'৯/১১ আমেরিকার কর্মকাণ্ডের ফল’ মন্তব্য, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে হাসান পিকারের বক্তৃতা বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্ট্রিমার হাসান পিকারের একটি নির্ধারিত বক্তৃতা বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ স্পিকার সিরিজের অংশ হিসেবে তার এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের প্রক্রিয়া প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করার পর দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত স্পিকার সিরিজের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যায়ের যথাযথ পরিকল্পনা ও পর্যালোচনা এতে ছিল না। এ কারণে অনুষ্ঠানটি আর অনুষ্ঠিত হবে না।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের নিয়ম ও প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ার সময়ে বিতর্কিত ও বিভাজনমূলক বিষয় নিয়ে আরও কার্যকর আলোচনা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতা ও ফ্রি স্পিচ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন প্রশ্ন তুলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তটি সত্যিই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রক্রিয়াগত সমস্যার কারণে নেওয়া হয়েছে, নাকি পিকারের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার প্রভাব ছিল।
সংগঠনটির বক্তব্য, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তার আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করতে পারে। তবে কোনো বক্তার রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বক্তব্যের কারণে তাকে বাদ দিতে গিয়ে সেই মানদণ্ডকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন মানদণ্ড পূরণ হয়নি এবং তা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা দেখানো উচিত বলেও সংগঠনটি মন্তব্য করেছে।
হাসান পিকার বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য পরিচিত। অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক দর্শক তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে তার বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে অতীতেও বিতর্ক হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি মন্তব্য ছিল ৯/১১ হামলা নিয়ে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের ওই সন্ত্রাসী হামলা প্রসঙ্গে পিকারকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা যায়। পরে তিনি ওই মন্তব্যকে অনুপযুক্ত বলে স্বীকার করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়েও যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে পিকারের মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করেছে। মিশিগানে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রচারণায়ও তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। এল-সায়েদ ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে জয় পাওয়ার পর দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত পোষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পিকারের মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা হয়।
ডেমোক্রেটিক দলের অভিজ্ঞ কৌশলবিদ জেমস কারভিলও পিকারের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন। কারভিলের মতে, ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পিকারের মতো ব্যক্তিদের প্রভাব বাড়লে দলের দিকনির্দেশনা নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন নিজস্ব নীতিতে জানিয়েছে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তারা আইনসম্মত মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়, স্থান ও পদ্ধতি সংক্রান্ত নিয়ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়।
ফলে পিকারকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি শুধু একজন বিতর্কিত বক্তার অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের বক্তব্যের সুযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়োজনের মানদণ্ড কতটা কঠোর হওয়া উচিত, সেই পুরোনো বিতর্কই আবার সামনে এসেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreঅ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই, গুগল ডিপমাইন্ড ও মেটাসহ বিশ্বের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের ১,২০০-এর বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। ‘Pacing the Frontier’ নামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা সতর্ক করেছেন, এআই গবেষণা ও উন্নয়ন এমন গতিতে এগোচ্ছে যে ভবিষ্যতে এর ক্ষমতা মানুষের বোঝাপড়া ও নিয়ন্ত্রণের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন একটি কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করা, যার মাধ্যমে প্রয়োজন হলে সবচেয়ে উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই প্রযুক্তির বিকাশের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে কমানো সম্ভব হবে। এর লক্ষ্য এআই উন্নয়ন বন্ধ করা নয়, বরং প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা। এই উদ্যোগে অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেইসহ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন সহপ্রতিষ্ঠাতা, ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জাকুব পাচোকি, মেটার প্রধান বিজ্ঞানী শেংজিয়া ঝাও এবং গুগল ডিপমাইন্ডের এআই সেফটি অ্যান্ড অ্যালাইনমেন্ট বিভাগের প্রধান আনকা ড্রাগানসহ শীর্ষ পর্যায়ের প্রযুক্তিবিদরা স্বাক্ষর করেছেন। ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান একে অপরের সঙ্গে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থেকে আরও শক্তিশালী এআই মডেল তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের কর্মীরাই এখন প্রযুক্তির গতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। এআই খাতের দ্রুত বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই এমন অবস্থান প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা স্পষ্ট করছে। এর পেছনে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান স্বয়ংক্রিয় সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগও কাজ করছে। বিশেষ করে এমন এআই ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, যেগুলো ভবিষ্যতে মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই এআই গবেষণা, কোডিং বা নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের সিস্টেম তৈরির কাজে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের একাংশ এটিকে ‘রিকার্সিভ সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এদিকে এআই নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। ওপেনএআই সম্প্রতি নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তাদের একটি এআই মডেলের উন্নয়ন সাময়িকভাবে থামিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই এজেন্টগুলোর ক্রমবর্ধমান স্বায়ত্তশাসন এবং সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে নতুন এই উদ্যোগকে এআই উন্নয়ন পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্বাক্ষরকারীরা এমন প্রযুক্তিগত ও নীতিগত ব্যবস্থা চান, যাতে এআইয়ের সক্ষমতা মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তুলনায় অতিরিক্ত দ্রুত এগিয়ে না যায়। এআই খাতের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি কতটা দ্রুত হওয়া উচিত এবং সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা, আইন ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা কীভাবে তৈরি করা যাবে। ১,২০০-এর বেশি এআই কর্মীর এই উদ্যোগ সেই বিতর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সামনে আরও জোরালোভাবে নিয়ে এসেছে।
'৯/১১ আমেরিকার কর্মকাণ্ডের ফল’ মন্তব্য, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে হাসান পিকারের বক্তৃতা বাতিল
প্রেসিডেন্ট হয়েও রেহাই নেই! টেইলর সুইফটের গান ব্যবহার করে কপিরাইটের খপ্পরে ট্রাম্পের টিম
জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে যন্ত্রণাদায়ক ক্যানসার
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির বড় বড় হাউজিং মার্কেটের অনেকগুলোতেই বাড়ি মালিকেরা চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি শহরে চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হওয়া বাড়ির হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। রিয়েল এস্টেট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেডফিনের ৫০টি বড় আবাসন বাজার নিয়ে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বাড়ির ৫৫ শতাংশই মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালের পর মে মাসের হিসাবে এটি সবচেয়ে কম প্রতিযোগিতামূলক আবাসন বাজারগুলোর একটি। ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি দেখা গেছে টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে মে মাসে বিক্রি হওয়া ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ। সেখানে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। মায়ামিতে এই হার ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে ৮৪ শতাংশ। এই তালিকায় আরও রয়েছে হিউস্টন, ডালাস, টাম্পা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো ও ফোর্ট ওর্থ। হিউস্টনে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ডালাসে ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ, টাম্পায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ, ফিনিক্সে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ, অরল্যান্ডোতে ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফোর্ট ওর্থে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। রেডফিনের বিশ্লেষণ বলছে, এসব বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রবৃদ্ধি, বেশি হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ, বাড়ির মালিক সমিতির বাৎসরিক ফি এবং কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ির চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব আবাসন বাজারে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের আশপাশের কিছু এলাকা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এখনো বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। মে মাসে নিউআর্ক, নিউ জার্সিতে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে এই হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সান হোসেতে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। বাজারের এই পার্থক্যের পেছনে বাড়ির সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ভারসাম্য বড় ভূমিকা রাখছে। যেসব এলাকায় বিক্রির জন্য বাড়ি বেশি কিন্তু ক্রেতা তুলনামূলক কম, সেখানে বিক্রেতাদের দাম কমানো অথবা ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ির বিক্রেতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের অর্থ পরিশোধ, মেরামতের খরচ বহন কিংবা ঋণের সুদের হার কমানোর মতো সুবিধাও রয়েছে। অন্যদিকে, বেশি মর্টগেজ সুদের হার এবং বাড়ির তুলনামূলক বেশি দাম অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে বাজারের বাইরে রাখছে। ফলে যারা এখন বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখছেন, তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছে চাওয়া দাম কমানোর জন্য দর-কষাকষির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তবে চাওয়া দামের নিচে বাড়ি বিক্রি হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন শুরু হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো এলাকায় কতটা দর-কষাকষি করা সম্ভব, তা নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা, বাড়ির অবস্থা, একই এলাকার সাম্প্রতিক বিক্রয়মূল্য এবং বিক্রেতার পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মহামারির পরের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি বড় হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সময় মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে চুক্তি করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম বাড়ি কিনতে অপেক্ষা ৪৭ বছর পর্যন্ত, নতুন প্রতিবেদনে উঠে এলো আবাসন সংকট
বিতর্কিত মন্তব্যে পরিবার থেকে বিতাড়িত মার্কিন তরুণ, এবার ৫জি টাওয়ারের বিরুদ্ধে মস্তিষ্ক বিকৃতির অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে সাগরে ভাসমান নৌকায় বিড়ালের রাজত্ব, নেই কোনো মানুষ, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের মানডান শহরে নিজ সন্তানদের ওপর এক মায়ের ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মানসিক অস্থিরতা ও পারিবারিক বিবাদের জেরে ২২ বছর বয়সী কাইলি এরহার্ট নামে এক নারী তাঁর দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন এবং অপর এক সন্তানকে গুরুতর জখম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। আদালত ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন কাইলি এরহার্ট তাঁর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বামীর ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চড়াও হন এবং আত্মহত্যার হুমকি দেন। সে সময় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। স্বামী সাহসিকতার সঙ্গে তাঁর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিতে সক্ষম হলেও ধস্তাধস্তির সময় কাইলি তাঁকে কামড়ে ও আঁচড়ে রক্তাক্ত করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে শিশুদের দাদিও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে তাড়া করে ঘরের বাইরে বের করে দেন এবং এরপরই নিজের তিন শিশু সন্তানের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। এই হামলায় কাইলির ৫ মাস এবং ৩ বছর বয়সী দুই শিশু ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। অন্যদিকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় তাঁর ১ বছর বয়সী অপর সন্তান। তবে তাকে অত্যন্ত গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মানডান শহর পুলিশ প্রধান জেসন জিগলার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ কর্মকর্তারা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। তিনি বলেন, এমন দৃশ্য কারো কখনোই দেখা উচিত নয়। জীবনের অন্যতম এক সংকটময় ও ভয়াবহ মুহূর্তে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তাতে তিনি গর্বিত। এই ঘটনা কেবল ভুক্তভোগী পরিবার নয়, পুরো স্থানীয় সমাজ এবং প্রথম সাড়া দেওয়া উদ্ধারকর্মীদের মানসিকভাবে গভীরভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাইলি এরহার্টের বিরুদ্ধে আদালতে ৯টি ফৌজদারি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যা এবং একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন শুক্রবার জেলা জজ মেরিনা স্পার অভিযুক্তের জামিন হিসেবে নগদ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ধার্য করেন। জেলা জজ তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্তের সহিংসতার মাত্রা এবং সমাজ ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই উচ্চ জামিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেঁচে যাওয়া শিশু ও স্বজনদের সঙ্গে কাইলির সব ধরনের যোগাযোগের ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। ঘটনার পর আদালতে কাইলি এরহার্ট নিজের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেননি। মামলাটির প্রাথমিক শুনানি এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মানডান পুলিশ বিভাগ।
মায়ামি বিচে মুখোমুখি দুই চালকবিহীন গাড়ি, এক মিনিটের অচলাবস্থায় পেছনে দীর্ঘ যানজট
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান জোরদার, জর্জিয়ায় ১,২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার