বিশ্ব

যুদ্ধ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কে ঘেরা প্রশাসন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১২:১
ছবি:প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
ছবি:প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

 

একসময় যাকে তুলনামূলকভাবে সাময়িক বা অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সমঝোতার ফল হিসেবে দেখা হয়েছিল, তিনি এখন দেশটির একাধিক সংকটের মধ্যেও রাষ্ট্র পরিচালনায় টিকে আছেন।

 

তবে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

 

সম্প্রতি তেহরানে পানি সংকট ও জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কর্মকর্তাদের এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার না করে কোট খুলে বসার আহ্বান জানান।

 

একই বৈঠকে তিনি নিজে স্বল্পহাতা পোলো শার্ট পরে উপস্থিত ছিলেন। জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার জন্ম দেয়।

 

রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহল প্রেসিডেন্টের পোশাক ও আচরণ নিয়ে সমালোচনা করে। অন্যদিকে নাগরিক অধিকারকর্মীদের একাংশ দাবি করেন, সাধারণ জনগণের ওপর কঠোর পোশাকবিধি ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ দেখা যাচ্ছে।

 

এই পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই দাবি অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে জানায়।

 

২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মধ্যপন্থী অবস্থান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন পেজেশকিয়ান। সেই নির্বাচনে তিনি কট্টরপন্থী প্রার্থী সাঈদ জালিলির বিপক্ষে লড়াই করেন।

 

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতার হাতে থাকে। ফলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা মূলত প্রশাসনিক ও নির্বাহী পর্যায়ের মধ্যে সীমিত। এই কাঠামোর মধ্যেই প্রেসিডেন্টকে অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

 

সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন। এতে প্রেসিডেন্টের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্র আরও সীমিত হয়ে পড়েছে।

 

এই অবস্থায় পেজেশকিয়ান প্রশাসনিক সংস্কার, ইন্টারনেট বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

 

যুদ্ধকালীন ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাতজনিত পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

 

ইরানের সামনে আগামী দিনে অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, পানি সংকট, বায়ুদূষণ এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

 

তবে সাধারণ মানুষের একটি অংশ তাকে তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী এবং মধ্যপন্থী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে অনেকের মতে, বর্তমান সংকট কেবল ব্যক্তিগত নেতৃত্বের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি:পোপ লিও
অভিবাসন ইস্যুতে মানবিক অবস্থান, টেনেরিফে পোপ লিওর বক্তব্য

স্পেন সফরের শেষ দিনে অভিবাসন ও শরণার্থী ইস্যুতে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন পোপ লিও। তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই এক অর্থে অভিবাসী,” এবং মানব পরিবার হিসেবে শরণার্থীদের আরও মানবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।   শুক্রবার স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ টেনেরিফে পৌঁছে একটি সাবেক সামরিক ব্যারাকে স্থাপিত অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে যান পোপ লিও। সেখানে তিনি শত শত অভিবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।   পোপ বলেন, আজকের বিদেশি ব্যক্তি আগামী দিনে আমাদেরই প্রতিবেশী ও সহযাত্রী হতে পারেন। তাই অভিবাসীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক হওয়া জরুরি।   ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপে অভিবাসনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আটলান্টিক রুট দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতি বছর হাজারো মানুষ প্রাণ হারান।   পোপ তার বক্তব্যে বলেন, অভিবাসীরা শুধু সীমান্ত পার হন না, বরং অনেক সময় নতুন দেশে এসে “নীরব বিপর্যয়ের” মুখে পড়েন। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তা না পেয়ে তারা আবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান।   তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি নিয়েও পরোক্ষ সমালোচনা করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই নীতিকে কঠোর ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতামূলক বলে সমালোচনা করেছে।   পোপ লিও বলেন, মানব বিবেক এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ কখনোই সমুদ্রে প্রাণহানির ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। তার মতে, প্রতিটি প্রাণহানি মানবতার ব্যর্থতা।   এ সময় তিনি মানবপাচারকারী ও দালালদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেয়, তাদের “ঈশ্বরের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।”   অভিবাসীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নাইজেরিয়ার বুসো দিয়ুফ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার খোঁজে যাত্রা সহজ ছিল না এবং অনেকেই ভয়, ক্ষুধা ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন।   তিনি সমাজের কাছে ন্যূনতম সম্মান ও মানবিক আচরণের দাবি জানান, যাতে অভিবাসীদের শুধু সংখ্যা হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   পোপ লিওর এই সফর ও বক্তব্য ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১২:২৪
ছবি:প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

যুদ্ধ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কে ঘেরা প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ অচল ফেসবুক, ভোগান্তিতে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা

ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নারের পথে ইলন মাস্ক

ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নারের পথে ইলন মাস্ক

২০২৬ সালে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন ৪০ শতাংশ কমেছে
২০২৬ সালে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন ৪০ শতাংশ কমেছে

ইউরোপীয় ইউনিয়নে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড সংস্থা ফ্রন্টেক্স।   শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত সংস্থাটির প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, এ সময়ে প্রায় ৩৯ হাজার অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রন্টেক্সের মতে, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং অভিবাসীদের উৎসদেশগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।   ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ নামে নতুন একটি নীতিমালা কার্যকর করেছে। এর আওতায় ইইউ সীমান্তজুড়ে অভিবাসীদের জন্য একক ও মানসম্মত যাচাই-বাছাই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নীতির প্রয়োগ নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হান্স লেইটেনস বলেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে ইইউ সীমান্তে আগত সবার ক্ষেত্রেই একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। এতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।   তবে সামগ্রিকভাবে সংখ্যা কমলেও কিছু রুটে এখনো অভিবাসন প্রবাহ বেশি রয়েছে। বিশেষ করে মধ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথ এখনো সবচেয়ে ব্যস্ত। অন্যদিকে আফ্রিকান রুটে অনিয়মিত পারাপার সবচেয়ে বেশি কমেছে—এই পথে চলাচল ৭১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বিপরীতে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসন বেড়েছে, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৪৬ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে।   এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্যের বরাতে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ফলে অবৈধ অভিবাসন কমলেও সমুদ্রপথের ঝুঁকি এখনো উদ্বেগজনক রয়ে গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর সীমান্তনীতি, উৎসদেশে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কারণে এই পরিবর্তন দেখা গেলেও, অভিবাসন সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং বিভিন্ন রুটে প্রবণতার এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৮:২৩
নিহত ৩ ভারতীয়কে নিয়ে ইরানের শোক

হরমুজ প্রণালীতে হামলা: নিহত ৩ ভারতীয়কে নিয়ে ইরানের শোক

ছবি: সংগৃহীত

খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার সময়সূচি পিছিয়ে নতুন তারিখ ঘোষণা করল ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত, হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে নাম লেখালেন ইলন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত এই প্রক্রিয়ার পর কোম্পানির মূল্যায়ন এবং মাস্কের সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস–এ শেয়ার বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।   তথ্য অনুযায়ী, “এসপিসিএক্স” প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আইপিও–সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্তির পর ইলন মাস্কের কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস–এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটি ক্লাস–বি শেয়ার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮৪.৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবেন।   আইপিও মূল্যের ভিত্তিতে কাগজে–কলমে স্পেসএক্সে মাস্কের শেয়ারহোল্ডিংয়ের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবকে কেন্দ্র করেই তাকে ঘিরে “ট্রিলিয়নিয়ার” মর্যাদা অর্জনের আলোচনা সামনে এসেছে, যদিও তা নির্ভর করছে সম্পদ মূল্যায়নের নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৬:৩৬
ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে নেওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের ফেরাতে কিয়েভের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, স্পেসএক্স আইপিওতে সম্পদের নতুন ইতিহাস

0 Comments