বিশ্ব

ইরান চুক্তি ঘিরে ট্রাম্পকে নিয়ে সমালোচনা, ‘আত্মসমর্পণের’ অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২:১৩
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে ঘিরে সংশয় প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট দলের একাধিক আইনপ্রণেতা। তাদের কেউ কেউ সরাসরি এই চুক্তিকে ইরানের কাছে ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করছেন যুদ্ধ শেষের পথে। তবে অতীতে এমন প্রতিশ্রুতি বহুবার দেওয়া হলেও তা বাস্তবে রূপ পায়নি। তিনি লেখেন, “আমি আশা করি তিনি এবার ঠিক বলছেন, কিন্তু আমরা এর আগেও এমন কথা অনেকবার শুনেছি।”

 

শিফ আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক সংঘাতে জড়িয়েছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী ব্যয় কমাতে পারেনি। তার ভাষায়, “এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকান জনগণই।”

 

অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটসের কংগ্রেসম্যান সেথ মোল্টন সম্ভাব্য চুক্তিকে তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। এমএসএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটি আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলের মতো।”

 

মোল্টনের দাবি, এই সংঘাতে ইতোমধ্যেই মার্কিন করদাতাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং ১৪ জন মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এর বিনিময়ে যে চুক্তি সামনে আসছে, তা কার্যত সেই অবস্থাতেই ফিরে যাচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগেই বিদ্যমান ছিল। তার প্রশ্ন, “এটিকে কীভাবে বিজয় বলা যায়?”

 

তবে সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প উল্টো সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দিকে আঙুল তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ওবামা প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত জেসিপিওএ (ইরান পারমাণবিক চুক্তি) ছিল ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সহজ পথ।

 

ট্রাম্প বলেন, “সেই চুক্তি বাতিল না করলে ইরান বহু আগেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে ফেলত।” তার দাবি, বর্তমান প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এটি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে ‘দুর্ভেদ্য বাধা’ তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, “ইরান আর পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং তারা কোনোভাবেই তা অর্জন করতে পারবে না।”

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে প্রশাসন এটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এর কার্যকারিতা ও বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিমত রয়েছে। নতুন এই চুক্তি বাস্তবায়ন হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আজ
সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আজ: বিতর্কে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা

অভিবাসন কি সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ, নাকি দেশের অবকাঠামো ও সামাজিক ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ—এই দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার পৌঁছেছে গণভোটের মঞ্চে। রোববার (১৪ জুন) ঐতিহাসিক এক গণভোটে অংশ নিচ্ছেন সুইস নাগরিকরা, যেখানে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটি ছাড়াতে না দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল Swiss People's Party। তাদের দাবি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আবাসন সংকট, সরকারি সেবার চাপ এবং পরিবেশগত সমস্যার সমাধান সহজ হবে। দলটি এটিকে ‘টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে তুলে ধরছে।   তবে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এই সীমা কার্যকর হলে দেশের হাসপাতাল, হোটেল, নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে মারাত্মক কর্মী সংকট দেখা দেবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ মানুষ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী, যা দেশটির অভিবাসননির্ভর শ্রমবাজারের বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রেনে ভিড়, বাসাভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে।   সুইজারল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরাসরি গণভোট আয়োজনের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। মাত্র এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেই এ ধরনের প্রস্তাব ভোটে তোলা সম্ভব হয়, যা দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ভোটের ফলাফল খুবই কাছাকাছি হতে পারে। প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, আর ৪৫ শতাংশ পক্ষে রয়েছেন। বাকি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।   প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বার্ন ক্যান্টন পার্লামেন্টের প্রতিনিধি নিলস ফিয়েখটার বলেন, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে দেশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। তার মতে, আবাসন সংকট, যানজট এবং সামাজিক সেবার ওপর চাপ বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন একটি প্রধান কারণ।   অন্যদিকে বার্ন সিটি কাউন্সিলের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সদস্য হেলিন জেনিস এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের দোষারোপ করা সমস্যার সমাধান নয়। তার মতে, বাসাভাড়া বৃদ্ধি বা অবকাঠামো সংকট মূলত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল, যা অভিবাসীরা নিয়ন্ত্রণ করেন না।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের আগেই জনসংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছালে সরকারকে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমানো এবং বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের আনার সুযোগ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।   সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো, জনসংখ্যা নির্ধারিত সীমায় পৌঁছে গেলে সুইজারল্যান্ডকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত চলাচলসহ কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করতে হতে পারে। ব্যবসায়ী সংগঠন ইকোনমিসুইস এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছে, এতে ইউরোপের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   সংগঠনটির প্রধান অর্থনীতিবিদ রুডলফ মিনশ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। তাই সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে নিয়োগকর্তা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, দক্ষ বিদেশি কর্মী হারালে সুইস অর্থনীতির গতি কমে যাবে। বর্তমানে দেশটির হোটেল খাতের প্রায় অর্ধেক কর্মীই অভিবাসী, পাশাপাশি হাসপাতাল ও কেয়ার হোমগুলোও বিদেশি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।   বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী। এমন পরিস্থিতিতে তরুণ কর্মশক্তির চাহিদা পূরণে অভিবাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা সীমিত হলে ভবিষ্যতে সামাজিক ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই মোট জনসংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে এমন নীতি গ্রহণ করেনি। অতীতে চীন ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করলেও পরে তা বাতিল করা হয়। ফলে সুইজারল্যান্ডের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে নজিরবিহীন একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ৩:৪৭
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা

‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি: অভিশংসন ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরান চুক্তি ঘিরে ট্রাম্পকে নিয়ে সমালোচনা, ‘আত্মসমর্পণের’ অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের

ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে ইরানের কড়া নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা

ইউরেনিয়াম মজুত ঘিরে ইরানের কড়া নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় নতুন জটিলতা

ছবি: সংগৃহীত
‘গোয়েন্দা কচ্ছপ’ ও সেন্সরযুক্ত মাছ দিয়ে সমুদ্রপথে গুপ্তচরবৃত্তি, নতুন সতর্কতা চীনের

চীনের উপকূলীয় জলসীমায় কচ্ছপ, মাছ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি শক্তিগুলো সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সেন্সর প্রাণীদের শরীরে স্থাপন করে সংবেদনশীল এলাকায় পাঠাচ্ছে।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় দাবি করে, দেশটির জলসীমায় এক ধরনের ‘সামুদ্রিক গুপ্তচরবৃত্তির স্রোত’ সক্রিয় রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের উপকূল, সমুদ্রতল এবং সামুদ্রিক পরিবেশসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে বিশেষ সেন্সর বসানো হয়েছে, যা সমুদ্রের স্রোত, পানির তাপমাত্রা, গভীরতা এবং সমুদ্রতলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে এসব তথ্য বিদেশে অবস্থানরত উপগ্রহে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ।   চীনের দাবি, এই তথ্য ব্যবহার করে বিদেশি শক্তিগুলো দেশটির উপকূলীয় এলাকার বিস্তারিত সামুদ্রিক মানচিত্র তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে সামরিক বা গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন শ্রবণ সেন্সরযুক্ত ভাসমান যন্ত্র এবং সৌরশক্তিচালিত স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক গ্লাইডার উদ্ধার করেছে। এসব যন্ত্র বন্দর এলাকায় চলাচল, সমুদ্রপথের কার্যক্রম এবং পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।   চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, সমুদ্রস্রোতের গতিবিধি, পানির তাপমাত্রা, তাপমাত্রার বণ্টন এবং সমুদ্রতলের গঠনসংক্রান্ত তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গেলে তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   তবে চীনের এই দাবিগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সামুদ্রিক গবেষণা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, ভাসমান যন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও সেগুলোর সবকিছুকে গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। ফলে চীনের অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।   এদিকে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা জেলে, নৌযান মালিক, গবেষক এবং উপকূলীয় বাসিন্দাদের সন্দেহজনক যেকোনো যন্ত্র বা অস্বাভাবিক সামুদ্রিক বস্তুর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। চীনে সামুদ্রিক গোয়েন্দা সরঞ্জাম শনাক্ত বা উদ্ধারকারীদের জন্য পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এমন কর্মসূচি চালু রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন নজরদারি সরঞ্জাম শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অন্যান্য শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে চীনের এই অভিযোগ নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   তবে কচ্ছপ বা মাছ ব্যবহার করে বিদেশি শক্তিগুলো বাস্তবিক অর্থে কতটা গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি সংশয়ও রয়ে গেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ২৩:৩০
ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা হ্যাকের দাবি ইরানি হ্যাকারদের

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা কানাডার

মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে একসঙ্গে ১৩৯ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করলেন মোজতবা খামেনি

আমেরিকা বাংলা কোলাজ
ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালা ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিহত ব্যক্তিকে হত্যার আগে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলমান ভয় ও বিদ্বেষের পরিবেশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো ভূমিকা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন ৪৭ বছর বয়সী আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। নিহতের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার মণ্ডল জানান, তার বাবা বন্দওয়ান অঞ্চলে ফেরিওয়ালা হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি ঠেলাগাড়িতে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে বের হন।   জুলফিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপুরদিহি গ্রামের একটি বাড়িতে আকবরকে হঠাৎ করে টেনে নেওয়া হয় এবং সেখানে এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়, পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি আরও জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ঘটনাও ঘটে।   পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে বান্দওয়ান থানার একজন কর্মকর্তা ফোনে আকবরের মৃত্যুর খবর দেন এবং হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তারা তার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।   নিহতের ছেলে জুলফিকার অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং কিছু লোক তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানি করত। তিনি বলেন, দাড়ি থাকার কারণে তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো এবং ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হতো।   তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ বেড়েছে এবং তার পরিবারসহ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।   ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৭:১৩
লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: EPA

দক্ষিণ লেবাননের ২০টি শহর ও গ্রামে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযানে ২১ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহতের দাবি পাকিস্তানের

ছবি: সংগৃহীত

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভান্ডার আরও সুরক্ষিত করছে ইরান

0 Comments