সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মেক্সিকো

স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই
স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই, তাই নিজের সবকিছু বিক্রি করছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ

মেক্সিকোর সেলাইয়া শহরে ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ স্ত্রীকে চিকিৎসার খরচ জোগাতে খেলনা বিক্রি করতে বসেছিলেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারি ‘দিয়া দে রেয়েস’ উপলক্ষে ব্যস্ত বাজারেও তার খেলনা বিক্রি হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে যখন তিনি দোকান গুটাতে শুরু করেন, তখন স্থানীয় সাংবাদিক মার্কো মানসেরা তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এরপরই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।   মেক্সিকোতে ‘দিয়া দে রেয়েস’ বা ‘তিন রাজা দিবস’ শিশুদের উপহার দেওয়ার একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্য। এই উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাতে সেলাইয়ার বুলেভার্দ আদলফো লোপেস মাতেওস এলাকায় খেলনা বিক্রির অস্থায়ী দোকান বসেছিল। সেখানেই নিজের ছোট্ট দোকান নিয়ে বসেছিলেন ডন হুয়ানিতো।   বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ত্রী অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা ও সংসারের খরচ মেটাতে অর্থের প্রয়োজন ছিল তার। সেই আশায় তিনি নতুন ও ব্যবহৃত কিছু খেলনা কিনে বিক্রির জন্য দোকান সাজিয়েছিলেন। খেলনা কেনার জন্য তিনি আগেই ঋণও নিয়েছিলেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও আশানুরূপ ক্রেতা পাননি তিনি। চারপাশে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও তার দোকানে বিক্রি ছিল খুবই কম। দিনের শেষে মাত্র প্রায় এক হাজার মেক্সিকান পেসোর খেলনা বিক্রি করতে পেরেছিলেন বলে একাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   পরদিন সকালে দোকান গুটানোর সময় তাকে হতাশ অবস্থায় দেখতে পান সাংবাদিক মার্কো মানসেরা। কথা বলার একপর্যায়ে হুয়ানিতো তার আর্থিক সংকট ও স্ত্রীর অসুস্থতার কথা জানান। এরপর সাংবাদিক তার পরিস্থিতি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি তুলে ধরেন এবং মানুষের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান।   ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে হুয়ানিতোর গল্প দেখে সেলাইয়ার মানুষজন তার দোকানে আসতে শুরু করেন। কেউ খেলনা কিনেছেন, কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছেন, আবার কেউ শুধু তাকে উৎসাহ দিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।   কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় আগের দৃশ্য। একের পর এক মানুষ খেলনা কিনতে থাকায় তার দোকানের পণ্য দ্রুত কমে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আজতেকা বাজিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তার প্রায় পুরো পণ্যই বিক্রি হয়ে যায়।   শুধু খেলনা কেনাই নয়, অনেকেই হুয়ানিতোর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে আর্থিক সহায়তা ও উৎসাহ দেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে এমনকি কয়েকজন ট্রাফিক কর্মকর্তারও তার সঙ্গে দেখা করে অর্থসহায়তা দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।   হুয়ানিতোর গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানো নাগরিকদের প্রশংসা করেন এবং বয়স্ক মানুষের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান।   একটি ব্যর্থ বিক্রির দিন শেষ পর্যন্ত সেলাইয়ার মানুষের সম্মিলিত সহায়তার ঘটনায় পরিণত হয়। ৮১ বছর বয়সী হুয়ানিতোর ছোট্ট খেলনার দোকান হয়তো বড় কোনো ব্যবসা ছিল না, কিন্তু তার গল্প সামাজিক মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যে সহমর্মিতা তৈরি করেছে, সেটিই হয়ে উঠেছে দিয়া দে রেয়েসের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। ছবি: সংগৃহীত
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিল মেক্সিকো-আর্জেন্টিনা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিরোধ ও সমালোচনার মধ্যে এই দুই দেশের সমর্থন পেলেন ইনফান্তিনো। একই সময়ে ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় ফুটবল সংস্থার মধ্যে মতবিরোধও তীব্র হয়েছে।   সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন নিজেদের আঞ্চলিক কনফেডারেশনের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থা কনকাকাফ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ফিফার ২১১ সদস্যের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে কোনো প্রক্রিয়াকে তারা স্বীকৃতি বা অনুমোদন করবে না।   মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর আহ্বানের সঙ্গে একমত হয়ে ২১১ সদস্য সংস্থার স্বার্থে সম্মিলিতভাবে ফুটবলের উন্নয়ন চালিয়ে যেতে চায়। ফেডারেশনটি বলেছে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে ফুটবলের উন্নয়নে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে তারা সমর্থন করছে।   এদিকে বৃহস্পতিবার আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সর্বসম্মতভাবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য প্রতিযোগিতা বয়কটের অবস্থানে রয়েছে। এশিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনও ইউরোপীয় ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার সংস্থাগুলোর অবস্থানের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।   দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনও বৃহস্পতিবার এমন যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে ফিফার ২১১ সদস্যের ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন একই অবস্থান প্রকাশ করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে রাবাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ফিফা জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক ভবিষ্যতের একটি অংশ বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে তৈরি বিতর্কের জন্য সদস্যদের কাছে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিতর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংস্থাটি।   এই বিতর্ক আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি হওয়ার প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলেছে। দুই মাস আগেও তার পুনর্নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত বলে মনে হলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তবে মার্চের নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো স্পষ্ট প্রার্থী এখনো সামনে আসেননি। এর মধ্যেও তিনি উল্লেখযোগ্য সমর্থন ধরে রেখেছেন।   ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বৃহস্পতিবার ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইনফান্তিনোকে দেওয়া এক চিঠিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত ১০ বছরে ফিফার কাজের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছে। তাদের মতে, এই সময়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও পরিষ্কার শাসনব্যবস্থার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   তবে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্বীকার করেছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবটি নিশ্চিততার তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং এতে ভুলও হয়েছে। তাদের মতে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ হলো আগামী বছরের কংগ্রেসের আগে ফিফার নেতৃত্বে কাজ চালিয়ে যাওয়া।   দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশন এর আগে ফিফার পক্ষ থেকে বারবার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংলাপের পথে না যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। একই সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় আগে ফিফায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য চালু করা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।   এদিকে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ফেডারেশন ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে। এর আগে ইংল্যান্ড ও আলবেনিয়ার ফুটবল ফেডারেশনও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। ক্রোয়েশিয়ার ফেডারেশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আলোচনার পর অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর প্রস্তাবটি শুধু পরিচালনাগত ব্যর্থতা নয়, বরং সভাপতির ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার। অন্যদিকে ফিফা জানিয়েছে, বাণিজ্যিক স্বত্বের প্রস্তাব নিয়ে নেওয়া সব পদক্ষেপ তাদের নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ভুলগুলো পরিচালনাগত নিয়ম ভঙ্গের কারণে নয়; বরং প্রক্রিয়া ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
হ্যালোপিনো মরিচে ব্যাকটেরিয়া
মেক্সিকোর হ্যালোপিনো মরিচে ভয়াবহ ব্যাকটেরিয়া , যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে অসুস্থ ৩৪৫ জন

মেক্সিকো থেকে আমদানি করা তাজা হ্যালোপিনো মরিচের সঙ্গে যুক্ত সালমোনেলা প্রাদুর্ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৩৪৫ জন অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন  এবং সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন  যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচগুলো মেক্সিকোর সিনালোয়া অঞ্চল থেকে উৎপাদিত এবং কোস্ট সিট্রাস ডিস্ট্রিবিউটরসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, পাইকারি বিক্রেতা ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এখন সংশ্লিষ্ট পণ্য রিকল করছে এবং যেসব গ্রাহকের কাছে মরিচ পৌঁছেছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।   সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অসুস্থতা শুরু হয়েছে ১৯ জুন থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে। তদন্তকারীরা ১৯১ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মধ্যে ১৭৭ জন, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ, অসুস্থ হওয়ার আগে কোনো না কোনো মেক্সিকান-স্টাইল রেস্টুরেন্টে খাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব রেস্টুরেন্টের মধ্যে চিপোটলে মেক্সিকান গ্রিল ও কিউডোবার নামও এসেছে।   তবে এফডিএ ও সিডিসি জানিয়েছে, চিপোটলে ও কিউডোবা বর্তমানে গ্রাহকদের জন্য চলমান ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। চিপোটলে ২০ জুলাই থেকে দেশব্যাপী তাদের হ্যালোপিনো সরবরাহকারী পরিবর্তন করেছে। কিউডোবা ২৮ জুলাই থেকে হ্যালোপিনো পরিবেশন বন্ধ করেছে এবং তাদের সব রেস্টুরেন্টে বর্তমানে এই মরিচ সরবরাহ স্থগিত রয়েছে।   তদন্তে চিপোটলে ও কিউডোবার বিভিন্ন লোকেশনে ২৭টি অসুস্থতার ক্লাস্টার শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তরা হ্যালোপিনোর পাশাপাশি লাল পেঁয়াজ, ধনেপাতা ও অ্যাভোকাডো খাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে ট্রেসব্যাক তদন্তে সিনালোয়ার একটি সাধারণ উৎপাদন উৎস থেকে আসা **হ্যালোপিনো**কেই সম্ভাব্য মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   এফডিএ রেস্টুরেন্ট, ডিস্ট্রিবিউটর ও ফুড সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিকল করা হ্যালোপিনো বিক্রি বা পরিবেশন না করার নির্দেশ দিয়েছে। যেসব পাত্র, কাউন্টার বা রান্নাঘরের সরঞ্জাম এসব মরিচের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মরিচের উৎস নিশ্চিত না হলে সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ এখনো যাচাই করছে, আক্রান্ত হ্যালোপিনো মরিচ কোনো গ্রোসারি স্টোরে সরাসরি বিক্রি হয়েছিল কি না। প্রাথমিকভাবে এগুলো মূলত রেস্টুরেন্ট ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়েছিল। বাড়িতে থাকা হ্যালোপিনোর উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকলে তা না খেয়ে ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি।   সালমোনেলায় আক্রান্ত হলে সাধারণত ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটব্যথা দেখা দেয়। জীবাণু শরীরে প্রবেশের ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হতে পারে এবং বেশির ভাগ মানুষ চার থেকে সাত দিনের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মানুষের ক্ষেত্রে অসুস্থতা গুরুতর হতে পারে।   তিন দিনের বেশি ডায়রিয়া, রক্তমিশ্রিত পায়খানা, ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি জ্বর, অতিরিক্ত বমি বা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার বা হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে সিডিসি। তদন্ত চলমান থাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ও রিকলের পরিধি আরও বাড়তে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রেমিকের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা পরই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায়, পাঁচ ঘণ্টা পরই ভূমিকম্পে প্রাণ গেল প্রেমিকের

মাসের পর মাস অনলাইনে কথা বলার পর অবশেষে প্রেমিকের সঙ্গে প্রথমবার দেখা করতে মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায় যান এক তরুণী। কিন্তু বহু প্রতীক্ষিত সেই সাক্ষাতের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পরই শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণ হারান তার প্রেমিক। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ওই তরুণীর অভিজ্ঞতা ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, "lobita_xx94" নামে পরিচিত ওই তরুণী গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে ফুল ও উপহার নিয়ে তাকে স্বাগত জানান তার প্রেমিক ভিক। দীর্ঘদিনের ভার্চুয়াল সম্পর্ক সেদিনই প্রথম বাস্তবে রূপ নেয়।   কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তরুণীর দাবি, সাক্ষাতের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে শক্তিশালী দ্বৈত ভূমিকম্প। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই ঘটনায় ভিক নিহত হন, আর তিনি নিজে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হন।   ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তরুণী লিখেছেন, "জীবন আমাদের একসঙ্গে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল।" এই একটি বাক্যই যেন তাদের অসমাপ্ত ভালোবাসার পুরো গল্প তুলে ধরে। বহুদিনের অপেক্ষার পর যে সম্পর্ক বাস্তবে শুরু হয়েছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে শেষ হয়ে যায়।   সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার এই অভিজ্ঞতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ভালোবাসা, ভাগ্য এবং জীবনের অনিশ্চয়তার এক হৃদয়স্পর্শী উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তবে তার ব্যক্তিগত বর্ণনার সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পে প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করলেও, তরুণীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো কখনো কখনো সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, বরং অনুভূতির গভীরতায় মাপা হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়া স্বত্তেও মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোয়
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়া স্বত্তেও মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোয়, ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে শৈশবে এসে বেড়ে ওঠা এবং ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস  কর্মসূচির সুরক্ষায় বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি থাকা টেক্সাসের এক মা এবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, বৈধ সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও তাকে অবৈধভাবে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর পরে সেই বহিষ্কারকেই অজুহাত দেখিয়ে তার ডিএসিএ মর্যাদা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    ৩৪ বছর বয়সী জেসিকা ত্রেভিনো টেক্সাসে সাত বছর বয়সে আসেন এবং পরে ডিএসিএ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। তার বর্তমান ডিএসিএ অনুমোদনের মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ ছিল। তবে গত মার্চে তাকে এবং তার স্বামীকে মেক্সিকোতে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তারা মেক্সিকোর মাতামোরোসে অবস্থান করছেন, আর তাদের তিন সন্তান, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, টেক্সাসে স্বজনদের কাছে রয়েছে।    মামলায় দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা পরে তাকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে জানায়, তিনি "অননুমোদিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন", এই কারণ দেখিয়ে তার ডিএসিএ সুবিধা বাতিল করা হবে। ত্রেভিনোর আইনজীবীর ভাষ্য, সরকারই যখন তাকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করেছে, তখন সেই ঘটনাকেই আবার ডিএসিএ বাতিলের কারণ হিসেবে দেখানো আইনি ও যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।   অন্যদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, ত্রেভিনো স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং আপিলের অধিকার ত্যাগ করেছিলেন। তবে ত্রেভিনো এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখনোই স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে রাজি হননি এবং কোনো নথিতে স্বাক্ষরও করেননি।    ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ত্রেভিনো তার ডিএসিএ মর্যাদা পুনর্বহাল, বহিষ্কারকে অবৈধ ঘোষণা এবং তাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছেন। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ডিএসিএ সুবিধাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।    ডিএসিএ কর্মসূচি ২০১২ সালে চালু হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অবস্থায় আসা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী অভিবাসীদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা এবং কাজের অনুমতি দেয়। তবে এই কর্মসূচি স্থায়ী নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা প্রদান করে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
বৈধ স্ট্যাটাস থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকোতে নির্বাসন, পরে ড্যাকা বাতিল; আদালতে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা
বৈধ স্ট্যাটাস থাকা সত্ত্বেও মেক্সিকোতে নির্বাসন, পরে ড্যাকা বাতিল; আদালতে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও টেক্সাসের এক মাকে মেক্সিকোতে জোরপূর্বক নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারের পক্ষ থেকে সেই নির্বাসন প্রক্রিয়ার কারণকেই এখন ‘অবৈধ ভ্রমণ’ আখ্যা দিয়ে তার ড্যাকা (DACA) বা বৈধভাবে থাকার অনুমতি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেসিকা ট্রেভিনো নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই নারী এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে চলতি সপ্তাহে তার আইনজীবীর মাধ্যমে একজন ফেডারেল বিচারকের হস্তক্ষেপ কামনা করে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।   গত ডিসেম্বরে দক্ষিণ টেক্সাসের একটি হোম ডিপোর পার্কিং লট থেকে জেসিকা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে ফেডারেল এজেন্টরা। সে সময় তাদের দুই মেয়েও সাথে ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাদের মেক্সিকোর মাতামোরোসে নির্বাসিত করা হয়। অথচ তাদের তিন সন্তানই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং বর্তমানে মার্কিন ভূখণ্ডে আত্মীয়দের কাছে অবস্থান করছে। মাত্র ৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা জেসিকা ২০ বছর বয়সে 'ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস' বা ড্যাকা কর্মসূচির আওতায় বৈধভাবে থাকার অনুমতি পান। ২০১২ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, সুবিধাভোগীদের পরিচ্ছন্ন অপরাধমূলক রেকর্ড বজায় রাখতে হয় এবং তারা সাধারণত বিনা অনুমতিতে দেশের বাইরে ভ্রমণ করতে পারেন না। জেসিকার আইনজীবীর মতে, তার এই বৈধ স্ট্যাটাস ও ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অনুমোদিত ছিল।   গত সপ্তাহে মার্কিন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জেসিকাকে একটি নোটিশ পাঠায়, যেখানে ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ তার ‘অবৈধভাবে দেশের বাইরে ভ্রমণ’-এর কারণ দেখিয়ে ড্যাকা স্ট্যাটাস বাতিলের কথা বলা হয়। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ঠিক একই দিনে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) তাকে মেক্সিকোতে নির্বাসিত করেছিল। ডিএইচএস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, গ্রেপ্তারের সময় জেসিকার স্বামী অবৈধভাবে দেশে অবস্থান করছিলেন এবং গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একটি আনমার্কড হোমল্যান্ড সিকিউরিটি যানের সাথে তাদের গাড়ির ধাক্কা লাগার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, জেসিকা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে রাজি হয়েছিলেন। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেসিকা জানিয়েছেন, তিনি ডিটেনশন সেন্টারে কোনো ফর্মে স্বাক্ষর করেননি এবং তিনি কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে চাননি।   জেসিকার আইনজীবী ডেভিড রোজাস ব্রাউনসভিলের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা আবেদনে এই নির্বাসনকে বেআইনি ঘোষণার পাশাপাশি জেসিকাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তার ড্যাকা স্ট্যাটাস পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। আগামী মাসে জেসিকার সন্তানদের স্কুল শুরু হতে যাচ্ছে, আর সেই মুহূর্তে একজন মায়ের কাছে নিজের সন্তানদের পাশে থাকার চেয়ে বড় আর কোনো চাওয়া নেই বলে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে জানান। ইমিগ্রেশন রাইটস নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফরোয়ার্ড ডট আস (FWD.us)-এর প্রেসিডেন্ট টড শুল্টে জানান, বর্তমান প্রশাসন সুপরিকল্পিতভাবে ড্যাকা কর্মসূচি ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ, যেখানে সুবিধাভোগীদের একে একে টার্গেট করে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে অযৌক্তিক আইনি কারণ দাঁড় করিয়ে তাদের সন্তানদের কাছ থেকে চিরতরে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
বিলাসবহুল গাড়ির পরিবর্তে ফুল দিয়ে সাজানো সাইকেলে বাবার হাত ধরে বিয়ের মঞ্চে কনে। ছবি: সংগৃহীত
বিলাসবহুল গাড়ি নয়, ফুলে সাজানো সাইকেলেই বাবার হাত ধরে বিয়ের মঞ্চে কনে

মেক্সিকোর পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের সান হোসে মিয়াহুয়াতলান শহরে এক বাবার ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ি বা লিমুজিনের পরিবর্তে ফুল ও বেলুনে সাজানো নিজের সাইকেলেই মেয়ে ক্রিস্টিনা ভেনেসা কাচো সিলভাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেন বাবা হুয়ান কার্লোস কাচো। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সাদা বিয়ের পোশাক পরে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে সাইকেলের পেছনের ক্যারিয়ারে বসেছিলেন কনে। সামনে বসে সাইকেল চালাচ্ছিলেন তার বাবা। বিশেষ দিনের জন্য তিনি নিজের কালো সাইকেলটি সাদা ফুল ও বেলুন দিয়ে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন, যেন সেটি ছোট্ট একটি বিয়ের রথে পরিণত হয়েছে।    বাবা-মেয়ের এই ব্যতিক্রমী যাত্রা শহরের বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পথচারীরা দাঁড়িয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান, আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিগুলো মেক্সিকোজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।    প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, হুয়ান কার্লোস কাচোর ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল না। তাই তিনি ভাড়া করা গাড়ির পরিবর্তে নিজের সাইকেলটিকেই সাজিয়ে মেয়েকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।    স্থানীয় সিভিল রেজিস্ট্রিতে ক্রিস্টিনা ভেনেসা কাচো সিলভা ও মিগুয়েলের বিয়ে সম্পন্ন হয়। উপস্থিত অতিথিরা বাবার এই উদ্যোগকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। অনেকেই মন্তব্য করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে—একজন বাবার ভালোবাসার কাছে বিলাসিতা নয়, আন্তরিকতাই সবচেয়ে বড় উপহার।

তাবাস্সুম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বন্দুক হামলা
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বন্দুক হামলা, নিহত ১

মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জোকালো চত্বরের অদূরে সশস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকে ‘সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণ’ হিসেবে দেখছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।    মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয়ের  তথ্যমতে, বেলিসারিও দোমিঙ্গেস ও রিপুবলিকা দে ব্রাসিল সড়কের সংযোগস্থলে মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তিন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত দুই ব্যক্তি, দুজনেরই বয়স ৩৯ বছর, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   হামলার পরপরই মোটরসাইকেলে করে সন্দেহভাজন হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রের একটি ব্যস্ত এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে জাল নথি তৈরি ও বিক্রির জন্য পরিচিত। যদিও মেক্সিকো সিটির কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে, রাজধানীর পর্যটন ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের এত কাছে এ ধরনের প্রকাশ্য বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।    কর্তৃপক্ষ এখনও হামলার উদ্দেশ্য বা নিহত-আহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটিকে পূর্বপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ভয়াবহ কম্পনে কেঁপে উঠল মেক্সিকো-গুয়াতেমালা সীমান্ত
ভয়াবহ কম্পনে কেঁপে উঠল মেক্সিকো-গুয়াতেমালা সীমান্ত, ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস অঙ্গরাজ্যের উপকূলের কাছে শুক্রবার (স্থানীয় সময়) ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা সম্ভাব্য বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা  জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মেক্সিকোর পুয়ের্তো মাদেরো শহরের উপকূলের কাছে। ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার (প্রায় ৬ মাইল) গভীরে সংঘটিত হওয়ায় এর কম্পন ব্যাপক এলাকাজুড়ে অনুভূত হয়।   মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) ব্যাসার্ধের উপকূলীয় এলাকায় বিপজ্জনক সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রতিবেশী দেশ গুয়াতেমালার রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতেও ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আতঙ্কিত অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী একটি সরকারি ভবন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   এছাড়া এল সালভাদরেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।   মেক্সিকোর প্রতিবেশী অঙ্গরাজ্য ওয়াহাকার গভর্নর সালোমন জারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, অঙ্গরাজ্যের রাজধানীতে মাঝারি মাত্রায় কম্পন অনুভূত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেক্সিকো, গুয়াতেমালা কিংবা এল সালভাদরের কোনো কর্তৃপক্ষ হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় মেক্সিকোর বিশেষ স্বাস্থ্য ও ভ্রমণ সতর্কতা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র সফরে ডায়রিয়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করল মেক্সিকো

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ভ্রমণকারীদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে মেক্সিকো। মেক্সিকোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, বহুরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া এই পরজীবীজনিত সংক্রমণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।    মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভ্রমণ সতর্কতায় ঝুঁকির মাত্রা ‘মাঝারি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে গন্তব্য এলাকার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যেখানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের প্রাদুর্ভাবের খবর রয়েছে।    স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ভ্রমণের সময় নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার, ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া, ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বোতলজাত, ফুটানো বা পরিশোধিত পানি পান করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।    মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর অন্তত দুই সপ্তাহ নিজের শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখতে হবে। এ সময় ডায়রিয়া বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে এবং চিকিৎসককে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরের তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।    সাইক্লোস্পোরিয়াসিস একটি অন্ত্রের সংক্রমণ, যা সাইক্লোস্পোরা নামের পরজীবীর মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত খাবার বা পানীয় গ্রহণের ফলে এই রোগ হতে পারে। এর প্রধান উপসর্গ হলো দীর্ঘস্থায়ী পানিযুক্ত ডায়রিয়া, পাশাপাশি পেটব্যথা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, অবসাদ ও ওজন কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বর্তমানে বহুরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণের উৎস শনাক্তে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে কিছু অঙ্গরাজ্যে বিক্রি হওয়া নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের সঙ্গে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকোর সীমান্তের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
সীমান্ত পেরিয়ে স্বয়ংক্রিয় রাইফেলসহ তিন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় স্বয়ংক্রিয় ধরনের রাইফেলসহ তিনজন মেক্সিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী।   কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে থাকা তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি করে তিনটি স্বয়ংক্রিয় ধরনের রাইফেল, একাধিক গুলির ধারক এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়।   প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অবৈধ অস্ত্র বহন এবং ফেডারেল আইনে শাস্তিযোগ্য একাধিক অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া চলছে।   মার্কিন সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর উৎস, এগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন বর্তমানে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের পর তাদের আদালতে হাজির করা হবে।   মার্কিন প্রশাসন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদক পাচার রোধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ এই ঘটনাকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Unknown জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোর টিজুয়ানা টয়োটা কারখানায় নতুন গাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া ও বিপণনের জন্য প্রস্তুতি | ছবি: রয়টার্স
মেক্সিকো ছেড়ে আমেরিকায় কারখানা আনছে টয়োটা, নতুন চাকরি পাবেন ২০০০ মানুষ!

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টয়োটা’ তাদের জনপ্রিয় ‘টাকোমা’ পিকআপ ট্রাকের সিংহভাগ উৎপাদন মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানি এই অটোমোবাইল জায়ান্ট আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও কারখানায় ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৬০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। মেক্সিকোর টিজুয়ানা কারখানা থেকে এই উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করতে প্রায় ৪ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।   আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার মধ্যকার উত্তর আমেরিকান বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন করতে ওয়াশিংটন অস্বীকৃতি জানানোর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় টয়োটার পক্ষ থেকে এই বড় ঘোষণা এল। এর আগে গত নভেম্বর মাসেই টয়োটা জানিয়েছিল যে, আগামী ৫ বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।   টয়োটার দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন এই বিনিয়োগের ফলে স্যান অ্যান্টোনিওর কারখানায় দ্বিতীয় একটি অ্যাসেম্বলি বা গাড়ি সংযোজন লাইন তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে সেখানে ২ হাজারেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা আরও ১ লাখ ৫০ হাজার ইউনিট বৃদ্ধি পাবে। অবশ্য মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো কারখানায় অল্প কিছু টাকোমা ট্রাকের উৎপাদন আগের মতোই চালু থাকবে। বর্তমানে স্যান অ্যান্টোনিও কারখানায় ‘টুন্ড্রা’ পিকআপ এবং ‘সেকোয়া’ এসইউভি তৈরি করা হয়।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক আমদানি করা গাড়ি, স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক বা ট্যারিফ বৃদ্ধি করার কারণে টয়োটার মতো বড় বড় বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতারা এখন তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা মেক্সিকো থেকে সরিয়ে সরাসরি আমেরিকার মাটিতে নিয়ে আসছে। এতদিন পর্যন্ত মার্কিন ও বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো সস্তা শ্রম এবং বাণিজ্য সুবিধার কারণে মেক্সিকোতে প্রচুর গাড়ি তৈরি করত।   যদিও বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিটি আরও ১০ বছর কার্যকর থাকার কথা, তবুও ওয়াশিংটন গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে এই চুক্তিটি এখন থেকে প্রতি বছর পুনর্বিবেচনা বা রিভিউ করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলেই মূলত বড় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে উত্তর আমেরিকার বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাণিজ্য জটিলতার দ্রুত সমাধান আশা করছে টয়োটা কর্তৃপক্ষ।

তাবাস্সুম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোতে চিকিৎসা বৈষম্য দূর করতে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা ও ডিজিটাল কার্ড চালুর ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম | ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোতে ১৩ কোটি মানুষের চিকিৎসা সম্পূর্ণ ফ্রি: আমেরিকারও কি একই নিয়ম করা উচিত?

মেক্সিকোতে চিকিৎসা খাতের বৈষম্য দূর করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম। তিনি দেশটিতে ‘ইউনিভার্সাল হেলথ সার্ভিস’ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা চালুর ঘোষণা দিয়ে একটি সরকারি ডিক্রি জারি করেছেন। এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মেক্সিকোর প্রধান তিনটি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা—আইএমএসএস (IMSS), আইএসএসএসটিই (ISSSTE) এবং আইএমএসএস-বিয়েনস্তার (IMSS-Bienestar)-কে একটি একক ও সমন্বিত জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা।   এই কার্যক্রমকে সহজ করতে সরকার ইতিমধ্যেই ‘ইউনিভার্সাল হেলথ ক্রেডেনশিয়াল’ বা সর্বজনীন স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া শুরু করেছে, যা প্রাথমিকভাবে প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই এই কার্ডের জন্য ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এই একটি মাত্র ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে মেক্সিকোর ১৩ কোটি নাগরিক তাদের আগের বীমা বা ইন্সুরেন্স স্ট্যাটাস নির্বিশেষে যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি পুরো দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মেডিকেল রেকর্ড সিস্টেমের আওতায় আনা হচ্ছে।   জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এই ঘোষণাকে একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখা হলেও, এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৭ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে জরুরি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার মাধ্যমে এই সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে সমালোচক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতেও মেক্সিকোতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কিন্তু বাজেট ও সম্পদের ঘাটতির কারণে তা সফল হয়নি। শিনবাউমের এই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার মূল সাফল্য নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ এবং হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর, যাতে করে ভবিষ্যতে হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় বা ওষুধের তীব্র সংকট তৈরি না হয়।   মেক্সিকোর এই বিশাল সমাজতান্ত্রিক চিকিৎসা বিপ্লবের পর এখন বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্রের (ইউএস) মতো উন্নত দেশেরও কি একই ব্যবস্থা অনুসরণ করে নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা উচিত? আমেরিকার বর্তমান চড়া চিকিৎসা ব্যয়ের বাজারে এই বিতর্ক নতুন করে মোড় নিয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প
মেক্সিকোতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে মাঝারি মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ০। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।   তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল এল প্রোগ্রেসো থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। কম্পনটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হতে পারে।   ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর এলাকায় এই ভূমিকম্পটি ঘটে। যদিও কম্পনের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর মধ্যে অবস্থান করায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে থাকে। ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনও এখানে অস্বাভাবিক নয়।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে—প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে ‘ডাবলেট’ বলা হয়, যা একই এলাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় সমমাত্রার দুটি ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়াকে বোঝায় এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।   ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৪ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ৯৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যা বৈশ্বিকভাবে ভূমিকম্পের তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।   এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় রেডউড ভ্যালির কাছেও ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মেনডোসিনো কাউন্টিতে অবস্থিত এর কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫ মাইল নিচে ছিল বলে জানা গেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনার পেছনে ভূত্বকের স্বাভাবিক গতিশীলতা কাজ করলেও, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

নীলুফা নিশাত জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোর সৈকতে কুমিরের হামলায় যুবকের মৃত্যু, সামনে এলো নতুন ভিডিও

মেক্সিকোর জনপ্রিয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভালার্তার একটি সমুদ্রসৈকতে কুমিরের হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে হামলার পর একটি বিশাল কুমিরকে সৈকতের কাছে মুখ হা করে থাকতে দেখা যায়।   জালিসকো অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি মেক্সিকোর নাগরিক। কাজের সূত্রে তিনি পুয়ের্তো ভালার্তায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেরিনা ভালার্তা সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শনিবার ভোরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ঘটনার সময় কাছের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা পর্যটক জেমি ইয়েটার, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি এবং ইয়েটারের কিশোরী মেয়ে।   জেমি ইয়েটার জানান, হোটেলের সুইমিংপুলের পাশে বসে থাকার সময় তারা সৈকতের দিক থেকে চিৎকার শুনতে পান। প্রথমে তাদের ধারণা হয়েছিল, একজন ব্যক্তি সমুদ্রের প্রবল স্রোতে আটকা পড়েছেন।   তিনি বলেন, তার বাগদত্তা ক্রিস বুরি দ্রুত সৈকতের দিকে ছুটে গিয়ে বৈঠাবিহীন একটি কায়াকে উঠে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন।   ক্রিস বুরি বলেন, সৈকতে উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম ছিল না। তারা যা সম্ভব হয়েছে, তা দিয়েই সাহায্যের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তিনি কায়াকে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই কুমিরটি ওই ব্যক্তিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।তাদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও ওই যুবককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনার পর জেমি ইয়েটার অভিযোগ করেন, সৈকতে কুমিরের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যটকদের যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি। তিনি বলেন, সৈকতের পাশে জেলিফিশ, স্টিংরে মাছ ও কুমিরের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতামূলক চিহ্ন ছিল। তবে তারা কুমিরের প্রতীকটিকে প্রথমে ইগুয়ানার ছবি বলে ভুল করেছিলেন।   তার দাবি, কেউ তাদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করেননি। এমনকি পরদিন সকালেও সৈকতটি খোলা ছিল এবং সেখানে সাঁতার কাটতে মানুষকে দেখা গেছে। সৈকত বন্ধ ছিল না, কিংবা কোথাও সাঁতার নিষিদ্ধের কোনো সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি।   ঘটনার পরও শনিবার সকালে একই সৈকতে বহু মানুষকে সমুদ্রে নামতে দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই সেখানে সাঁতার কাটছিলেন।

Unknown জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকো বিমানবন্দরে তল্লাশির সময় ফোনে মিলল শত শত শিশু পর্নোগ্রাফি l ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোতে শিশু পর্নোগ্রাফি পাচারের দায়ে মার্কিন স্কুলশিক্ষক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নাইলস টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২১৯-এর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মেক্সিকোতে শিশু পর্নোগ্রাফি বহনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ইলিনয়ের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী টমাস নিল গত ১৭ জুন শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মেক্সিকো সিটির বেনিটো জুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর মেক্সিকান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বিতীয় ধাপের তল্লাশিতে তার মোবাইল ফোনে শিশু পর্নোগ্রাফির অসংখ্য ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়।   মেক্সিকো সীমান্তরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তার ফোন এবং লাগেজ বাজেয়াপ্ত করে। তল্লাশিতে তার লাগেজের ভেতর থেকে দুটি ল্যাপটপ এবং ছয়টি ইলেকট্রনিক স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে ওই লাগেজসহ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের জর্জ বুশ আন্তঃমহাদেশীয় বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়। হিউস্টনে পৌঁছানোর পরপরই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের গোয়েন্দারা নিলের ফোনে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে শিশু পর্নোগ্রাফির শত শত ফাইলের সন্ধান পান বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।   অভিযুক্ত টমাস নিল যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ইলিনয়ের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২১৯-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার তারা এই অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং চলমান তদন্তে কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। এক বিবৃতিতে ওই মুখপাত্র বলেন, "তদন্তাধীন ওই কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট ২১৯ যেকোনো কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং স্কুল কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখতে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।"   অভিযুক্ত টমাস নিল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ২৯ জুন তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিশু পর্নোগ্রাফি বহনের এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ফেডারেল কারাগারে ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত সাজা ভোগ করতে হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোতে মার্কিন নাগরিক জাফর মাওয়ানি ও গিয়েরমো ওরতিজ মৃত উদ্ধার | ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মেক্সিকোতে নিখোঁজ হওয়া দুই আমেরিকান নাগরিকের লাশ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে মেক্সিকো সিটিতে আসা এক নিখোঁজ সমকামী যুগল বা দুই সঙ্গীর মরদেহ মেক্সিকোর রাজধানী সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত মে মাসে মেক্সিকো সিটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে এই দুই ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত সপ্তাহে তাদের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করেছে তাদের পরিবার। এই ঘটনাটি মেক্সিকোতে চলমান অপরাধমূলক সহিংসতার এক নির্মম চিত্র আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।   নিখোঁজ হওয়া এই দুই ব্যক্তি হলেন ৫৬ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জাফর পাদামিস মাওয়ানি এবং তার সমবয়সী সঙ্গী গুইলারমো জাফেট হিদালগো ওরতিজ। তারা দুজনেই শিকাগো এবং মেক্সিকো সিটিতে বসবাস করতেন। মেক্সিকান পুলিশ এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করার পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পাহাড়ি অঞ্চলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা চারটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে দেশটির সরকারি আইনজীবীরা।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাফর মাওয়ানির অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্যই এই দুই সঙ্গী মেক্সিকোতে সাময়িকভাবে অবস্থান করছিলেন। মে মাসে তারা নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছিল শিকাগোর স্থানীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই সূত্র ধরেই মেক্সিকান এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তাদের উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে বুধবার মেক্সিকোর জাতীয় প্রশাসন ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।   জাফরের পরিবারের মুখপাত্র কেট টেইলর এক বিবৃতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মেক্সিকোর সরকারি নিখোঁজ বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুই ব্যক্তি যেখানে নিখোঁজ হয়েছিলেন সেই স্থানটি লা মার্কেসা জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও কারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত তা এখনও প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেক্সিকোতে অপরাধমূলক সহিংসতার কারণে বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে হত্যাকাণ্ডের হার কিছুটা কমলেও নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত মে মাসেই দেশটিতে নতুন করে ৯৭৭ জন মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমানে মেক্সিকোতে বিশ্বব্যাপী ফুটবল বিশ্বকাপ চলার কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। তারা নিখোঁজদের সন্ধানে সরকারের কাছ থেকে আরও বেশি বরাদ্দ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ দাবি করছেন। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অভিযোগ হলো, নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিদেশি নাগরিক হলে প্রশাসন যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়, দেশের সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে সেই তৎপরতা দেখা যায় না।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
৬ হাজার ডলারের টিকিট কিনেও বিশ্বকাপের মাঠে ঢুকতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৮৯ বছরের বৃদ্ধ

ফিফা বিশ্বকাপের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার আজীবনের স্বপ্ন ছিল ৮৯ বছর বয়সী চিকো মেন্ডেজের। দাদার সেই স্বপ্ন পূরণে ৬ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচের টিকিট কিনেছিলেন ২৬ বছর বয়সী নাতনি পাওলা হার্নান্দেজ। কিন্তু স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে গিয়ে সেই আনন্দ রূপ নেয় চরম হতাশায়। টিকিট সংক্রান্ত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত স্টেডিয়ামেই ঢোকা হয়নি তাঁদের। মেক্সিকোর গুয়াদালাজারার একটি হোটেল থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেদের এই হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন পাওলা।   পাওলা জানান, প্রিয় দলের খেলা দেখতে ম্যাচের দিন সকালেই তাঁরা গুয়াদালাজারায় পৌঁছান এবং উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে খেলা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা আগেই জাপোপানের এস্তাদিও আকরন স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা হন। জনপ্রিয় টিকিট রিসেল প্ল্যাটফর্ম ‘স্টাবহাব’ থেকে ৬ হাজার ডলারে কেনা টিকিটগুলো অ্যাপে লোড না হওয়ার পরই মূলত সমস্যার সূত্রপাত হয়।   পাওলা জানান, পেমেন্ট সফল হওয়ার মেসেজ এলেও টিকিটগুলো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। প্রতারণার শিকার হয়েছেন ভেবে স্টাবহাবের কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে তাঁকে বলা হয়, ফিফা অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট ট্রান্সফার করতে বিক্রেতার কিছুটা সময় প্রয়োজন, তাই হাফটাইম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই প্রতীক্ষিত টিকিট আর কখনোই তাঁদের হাতে আসেনি।   মাঠের ভেতর ৪৫ হাজার ৫২২ জন দর্শকের গগনবিদারী উল্লাস যখন বাইরে ভেসে আসছিল, ঠিক তখনই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় স্টেডিয়ামের বাইরে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন মেক্সিকোর জার্সি, জ্যাকেট ও টুপি পরিহিত ৮৯ বছরের মেন্ডেজ। এই দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি নাতনি পাওলা। স্টেডিয়ামের বাইরে মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে দাদার খেলা দেখার সেই করুণ দৃশ্যটি ভিডিও করে টিকটকে শেয়ার করেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এটি দেখেন। নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্টাবহাবকে এর দায়ভার নেওয়ার জোর দাবি জানান।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত স্টাবহাব পাওলার পুরো অর্থ ফেরত দেয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিশ্বকাপের পরবর্তী যেকোনো একটি ম্যাচের টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে মেক্সিকোর পরবর্তী ম্যাচগুলো মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শারীরিক অবস্থার কারণে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পাওলা।   তিনি জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৩৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ওই শহরে গেলে তাঁর দাদার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। স্টাবহাব কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমের কাছে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করলেও একজন বৃদ্ধের আজীবনের লালিত স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা হয়তো আর কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
গোলরক্ষকের মস্ত ভুলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে মেক্সিকো

দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষকের এক অবিশ্বাস্য ভুলের সুযোগ নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। শুক্রবার (১৯ জুন) এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথও সুগম করেছে মেক্সিকানরা।   ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল দেখা যায়। তবে খেলার ভাগ্য নির্ধারণ হয় দ্বিতীয় হাফের ৫০তম মিনিটে। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লি কি-হিউকের মাথার ওপর দিয়ে আসা একটি লুপ হেড বল লুফে নিতে যান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। কিন্তু সতীর্থ ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার কনুইয়ে চোট পান এবং হাত থেকে বলটি ফসকে যায়। একদম সামনে থাকা মেক্সিকান ফরোয়ার্ড লুইস রোমো এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। দেশের হয়ে ৬৪তম ম্যাচে এটি রোমোর পঞ্চম আন্তর্জাতিক গোল।   ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল অসাধারণ দক্ষতায় চো গুয়ে-সুং-এর হেড এবং ইয়াং হিউন-জুনের ফিরতি শট রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।   ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, "এটি বেশ কৌশলী একটি ম্যাচ ছিল, যা দর্শকদের জন্য উপভোগ করা কিছুটা কঠিন ছিল। তবে এই জয় আমাদের দলের পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। শেষ মুহূর্তের সেই আক্রমণটি বাদ দিলে পুরো ম্যাচ আমরা খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করেছি।"   এদিকে প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও এই হারের পর কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ড্র করতে পারলেই তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো বলেন, "আজকের ফলাফল হতাশাজনক। গোলরক্ষকের ভুলটি দুর্ভাগ্যজনক ছিল, তবে আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। পরবর্তী ম্যাচের জন্য আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।"

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকো ম্যাচের আগে ফিফার স্পন্সর হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একটি বিতর্কিত খনি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের জেরে দক্ষিণ কোরিয়ান এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা শহরে বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশবাদী সংগঠন 'মাইটি আর্থ'-এর ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে ‘নোংরা স্টিল সরবরাহ চেইনের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। হুন্দাই মূলত দক্ষিণ আমেরিকার খনি কোম্পানি 'টার্নিয়াম' থেকে ইস্পাত তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ আকরিক লোহা কেনে। এই টার্নিয়াম কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি মেক্সিকোর দুজন মানবাধিকার কর্মীকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং মেক্সিকোর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নিখোঁজ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের দাবিতে গুয়াদালাজারার প্লাজা দে লা লিবেরাসিওনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।   জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে টার্নিয়াম কোম্পানির গ্রামীণ এলাকা ধ্বংসের নীতির তীব্র সমালোচনা করার পর গুয়াদালাজারা থেকে দুজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তারা হলেন—বিখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী রিকার্ডো আরতুরো লাগুনেজ গাসকা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা আন্তোনিও দিয়াজ ভ্যালেন্সিয়া। খনি বিরোধী এক সভা থেকে ফেরার পথে তারা নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি মহাসড়কের পাশে গুলিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আন্দোলনকারীরা হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে 'স্পোর্টসওয়াশিং' বা খেলাধুলার আড়ালে অপরাধ ঢাকার অভিযোগ এনেছেন এবং টার্নিয়াম কোম্পানিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর দাবি তুলেছেন।   হুন্দাই এবং কিয়া বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার হিসেবে কাজ করছে। তারা খেলোয়াড়, রেফারি এবং কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে প্রায় ১ হাজার গাড়ি এবং ৫০০টিরও বেশি বাস সরবরাহ করেছে। বিশ্বকাপের মেক্সিকো অংশে এই বিক্ষোভ বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচের দিনও মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামের বাইরে আন্দোলনরত শিক্ষকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলেন।   অবশ্য টার্নিয়াম মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই গুমের ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা সবসময় আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে এই বিক্ষোভের বিষয়ে হুন্দাই কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
টিজুয়ানা স্টেডিয়াম | ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ভেন্যুর বাইরে গাড়ির ট্রাঙ্কে মিলল গলিত মরদেহ

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মেক্সিকোর টিজুয়ানায় একটি স্টেডিয়ামের বাইরে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে স্টেডিয়ামে বর্তমানে ইরান জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করছে, তার অদূরেই এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় গাড়ির ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে লাশে গুরুতর সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   স্টেডিয়ামের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে এমন ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চলছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে প্লাস্টিকে মোড়ানো মরদেহটি উদ্ধার করে।   ঘটনার পর ইরান জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।   মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা মাদক কার্টেলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০