আন্তর্জাতিক

শান্তি আলোচনার খবরে কমছে তেলের দাম; ব্যারেল প্রতি নামল ১০০ ডলারের নিচে

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ২৩:৫২
ছবি: প্রতীকী
ছবি: প্রতীকী

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলারের নিচে অবস্থান করছে।

 

গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে সম্প্রতি সংঘাত থামার ইঙ্গিত মেলায় তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে এবং চলতি পুরো সপ্তাহজুড়েই দাম ৯০ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে।

 

এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। মূলত এই ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আভাসই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর পোস্ট করা সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে ভুলবশত সরিয়ে ফেলেছিল মেটা। ছবি: সংগৃহীত
মোদীর ভিডিও সরিয়ে ক্ষমা চাইল মেটা, আবারও ফিরিয়ে দিল ফেসবুকে

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ করা একটি সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পর তা পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ভিডিওটি আবারও বহাল করা হয়। এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র জানান, ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   এদিকে ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ভারত সরকার। কী কারণে ভিডিওটি সরানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটা ও ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক প্রধানদের কাছেও সমন পাঠিয়েছে।   ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। সেই আন্দোলনের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি সেলফি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন।   ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশিত এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৮, ২০২৬ ৯:৫৯
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে শপিং মলে বিস্ফোরণ, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ

ভাগ্যশ্রী জিগালুর (২৩), স্বামী প্রবীণ জিগালুর (২৯)

স্ত্রীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা, মৃত্যুর মুহূর্ত ভিডিও কলে দেখানো হলো বাবা-মাকে

ছবি : আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট

ইরান যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ল কাস্পিয়ান সাগরে, তেহরানের জাহাজে হামলার অভিযোগ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে

স্বামী স্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত
স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগে ভেঙে পড়লেন তরুণী, সাত মাসের শিশুকে রেখে আত্মহত্যা

ভারতের কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর দক্ষিণাঞ্চলের রায়াসান্দ্র এলাকায় ২০ বছর বয়সী এক তরুণী মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর কথিত পরকীয়ার সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে একটি অডিও ক্লিপ শোনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে বাবার বাড়িতে আত্মহত্যা করেন।    নিহত তরুণীর নাম সানিকা গৌড়া। প্রায় দেড় বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল নাগরাজ ওরফে শরণ গৌড়ার সঙ্গে। তাদের সাত মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সন্তান জন্মের পর তিনি কিছুদিন ধরে বাবা-মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রোববার গভীর রাতে স্বামীর সঙ্গে তার ভিডিও কলে কথা হয়। এর আগে স্বামী তাকে একটি অডিও ক্লিপ পাঠান, যেখানে অন্য এক নারীর সঙ্গে তার কথোপকথন শোনা যায় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। ওই অডিও শোনার পর সানিকা প্রচণ্ড মানসিক চাপে পড়েন।   পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বামীর কথিত পরকীয়ার বিষয়টি কয়েক মাস ধরেই জানতেন সানিকা। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। ঘটনার রাতে ভিডিও কলে স্বামীর সঙ্গে শেষবার কথা বলার পর তিনি নিজের কক্ষে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।    রাত প্রায় ৩টার দিকে সানিকার বাবা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তার সাত মাসের শিশুটি একই কক্ষে বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।   সানিকার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পারাপ্পানা আগ্রাহারা থানায় পণ-সংক্রান্ত অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পরিবারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।    পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ডিজিটাল প্রমাণসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। 

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২০:৯
সারথ মোহনদাস ও তাঁর স্ত্রী সিতারা শিবাদাস। ছবি:সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় নতুন জীবনের স্বপ্ন, পাঁচ সপ্তাহ আগে কেনা টেসলা দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই সন্তানের বাবার

উত্তর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে বিশেষ দূত মারিয়া অ্যাঞ্জেলা হোলগিন কুয়েলারের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমান। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

উত্তর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জাতিসংঘের দূতের বৈঠক

আওয়ারতা সামরিক চৌকির ফটক বন্ধ থাকায় সংকটাপন্ন অবস্থাতেও অ্যাম্বুলেন্সটি ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় আটকে ছিল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

অ্যাম্বুলেন্স আটকে দিল ইসরায়েলি বাহিনী, গর্ভের সন্তান হারালেন ফিলিস্তিনি মা

চার দিন ধরে কোনো সরকারি উদ্ধারকারী দল না পৌঁছানোয় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রয়েছেন বহু দুর্গত মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
মৌসুমি বৃষ্টিতে প্লাবিত পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল, নৌকা নিয়ে ঘর ছাড়ছে মানুষ

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাবি প্রদেশের মুররিকে জেলায় ভারী মৌসুমি বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে অসংখ্য গ্রাম। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে নৌকা নিয়ে জলমগ্ন মাঠ পাড়ি দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চারদিকে পানি থৈ থৈ করায় জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।   এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবকদের ভাড়া করা ছোট মোটরবোটে করে কিছু মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্গত এলাকার বহু মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রয়েছেন। পানিবন্দী এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান যে গত চার দিন ধরে কোনো ধরনের সরকারি বা আনুষ্ঠানিক উদ্ধারকারী দল তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। এলাকায় কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং তাদের কাছে থাকা সব খাবার ফুরিয়ে গেছে।   সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুনের পর থেকে দেশটিতে বন্যাজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনা যেমন পানিতে ডুবে যাওয়া এবং ঘরবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় মোট ১০৯ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে শুধু পাঞ্জাবি প্রদেশেই। স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকর্মীরা নৌকা নিয়ে প্রায় এক ডজনেরও বেশি প্লাবিত গ্রাম থেকে সাধারণ মানুষকে উদ্ধার এবং তাদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিধি অনেক বড় হওয়ায় সবার কাছে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।   উদ্ধার পাওয়ার পরও দুর্গত মানুষের কষ্টের শেষ নেই। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কোনোমতে নিরাপদ স্থানে আসার পর ক্ষতিগ্রস্তদের অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তীব্র গরমে ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় তাদের বসবাস করতে হচ্ছে ছোট ছোট তাঁবুতে, যা স্থাপন করা হয়েছে বিশাল জলরাশি ও রাস্তার ঠিক মাঝখানে। অনেকেই তাদের সর্বস্ব হারিয়ে ফেলেছেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতের আঁধারে আকস্মিকভাবে প্রবল বেগে পানি ঘরে ঢুকে পড়ার কারণে তারা কোনো জিনিসপত্র বা প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়ার বিন্দুমাত্র সময় পাননি। চোখের সামনে সব ভেসে যাওয়ায় এখন তাদের হাতে কিছুই নেই।   জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবের মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ ও অবকাঠামোর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যগত মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর কৃষিকাজ বহুলাংশে নির্ভরশীল হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই বৃষ্টিপাত এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিয়মিত, চরমভাবাপন্ন এবং ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২২ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যাকে 'স্টেরয়েডের ওপর মৌসুমি বৃষ্টি' হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, সেই ভয়াবহ বন্যায় পুরো পাকিস্তানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং দেশের বিশাল অংশ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১২:৫৪
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর যাচাই এবং দ্রুত আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তির নতুন নিয়ম আনছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডাসহ পাঁচ দেশে পাঠানোর আলোচনা

জিহাদ এবং প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই বলে কড়া বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

জিহাদ ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই: মোজতবা খামেনি

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শরিয়াহ আইনের অধীনে অপরাধীদের প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত, শরিয়াহ আইনের শাস্তি দেখতে ভিড় জমাল শত শত মানুষ

0 Comments