ভারত প্রথমবারের মতো তার পারমাণবিক অস্ত্রকে সরাসরি মোতায়েনযোগ্য অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে—এমনই তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এসআইপিআরআই বলছে, এটি নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের পারমাণবিক নীতির একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। এতদিন ভারত তার পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো বহনের ব্যবস্থাকে আলাদা করে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এখন সেই নীতি থেকে সরে এসে অস্ত্রগুলোকে কার্যকরভাবে মোতায়েনযোগ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ১২টি নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করা হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো বহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বা সক্রিয় সামরিক ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে উচ্চ সতর্কাবস্থার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে এসব অস্ত্র প্রস্তুত রাখা—পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এসআইপিআরআইয়ের তথ্য বলছে, গত বছর ভারত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করে এবং প্রতিরোধমূলক টহল পরিচালনা করে। একই সঙ্গে দেশটির মোট পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় ১৯০-এ পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাবমেরিনভিত্তিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পারমাণবিক ত্রিমাত্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামো’র অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ক্যানিস্টারে সংরক্ষণ এবং সমুদ্রভিত্তিক টহল জোরদার করার মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, শান্তিকালেও কিছু পারমাণবিক অস্ত্র সরাসরি লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত রাখা হতে পারে। এটি দেশটির পূর্বের সতর্ক ও বিচ্ছিন্ন সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে ভারতের সরকারি অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ‘আগে ব্যবহার নয়’ (নো ফার্স্ট ইউজ) নীতি অনুসরণ করে আসছে। অর্থাৎ, ভারত কখনো প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেবলমাত্র নিজ ভূখণ্ডে বা বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তার পাল্টা জবাব হিসেবে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পারমাণবিক সক্ষমতা মূলত প্রতিরোধমূলক কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে আক্রমণ থেকে বিরত রাখা, অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়া নয়। তবে সাম্প্রতিক এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার এবং ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, ৮ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলা ১৫ দিনের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত এসব যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন, যার মধ্যে ৮টি ছিল এখনো মোতায়েন না করা নতুন ড্রোন। এছাড়া একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ৮টি ট্যাংকার বিমানও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে এসব সরঞ্জাম কোথায় এবং কীভাবে ধ্বংস হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আইআরজিসির মুখপাত্র আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিভিন্ন রাডার ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, ড্রোন হ্যাঙ্গার, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি। এদিকে সংঘাতের ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর নিশ্চিত হলেও, আইআরজিসির সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির দাবির সঙ্গে মিলিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ইরানের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির মধ্যে নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মতো বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সরকারি বক্তব্যের পাশাপাশি স্বাধীন উৎস থেকে নিশ্চিত হওয়ার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ প্রাইড উৎসব ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি)’ উদযাপনের সময় জনতার ওপর একটি ভ্যান তুলে দেওয়ার ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই আয়োজকরা পুরো অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেন এবং পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যায় বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্ক এলাকায়, প্রাইড শোভাযাত্রার নির্ধারিত পথের কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সাদা ভ্যান হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে সেটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে জরুরি উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং জনগণকে ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়। হামলার উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রোববার বার্লিন পুলিশ জানায়, তারা এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছে। পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তি ইসলামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পূর্ব থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তবে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার এ ঘটনাকে শহরের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার ওপর ‘নৃশংস হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে উপলক্ষে বার্লিনে কয়েক লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্টোনওয়াল আন্দোলনের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ইউরোপের অন্যতম বড় এলজিবিটিকিউ+ অধিকারভিত্তিক জনসমাবেশ হিসেবে পরিচিত। তবে এবারের হামলায় উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রাম সাররায় শতাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর হামলায় একাধিক বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর আতঙ্কে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে ফিরে এসে পোড়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআনের কপি উদ্ধার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, শুক্রবার রাতে প্রায় ২০০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নাবলুস শহরের পশ্চিমে অবস্থিত সাররা গ্রামে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বহু পরিবারের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পর পুরো এলাকাজুড়ে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে আগুন নেভার পর তারা ফিরে এসে পোড়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করেন। অনেকেই আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআন উদ্ধার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই নাবলুসের কাছে তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। ঘটনার পর পুরো নাবলুস অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করে ইসরায়েলি বাহিনী, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং পরে সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ধরনের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।