যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে আসছেন, কিংবা যারা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্য থেকে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন, তাদের অনেকের কাছেই জর্জিয়া দিনে দিনে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। একসময় যেখানে বাংলাদেশিদের প্রধান পছন্দ ছিল নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান বা টেক্সাস, সেখানে বর্তমানে তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, অনুকূল আবহাওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটির কারণে জর্জিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে।
কমিউনিটি সূত্রে ধারণা করা হয়, বর্তমানে জর্জিয়া রাজ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের বড় অংশই মেট্রো আটলান্টা এলাকায় বাস করেন। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন, বাড়ি কিনছেন, ব্যবসা শুরু করছেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্থায়ী হচ্ছেন।
জর্জিয়ার বড় শহর ও রাজধানী আটলান্টা এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ট্রাকিং, পরিবহন, কর্পোরেট চাকরি, ছোট ব্যবসা এবং সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশিদের অনেকেই এই রাজ্যে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি Hartsfield-Jackson Atlanta International Airport এখানেই অবস্থিত, ফলে দেশ-বিদেশে যাতায়াতও সহজ।
বিশেষ করে ডোরাভিল, চাম্বলি, লরেন্সভিল, লিলবার্ন, টাকার, নরক্রস এবং গুয়িনেট কাউন্টি -এর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিদের বসতি দ্রুত বেড়েছে। এসব এলাকায় এখন বাংলাদেশি পরিবার, ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তুলনামূলক কম ভাড়া, ভালো স্কুল, নিরাপদ পরিবেশ এবং বড় বাসার সুযোগ থাকায় পরিবারগুলো এসব এলাকাকে পছন্দ করছেন।
জর্জিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য এখন অসংখ্য গ্রোসারি স্টোর, হালাল মার্কেট, পোশাকের দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সেবামূলক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। চাল, ডাল, ইলিশ, রুই, দেশি সবজি, মসলা, মিষ্টি—সবকিছু সহজেই পাওয়া যায়। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রবাস জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিরিয়ানি, কাচ্চি, নেহারি, ভর্তা, ফুচকা, চা-নাশতা থেকে শুরু করে নানা দেশি খাবার এখন সহজেই মিলছে। সপ্তাহান্তে অনেক পরিবার এসব রেস্টুরেন্টে একত্রিত হন, যা কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করছে। কোন কোন রেস্টুরেন্ট আবার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।
জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ জর্জিয়া। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ পুনর্মিলনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক পিকনিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। নতুন যারা জর্জিয়ায় আসেন, তাদের জন্যও এই সংগঠন পরিচিতি ও কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
মুসলিম পরিবারগুলোর জন্যও জর্জিয়া এখন দিনে দিনে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। রাজ্যজুড়ে বহু মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, পূর্ণকালীন ইসলামিক স্কুল, উইকেন্ড স্কুল এবং কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যা পরিবারগুলোকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী পরিবেশ দিচ্ছে।
বিশেষ করে আটলান্টার আশেপাশে শতাধিকের কাছাকাছি মসজিদ, মুসল্লা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে বলে বিভিন্ন কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়। নিয়মিত জুমা নামাজ, রমজানে তারাবিহ, বড় পরিসরে ইফতার, ঈদ জামাত, শিশু-কিশোরদের ইসলামিক ক্লাস, হিফজ প্রোগ্রাম এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি মুসলিম শিশুদের জন্য একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ইসলামিক স্কুলও পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যারা ধর্মীয় পরিবেশ, সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষা এবং মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে থেকে পরিবার গড়তে চান, তাদের কাছে জর্জিয়া এখন একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এগিয়ে। রাজ্যটিতে রয়েছে বিশ্বখ্যাত Georgia Institute of Technology, Emory University, Georgia State University, University of Georgia সহ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে।
জর্জিয়ার আবহাওয়াও অনেকের কাছে আরামদায়ক। শীত তুলনামূলক সহনীয়, বরফ কম পড়ে, আবার দীর্ঘ গরম মৌসুম থাকায় দক্ষিণ এশীয়দের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় জীবনযাত্রার খরচও অনেক কম।
পর্যটনের দিক থেকেও জর্জিয়া সমৃদ্ধ। Georgia Aquarium, Stone Mountain Park, Savannah এবং Blue Ridge Mountains সহ অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
অনেকেই বলেন, আটলান্টা হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নিউইয়র্ক। কারণ নিউইয়র্ক যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা, বৈচিত্র্য ও সুযোগের কেন্দ্র, তেমনি আটলান্টা দক্ষিণাঞ্চলে সেই একই ভূমিকা পালন করছে। এখানে নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আফ্রিকান, আরব, হিস্পানিকসহ বহু কমিউনিটির উপস্থিতি শহরটিকে বহুজাতিক ও প্রাণবন্ত করেছে।
তবে নিউইয়র্কের তুলনায় আটলান্টার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ। বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনা, পার্কিং, দৈনন্দিন খরচ এবং পরিবার নিয়ে থাকার পরিবেশ অনেক বেশি সুবিধাজনক। তাই যারা বড় শহরের সুযোগ-সুবিধা চান কিন্তু নিউইয়র্কের অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে চান, তাদের কাছে আটলান্টা এখন অন্যতম সেরা বিকল্প।
কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। কারণ এখানে সুযোগ আছে, কমিউনিটি আছে, শিক্ষা আছে, ধর্মীয় পরিবেশ আছে এবং পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তব সম্ভাবনাও রয়েছে।
অনেকের ভাষায়, জর্জিয়া এখন শুধু একটি স্টেট নয়—এটি বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার পর এবার ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কাছে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মরিশাসের কাছ থেকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ সরাসরি কিনে নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অর্থমন্ত্রী Scott Bessent এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। যদিও এটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রধান বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিকল্প নয়, তবুও সম্ভাব্য কয়েকটি নীতিগত বিকল্পের মধ্যে বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে। চাগোস দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-এর সরকার এ নিয়ে একটি চুক্তির পথে এগোলেও ২০২৬ সালে তা স্থগিত হয়ে যায়। ট্রাম্প ওই পরিকল্পনাকে আগে "বড় ভুল" বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Diego Garcia। এখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিটি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ডিয়েগো গার্সিয়ার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ওয়াশিংটন চায় না যে দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হোক, যা ঘাঁটির কার্যকারিতা বা নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পায়নি বলে জানিয়েছে Mauritius সরকার। সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে চাগোস বা ডিয়েগো গার্সিয়া নিয়ে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। একই সঙ্গে মরিশাস পুনর্ব্যক্ত করেছে যে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব ‘আলোচনাতীত’। চাগোস দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে বিরোধ নতুন নয়। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ডিয়েগো গার্সিয়ায় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের সময় হাজারো স্থানীয় চাগোসবাসীকে দ্বীপ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এরপর থেকে দ্বীপটির মালিকানা, পুনর্বাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আদালতও অতীতে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন আলোচনা কেবল ভূখণ্ডের মালিকানার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে ভারত মহাসাগরে সামরিক প্রভাব, চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলও গভীরভাবে জড়িত। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মরিশাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলাফল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের (বিশেষ বাহিনী) সদস্যদের ওপর হামলার ছক কষার অভিযোগে মার্কিন নৌবাহিনীর এক সেনাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ড্রোন, গ্রেনেড এবং রকেট চালিত গ্রেনেড (আরপিজি) ব্যবহার করে এই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করেছিল তারা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এফবিআইয়ের এক অভিযানের পর গত শুক্রবার তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোর লেকসাইড এলাকার বেরিন জায়ী (২৫), টুলারে কাউন্টির ইলিয়াস শামসালদিন (২১) এবং কানসাসের বিসাম গফুর (২১)। কানসাসের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই তিনজন গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চরমপন্থি চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করে আসছিলেন এবং আইএসে যোগ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ারও পরিকল্পনা করছিলেন। এমনকি তারা আইএস নেতাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সংগঠনটিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। এফবিআইয়ের এক গোপন তথ্যদাতার মাধ্যমে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রথম তাদের এই পরিকল্পনার কথা সামনে আসে। অভিযুক্তরা ওই তথ্যদাতাকে আইএসের একজন সক্রিয় সদস্য বলে মনে করতেন। তদন্তে অভিযুক্তদের নৃশংস পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে এসেছে। বিসাম গফুর ওই গোপন তথ্যদাতাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি মার্কিন নারী সেনাদের শিরশ্ছেদ করতে চান এবং সুযোগ পেলে ৩০ কোটি আমেরিকানকে হত্যা করবেন। এছাড়া তাদের কথোপকথনে স্পেশাল ফোর্সের ওপর রকেট ও ড্রোন হামলার বিস্তারিত আলোচনাও পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্রে এমন একটি ছবিও যুক্ত করা হয়েছে যেখানে একটি পিকআপ ট্রাকে রাখা আরপিজিতে আরবি ভাষায় 'বিসাম শাহজাদ গফুর' লেখা ছিল। অন্যদিকে ইলিয়াস শামসালদিন স্বীকার করেন যে ছোটবেলা থেকেই তার মা তাদের মার্কিন নাগরিকদের হত্যা করতে উৎসাহিত করতেন। হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গফুর একে-৪৭ রাইফেল কেনার জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন বলেও জানা গেছে। হামলার ছকের পাশাপাশি তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও নগদ অর্থের মাধ্যমে আইএসের কাছে তহবিলও পাঠাতেন। গফুর কানসাস সিটির একটি মসজিদে ছদ্মবেশী এফবিআই এজেন্টের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিয়েছিলেন এবং শামসালদিন আইএসকে সহায়তার জন্য প্রায় এক হাজার ৫৯০ ডলার পাঠিয়েছিলেন। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার লেকসাইড এলাকায় বেরিন জায়ীকে গ্রেপ্তারের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের হতবাক করেছে। পেন্টাগন এখনও জায়ীর সামরিক অবস্থানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না করলেও, তার এক সাবেক সহপাঠী এবং প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন যে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সাদা ভ্যানে করে আসা সশস্ত্র বাহিনীর আচমকা এই অভিযান স্থানীয়দের মনে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার ফরেস্ট পার্কে গাছ ভেঙে পড়ে ৮৫ বছর বয়সী এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতের এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক শোকের ছায়া ফেলেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার পরপরই ৯১১ নম্বরে একটি জরুরি কল পেয়ে পুলিশ ফরেস্ট পার্কে ছুটে যায়। সেখানে তারা ওই বৃদ্ধকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি। শনিবার রাতে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে পার্কের বেশ কয়েকটি গাছ শিকড়সহ উপড়ে যায়। তবে এই দুর্ভাগ্যজনক প্রাণহানির ঘটনাটি সরাসরি সেই ঝড়ের কারণেই ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে পুলিশের একটি তদন্ত চলমান রয়েছে। নিউইয়র্কে বৈরী আবহাওয়ায় গাছ উপড়ে পড়ে হতাহতের এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত মেমোরিয়াল ডে-তে ব্রঙ্কসের মাউন্ট হোপ এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে ৪৯ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছিলেন, যার জন্য ভেজা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে দায়ী করেছিল পুলিশ। গত ফেব্রুয়ারিতে উইন্টার স্টর্ম হারনান্ডোর তাণ্ডবের সময় ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় একটি গাছ উপড়ে পড়লে অল্পের জন্য রক্ষা পান এক শিশু ও এক সন্ন্যাসিনী। এছাড়া গত বছর আপস্টেট নিউইয়র্কের ক্লার্ক মিলস এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ইএফ-১ মাত্রার টর্নেডোর সময় ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এমিলি ও কেনি বিসন নামের ছয় বছর বয়সী দুই যমজ বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।