মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান, ইসরায়েল ও লেবাননকে ঘিরে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে লেবাননে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের চেতনা লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরই তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। মাত্র কয়েকদিন আগেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি আবার চালু করা হয়েছিল।
ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি তাদের পক্ষ থেকে নেওয়া ‘প্রথম পদক্ষেপ’। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দক্ষিণ লেবাননে অভিযানরত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বর্তমানে দখলে থাকা এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যেকোনো পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই নৌপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে প্রণালি বন্ধের ঘোষণার পর জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে রোববার সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারাতেই লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে গত বুধবার চুক্তি স্বাক্ষরের পরও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ তেল খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে হরমুজ প্রণালি, লেবানন পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি আগামী কয়েকদিনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
বিশ্বখ্যাত ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিসফটের (Ubisoft) সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্লদ গুইলেমো ফ্রান্সে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হলে তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় বিমানটির প্রশিক্ষক পাইলটও প্রাণ হারিয়েছেন। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট সেসনা ৪২১ মডেলের বিমানটি আটলান্টিক উপকূলবর্তী লা বোল বিমানবন্দরের কাছে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়। লা বোল শহরের মেয়র ফ্রাঙ্ক লুভরিয়ে এক বিবৃতিতে জানান, বিমানটিতে থাকা ক্লদ গুইলেমো এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ফ্লাইট প্রশিক্ষক দুজনই অভিজ্ঞ ও লাইসেন্সধারী পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার পর ইউবিসফট ক্লদ গুইলেমোর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। গেমিং শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ইউবিসফট ১৯৮৬ সালে ক্লদ গুইলেমো ও তাঁর চার ভাই মিলে প্রতিষ্ঠা করেন। ছোট একটি পারিবারিক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে বিশ্বের বৃহৎ ভিডিও গেম নির্মাতাদের কাতারে জায়গা করে নেয়। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ‘অ্যাসাসিনস ক্রিড’ সিরিজ ইউবিসফটের সবচেয়ে পরিচিত গেমগুলোর একটি। ইতিহাসভিত্তিক এই অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ কোটি কোটি খেলোয়াড়ের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া ‘জাস্ট ড্যান্স’, ‘রেম্যান’ এবং ‘টম ক্ল্যান্সি’ সিরিজের বিভিন্ন গেমও ইউবিসফটের সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইউবিসফট শুধু একটি গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং আধুনিক গেমিং শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। সেই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার আকস্মিক মৃত্যু গেমিং জগতে শোকের আবহ তৈরি করেছে। বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা এপিকে জানিয়েছেন, বিমানটি অবতরণের ঠিক আগে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তদন্তকারীরা বিমানটির কারিগরি অবস্থা, আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং ফ্লাইট সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গেমপ্রেমী ও প্রযুক্তি অঙ্গনের ব্যক্তিরা ক্লদ গুইলেমোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। অনেকেই তাঁকে ইউরোপের গেমিং শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ইতালির রাজধানী রোমের উপকণ্ঠে সরকারি জমিতে চলা একটি অবৈধ খননের সূত্র ধরে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন রোমান যুগের একটি বিলাসবহুল ভিলা। ভিলাটিতে পাওয়া গেছে চমৎকার মোজাইক মেঝে, মার্বেলের অলংকরণ এবং মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা রোমান সাম্রাজ্যের অভিজাত জীবনযাত্রার নতুন প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ভিলাটি কাস্তেল দি গুইদো গ্রামের কাছে অবস্থিত। রোম থেকে প্রায় ১২ মাইল দূরের এই এলাকাটি রোমান সাম্রাজ্যের সময় ‘লোরিয়াম’ নামে পরিচিত ছিল, যেখানে রাজপরিবার ও অভিজাতদের আবাসস্থল ছিল। এখনও খনন ও গবেষণা চললেও ইতোমধ্যে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, কেন্দ্রীয় আঙিনা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি জলাধার উন্মোচিত হয়েছে। এসব স্থাপনার চারপাশে কালো-সাদা নকশার উদ্ভিদ ও জ্যামিতিক অলংকরণে সাজানো মোজাইক মেঝে পাওয়া গেছে। ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোমান সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগে এই অঞ্চল সম্রাট হ্যাড্রিয়ান, অ্যান্টোনিনাস পিয়াস এবং মার্কাস অরেলিয়াসের মতো শাসকদের নিয়মিত যাতায়াতের স্থান ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর কর্তৃপক্ষকে জানান। তদন্তে গিয়ে ইতালির সামরিক পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরি দেখতে পায়, প্রত্নসম্পদ লুটের উদ্দেশ্যে পরিচালিত অবৈধ খননের একাধিক লক্ষণ সেখানে রয়েছে। রাতের বেলা কাজ চলা, মাটির স্তূপ এবং অনুমোদিত খননের কোনো চিহ্ন না থাকায় কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরে জানা যায়, একদল ব্যক্তি খননযন্ত্র ব্যবহার করে বেড়া কেটে সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ একটি বিশাল স্থানে খনন চালাচ্ছিল। কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযান বন্ধ করা হলেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। সেখানে আবিষ্কৃত হয় আগে অজানা একটি প্রাচীন ভিলার ধ্বংসাবশেষ, যেখানে বহু নিদর্শন প্রায় অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। ইতালির সংস্কৃতিমন্ত্রী আলেসান্দ্রো জিউলি বলেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ খনন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং একই সঙ্গে রোমান সাম্রাজ্য যুগের একটি অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের সন্ধান মিলেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক আলেসিয়া কন্তিনোর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিলাটিতে বিলাসবহুল মোজাইক, সূক্ষ্ম মার্বেল অলংকরণ এবং রোমান গ্রামীণ দেবতা সিলভানাসের একটি ভাস্কর্যের অংশ পাওয়া গেছে। এসব নিদর্শন থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ভিলাটি রোমান অভিজাত শ্রেণির এমন সদস্যদের ছিল, যাদের সঙ্গে সম্রাটের দরবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ খননের সময় কিছু অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো প্রত্নবস্তু চুরি হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ইতালিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্নসম্পদ লুটের ঘটনা ঘটে আসছে। চোরাকারবারিদের মাধ্যমে এসব নিদর্শনের অনেকগুলো বিদেশে পাচার হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে পৌঁছেছিল। পরবর্তীকালে এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ইতালিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। খননকাজ এখনও চলমান রয়েছে। শনিবার প্রথমবারের মতো নির্ধারিত সময়সূচির মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য স্থানটি উন্মুক্ত করা হবে। আগামী কয়েক মাসে আরও দর্শনসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক চুক্তিকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিভাজন ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চুক্তিটি সরকারিভাবে “সাফল্য” হিসেবে উপস্থাপিত হলেও ইরানের প্রভাবশালী হার্ডলাইনপন্থী গোষ্ঠীগুলো এটিকে “জাতীয় স্বার্থবিরোধী” বলে আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদ নবাভিয়ান সম্প্রতি তেহরানে এক জনসমাবেশে চুক্তির নিন্দা জানিয়ে এটিকে “যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালী এমনকি ইসরায়েলের জন্যও উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। তার এই বক্তব্য সম্প্রচারিত হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ হয় এবং “আমরা এই চুক্তি মানি না” শিরোনামে একটি অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়। চুক্তিটি প্রকাশ্যে সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইরানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও, বিশ্লেষকদের মতে দেশের ভেতরেই মতবিরোধ আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন কাঠামোর মধ্যেই প্রভাবশালী একটি অংশ এই চুক্তিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক দিনা এসফানদিয়ারি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরান সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও এটি অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ দূর করেনি। বরং এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের ভেতরের বিরোধী শক্তিগুলোকে সামলানো। বিশ্লেষক ভালি নাসর মনে করেন, হার্ডলাইনপন্থী জেবহে-ই পায়দারি গোষ্ঠী চুক্তির সবচেয়ে বড় বিরোধী শক্তি। তার মতে, চুক্তি কার্যকর করতে হলে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিজেদের তৈরি করা এই কঠোরপন্থী শক্তিকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। চুক্তি ঘিরে দেওয়া এক বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, তিনি মূলত ভিন্ন মত পোষণ করলেও আলোচনাকারীদের দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাসের ভিত্তিতে চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছেন। হার্ডলাইনপন্থীরা শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, রাস্তায় জনসমর্থন সংগঠনের মাধ্যমেও চাপ তৈরি করতে সক্ষম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের প্রভাব বেশি। অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলতাই এই চুক্তির সফলতার মূল নির্ভরতা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জনসমর্থন অর্জনের জন্য ইরান সরকারকে দ্রুত বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা দেখাতে হবে। চ্যাথাম হাউসের গবেষক সানাম ভাকিল বলেন, এই চুক্তি সাময়িকভাবে বহিরাগত সামরিক চাপ কমালেও এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সমাধান নয়। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ক্লান্তি ও অনিশ্চয়তার কথা বললেও, অনেকে আশা করছেন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হলে জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে।