মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগ করবেন। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।” তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা সূত্র উল্লেখ করেননি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে শেষবারের মতো ট্রাম্প ও স্টারমারের সাক্ষাৎ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে।
স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “অভিবাসন ও জ্বালানি—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।” একই পোস্টে তিনি উত্তর সাগরে নতুন করে তেল উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান।
দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও তিনি একাধিকবার সমালোচনা করেছেন।
একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে স্টারমারকে ‘ট্রাম্প হুইস্পারার’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি, আর আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।”
এদিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, প্রধানমন্ত্রী সেটিই করবেন।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সোমবার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। সোমবার ভোরে এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয় বলে জানায় মস্কোর প্রশাসন। একই সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, শহরের দিকে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেসব স্থানে ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে সেখানে জরুরি সেবা পাঠানো হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান কয়েকটি বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো, ডোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকভস্কি সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করে। পরে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পক্ষ থেকে সেগুলো পুনরায় চালুর কথা জানানো হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সার্বিকভাবে রাতভর ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত ড্রোনও রয়েছে। এর আগে কয়েক দিন আগেই মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন আঘাত হানে, যা ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর শহরটিতে অন্যতম বড় আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলায় একটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং এতে একজন মিশরীয় ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে পৃথক ড্রোন হামলায় একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন। সুমি অঞ্চলের প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে রয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক শিশু, তার ৩৬ বছর বয়সী বাবা এবং ৭৩ বছর বয়সী দাদি। একই ঘটনায় শিশুটির মা ও দুই ভাইবোন আহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর ইভান ফেদোরভ জানান। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি কৃষি স্থাপনায় যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন ধরে যায়। এছাড়া রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল শহরে সব ধরনের উন্মুক্ত আকাশের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে সাধারণ জ্বালানি বিক্রি সীমিত করে শুধুমাত্র সরকারি ও জরুরি পরিষেবার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রুশ নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পালাউ ও বেলিজ পতাকাবাহী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে, তবে সেখানে কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তুরস্কের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে, যেখানে এক মিশরীয় ক্রু নিহত এবং কয়েকজন নাবিককে লাইফবোটে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগ করবেন। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।” তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা সূত্র উল্লেখ করেননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে শেষবারের মতো ট্রাম্প ও স্টারমারের সাক্ষাৎ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে। স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “অভিবাসন ও জ্বালানি—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।” একই পোস্টে তিনি উত্তর সাগরে নতুন করে তেল উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও তিনি একাধিকবার সমালোচনা করেছেন। একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে স্টারমারকে ‘ট্রাম্প হুইস্পারার’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে। স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি, আর আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।” এদিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, প্রধানমন্ত্রী সেটিই করবেন।” ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সোমবার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।
ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন ইস্যু ঘিরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিত করার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই কঠোর অবস্থান সামনে এল। খবর এনডিটিভির। শনিবার (২০ জুন) পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা যদি হুমকির মুখে পড়ে, বিশেষ করে পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে, তাহলে দেশটি যুদ্ধের পথেও যেতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “পানি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। যদি আমরা অনুভব করি এটি বিপন্ন হচ্ছে, তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, ভারত যদি দ্রুতগতিতে পাকিস্তানের পানি সরবরাহে বাধা দেওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয় এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পিছপা হবে না। পানি ইস্যুতে এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে গত এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পাহলগামে সংঘটিত একটি প্রাণঘাতী হামলা। ওই ঘটনায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত সরকার ১৯৬০ সালের সিন্ধু নদ জলচুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু অববাহিকার পানির বড় একটি অংশ ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে, যা দেশটির কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। খাজা আসিফ এসব সমস্যার জন্য ভারতের দিকে আঙুল তুলে দাবি করেন, নয়াদিল্লি পানিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং চেনাব নদীর প্রবাহে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি তথ্য গোপন করছে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, গত এক বছরে ভারতের জলপ্রকল্পগুলোতে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই—যা তার অভিযোগকে কিছুটা দুর্বল করে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ভেতরেই পানি সংকট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির সেচ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খালে পানির ঘাটতি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে—উত্তর-পশ্চিম খালে প্রায় ৬৪ শতাংশ, রাইস খালে ৩৮ শতাংশ এবং দাদু খালে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সুক্কুর ব্যারাজে পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ পানি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের অভাবই এই সংকটের প্রধান কারণ। সব মিলিয়ে, পানি ইস্যুকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।