ভারত

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি সুবিধায় ইরানের হামলায় ভারতীয় শ্রমিক নিহত

ইরানের সামরিক হামলায় কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে একজন ভারতীয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) কুয়েত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনা নিশ্চিত করেছে।   কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর ওপর ইরানের চলমান আগ্রাসনের অংশ হিসেবে এই শোধনাগারের সার্ভিস ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। হামলায় একজন বিদেশি শ্রমিক নিহত হওয়ার পাশাপাশি স্থাপনার অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর বিশেষ কারিগরি ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং প্ল্যান্টের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করতে কাজ চালাচ্ছে।   তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের কিছু রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে হামলার খবর প্রচার করেছে এবং শোধনাগারের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। আল জাজিরার কুয়েত প্রতিনিধি মালিক ট্রাইনা জানিয়েছেন, এই সংঘাতের প্রভাব কুয়েতের ওপর সরাসরি পড়ছে এবং দেশটি প্রায় প্রতিদিনই আকাশপথের হামলার মোকাবিলা করছে।   কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত সম্প্রতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাত্র গত রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় কুয়েতের আকাশসীমায় অন্তত ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু ড্রোন সামরিক ক্যাম্পের ওপর আঘাত হানে, যেখানে ১০ জন সেনাসদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।   কুয়েতি কর্মকর্তারা মনে করছেন, বেসামরিক স্থাপনা ও সামরিক ক্যাম্পে হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। বিশেষ করে পানি শোধনাগারের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্য এই যুদ্ধের প্রভাবে এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ইরান বনাম মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের এই সংঘাতে কুয়েতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো সরাসরি জড়িত না হলেও তাদের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কুয়েত সরকার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এই আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।   এছাড়া নিহত ভারতীয় শ্রমিকের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তারা হতাহতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। যুদ্ধের এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
অংক পরীক্ষায় ফেল থেকে প্রভাবশালী ‘ধর্মগুরু’: যেভাবে পতন হলো শতাধিক নারীকে ধর্ষন করা ‘ক্যাপ্টেন বাবা’র

দশম শ্রেণির গণিত পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ১০০-তে মাত্র ২৮। কিন্তু সেই সাধারণ মানের ছাত্রটিই পরবর্তী জীবনে হয়ে ওঠেন ভারতের মহারাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ‘জ্যোতিষী ও ধর্মগুরু’। বড় বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা পর্যন্ত তার কাছে আসতেন পরামর্শের জন্য। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং প্রতারণার ভয়াবহ সব অভিযোগে বর্তমানে শ্রীঘরের অন্ধকারে দিন কাটছে অশোক খরাত নামের এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর। সম্প্রতি ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ৬৭ বছর বয়সী এই ভণ্ড বাবার উত্থান ও পতনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। যেভাবে শুরু এই ভণ্ডামির সাম্রাজ্য মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার কাহান্দেলওয়াড়ি গ্রামে লক্ষণ খরাত নামে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তি তরুণ বয়সেই নিজ গ্রামে এক আত্মীয়কে যৌন হেনস্তার অভিযোগে সমাজচ্যুত হন। এরপর কিছুদিন পশ্চিমবঙ্গ এবং থাইল্যান্ডে কাটিয়ে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে নাসিকে ফিরে আসেন তিনি। এবার তার নাম বদলে হয় ‘অশোক কুমার’। নিজেকে একজন সংখ্যাতাত্ত্বিক (Numerologist) এবং জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খরাত অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলতেন। নিজের মন্দিরে অলৌকিক পরিবেশ তৈরি করতে তিনি সাপের হিসহিস শব্দ রেকর্ড করে বাজাতেন এবং লাইট বন্ধ করে ভক্তদের ভয় দেখাতেন, যেন তারা বিশ্বাস করে মহাদেব স্বয়ং সেখানে উপস্থিত। প্রভাবশালী ভক্ত ও বিপুল অর্থকড়ি ধীরে ধীরে তার ভক্ত তালিকায় যুক্ত হতে থাকেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও দাপুটে রাজনীতিবিদরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার পরামর্শের ফি বা ‘দক্ষিণা’ ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেত। রাজেন্দ্র আসুদ নামে এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক বছরে খরাত তার কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি রুপি এবং একটি দামী মার্সিডিজ গাড়ি হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতিবাদ করলেই খরাত তাকে ‘আধ্যাত্মিক ক্ষমতা’ দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। নাসিক পুলিশের ধারণা, এই ভণ্ড বাবার সাম্রাজ্যের মূল্যমান প্রায় ১০০০ কোটি রুপি। ধর্ষণের ভয়ংকর অভিযোগ খরাতের বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টিই ধর্ষণের। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি করেছেন তার নিজের অফিসের এক কর্মী। তিনি জানান, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে আশীবাদ দেওয়ার নাম করে ধর্ষণ করেন খরাত। পরবর্তীতে ওই কর্মী স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে খরাতের কুকর্মের ভিডিও ধারণ করেন, যা বর্তমানে পুলিশের কাছে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে রয়েছে। আরেক নারী অভিযোগ করেছেন, বাড়ি তৈরির পরামর্শ নিতে গেলে তাকে চারবার ধর্ষণ করা হয় এবং পরিবারের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। রাজনীতির সাথে সংযোগ ও তদন্ত খরাতের সাথে মহারাষ্ট্রের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং বিজেপি নেতা চন্দ্রকান্ত পাতিলের মতো রাঘববোয়ালদের সখ্যতার ছবিও সামনে এসেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য নারী অধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারপারসন রুপালি চাকানকারকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বর্তমানে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, "কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।" Faith (বিশ্বাস) আর Fear (ভয়)—এই দুই অস্ত্র ব্যবহার করে যে সাম্রাজ্য অশোক খরাত গড়ে তুলেছিলেন, তা এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। গণিতে ফেল করা সেই ছাত্রের জীবনের হিসেব মেলাতে এখন ব্যস্ত খোদ প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৭ এপ্রিল দিল্লি সফরে যাচ্ছেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৭ ও ৮ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফর করবেন। এই সফর ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে (ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন) অংশগ্রহণের আগে অনুষ্ঠিত হবে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটি বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর দিল্লি সফরের প্রথম ঘটনা।   ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র শুক্রবার প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে, সফরের প্রথম দিনে খলিলুর রহমান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। এছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরির সঙ্গে আলোচনা সম্ভাবনা রয়েছে।   সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির থাকবেন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের পক্ষ থেকে এই বৈঠকগুলোর জন্য ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার ওম বিড়লাও অভিনন্দনবার্তা পৌঁছে দেন।   কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০ মার্চ দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সৌজন্য সাক্ষাৎই খলিলুর রহমানের সফরের পথ সুগম করেছে। এই সাক্ষাতের কয়েক দিনের মধ্যে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে পেট্রোল পাম্পে মদ বিক্রির কার্যক্রম শুরু

ভারতের চণ্ডীগড়ে নতুন আবগারি নীতির আওতায় পেট্রোল পাম্প এবং ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে মদ বিক্রির সুযোগ চালু করা হয়েছে। এর ফলে শহরের বাসিন্দাদের জন্য অ্যালকোহল কেনা আরও সহজ হবে। পূর্বে যেখানে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মদের দোকানের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন সেই সীমাবদ্ধতা কমানো হয়েছে।   চণ্ডীগড়ের ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত কুমার যাদব জানিয়েছেন, কিছু নির্বাচিত পেট্রোল পাম্প এবং বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এই সুবিধা পাবেন। তবে লাইসেন্স পেতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। বার্ষিক জিএসটি টার্নওভার ৩ কোটি রুপির বেশি প্রতিষ্ঠানই সেকশন ১০বি-এর অধীনে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে।   প্রশাসন মনে করছে, এই উদ্যোগ শহরের মদ বিক্রির ব্যবস্থাকে আধুনিক করার একটি অংশ। আন্তর্জাতিক মানের খুচরা বিপণনের ধাঁচ অনুসরণ করে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত বিশেষ করে নারী ও প্রবীণ ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক হবে, যারা প্রথাগত মদের দোকানে যাওয়া নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন।   বর্তমানে চণ্ডীগড়ে পেট্রোল পাম্পের ভিতরে বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর না থাকলেও ভবিষ্যতে এমন প্রতিষ্ঠান চালু হলে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তারা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে। একই নিয়ম স্বতন্ত্র পেট্রোল পাম্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপো
ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৫ হাজার টন ডিজেল

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। ডিপোর সহকারী ইনচার্জ মো. জীবন শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যেই আমদানিকৃত এই ডিজেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মূলত উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান ৮টি জেলায় সেচ কাজ এবং যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই এই বিশেষ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে ভারতের সাথে সম্পাদিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় এই ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই ফেব্রুয়ারি এবং ১১ মার্চ দুটি আলাদা চালানে মোট ১০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। আগামী সপ্তাহে আরও একটি চালানে ৫ হাজার টন ডিজেল আসার কথা রয়েছে। চাহিদা বিবেচনায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগামী চার মাসে পাইপলাইনের সাহায্যে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ সংকট: যুদ্ধ না করেও সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে ভারত?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় ইরান ও ইসরাইল সংঘাতে সরাসরি জড়িত না থাকলেও সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ভারতের ক্ষতিই হবে সবচেয়ে গভীর ও বহুমাত্রিক। কারণ, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল পরিবহন হয়, আর ভারত প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এখান থেকেই আমদানি করে।   তবে শুধু জ্বালানি নয়—ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি তৈরি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তায়। দেশটির কৃষি পুরোপুরি নির্ভরশীল আমদানিকৃত রাসায়নিক সারের ওপর, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এই সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ইতোমধ্যে বেড়ে গেছে, যা কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যের দাম বাড়বে, আর এর চাপ সবচেয়ে বেশি পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, খাদ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়লেই ভারতে অতিরিক্ত কয়েক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। আর এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।   এদিকে জ্বালানি ও সারের দাম বাড়লে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে, সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, কমে যেতে পারে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।   সব মিলিয়ে, এই সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে থাকলেও একটি দেশ কতটা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, যদি তার অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরশীল হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ভারতে বাস-লরির সংঘর্ষে অগ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল ১৩ জনের
ভারতে বাস-লরির সংঘর্ষে অগ্নিকাণ্ড, প্রাণ গেল ১৩ জনের

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মার্কাপুরম জেলায় যাত্রীবাহী একটি বাস ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।   প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানায়, শুরুতে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। দুর্ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান।   মার্কাপুরমের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) নাগার্জু একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, অন্তত ৮ জন যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১৮ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ‘হরিকৃষ্ণ ট্রাভেলস’-এর একটি বাস তেলেঙ্গানার নির্মল থেকে নেল্লোরের দিকে যাচ্ছিল। পথে একটি টিপার লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হলে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে কয়েকজন যাত্রী আগুনে পুড়ে মারা যান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে প্রায় ২০ জনকে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে শান্তির দূত পাকিস্তান! কেন ভারত নেই এই ভূমিকায়?

ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যকার রণংদেহী পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। যেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অভাবনীয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান, সেখানে ভারতের অবস্থান নিয়ে খোদ দেশের অন্দরেই উঠছে নানা প্রশ্ন। বুধবার ভারতের সংসদ ভবনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে এই অস্বস্তিকর প্রশ্নটিই তুলে ধরেছে বিরোধী শিবির। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরাতে আলোচনার সেতুবন্ধন করতে পারলে তাঁরা গর্বিত হবেন। রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই আমেরিকার ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তেহরানের হাতে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটেই বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে ভারত কি ইসলামাবাদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর সাফ জানান, ভারত কোনো ‘দালাল রাষ্ট্র’ নয়। বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক আঙিনায় ভারত দালালের (ব্রোকার) কাজ করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, সরকার এই সংকটে মোটেও মৌন নয়, বরং প্রয়োজনীয় সময়ে যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওমানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান জুড়ে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। পাকিস্তান শান্তির দূত হওয়ার চেষ্টা করলেও ইরান অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আপসের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে ‘কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাদি হত্যা: জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার ফয়সাল করিমের, দেশে ফেরাতে উদ্যোগ সরকারের

হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ভারতের আদালতে হাজিরার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি এ কাজ করি নাই”—এভাবে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। ভারতের West Bengal-এর বিধাননগর আদালতে গত রোববার ফয়সাল করিম ও আরেক আসামি আলমগীরকে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান। এর আগে, ৭ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাঁদের গ্রেপ্তার করে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরে তাঁদের National Investigation Agency (এনআইএ)-এর কর্মকর্তারা দিল্লিতে নিয়ে গেছেন। আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন ফয়সাল করিম। “কার নির্দেশে হত্যা?”, “আপনাকে ফাঁসানো হয়েছে কি না?”—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রথমে নীরব থাকলেও পরে তিনি বলেন, “আমি এ ধরনের কাজে ছিলাম না।”   তবে পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এক পর্যায়ে তিনি নিহত হাদি সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন, যা নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এদিকে, হাদি হত্যার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন Shama Obaid। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হত্যার আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং যথাযথ সাজা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”   তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি। সরকার বলছে, নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় আসামিরা ভারতে অবস্থান করলেও তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের অর্থ সহায়তা তলানিতে নেমেছে

ভারত ২০১৪-২০২৫ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রায় ১,৫৫৭ কোটি রুপি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই সহায়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর আগে পাঁচ বছর আগে বছরে ২০০ কোটি রুপির বেশি অর্থ সহায়তা প্রদান করলেও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা ২৫ কোটি রুপিতে নেমে আসে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।   গত শুক্রবার ভারতের লোকসভায় একটি প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বাংলাদেশকে প্রদত্ত সহায়তার তথ্য প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশকে প্রায় ১৯৮ কোটি রুপি দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ অর্থ সহায়তা আসে ২০২১-২২ অর্থবছরে, যখন ২১৯ কোটি ৫৩ লাখ রুপি প্রদান করা হয়। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সহায়তা কমে আসে ৫৯ কোটি রুপিতে।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একটি স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের প্রতি ভারত ধারাবাহিকভাবে সমর্থন প্রদান করছে।   তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এলওসির আওতায় বাংলাদেশকে মোট ২১০ কোটি ডলার ছাড় করা হয়েছে। ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনটি এলওসির মাধ্যমে মোট ৭৩৬ কোটি ডলারের ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত হারে অর্থ ছাড় হয়নি। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ খাতের প্রকল্পে এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।   ইআরডি কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের ঋণের ছাড় কমে যাওয়ায় কিছু প্রকল্পে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। নতুন সরকার আসার পর এই প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান সংকট: কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি এক চরম কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র ইরান, অন্যদিকে শক্তিশালী অংশীদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে নয়াদিল্লিকে এখন ‘ডিপ্লোম্যাটিক ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা কূটনৈতিক নমনীয়তার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল ঐতিহাসিক বা সাংস্কৃতিক নয়, বরং এটি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কানেক্টিভিটির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে মধ্য এশিয়ায় প্রবেশাধিকার এবং সস্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে ইরান ভারতের জন্য অপরিহার্য। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা সরাসরি সামরিক সংঘাত ভারতের এই স্বার্থগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর। তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারতকে ইরানের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিতে বাধা দিচ্ছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ না নিয়ে একটি ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বনের চেষ্টা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ভারতের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা মোদি সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি সফলভাবে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়াদিল্লির অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। অন্যথায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের আঁচ ভারতের অর্থনীতি এবং কৌশলগত স্বার্থে বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে নয়াদিল্লির সাউথ ব্লক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির ফোনালাপ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান মোদি।   পোস্টে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে নৌপথ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   মোদি আরও বলেন, ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
দিল্লিতে ভারতের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মাথায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ শুক্রবার (২০ মার্চ) দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাইকমিশনার রিয়াজ ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।   দিনের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতের খবর মাইক্রোব্লগিং সাইট ‘এক্স’-এ পৃথক পোস্টে জানায় জয়শঙ্কর ও রিয়াজ। জয়শঙ্কর পোস্টে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে জোর দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে হাইকমিশনার রিয়াজ বলেন, ভারতের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থ ও অভিন্ন লাভের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানানো হয়েছে।   সন্ধ্যায় হাইকমিশনার রিয়াজ শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, আলোচনার মূল বিষয় ছিল বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সর্বত্র বন্ধু থাকলেও কোথাও সুবিধা পাচ্ছে না ভারত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ নীতির ওপর ভিত্তি করে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ভারত। এই সময়ে দেশটি বিশ্বের প্রায় সব প্রভাবশালী জোট ও সংস্থায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। কোয়াডের মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মাধ্যমে চীনের সঙ্গে, ব্রিকসের মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে এবং আইটুইউটুর মাধ্যমে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি।   নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, ভারতের কৌশল ছিল জাতীয় স্বার্থে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, তবে কারো সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ না হওয়া। এই ভারসাম্য রক্ষার কূটনীতিই দীর্ঘদিন ধরে দেশটির বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা প্রতিবেশী দেশ থেকে শুরু করে পরাশক্তিগুলোকে লক্ষ্য করে তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে—প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাস দমন এবং দেশের জন্য তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। তবে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এই তিন ক্ষেত্রেই নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস সরবরাহে।   এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির জন্য পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। ইতোমধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর ফলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে দুটি ভারতীয় গ্যাসবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এখনো ভারতের ২২টি জাহাজ ওই অঞ্চলের জলসীমায় আটকা রয়েছে।   এই জাহাজগুলো শুধু মোদির আহ্বানেই মুক্ত হবে না। ভারতের কাছে জব্দ ইরানের তিনটি জাহাজ ফেরত দেওয়া বা তেহরানে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর বিনিময়ে জাহাজগুলো মুক্ত করা যেতে পারে। তেহরানের আস্থা অর্জন করতে হলে ভারতের জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের নাজুকতা মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমার কারণে ভারতকে কিছু রাশিয়ান তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে নয়াদিল্লি যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই ছাড় বজায় থাকবে কি না, তা অনিশ্চিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
রাশিয়া পাকিস্তানকে কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব
রাশিয়া পাকিস্তানকে কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব

ভারতের পর এবার পাকিস্তানকেও কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। পাকিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত অ্যালবার্ট খোরেভ জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখায়, তাহলে মস্কো দেশটিকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত।   সংবাদ সম্মেলনে খোরেভ বলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো জ্বালানি খাত। এই খাতে যে কোনো অগ্রগতি ইসলামাবাদের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে।   তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি ‘জটিল ও অপ্রত্যাশিত’। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই জ্বালানি তেলের যোগান নিশ্চিত করতে সমস্যার মুখে পড়েছে।   এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা পর্যায়েও পড়েছে; পাকিস্তান ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। খোরেভ বলেন, বর্তমান উত্তেজনা কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা পূর্বানুমান করা কঠিন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে ২৯১ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করে মমতা বললেন, দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ২৯৪টির মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা প্রকাশ করেন দলের নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।   দার্জিলিংয়ের বাকি তিনটি আসন মিত্র দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় বিজেপিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, এবার ২২৬টি আসনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করবে তৃণমূল। গত নির্বাচনে তৃণমূল ২১৩টি এবং বিজেপি ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছিল।   বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তারা সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে না নেমে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “সাহস থাকলে সামনে এসে লড়াই করুন, আড়ালে থেকে কোনো লাভ হবে না।”   তিনি আরও বলেন, “দিল্লি কা লাড্ডু জিতবে না,” এবং দাবি করেন, জনগণ এবার বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করবে।   এবারের প্রার্থী তালিকায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি নতুন মুখ ও বিনোদন জগতের তারকাদের স্থান দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, ব্রাত্য বসু ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিনোদন অঙ্গন থেকে প্রার্থী হয়েছেন রাজ চক্রবর্তী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও লাভলি মৈত্র।   সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ৫২ জন নারী, ৯৫ জন তপসিলি সম্প্রদায়ের এবং ৪৭ জন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। বিভিন্ন বয়সের প্রার্থীদের সমন্বয়ে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের ভারসাম্য রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
আরএসএস ও ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ, মার্কিন প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা-বিষয়ক কমিশন (USCIRF)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনকে কেবল ‘ভ্রান্ত’ নয়, বরং একটি ‘নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত’ দলিল হিসেবে অভিহিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই প্রতিবেদনে ভারতের বাস্তব চিত্রকে আড়াল করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা এই রিপোর্টটি দেখেছি। এটি পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভারতের পক্ষ থেকে এটি সরাসরি খারিজ করা হচ্ছে।" প্রতিবেদনে যা ছিল এবং ভারতের কড়া জবাব উল্লেখ্য যে, USCIRF-এর প্রতিবেদনে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস) এবং গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ও বাণিজ্যনীতির ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি শর্ত হিসেবে রাখারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে জয়সওয়াল বলেন, যেসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, তার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। বরং কমিশন নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ভারতের সমালোচনা করার আগে কমিশনের উচিত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা এবং হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলোর দিকে নজর দেওয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ইরান ভারতের কাছে তিনটি ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল
ইরান ভারতের কাছে তিনটি ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপত্তা সম্পর্কিত নতুন কূটনৈতিক ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ইরান ভারতের কাছে তিনটি জাহাজ—অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া এবং স্টেলার রুবি—ফেরত চেয়েছে। পাশাপাশি, ভারতের কাছে জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধও জানানো হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে।   জাহাজগুলোর মধ্যে স্টেলার রুবি ইরানের মালিকানাধীন, আর আল জাফজিয়া ও অ্যাসফেল্ট স্টার যথাক্রমে মালি ও নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় সীমানায় এই জাহাজগুলো জব্দ করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড, কারণ তাদের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে তিনটি জাহাজ মুম্বাই বন্দরে রয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনটি জাহাজ ফেরত চাওয়া হয় এবং ইরানের জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ও ইরানি সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোনো মন্তব্য করেননি।   হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে চলাচল করা তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট ব্যবহার করে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির জন্য এই পথ অপরিহার্য।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী ১২টিরও বেশি ট্যাঙ্কার জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, তবে ভারতের জাহাজে কোনো হামলা হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী ভারতীয় জাহাজগুলোকে নিরাপদ রাখা হবে।   ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়ম জয়শঙ্কর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, এই নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং এতে কোনো ‘লুকোছাপা’ নেই।   এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপদ প্যাসেজ দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পারাপারের বিনিময়ে ভারতের কাছে তিন ট্যাংকার ফেরত চাইল ইরান

ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়া ভারতীয় পতাকাবাহী বা ভারতমুখী জাহাজগুলোকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করে দেওয়ার বিনিময়ে ভারতের কাছে তিনটি তেলের ট্যাংকার ছাড়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে আটক এসব ট্যাংকার মুক্তির বিষয়ে তেহরান নয়াদিল্লির সঙ্গে আলোচনা করছে।   ভারতীয় জলসীমার কাছ থেকে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি ট্যাংকার আটক করেছিল ভারতের কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিল, জাহাজগুলো পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং মাঝসমুদ্রে অবৈধভাবে পণ্য স্থানান্তর বা শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফারের সঙ্গে জড়িত ছিল।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তেহরান ট্যাংকার ছাড়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও চেয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে চায়নি।   এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, ইরান সম্প্রতি ভারতের দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি সোমবার ভারতের পশ্চিম উপকূলে ফিরে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালীর দুই পাশেই জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়শোয়াল বলেন, সাম্প্রতিক এই জাহাজ চলাচল দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পারস্পরিক লেনদেনের প্রতিফলন। তবে কোনো কিছুর বিনিময়ে এই সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমানে কোনো বিনিময় হচ্ছে না।   যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ও ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক আটকা পড়ে আছেন। একটি ভারতীয় সূত্রের মতে, এর মধ্যে ছয়টি জাহাজে এলপিজি রয়েছে।   রান্নার গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় এসব জাহাজ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী ভারত। দেশটির মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।   ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামের তিনটি ট্যাংকার আটক করেছে। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজগুলো পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন করেছে এবং অবৈধ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল। আটক জাহাজগুলোর মধ্যে ‘স্টেলার রুবি’ ইরানের পতাকাবাহী এবং বাকি দুটি নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট গ্রহণ দু'দফায়, যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন

জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রোববার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মাত্র দুই দফায়। আগামী ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ করা হবে এবং আগামী ৪ঠা মে জানা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে আট দফায় ভোট হলেও এবার নজিরবিহীনভাবে তা কমিয়ে আনা হয়েছে। কমিশনারের মতে, প্রক্রিয়ার সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত। একইসাথে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পন্ডিচেরিতেও ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এক নজরে ভোটের তফশিল: প্রথম দফা (২৩শে এপ্রিল): উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলসহ মোট ১৫টি জেলায় ভোট। জেলাগুলো হলো— কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম। দ্বিতীয় দফা (২৯শে এপ্রিল): দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ভোট। জেলাগুলো হলো— কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান। ফলাফল: ৪ঠা মে। ভোটের আগে 'ভোটার তালিকা' কাঁটা নির্বাচন ঘোষণা হলেও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বর্তমানে 'বিবেচনাধীন' অবস্থায় রয়েছে। হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা এই তালিকা খতিয়ে দেখছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন যে, "কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না, আবার কোনো অবৈধ নাম তালিকায় থাকবে না।" ভোট গ্রহণের আগে পর্যন্ত যাদের নাম নিষ্পত্তি হবে, তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। লড়াই যখন অস্তিত্বের ও পরিবর্তনের ২০২৬-এর এই নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যেমন ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিজেপির জন্য এটি মহাকরণ দখলের লড়াই। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার', 'কন্যাশ্রী' ও ডিএ বৃদ্ধির মতো জনমুখী প্রকল্প; অন্যদিকে বিজেপির তোলা 'দুর্নীতি', 'নারী নিরাপত্তা' ও 'পরিবর্তন'-এর ডাক— দুই শিবিরের প্রচারেই এখন উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। ব্রিগেডের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আক্রমণ এবং তৃণমূলের পাল্টা হুঙ্কার আসন্ন নির্বাচনকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। শেষ পর্যন্ত বাংলার জনতা কাকে বেছে নেয়, এখন সেটাই দেখার।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: অনলাইন।
মমতার বাড়ি ঘিরে বিজেপি নেতার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক রাজ্য সফরের দিনই রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য ঘিরে পরিস্থিতি আরও বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।   রোববার (১৫ মার্চ) সকালে কলকাতার নিউটাউনের ইকো পার্কের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে।   এর আগে ব্রিগেড ময়দানে আয়োজিত বিজেপির এক সমাবেশে দলের তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই বক্তব্যের পর দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।   দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাইরের কারও প্রয়োজন নেই; তাদের নিজেদের কর্মীরাই যথেষ্ট। তিনি দাবি করেন, গোটা বাংলায় তারা রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন এবং এ জন্য দলীয় কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   তার মতে, দলের কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও রাজনৈতিকভাবে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, কলকাতায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা গেলে তা সারা রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।   শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, বিষয়টি ‘নাটক’ হতে পারে। তিনি অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার মামলায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ করে ভাঙচুর চালিয়েছিল—বর্তমান ঘটনাও সেই ধরনের হতে পারে।   দিলীপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, তাদের দলের বাসে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছে এবং তৃণমূল কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না। সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।   প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা হিসাব’—এখানে হিসাব মানে শুধু অর্থনৈতিক হিসাব নয়; অতীতে যে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে তারও জবাব দিতে হবে।   তার মন্তব্যে আরও বিতর্ক তৈরি হয় যখন তিনি বলেন, যদি শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে, তবে অন্য জায়গাতেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি কালীঘাট, এমনকি মদন মিত্র বা চেতলার মতো এলাকাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন। কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন থাকায় অনেকেই এ মন্তব্যকে সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।   দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, অতীতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার ওপরও পশ্চিমবঙ্গে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় তিনি নিজেও গাড়িতে ছিলেন বলে দাবি করেন। তার মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন নয়।   অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির নেতাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণেই বিজেপি এখন হুমকির ভাষা ব্যবহার করছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পাওয়ায় বিজেপির ওপর চাপ বাড়ছে।   তৃণমূলের আরও অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপির সংগঠন দুর্বল এবং দলটির ভেতরে বিভাজন রয়েছে। তাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে রাজনৈতিক লাভ তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।   অন্যদিকে বিজেপি বলছে, তারা তৃণমূলের ‘সন্ত্রাসী রাজনীতি’র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাতপূর্ণ। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজ্যের দুই প্রধান শক্তি—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে তৃণমূলের দাবি, বাংলার মানুষ শেষ পর্যন্ত সহিংস রাজনীতিকে সমর্থন করবে না এবং ভোটের মাধ্যমেই এর জবাব দেবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0