বিশ্ব

বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই স্ত্রীকে হত্যা, প্রেমিকার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ২:৩১
প্রেমিকার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার স্বামী
প্রেমিকার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার স্বামী

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর ধারাবাহিকতায় হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় এক তরুণীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ও স্বামীর প্রেমিকাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার পর দুজনই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পরে ভারতে ফিরে আসার পর তাদের আটক করা হয়।

 

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ মে মানেসর থানায় নিহত তরুণীর মা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার ২২ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে ২৫ বছর বয়সী অঙ্কিত নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। কিন্তু ২১ মে থেকে মেয়েটি নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে তারা সন্দেহের বশে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরদিন মানেসরের একটি কক্ষ থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়।

 

তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত অঙ্কিত ও তার ৩৮ বছর বয়সী প্রেমিকা রজনী দেবীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। রজনী হরিয়ানার ঝাঝ্জর জেলার বাসিন্দা এবং মানেসরের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। অন্যদিকে অঙ্কিত স্থানীয়ভাবে একটি তামাকের দোকান পরিচালনা করতেন।

 

তদন্তকারীদের দাবি, রজনীর ভাড়া করা একটি কক্ষেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন অঙ্কিত তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান এবং দুজনে মিলে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ঘটনার প্রায় দুই মাস আগে উত্তর প্রদেশ থেকে কেনা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবেই এই অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল।

 

ঘটনার পর অঙ্কিত ও রজনী প্রথমে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে যান। পরে সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ। তবে গত ৩০ জুন ভারতে ফিরে আসার পর মানেসরের অপরাধ দমন শাখা তাদের গ্রেপ্তার করে।

 

পরে আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত দুজনকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তি নিয়ে সংসদীয় শুনানিতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তি নিয়ে সংসদীয় শুনানিতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের একটি বিশেষ কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠান লিনাস রেয়ার আর্থস-এর বিরল খনিজ সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আগামী ১৬ জুলাই শুনানি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তিটি দেশের অর্থনীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা পর্যালোচনা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   সংসদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান ওং চেন জানান, শুনানিতে লিনাসের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্য নেওয়া হবে। চুক্তির শর্ত, এর বাস্তবায়ন এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের চার বছরের একটি চুক্তি করে লিনাস রেয়ার আর্থস। প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়ায় প্রক্রিয়াজাত করা বিরল খনিজ সরবরাহ করবে, যা উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।   চুক্তির পর থেকেই মালয়েশিয়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রাজধানী কুয়ালালামপুরে সংসদ ভবনের সামনে পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ করে চুক্তির বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের আশঙ্কা, এসব খনিজ সামরিক খাতে ব্যবহৃত হলে তা দেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।   এদিকে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, জাতীয় স্বার্থ, আইনি কাঠামো এবং বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। সংসদীয় শুনানিতে প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশ ভবিষ্যতে বিরল খনিজ খাতসংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৩:৩৬
রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত অন্তত ৯

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত অন্তত ৯, কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও রক্তাক্ত ইউক্রেনের রাজধানী

প্রেমিকার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার স্বামী

বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই স্ত্রীকে হত্যা, প্রেমিকার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার স্বামী

ন্যাটো সম্মেলনে একই দিনে জেলেনস্কি ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসছেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়? ন্যাটো সম্মেলনে একই দিনে জেলেনস্কি ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসছেন ট্রাম্প

বাবার জানাজায় নেই মোজতবা
বাবার জানাজায় নেই মোজতবা, প্রশ্নের মুখে ইরানের নেতৃত্ব

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রথম জানাজা রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।   ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত এই নেতার জানাজায় দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকলেও তার ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সেখানে দেখা যায়নি, যা নিয়ে নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।   জানাজায় খামেনির অন্য তিন ছেলে—মাসউদ, মোস্তফা ও মেইসাম উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রধান আহমদ ভাহিদি এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি সবার নজর কাড়ে।   ইরানি সূত্রগুলো বলছে, বাবার জানাজায় না থাকায় মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও গুঞ্জন আরও বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যে বিমান হামলায় আলী খামেনি নিহত হন, সেই হামলায় তিনিও আহত হয়ে থাকতে পারেন। মার্চের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।   আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আনুষ্ঠানিক শেষ বিদায় অনুষ্ঠান গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে, যা এক সপ্তাহব্যাপী চলবে। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিকভাবে শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অনুষ্ঠানে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে। তারা এই বিদায়কে ‘শতাব্দীর শেষ বিদায়’ হিসেবে উল্লেখ করছে। বর্তমানে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ রাখা হয়েছে। সেখানে ৯৭ বছর বয়সী শিয়া আলেম জাফর সোবহানির ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।   রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এদিন তেহরানে শোকানুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম হয় এবং সোমবারের শোভাযাত্রার আগে মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পুরো আয়োজনকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।   এদিকে, জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিছু মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান শোনা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বিভিন্ন স্থানে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে প্রতিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লা ও আশপাশের চিকিৎসাকেন্দ্রে চার হাজারের বেশি মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অতিরিক্ত ভিড় ও গরমের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।   খামেনির কফিনের পাশে তেহরানে হামলায় নিহত তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক বছর বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানিও রয়েছেন।   সোমবার তেহরানে শোভাযাত্রা শেষে মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় স্থানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষে বৃহস্পতিবার তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা।   এদিকে, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও স্থায়ী শান্তি নিয়ে আলোচনা অনিশ্চয়তায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, শোকানুষ্ঠান চলাকালে শান্তি আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিসহ বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে খামেনির জানাজা শুধু ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ০:৪৪
টানা ভারি বৃষ্টিতে মুম্বাই অচল, দুর্ঘটনায় নিহত ১০; সড়ক-রেল যোগাযোগে বড় বিঘ্ন

টানা ভারি বৃষ্টিতে মুম্বাই অচল, দুর্ঘটনায় নিহত ১০; সড়ক-রেল যোগাযোগে বড় বিঘ্ন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান গ্রাম নিয়ে নেতানিয়াহুর দাবি, সরাসরি নাকচ স্থানীয়দের

দখলকৃত বিউফোর্ট দুর্গ পরিদর্শন করেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ‘দ্রুত সামরিক অভিযান’ চালানোর হুমকি ইসরায়েলের সেনাপ্রধানের

নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে ভারত। ছবি: সংগৃহীতনৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত
৬৩০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ক্রয় অনুমোদন ভারতের, যুক্ত হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন

সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ৬৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৫২ হাজার কোটি রুপি) মূল্যের একটি বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিকল্পনা নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে ভারত। এই পরিকল্পনার আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র, কামিকাজে ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য আধুনিক সরঞ্জাম কেনা হবে।   এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ভারতের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি) এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এই কাউন্সিলে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার আনুমানিক ব্যয় হবে ৫২ হাজার কোটি রুপি, যা প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।   তবে এসব সরঞ্জাম কত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে কিংবা সেগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে নাকি দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা হবে, সে বিষয়ে সরকার বিস্তারিত জানায়নি। অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ (ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার) ব্যবস্থা, মধ্যম পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, বহনযোগ্য ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন ব্যবস্থা।   এ ছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নতুন নৌ-মাইন, জাহাজভিত্তিক ড্রোন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারে একটি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিমানবাহিনীর জন্য উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম একটি মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে। এটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং দূরবর্তী পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে।   গত এক দশকে ভারত ঐতিহ্যগত অস্ত্র সরবরাহকারী রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছর পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত ভারতের সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসে।   এদিকে ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। এর অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বর দেশটি অন্তত ৭৫টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করে, যার বেশিরভাগই দেশীয়ভাবে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।   চলতি বছরের শুরুতেও ভারত প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দিয়েছিল। সেই তালিকায় ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্তও ছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ২১:৪৫
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় দুই দিনব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা বিষয়ক ফোরাম ‘অ্যালিস ইন আঙ্কারা’ | ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ন্যাটো সম্মেলনের মাঝেই আঙ্কারায় বসছে বিশ্ব নিরাপত্তা ও কূটনীতির বড় আসর

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি নেবে ইরান

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি নেবে ইরান, মিত্র দেশগুলো পাবে বিশেষ সুবিধা

তেহরানে খামেনির জানাজা সম্পন্ন, অংশ নিলেন তিন ছেলে

তেহরানে খামেনির জানাজা সম্পন্ন, অংশ নিলেন তিন ছেলে

0 Comments