নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন ডিলার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় খুনি গাই রিভেরার সহযোগী লিন্ডি জোন্সকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায় স্বীকার করে নেওয়ার পর তাকে এই সাজা শোনানো হয়। ৪৩ বছর বয়সী জোন্সের এই সাজার মধ্য দিয়ে মর্মান্তিক এই হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটল।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ ফার রকওয়ে এলাকায় একটি সন্দেহভাজন কিয়া সোল গাড়ির কাছে যাওয়ার সময় ডিলার এবং তার সঙ্গীদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায় রিভেরা। ওই সময় গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন লিন্ডি জোন্স। গোলাগুলিতে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন জোনাথন ডিলার। ঘটনাস্থল থেকেই রিভেরা ও জোন্সকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে গাড়ির গ্লাভস কম্পার্টমেন্ট থেকে একটি গুলিভর্তি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়। জোন্সের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখার চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে সে একটি স্বীকার করে নেয়। ডিলার হত্যার ঘটনার আগে জোন্সের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হামলাসহ অন্তত ১৪ বার গ্রেপ্তারের রেকর্ড ছিল।
এনওয়াইপিডি পিবিএ-এর সভাপতি প্যাট্রিক হেন্ড্রি আদালতের এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জানান, কোনো শাস্তিই জোনাথনকে আর ফিরিয়ে আনবে না এবং তার পরিবারের কষ্টও কখনো দূর হবে না। তবে অপরাধী নিজের দায় স্বীকার করে তার প্রাপ্য জায়গা কারাগারে থাকছে, এটিই তাদের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা। অন্যদিকে, মূল খুনি গাই রিভেরাকে গত এপ্রিলে ১১৫ বছর থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে জোন্সের চাচা আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার ভাতিজা ইতিমধ্যে যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি কেবল তার একটি 'ভুল সিদ্ধান্ত' ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
সামান্য এক গাড়ি দুর্ঘটনা এবং রেস্তোরাঁ থেকে চুরি করা খাবারের সূত্র ধরে আপন বাবা-মাকে হত্যার এক ভয়ংকর পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া পুলিশ। স্ট্যাফোর্ড কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, গত ১৬ জুন বেপরোয়া গতিতে চলা একটি গাড়ি রাস্তার সাইনবোর্ডে ধাক্কা দিলে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে একটি ওয়াওয়া কনভেনিয়েন্স স্টোর থেকে লুইস কনেলি (১৯) এবং ১৭ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত কিশোরকে আটক করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। আটকের পর তাদের গাড়ির ড্যাশবোর্ডে 'বাফেলো ওয়াইল্ড উইংস' রেস্তোরাঁ থেকে চুরি করা এক ট্রে খাবার এবং কিছু অক্ষত মদের বোতল দেখতে পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা খাবার চুরির কথা স্বীকারও করে। তবে গাড়ি তল্লাশির সময় পুলিশ সেখানে খোলা মদের বোতল, বেশ কয়েকটি ছুরি, চিকিৎসা সামগ্রী এবং কনেলির মালিকানাধীন একটি নোটবুক উদ্ধার করে। আর এই নোটবুক থেকেই মূলত বেরিয়ে আসে ওই কিশোরের বাবা-মাকে হত্যার লোমহর্ষক ছক। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরের পরিবারকে হত্যার জন্য এই দুজন মিলে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত দুটি ছক কষেছিল। গত এপ্রিলে আদান-প্রদান করা তাদের মোবাইল মেসেজ থেকে জানা যায়, তারা বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা এড়িয়ে কীভাবে খুন করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছিল। এমনকি বাবা-মাকে গুলি করে নাকি গলা কেটে হত্যা করা হবে, তা নিয়েও তাদের মধ্যে দীর্ঘ কথোপকথন হয়। পরবর্তীতে কিশোরের শোবার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বিবি গান, ধারালো অস্ত্র এবং তীর-ধনুক উদ্ধার করে। তবে এই হত্যার পরিকল্পনার পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় লুইস কনেলির বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র, লিখিতভাবে প্রাণনাশের হুমকি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, নাবালকের অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া এবং হিট-অ্যান্ড-রানসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে বিনা জামিনে রাপাহানোক রিজিওনাল জেলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, হত্যার ষড়যন্ত্র ও হুমকির অভিযোগে অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে রাখা হয়েছে রাপাহানোক রিজিওনাল কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। তবে এই দুজনের মধ্যে ঠিক কীভাবে পরিচয় হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন মানবপাচার এবং দুর্বল বা অরক্ষিত মানুষদের শোষণ রোধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশ। 'অপারেশন রেড কার্ড' নামের এই বহুমুখী অভিযানটি ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ, ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), নেভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস (এনসিআইএস), রোড আইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিসের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অর্থের বিনিময়ে অবৈধ যৌন ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া, শিশু নির্যাতন এবং মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িতদের লক্ষ্য করেই মূলত এই অভিযানটি চালানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আয়োজক দেশগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধা বয়ে আনলেও, এটি মানবপাচারকারী এবং অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। চলমান এই তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের নাম ও অপরাধের বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের রেহোবোথের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী রিচার্ড ল্যালিয়ারকে ১৬ বছরের কম বয়সী নাবালকদের প্রলোভন দেখানো এবং অশ্লীল সামগ্রী প্রেরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া রোড আইল্যান্ডের নর্থ প্রভিডেন্সের ২৭ বছর বয়সী জোশুয়া লিংকন, ক্র্যানস্টনের ২৬ বছর বয়সী জ্যাকব পালাজো, জনস্টনের ৬০ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো মিকোলি, টিভারটনের ৩৮ বছর বয়সী ট্র্যাভিস শ এবং সেন্ট্রাল ফলসের ৩৮ বছর বয়সী রকি জোসেফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনতা ক্রয়, নাবালকের কাছে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রচার এবং অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের অনেককেই ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো সাধারণ জনগণকে এই ধরনের অপরাধের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মানবপাচার অনেক সময়ই প্রকাশ্যে ঘটে এবং ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিয়ন্ত্রিত বা জোরজবরদস্তির শিকার হয়ে থাকেন, যার ফলে তারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন না। মানবপাচার সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা ন্যাশনাল হিউম্যান ট্রাফিকিং হটলাইনে (১-৮৮৮-৩৭৩-৭৮৮৮) যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এই হটলাইনে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে তথ্য প্রদান করা যাবে।
উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তম সম্মেলন ফোবানা ২০২৬ এ অংশগ্রহণে আগ্রহী সদস্য সংগঠনগুলোর নিবন্ধনের শেষ সময় আগামী ৩০ জুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ। খালেদ রউফ বলেন, ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল ও অংশগ্রহণমূলক করতে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার সদস্য সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য যেসব সংগঠন এখনো নিবন্ধন সম্পন্ন করেনি, তাদের দ্রুত নিবন্ধন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তিনি জানান, সংগঠন নিবন্ধনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের কালচারাল মেম্বারশিপ নবায়ন, হাউস রেজিস্ট্রেশন এবং নির্ধারিত সাংস্কৃতিক স্লট নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে। ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন করলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কনভেনশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে। তিনি আরও জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানার ৪০তম কনভেনশনকে ঘিরে প্রস্তুতি ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধন, হোটেল বুকিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন কমিউনিটি কার্যক্রমের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। খালেদ রউফ বলেন, “ফোবানা শুধু একটি কনভেনশন নয়, এটি উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সকল সদস্য সংগঠনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”