সিনেটে গেলে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সচিব আরএফকে জুনিয়রকে কঠিন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ফেলব: ড. আবদুল এল-সায়েদ
মিশিগান থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মার্কিন সিনেট প্রার্থী ড. আবদুল এল-সায়েদ বলেছেন, নির্বাচিত হয়ে সিনেটে গেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রকে (আরএফকে জুনিয়র) টিকা, কোভিড-১৯ এবং জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত তাঁর বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করবেন।
সিএনএনের এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেন, আরএফকে জুনিয়র চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল বিষয় নিয়ে এমনভাবে কথা বলেন, যা তাঁর মতে বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে এসব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান রয়েছে এবং সিনেটে দায়িত্ব পেলে তিনি আরএফকে জুনিয়রের বক্তব্য, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোর জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব সম্পর্কে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চান।
সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক কাইটলান কলিন্স জানতে চান, নির্বাচিত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাকে তিনি সবচেয়ে বেশি সিনেটের শুনানিতে দেখতে চান। জবাবে এল-সায়েদ বলেন, আরএফকে জুনিয়রই সেই ব্যক্তি, যাকে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করতে চান। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যে প্রশিক্ষিত হওয়ায় তিনি তথ্যভিত্তিকভাবে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সক্ষম।
ড. এল-সায়েদের এই মন্তব্য এসেছে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে বিজয়ের পর। তিনি দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করে এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন।
মিশিগান দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেয়েছে, তবুও আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এল-সায়েদের জয় নিশ্চিত নয়; নভেম্বরের নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সদস্য হচ্ছেন কি না।
রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র অতীতে টিকা এবং জনস্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর সমালোচকেরা দাবি করেন, এসব বক্তব্য জনস্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। তবে আরএফকে জুনিয়র বরাবরই বলে আসছেন, তিনি নিরাপদ ও কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি নিশ্চিত করার পক্ষেই কাজ করছেন।
ড. আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং এপিডেমিওলজিস্ট। তিনি এর আগে ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টিকানীতি, জনস্বাস্থ্য এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেটে আবদুল এল-সায়েদের ঐতিহাসিক বিজয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর। এল-সায়েদকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, "তুমি 'ইনশাআল্লাহ'-কে 'আলহামদুলিল্লাহ'-তে পরিণত করেছ।" মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের ক্রমাগত উত্থান ও সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ইলহান জানান, এখন থেকে মার্কিন কংগ্রেসে মোট আটজন মুসলিম প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করবেন জেনে তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত। দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নানা ধরনের বাধা পেরিয়ে আসার কথা স্মরণ করে তিনি তার বার্তায় আরও লেখেন, "তারা আমাদের বলেছিল যে আমরা কথা বলতে পারব না, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারব না এবং এত দূর পর্যন্ত আসতে পারব না। কিন্তু আমরা তা পেরে দেখিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।" এল-সায়েদের এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর ইলহান ওমরের এই বার্তা যেন সেই ঐতিহাসিক সাফল্যেরই এক উদ্যাপন।
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে ও তিন কুকুর, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করল দুই কিশোর
১৭ বছর বয়সে থেমে যায় হেইলির জীবন, তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার
আলাবামায় পাঁচ দিনের অভিবাসন অভিযানে ১৮০ জনের বেশি গ্রেপ্তার, সতর্ক প্রবাসী পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মোরেনো ভ্যালিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে শিক্ষার্থীরা যখন স্কুলে প্রবেশ করছিল, তখন সানিমিড এলিমেন্টারি স্কুলের বাইরে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে আটক করার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত এবিসি৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিওতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ওই ব্যক্তিকে আটক করতে দেখা যায়। এ সময় আশপাশে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিল। ঘটনাটি দেখে অনেক অভিভাবক ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, শিশুদের সামনে এ ধরনের অভিযান তাদের মানসিকভাবে আতঙ্কিত করতে পারে। এক অভিভাবক জানান, ঘটনার সময় আশপাশের শিশুরা ভয়ে চিৎকার করছিল। আরেক অভিভাবক বলেন, তাঁদের এলাকায় পরিবারগুলো এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু স্কুলের সামনেই নয়, একই সকালে মোরেনো ভ্যালির আরও কয়েকটি স্থানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা দেখা যায়। এলসওর্থ স্ট্রিট ও গোল্ডেনক্রেস্ট ড্রাইভ, ইন্ডিয়ান স্ট্রিট ও বে অ্যাভিনিউ এবং আলেসান্দ্রো বুলেভার্ডের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের কাছেও এমন তৎপরতার খবর পাওয়া যায়। ইনল্যান্ড কোয়ালিশন ফর ইমিগ্র্যান্ট জাস্টিস নামের একটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন জানিয়েছে, তাদের দ্রুত সাড়া দেওয়া দল বিভিন্ন স্থানে অভিযানসংক্রান্ত খবর যাচাই করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দিয়েছে। সংগঠনটির এক কর্মকর্তা দাবি করেন, আড়াই ঘণ্টারও কম সময়ে অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এবিসি৭ জানিয়েছে, আটকের এই সংখ্যা তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিয়ে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, স্কুলের আশপাশে এমন অভিযান চলতে থাকলে অভিবাসী পরিবারের অনেক শিশু স্কুলে যাওয়া নিয়েও ভয় পেতে পারে। কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, তাঁরা এখন এমন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সহায়তা করছেন, যাদের পরিবার নিরাপত্তার আশঙ্কায় সন্তানদের বাইরে পাঠাতে দ্বিধা করছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, কর্মকর্তারা দেশের আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে মোরেনো ভ্যালির নির্দিষ্ট অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বিভাগটি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও শিশুদের মানসিক স্বস্তির প্রশ্ন সামনে এনেছে। অভিভাবকদের দাবি, আইন প্রয়োগের কার্যক্রম পরিচালনার সময় স্কুল ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিন ভাইবোনের দায়িত্ব, যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মাকে হারিয়ে বদলে গেল তরুণীর জীবন
ছেলেকে শেষবার দেখতে আমেরিকায় আসছেন মা, ১৫ বছরের সন্তানের মৃত্যুতে শোকে পরিবার
মায়ের অপেক্ষায় সাত মাস আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ বছরের শিশু, পুনর্মিলনের স্বপ্ন ভেঙে গেল পরিবারটির
যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় আবারও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন নিকারাগুয়ার এক অভিবাসী। ইয়াদের নামে ওই ব্যক্তির পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পরও এত দ্রুত আবার আটক হওয়ার ঘটনা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বিচারিক সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সিএসবিনিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশের পর ইয়াদেরের মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু মুক্তির স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে তাঁকে আবার হেফাজতে নেয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ফলে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আশা তৈরি হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ইয়াদেরের পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তিন সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি এখন তাঁর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আদালতের নির্দেশের পর পরিবারের সদস্যরা যে স্বস্তির আশা করেছিলেন, নতুন করে আটকের ঘটনায় তা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেওয়া হলেও অন্য কোনো বৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত আদেশের ভিত্তিতে তাঁকে আবার আটক করা সম্ভব। তবে ইয়াদেরের ক্ষেত্রে ঠিক কোন আইনি কর্তৃত্ব বা আদেশের ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশেষ করে আদালতের মুক্তির নির্দেশের পরপরই নতুন করে আটক করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদেশের পরিধি এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আদালত কোন ধরনের হেফাজত থেকে তাঁকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং পুনরায় আটকের বিরুদ্ধে তাঁর আইনজীবীরা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইয়াদেরের পরবর্তী শুনানি, বর্তমান আটকাবস্থা কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে চলমান অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে আপাতত তাঁর পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তিনি কবে আবার মুক্তি পাবেন এবং তিন সন্তানের কাছে ফিরতে পারবেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ইয়াদের কর্টেজ আন্দিনোকে গত ৫ অক্টোবর দ্বিতীয়বার মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থায়ী বসবাসের আবেদনও অনুমোদিত হয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে তিন মিনিটের মধ্যে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনাটি আলোচিত হলেও তাঁর সর্বশেষ অবস্থা আর আটকাবস্থায় নেই।
কানেকটিকাটে টানা তৃতীয়বার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হ্যামট্রামিকের মেয়র নির্বাচনে মুহিত মাহমুদের জয়, রবিবার শপথ