দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন’ অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (২২ জুন) দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাসহ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে এবং এ সিদ্ধান্ত থেকে ইসরাইলকে সরানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, লেবানন সীমান্তে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় ইসরাইলি বাহিনীর ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তার ভাষ্য, নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে সেনারা এখনো সক্রিয়ভাবে অবস্থান করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পরদিনই পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইল যদি যুদ্ধবিরতি মেনে চলে, তাহলে তারাও তা মেনে চলবে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অবাধ চলাচলের কোনো অধিকার নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে তাদের পক্ষ থেকে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়নি।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইসরাইলি বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং বর্তমানে সংগঠনটি চাপে রয়েছে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে ইসরাইল প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অস্থির। এতে করে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
আন্তর্জাতিক বাজারে জেট জ্বালানির দাম কমে আসায় নিজেদের সব রুটে বিমান ভাড়া হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা এয়ারএশিয়া এক্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ ব্যয় কমাতে ইতোমধ্যে ভাড়া কমানো কার্যকর করা হয়েছে। বিমান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেনিয়ামিন ইসমাইল জানিয়েছেন, গত ১৫ জুন থেকে প্রতি টিকিটে গড়ে ৫ শতাংশ হারে ভাড়া কমানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে জেট জ্বালানির দাম আরও কমলে ভাড়া পুনর্বিন্যাস করে আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিমান খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক লিঙ্গম মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে স্বস্তি এনে দিয়েছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে জ্বালানির যে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তা এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিমান ভাড়ার ওপর। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি গত কয়েক মাসে বিমান শিল্পকে বড় ধরনের চাপে ফেলেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এই খাত ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সিঙ্গাপুর জেট জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। অথচ গত ৩০ মার্চ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি চরম উত্তেজনায় থাকাকালে এই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ২৪২ ডলার পর্যন্ত। যদিও বর্তমান দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তবুও তা এখনও সংঘাত-পূর্ব সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি—যখন প্রতি ব্যারেল জ্বালানির দাম ছিল প্রায় ৮০ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির বাজারে এই স্বস্তির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে আরও বিমান সংস্থা ভাড়া কমানোর পথে হাঁটতে পারে, যা ভ্রমণকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কিউবার বিপ্লবী রাজনীতির অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং ফিদেল কাস্ত্রোর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা রামিরো ভালদেস মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (২১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কিউবার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভালদেসকে দেশটিতে ‘প্রজাতন্ত্রের বীর’ ও ‘বিপ্লবের সেনাপতি’ হিসেবে সম্মান করা হতো। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেন, “এই ক্ষতি যেন বাবাকে হারানোর মতোই বেদনাদায়ক।” একই সঙ্গে তিনি বিপ্লবী স্লোগান উচ্চারণ করে বলেন, “বিজয় না আসা পর্যন্ত—সবসময়, কমান্ডার!” ১৯৩২ সালে জন্ম নেওয়া রামিরো ভালদেস খুব অল্প বয়সেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি তৎকালীন শাসক ফুলজেনসিও বাতিস্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেন। ১৯৫৩ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে পরিচালিত ঐতিহাসিক মনকাডা ব্যারাক হামলায় তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন, যা কিউবান বিপ্লবের সূচনা হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তীতে মেক্সিকোতে নির্বাসনে যাওয়ার পর ১৯৫৬ সালে ‘গ্রানমা’ নামের একটি ইয়টে করে ৮২ জন বিপ্লবীর সঙ্গে কিউবায় ফিরে আসেন ভালদেস। কঠিন যাত্রাপথ ও সংঘর্ষের পর যে অল্পসংখ্যক যোদ্ধা বেঁচে ফিরেছিলেন, তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম—ফিদেল ও রাউল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারার পাশে। সিয়েরা মায়েস্ত্রা পর্বতমালায় চে গুয়েভারার ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে তিনি বাতিস্তা সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৯ সালে বিপ্লব সফল হলে ফিদেল কাস্ত্রোর সরকারে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কিউবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দীর্ঘদিন তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি বিপ্লবী আদর্শের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারার মতো আমৃত্যু তিনি তার স্বাক্ষরধর্মী জলপাই-সবুজ সামরিক পোশাক ও দাড়ির স্টাইল বজায় রেখেছিলেন। বয়স ৮০ পার হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা করে নিজেকে সক্রিয় রাখতেন। ২০১৮ সালে রাউল কাস্ত্রো নতুন প্রজন্মের নেতা দিয়াজ-কানেলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও, ভালদেস সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল ছিলেন। সর্বশেষ তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিউবায় তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায়ও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। প্রায়ই তাকে সামরিক পোশাকে প্রেসিডেন্টের পাশে দেখা যেত, যেখানে তিনি জনগণকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও কঠিন সময়ে বিপ্লবী চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানাতেন। তার মৃত্যুতে কিউবার বিপ্লবী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘ সংগ্রাম, রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিপ্লবের প্রতি অবিচল আনুগত্য—সব মিলিয়ে রামিরো ভালদেস কিউবার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম হয়ে থাকবেন।
ভারতের রাজস্থানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রকে ঘিরে এক পরীক্ষার্থীর ধর্মীয় পোশাক পরার অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিরাপত্তা তল্লাশির অজুহাতে বোরকা ও ওড়না খুলতে বলা হলে তা প্রত্যাখ্যান করেন কুলসুম বানো নামের এক শিক্ষার্থী। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তিনি বোরকা পরেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি পান। রোববার রাজস্থানের আজমিরে অনুষ্ঠিত জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া পরীক্ষার পুনরায় আয়োজিত পর্বে অংশ নিতে বেওয়ার এলাকা থেকে আজমিরের একটি কেন্দ্রে আসেন কুলসুম। পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর প্রবেশপথে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বোরকা ও ওড়না খুলতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে। কুলসুম এতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, তিনি একই ধরনের পোশাক পরে আগেও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং পরীক্ষার নিয়মেও ধর্মীয় পোশাকের অনুমতি রয়েছে। কেন্দ্রের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের বিষয়টি তার কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্দেশিকায় ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি থাকে, তাহলে কেন্দ্রের কর্মীরা কেন তাকে বাধা দেবেন। ঘটনার একপর্যায়ে তার বাবা মোহাম্মদ আলিমও মেয়ের পাশে দাঁড়ান। তিনি জানান, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্দেশিকায় ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে নারী কর্মীর মাধ্যমে আলাদা কক্ষে নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশির ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও তারা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দেন। তার দাবি, শুরুতে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে কেন্দ্রের বাইরে কিছু সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় মানুষের নজরে আসে এবং সেখানে উপস্থিত অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে আজমির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্দেশিকা পর্যালোচনার পর কুলসুমকে বোরকা পরেই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে আজমিরের সার্কেল অফিসার শিবম জোশী জানান, পোশাকবিধি প্রয়োগ নিয়ে কিছু কর্মীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, হিজাব, বোরকা, পাগড়ি বা অন্যান্য ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়। তবে নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে সাধারণ সময়ের চেয়ে কিছুটা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তল্লাশি সম্পন্ন করতে হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয় হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে অধিকাংশ আলোচনায় জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো সংবেদনশীল দুই বিষয়ের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে কুলসুম বানোর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব, ভারতীয় গণমাধ্যম