সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে স্পেনে হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশের চেষ্টা, নামানো হলো সেনাবাহিনী
মরক্কো থেকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউতায় হাজারো অভিবাসীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সীমান্তের বিভিন্ন অংশ দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেয় স্পেন সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে।
উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত সিউতা ভৌগোলিকভাবে মরক্কোর সঙ্গে যুক্ত হলেও এটি স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তের অংশ। দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত সিউতা। অভিবাসন সংকটের কারণে অঞ্চলটি প্রায়ই স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার মানুষ একযোগে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেন। কেউ সাঁতরে সমুদ্রপথে সিউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, আবার কেউ সীমান্তের বেড়া ও গেট অতিক্রম করে শহরে প্রবেশ করেন। এতে সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে এবং পরিস্থিতিকে "সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল" বলে বর্ণনা করেন সিউতায় দায়িত্বরত স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যদের সংগঠনের প্রধান রাশিদ সিবিহি।
খবরে বলা হয়েছে, সীমান্ত পার হওয়ার সময় অনেক অভিবাসী ভাসমান টিউব ও অন্যান্য ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, শত শত মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সিউতার উপকূলে পৌঁছাচ্ছেন, আর অন্যরা সীমান্তের প্রবেশপথ ভেঙে শহরের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত কয়েকজন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, সর্বশেষ হিসাবে প্রাণহানির সংখ্যা অন্তত নয়জনে পৌঁছেছে। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পরে অনেকেই সীমান্তসংলগ্ন মরক্কোর কাস্তিয়েখোস (ফনিদেক) এলাকায় ফিরে গেলেও নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সিউতার অনেক দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মরক্কো সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সেনা সদস্য, নৌযান এবং ডুবুরি ইউনিট মোতায়েন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাসকার সিউতা সফরেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, কেবল অভিবাসন পরিস্থিতির কারণে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আইনগত সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। উপপ্রেস সচিব আনা কেলি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউরোপের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তবে স্পেন সরকার এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালেও প্রায় ১০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সিউতায় প্রবেশ করেছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ঘটনাটি সেই সংকটের স্মৃতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এবং ইউরোপে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে আর্চেস জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি একটি নতুন জীবাশ্মক্ষেত্রে খননকাজ চালিয়ে সম্ভাব্য নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ থেকে ১৪ কোটি ১০ লাখ বছর আগের এই জীবাশ্মক্ষেত্রে এমন এক ধরনের সাঁজোয়া ডাইনোসরের দেহাবশেষ পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, যা আগে বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা ছিল। গবেষকদের ধারণা, এই আবিষ্কার পৃথিবীর প্রাচীন প্রাণিজগতের বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। উটাহ জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউজিএস) জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যের মোয়াব এলাকার কাছে নতুন এই খননক্ষেত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে খুলে দেওয়া হয়। গবেষকদের কাছে এটি উত্তর আমেরিকার প্রাচীনতম ক্রিটেশিয়াস যুগের ডাইনোসর জীবাশ্মক্ষেত্রগুলোর একটি হতে পারে। একই সময়ের আরেকটি পরিচিত জীবাশ্মক্ষেত্র ডোয়েলিংস বোলের সঙ্গে এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যেরও মিল রয়েছে। নতুন স্থানটি ডোয়েলিংস বোল থেকে প্রায় ছয় মাইল পূর্বে অবস্থিত। গবেষকদের কাছে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব শুধু নতুন ডাইনোসরের সম্ভাব্য সন্ধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের ধারণা, এই এলাকায় জুরাসিক যুগের শেষভাগে ঘটে যাওয়া ডাইনোসরদের ব্যাপক বিলুপ্তির পরবর্তী পরিস্থিতির প্রমাণও সংরক্ষিত রয়েছে। জুরাসিক যুগের শেষ এবং ক্রিটেশিয়াস যুগের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে পৃথিবীর প্রাণিজগতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল। ওই সময় স্টেগোসরাস, অ্যালোসরাস ও অ্যাপাটোসরাসের মতো পরিচিত ডাইনোসরদের অনেক বংশ বিলুপ্ত হয়ে যায়। নতুন জীবাশ্মক্ষেত্রটি সেই পরিবর্তনের পর কীভাবে নতুন প্রাণীগোষ্ঠীর বিকাশ ঘটেছিল, তা বুঝতে সহায়তা করতে পারে। এই খননকাজে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি করেছে সম্ভাব্য নতুন সাঁজোয়া ডাইনোসরের দেহাবশেষ। এ ধরনের ডাইনোসরের শরীরে হাড়ের তৈরি শক্ত আবরণ, পাত বা কাঁটার মতো প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো থাকত। উদ্ভিদভোজী এই প্রাণীরা শিকারি ডাইনোসরের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শরীরের বিশেষ গঠন ব্যবহার করত। স্টেগোসরাস ও অ্যানকাইলোসরাস এই ধরনের ডাইনোসরের পরিচিত উদাহরণ। নতুন জীবাশ্মক্ষেত্রে পাওয়া দেহাবশেষকে প্রাথমিকভাবে অ্যানকাইলোসরাস গোত্রের কোনো প্রাচীন সদস্যের বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তবে এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রজাতি কি না, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। উটাহের রাজ্য জীবাশ্মবিদ জিম কার্কল্যান্ড বর্তমানে প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক বিবরণ তৈরি এবং নামকরণের কাজ করছেন। তাঁর পরিকল্পনা, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সহকারী রাজ্য জীবাশ্মবিদ ডন ডেবলিয়ুর সম্মানে নতুন প্রজাতিটির নামকরণ করা। ইতোমধ্যে খননক্ষেত্র থেকে বিভিন্ন ধরনের ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন গবেষকেরা। প্রাথমিক হিসাবে সেখানে অন্তত চার ধরনের ডাইনোসরের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। তবে খননকাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মাটির নিচে আরও অনেক জীবাশ্ম অক্ষত অবস্থায় থাকতে পারে। পুরো এলাকাটি অনুসন্ধান ও গবেষণা করতে কয়েক দশক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই জীবাশ্মক্ষেত্রটি প্রথম খুঁজে পান ডন ডেবলিয়ু। দুর্গম মরুভূমি এলাকায় হাঁটার সময় মাটির ক্ষয়প্রাপ্ত অংশে কয়েকটি হাড় দেখতে পান তিনি। পরে সেগুলো পরীক্ষা করে অ্যানকাইলোসরাসের দেহের অংশ বলে ধারণা করা হয়। এরপর উটাহ জিওলজিক্যাল সার্ভের গবেষকেরা এলাকাটিতে পরিকল্পিতভাবে খনন শুরু করেন। জীবাশ্মগুলো যেন উত্তোলনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সতর্কতার সঙ্গে মাটি ও পাথরের স্তর সরিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুই গবেষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের গল্পও। জিম কার্কল্যান্ড ও ডন ডেবলিয়ু গত ২৫ বছর ধরে একসঙ্গে জীবাশ্ম অনুসন্ধান, খনন ও গবেষণার কাজ করেছেন। উটাহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্মক্ষেত্রে তাঁদের যৌথ কাজ রয়েছে। কার্কল্যান্ড ১৯৯৯ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যটির রাজ্য জীবাশ্মবিদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ডেবলিয়ু দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে জীবাশ্ম অনুসন্ধান ও গবেষণাগারে নমুনা প্রস্তুতের কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের শেষ দিকে ডেবলিয়ুর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চলতি খনন মৌসুমটি তাঁদের একসঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ করার শেষ মৌসুম হতে পারে। তবে অবসরের পরও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছা রয়েছে ডেবলিয়ুর। গবেষণাগারে আগে সংগ্রহ করা জীবাশ্ম নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়েও কাজ করতে চান তিনি। উটাহের পূর্বাঞ্চল জীবাশ্ম অনুসন্ধানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে এখানকার প্রাচীন পাথরের স্তর উন্মুক্ত হয়েছে। এসব স্তরে উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ, সামুদ্রিক সরীসৃপ ও ডাইনোসরের জীবাশ্ম সংরক্ষিত রয়েছে। কাছাকাছি ডোয়েলিংস বোল এলাকায় আগের খননকাজে লম্বা গলার একটি তৃণভোজী ডাইনোসরের কঙ্কাল এবং ইগুয়ানোডন্ট গোত্রের একাধিক ডাইনোসরের হাড় পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে প্রায় চার ইঞ্চি লম্বা একটি দাঁতও উদ্ধার করা হয়, যা বড় আকারের কোনো মাংসাশী ডাইনোসরের নতুন প্রজাতির হতে পারে বলে গবেষকেরা ধারণা করেছিলেন। নতুন আবিষ্কারের ফলে জুরাসিক যুগের শেষভাগ থেকে ক্রিটেশিয়াস যুগের শুরুর দিকে ডাইনোসরদের বিবর্তন, বিলুপ্তি এবং নতুন প্রজাতির বিকাশ সম্পর্কে গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সম্ভাব্য নতুন সাঁজোয়া ডাইনোসরটির আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গবেষণার পর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হলেই এর প্রজাতিগত পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যা ও খেয়ে ফেলার অভিযোগে কথিত সিরিয়াল কিলার গ্রেপ্তার
সরকারি কাজে ১ হাজার ৭০০টির বেশি এআই রোবট মোতায়েনের পরিকল্পনা দক্ষিণ কোরিয়ার
ফরাসি ভাষা শিখে কানাডায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন বাংলাদেশিরা
নিউইয়র্কে নিলামে ৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে বিরল প্রজাতির ডাইনোসর ন্যানোটাইর্যানাসের একটি কঙ্কাল। ‘জোডি’ নামে পরিচিত এই জীবাশ্মটি দেখতে অনেকটা ছোট আকারের টি-রেক্সের মতো। মঙ্গলবারের নিলামে ছয়জন সম্ভাব্য ক্রেতার মধ্যে প্রায় ১২ মিনিট ধরে দর-কষাকষি চলে। শেষ পর্যন্ত একজন অজ্ঞাতপরিচয় ক্রেতা কঙ্কালটি কিনে নেন। নিলামের আগে কঙ্কালটির দাম ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ডলারের মধ্যে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য সেই অনুমানকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জোডি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া ডাইনোসরের জীবাশ্মগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে ‘গাস’ নামে পরিচিত একটি টি-রেক্সের কঙ্কাল ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। সেটিই এখন পর্যন্ত নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি ডাইনোসরের জীবাশ্ম। ফলে জোডির বিক্রয়মূল্য সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ বছর আগের এই ডাইনোসর ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষভাগে পৃথিবীতে বিচরণ করত। সে সময় ন্যানোটাইর্যানাসের পাশাপাশি বাস করত তার সুপরিচিত আত্মীয় টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স। তবে আকার ও শারীরিক গঠনে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল। পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সের তুলনায় ন্যানোটাইর্যানাসের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় অর্ধেক। এর সামনের পা তুলনামূলক লম্বা, হাতের নখ বড় এবং দাঁত ছিল সরু ও ছুরির ফলার মতো। এসব বৈশিষ্ট্যই প্রাণীটিকে টি-রেক্সের কাছাকাছি হলেও আলাদা করে চেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জোডির কঙ্কালটি দাঁড় করানো অবস্থায় প্রায় ৯ ফুট ৬ ইঞ্চি বা ২ দশমিক ৯ মিটার উঁচু। নাক থেকে লেজ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ফুট বা ৬ মিটার। কঙ্কালটি প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। ন্যানোটাইর্যানাসের এমন পূর্ণাঙ্গ কঙ্কাল পৃথিবীতে খুবই বিরল। এখন পর্যন্ত এ ধরনের মাত্র তিনটি কঙ্কালের অস্তিত্ব জানা গেছে। কঙ্কালটির নাম রাখা হয়েছে মন্টানার খামারি জোডি পিয়ারসনের নামে। ২০১৯ সালে নিজের জমিতে তিনি এটি আবিষ্কার করেন। পরে জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞদের একটি দল কঙ্কালটি খনন করে উদ্ধার করে। এই আবিষ্কার ও খননকাজ ২০২০ সালে প্রচারিত ‘ডাইনো হান্টার্স’ নামের একটি প্রামাণ্যচিত্র সিরিজেও তুলে ধরা হয়েছিল। ন্যানোটাইর্যানাসের পরিচয় নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ছিল। একসময় অনেক গবেষক মনে করতেন, এটি আসলে স্বতন্ত্র কোনো ডাইনোসর নয়; বরং কম বয়সী টি-রেক্স, যা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক টি-রেক্সে পরিণত হতো। কিন্তু গত বছর প্রকাশিত গবেষণায় ন্যানোটাইর্যানাসকে স্বতন্ত্র ডাইনোসরগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে প্রমাণ তুলে ধরা হয়। ফলে প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মোড় আসে। তবে নিলামে বিক্রি হওয়া জোডির কঙ্কালটিই ওই গবেষণায় সরাসরি পরীক্ষা করা হয়েছিল—এমন দাবি করা ঠিক হবে না। গবেষণার ফলাফল ন্যানোটাইর্যানাসের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নির্দিষ্ট এই কঙ্কাল নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগের প্রধান ক্যাসান্দ্রা হ্যাটন কঙ্কালটি আবিষ্কার ও সংরক্ষণে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের অবদানের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, জীবাশ্মটি সম্পর্কে জানার এবং সেটি সংরক্ষণের জন্য গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের প্রচেষ্টা এই অর্জন সম্ভব করেছে। বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা বাড়াতে এ ধরনের আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এত দামি জীবাশ্ম ব্যক্তিগত মালিকানায় চলে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন কিছু বিজ্ঞানী। তাঁদের মতে, বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডাইনোসরের কঙ্কাল জাদুঘর বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ করা হলে গবেষকেরা তা পরীক্ষা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষও সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন। ব্যক্তিগত সংগ্রহে চলে গেলে ভবিষ্যতে এসব জীবাশ্মের নাগাল পাওয়া কঠিন হতে পারে। জোডির নতুন মালিকের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অনলাইনে ও টেলিফোনে দর হাঁকানো প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে কঙ্কালটি কেনার পর তিনি সেটি কোথায় রাখবেন বা গবেষণার জন্য উন্মুক্ত করবেন কি না, তা-ও জানা যায়নি।
স্বামীর সঙ্গে উচ্চতার ব্যবধান নিয়ে পরিচিতি ইনফ্লুয়েন্সার শাও ইউ ২৬ বছর বয়সে মারা গেলেন
পুতিন-ট্রাম্প সমঝোতার আওতায় রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে তিন ট্যাংকার, ক্ষুব্ধ ইউক্রেন
মায়ের কোলে থাকা নবজাতকের মাথায় অ্যাভোকাডো পড়ে মৃত্যু, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ
ব্রিটেনের এক ব্যক্তির পায়ে চোট লাগার পর তাঁর পোষা কুকুরও খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে। প্রিয় পোষা প্রাণীটির এমন আচরণ দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান মালিক। কুকুরটির পায়ে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তা জানতে পশুচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এক্স-রে করাতে খরচ হয় প্রায় ৪০০ ডলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে ব্যাখ্যা সামনে আসে, তা অবাক করার পাশাপাশি অনেকের মুখে হাসিও ফুটিয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা রাসেল জোনস ও তাঁর পোষা কুকুর বিলিকে ঘিরে। ২০২১ সালে তাঁদের এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুকুরের আচরণ নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল। ঘটনার শুরু রাসেলের গোড়ালিতে চোট পাওয়ার পর। হাঁটাচলা করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে পা ফেলতে পারছিলেন না তিনি। চলাফেরার জন্য ক্রাচের সাহায্য নিতে হচ্ছিল তাঁকে। চোটের কারণে রাসেল যখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন, তখন তাঁর পোষা কুকুর বিলিও সামনের একটি পা তুলে হাঁটতে শুরু করে। মালিকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিলির এই অস্বাভাবিক হাঁটার ধরন দেখে মনে হচ্ছিল, কুকুরটিরও বুঝি পায়ে ব্যথা হয়েছে। প্রথম দিকে বিষয়টি রাসেলের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় কুকুরটির পায়ে সত্যিই কোনো আঘাত লেগেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি পশুচিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিলির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার পাশাপাশি এক্স-রেও করানো হয়। সব মিলিয়ে রাসেলের খরচ হয় প্রায় ৪০০ ডলার। কিন্তু পরীক্ষায় বিলির খুঁড়িয়ে হাঁটার পেছনে কোনো স্পষ্ট শারীরিক সমস্যা খুঁজে পাননি চিকিৎসকেরা। এরপর তাঁরা ধারণা দেন, বিলি হয়তো তার মালিকের হাঁটার ধরন অনুকরণ করছে। এই ধারণার পেছনে আরেকটি মজার বিষয় ছিল। বাড়িতে খেলাধুলা করার সময় বিলিকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যেত বলে জানা যায়। অথচ মালিকের পাশে হাঁটার সময়ই তার খুঁড়িয়ে চলার বিষয়টি বেশি চোখে পড়ত। ফলে কুকুরটির আচরণ নিয়ে চিকিৎসকদের ধারণাটি আরও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে বিলি ঠিক কী কারণে এমন করছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সে সচেতনভাবে মালিকের হাঁটার ভঙ্গি নকল করছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে এমন আচরণ করছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের ধারণাটি ছিল মূলত তার শারীরিক পরীক্ষার ফলাফল ও আচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। ২০২১ সালে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বিলির আচরণকে মালিকের প্রতি মমতা ও সঙ্গ দেওয়ার একটি মজার উদাহরণ হিসেবে দেখেন। পোষা কুকুরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয় আলোচনা। কুকুর মানুষের আচরণ ও চলাফেরার ধরন অনুকরণ করতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন আচরণের পেছনে একই কারণ থাকে না। বিলির গল্পও তাই একদিকে যেমন হাস্যরসের, অন্যদিকে তেমনি মানুষ ও পোষা প্রাণীর সম্পর্ক নিয়ে ভাবার মতো একটি ঘটনা। রাসেলের প্রায় ৪০০ ডলার খরচের এই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত শুধু কুকুরের চিকিৎসার গল্প হয়ে থাকেনি। বরং মালিকের পাশে খুঁড়িয়ে হাঁটা বিলি হয়ে উঠেছে মানুষ ও তার পোষা প্রাণীর বন্ধনের এক স্মরণীয় উদাহরণ।
হোটেলের দরজায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে নববধূর মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ