মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ ইরান যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোয় এই আহ্বান জানানো হয়েছে। রয়টার্স ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা ওয়াশিংটনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ জনমত এবং তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে তিনি এখন একটি সম্মানজনক প্রস্থান বা যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সামরিক শক্তির চেয়ে এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন জরুরি। তারা মনে করছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হবে, যা এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থান কিছুটা নরম করেছে বলে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, যদি তাদের ওপর থেকে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়, তবে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে প্রস্তুত রয়েছে। তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা এখনও যুদ্ধের ময়দানে শক্তি প্রদর্শনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন না করে সরে আসলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব ম্লান হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি। সাধারণ আমেরিকানরা এখন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হতে পারে। বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। যুদ্ধের এই দামামা শান্ত হয়ে পৃথিবীতে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে কি না, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। তেল দখলের ছক ও ভেনেজুয়েলা মডেল সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের রণকৌশল তুলে ধরে বলেন, “আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ নেব, আবার হয়তো নেব না। তবে আমাদের সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করতে হতে পারে।” তিনি এই সামরিক অভিযানকে বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে ওয়াশিংটন দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। ১০ হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রস্তুতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য প্রায় ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০ মেরিনসহ সাড়ে তিন হাজার কর্মী সেখানে পৌঁছেছেন এবং আরও কয়েক হাজার সদস্য বর্তমানে পথে রয়েছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খারগ দ্বীপ দখল করতে পারলে ইরান তার তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষমতা হারাবে, যা তেহরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে। ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু ও আল্টিমেটাম ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং আরও ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু তাঁদের নিশানায় রয়েছে। তিনি তেহরানকে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলীতে রাজি হওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের অবশিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও মোজতবা খামেনি প্রসঙ্গ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, শুরুর দিকের হামলায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর তেহরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ঘটছে। তিনি পুনরায় দাবি করেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত মৃত অথবা গুরুতর আহত। ট্রাম্পের ভাষায়, “ছেলেটি হয় মারা গেছে অথবা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা তার কাছ থেকে কোনো খবরই পাচ্ছি না।” যদিও তেহরান এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে যে তাদের নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ ও নিরাপদ রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ‘ইরানি উপহার’ সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তানের ‘দূতদের’ মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান ‘উপহার’ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০-এ উন্নীত করেছে। ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই অনুমতি দিয়েছেন বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন। সূত্র: এনডিটিভি
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা শুরুর পরপরই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। এরপর থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি পুনরুদ্ধারে সফল হননি। তবে এখন তিনি বিষয়টি নিয়ে আর আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সোমবার (৩০ মার্চ) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে তিনি দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত চালিয়ে যেতে অনিচ্ছুক—এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও। তবে তার এই অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো। তাদের মতে, প্রণালি বন্ধ রেখেই পরিস্থিতি ছেড়ে দেওয়া মানে কার্যত পরাজয় স্বীকার করা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা—প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে তা নির্ধারিত সময়সীমা (চার থেকে ছয় সপ্তাহ) ছাড়িয়ে যেতে পারে। দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে জড়াতে চান না ট্রাম্প। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দুর্বল করার মতো প্রধান লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে। তাই এখন সংঘাত ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার দিকেই ঝুঁকছে ওয়াশিংটন। পরবর্তী ধাপে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে প্রণালি খুলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্রদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাপ দেওয়া হতে পারে। বর্তমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি একটি কেন্দ্রীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। মাইন পাতা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরান এই পথটি কার্যত অচল করে রেখেছে। অথচ বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালি বন্ধ থাকায় গত এক মাসে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ৬ এপ্রিলের মধ্যে পথটি খুলে না দিলে জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে। অন্যদিকে, ইরান এসব আহ্বান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করেছে। বরং গত এক মাসে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য পূরণের কাজ শিগগিরই শেষ হবে। এরপর হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায় এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা পড়ে—সেদিকেই এখন নজর সবার।
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের ব্যয় বহনে আরব দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। রোববার (৩০ মার্চ) ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিভিট বলেন, ইরান যুদ্ধের ব্যয় ভাগাভাগি করার ধারণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে রয়েছে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বক্তব্য আসতে পারে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরব দেশগুলোকে এই ব্যয় বহনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাতে প্রেসিডেন্ট আগ্রহী হতে পারেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ভিনদেশে আগ্রাসন চালানোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে বেশি মনোযোগী হওয়া। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলঘেঁষা নীতির কারণে খোদ আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যেই চরম অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনই প্রমাণ করে যে মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ তাদের দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের উচিত ট্রাম্পকে এই সত্য জানানো যে, সাধারণ আমেরিকানরা নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি আর মেনে নিতে পারছে না। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম অবিশ্বাসের কারণে ইরান এখনো আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়নি। সূত্র: তাসনিম নিউজ
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের শঙ্কা প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবিলম্বে ইরান যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) কায়রোতে আয়োজিত 'ইজিপ্ট এনার্জি শো-২০২৬' সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল ট্রাম্পই পারেন উপসাগরীয় অঞ্চলের এই সংঘাত বন্ধ করতে। সিসি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া মোটেও অতিরঞ্জিত কিছু নয়। সিসি বলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলছি—দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ এই যুদ্ধ থামাতে পারবে না।" তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, জ্বালানি অবকাঠামো ও শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির 'দ্বৈত ধাক্কা' লাগবে। ধনী দেশগুলো এই ধাক্কা সামলাতে পারলেও মধ্যম আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্থিতিশীলতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সম্মেলনে সিসি আরও মনে করিয়ে দেন যে, গত নভেম্বরে শার্ম আল-শেখে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের একক ভূমিকা ছিল। এছাড়া জিসিসি মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: রয়টার্স ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটোও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে কোনো ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার কেবল তার নাগরিক, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিলেও কোনোভাবেই সরাসরি যুদ্ধে ‘টেনে হিঁচড়ে’ জড়াতে চায় না। তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত কিছু সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালির হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তারা। এছাড়া ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মিত্রহীন ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বড় কোনো অভিযানে সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন হয়। সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধের অবসানে সরাসরি চুক্তিতে আসার জন্য কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের একটি ‘নতুন এবং আরও যুক্তিবাদী’ গোষ্ঠীর সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে। তবে যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয় এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং কৌশলগত খারগ দ্বীপ উড়িয়ে দিয়ে দেশটিকে 'নিশ্চিহ্ন' করে দেবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন, এর আগে ইরানকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু স্থানে আঘাত করা থেকে বিরত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত ৪৭ বছরের ‘সন্ত্রাসের রাজত্বে’ মার্কিন সেনা ও নাগরিকদের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার জন্য তেহরানের হাতে মাত্র ১০ দিন সময় আছে। উল্লেখ্য, এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন হাজার মার্কিন নৌসেনা ইউএসএস ত্রিপোলিতে চড়ে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন এই হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকা আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় মুহূর্তে মিসর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবিতে জানিয়েছেন, ইরান 'সম্মানের নিদর্শন' হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ২০টি বিশাল তেলবাহী জাহাজ পাঠাচ্ছে। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ মার্চ) ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য দেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে এই তেলের বহর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, “আজ তারা আমাদের একটি উপহার দিয়েছে। ঠিক কীভাবে এটি সংজ্ঞায়িত করব জানি না, তবে সম্মানের নিদর্শন হিসেবে ২০টি বড় তেলের জাহাজ পাঠাচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের বর্তমান 'নতুন নেতৃত্ব' অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছে এবং তাদের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের বিশ্বাস, দুই দেশের মধ্যে খুব দ্রুতই একটি বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। যদিও এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল, তবে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী তেহরান এখন প্রস্তাবের বেশিরভাগ পয়েন্ট মেনে নিয়েছে। নিজের আন্তরিকতা প্রমাণের জন্যই ইরান এই বিশাল তেলের চালান পাঠাচ্ছে বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এই নাটকীয় বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি চাইলে ইরানের বিশাল তেলের ভাণ্ডার এবং দেশটির প্রধান তেল হাব ‘খারগ দ্বীপ’ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের তেল দখল করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যতম বিকল্প। ট্রাম্পের মতে, দ্বীপটি দখল করা হবে অত্যন্ত সহজ কারণ সেখানে তেমন কোনো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে, এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানে ইতিবাচকভাবে ‘সরকার পরিবর্তন’ বা রেজিম চেঞ্জ সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাষায়, আগের সরকারের শীর্ষ নেতারা প্রায় সবাই মারা গেছেন এবং এখন যারা পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন তারা বেশ যুক্তিসঙ্গত আচরণ করছেন। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকেও তিনি একই সুরে বলেছিলেন যে, আগের নেতাদের হঠানোর মাধ্যমেই সরকার বদল হয়ে গেছে এবং ইরান এখন আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে আসতে পারে। তবে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও সাড়ে তিন হাজার মার্কিন সেনা পৌঁছেছে। খারগ দ্বীপ দখলের হুমকিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং প্রধান তেল টার্মিনাল। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপটি হাতছাড়া হলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এদিকে কুয়েতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় একজন ভারতীয় কর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা
ইরানের তেলসমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র–এর এই নেতা জানিয়েছেন, দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের তেল সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। তার ভাষায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইরানের তেল দখলে নেওয়ার পক্ষে, যদিও এমন উদ্যোগ নিলে নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে। খার্গ দ্বীপ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যেতে পারে, আবার চাইলে সেখানে সাময়িকভাবে অবস্থানও করা সম্ভব—এমন ইঙ্গিত দেন তিনি। দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প দাবি করেন, সেখানে ইরানের প্রতিরক্ষা খুব শক্তিশালী নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সহজেই নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। উল্লেখ্য, ইরান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেলসমৃদ্ধ দেশ। বিবিসি–এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রমাণিত তেল মজুদ প্রায় ২০৮ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বৈশ্বিক মজুদের বড় একটি অংশ। ভেনেজুয়েলা ও সৌদি আরবের পর এ ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান তৃতীয়। দেশটির অর্থনীতি মূলত তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং এর বড় অংশ রপ্তানি হয় চীন–এ। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপ ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে এবং হরমুজ প্রণালি থেকে উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৫ বর্গমাইল। এখান থেকেই ইরানের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস বিদেশে পাঠানো হয়। কৌশলগত দিক থেকেও দ্বীপটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তথ্যসূত্র: বিবিসি
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি আজ রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা যদি ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের 'পারস্য উপসাগরের হাঙরের খাবারে' পরিণত হতে হবে। বিবৃতিতে জোলফাগারি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন 'অস্থির ও মিথ্যাবাদী' নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন যে, ট্রাম্প বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের 'পুতুলে' পরিণত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের মৃত্যু বা বন্দিত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়। একই সময়ে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিঙ্কন' যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি তেহরানের। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক সরাসরি ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে হামলা এবং অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ স্লোগানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে ফিলাডেলফিয়া শহরের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের বড় সমাবেশ। আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের তিন হাজারের বেশি শহরে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এটি দেশটির ইতিহাসে একদিনে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন মুভঅন–এর নির্বাহী পরিচালক কেটি বেথেল বলেন, “আমাদের সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নামছেন, কারণ তারা একটি ভালো ভবিষ্যতে বিশ্বাস করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রম দেখে তারা আর নীরব থাকতে পারছেন না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন দেশের ভেতরে ও বাইরে এমন নীতি গ্রহণ করছে, যা জনগণের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আয়োজকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এবং সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিবাদ থেকেই ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সূচনা। অন্যদিকে, অতীতে এই আন্দোলন নিয়ে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপহাস করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে এআই-নির্ভর মিমে ট্রাম্পকে মুকুট পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়। ট্রাম্প নিজেও একটি কাল্পনিক ছবি শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তাকে ‘কিং ট্রাম্প’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ নীতির সমালোচনাকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ভবিষ্যতে নিজের উত্তরাধিকার হিসেবে একজন ‘শান্তির দূত’ হিসেবে পরিচিত হতে চান। শনিবার (২৮ মার্চ) এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমি চাই ইতিহাসে আমার নাম একজন মহান শান্তির দূত হিসেবে লেখা থাকুক।" বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় বিষয়টি সাংঘর্ষিক মনে হলেও, তিনি নিজেকে মনেপ্রাণে একজন শান্তিস্থাপক বলে দাবি করেন। তবে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তির কথা বললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানে অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানে আঘাত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান এক সময় শক্তিশালী দেশ থাকলেও বর্তমানে তারা সেই সামর্থ্য হারিয়েছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ এখনো চলছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকেই শেষ করতে হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান যুদ্ধে জয় ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। সরাসরি বিজয় ঘোষণা না করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই লড়াইয়ে আমেরিকা জয়ী হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আবারও বড় আকারে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে লাখো মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নজির হতে পারে। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৩,২০০-এর বেশি কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রধানত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। ‘৫০৫০১’ নামক সংগঠনের সমন্বয়ক সারা পার্কার জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানে ‘অবৈধ’ যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষ এখন চরম ক্ষুব্ধ। সাম্প্রতিক এক জরিপেও দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় অধিকাংশ ভোটার অসন্তুষ্ট। এই আন্দোলনের পেছনে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন ও পাবলিক সিটিজেনের মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলো কাজ করছে। এর আগে গত অক্টোবরে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। পাবলিক সিটিজেনের সহ-প্রধান লিসা গিলবার্ট বলেন, “এটি কোনো দলীয় বিষয় নয়, বরং দেশপ্রেমের প্রশ্ন। আমরা স্পষ্ট করতে চাই যে, আমেরিকায় কোনো রাজা নেই।” উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ট্রাম্পের জন্মদিনে সামরিক কুচকাওয়াজ আয়োজনের প্রতিবাদে প্রথম ‘নো কিংস’ আন্দোলন শুরু হয়। সে সময় ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই তাদের দাবি জানিয়ে যাবেন। আজকের এই গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নতুন সব কাগজের মুদ্রায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর স্বাক্ষর যুক্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক ঘোষণায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন ডলারের নোটে কেবল অর্থমন্ত্রী ও কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর থাকলেও, কোনো ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর যুক্ত করার ঘটনা এই প্রথম হতে যাচ্ছে। ট্রেজারি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নোটে ট্রাম্পের পাশাপাশি ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট-এর স্বাক্ষরও থাকবে। এ বিষয়ে বেসেন্ট বলেন, ট্রাম্পের নামাঙ্কিত মুদ্রার মাধ্যমে দেশের ঐতিহাসিক অর্জনকে তুলে ধরার চেয়ে শক্তিশালী উপায় আর হতে পারে না। অন্যদিকে, মার্কিন কোষাধ্যক্ষ ব্র্যান্ডন বিচ এই সিদ্ধান্তকে “যথাযথ” ও “প্রাপ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিজের নাম ও প্রতিকৃতি যুক্ত করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। এর আগে ভ্যানিটি ফেয়ার প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। উল্লেখ্য, মার্কিন কাগুজে মুদ্রা তৈরির দায়িত্বে রয়েছে ব্যুরো অফ এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিং।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিলেও একই সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে করে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই বাহিনীতে পদাতিক সেনা ও সাঁজোয়া যান থাকতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৫ হাজার মেরিন সেনা এবং প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপারকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। নতুন করে আরও সেনা যোগ হলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে। একদিকে শান্তি আলোচনার বার্তা, অন্যদিকে যুদ্ধ প্রস্তুতি—এই দ্বিমুখী কৌশল পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তা নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি ইরানকে ‘দক্ষ আলোচক, কিন্তু দুর্বল যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যেখানে ধারণা করা হয়েছিল ইরান কয়েক সপ্তাহ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, সেখানে বাস্তবে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: আল–জাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চমকপ্রদ দাবি করে বলেছেন, ইরানের নেতারা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান দলের এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে এমন একটি প্রস্তাব তার কাছে এসেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে তিনি তা গ্রহণ করেননি এবং স্পষ্টভাবে না বলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনা এগোচ্ছে এবং একটি সমঝোতার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে এবং তেহরান এখন আলোচনায় আগ্রহী। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে তারা প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এসব দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে ইরান। দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় তারা নেই এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো চুক্তির সম্ভাবনা নেই। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজেদের সঙ্গে আলোচনা করছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন। এদিকে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তেহরানে একটি ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হিজবুল্লাহসহ আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তেহরান নিজস্ব পাঁচ দফা পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে, যুদ্ধ বা উত্তেজনার অবসান হলে তা ইরানের শর্তেই হবে। সূত্র জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অবস্থান এখনো অনেক দূরে থাকায় সমঝোতার পথ অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান কংগ্রেশনাল কমিটির এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, প্রকাশ্যে ইরানি নেতারা আলোচনা প্রত্যাখ্যানের কথা বললেও বাস্তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী, তবে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছে। তার মতে, ইরানি নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে—এটি স্বীকার করলে তাদের নিজ দেশের জনগণের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানি নেতারা শুধু অভ্যন্তরীণ চাপই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছে। এই বক্তব্য নতুন করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এখন “শেষের পথে” বলে মন্তব্য করেছেন মাইক জনসন। বুধবার মার্কিন গণমাধ্যমকে হাউস স্পিকার বলেন, আমি মনে করি আমরা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ গুটিয়ে আনছি। এটি দ্রুত শেষ হবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলছে। মাইক জনসনের এই মন্তব্য এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর এক বক্তব্যের পর। ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন ইরানের ‘সঠিক ব্যক্তিদের’ সঙ্গে সংলাপ চালাচ্ছে, যারা চুক্তি করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবকে ‘বাড়াবাড়ি’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অবস্থার মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক সমাধান নিয়েই মূলত আলোচনা তীব্র হয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।