ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজার ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব স্থাপনা অপসারণের আগে কোনো ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের ইসলামি সংগঠন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ। দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুচ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি পরিচালিত অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক স্থাপনা এবং দুটি আবাসিক ভবন। ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে তিনটি মসজিদ ও কয়েকটি মাজারও রয়েছে। ঘটনার পর জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির নেতা মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসমি। তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদগুলো ভাঙার আগে কেন কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে জানতে চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে কুচ জেলার জুনা কান্দলা মসজিদ। মসজিদের খাদেমের দাবি, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। তিনি বলেন, সে সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকে জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ বোর্ডে নিবন্ধিত ছিল। দীর্ঘদিনের এই মসজিদটি এর স্থাপত্যশৈলীর জন্যও এলাকায় পরিচিত ছিল। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে এবং মসজিদের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তাদের সেখানে যেতে দেননি। বরং এগোলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আদিপুর এলাকার একটি মসজিদও একই অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এদিকে কুচ জেলার এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানে মোট ৩০টি স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি ধর্মীয়, ১৭টি বাণিজ্যিক এবং দুটি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে। তবে তিনি পৃথকভাবে কোনো নির্দিষ্ট মসজিদ বা মাজার সম্পর্কে মন্তব্য করেননি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং উচ্ছেদ অভিযানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন মডেলের আইফোনের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশের তালিকা, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম এবং গোপন ছবি ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে গেছে। অ্যাপলের অন্যতম প্রধান ভারতীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ও চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ হ্যাক করে এই গোপন নথিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে একটি হ্যাকার চক্র। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়া ২ লাখেরও বেশি ফাইলের মধ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ ফাইল রয়েছে, যাতে নতুন আইফোনের সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারি এবং ক্যামেরার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সুনির্দিষ্ট বিবরণ রয়েছে। সাধারণত অ্যাপল তাদের কোন যন্ত্রাংশ কোন কোম্পানি তৈরি করে, তা কঠোরভাবে গোপন রাখে। এই তথ্যগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাজারে অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, নকল মোবাইল প্রস্তুতকারক এবং নিজস্ব বিক্রেতারা আইফোনের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির নকশা সহজেই জেনে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে অ্যাপলের অত্যন্ত গোপনীয় বিশেষ জলছাপযুক্ত কিছু ফাইল এবং কারখানায় নতুন আইফোনের ওপর চালানো আছাড় পরীক্ষার বাস্তব ছবিও রয়েছে। ছবিতে ধূসর রঙের একটি হ্যান্ডসেটের পেছনে তিনটি ক্যামেরা এবং অ্যাপলের লোগো দেখা গেছে। টাটা ইলেকট্রনিক্সের নেটওয়ার্ক হ্যাক করা হ্যাকার চক্রটি আইফোনের পাশাপাশি বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং বড় বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতো আমেরিকান ও তাইওয়ানিজ গ্রাহকদের গোপন নথিও ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করে দিয়েছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে একটি বড় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভারতের সরকারের যে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা তার ওপর একটি বড় ধাক্কা। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে মোট আইফোন উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশই ভারতে তৈরি হচ্ছে, যা মাত্র চার বছর আগেও ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। এমন সময়ে এই বিপর্যয়টি ঘটল যখন অ্যাপল আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি বাজারে ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বড় ধরনের সাইবার হামলার পর অ্যাপল ও টাটা ইলেকট্রনিক্স যৌথভাবে ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত শুরু করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল সিস্টেমে কর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং একটি বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থাকে দিয়ে পুরো ব্যবস্থার ফরেনসিক অডিট বা চুলচেরা বিশ্লেষণ করাচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্রই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় নহ্ উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে সীমান্তবর্তী এলাকায় ধীরে ধীরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে ঐতিহ্যগত চারণভূমি, শিকার এলাকা ও কৃষিজমির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া এক স্মারকলিপিতে নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি কেরু চাদের এ অভিযোগ তুলে ধরেন। স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগেও যেসব এলাকায় স্থানীয়রা অবাধে যাতায়াত করতেন, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন এবং গবাদিপশু চরাতেন, সেসব অঞ্চল এখন তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা ধীরে ধীরে আমাদের পূর্বপুরুষদের ভূমি হারাচ্ছি।” সংগঠনটির দাবি, তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতায় অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনা বাহিনী কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সীমান্ত বরাবর পরিকল্পিতভাবে তাদের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, ২০২০ সাল পর্যন্ত যেসব এলাকা স্থানীয়দের ঐতিহ্যগত ব্যবহারে ছিল, সেগুলোর বড় অংশ এখন পিএলএর নিয়ন্ত্রণে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চীনের তৎপরতা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও তারা দাবি করেছে। অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠা প্রধান এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আসাফিলা অঞ্চলের ওইং, চুজারতার পানিয়ার, মারনাফের মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকা শুধু অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কিছু স্থান তাদের কাছে পবিত্র হিসেবেও বিবেচিত। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে চীনা বাহিনী সড়ক নির্মাণ ও স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা রেখেই স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি বলেন, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে চীনের তৎপরতার গতি ও ধরন নিয়ে নতুন করে চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। নাচো আসনের বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে দ্রুত সরকারি তদন্ত প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনার গাম্বো তাসো বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-চীন উত্তেজনা বিদ্যমান। সাম্প্রতিক এই অভিযোগ সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
ভারতের কেরালা রাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্তরের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারি পরিসংখ্যান। রাজ্য সরকারের গেজেটভুক্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা একই সময়ে ইসলাম ত্যাগকারীদের তুলনায় অনেক বেশি। কেরালা সরকারের প্রকাশিত গেজেট তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাজ্যে ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন ৪০ জন। বিপরীতে ওই বছর ১৪৪ জন নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, গ্রহণকারীর সংখ্যা ত্যাগকারীদের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। এদের একটি বড় অংশই হিন্দু সম্প্রদায় থেকে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য। চার বছরের ব্যবধানে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ইসলাম ত্যাগ করেছেন মোট ৫৭ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্টধর্মে যোগ দেন। অন্যদিকে একই সময়ে ৩৪৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান সম্প্রদায় থেকে এসেছেন। সে হিসেবে ইসলাম গ্রহণের হার ত্যাগের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি। ধর্মান্তরের এই চিত্র শুধু ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই নয়, হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রেও একটি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে। ২০২০ সালে অন্য ধর্ম থেকে ২৪১ জন হিন্দু ধর্মে ফিরে এলেও, সরকারি তথ্য বলছে তাদের বেশিরভাগই দলিত খ্রিষ্টান পটভূমির মানুষ। সংরক্ষণ সুবিধা পুনরুদ্ধারের মতো সামাজিক ও প্রশাসনিক কারণে তারা পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অন্যদিকে ২০২৪ সালের তথ্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বছর অন্য ধর্ম থেকে ৩৬৫ জন হিন্দু ধর্মে এলেও, একই সময়ে ৫১০ জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে ২৭৬ জন ইসলাম এবং ২৩৪ জন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। ফলে নিট হিসাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগকারীর সংখ্যাই বেশি। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে যেখানে ১১১ জন হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৬-এ। বিপরীতে ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে যাওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরালার মতো শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সচেতন রাজ্যে ধর্মান্তরের এই প্রবণতা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সামাজিক অবস্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, আন্তঃসম্প্রদায় সম্পর্ক এবং আইনগত কাঠামোও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। তবে এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মান্তরের পেছনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, আবার অন্যরা সামাজিক ও কাঠামোগত কারণকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। সার্বিকভাবে সরকারি গেজেটের তথ্য বলছে, কেরালায় ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি ধীর কিন্তু স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের সামাজিক ও জনমিতিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, নিউজলন্ড্রি
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভারতের পানি ব্যবহারের পরিকল্পনার জবাবে পাকিস্তানের এক মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিল সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সব পানি দেশটির ভেতরেই পুরোপুরি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত পানিপ্রবাহ বন্ধ করতে চায়। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই অন্য কোনো দেশ তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মুসাদিক মালিক বলেন, “আমাদের পানির অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হলে তার মূল্য দিতে হবে। কেউ আমাদের পানির ওপর হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী উজানের কোনো দেশ ভাটির দেশের পানিপ্রবাহ একতরফাভাবে বন্ধ করতে পারে না। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও জানান পাকিস্তানের এই মন্ত্রী। একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি আইনগতভাবে এখনো বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ একতরফাভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সিন্ধু নদ পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান ‘রেড লাইন’। অন্যদিকে ভারতের অবস্থানও কঠোর। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, পাকিস্তান তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান প্রমাণ না দেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি পুনরায় কার্যকর করা হবে না। সূত্র: এনডিটিভি
আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়া দিল্লি এ সামরিক পদক্ষেপকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। ভারতের দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। বিবৃতিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগান বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের তিনটি সীমান্তবর্তী প্রদেশে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। পাক্তিয়া প্রদেশের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী আদম খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, হাসপাতালে আহত শিশুদের অবস্থা এবং স্বজনদের আহাজারি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পাক্তিকা প্রদেশের স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গালের দাবি, একটি পরিবারের বাড়িতে বোমা হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেন, প্রথম দফার হামলার পর উদ্ধারকাজে মানুষ জড়ো হলে একই স্থানে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, অভিযানে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-এর সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরারের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ২৯ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাত। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করেছেন দেশটির বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার দাবি, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই অঞ্চলটি এখনও সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ এবং ভারতশাসিত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে চীনের সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতাও ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আগামীকাল মঙ্গলবার অবসরে যাচ্ছেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার একদিন আগে গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তা এখনও বেশ সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার অর্থ এই নয় যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনো আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, উত্তর সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এবং উভয় দেশই এখন পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়ে আরও সংবেদনশীল ও ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। সেনা প্রত্যাহারসংক্রান্ত চুক্তিগুলো সীমান্তে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। গত এক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হওয়ায় বড় বড় সীমান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক আস্থাও বেড়েছে। ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নির্ধারণের বিকল্প খুঁজতে বিশেষজ্ঞ দল গঠন, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ও সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ, তিনটি সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্য চালু এবং ভিসা সহজ করার ব্যবস্থা। এছাড়া স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রতি বছর দুই পক্ষের মধ্যে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মাঠপর্যায়ের বৈঠক ও ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নত নজরদারি, রসদ সরবরাহ ও সেনা চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদায়ী সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান বিদেশি সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতার কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে ভারত সম্পূর্ণ সচেতন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।
২০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভারতের তরুণ উদ্যোক্তা ধ্রব্য শাহ। ১৫টিরও বেশি উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক প্রকল্প তৈরি, দুটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিক্রি, একক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগের জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ O-1 ভিসা অর্জনের মাধ্যমে তিনি ব্যতিক্রমী সাফল্যের নজির গড়েছেন। বর্তমানে ধ্রব্য শাহর প্রতিষ্ঠান এমন একটি স্মৃতি অবকাঠামো তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ করে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করবে। ধ্রব্য শাহর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী বড় অগ্রগতি আরও শক্তিশালী ভাষা মডেল তৈরিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার স্মৃতিশক্তি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বোঝার সক্ষমতা বাড়ানোই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্রব্য শাহর প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন প্রযুক্তি বিশ্বের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্রিন্সের সহযোগী কেনেখট, গুগল এআইয়ের প্রধান জেফ ডিন এবং ওপেনএআই, মেটা ও গুগলের একাধিক শীর্ষ নির্বাহী। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ O-1 ভিসা অর্জন করেছেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, শিল্প ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভিসা প্রদান করা হয়। বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের জন্য নির্ধারিত এই ভিসা পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী ভারতীয়দের একজন ধ্রব্য শাহ। ‘সোলো ফাউন্ডার্স’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধ্রব্য শাহ বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা তার ছিল না। কৌতূহল থেকেই তিনি একের পর এক সফটওয়্যার প্রকল্প তৈরি করতে শুরু করেন। তিনি জানান, প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তে বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরির দিকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্যোগ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছে। ধ্রব্য শাহর বিশ্বাস, ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ব্যবহারকারীর পূর্বের তথ্য, অভ্যাস এবং প্রয়োজন মনে রেখে আরও ব্যক্তিগত ও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে। তার ভাষায়, আগামী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীর জন্য স্মৃতি এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য ধারণের সক্ষমতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এই লক্ষ্য নিয়েই তার প্রতিষ্ঠান এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহারের সক্ষমতা দেবে। ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ধ্রব্য শাহর অর্জনের তালিকায় রয়েছে ১৫টির বেশি উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক প্রযুক্তি প্রকল্প তৈরি, দুটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে বিক্রি, একক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগের জন্য ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ, যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ O-1 ভিসা অর্জন এবং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সমর্থন ও বিনিয়োগ লাভ। প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, ধ্রব্য শাহর এই যাত্রা প্রমাণ করে, উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা থাকলে প্রচলিত শিক্ষাপথের বাইরেও অল্প বয়সে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি রাজ্যে সোমবার (২৯ জুন) ভোরে স্বল্প মাত্রার একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভোর ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয়ে এসব কম্পন ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি করলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভারতের জাতীয় ভূকম্পনবিদ্যা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ১৩ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে মণিপুরের কাংপোকপি এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৯ কিলোমিটার গভীরে। এর মাত্র পাঁচ মিনিট পর, ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয় অরুণাচল প্রদেশ ও ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকায়। এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩ এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৭ কিলোমিটার গভীরে, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর হওয়ায় কিছু এলাকায় বেশি অনুভূত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সবশেষে ভোর ৫টা ৫ মিনিটে তৃতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বাংলাদেশের একেবারে কাছের মেঘালয় রাজ্যে। পশ্চিম খাসি পাহাড় এলাকায় অনুভূত এই কম্পনের মাত্রা ছিল ২ দশমিক ৯ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পগুলোর মাত্রা কম থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা গেছে। ভূকম্পন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। হিমালয় অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক সক্রিয়তার কারণে এখানে মাঝেমধ্যে এমন স্বল্পমাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। সাধারণত এই ধরনের ছোট কম্পন বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি না করলেও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন এবং ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো।
ভারতের উত্তরপ্রদেশে বাড়িতে গরুর মাংস রান্নার অভিযোগে তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানে একটি পাতিলে রান্না করা মাংস এবং একটি পলিথিন ব্যাগে কাঁচা মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুলিশ তথ্য পায় যে একটি বাড়িতে রান্নার উদ্দেশ্যে গরুর মাংস আনা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় বাড়িতে উপস্থিত চারজন পুরুষ সেখান থেকে পালিয়ে যান। এ সময় তিন নারীও সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অভিযানের সময় একটি পাতিলে রান্না করা মাংস এবং একটি পলিথিন ব্যাগে রাখা কাঁচা মাংস উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রান্না করা ও কাঁচা মাংসের পরিমাণ প্রায় এক কেজি করে। জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক সিং জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারীরা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া মাংস গরুর এবং পরিবারের এক সদস্য রাজ্যের বাইরে থেকে তা নিয়ে এসেছিলেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে মাংসের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন নারীর স্বামী এবং পরিবারের এক আত্মীয়কে খুঁজছে পুলিশ। ওই আত্মীয় মুম্বাইয়ে কর্মরত বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশে প্রচলিত গরু জবাই নিষিদ্ধ আইনের অধীনে তিন নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মাংস কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারটি এর আগে কখনও গরুর মাংস সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে গরু জবাই ও গরুর মাংস সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর আইন কার্যকর রয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণত জব্দ করা মাংস পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টে দান করা অর্থ, স্বর্ণালংকার এবং অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), বিরোধী দল এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও সামনে এসেছে। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত অভিযোগ অনুযায়ী, ভক্তদের দেওয়া অর্থ, সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব এবং মন্দির-সংক্রান্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি রুপির আর্থিক অনিয়মের দাবি বিভিন্ন মহল থেকে করা হচ্ছে। এ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করায় বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভক্তদের দান করা কিছু স্বর্ণ, রুপা ও মূল্যবান সামগ্রীর পরিবর্তে নকল সামগ্রী রাখা হয়েছে। এছাড়া ইন্ডিয়ান বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, তাদের দেওয়া রুপার ইটের কোনো হিসাব বা রসিদ পাওয়া যায়নি। আরও অভিযোগ রয়েছে, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের লক্ষ্ণৌ শাখা থেকে জাল চেক ব্যবহার করে মন্দিরের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। রামপথ ও ভক্তিপথ এলাকায় স্থাপিত প্রায় ৫০ লাখ রুপি মূল্যের ৩ হাজার ৮০০টি বিশেষ আলোকসজ্জার সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান মন্দির নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন দীনেশ ফালাহারি মহারাজ। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি দাবি করেন, অর্থ গণনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হতো। তদন্ত কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পরও দ্রুত মামলা না হওয়ায় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এদিকে রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ নেতা বিনয় কাটিয়ার এবং বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা রজনীশ সিং ট্রাস্টের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজেপি সাংসদ ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংও দাবি করেছেন, অযোধ্যার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তিনি আগে থেকেই অবগত ছিলেন। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে রাম মন্দির ট্রাস্ট, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অথবা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিচারিক বা তদন্ত-সংশ্লিষ্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এখনো প্রকাশিত হয়নি।
ঢাকা/নয়াদিল্লি: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর পর তিনি আবার দেশে ফেরার ইচ্ছার পাশাপাশি সম্ভাব্য সময়সীমার কথাও উল্লেখ করলেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য তিনি দেশে ফিরতে চান না। তার ভাষায়, “এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।” বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।” নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।” দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।” আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” তিনি বিএনপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগও নাকচ করেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বিএনপিও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। সেই বাংলাদেশে কখনও ধর্মীয় আগ্রাসন ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে না।”
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ভারতের পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) থেকে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভিএসি) পর্যটন ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু করেছে। ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা ভ্রমণপ্রত্যাশীরা আবারও ভারতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য আবেদনকারীদের সুবিধার্থে মেডিকেল ভিসা আরও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পরে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য ভিসা আবেদন কেন্দ্রেও এ সেবা চালু করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভিসা প্রদান কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ স্থগিত করেছিল। একই সময়ে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ থাকার পাশাপাশি পাসপোর্ট জমা ও ফেরত দেওয়ার কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া এবং জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় মেডিকেল, ব্যবসায়িক, শিক্ষার্থী ও সরকারি ক্যাটাগরির কিছু ভিসা ইস্যু করা হলেও পর্যটন ভিসা চালু হয়নি। সর্বশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করল।
ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন সংযোজন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নজরদারি যুদ্ধবিমান ‘নেত্র’। দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ধাপ শেষে এটি এখন অপারেশনাল ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) ‘নেত্র’ অ্যাওয়াক্স ব্যবস্থাকে ফাইনাল অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স দেয়। বেঙ্গালুরুর সেন্টার ফর এয়ারবর্ন সিস্টেমসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমানটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ‘নেত্র’ মূলত একটি আকাশভিত্তিক আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—যা শত্রুপক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি শনাক্ত করে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নিজস্ব যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রন পরিচালনায় সহায়তা করে। এতে অত্যাধুনিক রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘ দূরত্ব থেকে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সক্ষম। ডিআরডিও জানিয়েছে, এই বিমান ৪৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু নজরদারি করতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশ থেকেই স্থলবাহিনীর কাছে সরাসরি তথ্য পাঠানো সম্ভব, যা যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে বড় ভূমিকা রাখবে। ক্ষমতার দিক থেকে ‘নেত্র’কে অনেকেই ইসরায়েলের ‘ফ্যালকন’ অ্যাওয়াক্সের সঙ্গে তুলনা করছেন। জানা গেছে, যেখানে ফ্যালকন নির্দিষ্ট সীমিত কোণজুড়ে নজরদারি করতে পারে, সেখানে ‘নেত্র’ একসঙ্গে আরও বিস্তৃত এলাকায় নজর রাখতে সক্ষম। ফলে আকাশসীমার পরিস্থিতি দ্রুত ও সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। এর আগে ভারত ইসরায়েল থেকে প্রায় ৮ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি ফ্যালকন অ্যাওয়াক্স সংগ্রহ করেছিল, যা আইএল-৭৬ বিমানে সংযুক্ত করা হয়। এসব বিমান বালাকোট হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছর পরিচালিত একটি অভিযানে ‘নেত্র’কেও সীমিত পরিসরে পরীক্ষা করা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ‘নেত্র’ যুক্ত হওয়া ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি। এতে করে দেশটি আকাশ নজরদারি ও যুদ্ধ পরিচালনায় বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প আরও শক্তিশালী হবে। ডিআরডিওর এই অর্জনকে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এমন উন্নত সামরিক ব্যবস্থা ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও এগিয়ে নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য হিন্দু
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দ্রাবাদে একটি সড়কের নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। শনিবার (২৭ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যার নামে ভারতে কোনো সড়কের নামকরণ করা হলো। তিনি এই সম্মানকে বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এর আগে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার হায়দ্রাবাদের মার্কিন কনসুলেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ রাখার ঘোষণা দেয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সড়কের নামফলক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমর্ক এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গর। ট্রাম্প তার পোস্টে এই অনুষ্ঠানের একটি ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে তাদের দুজনকে নামফলক উন্মোচন করতে দেখা যায়। নতুন নামকরণ করা সড়কটির আশপাশে রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস, যার মধ্যে মাইক্রোসফট, গুগল ও আমাজনের মতো মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ফলে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘টেক হাব’ হিসেবে পরিচিত। তেলেঙ্গানা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নামকরণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পাশাপাশি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে হায়দ্রাবাদ যে দুই দেশের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে, সেটিরও স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে একটি সড়কের নাম মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে রাখা প্রতীকী হলেও তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পরিচালিত আন্তঃসীমান্ত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ নিহত ছয় ভারতীয় সেনাসদস্যের নাম প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে ওই অভিযানে নিজেদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রথমবার জনসমক্ষে স্বীকার করল দেশটি। নিহত সেনাসদস্যদের নাম নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের ‘রোল অব অনার’ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধের দেয়ালে তাঁদের নাম খোদাই করা হয়েছে। দেশের সেবায় জীবন উৎসর্গকারী এসব সেনাসদস্যকে সম্মান জানাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপারেশন সিন্দুরে নিহত ছয় সেনাসদস্য হলেন হেডকোয়ার্টার্স ১০ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের সুবেদার মেজর পবন কুমার, ৪ জম্মু ও কাশ্মীর লাইট ইনফ্যান্ট্রির রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (বীর চক্র), ৫ ফিল্ড রেজিমেন্টের ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার, ৮৫১ লাইট রেজিমেন্টের এভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরলীনায়েক, ২৩৭ ফিল্ড ওয়ার্কশপ কোম্পানির হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ৩৯ উইংয়ের সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (বায়ু সেনা মেডেল)। স্মৃতিসৌধের ‘ওয়াল থ্রি-ডি’-তে ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত অংশে তাঁদের নাম সংযোজন করা হয়েছে। জাতীয় বীরদের স্মরণে নির্মিত এ স্মৃতিসৌধে তাঁদের অবদান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ হলো। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনব্যাপী সংঘাত চলাকালে ভারতীয় বাহিনীর হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এতদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারত সরকার প্রথমবারের মতো ওই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করল। এর আগে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় পর্যটকসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর, ৭ মে ভোরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। ভারতের দাবি অনুযায়ী, এ অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অন্তত নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল জয়শ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার অবকাঠামো ধ্বংস করা। পরবর্তীতে ১০ মে দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) পর্যায়ের আলোচনার পর সামরিক তৎপরতা বন্ধে সম্মত হয় ভারত ও পাকিস্তান। প্রকাশিত তালিকা থেকে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী উভয় বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। এটি অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে। নিহতদের মধ্যে রাইফেলম্যান সুনীল কুমারকে বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বীর চক্র’ এবং সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমারকে ‘বায়ু সেনা মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ইন্ডিয়া গেটের কাছে উদ্বোধন হওয়া ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে এখন অপারেশন সিন্দুরও ভারতের উল্লেখযোগ্য সামরিক অভিযানের তালিকায় স্থান পেল।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে বজ্রপাতে এক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত সদস্যের নাম বিনীত কুমার দুবে (৪৬)। তিনি বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল ছিলেন। তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের কান্নৌজ জেলায়। বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার বাবুরা ঘাট সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময় এলাকায় প্রবল বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছিল। মিঠিপুর এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন জিরো লাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে টহল দেওয়ার সময় হঠাৎ বজ্রপাত তার ওপর আঘাত হানে। ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিঠিপুর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে একই দিনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গঙ্গা নদী পারাপারের সময় নৌকায় থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে তারা প্রাণ হারান। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বর্ষা মৌসুমে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ও নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং জলাশয় বা নদীতে অবস্থান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও নদীপথে চলাচলকারী মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনাগুলোতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং থানায় জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে এক কর্নেল ও এক মেজরসহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর এনডিটিভির। দায়ের করা এফআইআরে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতনামা সেনাসদস্যকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্তরা কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে সরকারি কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। হামলার ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।” অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার শিকারদের মধ্যে রয়েছেন আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচ। এসএইচও অমৃত কাটোচের দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, তিনি পাড্ডার এলাকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে কিশতওয়ারের জেলা কমিশনার সভাপতিত্ব করছিলেন। এ সময় থানার ভেতরে সহিংসতার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে ফিরে আসেন। এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, থানার প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর হামলা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ডিএসপি বিজয় কুমার ভগতের ওপরও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সেনাসদস্যরা লাঠি, লোহার রড এবং সরকারি অস্ত্র নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর টপকে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সরকারি ও জনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটান। এফআইআরে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও), আথোলি থানার এসএইচও এবং এসডিপিওর সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এছাড়া থানার প্রধান ফটকও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পর এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের অভিযোগ, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এনডিটিভি
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা সুবিধা পুনরায় চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে ভারত। এরপর থেকে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ভিসা চালু থাকলেও পর্যটন ভিসা দেওয়া বন্ধ ছিল। সম্প্রতি দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তিনি গত ১২ জুন ঢাকায় পৌঁছান। বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি। পরে আইভ্যাকের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের পাশাপাশি বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য দেশটিতে ভ্রমণের সুযোগ আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচ আসতে যাচ্ছে। আগামী জুলাই মাসেই ২০টি ব্রডগেজ কোচ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন—বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২০টি কোচ, যা চলতি বছরের জুলাইয়ে সরবরাহ করা হবে। এগুলো বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগে সম্পাদিত বড় একটি চুক্তির অংশ। বাংলাদেশ ৯১৫ কোটি রুপির বিনিময়ে ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির আওতায় ধাপে ধাপে কোচগুলো সরবরাহ করা হবে। প্রথম চালান হিসেবে এই ২০টি কোচ পাঠানো হচ্ছে। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারত এই কোচ নির্মাণের কাজ পায়। বর্তমানে কোচগুলো তৈরি হচ্ছে ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায়। ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “চুক্তির প্রথম রেক আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। বাংলাদেশে বগিগুলো হস্তান্তরের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু সময়ের জন্য এই প্রকল্পের অগ্রগতি ধীর হয়ে যায়। তবে বর্তমানে কাজ আবার স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এর আগে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং ১০ মিটার গেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে। দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ জোরদার এবং পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে এসব সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সর্বশেষ চুক্তির আওতায় শুধু কোচ সরবরাহই নয়, বরং এর নকশা সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কোচগুলো চালু করার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা দেবে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চালান দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি আনবে।
ভারতের মহারাষ্ট্রে এক তরুণ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ। প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে উঠে এসেছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। এ ঘটনায় নিহত তরুণের বাগদত্তা এবং তাঁর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত কেতন আগরওয়াল মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার বাসিন্দা এবং খ্যাতনামা নির্মাণ ব্যবসায়ী বিশাল আগরওয়ালের ছেলে। আগামী নভেম্বরে তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সিয়া গোয়ালের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস আগেই তাঁর মৃত্যু ঘিরে শুরু হয় রহস্য। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ জুন ছিল কেতনের জন্মদিন। এ উপলক্ষে তিনি তাঁর বাগদত্তা সিয়া গোয়ালের সঙ্গে পুনের কাছে ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গ এলাকায় ঘুরতে যান। সেখানে ট্রেকিংয়ের একপর্যায়ে কেতন গভীর খাদে পড়ে যান বলে প্রথমে দাবি করা হয়। ঘটনার পর সিয়া পুলিশকে জানান, ছবি তোলার সময় কেতনের পা পিছলে যায় এবং তিনি খাদে পড়ে যান। পরে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমদিকে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। তবে তদন্তে নেমে লোনাভালা গ্রামীণ পুলিশ বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পায়। মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পুলিশের দাবি, সিয়া গোয়াল এই বিয়েতে আগ্রহী ছিলেন না। একই সময়ে তাঁর সহকর্মী চেতন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দুজন মিলে পরিকল্পনা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জন্মদিন উদযাপনের অজুহাতে কেতনকে লোহাগড় দুর্গ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সুযোগ বুঝে তাঁকে গভীর খাদে ধাক্কা দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাস্থলে চেতন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। মামলার তদন্ত তদারকি করা জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে সিয়া ও চেতনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। ঘটনার পর দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালত তাঁদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কেতন ও সিয়ার বিয়ের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। আগামী নভেম্বরে রাজস্থানের উদয়পুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। পরিবারের দাবি, বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য জয়পুরে প্রায় ১৭ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। অতিথিদের যাতায়াতের জন্য দুটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের আগেই কেতনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার, স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে এটি একটি দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তের অগ্রগতিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, একজন মানুষ কীভাবে এতটা নির্মম পরিকল্পনা করতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। সংগৃহীত ডিজিটাল তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।