একটি ফোন কলেই উধাও হতে পারে সারা জীবনের সঞ্চয়, প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্ক করল এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ফোন কলের মাধ্যমে পরিচয় গোপন করে কিংবা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) নাগরিকদের বেশ কয়েকটি বহুল প্রচলিত ফোনভিত্তিক প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটির বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক নির্দেশনা ও সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতারকরা সাধারণত ভয়, আতঙ্ক বা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সরকারি সংস্থা, ব্যাংক বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে যোগাযোগ করে।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরকে কেন্দ্র করে প্রতারণা। এ ধরনের ফোন কলে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর স্থগিত করা হবে অথবা তার নামে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা অর্থ দাবি করা হয়। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসন সাধারণত ফোনে কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চায় না।
আরেকটি পরিচিত প্রতারণা হলো ট্যাক্স সংক্রান্ত ভুয়া কল। প্রতারকরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (IRS) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে ভুক্তভোগীর বকেয়া কর রয়েছে এবং তা দ্রুত পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ আইআরএস সাধারণত কর সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম যোগাযোগ ডাকযোগে বা আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে করে থাকে।
ব্যাংকিং খাতকেও লক্ষ্যবস্তু করছে প্রতারকরা। অনেক সময় ফোন করে বলা হয়, গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওটিপি, যাচাইকরণ কোড কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে কোনো বৈধ ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা নিরাপত্তা কোড জানতে চায় না।
প্রযুক্তি সহায়তার নামে প্রতারণাও বাড়ছে। এ ধরনের কলে বলা হয়, ব্যবহারকারীর কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তা সমাধানের জন্য দূর থেকে ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনুরোধ গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, আর্থিক তথ্য বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিনা কারণে গ্রাহকদের ফোন করে এ ধরনের সতর্কবার্তা দেয় না।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত ভয়েস প্রতারণা। এ ক্ষেত্রে প্রতারকরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করে। এফবিআই সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি বলছে, কোনো জরুরি আর্থিক অনুরোধ পাওয়া গেলে অর্থ পাঠানোর আগে অন্য কোনো মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনে কেউ যদি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ভয় দেখায়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে অথবা অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করে, তাহলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও সতর্কতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি অসতর্ক মুহূর্তেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন যে কেউ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারকে ঘিরে একটি বিমান চলাচল নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। ঘটনাটি ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে ঘটেছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউস থেকে উড্ডয়ন করার সময় প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার চলাচলের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুযায়ী রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের উড্ডয়ন তখনও বন্ধ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এফএএ খতিয়ে দেখছে, এতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিধিতে উল্লেখ থাকা ন্যূনতম দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না। এ নিয়ম অনুযায়ী, দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে অন্তত ১ দশমিক ৫ মাইল অনুভূমিক এবং ৫০০ ফুট উল্লম্ব দূরত্ব থাকতে হয়। তবে এফএএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার এবং বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি আসেনি এবং তারা একই গতিপথেও ছিল না। ফলে ঘটনাটি বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকিতে পরিণত হয়নি। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, মেরিন ওয়ান বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বৈমানিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং পুরো ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন না। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি রিগ্যান ন্যাশনাল বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি আঞ্চলিক উড়োজাহাজের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হওয়ার পর থেকে ওই এলাকার হেলিকপ্টার ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
তেলের দাম কমতেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারিতে এগিয়ে আবদুল এল-সায়েদ, গণনা শেষ ৪৪ শতাংশ ভোট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা, শীর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাথারটন
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অন্তত ২২ লাখ ডলারের একটি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো। ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি গ্রেগরি কিহো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইয়ংবো লি, হুয়াশান লু এবং ইউশিয়াং ঝাওকে ডাকযোগে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের (Conspiracy to Commit Mail Fraud) অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন না। তারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বৈত নাগরিক বলে জানিয়েছেন গ্রেগরি কিহো। ৬৭ পৃষ্ঠার ফৌজদারি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইয়ংবো লির নেতৃত্বে এই চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি অঙ্গরাজ্যের প্রবীণ ব্যক্তিদের ফোন ও বার্তার মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। পরে তাদের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে বাধ্য করা হতো। সেই অর্থ পরবর্তীতে চীন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাহরাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এ মামলায় আরও তিনজন লিং ওয়াং, শৌশিন লুও এবং শিয়াওওয়েই লিন এখনও পলাতক। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ধারণা, তারা বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। অভিযোগপত্রে এখন পর্যন্ত ২৮ জন ভুক্তভোগীর নাম রয়েছে। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই নতুন ভুক্তভোগীর সন্ধান মিলছে এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন ভুক্তভোগী একাই প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীদের হিসাবে, মোট প্রতারণার অর্থ অন্তত ২২ লাখ ডলার। গ্রেগরি কিহো বলেন, এই অর্থের বড় অংশই উদ্ধার করা কঠিন হবে। কারণ অর্থ বিভিন্ন দেশের একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্তের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের জুন মাসে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক প্রবীণ নারী অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলে অরল্যান্ডো পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। পরে অরল্যান্ডো পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চালায়। তদন্তে অভিযুক্তদের একজনের নামে অরল্যান্ডোর একটি ইউপিএস স্টোরে নিবন্ধিত পোস্ট অফিস বক্সের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে নজরদারির মাধ্যমে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের অরল্যান্ডোর একটি ব্যাংকে যাতায়াত করতে দেখেন এবং সেখান থেকে তদন্ত আরও এগিয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে গ্রেগরি কিহো বলেন, প্রতারণার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ 'শূন্য সহনশীলতা' নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রতারণা ঘটবে, সেখানেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, প্রতারণার শিকার ব্যক্তির অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত অভিযোগ জানানো। কারণ অর্থ একবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অরল্যান্ডো পুলিশের প্রধান এরিক স্মিথও জনগণকে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা সন্দেহজনক কোনো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, তাহলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রটি কবে থেকে সক্রিয় ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শুধু ব্যাংকের মর্টগেজ নয়, এইচওএর ফি না দিলেও হারাতে পারেন নিজের বাড়ি
ফ্লোরিডায় বেবিসিটারের বাড়িতে খেলনা কিচেন সেটে আটকে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু
নিউ জার্সির ভোটার নিবন্ধন ত্রুটি ভোট জালিয়াতির নয়, অভিবাসীবিরোধী রাজনীতির প্রতিফলন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যালামেডা কাউন্টিতে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি বাড়িয়ে ঘণ্টায় ৩০ ডলার করার একটি নজিরবিহীন প্রস্তাব বিবেচনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে এটিই হবে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো কাউন্টি বা অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ সর্বনিম্ন মজুরি। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির কষাঘাত থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যালামেডা কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটির বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য কর্মকর্তাদের সামনে বর্তমানে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, বোর্ড সরাসরি এই পরিপত্রটি গ্রহণ করে অবিলম্বে আইনে রূপান্তর করতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রস্তাবটি সরাসরি সাধারণ মানুষের ভোটের জন্য আগামী নভেম্বর মাসের ব্যালটে পাঠাতে পারে। অথবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য সার্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কাউন্টির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিতে পারে। "সবার জন্য সম্মানজনক মজুরি" বা 'লিভিং ওয়েজ ফর অল' শীর্ষক এই সামাজিক আন্দোলনের পক্ষে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। কাউন্টির অন্তর্ভুক্ত অসংগঠিত বা অননুমোদিত অঞ্চলগুলো থেকে এই প্রস্তাবের পক্ষে ১ লাখেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। বিপুল সংখ্যক নাগরিকের এই সমর্থন প্রশাসনকে প্রস্তাবটি গভীরভাবে বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। শ্রমিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'ওয়ান ফেয়ার ওয়েজ'-এর প্রেসিডেন্ট সারু জয়রামন এই প্রস্তাবের পক্ষে জনমতের শক্তি তুলে ধরে জানান, সাধারণত বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ ঢেলে যেসব রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রস্তাব ব্যালটে তোলে, এটি সেভাবে তৈরি হয়নি। এটি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের নিজেদের আন্দোলন, যারা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে এই গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। অ্যালামেডা কাউন্টিতে জীবনধারণের বাস্তব খরচ ঠিক কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা এই ১ লাখেরও বেশি স্বাক্ষরকারী খুব ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন বলেই তারা এতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। মূলত সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অঞ্চলে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি এবং চড়া সুদের হারের কারণে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ জীবনযাপনে মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গবেষক ও অধিকারকর্মীরা তুলে ধরেন যে, বৈশ্বিক মহামারীর পর থেকে বিগত ছয় বছরে মূল্যস্ফীতির হার গত ৭৫ বছরের গড় হারকে দ্বিগুণেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। ফলে আগের অর্জিত আয় দিয়ে বর্তমান বাজারদরে দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটানো সাধারণ পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অ্যালামেডা কাউন্টির ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত রয়েছে ঘণ্টায় ১৬.৯০ ডলার। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এই হার এক লাফেই প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩০ ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ওপর যেন হঠাৎ অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সে জন্য প্রস্তাবটিতে একটি ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন পর্যায় রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন বা তার বেশি কর্মচারী রয়েছে, তাদের আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ৩০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। আর তুলনামূলক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নতুন মজুরি কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ১০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময়সীমা দেওয়া হবে। কেবল অ্যালামেডা কাউন্টিই নয়, পার্শ্ববর্তী ওকল্যান্ড শহরেও সমান্তরালভাবে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওকল্যান্ডেও আগামী নভেম্বর মাসের ব্যালটে 'লিভিং ওয়েজ ফর অল' সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপনের জোর প্রস্তুতি চলছে। যদি ওকল্যান্ডের সাধারণ ভোটাররা এই প্রস্তাব সমর্থন করেন, তবে সেখানেও বর্তমানের ১৭.২৪ ডলারের ন্যূনতম মজুরি পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ৩০ ডলারে উন্নীত করা হবে। এই আইন বাস্তবায়িত হলে তা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বাজারে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিচ্ছেদ শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে ১১ বছরের মেয়ের অভিযুক্ত ধর্ষককে টিকটকে ফাঁদ পেতে বাড়িতে ডেকে গুলি করেন বাবা