বিশ্ব

অধিকৃত পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৭:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি গ্রামের মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বুধবার রামাল্লার উত্তরে জিলজিলিয়া গ্রামের একটি মসজিদে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।

 

ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা মসজিদে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিহ্ন দেখতে পান। তাদের পর্যবেক্ষণে মসজিদের ছাদ, দেয়াল ও মেঝে কালো হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জিলজিলিয়া গ্রামের কাউন্সিল প্রধান ওসামা আবদুল্লাহ বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদের ওজু করার কক্ষে আগুন দেয় এবং দেয়ালে বিদ্বেষমূলক স্লোগান লিখে রেখে যায়। তার ভাষায়, মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে এবং মূল দরজা বন্ধ থাকায় নিচতলার অংশে আগুন লাগানো হয়।

 

এএফপির সাংবাদিকদের তথ্যানুযায়ী, মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা দেখা গেছে, যেখানে “প্রতিশোধ” এবং “হিলটপ ইয়ুথের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা” লেখা ছিল। হিলটপ ইয়ুথকে পশ্চিম তীরে সক্রিয় একদল উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয় কর্মকর্তা ওসামা আবদুল্লাহ আরও জানান, মসজিদটি পুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বসতি স্থাপনকারীরা প্রবেশ করেছিল। তবে মসজিদের দরজা বন্ধ থাকায় তারা মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ওজু করার কক্ষেই আগুন দেয়। ঘটনার পর ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মী, স্থানীয় তরুণ এবং আশপাশের বাসিন্দারা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে এই অঞ্চলে বর্তমানে ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। একই এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ১৪ দফা খসড়া প্রকাশ, যুদ্ধবিরতি থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রূপরেখা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৪ দফার একটি খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে। খসড়ায় দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের হাতে আসা খসড়া নথি অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা, জি-৭ সম্মেলনে উপস্থিত এক কূটনীতিক এবং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি সূত্র নথির বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে।   খসড়া অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করবে। এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননের চলমান সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করবে।   চুক্তিতে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।   খসড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করবে। চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।   অন্যদিকে ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যকার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার দায়িত্ব নেবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাইন অপসারণ ও অন্যান্য কারিগরি বাধা দূর করার কথাও বলা হয়েছে।   অর্থনৈতিক দিক থেকে খসড়াটি ইরানের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনে কাজ করবে। এই তহবিলের কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ৬০ দিনের আলোচনার মধ্যে চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।   এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।   পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরান পুনরায় ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং অন্যান্য পারমাণবিক ইস্যুর ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। আলোচনার সময় বর্তমান অবস্থা বজায় থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বা অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করবে না।   খসড়া অনুযায়ী, সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানির জন্য বিশেষ ছাড়পত্র দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে স্থগিত বা জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ধাপে ধাপে অবমুক্ত করা হবে এবং সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।   চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি যৌথ প্রক্রিয়াও গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। খসড়ার শেষ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।   তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিএনএনের হাতে আসা নথিটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের হুবহু প্রতিফলন নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাও ফাঁস হওয়া খসড়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে চুক্তির কিছু ভাষা বা শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৮:১৮
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য ঘিরে সমালোচনা, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

ছবি: সিএনএন
মাত্র ০.১% ভোটারই নির্ধারণ করতে পারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: কেন আলোচনায় মেকারফিল্ড উপনির্বাচন?

যুক্তরাজ্যের উত্তর ইংল্যান্ডের অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ডে অনুষ্ঠিতব্য একটি উপনির্বাচনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সাধারণ একটি কমিউনিটি সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ভোটের ফলাফল ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রায় ৭৬ হাজার ভোটারের এই আসনে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার খুব ছোট একটি অংশ, আনুমানিক ০.১ শতাংশ ভোটারই পরোক্ষভাবে নির্ধারণ করতে পারেন স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান এবং লেবার পার্টির দিকনির্দেশনা।   অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ড, উত্তর ইংল্যান্ডের এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। গত নির্বাচনে এই অঞ্চলের ২৫টির মধ্যে ২৪টি আসন জিতে নিয়েছে রিফর্ম ইউকে, যা লেবার শিবিরে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   এই পরিস্থিতিতে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করছে লেবার সমর্থক শিবির। তিনি আগামীতে পার্লামেন্টে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছেন এবং তার সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ স্টারমারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি না হওয়ায় তিনি সরাসরি লেবার নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। তবে এই উপনির্বাচনে জয় পেলে তার জন্য সেই পথ খুলে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।   লেবার পার্টির বর্তমান অবস্থান দুর্বল হওয়ার পেছনে নীতি পরিবর্তন, রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দ্বিধা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগকে দায়ী করা হচ্ছে। একাধিক মন্ত্রী ইতোমধ্যে সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে রিফর্ম ইউকে, যা জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে, লেবার ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সবুজ দল এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোও ঐতিহ্যগত লেবার ভোট বিভক্ত করছে।   অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অনেকে “কিং অব দ্য নর্থ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে একজন কার্যকর স্থানীয় প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সমর্থকরা বলছেন, তিনি ব্রিটিশ রাজনীতির প্রচলিত ওয়েস্টমিনস্টার কেন্দ্রিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে “ম্যানচেস্টারিজম” নামে একটি বিকেন্দ্রীভূত অর্থনৈতিক মডেল প্রস্তাব করছেন।   এই ধারণার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় অর্থনীতির পুনর্গঠন, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোকে আরও সাশ্রয়ী করা এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। এই আসনের অন্তর্ভুক্ত ছোট ছোট শহরগুলো দীর্ঘদিন ধরে কয়লা খনি, ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে গত কয়েক দশকে এসব শিল্প প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।   বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় অংশ নির্মাণ, খুচরা ব্যবসা, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত। এলাকাটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের এবং উচ্চ হোমওনারশিপের অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি পোস্ট-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভোটার বেস, যেখানে ব্রেক্সিট-সমর্থন এবং অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক আচরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে।   স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক হতাশা এবং মূলধারার দলগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা বাড়ছে। কেউ কেউ রিফর্ম ইউকের অভিবাসন নীতিকে সমর্থন করছেন, আবার অনেকে লেবার ও কনজারভেটিভ উভয় দলকেই দায়ী করছেন। এই বিভাজনের মধ্যেই বার্নহ্যাম এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিফর্ম ইউকের প্রার্থী রবার্ট কেনিয়ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে উভয় প্রার্থীই গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপনির্বাচন কেবল একটি স্থানীয় ভোট নয়, বরং যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং স্টারমারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ফলাফল যাই হোক, এই ভোটকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৫:২৮
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি: ইরানের হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বেড়েছে

ছবি: সংগৃহীত

ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিটিশ নৌযানের কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজে গুলি, ক্ষুব্ধ স্টারমার

ছবি: সংগৃহীত

ইরান চুক্তির লিখিত ভাষার বাইরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা, দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা |সংগৃহীত
অভিবাসন আইন আরও কঠোর করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষমতা বাড়াতে নতুন ও কঠোর অভিবাসননীতির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বুধবার স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত ভোটে অনুমোদন পেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘ডিপোর্টেশন সেন্টার’ বা নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের পথও উন্মুক্ত হবে।   দীর্ঘ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষে এই সংস্কার এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং ইউরোপজুড়ে জনমতের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।   ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, “এই আইন স্পষ্টভাবে বার্তা দিচ্ছে যে পাচারকারীরা নয়, বরং আমরাই সিদ্ধান্ত নেব ইউরোপীয় ইউনিয়নে কে থাকতে পারবে এবং কাকে চলে যেতে হবে।”   নতুন আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা বহিষ্কার কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। যেসব অভিবাসীর ইউরোপে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তবে ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশগুলোর একটি বড় অংশ এসব কেন্দ্র পরিচালনায় ইউরোপীয় অর্থায়নের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও ফ্রান্স ও স্পেন এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে।   গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম চুক্তি সম্পন্ন করা, যাতে ২০২৭ সাল থেকে এগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।”   ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে জনমত ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ফলে সরকারগুলোও অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপের পথে হাঁটছে।   ২০২৫ সালে ইউরোপে অভিবাসীর আগমন কিছুটা কমে এলেও ব্রাসেলস এখন মূলত প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছে।   ইইউ কর্মকর্তাদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৩:৫
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-মার্কিন চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা

মোদি–মেলোনির রসিকতায় সরগরম নেটদুনিয়া, ‘মেলোডি’ আবার আলোচনায়

মোদি–মেলোনির রসিকতায় সরগরম নেটদুনিয়া, ‘মেলোডি’ আবার আলোচনায়

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির কথা বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

0 Comments