বিশ্ব

ইরান চুক্তি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনে বিভক্তি, গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বাড়ছে সন্দেহ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৭:৫০
সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। ছবি: এএফপি
সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন—চুক্তির চূড়ান্ত শর্তে ইরান আসলে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।

 

আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শুধু র‍্যাটক্লিফ নন—প্রশাসনের আরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাও এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হ্যাগসেথ গত রোববার ঘোষিত সমঝোতা স্মারকের বেশ কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিপরীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

 

চুক্তি ঘোষণার আগে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা করছেন, তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

র‍্যাটক্লিফ ও রুবিওর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত করছে—যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা আশা করছে, ইরান শেষ পর্যন্ত তা মেনে নাও নিতে পারে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষায়, “ইরানের প্রকৃত উদ্দেশ্য চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না—গোয়েন্দা তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।”

 

তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারই। তার দাবি, এই সমঝোতা স্মারক ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিগত সীমারেখা বজায় রেখেই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, অতিরিক্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।

 

এদিকে, সিআইএ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

রোববার স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের পারমাণবিক শর্তগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ-বাগের গালিবফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

 

১৪ দফার এই প্রাথমিক চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, বর্তমান কাঠামোয় ইরান তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাচ্ছে—যদি না তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি কঠোর পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হয়।

 

চুক্তির অন্তর্বর্তী শর্ত অনুযায়ী, আলোচনাকালীন সময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন থেকেও বিরত থাকবে। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলে ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকালীন মোতায়েন করা সেনা প্রত্যাহার করবে এবং পর্যায়ক্রমে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

 

তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের অবস্থান এবং মার্কিন আলোচকদের দাবি—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে। তিনি অবিলম্বে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানান।

 

এই সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন ইরান কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ভবিষ্যতে ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই নৌপথ পরিচালনার বিষয়ে সংলাপ চালানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।

 

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, ৬০ দিনের পর এই প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আরোপ করা হতে পারে—যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত অংশ হলো ইরানের জব্দ বা স্থগিত সম্পদ অবমুক্ত করা। সমঝোতা অনুযায়ী, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেবে। মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে ‘কাজের ভিত্তিতে অর্থ ছাড়’ মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন—অর্থাৎ ইরান চুক্তির শর্ত মানলে পর্যায়ক্রমে অর্থ ছাড় করা হবে।

 

এছাড়া ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি যৌথ তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে সমর্থকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ইরান পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার না আনলে তা বাস্তবায়িত হবে না।

 

সব মিলিয়ে, ইরান চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন নজর আসন্ন আলোচনায় এই মতপার্থক্য কতটা কাটিয়ে ওঠা যায় এবং চূড়ান্ত চুক্তি আদৌ সম্ভব হয় কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের দ্রুত ফাঁদ বন্ধের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ কীভাবে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তার পাতার ফাঁদ বন্ধ করে শিকার ধরে, দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল ছিল। এবার ফরাসি জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের পদার্থবিদ জংউন রিউ-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় উদ্ভিদটির কোষ প্রাচীরের দ্রুত পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   গবেষকদের মতে, ফাঁদ সক্রিয় হওয়ার সময় ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ পাতার বাইরের স্তরের কোষ প্রাচীরকে অত্যন্ত দ্রুত নরম করে ফেলে। এই পরিবর্তনের ফলে পাতার বাইরের অংশ ভেতরের তুলনায় বেশি প্রসারিত হয়। এর ফলেই পাতাটি ভেতরের দিকে বেঁকে গিয়ে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করার পর হঠাৎ স্প্রিংয়ের মতো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।   বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের ঘটনা আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। গবেষণায় দেখা যায়, স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর ফাঁদটি মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।   আগের ধারণা অনুযায়ী, পাতার এক পাশ থেকে অন্য পাশে পানি স্থানান্তরের মাধ্যমে এই ফাঁদ বন্ধ হয় বলে মনে করা হতো। তবে নতুন গবেষণায় এই ধারণার দুটি বড় অসংগতি পাওয়া গেছে।   প্রথমত, উদ্ভিদের টিস্যুর মাধ্যমে পানি চলাচল অত্যন্ত ধীর গতির প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে ৩০ থেকে ১৫০ সেকেন্ড সময় লাগে। অথচ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের ফাঁদ এক সেকেন্ডের মধ্যেই সক্রিয় হতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, পানি প্রবাহের মাধ্যমে পাতা বন্ধ হলে টিস্যুর ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারের তরঙ্গ দেখা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এমন কোনো তরঙ্গের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই কারণে হাইড্রোলিক তত্ত্বটি বাতিল করেন গবেষকরা।   এরপর গবেষকরা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে দুটি পৃথক ধাপে ভাগ করেন। প্রথম ধাপ হলো পাতার ভেতরের দিকে ধীরে বাঁকানো প্রক্রিয়া এবং দ্বিতীয় ধাপ হলো মাত্র ০.২ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যাওয়া চূড়ান্ত দ্রুত বন্ধ হওয়া।   এই প্রক্রিয়া বোঝার জন্য গবেষকরা একটি ছোট প্রোব ব্যবহার করে পাতার ভেতরের ও বাইরের কোষ প্রাচীরের দৃঢ়তা পরিমাপ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফাঁদ বন্ধ হওয়ার সময় পাতার ভেতরের অংশের কোষ প্রাচীর প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে বাইরের পৃষ্ঠের কোষ প্রাচীর প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নরম হয়ে যায়।   স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর কোষের ভেতরের তরল চাপ, যাকে টারগর প্রেশার বলা হয়, এই নরম কোষ প্রাচীরের ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাইরের অংশ দ্রুত প্রসারিত হয় এবং পাতার দুই পাশের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, যা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফাঁদের ভেতরের সংবেদনশীল লোমে কোনো কীটপতঙ্গ পরপর দুইবার স্পর্শ করলেই এই প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে পাতার দুই পাশের দ্রুত বিস্তারের পার্থক্য তৈরি হয় এবং কীটপতঙ্গ আটকে যায়।   গবেষকরা মনে করছেন, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ মূলত উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত কোষ প্রাচীর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বিবর্তনের মাধ্যমে শিকার ধরার কাজে অভিযোজিত করেছে। এই অভিযোজনই উদ্ভিদটিকে প্রাণিজগতের মতো দ্রুত শিকার ধরার সক্ষমতা দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:১৪
ছবি: সংগৃহীত

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার ১ শতাংশে তুলল জাপান, ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে কোনো অর্থ খরচ করবে না যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন

এআই যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে ১২ হাজার কলা ও মানবিক বিভাগের ডিগ্রি বাতিল করেছে চীন

ছবি সূত্র: এপি-ফাইল ছবি
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিতে বদলে গেছে দৈনন্দিন জীবন, কী বলছেন এশীয়-আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাব এশীয়-আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জীয় (এএপিআই) জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনে স্পষ্টভাবে পড়েছে বলে নতুন এক জরিপে উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক মানুষ জানিয়েছেন, তারা নিজেরা অথবা তাদের পরিচিত কেউ অভিবাসন-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন।   এএপিআই ডাটা এবং দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, অনেক এশীয়-আমেরিকান এখন আর যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের জন্য আগের মতো সুযোগের দেশ বলে মনে করেন না।   জরিপ অনুযায়ী, প্রায় অর্ধেক এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, গত এক বছরে তারা বা তাদের পরিচিত কেউ আটক বা বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন, নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন নথি সঙ্গে বহন শুরু করেছেন, ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন অথবা অভিবাসন উদ্বেগের কারণে দৈনন্দিন রুটিন বদলেছেন।   কয়েক মাস ধরে অভিবাসন আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি বৃদ্ধির পর এই ফলাফল সামনে এলো। এর ফলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৬ জন এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, একসময় যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য বড় সুযোগের দেশ ছিল, কিন্তু এখন আর তা নেই। মাত্র ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৩ জন এখনো মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য।   অন্যদিকে ৫ শতাংশের মত, দেশটি কখনোই অভিবাসীদের জন্য আদর্শ সুযোগের জায়গা ছিল না। এএপিআই ডাটার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কার্তিক রামকৃষ্ণান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের গল্প অভিবাসীদের অবদানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। যারা কয়েক দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন, তারাও যখন বলতে শুরু করেন যে এটি আর সেরা দেশ বলে মনে হচ্ছে না, তখন সেটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।”   জরিপে দেখা গেছে, বৈধ অভিবাসী বা নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও সাম্প্রতিক নীতিমালার প্রভাব অনুভব করছেন।   যদিও বিভিন্ন ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি অভিবাসন-সংক্রান্ত পদক্ষেপ স্থগিত করেছে, তবুও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ কমেনি। আদালত যেসব পদক্ষেপ আটকে দিয়েছে, তার মধ্যে কিছু ভিসা ফি বৃদ্ধি এবং এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন সীমিত করার উদ্যোগও ছিল।   ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং বর্তমানে নাগরিকত্ব পাওয়া ২৭ বছর বয়সী খোয়া ত্রান  বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি ও তাঁর স্ত্রী এখন নিয়মিত নাগরিকত্ব ও অভিবাসন নথি সঙ্গে রাখেন।   তিনি আরও বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশ সফর পিছিয়ে দিতে দেখেছেন।   জরিপে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক এমন কাউকে চেনেন, যিনি গত এক বছরে নাগরিকত্ব বা বৈধ অবস্থানের প্রমাণপত্র সঙ্গে বহন করা শুরু করেছেন। এ হার সামগ্রিক এএপিআই জনগোষ্ঠীর তুলনায় বেশি।   রামাকৃষ্ণনের মতে, অনেক বৈধ অভিবাসী ও স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষও এখন মনে করছেন, তাদের বৈধ অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।   জরিপে পরিচয়বোধ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি বলেছেন, তাঁদের পারিবারিক শিকড়, বংশপরিচয় বা পূর্বপুরুষের দেশের পরিচয় তাঁদের ব্যক্তিগত পরিচয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তুলনায় ৪৪ শতাংশ বলেছেন, ‘আমেরিকান’ পরিচয় তাঁদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।   ম্যাসাচুসেটসের ২২ বছর বয়সী অ্যাবিগেল জেয়রাজ , যার বাবা-মা ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন, বলেন তিনি নিজেকে ‘দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকান’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে এসে তাঁর পরিবার যে সুযোগ পেয়েছে, সেটির মূল্য দেন।   দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়া সুনহো কোওন বলেন, তিনি কোরীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ও সমাজের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ এএপিআই প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মিশ্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর আগে পরিচালিত একটি এপি-এনওআরসি জরিপে সব মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ।   অনেক উত্তরদাতা বলেছেন, অভিবাসন ও বৈচিত্র্যবিষয়ক চলমান বিতর্ক তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৮:২৪
ফিলিপাইনে ‘কোস্টাল আপলিফট’-এর নজির, প্রাণহানি ৬১

ভূমিকম্পে বদলে গেল উপকূলরেখা: ফিলিপাইনে ‘কোস্টাল আপলিফট’-এর নজির, প্রাণহানি ৬১

সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ। ছবি: এএফপি

ইরান চুক্তি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনে বিভক্তি, গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বাড়ছে সন্দেহ

ছবি: এপি

হোয়াইট হাউসে ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেপ্তার ৫

হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবার ফি’ নেওয়ার ইঙ্গিত ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবার ফি’ নেওয়ার ইঙ্গিত ইরানের, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে শঙ্কা

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ রাখার ঘোষণা দিলেও তার পরদিনই ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। দেশটি জানিয়েছে, সরাসরি টোল আরোপ না করলেও নির্দিষ্ট কিছু ‘সেবার’ বিনিময়ে জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “ইরান ট্রানজিট টোল আরোপ করতে চায় না; তবে আমরা যে সেবা প্রদান করব, তার জন্য ফি নেওয়া হবে।” যদিও ঠিক কী ধরনের সেবা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।   তবে ইরানের কিছু কর্মকর্তার ধারণা, পরিবেশ সুরক্ষা, নিরাপত্তা বা নৌপথ ব্যবস্থাপনার মতো খাতে ব্যয় মেটাতে এই ফি নির্ধারণ করা হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন করে খরচ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই প্রণালির মাধ্যমেই পরিবাহিত হয়।   আন্তর্জাতিক নৌ-আইন বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, টোল এবং সেবামূলক ফি—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, প্রাকৃতিক আন্তর্জাতিক জলপথে অর্থ আদায়ের প্রশ্নে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নৌ-আইন বিশ্লেষক জেমস আর. হোমস বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনে কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্রের জন্য প্রাকৃতিক জলপথ ব্যবহার বাবদ অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। আপনি এটিকে টোল বলুন বা ফি—দুই ক্ষেত্রেই বিষয়টি বিতর্কিত।”   তিনি মালাক্কা প্রণালি ও তাইওয়ান প্রণালির উদাহরণ টেনে বলেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে এ ধরনের কোনো অর্থ আদায়ের নজির নেই। তবে পানামা খাল বা সুয়েজ খালের মতো কৃত্রিম জলপথে সেবা ও অবকাঠামোর বিনিময়ে ফি নেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।   পরিস্থিতির পেছনে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরান আঞ্চলিক জলপথে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ এবং পরবর্তীতে ফি আরোপের পরিকল্পনা সামনে আসে।   এর আগে মার্চ মাসে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের চিন্তা করছে তারা। পরে মে মাসে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে একটি সংস্থা গঠন করা হয়, যা এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল ও অনুমোদন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে বলে জানানো হয়। একই সময়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থপ্রদানের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চালায় তেহরান।   এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই এই প্রণালিতে টোল আরোপ করা উচিত নয়।   অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি ইরানের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। যদিও অতীতে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ প্রণালি থেকে রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে মে মাসে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা চাই এই পথ উন্মুক্ত থাকুক, কোনো ধরনের টোল না থাকাই উচিত।”   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও কড়া অবস্থান নিয়ে বলেছেন, “এ ধরনের কোনো ফি আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। এতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে।”   বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৭:৩৫
কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ

মমতা ব্যানার্জীর বাড়ির সামনে কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে পচা ডিম নিক্ষেপ, দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

লন্ডনে এনসিপির সভা ঘিরে উত্তেজনা, ডিম নিক্ষেপ ও হাতাহাতি

লন্ডনে এনসিপির সভা ঘিরে উত্তেজনা, ডিম নিক্ষেপ ও হাতাহাতি; আটক ৩

টানা ১১ ঘণ্টা জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে

টানা ১১ ঘণ্টা জেরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে, দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার

0 Comments