আমেরিকা

সিনেটে গেলে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সচিব আরএফকে জুনিয়রকে কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ফেলব: ড. আবদুল এল-সায়েদ

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১১:৩৭
ড. আবদুল এল-সায়েদ (ডানে) ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র (বামে) | ছবি: সংগৃহীত
ড. আবদুল এল-সায়েদ (ডানে) ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র (বামে) | ছবি: সংগৃহীত

মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মার্কিন সিনেট প্রার্থী ড. আবদুল এল-সায়েদ বলেছেন, নির্বাচিত হয়ে সিনেটে গেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রকে (আরএফকে জুনিয়র) টিকা, কোভিড-১৯ এবং জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত তাঁর বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করবেন।

 

সিএনএনের এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেন, আরএফকে জুনিয়র চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল বিষয় নিয়ে এমনভাবে কথা বলেন, যা তাঁর মতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে এসব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান রয়েছে এবং সিনেটে দায়িত্ব পেলে তিনি আরএফকে জুনিয়রের বক্তব্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোর জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব সম্পর্কে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান।

 

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক কাইটলান কলিন্স জানতে চান, নির্বাচিত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাকে তিনি সবচেয়ে বেশি সিনেটের শুনানিতে দেখতে চান। জবাবে এল-সায়েদ বলেন, আরএফকে জুনিয়রই সেই ব্যক্তি, যাকে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করতে চান। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যে প্রশিক্ষিত হওয়ায় তিনি তথ্যভিত্তিকভাবে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সক্ষম।

 

ড. এল-সায়েদের এই মন্তব্য এসেছে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে বিজয়ের পর। তিনি দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করে এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। 

 

মিশিগান দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেয়েছে, তবুও আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এল-সায়েদের জয় নিশ্চিত নয়; নভেম্বরের নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সদস্য হচ্ছেন কি না। 

 

রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র অতীতে টিকা এবং জনস্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর সমালোচকেরা দাবি করেন, এসব বক্তব্য জনস্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তবে আরএফকে জুনিয়র বরাবরই বলে আসছেন, তিনি নিরাপদ ও কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি নিশ্চিত করার পক্ষেই কাজ করছেন।

 

ড. আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং এপিডেমিওলজিস্ট। তিনি এর আগে ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টিকানীতি, জনস্বাস্থ্য এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত একাধিক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলে কঠোর ট্রাম্প প্রশাসন, বার্তা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের

সহিংস অপরাধ, শিশু নির্যাতন, মানবপাচার এবং যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত একাধিক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একাধিক পোস্টে জানিয়েছে, আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সহিংস অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা অবস্থান রোধে ট্রাম্প প্রশাসন বিদ্যমান সব আইনগত ক্ষমতা ব্যবহার করছে।   পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপহরণ, মানবপাচার, অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন শোষণ, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি সংরক্ষণ, শিশুকে অনলাইনে প্রলুব্ধ করা, সহিংস হামলা এবং প্রাণঘাতী হোম ইনভেশনে অংশগ্রহণ।   একটি ঘটনায় একজন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অপহরণ, মানবপাচার এবং এক অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আরেকটি ঘটনায় একজন বিদেশি নাগরিক অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার পর প্রাণঘাতী হোম ইনভেশনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।   এছাড়া একজন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী এক ভুক্তভোগীসহ ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।   পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আরও একজন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি রাখার এক ডজনেরও বেশি অভিযোগ রয়েছে। অন্য একজনের বিরুদ্ধে শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়ন এবং গুরুতর যৌন সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছে।   এছাড়া সহিংস রোড রেজ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে অনলাইনে শিশুকে যৌন উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করা এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিশুকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।   প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকের মার্কিন ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যারা শিশুদের শিকার বানায়, সহিংস অপরাধে জড়ায় বা যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করে নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো স্থান নেই। সংস্থাটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং ভিসা নীতির মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।   তবে পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত পোস্টগুলোতে অভিযুক্তদের নাম, নাগরিকত্ব, কোন দেশে তাদের জন্ম কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। সংস্থাটি কেবল জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১২:১২
টেলিভিশন মালিকানার সীমা বাতিলের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দেওয়া এফসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার | ছবি: সংগৃহীত

টিভি চ্যানেলের মালিকানায় বড় পরিবর্তন আনল যুক্তরাষ্ট্র, এফসিসির নতুন সিদ্ধান্ত

ড. আবদুল এল-সায়েদ (ডানে) ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র (বামে) | ছবি: সংগৃহীত

সিনেটে গেলে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সচিব আরএফকে জুনিয়রকে কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ফেলব: ড. আবদুল এল-সায়েদ

উত্তর ক্যারোলিনার ক্যাসওয়েল কাউন্টির গ্রামীণ এলাকায় বন্দুক হামলার ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

নর্থ ক্যারোলিনায় একই পরিবারের সদস্যদের গুলিতে বন্দুকধারীসহ নিহত একাধিক

ঘটনার পর তল্লাশি চালিয়ে মাদক সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত সংশ্লিষ্ট ড্রোনটি জব্দ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ড্রোনে মাদক পাঠাতে গিয়ে নিজেই কারাগারে! উটাহ এ ব্যর্থ পরিকল্পনার পর গ্রেপ্তার যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি কারাগারে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেই কারাগারে যেতে হয়েছে এক ব্যক্তিকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ড্রোন ব্যবহার করে উটাহ স্টেট প্রিজনে মাদক ফেলতে চেয়েছিলেন। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারির কারণে ঘটনাটি দ্রুত শনাক্ত হয়। পরে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনকে আটক করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে কারাগারে নিষিদ্ধ বস্তু সরবরাহের চেষ্টা, নিয়ন্ত্রিত মাদক রাখাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ড্রোন ব্যবহার করে কারাগারের ভেতরে মাদক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা সফল হওয়ার আগেই তা ভেস্তে যায়। ঘটনার পর জব্দ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ড্রোন ও অন্যান্য আলামত, যা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।    কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন কারাগারে ড্রোন ব্যবহার করে মাদক, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পাঠানোর চেষ্টা বেড়েছে। এ কারণে উটাহর কারাগারগুলোতে আকাশপথে নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কারাগারে নিষিদ্ধ বস্তু পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১০:৪৮
টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও কার্যালয়ে অভিবাসন সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারে এসে আটক নিকারাগুয়ার এক অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত

ইউএসসিআইএসে ইন্টারভিউ দিতে এসে আটক এক অভিবাসী; রেকর্ডে মিলল বহিষ্কারাদেশ

বিবিসির মানহানি মামলায় নিজের আর্থিক নথি প্রকাশ স্থগিত করতে জরুরি আবেদন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের আর্থিক নথি চায় বিবিসি, ঠেকাতে ট্রাম্পের জরুরি আবেদন

ব্রঙ্কসের পাঁচতলা আবাসিক ভবনে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ ৫-অ্যালার্ম অগ্নিকাণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল নিউইয়র্কের পাঁচতলা ভবন! আগুনে আহত ১১, ধসে পড়ল ভবনের অংশ

স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে শিক্ষার্থী ল্যান্ডেরিয়াস “ডিডি” হেইসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক রবার্ট বার্নসাইড। ছবি: সংগৃহীত
গৃহহীন ছাত্রকে বাঁচাতে চাকরি হারিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই ছেলেকেই নিজের সন্তান বানালেন প্রধান শিক্ষক

২০২৪ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গৃহহীন হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থী ল্যান্ডেরিয়াস “ডিডি” হেইস। পারিবারিক সংকটের কারণে তার মায়ের বাসা স্কুল জেলার বাইরে চলে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, সে আর লাকোটা ইস্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে না।   কিন্তু স্কুলটির তৎকালীন প্রধান শিক্ষক রবার্ট বার্নসাইড সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তিনি যুক্তি দেন, গৃহহীন হয়ে পড়া একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তার শেষ আশ্রয়, স্কুলটিও কেড়ে নেওয়া উচিত নয়। এ নিয়ে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীটির পক্ষে অবস্থান নেন।   বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে তার মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযোগ ওঠে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার এই অবস্থানকে নির্দেশ অমান্য হিসেবে দেখছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের পদ হারানোর ঝুঁকি সামনে রেখেও তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেননি।   অবশেষে রবার্ট বার্নসাইড প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি।   পরে তিনি ও তার স্ত্রী অ্যাঞ্জেল বার্নসাইড ল্যান্ডেরিয়াসের স্থায়ী আইনগত অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন এবং নিজেদের ছয় সন্তানের সঙ্গে তাকে পরিবারের সদস্য হিসেবে ঘরে তুলে নেন। আট সদস্যের পরিবার মুহূর্তেই হয়ে যায় নয় সদস্যের পরিবার।   ২০২৬ সালের মে মাসে ল্যান্ডেরিয়াস “ডিডি” হেইস যখন উচ্চবিদ্যালয়ের সনদ গ্রহণের জন্য মঞ্চে ওঠেন, তখন দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেন রবার্ট বার্নসাইড।   তবে সেদিন তিনি আর তার প্রধান শিক্ষক ছিলেন না। তিনি ছিলেন তার বাবা।   যে মানুষটি একসময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রক্ষায় লড়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের পরিবারের সদস্য করে নতুন জীবনের পথ দেখান। শিক্ষা ও মানবিকতার এই ব্যতিক্রমী ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকের কাছে এটি একজন শিক্ষকের দায়িত্ববোধ ও মানবতার অসাধারণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৯:৩
ইলিনয়ের মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সেই দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

ইলিনয়ের মহাসড়কে আগুনে পুড়ে ছাই গাড়ি, নিভে গেল এক দম্পতির জীবন

হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড ভেঙে আবার কাজ, ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ

হোয়াইট হাউসের নতুন হেলিপ্যাড ভেঙে আবার কাজ, ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ

ওয়ালমার্ট  ছবি: সংগৃহীত

ওয়ালমার্টে অসাবধানতাবশত গুলির ঘটনা, গ্রেপ্তার দুজন

0 Comments