এনওয়াইপিডি কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সহযোগীর ৫ বছরের কারাদণ্ড
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন ডিলার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুনি গাই রিভেরার সহযোগী লিন্ডি জোন্সকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায় স্বীকার করে নেওয়ার পর তাকে এই সাজা শোনানো হয়। ৪৩ বছর বয়সী জোন্সের এই সাজার মধ্য দিয়ে মর্মান্তিক এই হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটল।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ ফার রকওয়ে এলাকায় একটি সন্দেহভাজন কিয়া সোল গাড়ির কাছে যাওয়ার সময় ডিলার এবং তার সঙ্গীদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায় রিভেরা। ওই সময় গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন লিন্ডি জোন্স। গোলাগুলিতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন জোনাথন ডিলার। ঘটনাস্থল থেকেই রিভেরা ও জোন্সকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে গাড়ির গ্লাভস কম্পার্টমেন্ট থেকে একটি গুলিভর্তি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। জোন্সের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখার চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে সে একটি স্বীকার করে নেয়। ডিলার হত্যার ঘটনার আগে জোন্সের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হামলাসহ অন্তত ১৪ বার গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল।
এনওয়াইপিডি পিবিএ-এর সভাপতি প্যাট্রিক হেন্ড্রি আদালতের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জানান, কোনো শাস্তিই জোনাথনকে আর ফিরিয়ে আনবে না এবং তার পরিবারের কষ্টও কখনো দূর হবে না। তবে অপরাধী নিজের দায় স্বীকার করে তার প্রাপ্য জায়গা কারাগারে থাকছে, এটিই তাদের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা। অন্যদিকে, মূল খুনি গাই রিভেরাকে গত এপ্রিলে ১১৫ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে জোন্সের চাচা আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার ভাতিজা ইতিমধ্যে যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি কেবল তার একটি 'ভুল সিদ্ধান্ত' ছিল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreরোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক।” বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। তার ভাষায়, এখন শুধু সহমর্মিতা প্রকাশের সময় নয়; সংকটের মূল কারণ খুঁজে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ এবং বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা থেকে বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে যেতে হবে। প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা এবং প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে তাদের প্রভাব কাজে লাগানোর কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাসহ বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আস্থা তৈরি হবে না। তৃতীয় প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি কক্সবাজারের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় ৯৩৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তার আবেদন করা হলেও ২০২৬ সালের জন্য সেই আবেদন কমে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তার মতে, এই অর্থ মূলত ন্যূনতম জীবনরক্ষাকারী প্রয়োজন মেটাতেই সীমিত। চতুর্থ প্রস্তাবে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পঞ্চম প্রস্তাবে রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে বাড়তে থাকা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের কথা বলেন তিনি। এর মধ্যে মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিষয় উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়ছে। তিনি জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এবং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রভাব পড়ছে। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট অনুযায়ী, বক্তব্যের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ ঘরে ফিরে যেতে দেখতে চায় এবং প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের মতো করে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। Source: জাতিসংঘের অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থকের আত্মীয়ই বহিষ্কারের মুখে, ঠেকাতে মরিয়া লেপেজ
'ইসলাম গ্রহণের পর, বাবা ফেরারি কিনে বলেন, হিজাব খুললে গাড়িটি তোমার’: মার্কিন অধ্যাপক ড. শারিফা
মামদানির মন্তব্যের মধ্যেই নিউ জার্সিতে নামল নেতানিয়াহুর বিমান
ক্যালিফোর্নিয়ার রেডল্যান্ডসের ৫৬ বছর বয়সী থমাস গিগলার একটি ক্রুজে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। স্ত্রী মিশেল ও পরিবারের সঙ্গে বিবাহবার্ষিকী উদ্যাপনের সফরে থাকা গিগলার গত শনিবার কার্নিভাল প্যানোরামা থেকে সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন বলে কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে। মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভালার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কোস্ট গার্ড, মেক্সিকান নৌবাহিনী এবং আশপাশের বাণিজ্যিক নৌযানগুলোকে নিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও তার সন্ধান মেলেনি। তাকে মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিগলার ও তার স্ত্রী মিশেল যে কেবিনে ছিলেন সেটি ছিল জাহাজের দ্বিতীয় ডেকে। পাশের একটি কেবিনে থাকা এক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, গিগলারকে শেষ পর্যন্ত জাহাজের ১১তম ডেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঠিক কোন স্থান থেকে তিনি সাগরে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। ঘটনার সময় জাহাজে থাকা যাত্রী লরি ফ্রিড-সিলভা জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রীদের কেবিনে ফিরে যেতে বলা হয়। প্রথমে ঘোষণায় শুধু জানানো হয়েছিল, ক্রু সদস্যদের যাত্রীদের সংখ্যা যাচাই করতে হবে। একই ঘোষণা কয়েকবার দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর দুই ব্যক্তি, যাদের তিনি জাহাজের কর্মকর্তা বলে মনে করেছিলেন, তার কেবিনে এসে সেখানে থাকা যাত্রীদের নাম জানতে চান। প্রায় ৪৫ মিনিট পর জাহাজের লাউডস্পিকারে জানানো হয়, একজন যাত্রী নিখোঁজ। এর আনুমানিক ১৫ মিনিট পর যাত্রীদের জানানো হয়, একজন পুরুষ সাগরে পড়ে গেছেন এবং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে। এরপর জাহাজটি ঘুরিয়ে আশপাশের পানিতে তল্লাশি চালানো হয়। কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, একজন যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর জাহাজের ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে তল্লাশি ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়। তল্লাশিতে মেক্সিকান নৌবাহিনী এবং আশপাশের কয়েকটি বাণিজ্যিক নৌযানও যুক্ত হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে জাহাজটি আবার লং বিচের পথে যাত্রা শুরু করে। গিগলার দীর্ঘ ২৪ বছর এসরি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি স্ত্রী মিশেল ও তাদের তিন ছেলের সঙ্গে রেডল্যান্ডসে বসবাস করতেন। পরিবারের জন্য বিবাহবার্ষিকী উদ্যাপনের এই সফরটি পরে নিখোঁজের ঘটনায় পরিণত হয়। এদিকে গিগলারের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক যাত্রীর করা কিছু দাবিও সামনে এসেছে। ওই যাত্রী দাবি করেছিলেন, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে জাহাজের একটি বারে গিগলার দাম্পত্য সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তবে তার পরিবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। গিগলারের বোন ওয়েন্ডি ডাউডেন ডেইলি মেইলকে বলেছেন, গিগলার ও তার স্ত্রী ভালো সম্পর্কেই ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পরিবার বা কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়নি। ঘটনার পর জাহাজের কয়েকজন যাত্রী গিগলারের স্মরণে একটি ছোট স্মৃতিফলকও তৈরি করেন। সেখানে যাত্রীরা হাতে লেখা বার্তা, প্রার্থনা, খেলনা ও অন্যান্য স্মারক রেখে তার পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। এদিকে কর্তৃপক্ষের তল্লাশি ও তদন্তের বিস্তারিত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
কমিউনিজমের মধ্যেও আমার শৈশব ছিল সুন্দর, বললেন মেলানিয়া ট্রাম্প
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারী নেতাদের সভায় বক্তব্য রাখলেন ডা. জুবাইদা রহমান
শি জিনপিংকে বিমানবন্দরে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের, সামনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রে মোট সম্পদের দিক থেকে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে থাকতে হলে বর্তমানে অন্তত ১৮ লাখ ডলারের নেট ওয়ার্থ প্রয়োজন। ভিসার নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়ি ও শেয়ারের মতো সম্পদের মূল্য বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের এই সীমাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ভিসার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মার্কিন পরিবারকে এই স্তরের সম্পদশালী পরিবারের মধ্যে ধরা যায়। শুধু নেট ওয়ার্থ নয়, বার্ষিক পারিবারিক আয় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি হলেও ভিসার সংজ্ঞায় একটি পরিবার শীর্ষ ১০ শতাংশের সম্পদশালী শ্রেণিতে পড়ে। নেট ওয়ার্থ বলতে একজন ব্যক্তি বা পরিবারের মোট সম্পদ থেকে মোট ঋণ বাদ দেওয়ার পর যে পরিমাণ থাকে, সেটিকে বোঝানো হয়। এর মধ্যে বাড়ির মূল্য, গাড়ি, রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ ও নগদ অর্থের মতো সম্পদ থাকতে পারে। বিপরীতে মর্টগেজ, স্টুডেন্ট লোন, গাড়ির লোন ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণের মধ্যে পড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের সীমা একই নয়। ভিসার বিশ্লেষণে পশ্চিমাঞ্চলে নেট ওয়ার্থের সীমা প্রায় ২০ লাখ ডলার, নর্থইস্টে ১৯ লাখ ডলার, সাউথে ১৮ লাখ ডলার এবং মিডওয়েস্টে ১৭ লাখ ডলার। জীবনযাত্রার খরচ ও সম্পদের মূল্যের পার্থক্য এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। সম্পদের এই ব্যবধান বোঝার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি। ইউবিএসের ২০২৬ গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি গড় সম্পদ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭ ডলার। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি নতুন ডলার মিলিয়নিয়ার যুক্ত হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সার্ভে অব কনজিউমার ফাইন্যান্সেসে ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের মধ্যম নেট ওয়ার্থ ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯০০ ডলার। একই সময়ে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যম নেট ওয়ার্থ ছিল প্রায় ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ ডলার। এখানে আয় ও নেট ওয়ার্থের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারও বার্ষিক আয় বেশি হলেও তার যদি বড় মর্টগেজ, স্টুডেন্ট লোন বা অন্য ঋণ থাকে, তাহলে নেট ওয়ার্থ তুলনামূলক কম হতে পারে। আবার তুলনামূলক মাঝারি আয় থাকলেও বাড়ির মূল্য, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস ও বিনিয়োগের কারণে কারও নেট ওয়ার্থ অনেক বেশি হতে পারে। ভিসার বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদশালী পরিবারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ধনী’ হওয়ার প্রচলিত ধারণাটিও বদলাচ্ছে। একসময় ১০ লাখ ডলারের নেট ওয়ার্থকে বড় আর্থিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হলেও সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এখন সেটি দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে এসব হিসাব কোনো পরিবারের জীবনযাত্রার সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা বা স্বাচ্ছন্দ্য নির্ধারণ করে না। কোথায় বসবাস করছেন, বাড়ির দাম, মর্টগেজের পরিমাণ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচের ওপর একই পরিমাণ নেট ওয়ার্থের বাস্তব মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে।
আইসিই হেফাজতে কেটেছে ৫২ দিন, এখন অন্যদের জন্য লড়তে হতে চান ইমিগ্রেশন আইনজীবী
টাইমের ২০২৬ ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ দৌড়ে এগিয়ে জোহরান মামদানি