সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রথম দফা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশও অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছাড় করা হয়েছে।
তবে অবমুক্ত করা সম্পদের পরিমাণ কিংবা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হোসেইন গোরবানজাদেহ বলেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের সামনে এখন প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে লেবানন ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে সম্মত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ওপর রাজনৈতিক তদারকি বজায় রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয়েছে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবেন।
এ ছাড়া পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ রূপরেখায় একমত হয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনেও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরতিহীনভাবে আলোচনা চলে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে ছিলেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।
তবে বৈঠক শুরুর সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এবং ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতি একাধিক কঠোর বার্তা দেন।
ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন এবং বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাদের দাবি, ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ওই অনুচ্ছেদে আলোচনা চলাকালে কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে তারা আলোচনাস্থল ত্যাগ করবেন। তবে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র এবং একজন মার্কিন কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে তা ঘটেনি এবং দিনভর আলোচনা অব্যাহত ছিল।
মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে আলোচনা ছিল বেশ কঠিন ও দীর্ঘ। একজন মার্কিন কূটনীতিক অ্যাক্সিওসকে বলেন, বৈঠকের প্রধান গুরুত্ব ছিল সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এবং সেটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই কূটনীতিক আরও বলেন, আলোচনার অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা সন্তুষ্ট। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং প্রথম দফার আলোচনা ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফে ডানপন্থী আইনজীবী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভোট গণনায় জানা গেছে। রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তিনি ৪৯.৭ শতাংশ ভোট পান, অন্যদিকে বামপন্থী সিনেটর ইভান সেপেদা পান ৪৮.৭০ শতাংশ ভোট। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ৯৯.৯ শতাংশ ফলাফলের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, এই জয়কে কলম্বিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থী শক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বর্তমান প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর নীতির সমালোচনা করেন এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনেন। তিনি প্রচারণায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা বন্ধ করার ঘোষণা দেন এবং তেল ও গ্যাস খাত সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দেন। বিজয় উদ্যাপন অনুষ্ঠানে আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, “আমি সব কলম্বিয়ানদের জন্য শাসন করব।” তিনি দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বারানকিয়ায় সমর্থকদের সামনে এই বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে অভিনন্দনমূলক ফোন পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। জানা গেছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির নাগরিক এবং বিভিন্ন দেশে তার সম্পত্তি রয়েছে। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী ইভান সেপেদা জানিয়েছেন, তিনি প্রাথমিক ফলাফলের পূর্ণ ও বিস্তারিত পুনর্গণনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি প্রায় ৩৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন। সেপেদা বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত, আমরা সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত, যদি তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং অর্জিত সামাজিক অগ্রগতিকে ধরে রাখে।” নির্বাচন ঘিরে কলম্বিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল অন্যতম প্রধান ইস্যু। কিছু অঞ্চলে চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের কারণে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী, প্রাক্তন ডানপন্থী প্যারামিলিটারি গোষ্ঠী থেকে গঠিত অপরাধচক্র এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলমান রয়েছে। প্রচারণার সময় আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ঘোষণা দেন, তিনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বাতিল করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় বিমান হামলা চালিয়ে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবেন। ১৯৬০-এর দশকের পর থেকে চলা দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে ২০১৬ সালে ফার্ক (FARC) বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি চুক্তির পর কিছু অঞ্চলে উন্নয়ন দেখা গেলেও মাদকচক্র ও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা এখনো রয়ে গেছে। ইভান সেপেদার সমর্থকরা ফলাফল নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। এক সমর্থক মার্গারিটা রেস্ত্রেপো বলেন, “আবারও ক্ষোভ জয়ী হয়েছে। ভিন্নমত গ্রহণের প্রবণতা এখনও রয়ে গেছে।” এই নির্বাচনকে লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক ডানপন্থী রাজনৈতিক উত্থানের ধারার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে চিলি, আর্জেন্টিনা, কোস্টারিকা, বলিভিয়া ও ইকুয়েডরেও সাম্প্রতিক নির্বাচনে ডানপন্থী নেতৃত্ব ক্ষমতায় এসেছে।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রথম দফা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশও অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছাড় করা হয়েছে। তবে অবমুক্ত করা সম্পদের পরিমাণ কিংবা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হোসেইন গোরবানজাদেহ বলেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের সামনে এখন প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে লেবানন ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে সম্মত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ওপর রাজনৈতিক তদারকি বজায় রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয়েছে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবেন। এ ছাড়া পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ রূপরেখায় একমত হয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনেও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরতিহীনভাবে আলোচনা চলে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে ছিলেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। তবে বৈঠক শুরুর সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এবং ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতি একাধিক কঠোর বার্তা দেন। ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন এবং বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাদের দাবি, ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ওই অনুচ্ছেদে আলোচনা চলাকালে কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে তারা আলোচনাস্থল ত্যাগ করবেন। তবে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র এবং একজন মার্কিন কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে তা ঘটেনি এবং দিনভর আলোচনা অব্যাহত ছিল। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে আলোচনা ছিল বেশ কঠিন ও দীর্ঘ। একজন মার্কিন কূটনীতিক অ্যাক্সিওসকে বলেন, বৈঠকের প্রধান গুরুত্ব ছিল সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এবং সেটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই কূটনীতিক আরও বলেন, আলোচনার অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা সন্তুষ্ট। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং প্রথম দফার আলোচনা ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছে।
দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন’ অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার (২২ জুন) দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাসহ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে এবং এ সিদ্ধান্ত থেকে ইসরাইলকে সরানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, লেবানন সীমান্তে সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় ইসরাইলি বাহিনীর ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তার ভাষ্য, নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে সেনারা এখনো সক্রিয়ভাবে অবস্থান করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইসরাইল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পরদিনই পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার ইসরাইলি হামলায় লেবাননে অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা বলেন, ইসরাইল যদি যুদ্ধবিরতি মেনে চলে, তাহলে তারাও তা মেনে চলবে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর অবাধ চলাচলের কোনো অধিকার নেই বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে তাদের পক্ষ থেকে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়নি। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইসরাইলি বাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং বর্তমানে সংগঠনটি চাপে রয়েছে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে ইসরাইল প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থান এবং পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অস্থির। এতে করে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।