জীবনযাত্রার ব্যয়

ঋণমুক্ত জীবনের আশায় দুই সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে না পেরে ভিটেমাটি ত্যাগ: বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে ইতালিতে পাড়ি জমাচ্ছেন অস্ট্রেলীয় দম্পতি

অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন খরচ এবং আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুইন্সল্যান্ডের এক দম্পতি। নিজেদের বাড়ি ও চাকরি ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে তারা ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই ঋণমুক্ত জীবন শুরু করতে পারবেন।   ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টের বাসিন্দা ক্রিস্টি-গ্লোরি গ্যালো (কেজি) এবং তার স্বামী রিকার্ডো পারাটা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইতালির তুসকানি অঞ্চলের ঐতিহাসিক শহর লুক্কায় বসবাস শুরু করবেন। দম্পতির দুই সন্তানের বয়স ১১ ও ৭ বছর। পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করেছেন তারা।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, তারা অল্প বয়সেই বিয়ে করেছেন, বাড়ি কিনেছেন, ব্যবসা শুরু করেছেন, ব্যবসা বিক্রিও করেছেন, সম্পত্তি সংস্কার করেছেন এবং পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি দুই সন্তানকে বড় করেছেন। জীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রচলিত সব পথই অনুসরণ করেছিলেন তারা। কিন্তু এত কিছুর পরও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক স্বস্তি পাননি।   তার ভাষায়, "আমরা বসে নিজেদের প্রশ্ন করলাম, এত চেষ্টা করার পরও কেন মনে হচ্ছে আমরা এগোতে পারছি না?" ক্রিস্টি-গ্লোরি ইন্টেরিয়র ডিজাইন ও স্টাইলিং খাতে কাজ করেন। অন্যদিকে রিকার্ডো শিক্ষা খাতে কর্মরত। তারা জানান, প্রতিদিনের খরচ বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুরো জীবনযাত্রা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হন।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "প্রতিবার বিল এলে গভীর শ্বাস নিতে হতো। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সেটাও দেখে নিতে হতো।" তিনি আরও বলেন, তার স্বামীর আয়ের ওপর করের বোঝাও অনেক বেশি হয়ে উঠেছিল।   গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে খরচ কমানোর জন্য পরিবারটি নানা উদ্যোগ নেয়। বিনোদনমূলক অনলাইন সেবার সদস্যপদ বাতিল করা, সন্তানের ফুটবল ক্লাব পরিবর্তন করা, অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, "আমরা বিলাসবহুল গাড়ি চালাই না। খুব সাধারণভাবেই জীবন কাটিয়েছি। তারপরও মনে হয়েছে শুধু খরচ কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।" শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নেন, জীবনযাত্রাকে আরও সীমাবদ্ধ না করে বরং নতুন দেশে নতুনভাবে শুরু করবেন। এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ ছিল আবাসনের দামের বিশাল পার্থক্য।   দম্পতি জানান, ২০২৩ সালে তারা গোল্ড কোস্টে ৫ লাখ ২৫ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারে একটি টাউনহাউস কিনেছিলেন। পরে সেটি সংস্কার করেন। বর্তমানে বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কাছাকাছি। অন্যদিকে ইতালির লুক্কায় তারা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) মূল্যের সম্পূর্ণ সংস্কার করা তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন।   তাদের দাবি, বাড়িটিতে নতুন পাইপলাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ, তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, জানালা ও তাপ নিরোধকসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা আগে থেকেই রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত সংস্কারের প্রয়োজন হবে না। অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি করলে ইতালির নতুন বাড়ি কেনার পরও তাদের হাতে সঞ্চয় থাকবে এবং সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত জীবন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।   পরিবারটির ইতালিতে স্থায়ী হওয়ার পথ সহজ হয়েছে রিকার্ডোর ইতালীয় বংশসূত্রের কারণে। তিনি ইতালির নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দুই সন্তানও দ্বৈত নাগরিকত্ব অর্জন করেছে। আর ক্রিস্টি-গ্লোরি স্বামীর মাধ্যমে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন এবং তিন বছর পর ইতালির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   তিনি স্বীকার করেন, এই সুযোগ সবার জন্য সহজলভ্য নয়। ক্রিস্টি-গ্লোরি আরও জানান, জীবনে দুবার মৃত্যুর খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তার ভাষায়, "এ ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে বদলে দেয়।" তিনি মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ায় অনেক মানুষ বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে প্রতিনিয়ত আর্থিক চাপের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারটি যখন নতুন জীবনের সুবিধা-অসুবিধার তালিকা তৈরি করে, তখন সবচেয়ে বড় ভয় ছিল ৪০ বছর বয়সে পৌঁছে এই সুযোগ না নেওয়ার জন্য অনুতপ্ত হওয়া।   ক্রিস্টি-গ্লোরি বলেন, "ওটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।" নতুন জীবনে তারা সন্তানদের নিয়ে আরও বেশি সময় বাইরে কাটাতে, সাইকেল চালাতে, ফুটবল খেলতে এবং ইতালীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যেতে চান। তিনি বলেন, "এখন প্রথমবারের মতো ভবিষ্যতের চাকরি নিয়ে আমি ভয় পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে অনেক হালকা লাগছে। আমরা আর ঋণের বোঝা নিয়ে বাঁচব না।"   সূত্র: ইয়াহু নিউজ অস্ট্রেলিয়া।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক সিটি । ফাইল ছবি
নিউইয়র্কবাসীর জন্য কী কী সরকারি সুবিধা রয়েছে: শিশু থেকে প্রবীণ-কারা কী পাচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার খরচ, বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন ব্যয় দেশটির অনেক এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। সাধারণ ধারণার বিপরীতে এসব সুবিধা শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সীমিত নয়, বরং শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও অনেক কর্মসূচি উন্মুক্ত।   নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের জনকল্যাণ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে সহায়তা করছে।   গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং শিশুদের সঠিক বিকাশে সহায়তা দেওয়া হয়, যা প্রতি বছর হাজারো পরিবারকে উপকৃত করে।   কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে অনুমোদিত ডে কেয়ার বা পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ বা উল্লেখযোগ্য অংশে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যার ফলে অনেক অভিভাবক কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।   নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধাও নিউইয়র্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ বা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি পান, যা কাজ ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।   অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও চালু রয়েছে। সাময়িক আর্থিক সমস্যায় পড়া পরিবারগুলো খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয়ের জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।   আবাসন ব্যয় নিউইয়র্কের দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।   শীতপ্রধান এই অঞ্চলে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয়ে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্র মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।   প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।   প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদেরও পরিচর্যা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা পান।   শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি শিশু কর সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।   নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের আশ্রয় সেবা এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।   এছাড়া কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর সুবিধা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও বিদ্যমান। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার যোগ্য না হলেও এসব কর সুবিধা ও পারিবারিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়।   উচ্চ ব্যয়ের চাপের মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

Unknown জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ‘দুঃখজনক’: শফিকুর রহমান

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।   শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকলেও বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী।   তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। তার ভাষায়, এই মূল্যবৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান।   অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।

Unknown এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভে সহিংসতা, মজুরি বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে বাড়ছে উত্তেজনা

ভারতের নয়ডা শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে বিভিন্ন কারখানাকেন্দ্রিক এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বহু শ্রমিককে আটক করা হলে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও অন্তর্নিহিত অসন্তোষ এখনো কাটেনি।   শ্রমিকদের অভিযোগ, জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের মাসিক বেতন ১০ থেকে ১৫ হাজার রুপির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।   পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে প্রতিবেশী হরিয়ানা রাজ্যের সাম্প্রতিক ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হলেও নয়ডার শ্রমিকরা একই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করছেন। এতে তাদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তীব্র হয়েছে।   উত্তরপ্রদেশ সরকার সাময়িকভাবে মজুরি বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তাদের দাবি, এটি কেবল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি অস্থায়ী উদ্যোগ।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই আন্দোলনের একটি বড় দুর্বলতা হলো শক্তিশালী কোনো ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বের অভাব। ফলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায় নামলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব না থাকায় আন্দোলন দ্রুত সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।   এদিকে, নয়ডার অধিকাংশ কারখানা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক হওয়ায় মালিকপক্ষও চাপের মুখে রয়েছে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অসন্তোষকে আরও উসকে দিচ্ছে।   পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এই বিক্ষোভ শিল্পাঞ্চলের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যে গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাও বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত জীবনমানের দাবিতে সরব হতে শুরু করেছেন।

Unknown এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে ভোট গ্রহণ, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার খরচ প্রধান ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে শূন্য পদে প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে আইউইটনেস নিউজ।   এই আসনটি শূন্য হয় মিকি শেরিল গভর্নর পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর কংগ্রেসের আসন ত্যাগ করলে। ফলে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন প্রগ্রেসিভ নেতা অ্যানালিলিয়া মেজিয়া। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অ্যালান বন্ড।   নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জ্বালানি খরচ প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়ে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য কর স্থগিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, নিউ জার্সিতে বাড়ির মালিক হওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।   অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যানালিলিয়া মেজিয়া অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকান নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানি খাতে কর সুবিধা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে।   জাতীয় রাজনীতির প্রভাবও এই নির্বাচনে স্পষ্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থান ভিন্ন। হ্যাথাওয়ে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজের দল ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করবেন, যদি তা তার এলাকার জন্য উপকারী হয়। অপরদিকে মেজিয়া অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের নীতির সমর্থক।   নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যক্তিগত আক্রমণও দেখা গেছে। ইসরায়েল ও ইহুদি সম্প্রদায় নিয়ে একে অপরের অবস্থানকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করেছেন দুই প্রার্থী। ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। অনেক ভোটারই বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

Unknown এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটি কেন এখনো স্বপ্নের শহর?

বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্ক সিটি—এ কথা নতুন নয়। উচ্চ ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের কারণে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই শহরে টিকে থাকা বেশ কঠিন। প্রতি বছর অনেক বাসিন্দা কম ব্যয়ের শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, অধিকাংশ মানুষ এই শহর ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না।   এর প্রধান কারণ, সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে আলাদা। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ- সব ক্ষেত্রেই শহরটি এগিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের মিলনস্থল হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে এক বৈচিত্র্যময় সমাজ, যেখানে যে কেউ নিজের সংস্কৃতি, খাবার ও ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ খুঁজে পায়।   নিউইয়র্ক সিটিকে ইমিগ্রান্টবান্ধব শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শহরের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই অভিবাসী, যারা শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অদক্ষ থেকে দক্ষ- সব ধরনের মানুষের জন্য কাজের সুযোগ থাকায় এটি কর্মসংস্থানের এক বড় কেন্দ্র।   যোগাযোগ ব্যবস্থাও শহরের অন্যতম শক্তি। Metropolitan Transportation Authority (এমটিএ)-এর বিস্তৃত সাবওয়ে ও বাস নেটওয়ার্ক শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করে। ফলে কম আয়ের মানুষও শহরতলীতে বসবাস করে সহজেই কর্মস্থলে যেতে পারেন।   ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিউইয়র্ক অনন্য। জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য এটি একটি বড় বাজার তৈরি করেছে। কমিউনিটি ভিত্তিক ব্যবসাও এখানে জনপ্রিয়, যা অভিবাসীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে।   শিক্ষাব্যবস্থাও এই শহরের আরেকটি বড় আকর্ষণ। পাবলিক স্কুলগুলো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং বিশেষায়িত কিছু স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়।   ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সুযোগ, বৈচিত্র্য এবং জীবনমানের কারণে নিউইয়র্ক সিটি এখনো অনেকের কাছে ‘স্বপ্নের শহর’ হিসেবেই রয়ে গেছে।  

Unknown এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে পারছে না ৬২ শতাংশ বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্ক সিটি-তে জীবনযাত্রার খরচ ক্রমেই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের প্রায় ৬২ শতাংশ বাসিন্দা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।   শহরের মেয়র অফিস অব ইক্যুয়িটি অ্যান্ড রেসিয়াল জাস্টিসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।   গবেষণা অনুযায়ী, সন্তানবিহীন একটি মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ডলার আয় প্রয়োজন। আর সন্তানসহ পরিবারের ক্ষেত্রে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে। তবে বাস্তবে অনেক পরিবারই এই আয়ের স্তরে পৌঁছাতে পারছে না।   এই গবেষণাটি ২০২২ সালে অনুমোদিত ‘ট্রু কস্ট অব লিভিং’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এতে বাসস্থান, খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু যত্ন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন মৌলিক খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬১.৮ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ লাখের বেশি মানুষ তাদের আয় দিয়ে পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে পারছেন না। অথচ প্রচলিত দারিদ্র্য সূচক অনুযায়ী এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ ছিল, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে বড় ধরনের ফারাক নির্দেশ করে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব পরিবার ব্যয় মেটাতে পারছে না, তাদের বার্ষিক গড় আয়ের ঘাটতি প্রায় ৩৯ হাজার ৬০০ ডলার। এছাড়া প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ সব খরচ মেটাতে পারলেও কোনো সঞ্চয় করতে পারছেন না—যা তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   জাতিগত বৈষম্যও এই সংকটে স্পষ্ট। হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৭৭.৬ শতাংশ, কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ৬৫.৬ শতাংশ এবং এশীয় ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডারদের মধ্যে ৬৩.৩ শতাংশ মানুষ ব্যয় মেটাতে পারছেন না। শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই হার তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ৪৩.৭ শতাংশ।   শিশুদের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। ১৮ বছরের নিচের প্রায় ৭২.৫ শতাংশ শিশু এমন পরিবারে বসবাস করছে, যারা তাদের পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে পারছে না।   অঞ্চলভেদে এই সংকটের তীব্রতা ভিন্ন। দ্য ব্রঙ্কস-এ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭৫.১ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। ব্রুকলিন-এ এই হার ৬১.৫ শতাংশ এবং কুইন্স-এ ৬১.১ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে ম্যানহাটন-এ ৫৫.৬ শতাংশ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ড-এ ৪৮.২ শতাংশ মানুষ এই ব্যয়ের চাপে রয়েছেন।   এই চিত্র নিউইয়র্ক সিটির অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বৈষম্যের গভীরতা তুলে ধরছে, যেখানে উচ্চ ব্যয় ও সীমিত আয়ের কারণে বহু পরিবার আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০