যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী জ্যাকসনে মা, খালা এবং দুই বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই মামলায় মোট চারজনকে আটক করা হলো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্যাকসন পুলিশ প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি জানান, সর্বশেষ সন্দেহভাজনকে টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল মার্ডার বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হত্যার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তার পরিচয় প্রকাশ্যে আনছে না পুলিশ। গত শনিবার রাতে জ্যাকসনের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী কিয়ানা ওয়েদারসবি, তার দুই বছর বয়সী ছেলে কামারি গিভেন্স এবং ৩০ বছর বয়সী বোন এরিকা ওয়েদারসবির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী মিকাইলা ইয়াং এবং কর্নেলিয়াস কার্টার ও জর্ডান কার্টার নামের আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধেই ক্যাপিটাল মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত কাউকেই জামিন দেয়নি।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত দুই পুরুষেরই দীর্ঘ ও ভয়ংকর অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। জর্ডান কার্টারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপহরণ ও গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলা ছিল। অন্যদিকে, ঘটনার সময় আদালতের নির্দেশে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরা অবস্থায় ছিল কর্নেলিয়াস কার্টার।
পুলিশ প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন বা এলোমেলো ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলতে রাজি হয়নি পুলিশ। জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে নিহত দুই বোনের ভাই ডেমার্কো বেইলি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে তার পরিবার ও ছোট্ট ভাগ্নের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার দুই বোন অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এবং মিলেমিশে শিশুটিকে বড় করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে ফেডারেল সংস্থা ও এফবিআই। পুলিশ একটি সন্দেহজনক গাড়ির সূত্র ধরে প্রথম দুই সন্দেহভাজনকে আটকের সময় বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে, যা বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও নিহতদের একটি নিখোঁজ গাড়ি পরদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
জ্যাকসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরে সম্প্রতি বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩৮টিই বন্দুক হামলার ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহর কর্তৃপক্ষ বিশেষ দল গঠন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে বিশেষ বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেছে গাজী ফাউন্ডেশন। আজ রবিবার (৫ জুলাই) স্থানীয় লাকি সোলস পার্কে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মৌসুমি ফলমূল ও চিকেন বারবিকিউসহ বিভিন্ন আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রবাসে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আয়োজকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাদের মতে, এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে এ ধরনের মিলনমেলা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ একসঙ্গে উদযাপনের সুযোগ পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠান শেষে গাজী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম গাজী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিইউআই) অপরাধে ১৭০ জন চালককে গ্রেপ্তার করেছে স্টেট ট্রুপাররা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে গ্রেপ্তারকৃত চালকের এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ছুটির এই আনন্দঘন সময়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ব্যাপক অভিযানের মাঝেই বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তারের এই ঘটনা ঘটে। ব্যাপক ধরপাকড় সত্ত্বেও স্বাধীনতা দিবসের উৎসবমুখর এই দিনে জর্জিয়ার সড়কগুলোতে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়নি। স্টেট ট্রুপাররা ওই দিন অন্তত চারটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এছাড়া রাজ্যব্যাপী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর দেওয়া সম্মিলিত তথ্যমতে, ৪ জুলাইয়ের ছুটিতে পুরো জর্জিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বমোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। ছুটির দিনে বেপরোয়া ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণেই মূলত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত আটলান্টার মহাসড়কে ভারী যানজট এবং শহরের আকাশচুম্বী ভবনের পটভূমিতে ধারণ করা একটি ছবি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। ছবিটি ছুটির দিনে মহাসড়কে ভ্রমণের তীব্র ঝুঁকি এবং মদ্যপ চালকদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের একটি স্পষ্ট চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি চালকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ মার্কিন প্রশাসনের সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হয়ে তিনবার ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন মেক্সিকান বংশোদ্ভূত বেনিটো মিরান্ডা হার্নান্দেজ। সামরিক সেবার বিনিময়ে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, আজ তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিরতরে বিতাড়িত হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে মার্কিন ফেডারেল কোর্টহাউসের সামনে হার্নান্দেজের মুক্তির দাবিতে জড়ো হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী। 'ব্ল্যাক ডিপোর্টেড ভেটেরানস অব আমেরিকা'-এর প্রতিষ্ঠাতা জেমস স্মিথ সেখানে হার্নান্দেজের পদক পরা একটি ছবি দেখিয়ে তার মুক্তির জোর দাবি জানান। শিশু বয়সে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা হার্নান্দেজ সামরিক জীবন শেষে সাধারণ জীবনে ফিরতে চরম মানসিক সংগ্রামের মুখোমুখি হন। এর জেরে মাদক সংক্রান্ত এক মামলায় জড়িয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি। গত ১৪ জুন তার সাজার মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু কারাগার থেকে বের হয়ে অপেক্ষারত মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার বদলে তাকে সরাসরি আটক করে আইস হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাকে সান দিয়েগোর ওটে মেসা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অপরাধের রেকর্ড থাকা অভিবাসীদের বিতাড়নের যে কড়া নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, হার্নান্দেজের আটক তারই একটি অংশ। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যুদ্ধফেরত এসব সেনারা চরম মানসিক অবসাদ ও ট্রমাতে ভুগে অনেক সময় অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, যার কারণে তারা এই কঠোর নীতির সবচেয়ে বড় শিকারে পরিণত হচ্ছেন। 'রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস'-এর প্রেসিডেন্ট ড্যানিৎজা জেমসের মতে, মার্কিন সরকার অভিবাসী সেনাদের কোনো মূল্যায়নই করে না, বরং তাদেরকে কেবল 'ব্যবহারযোগ্য বস্তু' বা ডিসপোজেবল হিসেবেই বিবেচনা করে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে অন্তত ৩৪ জন সাবেক মার্কিন সেনাকে বিতাড়নের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। নাগরিকত্বের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও আইনি দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকেই সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। ২০০৬ সালে যখন হার্নান্দেজকে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়, ততদিনে তার বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড যুক্ত হওয়ায় তার আবেদন বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে আইস ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি হার্নান্দেজ চরম হতাশায় দিন পার করছেন। আনাহেইম থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সান দিয়েগোতে ছেলেকে দেখতে আসা মা মারিয়া মিরান্ডা আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, তারা যেন একটি পাখির ডানা কেটে তাকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলেছে। তার ছেলের সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা আজ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে।