পশ্চিম তীর

বিশ্বকাপ ফাইনাল চলাকালে পশ্চিম তীরে নিহত এক ফিলিস্তিনি। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনি তরুণ

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের সঙ্গে ফিলিস্তিনের অনেক মানুষও ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। তবে সেই আনন্দের মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি তরুণ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।   স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রোববার (স্থানীয় সময়) পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দেইর জারির শহরে এ ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম বা বয়স প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ওই তরুণ আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর দেইর জারির এবং আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।   এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতি ফিলিস্তিনিদের সমর্থনের বিষয়টি আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। গাজার বহু মানুষ ক্যাফে, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও খোলা জায়গায় একসঙ্গে বসে স্পেনের ম্যাচ উপভোগ করেছেন। অনেকের মতে, গাজা ইস্যুতে স্পেন সরকারের অবস্থান এবং দেশটির প্রতি সংহতির অনুভূতির কারণেই স্পেনের প্রতি তাদের সমর্থন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।   অধিকৃত পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামরিক অভিযান, নিরাপত্তা তল্লাশি, বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে।   বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, ঠিক সেই সময় পশ্চিম তীরে ঘটে যাওয়া এই প্রাণহানির ঘটনা অঞ্চলটির চলমান অস্থিরতা ও মানবিক সংকটকে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অভিযান । ছবি: আল জাজিরা
গাজা–পশ্চিম তীর দখলে গতি বাড়িয়েছে ইসরায়েল, শিশু হত্যা নিয়ে ‘গণহত্যার ইঙ্গিত’

গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও বসতি সম্প্রসারণ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা যে পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই সপ্তাহে তার বাস্তবায়নের বিভিন্ন লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে এবং এটি গণহত্যার উদ্দেশ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ সম্প্রতি হেবরন চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। একই সময়ে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো সরকারের পরিকল্পিত ‘নীরব সংযুক্তিকরণ’ কৌশল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সপ্তাহজুড়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা।   হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করে এবং মসজিদের খোলা চত্বরে ইস্পাতের বিম বসানোর কাজ শুরু করে। মসজিদের পরিচালক এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির চরিত্রে মৌলিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে সেখানে টানা দেড় সপ্তাহ ধরে মুসলিমদের আজান বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।   গাজায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রকাশ্যে এনেছেন স্মতরিচ। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সেটেলমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গাজার উত্তরাঞ্চলে তিনটি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণসীমা নির্দেশকারী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পাশে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সিমেন্টের সীমাচিহ্ন আরও পশ্চিমে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরও বিস্তৃত হয়েছে।   নেতানিয়াহু আলাদাভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।   পশ্চিম তীরেও বসতি সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ দেখা গেছে। রামাল্লাহর উত্তরে সিনজিল এলাকার কাছে ৪৬৫ দুনাম বা ০.৪৬৫ বর্গকিলোমিটার জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল গিভাত হারোয়েহ আউটপোস্টকে পশ্চাৎমুখীভাবে বৈধতা দেওয়া এবং রুট-৬০ বরাবর বৃহত্তর বসতি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা। আউটপোস্টটি ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক বসতিতে রূপান্তরিত হয়।   ওয়াফা ও স্থানীয় কর্মী নেটওয়ার্কগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীরা কোবার ও বেইতিল্লুর কাছে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে এবং আল-মাজরা আশ-শারকিয়া ও কাফর মালেকের মাঝখানে নতুন আউটপোস্ট গড়তে জমি ঘিরে ফেলেছে।   জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২৩ জুন মধ্যরাতে বেইত লাহিয়ার কাছে একটি কোয়াডকপ্টার থেকে দাহ্য গোলাবারুদ ফেলা হয় বলে জানা গেছে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের তিনটি তাঁবুতে আগুন লাগে। ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী আশ্রয়শিবিরের পাশে একটি হলুদ সিমেন্ট ব্লক স্থাপন করে, যা নিয়ন্ত্রণরেখা আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।   জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এই রেখার আশপাশে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা ‘প্রবেশ-সীমাবদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   ২৩ জুন জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং হত্যা করেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশ।   কমিশনের ভাষ্য, শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদিটিকে ‘মানহানিকর প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছে।   এর কয়েক দিন পর ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৪১ জন ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি এমন এক নীতির ফল, যা কার্যত কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের হত্যাকে সম্ভব করেছে।   ২৯ জুন রামাল্লাহ সংলগ্ন এল-বিরেহ শহরে ১৫ বছর বয়সী আহমদ জাওয়াদ জাবের ইসরায়েলি অভিযানের সময় মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। রামাল্লাহর গভর্নর লাইলা ঘান্নাম ঘটনাটিকে ‘দিবালোকে সংঘটিত স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন।   গাজার চিকিৎসাসূত্র ও ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সী আইলিন আল-ফারা স্প্লিন্টারের আঘাতে মারা যায়। দেইর আল-বালাহর কাছে আট বছর বয়সী মালিক আবু শাওয়িশ নিহত হয়। একই দিন আল-মাওয়াসিতে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় ২৩ বছর বয়সী ডায়ানা আবু দারাজ এবং তাঁর শিশু কন্যা সুয়ার নিহত হয়। যুদ্ধবিরতির আওতায় ওই এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।   রামাল্লাহ অঞ্চলের দার ফাজা ও পূর্ব তাইবেহ এলাকায় নতুন আউটপোস্ট প্রতিষ্ঠার পর ১১টি বসতি স্থাপনকারীর হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ওসিএইচএ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা স্থানীয়দের একমাত্র পানির উৎস নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ২০০ জনের বেশি মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। একই সড়কপথের ১০টি বেদুইন সম্প্রদায়ের মধ্যে ৯টি এলাকা ইতিমধ্যে প্রায় খালি হয়ে গেছে।   তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ১৪ জুন দেইর দিবওয়ানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছয়জন বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন ১৮ বছর বয়সী। ওই হামলায় যানবাহন ও একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছিল।   এ ছাড়া ২৫ জুন বেইত আনোটের একটি বসতি আউটপোস্টে কয়েকটি ঘর ভেঙে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন বসতি স্থাপনকারী নেতারা। একই সময়ে ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত ছিল। এ সময় ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে রেড ক্রসের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করতে আনা একটি বিলও ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হয়নি। অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় আইনপ্রণেতাদের ভোট বর্জনের কারণে বিলটি আটকে যায়।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় নয় মাস পর যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ২৫ জুন বেইত লাহিয়ায় একটি হামলায় একজন নিহত হন। ২৬ জুন মাঘাজি শরণার্থীশিবিরের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ২৭ জুন আল-মাওয়াসিতে আরেক হামলায় দুই ভাইবোন নিহত হয়।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় গাজার প্রায় অর্ধেক ডায়ালাইসিস মেশিন অচল হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে ইসরায়েলের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ২৫ শতাংশেরও কম পেয়েছে।

Unknown জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এএফপি
ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, ইসরায়েল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি ইহুদি ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হেরোডিয়াম ন্যাশনাল পার্কে অনুষ্ঠিত এক বসতি স্থাপনকারী সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘মা’রিভ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জুডেয়া ও সামারিয়ায় ইসরায়েলি ঐতিহ্য ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসরায়েলপন্থী নেতা ও কর্মীরা অংশ নেন। ‘জুডেয়া ও সামারিয়া’ হলো পশ্চিম তীরের জন্য ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত একটি বাইবেলীয় পরিভাষা।   সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকাবি বলেন, “আমার ভূমিকা শুধু ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরায়েলের গুরুত্ব তুলে ধরাও।”   ইসরায়েলি ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই এলিয়াহুকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে আপনাদের ঐতিহ্য, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রেরও ঐতিহ্য। ইসরায়েল ছাড়া, ইহুদি ভিত্তি ছাড়া, আমেরিকা থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “এই ভূমিতে যা ঘটেছিল, তার কাছেই আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্য ঋণী।”   ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা হাকাবি এই মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সেদিন বলেন, “আমি এবং যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না।”   হাকাবির বক্তব্য এবং ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে আয়োজিত একটি বসতি স্থাপনকারী সম্মেলনে এমন বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি গ্রামের মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বুধবার রামাল্লার উত্তরে জিলজিলিয়া গ্রামের একটি মসজিদে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।   ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা মসজিদে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিহ্ন দেখতে পান। তাদের পর্যবেক্ষণে মসজিদের ছাদ, দেয়াল ও মেঝে কালো হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   জিলজিলিয়া গ্রামের কাউন্সিল প্রধান ওসামা আবদুল্লাহ বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদের ওজু করার কক্ষে আগুন দেয় এবং দেয়ালে বিদ্বেষমূলক স্লোগান লিখে রেখে যায়। তার ভাষায়, মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে এবং মূল দরজা বন্ধ থাকায় নিচতলার অংশে আগুন লাগানো হয়।   এএফপির সাংবাদিকদের তথ্যানুযায়ী, মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা দেখা গেছে, যেখানে “প্রতিশোধ” এবং “হিলটপ ইয়ুথের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা” লেখা ছিল। হিলটপ ইয়ুথকে পশ্চিম তীরে সক্রিয় একদল উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।   স্থানীয় কর্মকর্তা ওসামা আবদুল্লাহ আরও জানান, মসজিদটি পুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বসতি স্থাপনকারীরা প্রবেশ করেছিল। তবে মসজিদের দরজা বন্ধ থাকায় তারা মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ওজু করার কক্ষেই আগুন দেয়। ঘটনার পর ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মী, স্থানীয় তরুণ এবং আশপাশের বাসিন্দারা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে এই অঞ্চলে বর্তমানে ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। একই এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন।  

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইনিভাবে বাবার ‘ক্রুজ’ পদবি বাদ দিয়ে নতুন নাম গ্রহণ করেছেন সুরি। ছবি: সংগৃহীত

কোটি টাকার সম্পত্তি ও পরিচয় ছেড়ে আইনিভাবে বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন টম ক্রুজের মেয়ে সুরি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০