সিন্ধু নদীর পানি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের কোনো পদক্ষেপ যদি পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না।
রোববার পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য ইতোমধ্যে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খাজা আসিফ বলেন, পানি শুধু একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পাকিস্তান যদি মনে করে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানিতে তাদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বা পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাহলে দেশটি নীরব থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা বুঝব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়েও আমরা দ্বিধা করব না।” তার এই বক্তব্যকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি ভারতের জল শক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি ইঙ্গিত দেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ভারতের এমন সম্ভাব্য পরিকল্পনার ইঙ্গিত সামনে আসার পর ইসলামাবাদে উদ্বেগ বেড়েছে। পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা, সিন্ধু অববাহিকার পানিপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে দেশটির কৃষি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে ভয়াবহ হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। নয়াদিল্লি ওই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে। এরপর ভারত ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে না।
সিন্ধু পানি চুক্তিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানি দুই দেশের মধ্যে কীভাবে ভাগ হবে, তার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার মোট পানির প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। ফলে দেশটির কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ এই পানির ওপর নির্ভরশীল।
পাকিস্তান বহুবার সতর্ক করে বলেছে, সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে তা কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সিন্ধু পানি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
এর পাশাপাশি চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান অভিযোগ করে, ভারত চেনাব নদীর পানি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। ইসলামাবাদের দাবি, এমন পদক্ষেপ সিন্ধু পানি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের কারণে পাকিস্তান আগে থেকেই চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সিন্ধু নদীর পানি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশটির জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
দুই দেশই পরমাণু অস্ত্রধারী হওয়ায় পানি নিয়ে এই বিরোধ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: এআরওয়াই নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে আবারও স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক দাপ্তরিক বার্তায় জানিয়েছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মোতায়েন রয়েছেন এবং নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বার্তায় সেন্টকম উল্লেখ করে, মার্কিন বাহিনী ‘আকাশে, মাটিতে এবং সমুদ্রে’ সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে। এর সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে অত্যাধুনিক দুটি যুদ্ধবিমানকে আকাশে নিয়মিত টহল দিতে দেখা গেছে। বার্তাটি থেকে বোঝা যায়, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্র কোনো শৈথিল্য দেখাতে চায় না। এর আগে সেন্টকম আরব সাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ভেতরের কিছু ছবিও প্রকাশ করেছিল। সেখানে নৌবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সক্রিয় দেখা যায়। এসব ছবি ও বার্তার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি এবং উপস্থিতি যে এখনও দৃঢ় রয়েছে, সেটিই তুলে ধরা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক কার্যকর করতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে সতর্ক আশাবাদ তৈরি হলেও একই সময়ে মার্কিন বাহিনীর এমন বার্তা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন, আঞ্চলিক সংঘাত এবং বিভিন্ন শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চলমান শান্তি আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নজর রয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের এই বার্তা মূলত একটি কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরে—যেখানে একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা, অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি বজায় রাখা।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বৃহৎ গ্যাসশিল্প এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া এখনও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে রাজধানী দোহাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। অনেকেই প্রথমে এটিকে ভূমিকম্প বা নতুন কোনো নিরাপত্তা সংকট বলে মনে করেছিলেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও সিনহুয়া জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা উল্লেখ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল Ras Laffan Industrial City-এর ভেতরে একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি কোনো নিরাপত্তা হামলা বা বাহ্যিক নাশকতার ফল নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী এবং বিশেষায়িত নিরাপত্তা ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাস বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো অতিরিক্ত ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। কাতার পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে আহতদের অবস্থা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাস লাফফান শিল্পনগরী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র। কাতারের জ্বালানি খাতের একটি বড় অংশ এই শিল্পাঞ্চলকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা শুধু দেশটির শিল্পখাত নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির উৎস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত তথ্য প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ, সিনহুয়া, কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা ও শান্তি উদ্যোগকে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার দাবি, চুক্তির প্রতিটি ধারা ইরানের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে গঠিত হয়েছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি বিষয় দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। তিনি বলেন, “চুক্তির প্রতিটি ধারা ইরানের পক্ষে গেছে। কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টার সুফল শিগগিরই জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে।” চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে তিনি কাতারে জব্দ থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইরানি তহবিল ফেরতের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই অর্থ ফেরত পাওয়াকে তেহরান একটি বড় অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। যদিও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু ভিন্নমতও উঠে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার শুরুতে যেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তার অনেকগুলোই ইরানের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তার মতে, এই সমঝোতা ইরানের অবস্থানকে দুর্বল করেনি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করেছে। আসন্ন সুইজারল্যান্ড বৈঠক প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট থাকবেন নেতানিয়াহু। পেজেশকিয়ানের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে এই সমঝোতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি ছিল—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে হাঁটতে চায় না এবং এটি তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও ধর্মীয় নির্দেশনার অংশ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল এবং ইরান তা নথিভুক্ত করেছে। এদিকে দুই দেশের চলমান আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে এসব ইস্যু আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে তহবিল মুক্ত করা, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং পারমাণবিক ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা গেলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে।