জর্জিয়া স্টেট: নতুন স্বপ্নের ঠিকানা হয়ে উঠছে বাংলাদেশিদের জন্য
যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে আসছেন, কিংবা যারা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্য থেকে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন, তাদের অনেকের কাছেই জর্জিয়া দিনে দিনে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। একসময় যেখানে বাংলাদেশিদের প্রধান পছন্দ ছিল নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান বা টেক্সাস, সেখানে বর্তমানে তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, অনুকূল আবহাওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটির কারণে জর্জিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে।
কমিউনিটি সূত্রে ধারণা করা হয়, বর্তমানে জর্জিয়া রাজ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের বড় অংশই মেট্রো আটলান্টা এলাকায় বাস করেন। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন, বাড়ি কিনছেন, ব্যবসা শুরু করছেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্থায়ী হচ্ছেন।
জর্জিয়ার বড় শহর ও রাজধানী আটলান্টা এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ট্রাকিং, পরিবহন, কর্পোরেট চাকরি, ছোট ব্যবসা এবং সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশিদের অনেকেই এই রাজ্যে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি Hartsfield-Jackson Atlanta International Airport এখানেই অবস্থিত, ফলে দেশ-বিদেশে যাতায়াতও সহজ।
বিশেষ করে ডোরাভিল, চাম্বলি, লরেন্সভিল, লিলবার্ন, টাকার, নরক্রস এবং গুয়িনেট কাউন্টি -এর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিদের বসতি দ্রুত বেড়েছে। এসব এলাকায় এখন বাংলাদেশি পরিবার, ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তুলনামূলক কম ভাড়া, ভালো স্কুল, নিরাপদ পরিবেশ এবং বড় বাসার সুযোগ থাকায় পরিবারগুলো এসব এলাকাকে পছন্দ করছেন।
জর্জিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য এখন অসংখ্য গ্রোসারি স্টোর, হালাল মার্কেট, পোশাকের দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সেবামূলক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। চাল, ডাল, ইলিশ, রুই, দেশি সবজি, মসলা, মিষ্টি—সবকিছু সহজেই পাওয়া যায়। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রবাস জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিরিয়ানি, কাচ্চি, নেহারি, ভর্তা, ফুচকা, চা-নাশতা থেকে শুরু করে নানা দেশি খাবার এখন সহজেই মিলছে। সপ্তাহান্তে অনেক পরিবার এসব রেস্টুরেন্টে একত্রিত হন, যা কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করছে। কোন কোন রেস্টুরেন্ট আবার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।
জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ জর্জিয়া। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ পুনর্মিলনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক পিকনিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। নতুন যারা জর্জিয়ায় আসেন, তাদের জন্যও এই সংগঠন পরিচিতি ও কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
মুসলিম পরিবারগুলোর জন্যও জর্জিয়া এখন দিনে দিনে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। রাজ্যজুড়ে বহু মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, পূর্ণকালীন ইসলামিক স্কুল, উইকেন্ড স্কুল এবং কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যা পরিবারগুলোকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী পরিবেশ দিচ্ছে।
বিশেষ করে আটলান্টার আশেপাশে শতাধিকের কাছাকাছি মসজিদ, মুসল্লা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে বলে বিভিন্ন কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়। নিয়মিত জুমা নামাজ, রমজানে তারাবিহ, বড় পরিসরে ইফতার, ঈদ জামাত, শিশু-কিশোরদের ইসলামিক ক্লাস, হিফজ প্রোগ্রাম এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি মুসলিম শিশুদের জন্য একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ইসলামিক স্কুলও পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যারা ধর্মীয় পরিবেশ, সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষা এবং মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে থেকে পরিবার গড়তে চান, তাদের কাছে জর্জিয়া এখন একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এগিয়ে। রাজ্যটিতে রয়েছে বিশ্বখ্যাত Georgia Institute of Technology, Emory University, Georgia State University, University of Georgia সহ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে।
জর্জিয়ার আবহাওয়াও অনেকের কাছে আরামদায়ক। শীত তুলনামূলক সহনীয়, বরফ কম পড়ে, আবার দীর্ঘ গরম মৌসুম থাকায় দক্ষিণ এশীয়দের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় জীবনযাত্রার খরচও অনেক কম।
পর্যটনের দিক থেকেও জর্জিয়া সমৃদ্ধ। Georgia Aquarium, Stone Mountain Park, Savannah এবং Blue Ridge Mountains সহ অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
অনেকেই বলেন, আটলান্টা হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নিউইয়র্ক। কারণ নিউইয়র্ক যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা, বৈচিত্র্য ও সুযোগের কেন্দ্র, তেমনি আটলান্টা দক্ষিণাঞ্চলে সেই একই ভূমিকা পালন করছে। এখানে নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আফ্রিকান, আরব, হিস্পানিকসহ বহু কমিউনিটির উপস্থিতি শহরটিকে বহুজাতিক ও প্রাণবন্ত করেছে।
তবে নিউইয়র্কের তুলনায় আটলান্টার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ। বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনা, পার্কিং, দৈনন্দিন খরচ এবং পরিবার নিয়ে থাকার পরিবেশ অনেক বেশি সুবিধাজনক। তাই যারা বড় শহরের সুযোগ-সুবিধা চান কিন্তু নিউইয়র্কের অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে চান, তাদের কাছে আটলান্টা এখন অন্যতম সেরা বিকল্প।
কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। কারণ এখানে সুযোগ আছে, কমিউনিটি আছে, শিক্ষা আছে, ধর্মীয় পরিবেশ আছে এবং পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তব সম্ভাবনাও রয়েছে।
অনেকের ভাষায়, জর্জিয়া এখন শুধু একটি স্টেট নয়—এটি বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত বিচ্ছেদের এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনায় আট মাস পর মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলনের পথে যাত্রা করেছে দুই শিশু। গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গুয়াতেমালায় বহিষ্কার করার পর দুই শিশু দীর্ঘ সময় তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। অবশেষে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য মায়ামি থেকে গুয়াতেমালার উদ্দেশে তাদের যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ বিচ্ছেদের সময় শিশুদের জীবনে মায়ের অনুপস্থিতি ছিল বড় বাস্তবতা। পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এমন বিচ্ছেদ শিশুদের মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে। তবে ওই দুই শিশুর বর্তমান অবস্থা বা পুনর্মিলন সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে নিশ্চিত দাবি করা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কারণে পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শিশু কল্যাণ সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। অভিবাসন পরিস্থিতি যাই হোক, শিশুদের নিরাপত্তা, পরিচর্যা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আট মাসের অপেক্ষার পর দুই শিশুর যাত্রা বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর জন্য পুনর্মিলনের আশার প্রতীক। তবে তাদের গল্প একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পড়ে না—শিশুদের জীবনেও তা গভীর ছাপ রেখে যেতে পারে।
বাড়ি কেনার স্বপ্নে চোখে পানি, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে মা-বাবা হারানোর আতঙ্কে শিশুরা, বিচ্ছেদের কষ্টে ভাঙছে অভিবাসী পরিবার
বাড়ি কিনবেন নাকি অপেক্ষা করবেন, সুদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে লাখো পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে ভিসার আবেদন করেছিলেন বহু অভিবাসী। কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে কিছু পরিবারকে মাসের পর মাস, এমনকি তারও বেশি সময় আলাদা থাকতে হচ্ছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে এক ছাদের নিচে বসবাসের অপেক্ষা এখন অনেকের জন্য আর্থিক চাপ ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে উঠেছে। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর এক প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি পরিবারের দুর্ভোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কাজ করা সাবেক সেনাসদস্য ডাস্টিন হফম্যান তাঁর স্ত্রী গ্লোরিয়া ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও পরিবারের সদস্যদের ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। তাঁদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে এবং ১২ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে পরিবারটি আর্জেন্টিনায় অবস্থান করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে আরোপিত একটি নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও কিছু আবেদনকারী ভিসা হাতে পাননি। আবেদনকারীদের অতিরিক্ত নথিপত্র দিতে বলা হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকার সক্ষমতা যাচাইয়ের মতো বিষয়ও প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো শুধু ভিসার জন্য অপেক্ষা করছে না; তাদের দৈনন্দিন জীবনও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণ বা অন্যান্য খরচ, অন্যদিকে বিদেশে থাকা পরিবারের বাসাভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হচ্ছে কিছু আবেদনকারীকে। সন্তানদের বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা এবং পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন কাটানোর সুযোগ নিয়েও তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিবেদনে অভিবাসন আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ভিসা সাক্ষাৎকার ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণে বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিটি আবেদন একই অবস্থায় নেই। কারও আবেদন অতিরিক্ত যাচাইয়ের পর্যায়ে থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে আলাদা আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এ ধরনের খবর গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান কিংবা মা-বাবাকে পারিবারিক অভিবাসন ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের আবেদনসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত যাচাই করা উচিত। তবে প্রতিবেদনে বর্ণিত ঘটনাগুলোকে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা স্থগিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না; কোন দেশের নাগরিক ও কোন ধরনের ভিসা প্রক্রিয়ার আওতায় পড়ছে, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকারি নোটিশ ও দূতাবাসের নির্দেশনা অনুসরণ করা, চাওয়া নথিপত্র সময়মতো জমা দেওয়া এবং প্রয়োজনে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিসা চালু হওয়া বা বন্ধ হওয়ার খবর যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা উচিত নয়।
নিউইয়র্কে প্রথমবারের আয়োজন ঘিরে উৎসব, নিজেদের শিকড়ের গল্প শোনালেন অভিবাসীরা
নিউইয়র্কে অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য নতুন সুযোগ, উপকৃত হতে পারেন বাংলাদেশিরাও
জর্জিয়ায় ভুল পথে গাড়ি চালাতে গিয়ে ১৪ জনের প্রাণ বাঁচালেন অপরিচিত ব্যক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে কম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়ায় নতুন অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্রঙ্কসের চারটি আবাসিক ভবনে মোট ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার জন্য হাউজিং লটারি চালু করেছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। এসব অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ৭৩২ ডলার থেকে। এক বেডরুম থেকে তিন বেডরুম পর্যন্ত বাসার জন্য আবেদন করা যাবে। তবে আবেদনকারীর পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও বার্ষিক আয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে। আবেদন করার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর ২০২৬। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স ইলেভেনের এক প্রতিবেদনে এই সুযোগের কথা জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং পোর্টাল এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্টের তথ্য অনুযায়ী, মরিস হাইটস ও ইউনিভার্সিটি হাইটস নামে প্রকাশিত এই হাউজিং লটারির আওতায় ব্রঙ্কসের চারটি ভবনে অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়া হবে। ভবনগুলোর ঠিকানা হলো ১৬৪৭ পপহ্যাম অ্যাভিনিউ, ৩০ ওয়েস্ট ১৮২তম স্ট্রিট, ২২৭৫ লরিং প্লেস নর্থ এবং ৮৪৪ ফেইল স্ট্রিট। ভবনগুলো মরিস হাইটস, ইউনিভার্সিটি হাইটস ও হান্টস পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত। এই চারটি ভবনে লটারির মাধ্যমে মোট ১৬টি এক বেডরুম, ১৩টি দুই বেডরুম এবং একটি তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়া হবে। সবচেয়ে কম ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট দুটি রয়েছে ৩০ ওয়েস্ট ১৮২তম স্ট্রিটের ভবনে। এক বেডরুমের এসব অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ৭৩২ ডলার। এ ধরনের বাসার জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় সাধারণভাবে ২৯ হাজার ৪১৮ থেকে ৪৫ হাজার ৮১০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে। তবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী সর্বোচ্চ আয়ের সীমা আলাদা হবে। অন্যদিকে আরও নয়টি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৩৬৯ ডলার এবং পাঁচটির ভাড়া ২ হাজার ৫ ডলার। এসব অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত আয়ের সীমা পূরণ করতে হবে। দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া শুরু হচ্ছে মাসে ১ হাজার ৬২৭ ডলার থেকে। এই ভাড়ায় নয়টি অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যাবে, যেখানে পরিবারের বার্ষিক আয় সাধারণভাবে ৬১ হাজার ৫০৯ থেকে ৯১ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। আরও চারটি দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩৯০ ডলার। এসব বাসার জন্য সর্বোচ্চ পারিবারিক আয়ের সীমা ১ লাখ ২৮ হাজার ২৪০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া তিন বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৮৬৩ ডলার। এই বাসার জন্য তিন থেকে সাত সদস্যের পরিবার আবেদন করতে পারবে, তবে আয়সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। নতুন অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বসবাসকারীদের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধাও রাখা হয়েছে। ভবনভেদে লন্ড্রি সুবিধা, এলিভেটর এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের উপযোগী প্রবেশপথ রয়েছে। বাসার মাসিক ভাড়ার মধ্যে হিটিংয়ের জন্য ব্যবহৃত গ্যাসের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিদ্যুতের বিল ভাড়াটিয়াদের আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে। রান্নার জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক স্টোভের বিদ্যুৎ খরচও ভাড়াটিয়ার দায়িত্বে থাকবে। ফলে শুধু মাসিক রেন্ট নয়, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য নিয়মিত খরচ বিবেচনা করে আবেদনকারীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই হাউজিং লটারিতে নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারী অগ্রাধিকার পাবেন। প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী, মোট অ্যাপার্টমেন্টের ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে ব্রঙ্কসের কমিউনিটি বোর্ড ২, ৫ ও ৭ এলাকার বর্তমান বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিটি সরকারের কর্মচারী ও সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্যদের জন্যও অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। চলাচলে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং দৃষ্টি বা শ্রবণপ্রতিবন্ধী আবেদনকারীদের জন্যও নির্ধারিত অ্যাপার্টমেন্ট সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। তবে অগ্রাধিকার পাওয়ার অর্থ সরাসরি বাসা নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগ্রহী ব্যক্তিরা নিউইয়র্ক সিটির সরকারি এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট পোর্টালে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমে নিজের নাম, বর্তমান ঠিকানা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং বার্ষিক আয়ের তথ্য দিয়ে একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। এরপর মরিস হাইটস বা ইউনিভার্সিটি হাইটস হাউজিং লটারি খুঁজে আবেদন জমা দিতে হবে। এটির লটারি নম্বর ৭৬২৫। আবেদন নির্বাচিত হলে আয় যাচাইয়ের জন্য পে-স্টাব, ট্যাক্স রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। অনলাইনের পাশাপাশি নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাগজের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, হাউজিং লটারিতে আবেদন করতে কোনো ফি লাগে না। কেউ আবেদন দ্রুত অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচিতে নাগরিকত্ব বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি প্রকল্পের আলাদা যোগ্যতার শর্ত রয়েছে এবং আবেদন করার পর বাসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। লটারিতে নির্বাচিত হলে পরবর্তী ধাপে আয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য এই হাউজিং লটারি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা উচ্চ রেন্টের কারণে আর্থিক চাপে রয়েছেন এবং কম খরচে বাসা খুঁজছেন, তাঁরা নিজেদের আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী আবেদন করার যোগ্যতা পরীক্ষা করতে পারেন। তবে ৭৩২ ডলারের বাসা মাত্র দুটি এবং সব অ্যাপার্টমেন্ট একই ভাড়ায় পাওয়া যাবে না। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া, আয়ের সীমা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। আবেদন করার শেষ দিন ১৮ নভেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা না দিলে এই লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র নিয়ে বাড়ছে ভোটারদের উদ্বেগ, নতুন জরিপে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ রাজ্যে কমেছে ক্রেডিট কার্ডের লিমিট, বিপাকে গ্রাহকরা