- প্রচ্ছদ
- Topic
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও তা গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি বলেন, জাহাজটি সমুদ্রে যে সময় কাটিয়েছে, তা “যথেষ্ট দীর্ঘ নয়।” একই সঙ্গে তিনি জানান, শিগগিরই অন্য একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নেবে। শুক্রবার নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পের কাছে জাহাজটিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি উদ্বেগের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন বহনকারী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন কয়েক মাস ধরে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ২৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টানা সমুদ্রে রয়েছে। কোনো বন্দরে না থেমে ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে থাকার ঘটনাও আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। দীর্ঘ এই ডিপ্লয়মেন্ট নিয়ে নাবিকদের পরিবার এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে জাহাজের কয়েকজন সদস্যের গুরুতর মানসিক সংকটে পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। একজন নাবিক সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে মার্কিন নৌবাহিনী বলছে, জাহাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য তাদের কাছে নেই। জাহাজের খাবার, পানি, স্যানিটেশন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ বলেছেন, দীর্ঘদিন বন্দরে ভিড়তে না পারায় ক্রুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বেড়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদনের বড় অংশকে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পও একই অবস্থান নিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আব্রাহাম লিংকন “যথেষ্ট দীর্ঘ সময়” সেখানে ছিল না। নাবিকদের পরিবার উদ্বিগ্ন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার জানা মতে তারা উদ্বিগ্ন নয়। তিনি আরও জানান, জাহাজটি শিগগিরই ফিরিয়ে আনা হবে এবং তার জায়গায় আরেকটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পাঠানো হচ্ছে। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। জাহাজটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে এটি ভিয়েতনামের দা নাং বন্দরে অবস্থান করেছিল। আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান ডিপ্লয়মেন্ট শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে। প্রথমে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছিল। পরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও এটি আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অপারেশন এলাকায় মোতায়েন ছিল। দীর্ঘ ডিপ্লয়মেন্টের পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য, খাবার, স্যানিটেশন এবং সামগ্রিক কর্মপরিবেশ সম্পর্কে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। তারা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ফলে সামরিক সদস্যদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেটিও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধরনের নিমিৎজ শ্রেণির এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে যুদ্ধবিমান পরিচালনার পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের মাধ্যমে আকাশ ও সমুদ্রপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব। এখন ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর আব্রাহাম লিংকন কখন নিজ ঘাঁটি সান ডিয়েগোতে ফিরবে, সেটিই জাহাজে থাকা হাজারো নাবিক ও তাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে হোয়াইট হাউসে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুম প্রকল্পের নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখার অনুমতি চেয়েছে। নিম্ন আদালতের একটি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালীন এই কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল গত সপ্তাহে ইউএস কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের তিন বিচারপতির প্যানেলের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদন করেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলরুম প্রকল্পটিকে আইনি চ্যালেঞ্জকারী বাদীদের এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে আপিল আদালতের বিভক্ত প্যানেল রায় দেয় যে, মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ের জায়গায় ৯০ হাজার বর্গফুটের (৮ হাজার ৪০০ বর্গমিটার) এই বলরুম নির্মাণের কোনো আইনি অধিকার নেই। গত শরতে ট্রাম্পের নির্দেশেই পুরোনো ইস্ট উইং গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে নিম্ন আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ দিতে তাদের নিজস্ব রায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখে। সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আগামী ২১ আগস্ট আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত রায় চেয়েছেন। সাওয়ার তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এই মামলাটি এমন একটি অসাধারণ ও বেআইনি ইনজাংশন বা নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িত, যা হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে চলমান সামরিক কমপ্লেক্স এবং সম্পূর্ণ সুরক্ষিত বলরুমের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেবে। অথচ এটি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অপরিহার্য বলে তিনি দাবি করেন। এর আগে গত এপ্রিলে এক জেলা আদালতের বিচারক এই পরিকল্পিত বলরুমের মাটির ওপরের অংশের নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বিচারক স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে হোয়াইট হাউস ভূগর্ভস্থ কাজ, যেমন বাঙ্কার, সামরিক স্থাপনা এবং চিকিৎসা সুবিধা নির্মাণের কাজ বাধাহীনভাবে চালিয়ে যেতে পারবে। ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট প্যানেল তাদের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে মাটির ওপরের নির্মাণকাজ স্থগিত করার ওই আদেশ বহাল রাখে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণবাদীদের পক্ষে অবস্থান নেয়, যারা মূলত বলরুম নির্মাণ বন্ধের দাবিতে এই মামলাটি করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই বিচারক মত প্রকাশ করেন যে, এত বিশাল একটি বলরুম নির্মাণ করা হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল কংগ্রেসের, এটি নির্বাহী বিভাগের নিজস্ব ইচ্ছার কোনো বিষয় নয়। অন্যদিকে ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া তৃতীয় বিচারক নাওমি রাও ভিন্নমত পোষণ করে জানান, যে সংগঠনটি প্রকল্পটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে, তাদের মামলা করার কোনো আইনি অধিকারই নেই। তার মতে, সরকার যেখানে জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিচ্ছে, সেখানে জেলা আদালত কেবল একজন পথচারীর নান্দনিক অসন্তোষকে বড় করে দেখছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, হোয়াইট হাউস সংস্কারের জন্য প্রেসিডেন্টেরই নিরঙ্কুশ ক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগও দাবি করেছে, বর্তমানে প্রকল্পের স্থানটি উন্মুক্ত থাকায় হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১০ মাস ধরে নির্মাণাধীন এই বলরুমের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে বাদীরা অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজের গতি বাড়িয়ে মূলত আদালতকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের বিমানবাহী রণতরীতে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থা বাদ দিয়ে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্টে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নির্মাণাধীন জেরাল্ড আর. ফোর্ড ক্লাসের বিমানবাহী রণতরীর নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় এবং নির্মাণে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার একটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প এই নির্দেশ দেন। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ইউএসএনআই নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনার আওতায় ফোর্ড ক্লাসের চতুর্থ বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডরিস মিলার থেকে পরিবর্তন শুরু হওয়ার কথা। পরবর্তী রণতরীগুলোতেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেম বা ইএমএএলএসের পরিবর্তে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হবে। তবে ফোর্ড ক্লাসের প্রথম তিনটি রণতরীতে ইএমএএলএস থাকবে। এর মধ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ইতিমধ্যে অপারেশনাল এবং পরবর্তী রণতরীগুলোর নির্মাণ ও পরীক্ষা বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিমানবাহী রণতরীর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ফ্লাইট ডেক থেকে ভারী যুদ্ধবিমানকে দ্রুত আকাশে তুলতে ক্যাটাপল্ট ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নিমিৎজ ক্লাসের রণতরীগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবহৃত হয়েছে। নতুন ফোর্ড ক্লাসে এর পরিবর্তে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তিনির্ভর ইএমএএলএস চালু করা হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইএমএএলএসের উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিমান আরও নিয়ন্ত্রিতভাবে উৎক্ষেপণ করা, রক্ষণাবেক্ষণের চাপ কমানো এবং পুরোনো স্টিম ব্যবস্থার তুলনায় কম জনবল ব্যবহার করা। বিভিন্ন ধরনের ও ওজনের বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থাটি বেশি নমনীয় হওয়ার কথা। তবে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইএমএএলএসের সমালোচক। প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি স্টিম ক্যাটাপল্টকে তুলনামূলকভাবে সহজ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ২০১৭ সালেও তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, নৌবাহিনীর নতুন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্টিম প্রযুক্তিতে ফিরে যাওয়া উচিত। এবার সেই অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক নীতিতে রূপ দিলেন তিনি। তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা প্রযুক্তিগতভাবে সহজ হবে না। কারণ ফোর্ড ক্লাসের রণতরীগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ফ্লাইট ডেকের নিচের বিভিন্ন অবকাঠামো ইএমএএলএসকে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ইউএসএস ডরিস মিলারকে ঘিরে। ইএমএএলএস নির্মাতা জেনারেল অ্যাটমিকস জানিয়েছে, জাহাজটির জন্য সংশ্লিষ্ট সিস্টেমের উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ে নকশা পরিবর্তন করলে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ, নির্মাণসূচিতে বিলম্ব এবং বিভিন্ন সিস্টেম সমন্বয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। পুরো পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় আরও বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ স্টিম ক্যাটাপল্টের জন্য রণতরীর অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নতুন করে ডিজাইন ও স্থাপন করতে হবে। স্টিম ব্যবস্থায় ফিরে গেলে জনবলের প্রয়োজনও বাড়তে পারে। আধুনিক ইএমএএলএস তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় নাবিকের সংখ্যা কমানো। এমন সময়ে এই পরিবর্তন আসছে, যখন মার্কিন নৌবাহিনী বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনবল ও জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত চাপ মোকাবিলা করছে। ট্রাম্পের নির্দেশ শুধু ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইউএসএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানো, সাবমেরিন মেরামতের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং একটি নতুন সরকারি নেভাল শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদেশি মিত্রদের জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতাকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে ক্যাটাপল্ট পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ বিশ্বের অন্যান্য বড় নৌ শক্তি উল্টো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। চীন তার নতুন ফুজিয়ান বিমানবাহী রণতরীতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফ্রান্সও ভবিষ্যতের বিমানবাহী রণতরীর জন্য একই ধরনের প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হচ্ছে, যুদ্ধের সময় অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির চেয়ে দীর্ঘদিন পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা বেশি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে বর্তমান প্রযুক্তি পরিবর্তনের বিরোধীরা বলছেন, ফোর্ড ক্লাসের নকশা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পর এমন পরিবর্তন করলে খরচ বাড়ার পাশাপাশি জাহাজগুলো নৌবাহিনীর হাতে পৌঁছাতেও আরও সময় লাগতে পারে। এখন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ফলে ইউএসএস ডরিস মিলারের নকশায় ঠিক কতটা পরিবর্তন আসবে, এর জন্য কত অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে এবং জাহাজটির নির্মাণসূচি কতটা পিছিয়ে যাবে, সেসব বিষয় পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও কমান্ডার মোহাম্মদ রেজা নাকদি সম্প্রতি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ইরান তত বেশি সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো দেশ ইরানকে আক্রমণের কথা ভাবলে তার জন্য কী ভয়াবহ 'মূল্য' চোকাতে হবে—বিশ্বকে সেই বার্তা দেওয়াও তেহরানের অন্যতম লক্ষ্য। সাক্ষাৎকারে নাকদি জানান, গত পাঁচ মাসের এই সংঘাতে ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং তাদের মতে মার্কিন সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেকটাই দুর্বল। যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার কারণ সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান এমন একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যাতে ভবিষ্যতে কোনো পরাশক্তি তাদের আক্রমণ করার সাহস না পায়। সংঘাত দীর্ঘায়িত করে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দেওয়ার এই কৌশলের মাধ্যমে তেহরান মূলত নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ রাখতে চাইছে। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার বিষয়ে সতর্ক করে নাকদি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হবে। তিনি হুশিয়ারি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো সরাসরি চরম বিপদের মুখে পড়বে। তবে ইরান নিজে পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এর কোনো প্রয়োজন তাদের নেই; কারণ ইরানের মূল শক্তি হলো সাধারণ মানুষের সমর্থন ও তাদের অটুট প্রতিরোধ ব্যবস্থা। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বিষয়েও প্রবল আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেন এই জ্যেষ্ঠ আইআরজিসি কমান্ডার। তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, তা যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। যুদ্ধ যদি আরও কয়েক বছর ধরে চলে, তবে শেষ দিন পর্যন্ত ইরান রকেট ছুড়তে সক্ষম বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক স্তরে কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। উল্টো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পরস্পরবিরোধী দাবি অব্যাহত রয়েছে। এই সামরিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও মারাত্মক অনিশ্চয়তা ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট চলতি আগস্টের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়ছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ১২ আগস্ট এ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের দায়িত্ব ছাড়লেও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প জানিয়েছেন, লিভিট তাঁর শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে কাজ করবেন। ২৮ বছর বয়সী লিভিট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি দায়িত্ব নেন। হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তর্কবিতর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে তিনি নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই ছোট সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্যই লিভিট প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত ১ মে তাঁর দ্বিতীয় সন্তান, একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে জুলাইয়ে তিনি আবার কাজে ফিরেছিলেন। নিজের বিদায়ের ঘোষণার পর লিভিট জানিয়েছেন, গত দেড় বছর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা। প্রেসিডেন্টের হয়ে হোয়াইট হাউসের পোডিয়াম থেকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পও লিভিটের কাজের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ার পর লিভিট তাঁর শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হবেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টিতেও তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকা থাকবে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে লিভিট রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকবেন বলেও ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্পের সঙ্গে লিভিটের কাজের সম্পর্ক নতুন নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্পের জাতীয় প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে মনোনীত করেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় লিভিটের বয়স ছিল ২৭ বছর। এর মধ্য দিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হন। লিভিটের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। তবে আগস্টের শেষ নাগাদ লিভিটের বর্তমান দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্যানসারে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরোনো একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বাইডেনের স্টেজ ফোর প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে তার প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে মার্কিনিদের বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে বক্তব্যটির মূল ভিডিও ও সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করে দেখা যায়, ট্রাম্প কথাগুলো বললেও তিনি ওই সময় সরাসরি বাইডেনের ক্যানসারের কথা উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন ২০২৫ সালের ৩০ মে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্ককে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে। এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, ১৮ মে বাইডেনের অফিস থেকে তার প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে বাইডেন সম্পর্কে তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক জীবনে মোটামুটি মধ্যপন্থী ছিলেন, তবে তিনি একজন ‘ভয়ংকর’ ব্যক্তি। এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার যদি তার জন্য খারাপ লাগে, তাহলে এতটা খারাপ লাগার দরকার নেই। কারণ তিনি ভয়ংকর।’ বাইডেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অন্য অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি বলেন, ‘তাই তার জন্য আমার সত্যিই খারাপ লাগে না।’ তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বাইডেনের ক্যানসার বা তার চিকিৎসার কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি। সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টেও দেখা যায়, মন্তব্যটি এসেছিল বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘ বক্তব্যের মধ্যে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বাইডেনের ক্যানসারের জন্য সহানুভূতি দেখাতে নিষেধ করেছেন ট্রাম্প’ এমন সরাসরি ব্যাখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ট্রাম্প যে বাইডেনকে ‘ভয়ংকর’ বলেছেন এবং তার জন্য নিজের সহানুভূতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন, সেটি ভিডিও ও সরকারি নথিতে নিশ্চিত। কিন্তু তিনি ওই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে বাইডেনের ক্যানসারকেই বোঝাচ্ছিলেন কি না, তা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট নয়। বাইডেনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। ১৮ মে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বাইডেনের চিকিৎসাজনিত খবর শুনে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দুঃখিত। একই সঙ্গে বাইডেনের দ্রুত ও সফল আরোগ্য কামনা করেন। পরদিন থেকেই অবশ্য বাইডেনের ক্যানসার কখন শনাক্ত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, বাইডেনের অসুস্থতার তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল কি না। বাইডেনের অফিস ২০২৫ সালের মে মাসে জানায়, তার প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা ক্যানসারটির গ্লিসন স্কোর ৯ এবং গ্রেড গ্রুপ ৫ হিসেবে শনাক্ত করেন, যা রোগটির উচ্চমাত্রার আক্রমণাত্মক ধরন নির্দেশ করে। তবে ক্যানসারটি হরমোন সংবেদনশীল হওয়ায় কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। নিজের চিকিৎসা নিয়ে পরে বাইডেন জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা তার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী এবং তিনি চিকিৎসা শুরু করেছেন। এক বছরের বেশি সময় আগের ট্রাম্পের ওই বক্তব্য এখন আবার ভাইরাল হওয়ায় এর সঙ্গে বাইডেনের ক্যানসারকে সরাসরি যুক্ত করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে মূল বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বলছে, ট্রাম্প বাইডেনের প্রতি সহানুভূতি না থাকার কথা বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি ক্যানসারের প্রসঙ্গ তোলেননি। তাই বক্তব্যটির রাজনৈতিক ও চিকিৎসাজনিত প্রেক্ষাপট আলাদা করে দেখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। চলতি ফল সেমিস্টারে (Fall Semester) তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিতে ভর্তি হচ্ছেন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গলফ দলের হয়ে খেলবেন তিনি। তবে নতুন এই যাত্রার আগে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হয়ে উঠেছে পরিবার, বিশেষ করে মাকে ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্ত। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ভ্লগে ১৯ বছর বয়সী কাই জানান, নতুন অ্যাপার্টমেন্টে ওঠার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে তার ক্লাস শুরু হবে। ভিডিওতে কলেজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো পরিচিত গলফ কোর্সে খেলতে দেখা যায় তাকে। সেই সঙ্গে জীবনের এই বড় পরিবর্তন নিয়ে নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন। কাই বলেন, "আগামী সপ্তাহেই কলেজে যাচ্ছি। বিশ্বাসই হচ্ছে না। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে গলফ খেলব।" তিনি বলেন, "এখন বাড়ি, বন্ধু আর পরিবারকে ছেড়ে যেতে হবে। মাকে খুব বেশি মিস করব।" মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কাই জানান, কয়েকদিন আগে তারা একসঙ্গে একটি দোকান থেকে কেনাকাটা করে ফিরছিলেন। গাড়িতে ওঠার পর হঠাৎ তার মা কাঁদতে শুরু করেন। সেই দৃশ্য দেখে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেননি। তার ভাষায়, "মা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। সেদিন গাড়িতে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন, তারপর আমিও কেঁদে ফেললাম। সত্যিই খুব কঠিন একটা সময়।" কাই ট্রাম্প, ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও ভ্যানেসা ট্রাম্পের বড় সন্তান। গত মে মাসে ভ্যানেসা ট্রাম্প জানান, তার স্তন ক্যানসার ধরা পড়েছে এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের উদ্দেশে কাই লিখেছিলেন, "আমি যত মানুষকে চিনি, তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ তুমি। তোমাকে ভালোবাসি।" ভ্যানেসা বর্তমানে ফ্লোরিডার জুপিটার শহরে থাকেন, যা ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামি থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে। ফলে প্রতিদিন দেখা না হলেও সপ্তাহান্তে মা-মেয়ের দেখা হওয়ার সুযোগ থাকবে। ১৯ বছর বয়সী কাই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয়। তার ইউটিউব চ্যানেলে ১৫ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। সেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন, গলফ অনুশীলন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ভিডিও প্রকাশ করেন। এদিকে ভ্যানেসা ট্রাম্প বর্তমানে কিংবদন্তি গলফার টাইগার উডসের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। ২০২৪ সালে তারা প্রকাশ্যে নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সূত্র: দ্য আইরিশ স্টার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার কারাগারে বন্দী থাকা এক সাবেক মার্কিন নৌসেনাকে (মেরিন ভেটেরান) মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রবার্ট গিলম্যান নামের এই মার্কিন নাগরিকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল বলে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত একটি অধিকার গোষ্ঠী। ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন 'মানবিক কারণে' গিলম্যানকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছেন এবং এর বিনিময়ে রাশিয়া কোনো বন্দী বিনিময় বা অন্য কোনো শর্ত দাবি করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প লেখেন, "কোনো বন্দী বিনিময় হয়নি"। তিনি আরও জানান, দেশে ফেরার পর গিলম্যান কেবল একটি ভালো মানের 'চিজবার্গার' খেতে চেয়েছেন এবং তিনি সেটির ব্যবস্থা করবেন। গ্লোবাল রিচ নামের একটি সংস্থার চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার এরিক লেবসন জানিয়েছেন, ৩২ বছর বয়সী গিলম্যানকে টেক্সাসের একটি মার্কিন সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, গিলম্যান মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছাবেন এবং সেখানে তার দলের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানাবেন। গিলম্যানের সাথে তার মা-ও যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন, যিনি অসুস্থ ছেলেকে দেখতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। গিলম্যানের বোন লেক্সি হাডসন তার ভাইয়ের জীবন বাঁচানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা এবং পেশায় শিক্ষক রবার্ট গিলম্যান ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ায় বন্দী ছিলেন। ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে নামিয়ে দেওয়ার পর এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের দালায় প্রাথমিকভাবে তাকে সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কারাগারে পরিদর্শক ও প্রহরীদের ওপর হামলার অভিযোগে তার সাজার মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। লেবসন জানান, রাশিয়ায় বন্দিদশায় গিলম্যানকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে; যার মধ্যে দৈনিক ১৬ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক ব্যায়াম এবং মানসিক ভারসাম্য নষ্টকারী সাইকোট্রপিক ওষুধ প্রয়োগের মতো ঘটনাও রয়েছে। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতেও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অমানবিক নির্যাতনের কারণে গিলম্যান গত ৪৭ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন বা 'ডিসোসিয়েটিভ স্টুপোর' অবস্থায় ছিলেন। সম্প্রতি তাকে কারাগার থেকে একটি বেসামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করে বিছানার সাথে হাতকড়া পরিয়ে ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হচ্ছিল। তার এই মুমূর্ষু অবস্থার কথা জানতে পেরেই মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার সাথে বারবার যোগাযোগ করে মানবিক কারণে তার দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করে।
যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে হামের সর্বোচ্চ প্রকোপের মাঝেই শিশুদের টিকার পরিমাণ কমানোর এক নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আদেশে শিশুদের জন্য প্রস্তাবিত টিকার সংখ্যা বর্তমান ১৮টি থেকে কমিয়ে ১১টি করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাম্পস, হাম ও রুবেলা বা এমএমআর (MMR) টিকাগুলো একসঙ্গে না দিয়ে আলাদাভাবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সোমবার ওভাল অফিসে এই নির্দেশিকা নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক দশক আগে শিশুদের অনেক কম টিকা দেওয়া হতো এবং তখন তারা বর্তমানের তুলনায় বেশি সুস্থ ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এমএমআর টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন এবং এর সঙ্গে অটিজমের ভিত্তিহীন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এই পদক্ষেপকে অভিভাবকদের পছন্দের সুযোগ বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প খোঁজার এবং সেসব আরও নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই আদেশের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় টিকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে রাজ্য পর্যায়ে নির্ধারিত হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (এএপি)-এর প্রেসিডেন্ট ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বজুড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে যখন হামের সংক্রমণ বাড়ছে, তখন টিকা দিতে দেরি করা বা বাদ দেওয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই আদেশের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি অভিভাবকদের প্রতি ভুল তথ্যসম্বলিত আদেশের বদলে চিকিৎসকদের পরামর্শ শোনার আহ্বান জানান। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই এবং একাধিক বৃহৎ গবেষণায় তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৯ সালে ডেনমার্কে ছয় লক্ষাধিক শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণাতেও এমএমআর টিকা অটিজম সৃষ্টি করে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং এএপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সমন্বিত এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করার কোনো বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নেই। বরং টিকার মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান রাখলে শিশুরা ওই নির্দিষ্ট সময়ে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। টিকায় থাকা সামান্য অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গেও কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক নেই বলে নিশ্চিত করেছে এএপি।
ইরানের গুপ্তহত্যার হুমকির মুখে চরম গোপনীয়তা ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গত মাসে তুরস্ক ত্যাগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাধারণ কোনো প্রটোকল নয়, বরং একটি ক্যাটারিং ট্রাকে লুকিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে করে তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো সময়টিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়মিত ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানেই ভ্রমণ করছেন। মূলত হামলাকারীদের বিভ্রান্ত করতেই এই প্রতারণামূলক ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল গ্রহণ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই গোপন যাত্রার রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ন্যাটোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উপহার দেওয়া একটি বিলাসবহুল ও নতুনভাবে সাজানো বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সম্মেলন শেষে তার ফেরার সময় দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মার্কিন গোয়েন্দারা ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের ওপর হামলার গুরুতর একটি হুমকির তথ্য পান। এরপরই প্রেসিডেন্টকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে একটি নিখুঁত ও অভিনব ছক কষা হয়। আঙ্কারা ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প প্রথমে সবার সামনে ক্যামেরার আলোতে একটি পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে ওঠেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি একটি পোস্ট দিয়ে জানান যে, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি এই পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। এটি ছিল মূলত হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত টোপ। বাস্তবে ক্যামেরার আড়ালে ঘটেছিল অন্য ঘটনা। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পরপরই ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ট্রাম্পকে বহনকারী সেই সি-৩২এ বিমানটি দ্রুত যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে উড়াল দেয় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়। অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে ওঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা জানতেনই না যে তাদের বিমানে প্রেসিডেন্ট নেই। ট্রাম্পের বিমান পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর ওই ডিকয় বা টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটি যুক্তরাজ্যে অবতরণ করে। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের শুধু এতটুকুই জানিয়েছিলেন যে, তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আকস্মিক ও গোপন ফ্লাইটের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনেক শত্রু রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রেসিডেন্টের জীবনের সুরক্ষায় এবং সেই হুমকিগুলো মোকাবিলায় হাতে থাকা সম্ভাব্য প্রতিটি উপায় ব্যবহার করে থাকে। তবে এই গোপন অভিযান ও ইরানের নির্দিষ্ট হুমকির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের ঘটনার পর থেকে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ট্রাম্পের এই রোমহর্ষক গোপন সফর সেই চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকিরই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকাদান নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার (১০ আগস্ট) স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে শিশুদের জন্য নতুন "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড চাইল্ডহুড ভ্যাকসিন রেকমেন্ডেশনস" চালুর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আওতায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হাম, মাম্পস ও রুবেলার (এমএমআর) যৌথ টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের টিকাদান সূচি, টিকার ধরন এবং প্রয়োগ পদ্ধতি নতুন করে মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে (এইচএইচএস) আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বর্তমান টিকাদান কর্মসূচি পর্যালোচনা করে নতুন সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সমমানের অনেক দেশের তুলনায় শিশুদের জন্য বেশি সংখ্যক টিকা সুপারিশ করা হয়। তাই টিকা দেওয়ার সময়, ক্রম এবং কোন টিকা কীভাবে দেওয়া হবে, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। এমএমআর টিকা বর্তমানে একসঙ্গে হাম, মাম্পস ও রুবেলা এই তিনটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব হলে এই তিনটি রোগের জন্য আলাদা আলাদা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে যতটা সম্ভব প্রতিটি টিকা আলাদা চিকিৎসা-সাক্ষাতে দেওয়ার নির্দেশনাও রাখা হয়েছে। ফলে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আগের তুলনায় আরও বেশি বার যেতে হতে পারে। হোয়াইট হাউসে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প বলেন, নতুন সুপারিশ বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে, যার মধ্যে অটিজমও রয়েছে। তবে আদেশের লিখিত অংশে অটিজমের কোনো উল্লেখ নেই। নতুন নীতিতে শিশুদের টিকাকে তিনটি ভাগে ভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথমটি সব শিশুর জন্য নিয়মিত সুপারিশকৃত টিকা, দ্বিতীয়টি কেবল উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য এবং তৃতীয়টি চিকিৎসক ও পরিবারের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়া হবে। এতে আরএসভি প্রতিরোধী মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, হেপাটাইটিস এ ও বি, মেনিনগোকক্কাল বি, মেনিনগোকক্কাল এসিডব্লিউওয়াই এবং ডেঙ্গু টিকাকে উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে স্থানান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপদ শিশু টিকাবিষয়ক এইচএইচএস টাস্কফোর্সকে ৯০ দিনের মধ্যে একক রোগভিত্তিক টিকার সুযোগ বাড়ানো, টিকার উপাদান, নিরাপত্তা তথ্য এবং নজরদারি ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে টিকাদান নীতি হালনাগাদ করা এবং অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ আরও বাড়ানো। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে তিনটি আলাদা ইনজেকশনে ভাগ করার পক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ নেই। তার ভাষায়, এতে পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং শিশুদের আরও বেশি ইনজেকশন নিতে হবে, অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনো অতিরিক্ত উপকার নেই। বরং আলাদা আলাদা টিকা দেওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং শিশুরা দীর্ঘ সময় রোগের ঝুঁকিতে থাকবে। তিনি বলেন, হাম, মাম্পস ও রুবেলা কোনো সাধারণ শৈশবকালীন রোগ নয়। হাম থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে, মাম্পস শ্রবণশক্তি হারানোর কারণ হতে পারে এবং রুবেলা গর্ভবতী নারীর জন্য গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব বা জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়। স্টকওয়েল আরও বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এমএমআর-এর পৃথক টিকা বাজারে নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত যৌথ এমএমআর টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ এবং মাম্পসের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৬ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, টিকা বিলম্বিত করা বা অতিরিক্ত বিরতি দিয়ে দেওয়া শিশুর নিরাপত্তা বাড়ায় না; বরং সংক্রমণের ঝুঁকি দীর্ঘায়িত করে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, প্রেসিডেন্টের এমন পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জ্ঞান নেই। তার মতে, শিশুদের টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং অটিজমের সঙ্গে এর কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। ক্যাসিডি বলেন, একই সুরক্ষা পেতে যদি শিশুদের একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়, তাহলে অনেক পরিবার টিকা নেওয়া পিছিয়ে দিতে পারে। এতে প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এদিকে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা স্কুলে ভর্তির টিকা সংক্রান্ত নিয়মে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সুপারিশ অনুসরণ নাও করতে পারে। জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সুপারিশে আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্প মাত্র ২০ বছর বয়সেই প্রায় ১৫ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে তার এই আনুমানিক সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়, যা ট্রাম্প পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সম্পদের চেয়েও বেশি। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৩০ কোটি ডলার। অন্যদিকে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আনুমানিক সম্পদ প্রায় ২ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ব্যারনের সম্পদের পরিমাণ, প্রায় ১৫ কোটি ডলার, তার মায়ের আনুমানিক সম্পদের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অল্প বয়সেই ব্যারন ট্রাম্প ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। রিয়েল এস্টেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং পানীয় খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লোরিডা ও ডেলাওয়্যারে দাখিল করা ব্যবসায়িক নিবন্ধন নথি অনুযায়ী, 'সোল্লোস' (Sollos) নামের একটি পানীয় কোম্পানির পাঁচজন অংশীদারের একজন ব্যারন ট্রাম্প। তবে তার সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে ধরা হচ্ছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল'। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার দুই বড় ছেলে এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যুক্ত হন ব্যারন। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল অর্থনীতিতে ডলারভিত্তিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনের সহজলভ্যতা এবং বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক সেবাকে (ডিফাই) সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের মোট সম্পদে ১৫০ কোটিরও বেশি ডলার যোগ করেছে। এর মধ্যে ব্যারনের অংশ প্রায় ১০ শতাংশ, যার মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো সম্পদ, বিশেষ করে $WLFI টোকেন এবং মার্কিন ডলারের সঙ্গে সংযুক্ত স্থিতিশীল মুদ্রা USD1-এ বিনিয়োগ থেকেও ব্যারনের সম্পদ বেড়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ব্যারন ট্রাম্প ও তার কয়েকজন ব্যবসায়িক সহযোগী ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যে 'ট্রাম্প, ফুলচার অ্যান্ড রক্সবার্গ ক্যাপিটাল ইনকরপোরেটেড' নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ব্যারনের ব্যবসায়িক সহযোগী ক্যামেরন রক্সবার্গ পরে নিউজউইককে জানান, নির্বাচনের সময় অপ্রয়োজনীয় গণমাধ্যমের মনোযোগ এড়াতেই কোম্পানিটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল ইউটাহ, অ্যারিজোনা ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যে বিলাসবহুল আবাসন ও গলফ কোর্সভিত্তিক প্রকল্পে কাজ করার। তবে পরে ফক্স বিজনেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রক্সবার্গ জানান, প্রতিষ্ঠানটি আর পুনরায় চালু করা হবে না। বর্তমানে ব্যারন ট্রাম্প নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসে পড়াশোনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসায়িক পরিচয়ও গড়ে তুলছেন। তবে ফোর্বস উল্লেখ করেছে, ব্যারনের অন্যান্য সম্পদ, সম্ভাব্য উত্তরাধিকার বা অন্য উৎস থেকে আয়ের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা দেওয়ার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১০ আগস্ট তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যেখানে একসঙ্গে একাধিক টিকা না দিয়ে আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে হাম, মাম্পস ও রুবেলার সমন্বিত এমএমআর টিকা তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ বলছেন, এই পরিবর্তনের পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এতে শিশুদের টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। নতুন নির্দেশনায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় শিশুদের বেশি টিকা দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুরা ৭২টি পর্যন্ত টিকার ডোজ পায় এবং একসঙ্গে একাধিক টিকা দেওয়া শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে “৭২টি জ্যাব” কথাটি মূলত পুরো শৈশব ও কৈশোরজুড়ে সুপারিশকৃত ডোজগুলো যোগ করে তৈরি একটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত সংখ্যা; এটিকে একই সময়ে দেওয়া ৭২টি ইনজেকশন হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা সূচি বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে ভাগ করা থাকে। ট্রাম্প একই বক্তব্যে নবজাতকদের হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ারও বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই টিকা ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে দেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান মার্কিন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বিষয়টি এত সরল নয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে নীতি পরিবর্তনের পর হেপাটাইটিস বি নেগেটিভ মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রে জন্মের সময় টিকা দেওয়া হবে কি না, তা বাবা-মা ও চিকিৎসকের যৌথ সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে যেসব মায়ের হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ রয়েছে বা সংক্রমণের অবস্থা জানা নেই, তাদের নবজাতককে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার সুপারিশ বহাল রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন শিশুদের জন্য সর্বজনীনভাবে সুপারিশকৃত টিকার তালিকাও ছোট করেছে। আগে ১৭টি রোগের বিরুদ্ধে টিকা সবার জন্য সুপারিশ করা হলেও নতুন কাঠামোয় সেটি ১১টি মূল রোগে সীমিত করা হয়। ফ্লু, রোটাভাইরাস, হেপাটাইটিস এ ও বি এবং কিছু মেনিনজাইটিস টিকাকে ঝুঁকি বা চিকিৎসকের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়ার শ্রেণিতে নেওয়া হয়। এই পরিবর্তন নিয়ে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসসহ একাধিক চিকিৎসক সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে এমএমআর টিকা নিয়ে। ট্রাম্প বলেছেন, হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা একসঙ্গে না দিয়ে তিনটি আলাদা টিকা হিসেবে পৃথক সময়ে দেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, একসঙ্গে দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক একক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। নতুন নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হলে নির্মাতাদের নতুন করে পৃথক টিকা উৎপাদনের প্রয়োজন হতে পারে। ট্রাম্পের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো, তিনি একসঙ্গে দেওয়া টিকাকে “লেথাল” বা প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই দাবির পক্ষে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এমএমআর টিকা ও অটিজমের মধ্যে সম্পর্ক থাকার পুরোনো দাবিটিও বহু গবেষণায় খণ্ডিত হয়েছে। যে গবেষণা থেকে প্রথম এই বিতর্ক ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল, সেটি পরে প্রত্যাহার করা হয় এবং গবেষণাটির তথ্য জালিয়াতির অভিযোগও প্রমাণিত হয়। শিশুকে একই ভিজিটে একাধিক টিকা দেওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় টিকাগুলো অযথা আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়া হলে শিশুর পূর্ণ টিকা গ্রহণ শেষ হতে বেশি সময় লাগবে। সেই সময়ের ব্যবধানে তারা হাম, হুপিং কাশি বা অন্য টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন হয়ে উঠেছেন তার সহকারী নাতালি হার্প। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেই গত সপ্তাহান্তটি ট্রাম্পের সঙ্গেই কাটিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নিউজার্সি থেকে ছেড়ে আসা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় ৩৫ বছর বয়সী এই নারী কর্মকর্তার হাতে একটি বিশাল আকারের রহস্যময় লাল ব্যাগ দেখা যায়, যা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে নিউজার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্পের ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে সার্বক্ষণিক তার পাশে ছিলেন নাতালি। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন স্বামীর পাশ থেকে অনেকটাই দূরে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের ছায়াসঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই নারী। মরিসটাউন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দর থেকে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ এই সহকারী। প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, গলফ কোর্সে ট্রাম্পের ঠিক পেছনেই একটি গলফ কার্ট চালাচ্ছেন নাতালি। তার মাথায় ছিল ‘ট্রাম্প’ লেখা বেসবল ক্যাপ। মুখে হাসির পাশাপাশি তার হাতের সেই বিশাল লাল ব্যাগটি সবার নজর কাড়ে, যার ভেতরে কী ছিল তা এখনো অজানা। এদিকে, বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চরম উত্তেজনা চলছে, তখন ট্রাম্পের এমন নির্ভার গলফ খেলা এবং সহকারীর এই উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশে জিনিসপত্রের দাম এখনও চড়া, আশা করি গলফ খেলে তার মাথা খুলবে এবং সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তিনি বের করবেন। আরেকজন নাতালির সার্বক্ষণিক উপস্থিতিকে 'ভীতিকর' বলে মন্তব্য করেছেন। নাতালি হার্পের কাজের পরিধি ঠিক কী, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট করা নেই। তবে প্রশাসনে তিনি ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে আরেকটি সফরে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামার সময় তার হাতে অন্তত চারটি মোবাইল ফোন এবং দুটি ল্যাপটপ দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাকে ট্রাম্পের কাছাকাছি দেখা যায়। রক্ষণশীল ওয়েবসাইট থেকে খবর প্রিন্ট করা, গুগলে তথ্য খোঁজা এবং ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টের জন্য পোস্টের পরামর্শ দেওয়াই মূলত তার কাজ। এ কারণে অনেকেই তাকে ট্রাম্পের ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা মানব প্রিন্টার বলে ডাকেন। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে একটি আবেগঘন কারণ রয়েছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। এর আগে নাতালির অস্থিমজ্জার ক্যানসার চিকিৎসায় একটি পরীক্ষামূলক ওষুধের অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা তার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ‘সার্চলাইট থেরাপি’-এর প্রতিষ্ঠাতা বেন মাশলিন জানান, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারও জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখেন, তখন তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা পায়। নাতালি হয়তো ট্রাম্পকে তার ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দেখেন। তবে এই অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস এবং সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা নাতালিকে একটি সম্ভাব্য ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা একটি বই অনুযায়ী, নাতালি প্রায়ই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জায়গাগুলোতে ছোট ছোট চিরকুট রেখে আসতেন। একটি চিরকুটে তিনি লিখেছিলেন, "আপনিই আমার কাছে সবকিছু।" এমন আচরণই নিরাপত্তারক্ষীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাতালির ভাই প্রেস্টন হার্পও এই সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। দ্য ডেইলি বিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাদের প্রয়াত বাবার সঙ্গে নাতালির সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। তিনি হয়তো ট্রাম্পের মাঝে সেই পিতৃস্নেহ খুঁজে পেয়েছেন। নিকারাগুয়ায় বসবাসরত ৩৮ বছর বয়সী প্রেস্টন আরও বলেন, ট্রাম্পের 'আমেরিকান এক্সেপশনালিজম' বা আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আদর্শ নাতালিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি সম্ভবত ট্রাম্পকে একজন আদর্শ পিতার আসনেই বসিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীদের নতুন চাকরি খোঁজার জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এবং নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মী চাকরি হারালে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ভিসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ ৬০ দিনের আগেই শেষ হলে, সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হয়। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর এই গ্রেস পিরিয়ড আর নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন চাকরি বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে। এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বর্তমানে ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টি-এনসহ কয়েকটি কর্মভিত্তিক ভিসা শ্রেণির নির্দিষ্ট কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলরা একই ধরনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পান। চাকরি হারানোর পর বিদেশি দক্ষ কর্মীদের নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ দিতে ২০১৭ সালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু করা হয়। এর ফলে কোনো কর্মী চাকরি হারালে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে না হয়ে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় পান। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে চাকরি পরিবর্তন বা নতুন চাকরির ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়ে গেছে এমনটি বলা যাবে না। প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হতে আরও কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নতুন নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়মই বহাল থাকবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টিমের পোস্ট করা একটি টিকটক ভিডিওতে টেইলর সুইফটের গান ব্যবহারের পর ভিডিওটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কপিরাইট মালিকের অভিযোগের পর টিকটকে গানটি আর শোনা যাচ্ছে না। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ঘটনার শুরু চলতি সপ্তাহে। ট্রাম্পের টিমের টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে সুইফটের জনপ্রিয় গান ‘অগাস্ট’ ব্যবহার করা হয়েছিল। পোস্টের ক্যাপশনে এমন কথাও লেখা হয়েছিল, টেইলর সুইফট এই গান ব্যবহারে নিশ্চয়ই ‘খুব খুশি’ হবেন। পরে ভিডিওটির অডিও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং কপিরাইট মালিকের কারণে গানটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে টিকটকে জানানো হয়। শুধু ওই ভিডিওই নয়, ট্রাম্পের টিমের আরও কয়েকটি টিকটক পোস্টে সুইফটের গান ব্যবহারের পর সেগুলোর অডিওও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে ‘ফাদার ফিগার’ গানটিও ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মজার প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের টিমের পোস্ট করা ভিডিও থেকেও শেষ পর্যন্ত কপিরাইটের কারণে গান সরাতে হওয়ায় অনেকেই বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন। টেইলর সুইফট ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। সুইফট অতীতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করেছিলেন। ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে সুইফটকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। তবে এবারের ঘটনায় সুইফট নিজে সরাসরি কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, তার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং কপিরাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে গানগুলোর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাওয়াই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে জনপ্রিয় শিল্পীদের গান ব্যবহারের ঘটনায় আপত্তি উঠেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে কপিরাইটের কারণে অডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের টিমের সঙ্গে সংগীতশিল্পীদের কপিরাইট ও রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরোধ নতুন কোনো ঘটনা নয়। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো টেইলর সুইফটের গান। প্রেসিডেন্টের টিমের পোস্ট থেকেও কপিরাইটের কারণে গান নীরব হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি রাজনীতির পাশাপাশি বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন টেক্সাসের ৭৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী জন গ্যানন। কিন্তু এখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করছেন তিনি। কারণ, তার হবু স্ত্রী ইয়াসমিন সুয়ারেজ রেয়েসকে হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল এয়ারপোর্ট থেকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ঘটনাটি ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির সমালোচনা করেছেন আজীবন রিপাবলিকান হিসেবে পরিচিত গ্যানন। সিবিএস নিউজকে গ্যানন জানান, ৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিনকে বিয়ে করে সংসার গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৪ জুলাই লাস ভেগাস যাওয়ার পথে হিউস্টন এয়ারপোর্টে আইসিই কর্মকর্তারা ইয়াসমিনকে আটক করলে তাদের সেই পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ইয়াসমিনের জন্ম ভেনেজুয়েলায়। তবে তিনি স্পেনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তার অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি। ইয়াসমিনের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এবং তার ওয়ার্ক পারমিট ও টেক্সাসের ড্রাইভার লাইসেন্স ছিল। তবে ডিএইচএস বলছে, কোনো ইমিগ্রেশন আবেদন বিচারাধীন থাকলেই তা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না। ইয়াসমিন অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন বলেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, ইয়াসমিনের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত দাবিগুলো বিচার বিভাগের একজন ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে শুনানি হবে এবং তিনি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন। গ্যাননের দাবি, তারা হিউস্টন থেকে লাস ভেগাসে একটি ফার্নিচার শিল্পের সম্মেলনে যাচ্ছিলেন। এয়ারপোর্টে ইয়াসমিনকে আটকের ঘটনাটি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, নিজের জীবনে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন বলে ভাবেননি। গ্যানন যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি বিলবোর্ডের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মেক্সিকোতেও তার হোটেল ও রেস্তোরাঁসহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হবু স্ত্রীর আটকের পর ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে তার অবস্থান আমূল বদলে গেছে। গ্যানন বলেন, তিনি ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন আর সেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। তার অভিযোগ, ইমিগ্রেশন অভিযানে অপরাধীদের পাশাপাশি এমন মানুষও আটক হচ্ছেন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। তিনি মনে করেন, সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবার বিচ্ছিন্ন করা নয়। আইসিইর বর্তমান অভিযান পরিবার ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইয়াসমিন বর্তমানে টেক্সাসে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রয়েছেন। তার ভবিষ্যৎ এখন ইমিগ্রেশন আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে যে প্রশাসনকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিলেন, সেই প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতির সরাসরি প্রভাব নিজের জীবনে পড়ার পর গ্যানন বলছেন, তিনি নিজেকে গভীরভাবে হতাশ ও প্রতারিত মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন থাকা সত্ত্বেও টেনেসির রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হয়েছেন কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস। ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে সাবেক অঙ্গরাজ্য কৃষি কমিশনার চার্লি হ্যাচারের কাছে প্রায় ৬ শতাংশ ব্যবধানে হেরে যান তিনি। মুসলিমদের নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে কয়েক মাস ধরে সমালোচনার মুখে ছিলেন ওগলস। ওগলস ২০২২ সালে প্রথমবার কংগ্রেসে নির্বাচিত হন এবং পরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান। এবারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওগলসকে সমর্থন করেন। এমনকি তার পক্ষে প্রচারণামূলক টেলিফোন সমাবেশেও অংশ নেন ট্রাম্প। কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসনও ওগলসকে সমর্থন করেছিলেন। তবে রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে শেষ পর্যন্ত জয় পাননি ওগলস। তার প্রতিদ্বন্দ্বী চার্লি হ্যাচার টেনেসির সাবেক কৃষি কমিশনার। রাজ্যের গভর্নর বিল লিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান নেতা হ্যাচারকে সমর্থন করেছিলেন। ওগলসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি ছিল মুসলিমদের নিয়ে তার মন্তব্য। চলতি বছরের ৯ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, “Muslims don’t belong in American society. Pluralism is a lie.” অর্থাৎ, “মুসলিমরা আমেরিকান সমাজের অংশ নয়। বহুত্ববাদ একটি মিথ্যা।” তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মুসলিম অধিকার সংগঠন, নাগরিক অধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও বক্তব্যটির নিন্দা জানান। তার নির্বাচনী এলাকাতেও বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে ওই এলাকার একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের মুখে মুসলিমদের আমেরিকান সমাজে জায়গা নেই বলে মন্তব্য ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ওগলস এর আগেও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে মার্চে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে কংগ্রেসেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য শ্রী থানেদার ওগলসের মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কারের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে ওগলসের পরাজয়ের একমাত্র কারণ তার মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্য ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। নির্বাচনী এলাকার নতুন সীমানা, প্রার্থীদের স্থানীয় রাজনৈতিক সমর্থন এবং রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্যও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন করার পরও তার পছন্দের প্রার্থী নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তবে হ্যাচারও ট্রাম্পের নীতির সমর্থক হওয়ায় ওগলসের পরাজয়কে সরাসরি ট্রাম্পবিরোধী ভোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। অ্যান্ডি ওগলসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টেনেসির পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে গেলেন চার্লি হ্যাচার। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ডেমোক্র্যাট প্রার্থী চাজ মোল্ডারের সঙ্গে। ওগলসের মুসলিমদের নিয়ে করা মন্তব্যের পর যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই নির্বাচনে এই পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নিয়ে আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে নির্বাচনের ফলকে কোনো একটি বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার আগে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অন্যান্য নির্বাচনী কারণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুলের সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের চুল আগের তুলনায় বেশি ঘন ও ভলিউমযুক্ত দেখায়। তার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানা মন্তব্য, প্রশ্ন ও মিম। লাস ভেগাসের ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তবে অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবিতে তার চুলের চেহারা অনেকের নজর কাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পুরোনো ছবির সঙ্গে নতুন ছবির তুলনা করে দেখতে শুরু করেন। কেউ কেউ জানতে চান, চুলের এই পরিবর্তন কি নতুন কোনো হেয়ারস্টাইলের কারণে, নাকি অন্য কোনো পরিবর্তন হয়েছে। এরপর থেকেই ট্রাম্প নতুন কোনো উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, তা নিয়ে অনলাইনে নানা জল্পনা শুরু হয়। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং নতুন উইগ ব্যবহারের দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাস ভেগাসের বক্তব্যে ট্রাম্পের চুলকে আগের তুলনায় বেশি পূর্ণ ও কিছুটা ভিন্ন রঙের দেখাচ্ছিল। এই দৃশ্যমান পরিবর্তনই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার মূল কারণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের হেয়ারস্টাইল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে কৌতূহল রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে কেউ এটিকে নতুন হেয়ারস্টাইল বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ উইগ বা হেয়ারপিসের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসবের পাশাপাশি ট্রাম্পের চুল নিয়ে নানা ধরনের মিমও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সামাজিক মাধ্যমের এসব মন্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ট্রাম্পের চুল নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহু বছর ধরেই তার স্বতন্ত্র হেয়ারস্টাইল যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমে আলোচিত হয়ে আসছে। ২০১১ সালের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই তার চুলের স্টাইল নিয়ে কথা বলেছিলেন। পরবর্তী বছরগুলোতেও বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সামাজিক মাধ্যমে তার চুল নিয়ে নানা রসিকতা ও আলোচনা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রবল বাতাসে ট্রাম্পের চুলের স্টাইল কিছুটা এলোমেলো হয়ে যাওয়ার একটি ভিডিওও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনার পরও তার চুল নিয়ে নতুন করে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। এবার লাস ভেগাসের উপস্থিতি সেই পুরোনো কৌতূহলকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। তবে চুলের ঘনত্ব বা চেহারায় পরিবর্তন দেখালেই সেটিকে উইগ, হেয়ারপিস বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কসমেটিক পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আলো, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, চুলের স্টাইলিং এবং মঞ্চের পরিবেশেও একজনের চুলকে ভিন্ন দেখাতে পারে। ফলে আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, লাস ভেগাসে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উপস্থিতির পর তার চুলের চেহারা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়েছে এবং তা নিয়ে নানা মিম ছড়িয়েছে। কিন্তু তিনি নতুন কোনো উইগ বা হেয়ারপিস ব্যবহার করছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দলের প্রতি ভোটারদের ক্ষোভ থাকলেও সেই ক্ষোভ তার বিরুদ্ধে নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। মিডটার্ম নির্বাচনের আর প্রায় তিন মাস বাকি। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্প ও তার মিত্ররা দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের নীতির সমালোচনাও করছেন। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে তার অনুমোদন ৩৫ শতাংশ, এপি/নরকের জুলাইয়ের জরিপে ৩৩ শতাংশ এবং কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। এরপরও Punchbowl News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ। কিন্তু তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ নয়।” ট্রাম্পের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষ থাকলেও তিনি নিজে সেই ক্ষোভের বাইরে রয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, ক্ষমতাসীন দলের জন্য মিডটার্ম নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবেই কঠিন। গত ৮০ বছরে মাত্র দুইবার প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে আসন বাড়াতে পেরেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতও রিপাবলিকানদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও দলের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন ট্রাম্প। তার লক্ষ্য, কংগ্রেসে দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। কঠিন পরিস্থিতি স্বীকার করলেও নির্বাচনের ফল নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প। তার ভাষায়, “আমি মনে করি, আমরা জিতব।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা একটি প্রচারণামূলক ছবি এবং জেনারেলের পোশাকে নিজের একটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেন তিনি। পোস্ট দুটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি ছবিতে তাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন জেনারেল জর্জ এস. প্যাটনের আদলে সামরিক পোশাকে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা প্রচারণামূলক বার্তা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নির্ধারিত দুই মেয়াদের সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মার্কিন সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে ট্রাম্পের ২০২৮ সালের সম্ভাব্য তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে ইঙ্গিত বাস্তবে সাংবিধানিক বাধার মুখে রয়েছে। অতীতেও তিনি একাধিকবার তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে মন্তব্য করলেও পরে স্বীকার করেছেন যে বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী তিনি আর নির্বাচন করতে পারবেন না। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টের পর সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, সামরিক প্রতীক এবং এআই-নির্মিত চিত্র ব্যবহার করে তিনি নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে তার সমর্থকদের একটি অংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতীকী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ ধরনের পোস্ট রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও উসকে দিলেও, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।