রাশিয়া

রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও উত্তপ্ত
রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আবারও উত্তপ্ত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করছে।   রোববার (২৮ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ ইউক্রেনের মিকোলাইভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এ হামলায় ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দুটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বিমান রানওয়ের পাশে অবস্থান করছিল, আর অন্যটি বাঙ্কারের ভেতরে জ্বালানি নেওয়ার সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে মস্কো দাবি করেছে, তাদের আঘাত ‘সম্পূর্ণ সফল’ হয়েছে।   অন্যদিকে একই দিনে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া এলাকায় রুশ হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। যুদ্ধের এই অংশে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।   এরই মধ্যে ইউক্রেন পাল্টা হামলার দাবিও জোরালো করেছে। কিয়েভ জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে অবস্থিত টাইটান বারিকাদি শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ওই কারখানায় কামান ব্যবস্থা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। ফলে এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে।   এছাড়া ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। কিয়েভের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করতে জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে কৌশলগতভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে।   ইউক্রেনের এই দীর্ঘপাল্লার হামলা বাড়তে থাকায় রাশিয়াও নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির কংগ্রেসে বলেন, দেশের নিরাপত্তা, নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও জানান, রুশ ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশ প্রস্তুত রয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পক্ষই এখনো পিছু হটার অবস্থায় নেই। বরং উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত সুবিধা বাড়াতে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।   সূত্র: মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন

নীলুফা নিশাত জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কারখানায় ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কারখানায় ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেল স্থাপনাতেও ড্রোন আঘাত

রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কারখানায় ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শনিবার (২৭ জুন) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, রাতভর চালানো এই হামলায় কারখানাটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।   জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ‘টাইটান-বারিকাডি’ নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেখানে কামানের গোলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। এই কারখানাটি রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়।   একই সময়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ রাশিয়ার ভ্লাদিমির অঞ্চলের ‘ভতোরোভো’ তেল পাম্পিং স্টেশনেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। চলতি মাসে এই স্থাপনাটিতে এটি দ্বিতীয় আঘাত। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদেশে তেল রপ্তানির জন্য একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।   দূরপাল্লার এসব হামলা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ভেতরে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করাই ইউক্রেনের লক্ষ্য, যা শেষ পর্যন্ত একটি মর্যাদাপূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে কিয়েভ। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার জবাবে ইউক্রেন এখন রুশ ভূখণ্ডের গভীরে থাকা তেল শোধনাগার ও অস্ত্র কারখানাকে লক্ষ্য করে আঘাত বাড়িয়েছে।   প্রায় পাঁচ বছরে গড়ানো এই যুদ্ধ এখন প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে বিস্তৃত। যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি রাতের আঁধারে একে অপরের অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, রুশ বাহিনী প্রায় প্রতিরাতেই তাদের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।   এদিকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজ জানিয়েছে, গত দুই দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় তাদের কয়েকটি উৎপাদন কেন্দ্র গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   জেলেনস্কি আরও বলেন, গত সপ্তাহেই ইউক্রেনের ১৫টি অঞ্চলে রাশিয়া প্রায় ১,৪০০টি ড্রোন এবং ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোই এখন কিয়েভের প্রধান অগ্রাধিকার।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই একে অপরের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
এক রাতেই ৬৬০ ড্রোন হামলার দাবি রাশিয়ার
এক রাতেই ৬৬০ ড্রোন হামলার দাবি রাশিয়ার, সব ভূপাতিত করার কথা বলছে মস্কো

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এক রাতেই ৬৬০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন—এমন দাবি করেছে ক্রেমলিন। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিকে এক রাতে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।   শুক্রবার (২৬ জুন) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ড্রোনের সবকটিই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজধানী মস্কোসহ এক ডজনের বেশি অঞ্চলের আকাশে এই ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরসংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। সরকারি তথ্য প্ল্যাটফর্মে এই বিবরণ প্রকাশ করা হয়।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে আসা অন্তত ৪৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।   অন্যদিকে, মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত তুলা অঞ্চলেও ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে। ওই অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ জানিয়েছেন, শেকিনো জেলার একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নারী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।   এর আগে গত সপ্তাহেও ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে, যা কয়েক ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।   ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন দীর্ঘায়িত সংঘাতে পরিণত হয়েছে। স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এই সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষের ভেতরে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতে জোর দিচ্ছে।   এই সর্বশেষ হামলার ঘটনায় যুদ্ধের বিস্তার ও তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও রাশিয়া সব ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সূত্র: এএফপি

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
গত সপ্তাহে মস্কোয় ২০০ ড্রোনের ইউক্রেনীয় হামলায় ক্ষয়ক্ষতি | ছবি: ইপিএ
ন্যাটো জোট ভাঙার নতুন ছক রাশিয়ার, ইউরোপে বড় হামলার আশঙ্কা

ইউক্রেন যুদ্ধের চরম চাপের মুখে পড়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষা করতে পোল্যান্ড অথবা বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতে রাশিয়া একটি বড় ধরণের সামরিক 'উসকানি' বা হাইব্রিড হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের দুটি সদস্য দেশের গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলার কারণে ক্রেমলিন প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে এবং এই অচলাবস্থা ভাঙতেই পুতিন এমন বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে পারেন।   লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়া বাল্টিক দেশ বা পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক আক্রমণ হবে না, বরং ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের সাহায্যে 'হাইব্রিড হামলা' হতে পারে। আরেকটি ন্যাটো সদস্য দেশের একজন সিনিয়র রাজনৈতিক সূত্রও নিশ্চিত করেছেন যে পুতিন এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়ার মতো ছোট ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর মার্কিন সমর্থন ঠিক কতটা মজবুত, তা পরীক্ষা করার জন্য একটি গোপন পরিকল্পনা করছেন। এই উসকানির মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা বিশ্বকে এই বার্তা দেওয়া যে তারা যেন ইউক্রেনকে সহায়তা করা বন্ধ করে, অন্যথায় তাদের নিজেদের দেশেও বড় সমস্যা তৈরি হবে।   আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নিজস্ব দূরপাল্লার ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে প্রায় ২০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা চালায়, যার ফলে ক্রেমলিন এখন ব্যাকফুটে চলে গেছে। চ্যাথাম হাউজের রাশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কেয়ার জাইলস বলেন, মস্কো কখনোই নিষ্ক্রিয়ভাবে নিজেদের পরাজয় মেনে নেবে না, বরং তারা যুদ্ধকে অন্য দেশে ছড়িয়ে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবে।   এদিকে চলতি মাসেই তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে জোটের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। এর আগে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড ও জার্মানির ডিএইচএল পার্সেলের ভেতরে রাশিয়ান অগ্নিবোমা পাওয়া গিয়েছিল এবং গত সেপ্টেম্বরে ১৯টি রাশিয়ান ডেকয় ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের আকাশ সীমায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর পুতিন যদি নিজেকে চরম কোণঠাসা মনে করেন, তবে তিনি ন্যাটোর ওপর যেকোনো সময় ক্ষিপ্ত হয়ে আঘাত করতে পারেন যা পুরো ইউরোপের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সময়।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মারিয়া জাখারোভা | ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
ইউক্রেনকে ইউরেনিয়াম দিচ্ছে যুক্তরাজ্য, রাজনৈতিক চাল দেখছে রাশিয়া

ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহে যুক্তরাজ্যের নতুন পরিকল্পনাকে সন্দেহজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ নেই। কিয়েভ সরকারকে অন্ধ সমর্থন দেওয়ার জন্য এই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হচ্ছে বলে মস্কো মনে করে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে মারিয়া জাখারোভা এই মন্তব্য করেন।   রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, এই পরিকল্পনাটি সম্ভবত ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত. বর্তমানে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ইউরেনকো এ ধরনের পণ্যের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে। তবে ইউক্রেনের নিজস্বভাবে পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের কোনো শিল্প সক্ষমতা রয়েছে বলে রাশিয়ার জানা নেই। তাই সরবরাহ করা ইউরেনিয়াম সরাসরি ইউক্রেনে নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনকারী কারখানায় পাঠানো হবে।   রাশিয়ার ধারণা, এই ইউরেনিয়াম সম্ভবত ওয়েস্টিংহাউস নামের একটি কারখানায় পাঠানো হবে। জাখারোভা বলেন, লন্ডনের বক্তব্য অনুযায়ী এই চুক্তির সঙ্গে ডার্টি বোমা বা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো বিপজ্জনক অস্ত্র তৈরির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ইউক্রেন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি অনুযায়ী তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা কঠোরভাবে পালন করবে। একই সাথে সরবরাহ করা উপাদান নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করবে।   বিবৃতিতে বলা হয়, এসব শর্ত পূরণ হলে এই সরবরাহ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক উপাদানকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর পূর্ণ তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। তবে জাখারোভার মূল দাবি, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য বাণিজ্যিক সুবিধা লাভ করা নয়। বরং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারকে সব পরিস্থিতিতে সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা।   তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থান এমন সময় এসেছে, যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং এর কর্মীদের আবাসস্থল এনারহোদার শহরে সরাসরি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রাশিয়ার কাছে তথ্য রয়েছে। এই চরম উসকানিমূলক বিষয়ে লন্ডনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নিন্দা বা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়নি। এই নীরবতাই পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের আসল অবস্থানকে বিশ্বের কাছে স্পষ্ট করে দেয়। তাই ইউক্রেনকে দেওয়া ব্রিটিশ সহায়তার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাশিয়ার কোনো বিভ্রম নেই।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানের হয়ে যুদ্ধে নামতো চীন-রাশিয়া-তুরস্ক, আমি থামিয়েছি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের হয়ে রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে তার ব্যক্তিগত কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণেই এই তিন দেশ সংঘাত থেকে দূরে থেকেছে।   ওয়াশিংটনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন নেতার সঙ্গে তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন। তার মতে, রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের নিরপেক্ষ অবস্থান সম্ভাব্য বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের প্রতি এরদোয়ানের অবস্থানের কারণে তিনি চাইলে ইরানের পক্ষে সরাসরি ভূমিকা নিতে পারতেন। তবে ট্রাম্পের অনুরোধে তিনি সংঘাত থেকে দূরে থাকেন। ট্রাম্প এরদোয়ানকে একজন শক্তিশালী ও দূরদর্শী নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।   চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকাও প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের বিপুল জ্বালানি আমদানি হওয়ায় বেইজিংয়ের এই সংঘাতে জড়ানোর অর্থনৈতিক কারণ ছিল। কিন্তু তার অনুরোধে শি জিনপিংও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন।   রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্পর্কেও ট্রাম্প বলেন, পুতিন এই সংঘাত থেকে দূরে ছিলেন। যদিও বর্তমানে রাশিয়ার নিজস্ব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে, তারপরও তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াননি।   ট্রাম্পের ভাষায়, বিশ্বের তিনটি শক্তিধর দেশের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ছিল “অবিশ্বাস্য” এবং “চমকপ্রদ” একটি কূটনৈতিক সাফল্য। তিনি মনে করেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়েছে।   সূত্র: তাস

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন | ছবি: সংগৃহীত
পারমাণবিক বোমার কারণেই রক্ষা পাচ্ছে পৃথিবী, বিশ্বযুদ্ধ ঠেকানো নিয়ে রাশিয়ার বড় দাবি

পারমাণবিক অস্ত্রই বিশ্বকে আরেকটি বৈশ্বিক বা মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করার একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধক বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। নতুন করে বহুদেশীয় পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এমন বিস্ফোরক দাবি করা হলো। বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যখন ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে, তখন রাশিয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।   রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তির ওপর এত বছর ধরে থাকা বিভিন্ন আইনি সীমাবদ্ধতাও কার্যত উঠে গেছে। এখন পর্যন্ত চুক্তিটি নবায়ন বা এর বিকল্প কোনো নতুন সমঝোতা করার বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। যদিও উভয় দেশই উচ্চপর্যায়ের সামরিক সংলাপ পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে।   মস্কোয় আয়োজিত এক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাস্তবে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া এখন পৃথিবীতে আমাদের আর কোনো বড় শক্তি অবশিষ্ট নেই। এটিই একমাত্র মূল বিষয়, যা এখনো পুরো বিশ্বকে একটি বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধ থেকে রক্ষা করে চলেছে।   পেসকভ আরও উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কিছু নতুন ধরনের অ-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হবে, যার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ইউক্রেনে চার বছরের সামরিক অভিযান চলাকালীন একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র বারবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে আসছে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে শুধু রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো প্রস্তাব রয়েছে। যদিও চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়ছে, তবে তা এখনো রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ছোট। আর সে কারণেই বেইজিং প্রকাশ্যেই ওয়াশিংটনের এমন চাপ ও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।   অন্যদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, যদি চীনকে নতুন কোনো চুক্তির আওতায় আনা হয়, তাহলে মার্কিন পারমাণবিক মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও সেই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন সীমিত করার কোনো কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি বর্তমানে বিশ্বে বলবৎ নেই।   ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ ছিল স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে টিকে থাকা সর্বশেষ বড় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। এর আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিকবার চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে না মানার অভিযোগ তুলেছিল।   সূত্র: এনডিটিভি

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার বন্দরে চীনা যুদ্ধজাহাজ, জোরদার হচ্ছে বেইজিং-মস্কো সামরিক সম্পর্ক

রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছেছে চীনের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বহর।   মঙ্গলবার চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএ নেভি) টাস্ক ফোর্স-৮৩ রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের সদর দপ্তর ভ্লাদিভস্তকে পৌঁছায়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রকাশিত ছবি ও তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে পৌঁছানো জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ জাহাজ ‘চি জিগুয়াং’ এবং উভচর অবতরণ জাহাজ ‘কুনলুনশান’।   রুশ নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে চার দিনের এই সফরে চীনা নাবিকরা রুশ নৌ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। বন্দরে জাহাজ দুটি পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা পতাকা নাড়িয়ে তাদের স্বাগত জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু একটি নিয়মিত সামরিক বিনিময় কর্মসূচি নয়; বরং এটি বেইজিং ও মস্কোর ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতারও প্রতীক।   ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং বিভিন্ন ধরনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানির মাধ্যমে চীন রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো।   যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ভাষ্য, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আবারও তাদের কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সে সময় উভয় দেশ প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়।   চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবধর্মী সহযোগিতা আরও বাড়াবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীন নিয়মিত যৌথ নৌ ও বিমান মহড়া পরিচালনা করছে। যদিও ২০২৫ সালে দুই দেশের যৌথ মহড়ার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল, তবুও ওই বছর প্রথমবারের মতো যৌথ সাবমেরিন মহড়া অনুষ্ঠিত হয়, যা সামরিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, যৌথ মহড়ার সংখ্যা কিছুটা কমলেও দুই দেশের নৌ সহযোগিতার গভীরতা আগের তুলনায় বেড়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে বলেছে, রাশিয়া তার নৌবাহিনীকে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখে। সে কারণেই রাশিয়া-চীন নৌ সহযোগিতা স্থলবাহিনীর যৌথ কার্যক্রমের তুলনায় বেশি বিস্তৃত হয়ে উঠেছে।   এদিকে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। বিশেষ করে আলাস্কার কাছাকাছি এলাকায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ টহল কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে দেখছে।   গত ডিসেম্বরে জাপান সাগর এবং ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় চীন ও রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমান টহল পরিচালনার ঘটনায় জাপান তাদের যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছিল। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সে সময় মন্তব্য করেন, ওই অভিযান ছিল জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট বার্তা এবং এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।   যদিও চীন ও রাশিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট নেই, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সামরিক আধিপত্যের বিকল্প একটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রশ্নে দুই দেশ একই অবস্থানে রয়েছে।   বিশ্লেষকদের ধারণা, ভ্লাদিভস্তকে চীনা যুদ্ধজাহাজের এই সফর শুধু দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের প্রতীক নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের ‘ডাইনি বাহিনী’র প্রেমের ফাঁদে কুপোকাত রুশ সেনারা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দেখতে দেখতে পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে রুশ সেনাদের রুখে দিতে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের খালি হাতের প্রতিরোধ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে এই যুদ্ধের কৌশল এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রুশ অধিকৃত ও অবরুদ্ধ ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে এই প্রতিরোধ এখন পুরোপুরি রূপ নিয়েছে এক রোমাঞ্চকর ‘ছায়া যুদ্ধে’। আর এই আড়ালে থাকা গোপন যুদ্ধের নেপথ্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে একদল নারী ও ছদ্মনামধারী পুরুষ গোয়েন্দা, যাদের প্রতিরোধ কমান্ডাররা আদর করে ডাকছেন ‘ভিদমা’ বা ‘ডাইনি’।   বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইউক্রেনের এই ‘ডাইনি বাহিনী’ এবং তাদের ভয়ংকর সব গোয়েন্দা জালের চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকৃত ইউক্রেনের এক রুশ সেনা বেশ কয়েক মাস ধরে ভাবছিলেন যে তিনি বুঝি এক নিঃসঙ্গ ইউক্রেনীয় গৃহবধূর প্রেমে পড়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপে তাদের দীর্ঘদিনের আলাপচারিতা একসময় গভীর রোমান্সে রূপ নেয়। একদিন ওই নারী সেনাটির সামরিক ক্যাম্প দেখতে চাইলে তিনি একটি ছবি পাঠান, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব আবছাভাবে ঘাঁটির একটি মানচিত্র দেখা যাচ্ছিল।   বাস্তবে কিন্তু ওপাশে কোনো নারীর অস্তিত্বই ছিল না। অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করছিলেন ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (এইচইউআর) একজন পুরুষ কর্মকর্তা। ছবি পাঠানোর মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় সেই সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক বা কো-অর্ডিনেট লক্ষ্য করে নিখুঁত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। ইউক্রেনীয় লোকগাথায় 'ভিদমা' শব্দের অর্থ এমন এক নারী, যার কাছে বিশেষ কোনো গোপন জ্ঞান থাকে। বর্তমানে এই ডাইনিরা হলেন ইউক্রেনের সেই সাধারণ নারীরা, যাঁরা প্রতিদিন সকালে বাজার করার বাহানায় রুশ চেকপোস্ট পার হন এবং রুশ সেনাদের প্রতিটি গতিবিধি ডায়েরিতে টুকে রাখেন।   এই গুপ্তচরবৃত্তির কাজ কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। জার্মানি বা পোল্যান্ডে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ ইউক্রেনীয় গৃহিণীরাও এই কিল চেইনের অংশ হয়ে উঠেছেন। তারা বিদেশ থেকেই নিজেদের চেনা অঞ্চলের কোন গুদামঘরটি রুশ বাহিনী ব্যবহার করছে, তা ম্যাপ মিলিয়ে ড্রোনের টার্গেট নিশ্চিত করেন। তবে এই ডাইনি বাহিনীর মূল লক্ষ্য শুধু রুশ সেনাদের হত্যা করা নয়, বরং তাদের মনে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক তৈরি করা। যাতে ইউক্রেনের মাটিতে পা রাখা প্রত্যেক রুশ সেনা বাজারে সবজি বিক্রি করা বয়স্ক নারী, বাসের ড্রাইভার কিংবা সাধারণ পথচারী—সবার দিকে তাকিয়েই নিজেদের নিশ্চিত মৃত্যু দেখতে পায়।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
আকাশেই জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা রুশ টিইউ–১৬০-এর
১৬ ঘণ্টার টহল উড়ান, আকাশেই জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতা পরীক্ষা রুশ টিইউ–১৬০-এর

রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বোমারু বিমান টিইউ–১৬০ ব্যারেন্টস সাগর ও নরওয়েজিয়ান সাগরের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় টানা ১৬ ঘণ্টা টহল উড়ান সম্পন্ন করেছে। এ সময় আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি নেওয়ার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।   মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় মন্ত্রণালয় জানায়, এটি ছিল নিয়মিত টহলের অংশ। দীর্ঘ এই উড়ানের সময় বোমারু বিমানটির সঙ্গে ছিল মিগ–৩১ যুদ্ধবিমান, যা নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে।   রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ ঘণ্টার এই মিশনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিদেশি যুদ্ধবিমানও আকাশে উপস্থিত হয়ে টিইউ–১৬০-কে অনুসরণ বা নজরদারি করেছে। তবে সেসব যুদ্ধবিমান কোন দেশের ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আকাশে জ্বালানি গ্রহণের সক্ষমতা যাচাই করা এই ধরনের মহড়া দীর্ঘপাল্লার অভিযানে কৌশলগত বোমারু বিমানের কার্যকারিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলে টানা টহল বা নজরদারি চালাতে এ ধরনের প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।   ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও এ অঞ্চলের গুরুত্ব অনেক। রাশিয়ার উত্তরে ন্যাটোভুক্ত দেশ নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে, ফলে এই এলাকায় সামরিক তৎপরতা প্রায়ই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমা জোট ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উড়ানকে অনেকেই শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেও দেখছেন।   তবে মস্কোর দাবি, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই তাদের বিমানগুলো এই টহল পরিচালনা করেছে এবং এতে কোনো আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার মূল লজিস্টিক হাব ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, নিহত ৪; জ্বালানি বিক্রি স্থগিত

রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের এক ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার পরপরই ক্রিমিয়াজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের কাছে সব ধরনের জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করেছে মস্কো-সমর্থিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক মাসের মধ্যে ক্রিমিয়া উপদ্বীপে চালানো সবচেয়ে বড় এই হামলায় সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কিয়েভ। রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা সামরিক অভিযানের প্রধান রসদ সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ক্রিমিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, যে কারণে শুরু থেকেই এটি ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   ক্রিমিয়ার রুশ-সমর্থিত গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কার্চ উপদ্বীপে শত্রুদের ড্রোন হামলার কারণে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ২১ জুন সকাল ৯টা থেকে ক্রিমিয়ার সব পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এখন থেকে কেবল রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ক্রিমএনারগো' জানিয়েছে, হামলার পর ২০১৪ সালে রাশিয়ার সংযুক্ত করা এই উপদ্বীপের বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।   এছাড়া ক্রিমিয়া সীমান্তবর্তী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদর অঞ্চলেও এই ব্যাপক হামলার প্রভাব পড়েছে। সেখানে একটি ফেরিতে হামলায় একজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি একটি তেলের টার্মিনালেও আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার নৈশকালীন পাল্টা হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার ওপর 'দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, গত রাতে তাদের এই দূরপাল্লার হামলায় দখলদারদের সামরিক রসদ, তেল শিল্প এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ওপর রাশিয়ার নিষ্ঠুর ও ধারাবাহিক হামলার 'ন্যায্য জবাব' হিসেবেই এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   এর পাশাপাশি ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করা কৌশলগত ক্রিমিয়ান ব্রিজ, বেশ কয়েকটি রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও আঘাত হানার কথা জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। দূরপাল্লার ড্রোনের সক্ষমতা বৃদ্ধির পর কিয়েভ এখন অবরুদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের ভূমি ব্যবহার করে সহজেই রুশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই সংঘাত বন্ধের আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে এবং যুদ্ধক্ষেত্রেও একধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
রাশিয়ার একেবারে হৃদপিণ্ডে ইউক্রেনের আঘাত, আগুনে জ্বলছে সাইবেরিয়ার তেল সাম্রাজ্য

রাশিয়ার ভূখণ্ডের অনেক গভীরে ঢুকে সাইবেরিয়ার তিউমেন তেল শোধনাগারে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার দিনের বেলার এই হামলাটিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে কিয়েভের সবচেয়ে গভীর ও ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে ইউক্রেন যে কৌশল হাতে নিয়েছে, এই হামলা তারই একটি বড় অংশ।   স্থানীয়দের মতে, শনিবার দুপুরে শোধনাগারটিতে অন্তত দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই সেখান থেকে কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে অন্তত দশটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ মাইল দূরে অবস্থিত পশ্চিম সাইবেরিয়ার এই বৃহত্তম তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার বিকেলে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় একে একটি 'কার্যকরী হামলা' হিসেবে উল্লেখ করে জানান, কিয়েভের উন্নত ড্রোনগুলো এখন রাশিয়ার ১ হাজার ৮০০ মাইল ভেতর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এক উপদেষ্টাও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, রাশিয়ায় এখন আর কোনো নিরাপদ অঞ্চল অবশিষ্ট থাকবে না।   তিউমেন মূলত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং এই শোধনাগারটি দেশের সবচেয়ে আধুনিক কেন্দ্রগুলোর একটি। এখান থেকে বছরে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল (দৈনিক সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল) এবং বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও গ্যাসোলিন উৎপাদিত হয়। এর মাত্র দুই দিন আগেই মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে কিয়েভের ড্রোন হামলায় সেখানকার কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।   ওই কেন্দ্রটি মস্কোর জ্বালানি বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করত। এছাড়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি 'দ্বীপে' পরিণত করার লক্ষ্যে সেখানেও রাতভর হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের এই আগ্রাসনের জবাবে নিজেদের পালটা হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। শনিবার জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার গ্লাইড-বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন ইউক্রেনীয় নিহত এবং আরও দশজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় খারকিভের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুসহ পুরো ইউক্রেন জুড়ে অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারের মর্মান্তিক চিত্রগুলো যুদ্ধের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে।   যুদ্ধক্ষেত্রে যখন এই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, তখন দুই দেশের মধ্যকার শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া কার্যত থমকে আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ এই সংঘাত অবসানে ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো দ্বিধাবিভক্ত। ইরানে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ বর্তমানে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জও ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউরোপীয়রা এই সংঘাতে সরাসরি কোনো মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রুশ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, দক্ষিণ ফ্রন্টে অস্থিরতা

রাশিয়ার দক্ষিণ ফ্রন্টে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের মধ্য-পাল্লার ড্রোন হামলা রুশ লজিস্টিক নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। ব্রিজ, ট্রেন ও জ্বালানি ট্রাকসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ক্রিমিয়া ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে সরবরাহ চেইনে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ।   ফরাসি ওপেন সোর্স বিশ্লেষক ক্লেমেন্ট মোলিন এবং স্বেচ্ছাসেবী OSINT গ্রুপ জিওকনফার্মডের তথ্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি হামলার ভিডিও ও ছবি যাচাই করা হয়েছে। এসব ফুটেজে রুশ জ্বালানি ট্যাঙ্কার, সামরিক ট্রাক এবং রেল নেটওয়ার্কে ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের সরবরাহ রুটগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের “কিল জোন” তৈরি হয়েছে।   ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মধ্য-পাল্লার ড্রোন মিশনের সংখ্যা ২৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের লক্ষ্য রুশ বাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং দখলকৃত অঞ্চলের লজিস্টিক চেইন অকার্যকর করা।   বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিমিয়া থেকে রুশ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী একাধিক সড়ক এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাইওয়েতে জ্বালানি ট্যাঙ্কার ও সামরিক যানবাহনে নিয়মিত হামলার কারণে পরিবহন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটগুলো একাধিক সড়ক ও সেতু লক্ষ্য করে আঘাত হানায় বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে রুশ বাহিনী। তবে সেসব বিকল্প রুটও হামলার ঝুঁকির বাইরে নেই বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সামরিক সূত্র।   ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগকারী কের্চ ব্রিজ এখন সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এই অবকাঠামো ভবিষ্যতে আরও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।   ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ড্রোন কৌশল রুশ বাহিনীর জন্য “লজিস্টিক লকডাউন” তৈরি করছে, যার ফলে সামনের সারিতে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে।   রুশ সামরিক ব্লগারদের দাবিতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ঘাটতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। রাশিয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দুই বছরে সর্বোচ্চ ড্রোন হামলা, মস্কোকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের আক্রমণ—দাবি রুশ গণমাধ্যমের

ইউক্রেন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে লক্ষ্য করে গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা টাস। হামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, রাতভর অন্তত ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যেগুলো রাজধানীকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হওয়া হামলার তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি, যেখানে সাধারণত ড্রোনের সংখ্যা কয়েক ডজনের মধ্যে সীমিত থাকত।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৫৫টি ড্রোন বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিহত করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ড্রোন আজভ সাগরের ওপরেও ধ্বংস করা হয়। হামলার পর মস্কোর সব প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয় বলে জানিয়েছে রুশ বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।   রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। এর মধ্যে মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারও রয়েছে, যেটি মঙ্গলবারও হামলার শিকার হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রোন আসার সময় আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে এবং একটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে।   এছাড়া মস্কোর সাদোভোদ ট্রেড সেন্টারের কাছে বড় ধরনের ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। একটি আবাসিক ভবন ও একটি ফিটনেস সেন্টারেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রুশ ও ইউক্রেনীয় সূত্রের বরাত অনুযায়ী, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতেও হামলা চালিয়েছে।   অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া পাল্টা হামলায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এতে কিয়েভ ও পোলতাভা অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা রাশিয়ার জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে কার্যকর প্রভাব ফেলছে।   ন্যাটো ও জি-৭ বৈঠকের সময় এই হামলা সংঘটিত হয়। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, ইউক্রেনকে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই ধরনের হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ, যা যুদ্ধের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
এস-৩০০ভি ক্ষেপণাস্ত্র l ছবি: সংগৃহীত
ইউক্রেনের জোরালো হামলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষায় মিসাইল ঘাটতি, যুদ্ধের মোড় ঘোরার ইঙ্গিত

সাড়ে চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এবার দৃশ্যপট পরিবর্তনের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের টানা ও গভীর হামলায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ এস-৩০০ মিসাইলের মজুতে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন আরও সহজে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সফল আক্রমণ চালাতে সক্ষম হচ্ছে বলে দাবি করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।   ইউক্রেনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শতকের ষাট ও সত্তরের দশকে তৈরি সোভিয়েত আমলের এস-৩০০ মিসাইল রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। যুদ্ধক্ষেত্রে বর্তমানে রাশিয়া এস-৩৫০, এস-৪০০ এবং প্যান্টসির-এস১-এর মতো অত্যাধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহার করলেও এস-৩০০ মিসাইলের ওপর তাদের নির্ভরতা একেবারেই কমেনি।   ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের ২০২৫ সালের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়ার হাতে অন্তত ৪০০টির বেশি এস-৩০০ ও এস-৪০০ ইন্টারসেপ্টর ছিল। তবে বর্তমানে এই মজুত উদ্বেগজনক হারে কমে আসছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, রাশিয়া সম্প্রতি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত এস-৩০০ মিসাইলগুলোকে ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর জন্য ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি, ইউক্রেনের জেট ইঞ্জিনযুক্ত অত্যাধুনিক ও দ্রুতগতির ড্রোনগুলোকে ঠেকাতেও রাশিয়াকে তাদের এই মূল্যবান মিসাইলগুলোর বিশাল একটি অংশ খরচ করতে হচ্ছে।   রাশিয়ার এই আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে ইউক্রেন এখন সরাসরি তাদের মিসাইল সাইটগুলোতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করছে। ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ রব লি জানান, গত কয়েক মাসে ক্রিমিয়া, লুহানস্কসহ বিভিন্ন অধিকৃত অঞ্চলে রাশিয়ার বিপুল সংখ্যক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে কিয়েভ। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া এই মিসাইলগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, বিশেষ করে গাইডেন্স সিকার এবং কন্ট্রোল মডিউলের তীব্র সংকটে পড়েছে।   চীন বা পশ্চিমা বাজার থেকে এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে না পারায় মস্কোর পক্ষে দ্রুত এই বিপুল ঘাটতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তবে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (জিইউআর) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেহ চোরনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ড্রোন হামলা মোকাবিলার জন্য রাশিয়ার হাতে এখনও বেশ কিছু অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রয়েছে। অন্যদিকে, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে ইউক্রেনও নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে রুশ ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম মার্কিন প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টরের তীব্র অভাব কিয়েভকে বেশ চিন্তায় ফেলেছে।   নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া যেখানে বছরে ৬০০ থেকে ৮০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে, সেখানে বিশ্বব্যাপী প্যাক-৩ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন গত বছর মাত্র ৬২০টি ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করেছে। তারপরও রাশিয়ার এই মিসাইল ঘাটতির খবর যুদ্ধক্ষেত্রে কিয়েভের অবস্থানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে।   সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে এই ধরনের জোরালো হামলাই মূলত যুদ্ধ বন্ধে মস্কোকে বাধ্য করার অন্যতম প্রধান উপায়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
রাশিয়াকে প্রতিরোধে লাটভিয়ায় ৮৫০ সেনা পাঠাবে ডেনমার্ক

 ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী শরৎ মৌসুমে লাটভিয়ায় ৮৫০ সদস্যের একটি সামরিক ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করবে ডেনমার্ক। বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত সুইডিশ সেনা কন্টিনজেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ডেনিশ বাহিনী।   বুধবার ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েপে ব্রুস দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “রাশিয়াকে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে এবং বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর।”   ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে জোটভুক্ত দেশগুলো সামরিক উপস্থিতি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।   লাটভিয়াসহ বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলো ওই অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন বৃদ্ধি করছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের সময় পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।   এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। লাটভিয়ায় ডেনমার্কের নতুন সেনা মোতায়েনকে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জোটটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চায়।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিটিশ নৌযানের কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজে গুলি, ক্ষুব্ধ স্টারমার

ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী নৌযানের কাছে রুশ নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেটের ‘হুঁশিয়ারি গুলি’ ছোড়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে “বেপরোয়া” এবং “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।   বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বলেন, রুশ নৌবাহিনীর জাহাজের এমন আচরণ “ঘটা উচিত ছিল না”। তার ভাষায়, “এটি বেপরোয়া। নৌযানে থাকা দম্পতি নিশ্চিতভাবে ভীষণ আতঙ্কিত হয়েছিলেন।”   ঘটনার সময় ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি ইয়ট ইংলিশ চ্যানেলে চলছিল। ইয়টটিতে থাকা নাবিক জেন কেলভি বিবিসিকে জানান, রুশ যুদ্ধজাহাজটি শুরুতে পাঁচবার হর্ন বাজিয়ে সতর্ক সংকেত দেয়, এরপর ছোট অস্ত্র দিয়ে হুঁশিয়ারি গুলি ছোড়ে।   তিনি বলেন, নৌযান দুটি কোনোভাবেই সংঘর্ষের পথে ছিল না। তার দাবি অনুযায়ী, পরিস্থিতি তখনই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন গুলি ছোড়া হয়, যা “সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়” ছিল।   তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইয়টটি বিপজ্জনকভাবে যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং একাধিক রেডিও সতর্কবার্তার পরও অবস্থান পরিবর্তন করেনি। পরে সংঘর্ষ এড়াতে সতর্ক গুলি ছোড়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইয়টটি দিক পরিবর্তন করে।   যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিটি সরাসরি নৌযানকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। স্টারমার আরও বলেন, ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন দুই দিন আগে ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে যুক্তরাজ্যের বাহিনী।   ঘটনার সময় রুশ ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-কে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ এইচএমএস মার্সি পর্যবেক্ষণ করছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান সঠিক বলে দাবি করছে। তবে বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ রয়টার্স
মস্কোসহ রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা, একাধিক স্থানে আগুন

রাতের আঁধারে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি বড় তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে আগুন ধরে গেছে। এই হামলার ফলে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, মধ্য মস্কো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গ্যাজপ্রম নেফ্ট পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারে অন্তত একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। তাঁর মতে, ইউক্রেন রাতারাতি রুশ রাজধানীর দিকে প্রায় ৬০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখা যায় ড্রোনটি ওই শোধনাগারে আঘাত হানার সাথে সাথেই সেটি বিশাল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হচ্ছে।   তিনি এই হামলাকে ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত আক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের একটি 'ন্যায্য জবাব' হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, "মস্কো অঞ্চল আজ ইউক্রেনের দূরপাল্লার সক্ষমতার আঁচ টের পেয়েছে।"   মেয়র সোবিয়ানিন জানান, এই ড্রোন হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে এই ঘটনার ফলে ওই তেল শোধনাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, পুরো মস্কোর প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সরবরাহ করে এই শোধনাগারটি। পরবর্তীতে জরুরি সেবার কর্মকর্তারা জানান, গ্যাজপ্রম নেফ্ট স্থাপনার আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার পর ওই এলাকায় যান চলাচল সীমিত করে দেন পরিবহন কর্মকর্তারা।   অন্যদিকে, ক্রাসনোদার অঞ্চলের স্থানীয় ক্রাইসিস রেসপন্স সেন্টার জানিয়েছে যে, একটি ড্রোনের আছড়ে পড়ার ফলে পোলতাভস্কায়া তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। এই ডিপোটি মূলত ওই অঞ্চলের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করে থাকে। প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর সেখানকার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ১৪টি অঞ্চল এবং সংযুক্ত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের নিক্ষেপ করা অন্তত ১৭২টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।   চলতি বসন্তকাল থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ লাইনগুলোর ওপর তাদের আক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের ক্রমবর্ধমান দাম থেকে ক্রেমলিন যেন কোনো অতিরিক্ত মুনাফা বা সুবিধা নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই কৌশল বেছে নিয়েছে কিয়েভ। অব্যাহত এই ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার পেট্রোলিয়াম উৎপাদনের বড় অংশের জন্য দায়ী স্থাপনাগুলোতে উৎপাদন হয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, নয়তো উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।   রাশিয়ান শোধনাগারগুলোতে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেন সংযুক্ত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্রাকগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যার ফলে ওই অঞ্চলে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পোল্যান্ডে গুলিতে নিহত রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সন্দেহ

পোল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী ও কার্টুনিস্ট সেমিওন স্ক্রেপেটস্কি গুলিতে নিহত হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনপন্থী নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   পোলিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী স্ক্রেপেটস্কি সোমবার সকালে পূর্ব পোল্যান্ডের বিয়ালা পোডলাস্কা শহরে হামলার শিকার হন। বেলারুশ সীমান্তের কাছাকাছি ওই শহরের একটি সড়কে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।   ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশের মুখপাত্র আন্দ্রে ফিজোলেক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   এদিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর একজন বেলারুশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পোলিশ কর্তৃপক্ষ।   স্ক্রেপেটস্কি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে পুতিন, চেচেন নেতা রমজান কাদিরভসহ রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০২১ সালে তিনি রাশিয়া ছেড়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন।   জানা গেছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি জার্মানির বার্লিনে রুশ দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারবিরোধী সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক চিত্রকর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।   ঘটনার পর পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইউরোপে অবস্থানরত রুশ ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার ৭০০ কিলোমিটার গভীরে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা, জ্বলছে তেল ডিপো ও কারখানা

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ময়দানে এবার দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে। সীমান্ত থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের বিশেষ বাহিনী রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলের মজুত বা রিজার্ভ স্থাপনা এবং তুলা অঞ্চলের 'আজোট' রাসায়নিক কারখানায় সফল ও সুনির্দিষ্ট আঘাত হেনেছে।   উল্লেখ্য, এই রাসায়নিক কারখানাটি রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   এই আকস্মিক ও দূরপাল্লার জোরালো হামলায় রীতিমতো কেঁপে উঠেছে রাশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই নজিরবিহীন হামলার জেরে রাশিয়ার অন্তত ২৮টি অঞ্চলে জরুরি বিমান হামলার সতর্কতা (এয়ার রেইড অ্যালার্ট) জারি করতে বাধ্য হয় পুতিন প্রশাসন।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ছয়টি বিমানবন্দরে উড়ান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মূল ভূখণ্ডের পাশাপাশি, ইউক্রেনের ভেতরে রুশ বাহিনীর দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে থাকা সামরিক লজিস্টিকস ও রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতেও সফল আঘাত হেনেছে কিয়েভ। ইয়ারোস্লাভল ও তুলা অঞ্চলের স্থানীয় রুশ গভর্নররা হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, ড্রোনের আঘাতে শিল্পাঞ্চলে আগুন ধরে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পরিষেবা দল কাজ করছে।   এই পরিকল্পিত সামরিক অভিযানকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের কার্যকর 'দূরপাল্লার নিষেধাজ্ঞা' বা 'লং-রেঞ্জ স্যাংশনস'-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, যুদ্ধ বন্ধের জন্য কিয়েভের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মস্কো তা বারবার প্রত্যাখ্যান করে উল্টো আগ্রাসন বাড়ানোর পথই বেছে নিয়েছে।   তারই সমুচিত জবাব হিসেবে এই দূরপাল্লার আঘাত হানা হচ্ছে। জেলেনস্কি তার বার্তায় দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "যুদ্ধ এখন সেখানেই ফিরে যাচ্ছে, যেখান থেকে এর শুরু হয়েছিল।" যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের শান্তির প্রতি অবিচল অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে ছয় ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করল যুক্তরাজ্য

ইংলিশ চ্যানেলে অত্যন্ত নাটকীয় ও সুনির্দিষ্ট এক অভিযান পরিচালনা করে রাশিয়ার একটি সন্দেহভাজন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনী। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত একটি অত্যন্ত জটিল ও বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই বিশাল জাহাজটিকে সফলভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ব্রিটিশ যৌথ বাহিনী।   যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে একে ক্রেমলিনের ওপর একটি বড় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই ধরনের সফল সামরিক পদক্ষেপ রাশিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং যারা ইউক্রেনে পুতিনের অবৈধ যুদ্ধকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থায়ন করছে তাদের সবার জন্য এটি একটি চরম সতর্কবার্তা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চেষ্টা করলেও অপরাধীদের আমরা কোনোভাবেই লুকিয়ে থাকতে দেব না।   অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাজ্যের এই সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপকে ‘নীতিগত দৃঢ়তা’ হিসেবে উল্লেখ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সে দেশের জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জেলেনস্কি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে এখনই এমন কঠোর আইনগত পদক্ষেপ ও সম্মিলিত নীতি গ্রহণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে শুধু ট্যাঙ্কার আটক করাই নয়, বরং জাহাজে থাকা সমস্ত খনিজ তেল সরাসরি জব্দ করা সম্ভব হয়।   এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের জাহাজ জব্দ করার ঘটনাকে সরাসরি ‘দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোরে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ‘স্মিরটোস’ নামের এই তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়। এই বিশেষ অভিযানে রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন, যাদের সরাসরি সহায়তা করে চিনুক হেলিকপ্টার, একটি অত্যাধুনিক ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ এবং একটি মাইনহান্টার ইউনিট।   যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, সাগরের বুকে এই ধরনের একটি আন্তর্জাতিক অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত উচ্চমানের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও চরম সাহসের দাবি রাখে। তিনি সফল অভিযানের জন্য অংশগ্রহণকারী সেনাবাহিনীর বীর সদস্যদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, রাশিয়া তার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগাতে এই ধরনের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করছে, যা রুখে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।   মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী এই রোমাঞ্চকর অভিযান শেষে জাহাজটিকে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের উপকূলের কাছে একটি নিরাপদ নোঙরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে জাহাজটির সার্বিক পরিবেশগত নিরাপত্তা ও অন্যান্য সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত ৫ জুন জাহাজটি রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর উস্ত-লুগা থেকে যাত্রা শুরু করে মিসরের পোর্ট সাইদের দিকে যাচ্ছিল। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় ৫০০টিরও বেশি রুশ সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতের সামগ্রিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০