মুসলিম হওয়াই যেন অপরাধ! জার্মানিতে ইসলামবিদ্বেষী হামলা ৪ হাজার ছাড়াল
মানবাধিকার সংগঠন 'অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া অ্যান্ড অ্যান্টি-মুসলিম হেট' (ক্লেম)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জার্মানিতে মুসলিম বিরোধী হামলা ও বৈষম্যের ঘটনা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। গত বুধবার প্রকাশিত সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশটিতে ৪ হাজার ৯৬টি ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার প্রামাণ্য নথি পাওয়া গেছে। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ বছরজুড়ে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ১১টিরও বেশি মুসলিম বিরোধী ঘটনা ঘটেছে।
বার্লিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে 'ক্লেম'-এর সহ-পরিচালক রিমা হানানো জানান, এসব ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মৌখিক হামলার অভিযোগ, যার সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৯টি (৬১ শতাংশ)। এরপরই রয়েছে ৮৪০টি বৈষম্যমূলক ঘটনা (২১.৫ শতাংশ) এবং শারীরিক নির্যাতন ও সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ৬৮৯টি ক্ষতিকর আচরণের (১৭.৪ শতাংশ) ঘটনা।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মাত্রাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যাকাণ্ড, গুরুতর জখম বা হত্যাচেষ্টাসহ ২১৪টি শারীরিক আঘাতের ঘটনা এবং অন্তত পাঁচটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিমা হানানো বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, এসব বর্ণবাদী হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন মূলত নারীরা, যা মোট একক ভুক্তভোগীদের প্রায় ৬৪.৫ শতাংশ।
এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলায় জার্মান সরকারকে ইসলামবিদ্বেষী বর্ণবাদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ের এই সমস্যা সমাধানে দেশের রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছার ওপর আর বিন্দুমাত্র 'আস্থা নেই'।
প্রায় সাড়ে ৮ কোটি জনসংখ্যার দেশ জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৫৫ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা ফ্রান্সের পর পশ্চিম ইউরোপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে 'অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি' (এএফডি)-এর মতো কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী আন্দোলনের প্রভাবে দেশটিতে মুসলিম বিরোধী বর্ণবাদ ও সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreবিশ্বের শীর্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার (Nvidia) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াংয়ের বিরুদ্ধে এক চীনা নারী গুপ্তচরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র ও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা মহলে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিষয়টির আনুষ্ঠানিক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির কংগ্রেস। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন মেমো অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেগাস্পিডের নির্বাহী অ্যালিস হুয়াংয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন জেনসেন। মেগাস্পিড মূলত এনভিডিয়ার একটি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের ঠিক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাতে ওই গোপন মেমোটি পৌঁছায়। জেনসেন হুয়াং আধুনিক এআই প্রযুক্তির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত চিপ তৈরির নেতৃত্বে রয়েছেন। ফলে তিনি কোনো চীনা গোয়েন্দা এজেন্টের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মার্কিন স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছেন কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম জেনসেন ও অ্যালিসের 'ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক' এবং অ্যালিসের চীনের সঙ্গে গোয়েন্দা-যোগাযোগ নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে। এরপর ৩১ অক্টোবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায় যে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অ্যালিসকে চীনা গুপ্তচর বলে সন্দেহ করছে। সর্বশেষ ৬ নভেম্বর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও নিউইয়র্ক টাইমস সরাসরি দাবি করে, অ্যালিস হুয়াং একজন চীনা গুপ্তচর এবং জেনসেনের ওপর নজরদারি করার জন্যই চীনের শীর্ষ গোয়েন্দারা তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল চীনে চিপ রপ্তানির অনুমতি পেতে মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য জেনসেনকে প্রভাবিত করা। এই ঘটনার জেরে আগামী জানুয়ারি থেকে সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস পূর্ণাঙ্গ কংগ্রেসীয় তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের চীন, পররাষ্ট্র ও গোয়েন্দাবিষয়ক কমিটির রিপাবলিকান প্রধানেরা জেনসেন হুয়াংকে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে হাজির হয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এনভিডিয়া ও জেনসেন হুয়াং দৃঢ়ভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, অ্যালিসের সঙ্গে জেনসেনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ পেশাদার ও ব্যবসায়িক ছিল এবং কোনো সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান করা হয়নি। চীন সরকারও একে 'বানোয়াট রাজনৈতিক অপপ্রচার' বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে রপ্তানি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এনভিডিয়ার চিপ কীভাবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।
মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭ বাংলাদেশির, একই পরিবারের ৪ জন নি হত
মধ্যরাতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান, আহত অন্তত ২৪ জন
রাতের খাবারে কী সবজি রান্না করবে? প্রশ্ন করায় স্বামীকে হত্যা করলেন স্ত্রী
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী রাজনীতিক নাদিয়া শাহের দীর্ঘ ১২ বছরের কাউন্সিলর জীবনের অবসান ঘটেছে। ২০১৬ সালে ক্যামডেনের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পরাজিত হন লেবার পার্টির এই রাজনীতিক। কাউন্সিলর পদ হারালেও ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনীতি, সমাজসেবা এবং নারী নেতৃত্বে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য হয়ে রয়েছে। ক্যামডেন কাউন্সিলের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, রিজেন্টস পার্ক ওয়ার্ড থেকে এবার ৯০৫ ভোট পেয়েছেন নাদিয়া শাহ। এই ওয়ার্ডের তিনটি আসনই জিতেছে গ্রিন পার্টি। নির্বাচনে ভিক্টোরিয়া মেরি পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৮ ভোট, মুহাম্মদ আবু নাসের ১ হাজার ৫৪ এবং রুমান জাইগিরদার ১ হাজার ১০ ভোট। বিপরীতে লেবার পার্টির তিন প্রার্থীর কেউই জয়ী হতে পারেননি। এর ফলে ২০১৪ সাল থেকে টানা কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাদিয়া শাহকে এবার বিদায় নিতে হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচিত প্রতিনিধির পদ থেকে। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় পৈতৃক শিকড় থাকলেও নাদিয়া শাহের জন্ম ও বেড়ে ওঠা লন্ডনের ক্যামডেনে। সেখানেই তাঁর স্কুলজীবন কাটে। ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় কমিউনিটির নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কিশোরী বয়সে তরুণদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং পেশায় কাজ করার পাশাপাশি সমাজসেবা, যুব উন্নয়ন, কমিউনিটি সেন্টার পরিচালনা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। ব্রিটিশ বাংলাদেশি হুজ হুতে প্রকাশিত তাঁর জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, নাদিয়া শাহ কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ব্যাংকিং খাতে। পরে নারী, শিশু ও তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের সরকারি ও সামাজিক সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁকে রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। ২০১৪ সালের মে মাসে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ক্যামডেনের রিজেন্টস পার্ক ওয়ার্ড থেকে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন নাদিয়া শাহ। এরপর ২০১৫ সালে ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পান। পরের বছর, ১১ মে ২০১৬ সালে ক্যামডেন টাউন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি হন যুক্তরাজ্যের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী মেয়রদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে প্রথম স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব। ক্যামডেন বরোর এই মেয়র পদ মূলত স্থানীয় নাগরিক ও আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব, যা লন্ডনের কেন্দ্রীয় মেয়র পদের চেয়ে আলাদা। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেন নাদিয়া শাহ। ক্যামডেন কাউন্সিলের তৎকালীন ঘোষণা অনুযায়ী, মেয়র থাকাকালে তিনি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করা আনা ফ্রয়েড সেন্টারের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সহায়তার বিষয়েও কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে কাউন্সিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে জননিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং কমিউনিটি উন্নয়নের বিষয়গুলোতে যুক্ত ছিলেন তিনি। সমাজসেবায় অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ক্যামডেন কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড পান নাদিয়া শাহ। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগঠন সুরমা সেন্টারের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিন সন্তানের এই মা পারিবারিক জীবন ও পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ক্যামডেনের লেবার পার্টির প্রকাশিত প্রোফাইলেও শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশুদারিদ্র্য এবং কমিউনিটির মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে কাউন্সিলর হিসেবে নাদিয়া শাহের ১২ বছরের অধ্যায় শেষ হলেও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন হয়ে রয়েছে ২০১৬ সালে মেয়র হওয়া। লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার এই নারী ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীদের প্রতিনিধিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। সংবাদসূত্র: ক্যামডেন কাউন্সিল, ক্যামডেন লেবার, দ্য ডেইলি স্টার
নেতানিয়াহুকে বাদ দিয়ে আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দায়িত্ব পেলেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
দুবাইয়ের জরুরি চিকিৎসাসেবায় সুপারকারের বিশ্বরেকর্ড, ঘণ্টায় গতি ৩৯৫ কিলোমিটার
ভারতের তামিলনাড়ুতে জেলেদের কাছ থেকে পাঁচ কেজি জীবন্ত মাছ কিনে সেগুলো আবার সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে রাজ্যের ধানুশকোডি সমুদ্রসৈকতে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী মাছগুলো পানিতে ছেড়ে দিচ্ছেন। দিল্লি থেকে আসা এক দম্পতি মাছগুলোর জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে এমন কাজ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁদের এই উদ্যোগকে কেউ মানবিকতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের ৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্ট থেকে ঘটনাটি আলোচনায় আসে। পোস্টে দাবি করা হয়, দিল্লির এক দম্পতি তামিলনাড়ুর ধানুশকোডি সমুদ্রসৈকতে স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে পাঁচ কেজি জীবন্ত মাছ কেনেন। এরপর মাছগুলো বিক্রির পরিবর্তে আবার সমুদ্রে ছেড়ে দেন। গত ৫ নভেম্বর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই দম্পতির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, প্রাণের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাছগুলো শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকবে কি না, সেটি নিশ্চিত না হলেও অন্তত সেগুলোকে আবার পানিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, মাছগুলো ভবিষ্যতে আবার জেলেদের জালে আটকা পড়তে পারে কিংবা অন্য সামুদ্রিক প্রাণীর শিকার হতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে একটি মাছও যদি বেঁচে যায়, তাহলে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দম্পতির উদ্দেশ্য না বুঝে তাঁদের সমালোচনা করা উচিত নয়। অন্যদিকে, অনেকেই পুরো বিষয়টিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, জেলেদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে মাছ কিনে আবার সেই সমুদ্রেই ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে বাস্তবে কতটা উপকার রয়েছে? সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এতে জেলেরা মাছ বিক্রির অর্থ পেয়েছেন এবং দম্পতি মাছগুলোকে মুক্ত করে মানসিক তৃপ্তি পেয়েছেন। কিন্তু সামুদ্রিক প্রাণীর সুরক্ষায় এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর, তা স্পষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পক্ষের বক্তব্য, কাউকে ক্ষতি না করে নিজের বিশ্বাস ও মানবিক অনুভূতি থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আপত্তির কিছু নেই। তাঁদের মতে, প্রাণীকে বাঁচানোর চেষ্টা করার জন্য কাউকে উপহাস করা উচিত নয়। তবে অন্যরা বলছেন, শুধু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই কোনো উদ্যোগ বাস্তবে কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ঘটনাটি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অজানা রয়ে গেছে। মাছগুলো কী প্রজাতির ছিল, কতক্ষণ পানির বাইরে ছিল কিংবা সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়ার পর সেগুলোর কী হয়েছে, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তাঁরা সত্যিই দিল্লির বাসিন্দা কি না, সেটিও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, মাছগুলোকে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়ার ভিডিওটি প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা এবং বাস্তবসম্মত প্রাণী সুরক্ষার বিষয়কে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। দম্পতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশংসা ও সমালোচনা চললেও তাঁদের উদ্যোগে মাছগুলোর জীবন রক্ষা পেয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিতে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
নেতানিয়াহুর বিদায়ের ঘণ্টা, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট