সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা (স্টিল প্ল্যান্ট) নির্মাণের মেগা প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিনেসোটাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেসাবি মেটালিকস’ আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি (১৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই বিশালাকার কারখানাটি গড়ে তুলবে। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের কথা জানান।   হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হতে যাওয়া প্রথম কোনো মেগা স্টিল প্ল্যান্ট হতে চলেছে এটি। ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। চালু হওয়ার পর এই কারখানা থেকে বছরে ৭৫ লাখ বা তার বেশি টন ইস্পাত উৎপাদিত হবে এবং আইওয়াতে অন্তত এক হাজার ৭৫০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আইওয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই কারখানাটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্পাত তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে লৌহ আকরিক আসবে মিনেসোটায় মেসাবি মেটালিকসেরই নতুন ২৫০ কোটি ডলারের একটি খনি থেকে।   বিদেশে উৎপাদিত পণ্যের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে দেশীয় ইস্পাত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই বিশাল বিনিয়োগ আসছে। ওভাল অফিসে এই ঘোষণাকালে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান জন জোভানোভিচ, মেসাবি মেটালিকসের শীর্ষ নির্বাহী এবং আইওয়ার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স জানান, এই কারখানা মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোতেও কাঁচামাল সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখবে।   আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ৪০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের ঘোষণা এলো। আইওয়ায় গভর্নর পদ, সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে এবার ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এরই মধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছে, মেসাবি মেটালিকসকে কর ছাড় দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করতে অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতাদের আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে ডাকার প্রস্তুতি চলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির জ্বালানি মানদণ্ড শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
বাইডেনের ইভি নীতি বাতিল করলেন ট্রাম্প, কমবে নতুন গাড়ির দাম

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পে জ্বালানি দক্ষতার নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি নতুন জ্বালানি দক্ষতা মান অনুমোদন করেছেন। এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে চালু হওয়া কঠোর জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল হতে যাচ্ছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, নতুন মান কার্যকর হলে গাড়ি নির্মাণের খরচ কমবে এবং নতুন গাড়ির দামও কমতে পারে। তিনি এই পরিবর্তনকে বাইডেন আমলের বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার নীতির অবসান হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ নতুন নিয়মটি ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম সোমবার প্রকাশ করা হবে। জাতীয় মহাসড়ক ট্রাফিক নিরাপত্তা প্রশাসনের (NHTSA) আগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থায় ২০৩১ সালের মধ্যে গাড়ি নির্মাতাদের বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রতি গ্যালনে ৩৪ দশমিক ৫ মাইল করার কথা রয়েছে। বর্তমানে বাইডেন প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল প্রায় ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালন।   জ্বালানি দক্ষতার এই মান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট গড় জ্বালানি অর্থনীতি বা CAFE ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত হয়। এতে কোনো একটি গাড়ির মাইলেজ নয়, বরং একটি গাড়ি নির্মাতার বিক্রি করা গাড়িগুলোর সামগ্রিক গড় জ্বালানি দক্ষতা বিবেচনা করা হয়।   ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান নিয়মগুলোর সমালোচনা করে আসছেন। তার দাবি, কঠোর জ্বালানি দক্ষতার নিয়ম গাড়ি নির্মাতাদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি করেছে এবং ক্রেতাদের এমন গাড়ির দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা হয়তো কিনতে চান না। নতুন নিয়মের ফলে নির্মাতারা তুলনামূলক কম জ্বালানি দক্ষতার গাড়ি তৈরিতে বেশি স্বাধীনতা পাবেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।   ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, নতুন মান যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে অপচয় কমাবে এবং এর ফলে গাড়ির দাম কমতে পারে। তিনি জেনারেল মোটরস, ফোর্ড ও স্টেলান্টিসসহ বড় গাড়ি নির্মাতাদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ানোর আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেছেন।   NHTSA-এর আগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে একটি নতুন গাড়ির গড় প্রাথমিক মূল্য প্রায় ৯৩০ ডলার কমতে পারে। তবে এর বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন গ্যালন অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহৃত হতে পারে। এর ফলে জ্বালানি কেনার পেছনে অতিরিক্ত প্রায় ১৮৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন প্রায় ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।   বাইডেন প্রশাসনের সময় জ্বালানি দক্ষতার মান ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৪ ও ২০২৫ মডেল বছরের গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি দক্ষতা বছরে ৮ শতাংশ করে এবং ২০২৬ সালের জন্য ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ২ শতাংশ করে বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের চূড়ান্ত নিয়মে NHTSA জানিয়েছিল, ২০৩১ মডেল বছরের মধ্যে হালকা যানবাহনের বহরের গড় জ্বালানি দক্ষতা প্রায় ৫০ দশমিক ৪ মাইল প্রতি গ্যালনে পৌঁছাবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব সেই ধারার বিপরীত। NHTSA-এর প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে ২০৩১ সালের লক্ষ্য প্রায় ৩৪ দশমিক ৫ মাইল প্রতি গ্যালনে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান লক্ষ্যের তুলনায় এটি প্রায় ১৬ মাইল প্রতি গ্যালন কম।   পরিবেশগত দিকটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, কম জ্বালানি দক্ষতার মান গাড়ি নির্মাতাদের তুলনামূলক বেশি জ্বালানি ব্যবহারকারী গাড়ি উৎপাদনের সুযোগ দেবে। এতে একদিকে গাড়ির প্রাথমিক দাম কমতে পারে, অন্যদিকে গাড়ি ব্যবহারের পুরো সময়ে জ্বালানি খরচ বাড়বে।   বাইডেন প্রশাসনে পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পিট বুটিগিগ রয়টার্সকে বলেছেন, জ্বালানি দক্ষতার মান কমানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং গাড়িচালকদের জ্বালানি পাম্পে বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। তার মন্তব্যটি বর্তমান নীতির সমালোচকদের অবস্থানকে তুলে ধরে।   ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই পরিবর্তনকে গাড়ির দাম কমানো এবং মার্কিন গাড়ি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফির দপ্তরও এর আগে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।   নতুন নিয়মটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি নির্মাতাদের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ি ও উচ্চ জ্বালানি দক্ষতার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে পেট্রোলচালিত বড় ও তুলনামূলক কম জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি বাজারে রাখার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত নিয়মের বিস্তারিত শর্ত এবং গাড়ি নির্মাতাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের ওপর।   প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন জ্বালানি দক্ষতা মানকে বাইডেন আমলের তথাকথিত ‘ইভি ম্যান্ডেট’ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি বাধ্যতামূলক করার নীতির অবসান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল জ্বালানি দক্ষতা কর্মসূচি সরাসরি সব গাড়ি বৈদ্যুতিক করার বাধ্যবাধকতা নয়। বরং জ্বালানি দক্ষতার নির্ধারিত মান পূরণ করতে গাড়ি নির্মাতারা বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার যানবাহনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে।   ট্রাম্পের ঘোষণা এবং পরিবহন বিভাগের প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখন যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি বাজার ও পরিবেশনীতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই ২০৩১ সাল পর্যন্ত গাড়ি নির্মাতাদের জন্য ঠিক কী ধরনের মান কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট হবে।   সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী

ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও বিমান হামলা শুরু হতে পারে বলে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সাত দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ বা সীমিত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ববাজারেও জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবে রাজি হননি। তবে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারসহ কয়েকটি দেশ সংঘাত কমাতে আলোচনার উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।   ইরানের প্রস্তাবটি এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছে।   সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সাত দিনের একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে।   তবে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও কঠোর। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প মনে করছেন ইরান তাঁর দাবিগুলো মেনে নেওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছুক। তাঁর প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার মাধ্যমে তেহরানকে আরও অনুকূল শর্তে আলোচনায় আনতে চায়।   ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কী ধরনের বা কতটা মাত্রার হামলার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   এটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর সামনে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে ট্রাম্প জাতিসংঘে দাবি করেছেন, তাঁর ইরান নীতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘাতের অবসান নিয়ে তাঁর অবস্থান একই রয়েছে।   অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার বিষয়ে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আগের সমঝোতার কাঠামোর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তেহরানের অবস্থানের মধ্যে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, আটকে থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরানের ভূমিকার মতো বিষয় রয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই অবস্থায় সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ না করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামা দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি করছে।   এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা হবে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ, মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।   সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিবিএস নিউজ, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের নির্দেশে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিল, বড় কাটছাঁট অভিবাসন খাতে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের অব্যবহৃত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, অভিবাসন, জাতিগত সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতের ১১টি তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতটি ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থার এসব তহবিলের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের সামাজিক সেবা দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই অর্থের আর প্রয়োজন নেই।   ট্রাম্পের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অর্থ বাতিলের আওতায় রয়েছে বাণিজ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির কিছু তহবিলও বাতিল করা হচ্ছে।   দ্বিতীয় বৃহত্তম কাটছাঁটের পরিমাণ ৭০ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য ফেলোশিপ ও অনুদান কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকেরা যেখানে এসব কর্মসূচির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনও কয়েকটি প্রকল্পকে নীতিগতভাবে আপত্তিকর হিসেবে দেখেছে।   আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের একটি কর্মসূচি থেকে আরও ৫৬ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। এই অর্থ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে আবাসন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এর একটি অংশ এমন সংগঠনের কার্যক্রমে যাচ্ছিল, যেগুলো জাতিগত ও বৈচিত্র্যভিত্তিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের আরও ২৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষায়, এসব অনুদানের কিছু ছিল অপচয়মূলক, একই ধরনের কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে আপত্তিকর ছিল। তবে ঠিক কোন কোন প্রকল্পের অর্থ এই কাটছাঁটের আওতায় পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।   শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী উদ্যোগ থেকেও ২৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু সংগঠন অর্থ পেয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা না করতে উৎসাহিত করার অভিযোগ ছিল।   বিচার বিভাগের কমিউনিটি রিলেশনস সার্ভিসেস কর্মসূচি থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি পরামর্শসংক্রান্ত একটি কর্মসূচি থেকেও ১৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে।   এ ছাড়া সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ব্যবসায়ীদের জন্য অনুদান দেওয়া সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন সংস্থা থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার, অভিবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আরেকটি কর্মসূচি থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সংখ্যালঘু স্বাস্থ্য কার্যালয় থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার বাদ দেওয়া হচ্ছে।   ট্রেজারি বিভাগের ট্রপিক্যাল ফরেস্ট অ্যান্ড কোরাল রিফ কনজারভেশন অ্যাক্ট কর্মসূচি থেকেও ৯ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশের ঋণ কমানোর ব্যবস্থা ছিল।   এই অর্থ বাতিলের প্রক্রিয়াকে ‘পকেট রেসিশন’ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বাজেট ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ বাতিলের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠাতে পারেন এবং সাধারণ নিয়মে কংগ্রেসের তা বিবেচনার জন্য ৪৫ দিন সময় থাকে। কিন্তু অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগে এমন প্রস্তাব পাঠানো হলে কংগ্রেসের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় মেয়াদ শেষ করতে পারে। সরকারি অর্থব্যবস্থার এই পদ্ধতির আইনগত বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তর বা জিএও ২০২৫ সালে বলেছিল, এ ধরনের ‘পকেট রেসিশন’ আইনসঙ্গত নয়।   এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই পদক্ষেপকে ঘিরে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ভোটের আদেশে প্রশাসনকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ আটকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সেই আদেশটি মূলত নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং ‘পকেট রেসিশন’ ব্যবস্থার আইনি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ করেনি।   এবারের উদ্যোগটি এসেছে ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের ব্যয় কমানোর ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অব্যবহৃত বা প্রশাসনের বর্তমান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন অর্থ বাতিল করে সরকারি ব্যয় কমানোই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। অন্যদিকে, ‘পকেট রেসিশন’ নিয়ে সমালোচকেরা বলছেন, কংগ্রেস যে অর্থ আইন করে বরাদ্দ করেছে, প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে তা বাতিলের ক্ষমতা থাকা উচিত কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তর (GAO), যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
১০০ ফুট লালগালিচায় শি জিনপিংকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা
১০০ ফুট লালগালিচায় শি জিনপিংকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজকীয় অভ্যর্থনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে এবং সামরিক বিমান উড়িয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে রাজকীয়ভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী পরাশক্তির নেতার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তিন দিনের বৈঠক।   বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে সস্ত্রীক উপস্থিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২০১৫ সালের পর ওয়াশিংটনে শি জিনপিংয়ের এটিই প্রথম সফর। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে দুই নেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইরান যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।   বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে এয়ার চায়নার একটি বিশেষ ফ্লাইটে ওয়াশিংটনে পৌঁছান শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান। বিমান থেকে নামার পরপরই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্প। লালগালিচার দুই পাশে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান মার্কিন রক্ষীদলের সদস্যরা।   এ সময় তাদের মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার প্রতীক দুটি সুপারসনিক বি-১ বোমারু বিমান এবং মার্কিন আর্মি এয়ার ফোর্স ব্যান্ড বাজায় জাতীয় সংগীত। এই অভ্যর্থনার একটি বিশেষ ঐতিহাসিক দিক রয়েছে। ১৯৬২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলানকে স্বাগত জানানোর পর, এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কোনো বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানালেন।   এদিকে শি’র সফরের মধ্যেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তাদের মধ্যকার চলমান বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াবে, যা ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। চুক্তির আওতায় ট্রাম্প কিছু চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছেন এবং বিনিময়ে চীন বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ রপ্তানির ওপর থেকে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে।   ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানান, দুই নেতার মধ্যকার চমৎকার সম্পর্কের কারণেই ট্রাম্প বিমানবন্দরে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শি জিনপিংয়ের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ক্যাই ছি, ভাইস প্রিমিয়ার হে লাইফেং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।   সফর উপলক্ষে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেছেন, চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ এবং আমেরিকাকে পুনরায় মহান করে তোলার লক্ষ্য— এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ সহাবস্থান করতে পারে এবং তা পুরো বিশ্বের জন্যই সুফল বয়ে আনবে।   বৃহস্পতিবার আয়োজিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের এআই খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, যেখানে দুই দেশের প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শুক্রবার শেষ হবে চীনের প্রেসিডেন্টের এই ঐতিহাসিক যুক্তরাষ্ট্র সফর।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি, অনিশ্চয়তায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ায় এক লাখ মার্কিন ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিপুল পরিমাণ ফির প্রস্তাবের ফলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সেখানে অধ্যয়নরত ও কর্মরত হাজারো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী।   নতুন এই নীতির কারণে বিদেশি মেধাবীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারাও পিছিয়ে আসছেন, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে শ্রেয়া মিশ্র রেড্ডির মতো অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্নাতকের ক্যারিয়ারে। চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পর সম্প্রতি বাধ্য হয়েই পাততাড়ি গুটিয়ে কানাডার টরন্টোতে পাড়ি জমিয়েছেন শ্রেয়া।   ভারতে ছয় বছরের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান শ্রেয়া। এরপর ২০২২ সালে ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর তিনি বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘ভিসা’-তে একটি লোভনীয় করপোরেট চাকরি পান।   ডিউক এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর দীর্ঘমেয়াদী বসবাস নির্ভর করছিল সম্পূর্ণ ভাগ্যনির্ভর এইচ-১বি ভিসার লটারির ওপর। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণের প্রস্তাব আনলে ভিসা আবেদনকারী ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।   একজন বিদেশি কর্মীকে নিয়োগ দিতে কোম্পানিগুলোকে এক লাখ ডলার ফি গুনতে হতে পারে— এমন বাস্তবতায় শ্রেয়া চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। চাকরিরত অবস্থায় শ্রেয়া তিনবার এইচ-১বি লটারিতে অংশ নিলেও প্রতিবারই তিনি প্রত্যাখ্যাত হন। তৃতীয়বার প্রত্যাখ্যানের পর তাঁর স্টুডেন্ট ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে আসে।   সেই হতাশাজনক মুহূর্তে নিজের অফিসে বসেই কান্নায় ভেঙে পড়ার কথা সম্প্রতি লিংকডইনে শেয়ার করেছেন তিনি। আইনি অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাধ্য হয়েই আমেরিকা ছাড়েন তিনি। ভারতে ফিরে যাওয়ার বদলে বর্তমানে তিনি পর্যটক ভিসায় কানাডার টরন্টোতে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথ খুঁজছেন।   গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে বিজনেস ইনসাইডার এমন অসংখ্য ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা এই ভিসা-জটিলতার কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন নাকি নিজ দেশে ফিরে যাবেন, তা নিয়ে তীব্র দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন; আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে এই ব্যবস্থা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।   শ্রেয়া বিজনেস ইনসাইডারকে জানান, তিনি সত্যিই বিশ্বাস করেছিলেন যে এইচ-১বি লটারিতে তিনি সফল হবেন, আর সেটি না হওয়ায় তাঁর গভীর আক্ষেপ রয়েছে। তবে নিজের এই প্রবাস জীবনকে তিনি নিছক ব্যর্থতা নয়, বরং ঘুরে দাঁড়ানোর একটি বড় শিক্ষা হিসেবেই দেখছেন।   শ্রেয়ার এই অভিজ্ঞতাটি আমেরিকার শ্রমবাজারে বিদেশি শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীদের বৃহত্তর পরিসংখ্যানগত সংকটেরই একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪১ শতাংশ এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।   পাশাপাশি ২০২৫ সাল নাগাদ ভারতীয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের হারও ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধা ও সময় বিনিয়োগ করার পরও আন্তর্জাতিক প্রতিভাবানদের ক্যারিয়ার যখন তাদের যোগ্যতার বদলে লটারি পদ্ধতি এবং অত্যধিক ভিসা ফির মতো বাধা দিয়ে নির্ধারিত হয়, তখন তা বৈশ্বিক মেধাবীদের জন্য এক চরম হতাশার বাস্তবতাই তুলে ধরে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দিতে আদালতের নির্দেশ
সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার দিতে আদালতের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার অবিলম্বে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন এক ফেডারেল আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ফেডারেল বিচারক টিম কেলি এই আদেশ জারি করেন।   আদেশে ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্ভবত অসাংবিধানিক’ হিসেবে উল্লেখ করে আগামী ১৪ দিনের জন্য তা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে ঢুকতে বাধাগ্রস্ত হন এবং পরবর্তীতে তারা আদালতের দ্বারস্থ হন।   আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে বিচারক টিম কেলি এই যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দেন। আদেশে তিনি স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করলে জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে বা পাস ফিরিয়ে দিলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে— এমন কোনো বাস্তব প্রমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।   এর আগে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ক্রমাগত মিথ্যা ও মনগড়া লেখা ছড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।   ওই সময় ভুয়া খবর প্রচারকারী অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ ও ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর নাম উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আদালতের সর্বশেষ আদেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াইট হাউস এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গোলান মালভূমি নয়, ইসরায়েলকে বরং নিজেদের নিউজার্সি দিয়ে দিন, ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

গোলান মালভূমির বদলে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রসিকতা করেছিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে রসিকতার আড়ালেও গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। শারা বলেছেন, গোলান মালভূমি সিরিয়ার জনগণের ভূখণ্ড এবং সেটি ছেড়ে দেওয়ার অধিকার সিরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির নেই।   ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শারা এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।   শারা জানান, ওই বৈঠকে ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, গোলান মালভূমি ইসরায়েলের। জবাবে তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, ইসরায়েলকে গোলান মালভূমির পরিবর্তে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কারণ গোলান মালভূমি দেওয়ার অধিকার ট্রাম্পের নেই, কিন্তু নিউ জার্সি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড।   শারা আরও বলেন, নিউ জার্সিতে অনেক ডেমোক্র্যাট ভোটার থাকেন এবং তারা ট্রাম্পকে ভোট দেন না। তাই রসিকতার ছলে তিনি বলেছিলেন, অঙ্গরাজ্যটি ইসরায়েলকে দিয়ে দিলে অন্তত এমন একটি জায়গা দেওয়া হবে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব রয়েছে।   তবে নিজের বক্তব্যের পরই শারা স্পষ্ট করেন, গোলান মালভূমির বিষয়টি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সেখানকার মানুষের ভূখণ্ড এবং এটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কিংবা অন্য কারও পক্ষে অন্য কোনো পক্ষকে দিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়।   ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান মালভূমির বড় অংশ দখল করে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল ওই এলাকায় নিজেদের আইন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন সম্প্রসারণ করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই সিদ্ধান্তকে ‘অকার্যকর’ এবং আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের পরবর্তী বিভিন্ন প্রস্তাবেও গোলানকে ‘অধিকৃত সিরীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ২০১৯ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রের মতো গোলানকে সিরিয়ার অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করত। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।   গোলান ইস্যুতে শারার বক্তব্য আসে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের সময়। সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর ইসরায়েল গোলান মালভূমির বাইরে সিরিয়ার কয়েকটি এলাকায় সেনা মোতায়েন করে। সিরিয়ার নতুন সরকার এসব সেনা প্রত্যাহার করে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতাবিষয়ক চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।   আটলান্টিক কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আগে সিরিয়ার জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকবার সমঝোতার কাছাকাছি গেলেও শেষ পর্যায়ে তা আর এগোয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এসব আলোচনায় যুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।   ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে শারা বলেন, প্রথমে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি সমাধান করতে হবে। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান।   গোলান মালভূমির বিষয়ে অবশ্য শারার অবস্থান ছিল অনড়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃত অবস্থান অনুযায়ী এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ নেই। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আগের প্রস্তাবগুলোতেও গোলানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।   অনুষ্ঠানে শারা আরও জানান, ২০১২ সালে সিরিয়ায় নিখোঁজ হওয়া মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের বিষয়েও সিরীয় কর্তৃপক্ষ কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। শারা বলেন, টাইসের বিষয়ে পাওয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে।   তিনি জানান, বাশার আল-আসাদের দীর্ঘ শাসনামলে নিখোঁজ হওয়া বিপুলসংখ্যক সিরীয় নাগরিকের বিষয়েও নতুন সরকার অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করা হয়েছে এবং মরদেহ শনাক্তকরণ ও ফরেনসিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে শারার এই বক্তব্য সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত বিষয় গোলান মালভূমি নিয়ে দামেস্কের অবস্থান আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে তার রসিকতার মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সূত্র: দ্য নিউ আরব, আটলান্টিক কাউন্সিল, জাতিসংঘ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জন্ম পর্যটন ঠেকাতে নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছেন মার্কো রুবিও। ছবি: সংগৃহীত
‘বার্থ ট্যুরিজম’ সহায়তাকারীদের ভিসা সীমিত করার ঘোষণা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার ঘোষণা দিয়েছেন, যারা ‘জন্ম পর্যটন’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ায় জড়িত বা অন্যদের এ কাজে সহায়তা করেন, তাদের ভিসা দেওয়া সীমিত করা হবে।   রুবিওর ঘোষণার আওতায় শুধু যারা নিজেরা জন্ম পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান তারাই নন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা বা ব্যবসা করেন এমন ব্যক্তিরাও পড়বেন। এর মধ্যে এমন মধ্যস্থতাকারী বা ‘ভিসা ফিক্সার’ও রয়েছেন, যারা ভিসা আবেদনকারীদের তথ্য গোপন বা মিথ্যা বলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরামর্শ দেন।   এক বিবৃতিতে রুবিও বলেন, জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত এবং এ থেকে লাভবান ব্যক্তিদের ভিসা দেওয়া সীমিত করে যুক্তরাষ্ট্র একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। তাঁর ভাষ্য, বিদেশিরা যেন মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারেন, সেটিই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।   জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যখন কোনো বিদেশি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেন এবং শিশুটি জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে এমন প্রত্যাশা থাকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ পর্যটন ভিসায় অনুমোদিত নয়।   নতুন নীতির আওতায় যারা জেনেশুনে জন্ম পর্যটনে যুক্ত হয়েছেন বা অন্যদের এ কাজে সহায়তা করেছেন, তাদের ভিসা সীমিত করার ক্ষমতা ব্যবহার করবে পররাষ্ট্র দপ্তর। বাণিজ্যিকভাবে জন্ম পর্যটন পরিচালনা, সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।   জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে প্রশাসন জন্ম পর্যটন ঠেকাতে আরও দুটি নির্বাহী আদেশ জারি করে। এসব পদক্ষেপের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনি সিদ্ধান্তের পর প্রশাসন বিকল্প আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা খুঁজতে থাকে।   এরই ধারাবাহিকতায় আগস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেয়। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই সময় পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৭৫০টির বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা তখন জানান, বিভিন্ন দেশের ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্ম পর্যটনের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগও যুক্ত থাকে। কোনো কোনো আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারেন। এ ধরনের তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।   চীনও এই নীতির আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের আগের বিভিন্ন তদন্তে চীনা নাগরিকদের জন্য পরিচালিত জন্ম পর্যটনকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের মতো এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে অতীতে তদন্ত ও মামলা হয়েছে। তবে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে জড়িত সবাই চীনা নাগরিক এমন কোনো দাবি মার্কিন কর্তৃপক্ষ করেনি।   নতুন ঘোষণাটি এমন সময় এসেছে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, সফরের আগে রুবিওর ঘোষণাটি আসে। তবে ঘোষণার সঙ্গে চীন সফরের সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ব্যাখ্যা, নির্বাহী আদেশের সীমা এবং কংগ্রেসের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নিয়ে এ বিতর্কের বিভিন্ন দিক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জন্ম পর্যটনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে চাইছে, কিন্তু এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর আইনি ভিত্তি নিয়ে আদালতে বিতর্কও হয়েছে।   আগস্টে জন্ম পর্যটন ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করার সময় হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রশাসন বিদ্যমান অভিবাসন আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করেই নতুন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এর ফলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আদালত ও কংগ্রেসের আলোচনারও অংশ হয়েছে।   রুবিওর সর্বশেষ ঘোষণায় মূল লক্ষ্য হিসেবে জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও এর বাণিজ্যিক সহায়তাকারীদের ভিসা প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা আবেদনকারীদের ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অভিবাসন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: ফক্স নিউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নৌবাহিনীর এই রণতরিতে নাবিকদের মানসিক অবসাদের বিষয়টি সম্প্রতি একটি চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ৮ নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা, তোপের মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা এই রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে অভিযানের শুরু থেকে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এসব ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি।   মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবারের তারিখ দেওয়া ওই চিঠিটি বুধবার প্রকাশ্যে আসে। গিলিব্র্যান্ড ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জাহাজের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে নৌবাহিনীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন।   হাং কাওয়ের চিঠি অনুযায়ী, আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার হিসাব শুধু ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মূল ক্রুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে ক্যারিয়ারের বিমান শাখা, ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের কর্মী, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং জাহাজে অবস্থানরত বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।   চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় কোনো নাবিক আত্মহত্যা করে মারা যাননি। এর আগে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বাড়তি সংকট দেখা যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। নতুন তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।   কাও জানান, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য জাহাজে পাঁচজন ধর্মীয় পরামর্শদাতা, একজন মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিরোধবিষয়ক সমন্বয়কারী, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী, তিনজন আচরণগত স্বাস্থ্যকর্মী এবং একটি প্রশিক্ষিত সহায়ক কুকুর ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য জাহাজেও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা ছিল।   নতুন এই তথ্যের সঙ্গে জাহাজটির দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এর অভিযান ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে। পরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজটির দায়িত্বের ক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছানোর আগে জাহাজটি প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল।   মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানের সময় জাহাজটির স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিল। দীর্ঘ সময় কোনো বন্দরে না থেমে দায়িত্ব পালনের কারণে নাবিকদের কর্মপরিবেশ, বিশ্রাম, খাবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে নাবিকদের পরিবার ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগস্টে মার্কিন সিনেটের কয়েকজন সদস্য নৌবাহিনীর কাছে পরিস্থিতি নিয়ে জবাবও দাবি করেন।   আগস্টে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ অভিযান মিশনের প্রয়োজনেই বাড়ানো হয়েছিল। তিনি তখন জানান, নাবিক ও মেরিনদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ওই বিবৃতিতে ২৬৬ দিনের মোতায়েন ও ২০০ দিন যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনা চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছিল, তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।   এদিকে জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ অভিযানের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এমন বক্তব্যকে খাটো করে দেখেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নতুন করে আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার তথ্য প্রকাশের পর তাঁর অবস্থান নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।   সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশাসন যে উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি, সেগুলো এখন গুরুতর পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের এই অংশটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে এবং এটি গিলিব্র্যান্ডের নিজস্ব মূল্যায়ন।   তবে আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার সংখ্যা পুরো নৌবাহিনীর তুলনায় কী অবস্থানে রয়েছে, সে বিষয়েও প্রেক্ষাপট রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে ৩৫৬টি আত্মহত্যার চেষ্টা নথিভুক্ত হয়েছিল। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপে প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে মোতায়েন ছিলেন। তবে একটি নির্দিষ্ট অভিযানের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের বার্ষিক পরিসংখ্যানের সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সময়কাল ও জনসংখ্যার পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগস্টের শুরুতে ক্যারিয়ার এয়ার উইংয়ের একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার করা হয় এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মার্চে আরেক নাবিক পানিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে সহকর্মীরা তাকে থামিয়ে দেন এবং পরে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।   দীর্ঘ অভিযানের অবসানে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ থাইল্যান্ডে নির্ধারিত বন্দর সফরে যায়। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, লায়েম চাবাংয়ে অবস্থানটি ছিল দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর নাবিক ও মেরিনদের বিশ্রাম নেওয়ার একটি সুযোগ। ৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাইক গ্রুপটি থাইল্যান্ড ত্যাগ করে।   আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার নতুন তথ্য প্রকাশের ফলে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য, যুদ্ধকালীন দায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, সিএনএন ও মার্কিন নৌবাহিনী

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মাদুরো আটকের পর ট্রাম্প-রদ্রিগেজের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

মাদুরোকে আটকের পর প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই বৈঠক হয়। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর এটি ছিল ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।   বৈঠকটি ছিল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের চেয়ে তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক। এতে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং নীতিবিষয়ক উপপ্রধান স্টিফেন মিলারও উপস্থিত ছিলেন। রদ্রিগেজের জন্য এটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।   বৈঠকের পর রদ্রিগেজ এটিকে ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করা এবং জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তাসহ কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরে জানান, বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিপুল ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়ও আলোচনা হয়েছে।   রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রতিনিধিদলে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট, তেলমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আলোচনায় জ্বালানি, খনিজ ও ঋণ পুনর্গঠনের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।   জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের এবারের সরাসরি বৈঠক সেই পরিবর্তিত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেই অনুষ্ঠিত হলো।   দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা দেশটির তেলসম্পদকে ঘিরে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। রদ্রিগেজ ওই উদ্যোগকে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও তেলশিল্প আধুনিকায়নের পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পও জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।   রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি রদ্রিগেজের সরকার ভেনেজুয়েলাকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা, বহুপক্ষীয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে অর্থনীতি, জ্বালানি, খনিজ ও ঋণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।   তবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রদ্রিগেজ সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাইরে একদল ভেনেজুয়েলীয় বিক্ষোভকারী নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সমর্থকরাও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের যোগাযোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-রদ্রিগেজ বৈঠক তাই মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। জ্বালানি, খনিজ, নিরাপত্তা ও ঋণ পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসায় দুই দেশের যোগাযোগের পরিধিও স্পষ্ট হয়েছে। তবে বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলকে গোলান মালভূমি দেওয়ার বদলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন, ট্রাম্পকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে এক আলোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, ইসরায়েলকে গোলান মালভূমি দেওয়ার বদলে নিউ জার্সি দিয়ে দিতে পারেন। গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন। ২৩ সেপ্টেম্বরের ওই আলোচনায় তিনি একই সঙ্গে বলেন, গোলান মালভূমি কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে একজন আরেকজনকে তা দিয়ে দেবেন।    আল শারা বলেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তখন তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, যদি ইসরায়েলকে কোনো ভূখণ্ড দিতে এতটাই আগ্রহ থাকে, তাহলে নিউ জার্সি দেওয়া যেতে পারে। কারণ, তার ভাষায়, ট্রাম্প নিউ জার্সির মালিক হলেও গোলান মালভূমির মালিক নন।    আল শারা আরও বলেন, নিউ জার্সিতে ডেমোক্র্যাট ভোটার বেশি এবং তারা সাধারণত ট্রাম্পকে ভোট দেন না। তাই রসিকতার অংশ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলকে নিউ জার্সি দিয়ে দিলে বিষয়টি হয়তো ভালোই হতো। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি ছিল কেবল একটি রসিকতা। গোলান মালভূমি নিয়ে তার মূল বক্তব্য ছিল ভিন্ন।   সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, গোলান মালভূমি সেখানকার মানুষের এবং কোনো সিরীয় বা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই অন্য কারও কাছে ওই ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার অধিকার নেই। তার বক্তব্যে গোলান ইস্যুতে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান আবারও উঠে আসে।    গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল সেখানে নিজেদের আইন, বিচারিক এখতিয়ার ও প্রশাসন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনে কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদও পরবর্তী বিভিন্ন প্রস্তাবে গোলানকে দখলকৃত সিরীয় ভূখণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে।    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আলাদা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেন। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক নথিতেও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদের ওই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    আল শারার মন্তব্যের সময় সিরিয়া ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও নিউইয়র্কে আলোচনা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনাও চলছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এসব যোগাযোগকে এখনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, সিরিয়ার ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আল শারার নিউ জার্সি নিয়ে রসিকতা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও, তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল গোলান মালভূমির বিষয়ে সিরিয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমায় বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ওবামাকেয়ারে অনিয়মের অভিযোগ, ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় থাকা ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বিমা তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এসব তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নাম যুক্ত করা বা যোগ্যতা নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)।   মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য প্রকাশ করে সিএমএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যার আওতায় ছিলেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব বাতিলের ফলে আগাম দেওয়া প্রিমিয়াম কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ফেরত আসবে বলে আশা করছে সিএমএস।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বাতিল হওয়া তালিকাভুক্তির মধ্যে এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের অস্তিত্ব নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন রয়েছে, আবার এমন বাস্তব ব্যক্তিও রয়েছেন যারা স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেননি। কিছু মানুষকে তাদের অজান্তেই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।   সিএমএসের প্রশাসক মেহমেট ওজ জানিয়েছেন, যেসব তালিকাভুক্তিকে ‘ফ্যান্টম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিষয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন তারা হয় বাস্তবে ওই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার কথা জানতেন না, অথবা তাদের অস্তিত্বই নিশ্চিত করা যায়নি। এসব ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং তারা বিমার আওতায় কোনো দাবি জমা দিয়েছেন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   এই পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় মানুষকে যুক্ত করা এজেন্ট ও ব্রোকারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সিএমএস। সংস্থাটি ২০২৬ সালের আবেদনগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, যেমন সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, না থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক হারে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে ৫৬৯ জন ব্রোকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১০০ জনের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬৬ জনকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   সিএমএসের অভিযোগ, কিছু ব্রোকার গ্রাহকের প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই তাদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত করেছেন, অনুমতি ছাড়া পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করেছেন অথবা কমিশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক আবেদন তৈরি করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে নতুন করে নিবন্ধিত হওয়া এজেন্ট ও ব্রোকারদের সংখ্যা মোট ব্রোকারদের তুলনায় কম হলেও তাদের মধ্যে অননুমোদিত তালিকাভুক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে।   এ কারণে নতুন এজেন্ট ও ব্রোকার নিবন্ধনের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশও দিয়েছে সিএমএস। ২০২৬ সালের জন্য সক্রিয় এক্সচেঞ্জ চুক্তি নেই এমন এজেন্ট ও ব্রোকাররা ২০২৭ সালের পরিকল্পনার জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা।   তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রফেশনালস নামের একটি শিল্প সংগঠন বলেছে, সব নতুন ব্রোকারের ওপর একসঙ্গে স্থগিতাদেশ দিলে বৈধভাবে কাজ করা পেশাজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংগঠনটি অনিয়মে জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।   সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের পরিকল্পনা বছরে অননুমোদিত ও সন্দেহজনক ওবামাকেয়ার তালিকাভুক্তির কারণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল করা তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগাম দেওয়া কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে বলে সিএমএস জানিয়েছে। ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ওবামাকেয়ার মূলত ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্রণীত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমানোর সুযোগ রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইনটি বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তা সফল হয়নি। তার প্রশাসন বর্তমানে এই কর্মসূচির বিভিন্ন নিয়ম ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।   এর আগে চলতি বছরের জুনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের নীতিবিষয়ক কার্যালয় এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওবামাকেয়ারে নতুন করে যুক্ত হওয়া মানুষের প্রায় অর্ধেকের তালিকাভুক্তি অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এ ধরনের তালিকাভুক্তির সংখ্যা আনুমানিক ৫৬ লাখে পৌঁছেছিল। তবে এগুলো সরাসরি প্রমাণিত প্রতারণার সংখ্যা নয়, বরং সরকারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা অনুমান।   সিএমএস আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ার এক্সচেঞ্জ পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, এর মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ তালিকাভুক্তি এখনও অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিমা খাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং সরকারি হিসাবগুলো মূলত প্রশাসনিক তথ্য ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকের মাসিক বিমা প্রিমিয়াম বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে ওবামাকেয়ার থেকে অনেক মানুষের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর সরকারি পদক্ষেপ স্বাস্থ্যবিমা বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (CMS)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তানদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। ছবি: সংগৃহীত
সন্তান দেখাশোনায় বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা, ট্রাম্পের পরিকল্পনায় লাভবান হবেন যারা

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে থাকার সুযোগ তৈরি করতে বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলেও বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনে চলে যাবেন কি না, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তানদের দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনই কাজ করেন, তাদের জন্য শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর খরচ বড় আর্থিক চাপ তৈরি করে। কিন্তু এই খরচ বেশি হলেও অনেক অভিভাবকের পক্ষে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। কারণ চাকরির বেতন ছাড়াও স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সঞ্চয় ও অন্যান্য কর্মসংস্থান সুবিধা পরিবারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবের আওতায় যোগ্য পরিবারকে প্রতি সন্তান বছরে ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি দম্পতির একজনকে নির্দিষ্ট সময় কাজ করতে হবে এবং অন্যজনকে সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরে থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের আয় সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদদের একজন রেবেকা গ্রুন ফন ইয়োল্ক নিউজউইককে বলেন, এই ধরনের সহায়তা জার্মানিতে আগে চালু থাকা একটি ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের অর্থ অনেক সময় এমন পরিবারই বেশি পায়, যারা কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার ব্যবহার করত না। অর্থাৎ যারা আগে থেকেই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য একজন অভিভাবককে ঘরে রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন বা ইতোমধ্যে তা করছিলেন, তারাই তুলনামূলকভাবে বেশি উপকৃত হতে পারেন।   মার্কিন পরিবারের জন্য বছরে ৯ হাজার ডলার কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সন্তানের সংখ্যা এবং শিশু পরিচর্যার ব্যয়ের ওপর। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ণকালীন কর্মরত মায়েদের মধ্যম বার্ষিক আয় প্রায় ৬৫ হাজার ডলার। কর পরিশোধের পর অঙ্গরাজ্য ও ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই আয় কমে প্রায় ৫২ হাজার ডলারে দাঁড়াতে পারে।   অন্যদিকে, একটি শিশুর শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক খরচ প্রায় ১৩ হাজার ডলার হলে, শুধু একজন কর্মজীবী অভিভাবকের চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে সব পরিবারের জন্য লাভজনক হবে না। কারণ ৯ হাজার ডলারের সহায়তা পাওয়ার পরও চাকরি থেকে পাওয়া আয়, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধা হারানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।   তবে একাধিক ছোট সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাবটি ভিন্ন হতে পারে। গেটিসবার্গ কলেজের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ব্রেন্ডন কাশিং-ড্যানিয়েলস নিউজউইককে বলেন, কয়েকটি ছোট সন্তান থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবকের চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।   তিনি উদাহরণ হিসেবে মিসিসিপির একটি পরিবারের কথা উল্লেখ করেন। ধরা যাক, পরিবারের একজনের বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ডলার এবং অন্যজনের আয় ৫০ হাজার ডলার। তিন সন্তানের জন্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার ডলার শিশু পরিচর্যা ব্যয় হলে, একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার ক্ষেত্রে কর সাশ্রয় এবং তিন সন্তানের জন্য মোট ২৭ হাজার ডলার সহায়তা মিলিয়ে পরিবারের হাতে থাকা অর্থ বাড়তে পারে।   বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশেও শিশু পরিচর্যার পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান দেখাশোনা করা অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফিনল্যান্ডে তিন বছরের কম বয়সী সন্তানকে সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে না পাঠানো পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সেখানে মূল ভাতার পরিমাণ ৩৭৭.৬৮ ইউরো এবং অতিরিক্ত প্রতিটি সন্তানের জন্য আরও ১১৩.০৭ ইউরো দেওয়া হয়।   হাঙ্গেরিতেও নির্দিষ্ট শর্তে অভিভাবকেরা সন্তানকে বাড়িতে রাখার জন্য সহায়তা পেতে পারেন। দুই বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক তার বেতনের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পেতে পারেন। এরপর সন্তান তিন বছর বয়সে পৌঁছানো পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট দেওয়া হতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও একমত দেখা যায়নি। রক্ষণশীল ভাষ্যকার মাইকেল নোলস এটিকে ট্রাম্পের অন্যতম সেরা নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কোলভেটও প্রস্তাবটির প্রশংসা করেছেন।   তবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের মতে, ৯ হাজার ডলার যথেষ্ট নয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এই অর্থ আরও বাড়ানো উচিত এবং যারা সন্তানদের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করান, তাদেরও বিভিন্ন কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।   অন্যদিকে, কিছু রিপাবলিকানই প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাঞ্জেলা মরাবিতো বলেছেন, কর্মজীবী মায়েদের কাছ থেকে কর নিয়ে অন্যদের ঘরে থাকার জীবনযাপনকে অর্থায়ন করা হলে তা কর্মজীবী নারীদের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।   প্রস্তাবটি নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে শিশু পরিচর্যার বিদ্যমান সরকারি তহবিল নিয়ে। সমালোচকেরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শিশু পরিচর্যা ও উন্নয়ন তহবিলের অর্থ নতুনভাবে বণ্টন করতে হতে পারে। এই তহবিলের আওতায় অঙ্গরাজ্যগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে শিশু পরিচর্যার ব্যয়ে সহায়তা করে থাকে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন ইকুয়াল অপরচুনিটি বলেছে, বর্তমানে যারা এই তহবিলের সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   তবে একজন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধু শিশু পরিচর্যার খরচের সঙ্গে বেতনের তুলনার ওপর নির্ভর করে না। চাকরি ছাড়লে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয় বা ৪০১(কে) সুবিধা হারানোর সম্ভাবনাও থাকে। আবার সন্তানরা স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পর কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসাও সবসময় সহজ হয় না।   স্বাস্থ্যবিমাও অনেক পরিবারের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো পরিবারে একজনের বেতন বেশি হলেও অন্যজনের চাকরিতে তুলনামূলক ভালো বা কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা থাকতে পারে। ফলে কোন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, সেটি নির্ধারণ করতে পরিবারগুলোকে একাধিক আর্থিক ও সামাজিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।   ট্রাম্প প্রশাসন মে ২০২৬-এ পরিবার ও শিশু পরিচর্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল। হোয়াইট হাউস তখন শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির কথা জানিয়েছিল।   তবে বছরে ৯ হাজার ডলার করে সহায়তার প্রস্তাবের চূড়ান্ত কাঠামো, অর্থের উৎস এবং কারা এর আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কতসংখ্যক পরিবার এতে উপকৃত হবে বা কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   সূত্র: নিউজউইক, হোয়াইট হাউস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ১৭,৫০০ জনকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিপীড়িত মানুষের জন্য শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি কার্যত কঠোর ও সীমিত রাখলেও দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির ১৭ হাজার ৫০০ শ্বেতাঙ্গ ‘আফ্রিকানার’কে আগামী এক বছরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।   কংগ্রেসের কাছে পাঠানো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক নোটিশের বরাতে সিবিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত এই বিশেষ শরণার্থী কোটার সিংহভাগই দেওয়া হবে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে, যাদের ওপর বর্ণবাদী কারণে নির্যাতন চলছে বলে দাবি করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।   ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্ণবাদ-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাচ ও ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত এই আফ্রিকানাররা তীব্র বৈষম্য ও দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কৃষি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, শিক্ষা ও চাকরিতে সমান সুযোগ বিনষ্টকারী সরকারি নীতি এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক সহিংসতার মুখে পড়ছে এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।   এমনকি আফ্রিকানারদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কর্মকর্তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে পরিচালিত হতে যাওয়া এই পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রসঙ্গে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, এই আফ্রিকানাররা মার্কিন সমাজের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেবে এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা হবে না।   যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকানারদের ওপর 'গণহত্যা' চলছে বলে দাবি করে আসছেন, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। অতীতে ওভাল অফিসে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সামনে ট্রাম্প দেশটির খামারগুলোতে কৃষক হত্যার ভিডিও দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।   তবে স্বাধীন বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার খামারগুলোতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো দেশটির সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধ প্রবণতারই একটি অংশ, যা সব বর্ণের নাগরিককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে; একে শুধু শ্বেতাঙ্গদের ওপর নির্দিষ্ট 'গণহত্যা' হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবিকে চরম বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে চান না একাধিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী
ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে চান না একাধিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতর থেকেই প্রকাশ্য দূরত্বের মুখে পড়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বড় পরাজয় এবং জো বাইডেন প্রশাসনের নীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে ঝুঁকির মুখে থাকা একাধিক অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নির্বাচনী মঞ্চে তাঁকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।   আইওয়া, কানসাস, টেক্সাস ও অ্যারিজোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে পাশে চান না। আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর পদপ্রার্থী রব স্যান্ড স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই এবং এখন দলটির নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।   একইভাবে কানসাসের সিনেট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনও জানিয়েছেন, সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে হলে তাদের কমলা হ্যারিসের চেয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই মাঠে নামতে হবে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটির কট্টর সমর্থকদের একাংশের কাছে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিসের কিছুটা আবেদন থাকলেও ট্রাম্পের কাছে সাম্প্রতিক পরাজয় তাঁর অবস্থানকে অত্যন্ত দুর্বল করে দিয়েছে।   ইউসি বার্কলে সিট্রিন সেন্টার ও পলিটিকোর সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, এমনকি তাঁর নিজ রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াতেও ২০২৮ সালে হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিয়ে ভোটারদের উদ্দীপনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাটপন্থী ভোটারদের ৫৫ শতাংশই তাঁর পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না।   ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিওসম এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হ্যারিস প্রার্থী হলে তিনি হয়তো পথ ছেড়ে দেবেন, তবে তিনি মনে করেন না কমলা আবার নির্বাচন করবেন। দলের এমন নানামুখী সমীকরণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাঠে হ্যারিসকে এক জটিল বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে।   তবে এই বিরোধিতার উল্টো চিত্র দেখা গেছে মিশিগানে। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হওয়া জোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে হ্যারিসকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক ইউএস সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ।   তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আরব-আমেরিকান ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘোচাতে হ্যারিসের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডেট্রয়েটে কৃষ্ণাঙ্গ মাতৃস্বাস্থ্য এবং নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপির (NAACP) ভোটাধিকার ফোরামে তাঁদের যৌথভাবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   দলীয় নেতাদের একাংশের এমন অনাগ্রহ বা সরাসরি প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও প্রকাশ্যে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনে জিততে যা প্রয়োজন বলে মনে করেন, তাতে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।   সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাপিয়ে নেভাডা, জর্জিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ২০২৮ সালের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো না করে এই মুহূর্তে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকেই নিজের পূর্ণ মনোযোগ সীমাবদ্ধ রাখছেন বলে জানিয়েছেন কমলা হ্যারিস।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
অনলাইনে হুমকির ঘটনায় তদন্ত চালায় এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি নিউইয়র্কের যুবকের, আদালতে দোষ স্বীকার

নিউইয়র্কের বিংহ্যামটনের ৩৩ বছর বয়সী জেফরি স্কট হ্যাম জুনিয়র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি অন্যকে আহত করার হুমকি অনলাইনে পাঠানোর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলায় তার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে হ্যাম নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে একটি অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে একাধিকবার ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের হত্যা বা আহত করার হুমকি পোস্ট করেন। প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তা কর্মীরা এসব পোস্ট শনাক্ত করে এফবিআইকে জানান।   এরপর এফবিআই হুমকিগুলো নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং হ্যামের সঙ্গে অনলাইন পোস্টগুলোর সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে। তদন্তের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল মামলায় তার বিরুদ্ধে অনলাইনে হুমকি পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়।   আদালতে দোষ স্বীকারের মাধ্যমে হ্যাম স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই হুমকিমূলক বার্তাগুলো অনলাইনে প্রকাশ করেছিলেন। তবে আদালতে দোষ স্বীকার করা মানে মামলার শাস্তি তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত হয়ে যাওয়া নয়। ফেডারেল আদালতের বিচারক পরবর্তী শুনানিতে আইন ও ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা বিবেচনা করে সাজা নির্ধারণ করবেন।   হ্যামের সাজা ঘোষণার শুনানি আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই শুনানিতে আদালত তার অপরাধের ধরন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করবে। মামলাটিতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সুযোগ রয়েছে।   অনলাইনে ফেডারেল কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্টকে হত্যার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে তদন্ত ও বিচারের আওতায় আসতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও আইসিই কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে অনলাইনে হুমকির কয়েকটি ঘটনায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও মামলা করেছে। তবে প্রতিটি মামলায় অভিযোগ, প্রমাণ ও সম্ভাব্য সাজা আলাদা।   হ্যামের মামলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা কর্মীদের দেওয়া তথ্য তদন্তের সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করেছে। এখন আগামী জানুয়ারির সাজা ঘোষণার শুনানির দিকে নজর রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জোহরান মামদানি সঙ্গে হঠাৎ গ্রেসি ম্যানশনে গোপন বৈঠকে ট্রাম্প, আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধোঁয়াশা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে গিয়ে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি ছিল বন্ধ দরজার আড়ালে এবং এর আগে এ নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়নি।    মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বাহর আগে জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প ও মামদানি শহর এবং এর বাসিন্দাদের সরাসরি প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। হোয়াইট হাউসও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগেও বৈঠক হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামদানি ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিউইয়র্কের আবাসন ও ফেডারেল বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের একটি প্রতীকী প্রথম পৃষ্ঠার কপি উপহার দেন, যার শিরোনাম ছিল “ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড”। এটি ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক “ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড” শিরোনামের প্রতি ইঙ্গিত ছিল।    ট্রাম্প ও মামদানির রাজনৈতিক অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই ভিন্ন। মামদানি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট হিসেবে পরিচয় দেন। অন্যদিকে ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে মামদানির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আবাসন, ফেডারেল অর্থায়ন, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিটি ও ফেডারেল প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিউইয়র্কবাসীর ওপর।   সম্প্রতি নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা তহবিলের ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তুলেছেন। নিউইয়র্কের নিরাপত্তা কার্যক্রমে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে ফেডারেল কর্মকর্তারা নিউইয়র্কের হাতে অব্যবহৃত নিরাপত্তা তহবিল রয়েছে বলে পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন।    গ্রেসি ম্যানশনে সোমবারের বৈঠকের মাধ্যমে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার আরেকটি পর্ব শুরু হলো। তবে বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধের জেরে হোয়াইট হাউস চালু করেছে নিজস্ব চ্যানেল ট্রাম্প টিভি। ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে চালু হলো ‘ট্রাম্প টিভি’, তিন সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধের পর নতুন উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ২৪ ঘণ্টার ভিডিও সম্প্রচার সেবা চালু করেছে। ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামের এই নতুন চ্যানেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের ভিডিও সরাসরি ও নিয়মিত প্রচার করা হবে।   সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় নতুন এই ভিডিও চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো এক জায়গা থেকে দেখার সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ। সম্প্রচার শুরুর পর প্রথম দিকের একটি ভিডিওতে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য দেখানো হয়।   হোয়াইট হাউসের উপসহকারী প্রেসিডেন্ট কায়লান ডর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এটিকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর ‘নির্বাচিত সম্প্রচার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নতুন সেবাটিতে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনের অন্যান্য ভিডিও সরাসরি ও পরবর্তীতে দেখার সুযোগ থাকবে।   হোয়াইট হাউসের এই উদ্যোগের সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প প্রশাসন সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।   সোমবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করে। সংবাদমাধ্যম তিনটির দাবি, তাদের সংবাদ পরিবেশনের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আদালতের কাছে দ্রুত প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।   অন্যদিকে হোয়াইট হাউস বলছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে প্রকাশের অধিকার প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত হলেও কোনো নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসের বিশেষ অনুমতিপত্র, ব্রিফিং রুমে আসন বা প্রেস পুলে অংশ নেওয়ার স্বয়ংক্রিয় অধিকার নেই। প্রশাসন আরও দাবি করেছে, নিষেধাজ্ঞার পেছনে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দীর্ঘদিনের ভুল বা নেতিবাচক প্রতিবেদন রয়েছে।   এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন প্রেস পুলেও। সাধারণত প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও সফরের ভিডিও ধারণের দায়িত্ব কয়েকটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ফুটেজ পরে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কাছেও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার পর প্রেস পুলের অন্য নেটওয়ার্কগুলোও প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠানগুলোর পুল কভারেজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।   এর ফলে সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাওয়ার আগে ট্রাম্পের কার্যক্রমের নিয়মিত টেলিভিশন পুল ক্যামেরা কভারেজও ছিল না। এর পরিবর্তে হোয়াইট হাউস নিজস্ব ভিডিও ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফুটেজ সরবরাহ করে।   সোমবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধনের অনুষ্ঠানেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রচলিত টেলিভিশন পুল কভারেজ না থাকায় হোয়াইট হাউস নিজস্ব ক্যামেরায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। তবে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের ইঞ্জিনের শব্দের কারণে ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছু অংশ স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   নতুন ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুর ফলে হোয়াইট হাউস এখন প্রেসিডেন্ট ও প্রশাসনের ভিডিও সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নিজস্ব একটি মাধ্যম পেল। এর মাধ্যমে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে প্রশাসন সরাসরি দর্শকদের কাছে ভিডিও কনটেন্ট পৌঁছাতে পারবে।   তবে নতুন চ্যানেলটির সমালোচনাও শুরু হয়েছে। কিছু সমালোচক এটিকে সরকারি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এসব মন্তব্য মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসেছে। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস এটিকে প্রশাসনের কার্যক্রম জনগণের কাছে সরাসরি তুলে ধরার একটি যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করছে।   যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম বলতে সাধারণত এমন সংবাদ সংস্থাকে বোঝানো হয়, যার মালিকানা, অর্থায়ন বা সম্পাদকীয় কার্যক্রম সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের অধীনে থাকে। হোয়াইট হাউসের নতুন ভিডিও সেবা সেই অর্থে আলাদা কোনো স্বতন্ত্র সংবাদ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত এটি প্রশাসনের নিজস্ব ভিডিও সম্প্রচার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।   এদিকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর করা মামলার শুনানি দ্রুত হতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে নিষিদ্ধ সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা আবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ পাবেন কি না। ফলে একদিকে নতুন সরকারি ভিডিও প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে, অন্যদিকে হোয়াইট হাউস ও প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে প্রবেশাধিকার নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে।   সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বললেন জেডি ভ্যান্স
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বললেন জেডি ভ্যান্স

হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের টারমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বলে দাবি করেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘নিষেধাজ্ঞা’ বললেও, ভ্যান্সের দাবি—কাউকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, বরং অপপ্রচারে লিপ্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সুবিধা বা প্রবেশাধিকার বাতিল করা হচ্ছে।   প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত নেতিবাচক কভারেজের সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, এ ধরনের একপেশে খবর মার্কিন জনগণের প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায় না। তাই চরম বামপন্থী অপপ্রচারে যুক্ত থাকলে হোয়াইট হাউস কেন তাদের বিশেষ সুযোগ দেবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।   তবে এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা বা অধিকার হরণ করে না দাবি করে ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন, তারা এখনো প্রশাসন নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারবে এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারবে। তারা কেবল হোয়াইট হাউসে স্থায়ী দপ্তর ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ হারাবে, যতক্ষণ না তারা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মতো আচরণ শুরু করে।   এদিকে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের জবাবে সংবাদমাধ্যমের যৌথ প্রতিবাদ ও বয়কট আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভিডিও কভারেজ বর্জনের পর এবার স্থিরচিত্র বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পত্রিকাটি জানায়, নিষিদ্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সমর্থনে আলোকচিত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগ কিংবা জাতিসংঘ অধিবেশনসহ কোনো কর্মসূচির ছবিই তারা প্রকাশ করবে না। সংবাদমাধ্যমের এই জোরালো অবস্থান হোয়াইট হাউসের সাথে গণমাধ্যমের চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
এআই নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠক, এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব

আসন্ন ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠকের আগে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন একটি ‘নোটিফিকেশন মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাব উঠেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের প্রায় আট ঘণ্টার আলোচনায় এআইয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।   বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন ‘এআই ডায়ালগ’ চালুর মাধ্যমে এমন কোনো এআই ঘটনা, যা জাতীয় নিরাপত্তার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে দুই দেশ পরস্পরকে অবহিত করার একটি ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য এআই প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও স্বচ্ছতা বাড়ানো।   বৈঠকের পর বেসেন্ট আলোচনাকে ‘খুবই সফল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষ দুই এআই শক্তির মধ্যে সাধারণ ঝুঁকি ও অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে যোগাযোগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে চীনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।   বাণিজ্য নিয়েও বৈঠকে অগ্রগতি হয়েছে। দুই দেশ ‘বোর্ড অব ট্রেড’ নামে একটি প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল নয় এমন কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। সম্ভাব্য পণ্যের মধ্যে চীনের ভোক্তা ও কম প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকতে পারে।    তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ এবং দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য বিরতির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। ১০ নভেম্বর বর্তমান বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শুল্ক কমানো ও বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি তাই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।    এই বৈঠকের পর এখন নজর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের দিকে। নিউইয়র্কের আলোচনায় এআই নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর কোনোটি শীর্ষ বৈঠকে আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    Source: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের ৫ ক্যাটাগরি

গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০