বিশ্ব

ভারতের নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভে সহিংসতা, মজুরি বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নয়ডা শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে বিভিন্ন কারখানাকেন্দ্রিক এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বহু শ্রমিককে আটক করা হলে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও অন্তর্নিহিত অসন্তোষ এখনো কাটেনি।

 

শ্রমিকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাসিক বেতন ১০ থেকে ১৫ হাজার রুপির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে প্রতিবেশী হরিয়ানা রাজ্যের সাম্প্রতিক ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হলেও নয়ডার শ্রমিকরা একই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করছেন। এতে তাদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তীব্র হয়েছে।

 

উত্তরপ্রদেশ সরকার সাময়িকভাবে মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তাদের দাবি, এটি কেবল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি অস্থায়ী উদ্যোগ।

 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আন্দোলনের একটি বড় দুর্বলতা হলো শক্তিশালী কোনো ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বের অভাব। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নামলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না থাকায় আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।

 

এদিকে, নয়ডার অধিকাংশ কারখানা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক হওয়ায় মালিকপক্ষও চাপের মুখে রয়েছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অসন্তোষকে আরও উসকে দিচ্ছে।

 

পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই বিক্ষোভ শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাও বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত জীবনমানের দাবিতে সরব হতে শুরু করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের রহস্যজনক মৃত্যু-নিখোঁজ, তদন্তে নামছে প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক ও মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি বলেছেন—খুব শিগগিরই এ রহস্যের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যেতে পারে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে অন্তত ৯ থেকে ১০ জন বিজ্ঞানী রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই পারমাণবিক প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটি কাকতালীয় হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং দ্রুতই তদন্তের অগ্রগতি জানা যাবে।   বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানায়, নিখোঁজ ও নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণাগার, মহাকাশ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ফিউশন গবেষণা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ঘটনাগুলো জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এদিকে হোয়াইট হাউস-এর প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, তিনি এখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেননি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।   বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ঘটনাগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো সংগঠিত যোগসূত্রের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং এগুলোকে একক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখার আগে সতর্ক থাকা উচিত।   অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তি বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা ক্রিস সুইকারের মতে, সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ঝুঁকির মুখে থাকতে পারেন।   সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অনেক বিজ্ঞানী নিখোঁজ হওয়ার আগে বাড়ি থেকে বের হলেও তাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র—মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ বা চাবি—বাড়িতেই পাওয়া গেছে। আবার কয়েকজন খ্যাতনামা বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়েছে অস্বাভাবিক বা সহিংস পরিস্থিতিতে।   এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটি প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টার রয়েছে—যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   এমন প্রেক্ষাপটে, এসব রহস্যজনক ঘটনার পেছনে নিরাপত্তা ভঙ্গ, গুপ্তচরবৃত্তি বা অন্য কোনো হুমকি রয়েছে কি না—তা নিয়ে তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির পর লেবাননের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পর্তুগালের

ছবি: সংগৃহীত

‘মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংস করছে’—ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে পোপ লিওর কড়া বক্তব্য

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ। ফাইল ছবি

স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া সমঝোতা নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায় দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার। ছবি: সংগৃহীত
শিশু ও শিক্ষাখাতে সহযোগিতা জোরদারে ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার

শিক্ষা ও শিশুদের কল্যাণে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে তিন দিনের সফরে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার।   সফরকালে তিনি বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের অধীন ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের সুরক্ষা, কল্যাণ ও সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।   তিন দিনের এই সফরে হার্ডার সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। দুই দেশের সহযোগিতার মাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, সেটিই আলোচনার প্রধান বিষয় হবে।   সফরসূচিতে শিক্ষা, শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং শিশু অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকগুলো গুরুত্ব পাবে।   ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সফরের সময় বিশেষ দূত সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে শিশুদের কল্যাণে বাস্তবসম্মত ও টেকসই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে।   বর্তমানে বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা চার্লস জে. হার্ডার পেশায় একজন আইনজীবী। যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত আছেন এবং ব্যবসা, গণমাধ্যম ও সাংবিধানিক আইনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে মাইন অপসারণে নতুন কৌশল, ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি ভাঙলে ‘ট্রিগারে আঙুল’—ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমালো মিয়ানমার সরকার

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভে সহিংসতা, মজুরি বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

ভারতের নয়ডা শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে বিভিন্ন কারখানাকেন্দ্রিক এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বহু শ্রমিককে আটক করা হলে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও অন্তর্নিহিত অসন্তোষ এখনো কাটেনি।   শ্রমিকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাসিক বেতন ১০ থেকে ১৫ হাজার রুপির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।   পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে প্রতিবেশী হরিয়ানা রাজ্যের সাম্প্রতিক ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হলেও নয়ডার শ্রমিকরা একই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করছেন। এতে তাদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তীব্র হয়েছে।   উত্তরপ্রদেশ সরকার সাময়িকভাবে মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তাদের দাবি, এটি কেবল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি অস্থায়ী উদ্যোগ।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আন্দোলনের একটি বড় দুর্বলতা হলো শক্তিশালী কোনো ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বের অভাব। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নামলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না থাকায় আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।   এদিকে, নয়ডার অধিকাংশ কারখানা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক হওয়ায় মালিকপক্ষও চাপের মুখে রয়েছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অসন্তোষকে আরও উসকে দিচ্ছে।   পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই বিক্ষোভ শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাও বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত জীবনমানের দাবিতে সরব হতে শুরু করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ সংকট নিরসনে ৪০ দেশের বৈঠক, উদ্যোগে যুক্তরাজ্য–ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ সংকটে দস্তানা বাজারে অস্থিরতা, স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ছে সংকটের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত।

অস্ট্রেলিয়া সফরে হ্যারি-মেগান: রাজকীয় জীবন নিয়ে পুরনো ক্ষোভ আর তিক্ত অভিজ্ঞতা জানালেন ডাচেস

0 Comments