ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ আজ ৩১তম দিনে পদার্পণ করেছে। সোমবার ভোরে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা তেহরানজুড়ে ইরান সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এই হামলার ফলে তেহরানের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন (ব্ল্যাকআউট) হয়ে পড়েছিল, যদিও পরবর্তীতে তা আংশিক সচল করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তাবরিজের একটি পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টেও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার আড়ালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, তিনি ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান এবং প্রয়োজনে দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধের প্রথম দিকেই শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুতে ইরানে কার্যত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে গেছে। তবে প্রকাশ্যে তিনি আলোচনার কথা বললেও নেপথ্যে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি চলছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। কুয়েত ও সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে কুয়েতে একজন ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Brent crude) দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ১১৫.৯৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৯৯০ সালের ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের পরবর্তী সময়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও ইসরায়েল জানিয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে তারা হামলা বন্ধ করবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
চীন ও উত্তর কোরিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় এগিয়ে নিতে ‘সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। এই সফরের সময় দুই দেশ ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়। শি জিনপিংয়ের এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দিনের এই সফরে চীন ও উত্তর কোরিয়া তাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়। সফর শেষে কিম জং উনকে পাঠানো এক চিঠিতে শি জিনপিং বলেন, উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয়ে অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছেছেন। চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বৈঠক দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করা, যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। সূত্র: বিএসএস
ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রভাবে চীনের পাইকারি মূল্যস্ফীতি প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে একই সময়ে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম থাকায় দেশটির অর্থনীতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশটির উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) বা পাইকারি পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এর আগে এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে এক মাসের ব্যবধানে উৎপাদক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি ও কাঁচামালের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি ও শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামালের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বেড়েছে, যা সরাসরি চীনের উৎপাদন খরচে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন এই চাপের মুখোমুখি হলেও দেশটি কৌশলগত তেল মজুত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সরকারি শুল্ক তথ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর থেকে চীন অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেবল জ্বালানি বা কাঁচামালের দামই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণও মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এআইভিত্তিক কম্পিউটিং অবকাঠামো, উন্নত চিপ এবং প্রযুক্তি সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ায় সংশ্লিষ্ট পণ্যের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। মে মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। যদিও রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদরা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। মাসভিত্তিক হিসাবে এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির উপাদান বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিও সামান্য কমেছে। এপ্রিলের ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে মে মাসে তা দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশে। এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উৎপাদন খরচ বাড়লেও সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় এখনও শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি। অনেক পরিবার এখনও ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয়ের দিকে ঝুঁকে আছে। এইচএসবিসির প্রধান এশিয়া অর্থনীতিবিদ ফ্রেডেরিক নিউম্যান বলেন, “চীনের ভোক্তারা এখনও তাদের উপার্জিত অর্থ খরচের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।” তার মতে, উচ্চ সঞ্চয় প্রবণতা অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়কে সীমিত করে রাখছে, যা অর্থনীতির জন্য নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে রপ্তানি খাত থেকে কিছু ইতিবাচক সংকেত মিলেছে। মে মাসে চীনের রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে বিলাসবহুল পণ্যের বাজারেও ধীরে ধীরে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। রালফ লরেন এবং এলভিএমএইচের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সাম্প্রতিক আয় প্রতিবেদনে চীনা ভোক্তাদের মধ্যে উচ্চমূল্যের ফ্যাশন ও সৌন্দর্যপণ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই উন্নতি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে উত্থান এবং গত বছরের তুলনামূলক দুর্বল ভিত্তির কারণে সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়ে থাকতে পারে। এভারকোর আইএসআই-এর প্রধান চীন অর্থনীতিবিদ নিও ওয়াং বলেন, “ভোক্তাদের আস্থায় সাম্প্রতিক উন্নতিকে সার্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রমাণ হিসেবে দেখার সময় এখনও আসেনি।” তার মতে, আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট এবং কর্মসংস্থানের দুর্বল পরিস্থিতি এখনও চীনের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফার ওপর চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যদি ভোক্তাদের ব্যয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়ে, তাহলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা চীনের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রভাবশালী জেনারেল আহমেদ ভাহিদি তেহরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার (৯ জুন) পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি ইরান সরকার। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনির্ভরযোগ্য সূত্রে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাজধানী তেহরানে চালানো বিমান হামলায় ভাহিদি প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন বা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আহমেদ ভাহিদি ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে তার প্রভাব দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কট্টর অবস্থান ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত এবং অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। ভাহিদি তার ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাকে ঘিরে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভাহিদি ও তার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে। তাদের অবস্থান সাধারণত কঠোর এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে আপসের বিপক্ষে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভাহিদির নিহত হওয়ার খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। কারণ আইআরজিসি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনায় মূল ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানবিরোধী মহলে নতুন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আইআরজিসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিছু বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কার্যক্রম মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তবে অতীতে একাধিকবার ভাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও সেগুলো পরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও নিশ্চিত তথ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।