যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভেতরে পরিচালিত এক দুঃসাহসিক সামরিক উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দিয়েছেন, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমেরিকা কখনো তার কোনো সন্তানকে পেছনে ফেলে আসে না।”
গত শুক্রবার রাতে ইসফাহান-এর দক্ষিণে একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিমানটির পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এক কর্নেল—যার কল সাইন ছিল “ডিউড ব্র্যাভো ৪৪”—শত্রুপূর্ণ এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
ট্রাম্প জানান, ওই কর্নেল একা হাতে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যান। হাতে ছিল কেবল একটি হ্যান্ডগান, আর বিপরীতে ছিল ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী-এর সদস্যরা। তল্লাশিতে কুকুরও ব্যবহার করা হয়, কিন্তু তিনি কৌশলে স্থান পরিবর্তন করে পাহাড়ের দিকে উঠে যান এবং একটি পাথরের খাঁজে আশ্রয় নেন। রক্তক্ষরণ চললেও তিনি নিজেই প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর তিনি রেডিওতে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান—“God is good”। প্রথমে এই বার্তাকে সন্দেহজনক মনে হলেও পরে নিশ্চিত হওয়া যায় এটি ওই কর্নেলেরই পাঠানো সংকেত। এরপরই শুরু হয় পূর্ণমাত্রার উদ্ধার অভিযান।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অভিযানে মোট ১৫৫টি সামরিক বিমান অংশ নেয়, যার মধ্যে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী এবং উদ্ধারকারী বিমান ছিল। জন র্যাটক্লিফ বলেন, সিআইএ বিভ্রান্তিমূলক কৌশল ব্যবহার করে ইরানি বাহিনীকে বিভ্রান্ত রাখে এবং উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় কর্নেলের অবস্থান শনাক্ত করে।
অভিযানের শেষ পর্যায়ে একটি কৃষিজমিতে হেলিকপ্টার নামিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। তবে ভেজা বালিতে বিমান আটকে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবুও বিকল্প পরিকল্পনা ব্যবহার করে সফলভাবে কর্নেলকে উদ্ধার করা হয়। বিস্ময়করভাবে, পুরো অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা প্রাণ হারাননি, যদিও একটি হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।
ড্যান কেইন, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, বলেন—এই অভিযানের সাফল্যের মূল ছিল ওই কর্নেলের বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তি। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পুরো ঘটনাকে ইস্টার উইকেন্ডের সঙ্গে মিলিয়ে এক আবেগঘন বিবরণ দেন।
এই অভিযানকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও সাহসী উদ্ধার অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি শুধু একটি সামরিক সাফল্য নয়—বরং একটি বার্তা, “আমরা কাউকে ফেলে আসি না।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যা দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকে দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খামেনির পর জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আলী লারিজানি এবং আলী শামখানি-ও পৃথক হামলায় নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সামরিক নেতৃত্বেও একের পর এক ক্ষতি হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়া আব্দোলরাহিম মুসাভি-ও একই পরিণতির শিকার হন। পাশাপাশি খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদ নিহত হওয়ায় যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় বড় ধাক্কা লাগে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-এর নেতৃত্বেও বড় ক্ষতি হয়েছে। বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি এবং তাঁর উত্তরসূরি মোহাম্মদ পাকপোর নিহত হন। এতে বাহিনীর স্থল, নৌ ও মহাকাশ—তিনটি শাখাই দুর্বল হয়ে পড়ে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ নিহত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে। নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হওয়ায় পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতিও দুর্বল হয়েছে। গোয়েন্দা কাঠামোতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হওয়ায় গোটা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয় সংকট তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের পর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কর্মসূচির অগ্রগতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মূল ব্যক্তি কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর কুদস ফোর্সের নেটওয়ার্কেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং ইরানের সামরিক কমান্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত করছে—আধুনিক যুদ্ধ এখন কেবল ময়দানে নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব তৈরি, নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা।
৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ জয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। সোমবার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এর আগে কোনো মানুষ পৃথিবী থেকে এত দূরে ভ্রমণ করেনি। বুধবার চাঁদের কক্ষপথ থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নভোচারীরা তাদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানান। মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফেরার পথে তারা চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) এবং একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছেন। নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন জানান, খালি চোখে চাঁদের পৃষ্ঠ দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৮ সালে মানুষকে পুনরায় চাঁদের বুকে নামানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে তাদের এই ওরিয়ন ক্যাপসুল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে এবার এক নজিরবিহীন ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের দাপট বজায় রাখতে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর বিটকয়েনে টোল বা মাশুল আরোপ করেছে তেহরান। সংবাদ মাধ্যম ‘আনচেইনড ক্রিপ্টো’র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এই কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা এতটুকু কমেনি। উল্টো ইরান ঘোষণা করেছে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য এখন থেকে প্রতিটি তেলবাহী ট্যাংকারকে বিটকয়েন বা ডিজিটাল মুদ্রায় মাশুল দিতে হবে। ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানিকারক ইউনিয়নের মুখপাত্র হামিদ হোসেনি জানিয়েছেন, প্রতিটি জাহাজকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে ১ ডলার হারে মাশুল দিতে হবে। একটি বিশালাকার তেলবাহী জাহাজ (VLCC) সাধারণত ২০ লক্ষ ব্যারেল তেল বহন করে। সেই হিসেবে একটি জাহাজকেই প্রায় ২০ লক্ষ ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন পরিশোধ করতে হবে। তবে খালি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো ফি প্রযোজ্য হবে না। বিশ্লেষকরা ইরানের এই পদক্ষেপের পেছনে তিনটি মূল কারণ দেখছেন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানো: ডলার বা সুইফট (SWIFT) সিস্টেমে লেনদেন করলে যুক্তরাষ্ট্র তা সহজেই আটকে দিতে পারে। বিটকয়েন ব্যবহারে সেই ঝুঁকি নেই। নিরাপত্তা ও অস্ত্র চোরাচালান রোধ: ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে কেউ যাতে অবৈধভাবে অস্ত্র পাচার করতে না পারে, সেজন্য তারা প্রতিটি জাহাজে কঠোর তল্লাশি চালাবে। আর্থিক সার্বভৌমত্ব: নিজস্ব ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান বিশ্ব বাজারে নিজেদের আর্থিক ক্ষমতার জানান দিতে চাইছে। ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি ‘মার্স্ক’ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে ইরান রেডিও বার্তার মাধ্যমে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অনুমতি এবং ডিজিটাল টোল ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জাহাজ হরমুজ প্রণালীর বাইরে অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান ক্রিপ্টোকারেন্সিকে এখন কেবল মুদ্রা হিসেবে নয়, বরং একটি ‘ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।