বিশ্ব

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রুশ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, দক্ষিণ ফ্রন্টে অস্থিরতা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৫:১৭
ছবি: সিএনএন
ছবি: সিএনএন

রাশিয়ার দক্ষিণ ফ্রন্টে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের মধ্য-পাল্লার ড্রোন হামলা রুশ লজিস্টিক নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। ব্রিজ, ট্রেন ও জ্বালানি ট্রাকসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ক্রিমিয়া ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে সরবরাহ চেইনে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ।

 

ফরাসি ওপেন সোর্স বিশ্লেষক ক্লেমেন্ট মোলিন এবং স্বেচ্ছাসেবী OSINT গ্রুপ জিওকনফার্মডের তথ্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি হামলার ভিডিও ও ছবি যাচাই করা হয়েছে। এসব ফুটেজে রুশ জ্বালানি ট্যাঙ্কার, সামরিক ট্রাক এবং রেল নেটওয়ার্কে ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের সরবরাহ রুটগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের “কিল জোন” তৈরি হয়েছে।

 

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মধ্য-পাল্লার ড্রোন মিশনের সংখ্যা ২৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের লক্ষ্য রুশ বাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং দখলকৃত অঞ্চলের লজিস্টিক চেইন অকার্যকর করা।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিমিয়া থেকে রুশ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী একাধিক সড়ক এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাইওয়েতে জ্বালানি ট্যাঙ্কার ও সামরিক যানবাহনে নিয়মিত হামলার কারণে পরিবহন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটগুলো একাধিক সড়ক ও সেতু লক্ষ্য করে আঘাত হানায় বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে রুশ বাহিনী। তবে সেসব বিকল্প রুটও হামলার ঝুঁকির বাইরে নেই বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সামরিক সূত্র।

 

ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগকারী কের্চ ব্রিজ এখন সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এই অবকাঠামো ভবিষ্যতে আরও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

 

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ড্রোন কৌশল রুশ বাহিনীর জন্য “লজিস্টিক লকডাউন” তৈরি করছে, যার ফলে সামনের সারিতে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে।

 

রুশ সামরিক ব্লগারদের দাবিতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ঘাটতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। রাশিয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সিএনএন
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কৌশলগত সুবিধা গুছিয়ে নিচ্ছে চীন

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা আলোচনার প্রেক্ষাপটে চীনের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পুরো সময়জুড়ে চীন সরাসরি অংশ না নিয়ে কৌশলগতভাবে নিজ অবস্থান শক্ত করার সুযোগ নিয়েছে।   যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বেইজিং উদ্বিগ্ন ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রায় চার মাস পর পরিস্থিতি বদলেছে। ইরান সরকারের স্থিতি বজায় আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে।   চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়েন বলেন, বেইজিং সব পক্ষকে শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখতে সমন্বিত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, বেইজিং সংঘাতের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে এবং উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, পুরো সংঘাতের সময় চীন একদিকে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ চালু রেখেছে। ফলে বেইজিং নিজেকে একটি “স্থায়ী কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি” হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।   সংঘাত চলাকালে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হলেও চীন তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পেছনে কৌশলগত তেল মজুদ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রেখেছে।   চীনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব হ্রাসের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রের “একক আধিপত্যের” ধারণাকে দুর্বল করেছে।   ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষক বলেন, হরমুজ প্রণালীর সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে।   চীনের কিছু নীতি-নির্ধারক এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি বেইজিংয়ের “মাল্টিপোলার বিশ্ব” ধারণাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে, যেখানে কোনো একক শক্তি নয় বরং একাধিক শক্তি বৈশ্বিক ভারসাম্য নির্ধারণ করবে।   তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করলেই বৈশ্বিক নেতৃত্ব অর্জন সম্ভব নয়। বাস্তব কূটনৈতিক সমাধান ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সক্ষমতাই ভবিষ্যতে চীনের অবস্থান নির্ধারণ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৫:৩৬
ছবি: সিএনএন

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে ইরানে তীব্র মতবিরোধ ও বিক্ষোভ

ছবি: সিএনএন

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রুশ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, দক্ষিণ ফ্রন্টে অস্থিরতা

ছবি: সিএনএন

ডোমিনিকান রিপাবলিকে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক নারী নিহত

ছবি: সিএনএন
যুক্তরাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, নেতৃত্ব সংকটে লেবার পার্টি

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে নেতৃত্ব সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।   নর্থ-ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরার পথ নিশ্চিত করেছেন বার্নহ্যাম। এই আসনটি খালি হওয়ার পর থেকেই তার জাতীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। উপনির্বাচনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নির্বাচনের মতোই দ্রুত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   লেবার পার্টির একাংশের মতে, দুই বছর আগে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতায় আসা দলটি এখন জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুই দিক থেকেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টির উত্থান দলটির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।   দলের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় বার্নহ্যামই একমাত্র বিকল্প নেতা হতে পারেন, যিনি স্টারমারের মতো নয়, বরং ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক আবেদন তৈরি করতে সক্ষম।   নির্বাচনের পর দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, “রাজনীতি এখন কাজ করছে না। দেশ যেখানে থাকা উচিত সেখানে নেই। আজকের রাত একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হতে পারে।” স্টারমার অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি যে কোনো নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন।   অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগে টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হন। ২০১০ ও ২০১৫ সালে তিনি লেবার নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি।   ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারের মেয়র হওয়ার পর তিনি ওয়েস্টমিনস্টারের দলীয় দ্বন্দ্ব থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেন। এই সময়েই তিনি “কিং অব দ্য নর্থ” নামে পরিচিতি পান। তার নেতৃত্বে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয় এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আবাসন প্রকল্পে অগ্রগতি ঘটে।   বার্নহ্যামের রাজনৈতিক দর্শন এখন “ম্যানচেস্টারিজম” নামে পরিচিত। এতে রয়েছে অর্থনীতিতে আরও স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ, পাবলিক সার্ভিসের পুনর্গঠন এবং “ব্যবসাবান্ধব সমাজতন্ত্র” ধারণা। সমর্থকদের মতে, এটি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।   তবে সমালোচকদের মতে, তার অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দলটির ভেতরে বিভাজনও বাড়ছে। ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টির উত্থান লেবারের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যাম যদি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামেন, তবে তাকে একই সঙ্গে মধ্যপন্থী, বামপন্থী এবং শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার কঠিন সমীকরণ মোকাবিলা করতে হবে।   এদিকে তার নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। অভিবাসন, অর্থনৈতিক নীতি এবং ব্রেক্সিট ইস্যুতে তিনি আগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থান নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।   বার্নহ্যাম এখন পার্লামেন্টে ফেরার পর জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছেন। তার পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করতে পারে ব্রিটিশ রাজনীতির আগামী দিনের গতিপথ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৪:৪৪
ছবি: ফাইল ছবি

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার শনাক্ত এইচ৫ বার্ড ফ্লু, সতর্কতা জোরদার

ছবি: রয়টার্স

উপসাগরে মার্কিন স্বার্থে হামলার জন্য ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরান

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে নেতানিয়াহুর কারণে: মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

ছবি: এনডিটিভি
বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু চীনে, দুশ্চিন্তায় ভারত

তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতের নীতিনির্ধারক মহলে।   চীনের এই প্রকল্পটি মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প নামে পরিচিত, যার উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতও অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।   ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসইউএমপি প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপি।   তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যেখানে ভারতের এসইউএমপি এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।   ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।   নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজান থেকে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি মোকাবিলা করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। ফলে প্রকল্পটি অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।   এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।   তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২:৪৬
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প হেরে গেছেন: নিউইয়র্ক টাইমস

কোলাজ । আমেরিকা বাংলা

ছবি তোলার জন্য অনুনয় করেছিলেন মেলোনি: ট্রাম্প, ইতালির প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘বানানো গল্প’

ফাইল ছবি

সুরক্ষার আড়ালে আক্রমণাত্মক জীবাণু অস্ত্র গবেষণা? নতুন বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments