সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম পারমাণবিক পরীক্ষামূলক চুল্লির বড় সাফল্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১২:৫৭
ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক শিথিলতা ও জ্বালানি নীতির অধীনে বড় সাফল্য পেল ওকলোর পঞ্চম পারমাণবিক চুল্লি । ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক শিথিলতা ও জ্বালানি নীতির অধীনে বড় সাফল্য পেল ওকলোর পঞ্চম পারমাণবিক চুল্লি । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম উন্নত পরীক্ষামূলক পারমাণবিক চুল্লি সফলভাবে ‘সংকটমাত্রা’ বা নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক বিভাজন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির জ্বালানি বিভাগ এ ঘটনাকে উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই সাফল্য অর্জন করেছে ওকলোর ‘গ্রোভস’ প্রকল্পের পরীক্ষামূলক চুল্লি। এটি বিভাগের পরীক্ষামূলক চুল্লি কর্মসূচির আওতায় পঞ্চম চুল্লি, যা সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন শুরু করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে এটি প্রথম এমন প্রকল্প, যা বেসরকারি মালিকানাধীন স্থাপনায় এই মাইলফলক অর্জন করেছে।

 

পারমাণবিক বিজ্ঞানে এই পর্যায়ে পৌঁছানোর অর্থ হলো, চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে চুল্লিটি এখনই বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এর আগে আরও নিরাপত্তা পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাধিক পরীক্ষামূলক চুল্লিকে এই পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সেই লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি পরীক্ষামূলক চুল্লি সফলভাবে এই প্রযুক্তিগত মাইলফলক অর্জন করেছে।

 

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, ছোট আকারের উন্নত পারমাণবিক চুল্লি ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সামরিক স্থাপনা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন রয়েছে এমন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে এসব প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।

 

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন শুরু হওয়া একটি বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য হলেও কোনো চুল্লি বাণিজ্যিকভাবে সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী নিরাপত্তা পরীক্ষা, পরিচালনাগত সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা
গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা, উপহার ও চিঠি পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় আহত সাত বছর বয়সী এক শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির অসংখ্য মানুষ। শিশুটির চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে সহায়তা দিতে পাঠানো হচ্ছে অর্থ, উপহার, শুভেচ্ছা কার্ড ও ভালোবাসার বার্তা। মানুষের এই বিপুল ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত পরিবার এখন নতুন করে উপহার পাঠানো সাময়িক বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিজেডের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত শিশুটির নাম সাইলর গ্রাহাম-পোয়ার্চ। গত ১৫ অক্টোবর বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে গুলির ঘটনায় সে আহত হয়। ওই হামলায় তিন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন। আরও একজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক আহত হন।   ঘটনার পর থেকেই সাইলরের চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য পরিবারকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন অসংখ্য মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনেকে অর্থ সহায়তা পাঠান। পাশাপাশি শিশুটির জন্য খেলনা, উপহার, চিঠি ও শুভেচ্ছা কার্ড পাঠাতে থাকেন।   সাইলরের মা ড্যানিয়েল গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেয়ের জন্য এত বেশি উপহার ও শুভেচ্ছা এসেছে যে সবকিছু খুলে দেখা এবং পড়তে পরিবারের অনেক সময় লাগবে।   তাই আপাতত নতুন করে কোনো উপহার বা কার্ড না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের উদ্দেশ্য, আগে পাওয়া উপহারগুলো সময় নিয়ে খুলে দেখা এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইলরের জন্য তৈরি দুটি অর্থসহায়তা তহবিলে মোট ১১ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে। একটি তহবিলের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত আরেক ব্যক্তি দ্বিতীয় তহবিলটি চালু করেছিলেন। এই অর্থ শিশুটির প্রয়োজন ও সুস্থতার পথে পরিবারকে সহায়তা করবে।   একই হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলোর জন্যও অর্থসহায়তা সংগ্রহ করা হয়েছে। কেটিভিজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত হামলাসংশ্লিষ্ট ১১টি যাচাইকৃত গোফান্ডমি তহবিলে মোট প্রায় ২১ লাখ ডলার জমা হয়েছিল।   এই ঘটনায় হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা এক অভিভাবক কাইলুব জিয়ামানকোর পরিবারের জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা জমা হয়েছে। হামলার সময় তিনি স্কুলের ভেতরে বন্দুকধারীকে অনুসরণ করেন এবং গুলি চালিয়ে হামলা থামান। পরে তাঁর পরিবারকে নিরাপদে সময় কাটাতে স্থানীয় কয়েকটি হোটেল সহযোগিতা করে।   সাইলরের পরিবারের প্রতি মানুষের এই সহায়তা শুধু আর্থিক অনুদানে সীমাবদ্ধ নয়। দূরদূরান্ত থেকে পাঠানো চিঠি, খেলনা ও শুভেচ্ছাবার্তা শিশুটির পাশে থাকার এক মানবিক বার্তা হয়ে উঠেছে। ভয়াবহ ঘটনার পর একটি শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার পথে এত মানুষের ভালোবাসা পরিবারকে মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।   তবে স্কুলে ঘটে যাওয়া এই হামলার ক্ষত সহজে মুছে যাওয়ার নয়। নিহত শিশু ও শিক্ষকের পরিবারগুলো এখনো শোকের মধ্যে রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে।   মানুষের এই সহমর্মিতা দেখিয়ে দিয়েছে, একটি ভয়াবহ ঘটনার পরও বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন অসংখ্য অপরিচিত মানুষ। সাইলরের মা তাই সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আপাতত নতুন উপহার পাঠানো বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন—যাতে পরিবার আগে পাওয়া ভালোবাসাগুলো সময় নিয়ে গ্রহণ করতে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৬:১৮
‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এল-সায়েদের জয় নিয়ে ইলহান ওমরের উচ্ছ্বাস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এল-সায়েদের জয় নিয়ে ইলহান ওমরের উচ্ছ্বাস

বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে ও তিন কুকুর

বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে ও তিন কুকুর, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করল দুই কিশোর

নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার

১৭ বছর বয়সে থেমে যায় হেইলির জীবন, তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার

আলাবামায় পাঁচ দিনের অভিবাসন অভিযান
আলাবামায় পাঁচ দিনের অভিবাসন অভিযানে ১৮০ জনের বেশি গ্রেপ্তার, সতর্ক প্রবাসী পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যে পাঁচ দিনের বিশেষ অভিবাসন অভিযানে ১৮০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় উত্তর-পশ্চিম আলাবামার চারটি কাউন্টিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গত ২ নভেম্বর আইসিই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযানের তথ্য প্রকাশ করে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় অভিবাসী পরিবার ও বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   আইসিইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবরের সপ্তাহে পাঁচ দিন ধরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের আওতায় ছিল মার্শাল, ফ্রাঙ্কলিন, লরেন্স ও কোলবার্ট কাউন্টি। আইসিইর নিউ অরলিন্স কার্যালয়ের নেতৃত্বে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালিত হয়।   অভিযানে স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ও কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়গুলো অংশ নেয়। মার্শাল কাউন্টির শেরিফ ফিল সিমস জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের সদস্যরা অভিযানে ৪০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কাউন্টিতে আড়াই দিনের কম সময়ের মধ্যে এই সংখ্যক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।   ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ, গ্রেপ্তার কিংবা দণ্ডের ইতিহাস রয়েছে। এসবের মধ্যে পারিবারিক সহিংসতা, গুরুতর হামলা, যৌন অপরাধ, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তার ওপর হামলার মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিইর প্রকাশিত বিবরণে কয়েকজনের একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর পুনরায় প্রবেশের বিষয়টিও উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল।   কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মেক্সিকো, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধের রেকর্ড এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের তথ্য উল্লেখ করেছে আইসিই।   মার্শাল কাউন্টির শেরিফ ফিল সিমস জানিয়েছেন, তাঁর কার্যালয় ভবিষ্যতেও আইসিইর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।   অন্যদিকে, অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু এলাকায় প্রতিবাদ ও উদ্বেগ দেখা গেছে। বিশেষ করে ফ্রাঙ্কলিন কাউন্টির রাসেলভিল শহরে অভিবাসন অভিযান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মেয়র ডেভিড গ্রিসমের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কিছু পরিবার ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিও বেড়েছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   এ ধরনের অভিযান শুধু গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; অনেক সময় তাঁদের পরিবারের সদস্য, সন্তান এবং কর্মস্থলের ওপরও প্রভাব পড়ে। পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ আটক হলে বাসাভাড়া, দৈনন্দিন খরচ, সন্তানের দেখাশোনা এবং অন্যান্য দায়িত্ব সামলানো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁদের অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন চলমান, আদালতে মামলা রয়েছে কিংবা বৈধ অবস্থান নিয়ে জটিলতা আছে, তাঁদের নিজেদের নথিপত্র ও আইনি অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।   অভিবাসন আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিজের পরিচয়পত্র, অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আদালতের নথির কপি নিরাপদ স্থানে রাখা উচিত। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁর পরিবার আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আটককেন্দ্র ও মামলার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। প্রয়োজনে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।   তবে মনে রাখতে হবে, গ্রেপ্তার হওয়া মানেই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া নয়। আইসিইর প্রকাশিত তথ্যেও কিছু ক্ষেত্রে পূর্বের গ্রেপ্তার বা অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, যা আদালতে দণ্ডিত হওয়ার সমান নয়।   যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় প্রবাসীদের জন্য সরকারি ঘোষণা, আইসিইর তথ্য এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসম্পূর্ণ বা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে আতঙ্কিত না হয়ে আইনগত সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৫:৯
আতঙ্কে ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু ও অভিভাবকেরা

স্কুলের সামনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান, আতঙ্কে ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু ও অভিভাবকেরা

মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিন ভাইবোনের দায়িত্ব

মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিন ভাইবোনের দায়িত্ব, যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মাকে হারিয়ে বদলে গেল তরুণীর জীবন

কিশোর জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মা

ছেলেকে শেষবার দেখতে আমেরিকায় আসছেন মা, ১৫ বছরের সন্তানের মৃত্যুতে শোকে পরিবার

আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ বছরের শিশু
মায়ের অপেক্ষায় সাত মাস আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ বছরের শিশু, পুনর্মিলনের স্বপ্ন ভেঙে গেল পরিবারটির

মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটছিল নয় বছর বয়সী এক শিশুর। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে আসার পর তাকে থাকতে হয়েছে সরকারি অভিবাসী শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রে। মাকে কাছে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে চিঠিও লিখেছিল সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের পুনর্মিলনের স্বপ্ন পূরণ হয়নি যুক্তরাষ্ট্রে।   ২ নভেম্বর প্রকাশিত কেএফএফ হেলথ নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এল সালভাদর থেকে আসা ওই শিশুর হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিরাপত্তার কারণে সংবাদমাধ্যমটি শিশুটির নাম প্রকাশ করেনি। মায়ের নামও শুধু কারমেন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটি হিউস্টন এলাকার একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সাত মাসেরও বেশি সময় কাটায়। সেখানে থাকা অবস্থায় সে মাকে উদ্দেশ করে একটি চিঠি লিখেছিল। চিঠিতে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়ে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে শিশুটি।   অন্যদিকে, মেয়েকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তার মা কারমেন। মেয়েকে নিজের কাছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আঙুলের ছাপ, আয়সংক্রান্ত তথ্য এবং বাসার যাচাইসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করেছিলেন তিনি।   পরিবারটি মেয়ের জন্য আলাদা ঘরও প্রস্তুত করেছিল। বিছানায় সাজানো হয়েছিল কার্টুনের চাদর, পর্দা এবং রাতের ঘরে তারাভরা আলো ফেলার বাতি। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, যেকোনো দিন মেয়েটি ফিরে আসবে।   কিন্তু পুনর্মিলনের শেষ ধাপ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষার অ্যাপয়েন্টমেন্টে গিয়ে নতুন বিপদের মুখে পড়েন কারমেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। পরে তাঁর মেয়েকে নিজের কাছে নেওয়ার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়।   মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও সরাসরি কাছে না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিল শিশুটি। আশ্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় কাটানো, পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং অনিশ্চয়তা তার দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছিল।   পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন কারমেনের সামনে মেয়েকে নিয়ে এল সালভাদরে ফিরে যাওয়া অথবা সন্তানকে দীর্ঘমেয়াদি পালক পরিচর্যায় রেখে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত আসে।   শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মা ও মেয়ে একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে এল সালভাদরে ফিরে যান। তখন শিশুটির যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর প্রায় ২৮১ দিন পেরিয়ে গেছে।   তবে পরিবারের গল্প এখানেই শেষ নয়। শিশুটির বড় ভাইবোনেরা যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছে এবং নিজেদের আশ্রয় আবেদন নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।   কেএফএফ হেলথ নিউজের প্রতিবেদনে অভিবাসী শিশুদের দীর্ঘদিন আশ্রয়কেন্দ্রে আটকে থাকা, পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা এবং মানসিক চাপের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন শিশু পুনর্বাসন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবীরা।   এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে অভিবাসী পরিবারের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষাগুলোর একটি—সন্তানদের নিয়ে নিরাপদে একসঙ্গে বসবাস করা। একটি শিশুর কাছে সবচেয়ে বড় চাওয়া হয়তো কোনো বড় বাড়ি কিংবা বিলাসী জীবন নয়, বরং মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ।   তথ্যসূত্র: কেএফএফ হেলথ নিউজ

প্রকাশ: নভেম্বর ৫, ২০২৬ ৪:১৯
আদালতের নির্দেশে মুক্তির তিন মিনিটেই ফের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসী

আদালতের নির্দেশে মুক্তির তিন মিনিটেই ফের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসী

কানেকটিকাটে টানা তৃতীয়বার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান

কানেকটিকাটে টানা তৃতীয়বার স্টেট সিনেটর নির্বাচিত চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান

মেয়র নির্বাচনে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুহিত মাহমুদের বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করেছে ওয়েইন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসার্স

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হ্যামট্রামিকের মেয়র নির্বাচনে মুহিত মাহমুদের জয়, রবিবার শপথ

0 Comments