না, কিংবা কোথাও সাঁতার নিষিদ্ধের কোনো সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি। ঘটনার পরও শনিবার সকালে একই সৈকতে বহু মানুষকে সমুদ্রে নামতে দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই সেখানে সাঁতার কাটছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নাইলস টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২১৯-এর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মেক্সিকোতে শিশু পর্নোগ্রাফি বহনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ইলিনয়ের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী টমাস নিল গত ১৭ জুন শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মেক্সিকো সিটির বেনিটো জুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর মেক্সিকান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বিতীয় ধাপের তল্লাশিতে তার মোবাইল ফোনে শিশু পর্নোগ্রাফির অসংখ্য ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। মেক্সিকো সীমান্তরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তার ফোন এবং লাগেজ বাজেয়াপ্ত করে। তল্লাশিতে তার লাগেজের ভেতর থেকে দুটি ল্যাপটপ এবং ছয়টি ইলেকট্রনিক স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে ওই লাগেজসহ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের জর্জ বুশ আন্তঃমহাদেশীয় বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়। হিউস্টনে পৌঁছানোর পরপরই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের গোয়েন্দারা নিলের ফোনে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে শিশু পর্নোগ্রাফির শত শত ফাইলের সন্ধান পান বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। অভিযুক্ত টমাস নিল যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ইলিনয়ের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২১৯-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার তারা এই অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং চলমান তদন্তে কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। এক বিবৃতিতে ওই মুখপাত্র বলেন, "তদন্তাধীন ওই কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট ২১৯ যেকোনো কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং স্কুল কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখতে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।" অভিযুক্ত টমাস নিল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ২৯ জুন তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিশু পর্নোগ্রাফি বহনের এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ফেডারেল কারাগারে ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত সাজা ভোগ করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে মেক্সিকো সিটিতে আসা এক নিখোঁজ সমকামী যুগল বা দুই সঙ্গীর মরদেহ মেক্সিকোর রাজধানী সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মে মাসে মেক্সিকো সিটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই দুই ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত সপ্তাহে তাদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার। এই ঘটনাটি মেক্সিকোতে চলমান অপরাধমূলক সহিংসতার এক নির্মম চিত্র আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। নিখোঁজ হওয়া এই দুই ব্যক্তি হলেন ৫৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জাফর পাদামিস মাওয়ানি এবং তার সমবয়সী সঙ্গী গুইলারমো জাফেট হিদালগো ওরতিজ। তারা দুজনেই শিকাগো এবং মেক্সিকো সিটিতে বসবাস করতেন। মেক্সিকান পুলিশ এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পাহাড়ি অঞ্চলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা চারটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাফর মাওয়ানির অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্যই এই দুই সঙ্গী মেক্সিকোতে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিলেন। মে মাসে তারা নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছিল শিকাগোর স্থানীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই সূত্র ধরেই মেক্সিকান এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তাদের উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে বুধবার মেক্সিকোর জাতীয় প্রশাসন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে। জাফরের পরিবারের মুখপাত্র কেট টেইলর এক বিবৃতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর সরকারি নিখোঁজ বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি যেখানে নিখোঁজ হয়েছিলেন সেই স্থানটি লা মার্কেসা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত তা এখনও প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে অপরাধমূলক সহিংসতার কারণে বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার কিছুটা কমলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত মে মাসেই দেশটিতে নতুন করে ৯৭৭ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে মেক্সিকোতে বিশ্বব্যাপী ফুটবল বিশ্বকাপ চলার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তারা নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করছেন। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অভিযোগ হলো, নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিদেশি নাগরিক হলে প্রশাসন যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, দেশের সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা দেখা যায় না।
ফিফা বিশ্বকাপের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার আজীবনের স্বপ্ন ছিল ৮৯ বছর বয়সী চিকো মেন্ডেজের। দাদার সেই স্বপ্ন পূরণে ৬ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচের টিকিট কিনেছিলেন ২৬ বছর বয়সী নাতনি পাওলা হার্নান্দেজ। কিন্তু স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে গিয়ে সেই আনন্দ রূপ নেয় চরম হতাশায়। টিকিট সংক্রান্ত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামেই ঢোকা হয়নি তাঁদের। মেক্সিকোর গুয়াদালাজারার একটি হোটেল থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেদের এই হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন পাওলা। পাওলা জানান, প্রিয় দলের খেলা দেখতে ম্যাচের দিন সকালেই তাঁরা গুয়াদালাজারায় পৌঁছান এবং উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে খেলা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা আগেই জাপোপানের এস্তাদিও আকরন স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হন। জনপ্রিয় টিকিট রিসেল প্ল্যাটফর্ম ‘স্টাবহাব’ থেকে ৬ হাজার ডলারে কেনা টিকিটগুলো অ্যাপে লোড না হওয়ার পরই মূলত সমস্যার সূত্রপাত হয়। পাওলা জানান, পেমেন্ট সফল হওয়ার মেসেজ এলেও টিকিটগুলো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভেবে স্টাবহাবের কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে তাঁকে বলা হয়, ফিফা অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট ট্রান্সফার করতে বিক্রেতার কিছুটা সময় প্রয়োজন, তাই হাফটাইম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রতীক্ষিত টিকিট আর কখনোই তাঁদের হাতে আসেনি। মাঠের ভেতর ৪৫ হাজার ৫২২ জন দর্শকের গগনবিদারী উল্লাস যখন বাইরে ভেসে আসছিল, ঠিক তখনই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় স্টেডিয়ামের বাইরে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন মেক্সিকোর জার্সি, জ্যাকেট ও টুপি পরিহিত ৮৯ বছরের মেন্ডেজ। এই দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি নাতনি পাওলা। স্টেডিয়ামের বাইরে মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে দাদার খেলা দেখার সেই করুণ দৃশ্যটি ভিডিও করে টিকটকে শেয়ার করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এটি দেখেন। নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্টাবহাবকে এর দায়ভার নেওয়ার জোর দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত স্টাবহাব পাওলার পুরো অর্থ ফেরত দেয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্বকাপের পরবর্তী যেকোনো একটি ম্যাচের টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে মেক্সিকোর পরবর্তী ম্যাচগুলো মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অবস্থার কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পাওলা। তিনি জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ওই শহরে গেলে তাঁর দাদার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। স্টাবহাব কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করলেও একজন বৃদ্ধের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা হয়তো আর কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষকের এক অবিশ্বাস্য ভুলের সুযোগ নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। শুক্রবার (১৯ জুন) এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথও সুগম করেছে মেক্সিকানরা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল দেখা যায়। তবে খেলার ভাগ্য নির্ধারণ হয় দ্বিতীয় হাফের ৫০তম মিনিটে। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লি কি-হিউকের মাথার ওপর দিয়ে আসা একটি লুপ হেড বল লুফে নিতে যান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। কিন্তু সতীর্থ ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার কনুইয়ে চোট পান এবং হাত থেকে বলটি ফসকে যায়। একদম সামনে থাকা মেক্সিকান ফরোয়ার্ড লুইস রোমো এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। দেশের হয়ে ৬৪তম ম্যাচে এটি রোমোর পঞ্চম আন্তর্জাতিক গোল। ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল অসাধারণ দক্ষতায় চো গুয়ে-সুং-এর হেড এবং ইয়াং হিউন-জুনের ফিরতি শট রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, "এটি বেশ কৌশলী একটি ম্যাচ ছিল, যা দর্শকদের জন্য উপভোগ করা কিছুটা কঠিন ছিল। তবে এই জয় আমাদের দলের পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। শেষ মুহূর্তের সেই আক্রমণটি বাদ দিলে পুরো ম্যাচ আমরা খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করেছি।" এদিকে প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও এই হারের পর কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ড্র করতে পারলেই তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো বলেন, "আজকের ফলাফল হতাশাজনক। গোলরক্ষকের ভুলটি দুর্ভাগ্যজনক ছিল, তবে আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। পরবর্তী ম্যাচের জন্য আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।"
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একটি বিতর্কিত খনি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের জেরে দক্ষিণ কোরিয়ান এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা শহরে বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশবাদী সংগঠন 'মাইটি আর্থ'-এর ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে ‘নোংরা স্টিল সরবরাহ চেইনের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। হুন্দাই মূলত দক্ষিণ আমেরিকার খনি কোম্পানি 'টার্নিয়াম' থেকে ইস্পাত তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ আকরিক লোহা কেনে। এই টার্নিয়াম কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি মেক্সিকোর দুজন মানবাধিকার কর্মীকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং মেক্সিকোর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নিখোঁজ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের দাবিতে গুয়াদালাজারার প্লাজা দে লা লিবেরাসিওনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে টার্নিয়াম কোম্পানির গ্রামীণ এলাকা ধ্বংসের নীতির তীব্র সমালোচনা করার পর গুয়াদালাজারা থেকে দুজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তারা হলেন—বিখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী রিকার্ডো আরতুরো লাগুনেজ গাসকা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা আন্তোনিও দিয়াজ ভ্যালেন্সিয়া। খনি বিরোধী এক সভা থেকে ফেরার পথে তারা নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি মহাসড়কের পাশে গুলিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আন্দোলনকারীরা হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে 'স্পোর্টসওয়াশিং' বা খেলাধুলার আড়ালে অপরাধ ঢাকার অভিযোগ এনেছেন এবং টার্নিয়াম কোম্পানিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর দাবি তুলেছেন। হুন্দাই এবং কিয়া বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার হিসেবে কাজ করছে। তারা খেলোয়াড়, রেফারি এবং কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে প্রায় ১ হাজার গাড়ি এবং ৫০০টিরও বেশি বাস সরবরাহ করেছে। বিশ্বকাপের মেক্সিকো অংশে এই বিক্ষোভ বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচের দিনও মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামের বাইরে আন্দোলনরত শিক্ষকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলেন। অবশ্য টার্নিয়াম মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই গুমের ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা সবসময় আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে এই বিক্ষোভের বিষয়ে হুন্দাই কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মেক্সিকোর টিজুয়ানায় একটি স্টেডিয়ামের বাইরে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে স্টেডিয়ামে বর্তমানে ইরান জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করছে, তার অদূরেই এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় গাড়ির ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে লাশে গুরুতর সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে এমন ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চলছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে প্লাস্টিকে মোড়ানো মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনার পর ইরান জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা মাদক কার্টেলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকার জন্য এক ঐতিহাসিক আয়োজন। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আয়োজন করছে। তবে এই আয়োজন কেবল ক্রীড়াঙ্গনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং তিন প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। ১৬টি শহর ও তিনটি দেশের বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ এমন এক সময়ে আয়োজন করা হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তিন দেশের নেতাদের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি সহযোগিতার একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও ৩৯ দিনের দীর্ঘ টুর্নামেন্ট পরিচালনা এবং লাখো দর্শনার্থীর যাতায়াত নিশ্চিত করা বাস্তবে আরও জটিল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর আমেরিকার প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি, অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান তিন দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলেছে। মেক্সিকো ও কানাডা, উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। তবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি প্রথম ধাক্কা দেয় এই দুই দেশকেই। কানাডা বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিল ট্রাম্পের সেই মন্তব্যে, যেখানে তিনি দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার বিভিন্ন প্রদেশ দোকান থেকে মার্কিন অ্যালকোহল পণ্য সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে কানাডীয় নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নীতি পরিচালক কার্লো ডেডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ কানাডা ও মেক্সিকোর পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় চীনা বিনিয়োগের প্রবেশপথ হিসেবে মেক্সিকোকে অভিযুক্ত করার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে একদিকে মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাণিজ্য বহুমুখীকরণের পথও খুঁজতে হচ্ছে। এর আগে কখনো বিশ্বকাপ একসঙ্গে তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ২০২৬ সালের এই আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা, পরিবহন, অভিবাসন ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ চলাকালে লাখো সমর্থককে তিন দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য জটিলতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতাও নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল স্পোর্টের ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর লিন্ডসে সারাহ ক্র্যাসনফ বলেন, কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর যৌথভাবে আয়োজন করা মানেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আদর্শ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকবে, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। তিনি ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ এবং ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে বলেন, বড় ক্রীড়া আয়োজন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে পারে, তবে সব সময় রাজনৈতিক সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন ঘটায় না। এদিকে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দেশটির রাজধানীতে বিমানবন্দর অবকাঠামো, যানজটপূর্ণ গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং সংস্কারাধীন অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটিতে চলমান শিক্ষক আন্দোলন ও ধর্মঘট পরিস্থিতিও বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্দোলনকারীরা ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে পারেন। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবম বিশ্বকাপকে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও সক্ষমতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। মেক্সিকান ক্রীড়া সাংবাদিক রাফায়েল পুয়েন্তে বলেন, বিশ্বকাপের আগে দেশটির যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করা উচিত হবে না। তার মতে, দর্শনার্থীদেরও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিশ্বকাপের বাইরেও তিন দেশের সামনে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয় রয়েছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার দীর্ঘদিনের মুক্ত বাণিজ্য কাঠামো পর্যালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় চলছে। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার দিক নির্ধারণ করতে পারে। মেক্সিকো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে। অন্যদিকে কানাডা নতুন বাণিজ্য অংশীদার খুঁজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ অনুসন্ধান করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে তা তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে এই আয়োজন কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সমন্বয় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফুটবলের মতোই এই আয়োজনের পরিণতিও এখনো অনিশ্চিত। আগামী এক মাসে মাঠের খেলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উত্তর আমেরিকাজুড়ে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে মেক্সিকো। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে আয়োজক তিন শহরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ কনডম বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে । মেক্সিকোর তিনটি আয়োজক শহর হলো মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মনতেরে। এসব শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ও পর্যটকের আগমনকে কেন্দ্র করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মূল উদ্দেশ্য হলো মেগা ইভেন্টে ভিড়ের কারণে সম্ভাব্য যৌনবাহিত রোগ যেমন এইচআইভি, সিফিলিস ও গনোরিয়ার সংক্রমণ কমানো এবং অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর, পর্যটন এলাকা, বার, রেস্তোরাঁ এবং ফ্যান জোনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক বুথ ও তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব স্থানে কনডমের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু সামগ্রী বিতরণ নয়, সঠিক তথ্য ও সচেতনতা না থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হয় না। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধিকে কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন দেশে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিম্পিকে অ্যাথলেটদের জন্য নির্দিষ্ট ভিলেজ থাকায় সেখানে এ ধরনের বিতরণ সহজ হয়। তবে বিশ্বকাপে আলাদা প্লেয়ার ভিলেজ না থাকায় মেক্সিকোর এই উদ্যোগ মূলত দর্শক ও পর্যটকদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হবে। এদিকে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো থেকে এ ধরনের কোনো উদ্যোগের ঘোষণা এখনো আসেনি।
ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে মেক্সিকো। ঐতিহাসিকভাবে, শক্তিমত্তায় এবং সাম্প্রতিক ফর্মে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা মেক্সিকো নিজেদের ঘরের মাঠ আজতেকা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে। অন্যদিকে, তিন লাল কার্ডের এই নাটকীয় ম্যাচে দীর্ঘ সময় কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইটি বেশ একপেশে হয়ে ওঠে। ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল, তবে সেবার দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের মাঠে মেক্সিকোকে রুখে দিলেও এবার মেক্সিকোর মাঠে তারা পেরে ওঠেনি। এই জয়ের ফলে আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচে নিজেদের অজেয় থাকার রেকর্ডটি (৬ জয়, ২ ড্র) আরও একবার অক্ষুণ্ণ রাখল হাভিয়ের আগিরের দল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে স্বাগতিকরা। ভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম পার্দোসহ প্রায় ৮৩ হাজার দর্শকের উন্মাদনা স্বাগতিকদের আরও চাঙা করে তোলে। মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেজ গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রোনওয়েন উইলিয়ামসের নৈপুণ্যে সে যাত্রায় বেঁচে যায় সফরকারীরা। তবে গোলের জন্য স্বাগতিকদের খুব বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ম্যাচের ৯ মিনিটেই ডি-বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে এবারের আসরের প্রথম গোলটি করে মেক্সিকোকে এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ২৫ মিনিটে পানি পানের বিরতির পর মেক্সিকো আরও ছন্দময় ফুটবল খেললেও প্রথমার্ধে আর কোনো গোল পায়নি। খেলার মূল নাটকীয়তা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে। ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলতন সাম্পাইয়ো এই ম্যাচে মোট তিনবার লাল কার্ড বের করেন। ৫০ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেসকে ফাউল করে প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়াইয়া সিথোল, যার ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় সফরকারীরা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬৭ মিনিটে দারুণ এক হেডের মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হিমেনেজ। এর ঠিক এক মিনিট আগে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন ১৭ বছর ৪০ দিন বয়সী গিলবার্তো মোরা, যিনি এবারের আসরের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। এরপর ৮৪ মিনিটে টেম্বা জোয়ানেও লাল কার্ড দেখলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপদ আরও ঘনীভূত হয়। তবে শেষ মুহূর্তে খুলিসো মুদাওকে বাজেভাবে ফাউল করে মেক্সিকোর সেজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। যদিও এই ঘটনা ম্যাচের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো।
আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নেমেই নতুন এক ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকোর উইঙ্গার হুলিয়ান কুইনোনাস। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৮ মিনিট, ঠিক তখনই এক নির্ভুল ও দুর্দান্ত স্ট্রাইকে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়ান তিনি। এই এক গোলের মাধ্যমেই কুইনোনাস ভেঙে দিয়েছেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অক্ষত থাকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের রেকর্ড। এক যুগেরও বেশি সময় আগে, ২০১৪ সালের সাও পাওলোর সেই রাতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১১ মিনিটে ব্রাজিলের তারকা মার্সেলোর আত্মঘাতী গোলটি ছিল এতদিন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের তালিকায় সবার ওপরে। মার্সেলোর সেই স্মৃতিকে পেছনে ফেলে আজতেকার গ্যালারি কাঁপিয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন মেক্সিকান এই ফরোয়ার্ড। উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের এই নতুন রেকর্ডটি কুইনোনাস নিজের করে নিলেও, বিশ্বকাপের সর্বকালের দ্রুততম গোলের রেকর্ডের সিংহাসনটি কিন্তু এখনও অনেক দূরের পথ। মেক্সিকান এই উইঙ্গারের গোলটি বর্তমান টুর্নামেন্টে দারুণ শুরুর বার্তা দিলেও, বিশ্বকাপের সর্বকালের দ্রুততম গোলের অনন্য রেকর্ডটির তুলনায় এটি বেশ পিছিয়ে আছে। কুইনোনাসের গোলটি আসতে মূলত ৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড বেশি সময় লেগেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের অবিসংবাদিত রেকর্ডটি এখনও তুরস্কের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার হাকান শুকুরের দখলে। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রেফারির বাঁশি বাজার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে তিনি এক মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়েছিলেন, যা আজও যেকোনো ফুটবলারের জন্য এক অলীক চ্যালেঞ্জ হিসেবে টিকে আছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় পা রাখার আগে কুইনোনাস সৌদি প্রো লিগে কাটিয়েছেন দুর্দান্ত এক মৌসুম। ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। লিগে সর্বোচ্চ ৩৩টি গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন, এমনকি ঘরোয়া লিগের শেষ সপ্তাহেও হ্যাটট্রিক করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের জানান দিয়েছিলেন। সৌদি লিগের সেই অসাধারণ ছন্দের ধারাবাহিকতা কুইনোনাস এবার বজায় রাখলেন মেক্সিকোর জাতীয় জার্সি গায়েও। এবারের বিশ্বকাপের স্বপ্নের মিশনে 'এল ট্রাই'দের আক্রমণভাগে কুইনোনাস এখন আস্থার প্রতীক। মেক্সিকোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের পথে ফরোয়ার্ডদের ফর্মে থাকা যেখানে অপরিহার্য ছিল, সেখানে কুইনোনাস সেই পরীক্ষায় যেন নিজেকে শতভাগ প্রমাণ করেই বিশ্বমঞ্চে হাজির হয়েছেন।
স্টেডিয়ামের ঠিক মাঝখানে জ্বলজ্বল করছে বিশাল এক সোনালি ট্রফি, আর তাকে ঘিরে সোনালি পোশাকের শিল্পীদের নজরকাড়া পরিবেশনা। আজটেক সভ্যতার সোনালি অতীতের ছোঁয়া মেশানো পোশাক ও নাচের অনন্য ঢঙে মেক্সিকান সংগীতশিল্পী লিলা ডাউনস সুরেলা কণ্ঠে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানিয়ে গেয়ে উঠলেন, ‘বিশ্ববাসী, মেক্সিকোয় স্বাগত!’ আর এর মধ্য দিয়েই মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে বেজে উঠল ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের দামামা। রঙিন আবিরে ছেয়ে যায় স্টেডিয়ামের চারপাশ। এই নিয়ে তিনটি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে ইতিহাসের পাতায় প্রথম এবং একমাত্র স্টেডিয়াম হিসেবে নাম লেখাল ফুটবলের এই ‘ক্যাথেড্রাল’। যদিও সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও আলাদাভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে, তবে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের বিচারে বিশ্বকাপের মূল উদ্বোধনটি এখানেই সম্পন্ন হলো। উদ্বোধনী মঞ্চে মেক্সিকোর কিংবদন্তি রক ব্যান্ড ‘মানা’ যখন ‘ওই মি আমোর’ (হে, আমার ভালোবাসা) গানের সুর তোলে, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা দুই হাত প্রসারিত করে তৈরি করেন বিখ্যাত ‘মেক্সিকান ওয়েভ’। এরপর ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওশানের পরিবেশনা এবং মেক্সিকান মিউজিক্যাল গ্রুপ লস অ্যাঞ্জেলস আজুলসের সঙ্গে ফোক ব্যালে পারফরম্যান্সও ছিল বেশ নজরকাড়া। মঞ্চে আসেন কলম্বিয়ান গায়ক জে বলভিনও। তবে দর্শকদের আসল উন্মাদনা শুরু হয় যখন হলুদ, বেগুনি ও সাদা পোশাকে মঞ্চে প্রবেশ করেন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ‘রানি’ শাকিরা। সানগ্লাস চোখে নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়কে সঙ্গী করে তিনি যখন ‘দাই দাই’ গানের সুর ধরেন, তখন গোটা স্টেডিয়াম যেন আনন্দে ফেটে পড়ে। ২০১০ সালের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ খ্যাত শাকিরার জাদুকরী পারফরম্যান্স ছাড়া বিশ্বকাপ যেন সত্যিই অসম্পূর্ণ! শাকিরার সুরের মূর্ছনার পাশাপাশি মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে স্বাগতিক দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বাদ্যযন্ত্র, নাচ-গান আর লাল রঙের আবিরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে ৮০ হাজার আসনবিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামের গ্যালারি। অলিম্পিকের আদলে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের পতাকা হাতে মাঠে প্রবেশ করেন প্রতিনিধিরা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন, তখন দর্শকদের গর্জনে প্রকম্পিত হয় পুরো গ্যালারি। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরের এই সুশৃঙ্খল উৎসবের বিপরীতে মেক্সিকো সিটির ফ্যান জোনগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। অতিরিক্ত ভিড় এবং ধাক্কাধাক্কির কারণে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও, সব মিলিয়ে ফুটবলের এই মহোৎসবের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে গোটা বিশ্ব।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা থেকে সাত সন্তানসহ নিখোঁজ হওয়ার তিন মাসেরও বেশি সময় পর মেক্সিকোতে এক মার্কিন মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মাকালা পেন্ডলি (৩০) ইন্ডিয়ানাপোলিসের বাসিন্দা ছিলেন। সোমবার মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের একটি গ্রামের খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৫৯ জানিয়েছে, এই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় কৌঁসুলি হোর্হে লুইস লাভেন আবরকা জানান, ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাকালা পেন্ডলির মৃতদেহ আট থেকে ১২ ঘণ্টা যাবত ওই খালে পড়ে ছিল। মাথায় ভারী বস্তুর প্রচণ্ড আঘাতে মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হওয়ায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে, অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহের পেজ (GoFundMe) খুলে নিহত মাকালার বোন জেনিফার ল্যাম্বার্ট দাবি করেছেন, তার বোনকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তাকে ধর্ষণ, ছুরিকাঘাত ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মেক্সিকান রাজ্যটির সান ক্রিস্তোবাল দে লাস কাসাস এলাকা থেকে মাকালার সাত সন্তানকেই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিশুদের বাবা জোসেফ জুড বাটলার জুনিয়রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কৌঁসুলি লুইস লাভেন জানিয়েছেন, নারীহত্যার এই বর্বরোচিত ঘটনায় অপরাধীর সর্বোচ্চ ১০০ বছরের কারাদণ্ড দাবি করছেন তারা। এর আগেও বাটলার ডাকাতি, প্রতারণা ও ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং আলাস্কায় তার বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ইন্ডিয়ানার শিশু সেবা বিভাগের একজন কেস ম্যানেজার মাকালা ও তার ১ থেকে ১২ বছর বয়সী ৭ সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রথম জানিয়েছিলেন। ইন্ডিয়ানাপোলিস পুলিশ জানায়, গত মাসে তাদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল এবং মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ শিশুদের হেফাজতে নিলেও পরে তাদের মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়। মাকালার আরেক বোন মৌরিকা ল্যাম্বার্ট জানান, সন্তানদের নিজের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হতে পারে—এমন আতঙ্কে বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে মেক্সিকোতে পালিয়ে গিয়েছিলেন মাকালা। ১৬ বছর বয়স থেকেই বাটলারের সঙ্গে তার একটি 'বিষাক্ত' সম্পর্ক ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মেক্সিকোর আদালতে জমা দেওয়া নথিতে দেখা যায়, গত ২০২৫ সালের আগস্টে মেরিডায় বাটলারের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মাকালা। নিজের বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন জেনিফার। বাটলার এই জঘন্য কাজ করতে পারে তা কখনোই কল্পনা করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই শূন্যতা আর কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কিছুদিন। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্ট। তবে মেক্সিকোর সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই উৎসব বিষাদে রূপ নিচ্ছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টিকিটের অত্যধিক দামের কারণে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা এখন মেক্সিকানদের কাছে কেবল এক দুঃস্বপ্ন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উদ্বোধনী ম্যাচসহ গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মেক্সিকোর বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি এবং সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় টিকিটের এই মূল্য আকাশছোঁয়া। একজন সাধারণ মেক্সিকান শ্রমিকের কয়েক মাসের সম্পূর্ণ বেতন দিলেও একটি টিকিট কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফা যদিও দাবি করেছে যে তারা সর্বনিম্ন ৬০ ডলারের (প্রায় ৭,০০০ টাকা) টিকিটও রেখেছে, তবে সিএনএন-এর অনুসন্ধান বলছে, রিসেল বা পুনরায় বিক্রির বাজারে একেকটি টিকিটের দাম ৩,০০০ ডলার থেকে ১০,০০০ ডলার (প্রায় ৩.৫ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা) পর্যন্ত উঠেছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ফ্রান্সিসকো জাভিয়ের নামের এক সত্তরোর্ধ্ব ফুটবল ভক্ত, যিনি ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন, আক্ষেপ করে বলেন, "এই বিশ্বকাপ আর সাধারণ মানুষের নেই। এটি কেবল ধনীদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিজের দেশে খেলা হওয়া সত্ত্বেও আমি এবার গ্যালারিতে যেতে পারছি না।" উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোতে। অল্প ম্যাচ এবং বিপুল চাহিদার সুযোগ নিয়ে টিকিট সিন্ডিকেট এবং ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং পলিসি সাধারণ ভক্তদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট(আইস)-এর হেফাজতে এক মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭-এ পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে এনেছে। মৃত ব্যক্তির নাম আলেহান্দ্রো ক্যাবরেরা ক্লেমেন্তে (৪৯)। তিনি উইন করেকশনাল সেন্টার -এ আটক ছিলেন। আইস-এর পাঠানো নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযানের পর থেকে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লেমেন্তে এই সময়ের মধ্যে ১৫তম মেক্সিকান নাগরিক, যিনি আটক অবস্থায় মারা গেলেন। মেক্সিকোর কূটনীতিক ভেনেসা কালভা রুইজ এই মৃত্যুগুলোকে “অ্যালার্মিং” ও “অগ্রহণযোগ্য প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা পদ্ধতিগত ব্যর্থতা, পরিচালনাগত দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আইস ডিটেনশন সেন্টারগুলোর পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। এদিকে আইস জানিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু তদন্ত নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।