ভারত

ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে ধার দেওয়া টাকা এখন সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার
ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে ধার দেওয়া টাকা এখন সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধ তহবিলে দেওয়া ৩৫ হাজার রুপি ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়ে আলোচনায় এসেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি পরিবার। ১৯১৭ সালের একটি পুরোনো সনদকে ভিত্তি করে ওই অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছে সিহোরের রুঠিয়া পরিবার। তাদের আবেদনের পর যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস আরও নথিপত্র চেয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গিল্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়েছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো অর্থ পাওনা থাকার দাবি স্বীকার করেনি।    ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সেঠ জুম্মা লাল রুঠিয়া। পরিবারের কাছে থাকা ১৯১৭ সালের ৪ জুনের সনদে উল্লেখ রয়েছে, ভোপাল স্টেটের ‘সেঠ রামা কিশান জাসকারান রুঠিয়া’ প্রতিষ্ঠানের জুম্মা লাল ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোনে’ ৩৫ হাজার রুপি সাবস্ক্রাইব করেছিলেন। সনদটিতে তৎকালীন ভোপালের ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট ডব্লিউ এস ডেভিসের স্বাক্ষর রয়েছে।    প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ সরকার বিপুল যুদ্ধব্যয় মেটাতে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধঋণ ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। ব্রিটিশ ভারতেও সেই তহবিল সংগ্রহের অংশ হিসেবে ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ চালু হয়। রুঠিয়া পরিবারের কাছে থাকা সনদটি সেই কর্মসূচিতে জুম্মা লালের ৩৫ হাজার রুপি দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে তারা উপস্থাপন করছে।   পরিবারটির দাবি, ওই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল এমন কোনো নথি তারা খুঁজে পায়নি। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ১৯১৭ সালের সনদটি অর্থ দেওয়ার তথ্য সমর্থন করলেও সেই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল কি না অথবা অন্য কোনোভাবে হিসাব নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।    রুঠিয়া পরিবারের সদস্য বিনয় ও বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, পুরোনো পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে সনদটি পাওয়ার পর তারা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কয়েক মাস পর ব্রিটিশ পক্ষ থেকে তাদের আবেদনের জবাব আসে।    ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের জবাবে পরিবারটিকে বলা হয়েছে, তারা যদি মনে করে কোনো দাবি না করা অর্থ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে, তাহলে গিল্ট রেজিস্ট্রার কম্পিউটারশেয়ার ইনভেস্টর সার্ভিসেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পরিবারটির পাঠানো তথ্য ও নথি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানোর কথাও জানিয়েছে ডিএমও। একই সঙ্গে মূল সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট পুরোনো চিঠিপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে।    ফলে ব্রিটিশ সরকারের এই জবাবকে ঋণ স্বীকার বা অর্থ ফেরতের সম্মতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপাতত এটি শতাব্দী পুরোনো দাবিটির নথিপত্র যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক ধাপ।   পরিবারটির সদস্য বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন তাদের কাছে শুধু অর্থের হিসাব নয়। তারা জানতে চান, তাদের পূর্বপুরুষের দেওয়া অর্থের শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল এবং সেই ঋণ কখনো নিষ্পত্তি করা হয়েছিল কি না। পরিবারটির কাছে থাকা নথি অনুযায়ী জুম্মা লাল রুঠিয়া ১৯৩৭ সালে মারা যান।    পরিবারটি শেষ পর্যন্ত কত অর্থ দাবি করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে তাদের বক্তব্য, মূল ৩৫ হাজার রুপির সঙ্গে প্রযোজ্য সুদ এবং শত বছরের বেশি সময়ের মূল্য পরিবর্তন বিবেচনায় নিলে অঙ্কটি বর্তমান হিসাবে কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি রুপির বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে এটি তাদের নিজস্ব হিসাব এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এমন কোনো অঙ্ক স্বীকার করেনি।   পরিবারটির দাবির সঙ্গে ব্রিটেনের প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন পুরোনো সরকারি ঋণ পরিশোধের ইতিহাসও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছিল, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ‘ওয়ার লোন’-এর বকেয়া প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড ২০১৫ সালের ৯ মার্চ সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। ওই বন্ডটি ১৯৩২ সালে ইস্যু করা হলেও এর উৎস ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেওয়া সরকারি ঋণ পুনঃঅর্থায়ন।    ব্রিটিশ সরকার সে সময় আরও কয়েকটি পুরোনো মেয়াদহীন সরকারি বন্ডও পরিশোধের উদ্যোগ নেয়। তবে ২০১৫ সালে পরিশোধ করা ওই ব্রিটিশ সরকারি বন্ডগুলোর সঙ্গে জুম্মা লাল রুঠিয়ার ১৯১৭ সালের ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ সাবস্ক্রিপশনের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একই ঋণ হিসেবে ধরে নেওয়া সঠিক হবে না।    রুঠিয়া পরিবারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো ১০৯ বছরের পুরোনো আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা। মূল সনদের পাশাপাশি উত্তরাধিকার সম্পর্কিত নথি এবং ঋণটি পরবর্তীতে পরিশোধ বা রূপান্তরিত হয়েছিল কি না, তার রেকর্ডই দাবিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে পড়ে থাকা একটি সনদ এভাবেই এখন যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছে। রুঠিয়া পরিবার চাইছে, ১৯১৭ সালের সেই ৩৫ হাজার রুপির হিসাব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থেমেছিল, তার আনুষ্ঠানিক উত্তর দিক ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন
ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন

থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি ও আকস্মিক নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফ্লাইটটির পাইলটের শরীরে দুই দফা ডোপ টেস্টের পর মাদকজাতীয় সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ওই পাইলটের গাঁজা বা 'উইড' সেবনের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।   গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭৯ ফ্লাইটটি ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য নিয়ে ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। মাঝ আকাশে বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য আহত হন। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুই ক্রু সদস্যের ঘাড় ও মেরুদণ্ডের নিচের অংশে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। মূলত বিমানের পেছনের অংশে যেসব যাত্রী সিটবেল্ট বাঁধেননি, তারাই এই আকস্মিক পতনে বেশি আহত হয়েছেন।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না। সে সময় এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সহকারী পাইলট। বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে গেলে ককপিটের ভেতর ‘নেগেটিভ-জি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্রসহ পাইলট নিজেও কিছুটা শূন্যে ভেসে ওঠেন। পরবর্তীতে দিল্লিতে অবতরণের পর নিয়মিত পোস্ট-ফ্লাইট স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার মাদক গ্রহণের বিষয়টি ধরা পড়ে।   ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটটির দুই পাইলটকেই দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরি, পরিচালনাগত, চিকিৎসা ও মানবিক বিষয়গুলোর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ও বিপজ্জনক ঘটনা এড়াতে ফ্লাইট রেকর্ড, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
ফুকেট থেকে নয়াদিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে তীব্র ঝাঁকুনির জেরে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় | ছবি: শাটারস্টক
বিমান উড্ডয়নের পর বড় ধাক্কা, এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের মাদক পরীক্ষা

ভারতের ফুকেট থেকে নয়াদিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে তীব্র ঝাঁকুনির পর বিমানের প্রধান পাইলটের মাদক পরীক্ষার প্রাথমিক ফল নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় রোববার জানিয়েছে, পরীক্ষায় এমন ফল পাওয়া গেছে যার জন্য আরও নিশ্চিত পরীক্ষা প্রয়োজন। এ ঘটনায় ফ্লাইটটিকে গুরুতর ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।   গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজটি তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যে পড়ে। এ সময় উড়োজাহাজটি প্রায় ৯১ মিটার নিচে নেমে যায়। বিমানটিতে ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন। পরে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপদে নয়াদিল্লিতে অবতরণ করে।   অবতরণের পর আহত ১৭ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মধ্যে আটজন যাত্রী এবং চারজন কেবিন ক্রুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। ঘটনার পর বিমানের দুই পাইলটেরই মাদক বা মনঃপ্রভাবক পদার্থ ব্যবহারের বিষয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।   ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে। এরপর তার নমুনা নির্ধারিত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক পরীক্ষার ফলকে চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে না।   মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটিকে গুরুতর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো এরই মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই পাইলটকেই উড্ডয়ন দায়িত্বের তালিকা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।   মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের ফল এবং নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে পাইলটের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   এদিকে এয়ার ইন্ডিয়াও জানিয়েছে, ওই ফ্লাইটের পাইলটদের উড্ডয়ন-পরবর্তী পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফলাফল তাদের সঙ্গে ভাগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।   ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে বিমানের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যাত্রীদের ব্যাগ দেখা গেছে। আহত কয়েকজনকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তীব্র ঝাঁকুনির কারণে ফ্লাইটের ভেতরে পরিস্থিতি সামাল দিতে যাত্রী ও ক্রুদের সমস্যায় পড়তে হয়।   এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন এয়ার ইন্ডিয়া নিজেদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালে টাটা গোষ্ঠী এয়ার ইন্ডিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিমান সংস্থাটি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ এবং পুরোনো বহর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়।   তবে বিমান সরবরাহে বিলম্ব এবং ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কারণে আকাশপথ বন্ধ থাকার মতো বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে। ওই ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই এবং মাটিতে থাকা ১৯ জন নিহত হন।   বর্তমান ঘটনায় পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল নিশ্চিত করার জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ফল এবং নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫
ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সহিংসতা! তিন মাসে নিহত ২৫

ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা, ভাঙচুর ও উচ্ছেদের ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন। সংগঠনটির ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকারকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে অন্তত ২৫ মুসলিম নিহত হয়েছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এবং বাকি ১০ জন উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হামলা, গণপিটুনি ও অন্যান্য সহিংস ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ বছরের একটি শিশু এবং ১৬ বছরের এক কিশোরও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   তবে সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের ওয়েবসাইটে বর্তমানে প্রকাশিত সর্বশেষ ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার সংস্করণটি জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ সময়ের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে প্রথম চার মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত চার মুসলিম নিহত এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতায় অন্তত ১৩ মুসলিম নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি নিজেই জানিয়েছে, তাদের ট্র্যাকার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয় এবং প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য ও যাচাই করা বিভিন্ন ঘটনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।   মে ও জুন মাসে মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভাঙার ঘটনাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাত্র ৪৫ দিনে ভারতের ছয়টি রাজ্যে ২৩টির বেশি মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ জমি দখলমুক্ত করা বা সড়ক সম্প্রসারণের মতো কারণ দেখিয়েছে।   সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্তর প্রদেশ, আসাম ও জম্মু ও কাশ্মীরসহ কয়েকটি এলাকায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক, নির্যাতন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও নথিভুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনাও একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মীয় মেরুকরণ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে বলে সংগঠনটি মনে করছে।   সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইন জানিয়েছে, তাদের ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যসহ একাধিক উৎস ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। তবে সংগঠনটির নথিভুক্ত ঘটনাগুলোকে ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সব সহিংসতার পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের ২১ বছর পর নিজের স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিলেন স্বামী

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবির নগর জেলায় এক ব্যতিক্রমী পারিবারিক ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২১ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে নিজের স্ত্রীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন এক ব্যক্তি। শুধু বিয়ের আয়োজনই নয়, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রীকে বিদায়ও জানান তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে পরিবার ও স্থানীয় গ্রামপ্রধানের বরাত দিয়ে জানানো হয়, দেবরি গ্রামের বাসিন্দা ৪৫ বছর বয়সী বুদ্ধিরাম নিষাদ এবং ৩৭ বছর বয়সী ফুলমতি প্রায় ২১ বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে পাঁচ সন্তান রয়েছে। বড় সন্তানের বয়স ১৮ বছর।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ২৬ বছর বয়সী অবধেশ নামে এক যুবকের সঙ্গে ফুলমতির পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত বিরোধ শুরু হয়।   একপর্যায়ে প্রায় দুই মাস আগে ফুলমতি বাড়ি ছেড়ে অবধেশের সঙ্গে চলে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তিনি আবার বাড়িতে ফিরে এলেও দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আর স্বাভাবিক হয়নি। প্রতিদিনের পারিবারিক অশান্তি বাড়তেই থাকে।   পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় বুদ্ধিরাম শেষ পর্যন্ত ভিন্নধর্মী একটি সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, যেহেতু তার স্ত্রী অবধেশের সঙ্গেই জীবন কাটাতে চান, তাই তিনি জোর করে তাকে আটকে রাখতে চাননি। সেই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার আশরাফপুর গ্রামের একটি শিবমন্দিরে ফুলমতি ও অবধেশের বিয়ের আয়োজন করা হয়।   স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পুরো সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বুদ্ধিরাম। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি নিজেই স্ত্রীকে বিদায় জানান।   সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বুদ্ধিরাম বলেন, ২১ বছর আগে ভালোবেসে সংসার শুরু করলেও এখন তার স্ত্রী আর তার সঙ্গে থাকতে চান না। প্রতিদিনের অশান্তি ও কলহের মধ্যে জীবন কাটানোর পরিবর্তে তিনি এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে সবাই নিজের মতো জীবনযাপন করতে পারেন।   এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বুদ্ধিরামের সিদ্ধান্তকে বাস্তববাদী বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।   তবে এ ঘটনায় কোনো আইনি জটিলতার তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের পুরো প্রক্রিয়া স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় গুলিতে নিহত ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় ট্রাকচালক খুশকারানদীপ সিং | ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ ভারতীয় ট্রাকচালক গুলিতে নিহত, ৫ দিন পর বনাঞ্চল থেকে মরদেহ উদ্ধার

ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে বসবাস করা ২৪ বছর বয়সী ভারতীয় ট্রাকচালক খুশকারানদীপ সিং নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হয়েছেন। পাঞ্জাবের পাতিয়ালা জেলার আটলান গ্রামের এই তরুণের মরদেহ একটি বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   নিউ ইন্ডিয়া অ্যাব্রডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুশকারানদীপ সিং গত ৩০ জুলাইয়ের পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিষয়টি নিয়ে পরিবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে।   পরে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বনাঞ্চল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিজের গাড়িতে চলাচলের সময় তাকে গুলি করা হয়েছিল। তবে কারা তাকে গুলি করেছে কিংবা হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে গোয়েন্দারা।   খুশকারানদীপের আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুর খবর তার নিজ এলাকা পাতিয়ালার আটলান গ্রামে পৌঁছালে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।   নিউ ইন্ডিয়া অ্যাব্রডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, খুশকারানদীপের বাবা বলবিন্দর সিং ভারতের সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবারের ইচ্ছা, মরদেহ ভারতে নিয়ে গিয়ে নিজ এলাকায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা।   এদিকে উত্তর আমেরিকার পাঞ্জাবি কমিউনিটির সদস্যরা খুশকারানদীপের মরদেহ ভারতে পাঠানো, শেষকৃত্য ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে ১৩ হাজার ডলারের লক্ষ্যের বিপরীতে ১৫৮টি অনুদানে ১২ হাজার ৭৫৫ ডলার সংগ্রহ হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   অর্থ সংগ্রহের আবেদনে খুশকারানদীপকে পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি পরিবারের আর্থিক ও মানসিক সহায়তার অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে এমন সহিংস মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে খুশকারানদীপের হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, কিংবা হত্যার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। নিহত তরুণের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও পরিবারের পক্ষ থেকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট
রুশ তেল কিনে বিপাকে চীন ভারত, ১০০ শতাংশ শুল্কের বিল পাস মার্কিন সিনেট

রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটির আওতায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত, চীন, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। তবে শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। বিলটি আইনে পরিণত হলে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।   বিলটির নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’। প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর এই উদ্যোগের পক্ষে কাজ করেছিলেন।   বিলটির মূল লক্ষ্য ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আসা আয় কমানো। এর আওতায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। বর্তমানে ওই তালিকায় চীন ও ভারতের পাশাপাশি আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার নাম রয়েছে।   বিশেষ করে ভারত ও চীনের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশই রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   সিনেটে অনুমোদনের পর বিলটি এখন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে যাবে। গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে হাউসের অধিবেশন ৩১ আগস্ট পুনরায় শুরু হওয়ার কথা। সেখানে বিলটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।   তবে হাউসে বিলটির ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়। রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কংগ্রেসে ব্যাপক সমর্থন থাকলেও কিছু আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টকে নতুন ও বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন আমদানিকারক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদেরও বাড়তি খরচ বহন করতে হতে পারে।   বিলে শুধু রাশিয়ার জ্বালানির ক্রেতাদের লক্ষ্য করা হয়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ধনকুবের এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   একই সঙ্গে ১৯৯৬ সালের ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে ইরানের জ্বালানি খাতে নির্দিষ্ট ধরনের বিনিয়োগ ও লেনদনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   সিনেটে বিলটি পাস হওয়ার পর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, লিন্ডসে গ্রাহাম বেঁচে থাকলে এই অগ্রগতিতে গর্বিত হতেন। তার মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করে এমন পক্ষগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো।   তবে বিলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারত বা চীনের ওপর এখনই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়ে যায়নি। সিনেটের অনুমোদন আইন প্রণয়নের একটি ধাপ মাত্র। হাউসের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি দ্বিদলীয় বিল। ছবি: কোলাজ, আমেরিকা বাংলা
রাশিয়ার তেল কিনলে ভারতকে দিতে হতে পারে ১০০% শুল্ক, মার্কিন সিনেটে বিল পাস

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর আরও চাপ তৈরির পথে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার একটি দ্বিদলীয় বিল শুক্রবার ৮৬-১১ ভোটে পাস করেছে মার্কিন সিনেট।   বিলে রাশিয়ার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের ওপরও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রুশ তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    এই উদ্যোগে ভারতের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে ভারতের ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে আলোচনা চলছে। একই তালিকায় চীনের মতো বড় ক্রেতারাও রয়েছে।    বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তার মৃত্যুর পরও উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়া হয়। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়ানোই বিলটির অন্যতম লক্ষ্য।    সিনেটে বিলটি পাসের আগে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে দুই দলের কিছু সিনেটরের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়। রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি সংশোধনী আনলেও তা ৩২-৬৪ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়।   একই বিলের মাধ্যমে ইরানের ওপর বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞাও বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।    তবে এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। বিলটি পরবর্তী ধাপে প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর হলে তা আইনে পরিণত হবে।   আইনটি কার্যকর হলে ভারতের মতো বড় রুশ জ্বালানি ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে—এখন নজর প্রতিনিধি পরিষদ ও ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ–ভারত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদারে একমত দুই দেশ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বুধবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও উপস্থিত ছিলেন।    বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষ বিদ্যুৎ সরবরাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেন।    দুই দেশই পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করা এবং দুই দেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছে।   বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং জ্বালানি অবকাঠামোর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা চলমান রয়েছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ আমদানি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠক দুই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের আসামে বন্যায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে । ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, ২৫ জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের ২৫টি জেলায় এখনো ১১ লাখের বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রহ্মপুত্রসহ রাজ্যের একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি।    আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এএসডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শতাধিক ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।    উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় নৌকায় করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।    বন্যার প্রভাব পড়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানেও। প্রতিবছরের মতো এবারও উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বন্যপ্রাণী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণসহ বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।    আসামে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের বন্যা দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের বন্যাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন কর্মকর্তারা। আবহাওয়া বিভাগ আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ। ছবি:সংগৃহীত
মোদির ভিডিও সরানো নিয়ে মেটাকে ৩ দিনের আলটিমেটাম, জাকারবার্গের প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি ভারতের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে দেশটির সংসদের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।    বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন কমিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাকারবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হতে পারে। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারার অধীনে থাকা এই সুরক্ষা বাতিল হলে ব্যবহারকারীদের পোস্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মেটাকে সরাসরি আইনি দায়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।    ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া একটি ভিডিও ফেসবুকে সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর। সমালোচনার মুখে ভিডিওটি দ্রুত পুনরায় চালু করা হলেও মেটা জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হয়েছিল এবং পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও সংসদীয় কমিটি সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি।    সংসদীয় কমিটি ঘটনাটিকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত ভুল নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছে। কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি দেশের নির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই এ ধরনের ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।    একই বৈঠকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অনলাইন কনটেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়েও মেটা, গুগল, ইউটিউব, এক্স ও স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সতর্ক করা হয়। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই
পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই: শাহরিয়ার কবির

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বা দেশীয় আইনে কোনো বিশেষ অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির। সম্প্রতি ভারতে শেখ হাসিনার বর্তমান আইনি অবস্থান এবং সেখানে বসে তার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই দাবি করেন।   এই বিশ্লেষকের মতে, ভারতে বর্তমানে শেখ হাসিনা ঠিক কী পরিচয়ে বা আইনি মর্যাদায় অবস্থান করছেন, তা একেবারেই অস্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় (পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম) নেননি। এমনকি তিনি কোনো নির্দিষ্ট ভিসার অধীনে সেখানে অবস্থান করছেন কি না বা তিনি ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো রাষ্ট্রীয় অতিথি কি না—সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   শাহরিয়ার কবির তার বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় না নিয়ে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে এভাবে অন্য একটি দেশে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াটা প্রচলিত আন্তর্জাতিক রীতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে উল্লেখ্য যে, এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে ওই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও দাবি। ভারতে শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান বা আইনি মর্যাদা নিয়ে ভারতের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
মানহীন হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
মানহীন হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

ভারত থেকে আমদানিকৃত চালের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা প্রায় ১১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চালের একটি বিশাল চালান মানহীন হওয়ায় তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ঢাকা। এই ঘটনার জেরে প্রতিবেশী দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।   জানা গেছে, নিয়ম মেনে চালের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক পরীক্ষায় সেটি খাওয়ার উপযোগী হিসেবে ছাড়পত্র পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বিস্তারিত ও নিবিড় পরীক্ষায় দেখা যায়, চালের মান নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। এর ফলে চালানটির মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল খালাস করার পর বাকি অংশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো চালানটিই ভারতে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক একটি টেন্ডারের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানির স্টক থেকে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই চালগুলো বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। বাণিজ্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, চালের মানহীনতার পাশাপাশি বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগত জটিলতা বা সাময়িক সিদ্ধান্তহীনতার কারণেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, এই ঘটনাটি ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
Indian Prime Minister Narendra Modi and Sheikh Hasina
শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে সরকারের ভূমিকা নেই: ভারত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশটির সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা বা সম্পৃক্ততা নেই।    মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যের অনুষ্ঠানটি ভারত সরকারের নয়, একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজন করছে। ফলে এ আয়োজনে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।    আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCCSA)-এর একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার সরকারের পতনের পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য হতে পারে।    এর আগে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে জানতে চেয়েছিল, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই ভার্চ্যুয়াল রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রতি নয়াদিল্লির সমর্থন রয়েছে কি না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছিলেন, কোনো পলাতক ব্যক্তি যদি অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তাহলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।    ভারতের সর্বশেষ বক্তব্যের মাধ্যমে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিল, শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি উদ্যোগ এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের রুট নজরদারির অভিযোগে সন্দেহভাজন একটি গুপ্তচরবৃত্তি চক্রের তদন্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি নজরদারির অভিযোগে জইশ-ই-মোহাম্মদের সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেপ্তার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের তথ্য সংগ্রহ এবং কথিত জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম)–সংশ্লিষ্ট একটি গুপ্তচর চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।   সোমবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডল ও তার সহযোগী অর্পিতা সরকারের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এ নিয়ে এই মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের দাবি, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যর পরিচয় হয়। পরে তাকে কথিত গুপ্তচর নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে মূল হোতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন।   পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রধান অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের রুট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধির তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী সংস্থা। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য সরকার তার জন্য একটি বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ির ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   তবে এখন পর্যন্ত জইশ-ই-মোহাম্মদ, আইএসআই কিংবা গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
মহারাষ্ট্রে বন্যার পানির স্রোতে গাড়ি নদীতে ভেসে গিয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
গাছে ঝুলে প্রাণে বাঁচলেন স্বামী, স্রোতে ভেসে গেল স্ত্রী ও দুই মেয়ে

ভারতের মহারাষ্ট্রে প্রবল বন্যার পানির স্রোতে একটি গাড়ি নদীতে ভেসে গেলে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গাড়িতে থাকা বাবা অভিনাশ খান্দারে শেষ মুহূর্তে একটি গাছ আঁকড়ে ধরে প্রাণে বাঁচলেও তার স্ত্রী ও দুই ছোট মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শুক্রবার তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল।   ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের আহিলইয়ানগর জেলায় যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয় পরিবারটি। ওই এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে কুপ্তি নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায় এবং নদীর ওপরের সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়।   প্রাথমিকভাবে সেতুর ওপর কতটা পানি রয়েছে এবং স্রোতের তীব্রতা কতটা—তা বুঝতে পারেননি গাড়িচালক। ফলে গাড়িটি সেতুর ওপর উঠতেই প্রবল স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর মাঝামাঝি ভেসে যায়।   এ সময় অভিনাশ খান্দারে দ্রুত গাড়ি থেকে বের হয়ে একটি গাছের ডাল আঁকড়ে ধরতে সক্ষম হন। তবে তার স্ত্রী ও দুই কন্যা গাড়িসহ স্রোতে ভেসে যান। অসহায়ভাবে তাদের ভেসে যেতে দেখা ছাড়া তার আর কিছুই করার ছিল না।   খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। সারারাত তল্লাশি চালানোর পর শুক্রবার নদী থেকে ওই নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভারী বর্ষণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বন্যা ও আকস্মিক পানির স্রোতে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে এবং জলাবদ্ধ বা তলিয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন সেনাকে বিয়ে করে দুই মাসেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন ভারতীয় নারী। ছবি: সংগৃহীত
'দুই মাসেই পেয়েছি গ্রিন কার্ড', মার্কিন সেনাকে বিয়ে করা ভারতীয় নারীকে ঘিরে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক সেনাসদস্যকে (ইউএস আর্মি ভেটেরান) বিয়ে করার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক ভারতীয় নারী। তিনি দাবি করেন, সামরিক সদস্যের জীবনসঙ্গী হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।   ভিডিওতে ওই নারী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যের স্ত্রী হিসেবে তিনি দ্রুত গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। তার ভাষ্য, সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য বিদ্যমান কিছু প্রশাসনিক সুবিধার কারণেই আবেদনটি স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে।   ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, তিনি বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি প্রদর্শন করছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, সাধারণ অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার বাস্তবতার সঙ্গে তার অভিজ্ঞতার মিল নেই।   অন্যদিকে অনেকেই ওই নারীর পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের মতে, তিনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এবং কোথাও দাবি করেননি যে সবার ক্ষেত্রেই একই সময়ে গ্রিন কার্ড পাওয়া সম্ভব। তাই তাকে সমালোচনা করা অযৌক্তিক।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তির সময় আবেদনকারীর ক্যাটাগরি, নথিপত্রের সম্পূর্ণতা, নিরাপত্তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সুবিধা বা দ্রুত প্রক্রিয়া থাকলেও, তা সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   ভিডিওটি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা, সামরিক পরিবারের জন্য বিদ্যমান সুবিধা এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার বৈষম্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যন্তর মন্তরের শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে ভিডিও বার্তা দিলেন মোদি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তবে ঘটনার জেরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এক নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে গত ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়।   ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা গোটা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও তারা অপমান করেছে।” ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “গালিগালাজ করে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের সঠিক পথ দেখাই। সবাই মিলে ভারতের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করি।” তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পক্ষে নন বলেও জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, তরুণ বয়সে মানুষ ভুল করতে পারে এবং সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকা উচিত।   মোদি বলেন, “সমাজে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা আমি বুঝি। কিন্তু এই তরুণদের দূরে ঠেলে দেওয়া বা আদালতে টেনে হয়রানি করা কোনো সমাধান নয়। এরা আমাদেরই সন্তান। ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।” ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিও তাদের প্রতি সহনশীল ও উদার মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানান।   এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নোয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে শান্তিভঙ্গের উসকানি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মানহানির বিষয় রয়েছে। পরে জিরো এফআইআরের বিধান অনুযায়ী মামলাটি তদন্তের জন্য দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হস্তান্তর করা হয়।   অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষার শালীনতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং আইন প্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমার আহ্বানও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে।   শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের নীতি হলো, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।   এই অবস্থান এমন সময়ে জানানো হলো, যখন সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।   শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা বা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তারিখ জানানো হয়নি।   এদিকে একই বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সদস্যদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সেবা সীমিত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।   উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করে ভারত। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ভিসা সেবাও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার অবস্থান, প্রত্যর্পণ অনুরোধ এবং ভিসা কার্যক্রম এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নরেন্দ্র মোদির নামে ছড়িয়ে পড়া কথিত পদত্যাগপত্রকে ভুয়া বলেছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল মোদির ‘পদত্যাগপত্র’, যা জানা গেল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি কথিত পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই নথিতে দাবি করা হয়, ‘ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার’ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে ভারত সরকার এটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে।   ভারতের সরকারি তথ্যসংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ইউনিট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জারি করা হয়নি। এতে ব্যবহৃত স্বাক্ষরও নরেন্দ্র মোদির প্রকৃত স্বাক্ষর নয়। পিআইবি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলেছে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাক্ষর করা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো চিঠি জারি করেননি এবং এতে তার কোনো স্বাক্ষরও নেই।”   ভাইরাল নথিতে ভারতের জাতীয় প্রতীক অশোক চক্র এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের মতো একটি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে এমনভাবে ভাষা ব্যবহার করা হয়, যাতে এটি সরকারি নথি বলে মনে হতে পারে। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি জাল নথি এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। পিআইবি জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে, এ ধরনের কোনো নথি বা দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার আগে অবশ্যই সরকারি উৎস থেকে তথ্য যাচাই করতে হবে। সংস্থাটি বলেছে, ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করাই দায়িত্বশীল আচরণ।   এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একাধিক ভুয়া ভিডিও ও ভুয়া নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস–সংক্রান্ত বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তার নামে একটি এআই-নির্মিত ভিডিওও ভাইরাল হয়েছিল। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। পরে পিআইবি জানায়, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।   ভুয়া তথ্য ও এআই-নির্মিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সিদ্ধান্ত, নির্বাচন বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ভুয়া নথি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননাবিরোধী বিল নিয়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননায় সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, রাজ্যসভায় নতুন বিল পাস

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অবমাননা করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনতে নতুন আইন প্রণয়নের পথে এগিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ লক্ষ্যে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বুধবার (২৯ জুলাই) রাজ্যসভায় কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।   এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর ওয়াকআউটের মধ্যেই বিলটি পাস হয়। এখন এটি লোকসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে বিলটি আইনে পরিণত হবে।   বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় রাজ্যসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী সদস্যরা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাজধানীতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভ চললেও স্পিকার অধিবেশন চালিয়ে যান এবং সদস্যদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।   পরে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে বিলটির পক্ষে বক্তব্য দিতে উঠলে বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করে। বিলের জবাবি বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সম্মান এবং ‘বন্দে মাতরম’-কে অপমান করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু বিপ্লবী ও স্বাধীনতাসংগ্রামী মৃত্যুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করেছিলেন।   তিনি আরও বলেন, ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্ব অপরিসীম। কংগ্রেস কেন এ সংগীতের বিরোধিতা করছে, তা তার বোধগম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত সংশোধনী আইনে ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-সহ জাতীয় প্রতীকগুলোর অবমাননা বা অসম্মানকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   আইনটি কার্যকর হলে এসব জাতীয় প্রতীক অবমাননার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এর আগে গত ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা প্রদান করা।   সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   তবে বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর এটি লোকসভার অনুমোদন এবং পরে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নতুন আইন কার্যকর হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০