বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য আগামী ৬০ দিনের ফি মওকুফের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিষদ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে আগ্রহী জাহাজগুলোকে কোনো ধরনের চলাচল ফি দিতে হবে না। একই সঙ্গে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর জলপথ কর্তৃপক্ষকে আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে এ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, ফি মওকুফ করা হলেও নিরাপত্তাজনিত কিছু শর্ত বহাল থাকবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং নৌপথে বিদ্যমান ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে জাহাজগুলোকে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে।
পরিষদের মতে, এই নিয়ম মেনে চললে ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবহন আরও নিরাপদ হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সংক্রান্ত কারিগরি নির্দেশনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনাগত বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই পারস্য উপসাগর জলপথ কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করবে। এতে জাহাজ মালিক, পরিবহন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে।
এ ছাড়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের আওতায় নৌপথে সম্ভাব্য মাইন অপসারণসহ নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছে ইরান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং নৌপথ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ ও পণ্য পরিবহন খাতের জন্য ফি মওকুফের এই উদ্যোগ ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।
তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুরোপুরি ফিরে আসার বিষয়টি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে আরও স্থায়ী ও কার্যকর রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে লেবাননে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করবেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিরও শনিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এদিকে ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও তার সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই সফর কেবল যুদ্ধবিরতি রক্ষার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরুরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, নৌপথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে স্টিভ উইটকফের সফর সম্পর্কে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সময় বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই সমঝোতা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে। রয়টার্সের কাছে হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ নতুন করে হামলা না চালালে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও সামরিক অভিযান চালানো হবে না। তবে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টার মধ্যেও কয়েকটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে এবং বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে পরিচালিত এক অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি শুধু লেবানন সংকট নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ড এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে একজন ট্রেনচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৮৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং রেল চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত ট্রেন দুটি ছিল ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের। একটি ট্রেন করবি থেকে লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশনের উদ্দেশে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে যাত্রা শুরু করেছিল। অন্য ট্রেনটি নটিংহ্যাম থেকে একই গন্তব্যে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে আসে। বেডফোর্ড এলাকায় এসে দুটি ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ দুর্ঘটনাটিকে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ বা বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব রেল, মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স (আরএমটি) জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি একজন ট্রেনচালক এবং তিনি সংগঠনটির সাবেক প্রতিনিধি ছিলেন। এক বিবৃতিতে আরএমটির মহাসচিব নিহত চালকের পরিবার, সহকর্মী এবং রেলকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। ইস্ট অব ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এছাড়া ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও ৫৬ জন তুলনামূলকভাবে কম আঘাত পেয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের অনেকেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। আহত যাত্রী পিটার ন্যাপ জানান, তিনি ট্রেনের সামনের বগিতে ছিলেন। সংঘর্ষের মুহূর্তটি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “মনে হয়েছিল যেন কোনো বিস্ফোরণের মধ্যে পড়ে গেছি।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচণ্ড শব্দের সঙ্গে ট্রেনের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক যাত্রী ছিটকে পড়ে আহত হন। দুর্ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহত ট্রেনচালকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সেবা সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। সংঘর্ষের কারণে লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ রেলকেন্দ্র St Pancras International স্টেশনে যাওয়া এবং সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের সব ট্রেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে হাজারো যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার আশ্রয় নিতে হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিগন্যালিং ত্রুটি, যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের রেলব্যবস্থায় নিরাপত্তা মান উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এমন বড় দুর্ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। এদিকে দুর্ঘটনার পর নিহত ট্রেনচালকের স্মরণে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সহমর্মিতা জানাচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রী ও তাদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে ভারতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা জোরদার করছে নয়াদিল্লি। চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প বর্তমানে নির্মাণাধীন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান। তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভারতের এসইউএমপি প্রকল্প এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও এখনো শুরু হয়নি। ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে। ভারতের প্রস্তাবিত এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানের সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও ব্যাপক। এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও জোরদার করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি