মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০০৯ সালে ইভাঙ্কা ও জ্যারেডের রাজকীয় বিয়ের আগে তা ভেঙে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তিত্বের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০০৯ সালে নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে ইভাঙ্কা ও জ্যারেড কুশনারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ৫শ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত সেই জমকালো বিয়ের নেপথ্যে ছিল এক দীর্ঘ পারিবারিক টানাপোড়েন। জানা গেছে, জ্যারেড কুশনারের পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। বিশেষ করে জ্যারেডের বাবা চার্লস কুশনারের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র আপত্তি ছিল।
ক্রিস ক্রিস্টির বিস্ফোরক তথ্য: নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর এবং ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ক্রিস ক্রিস্টি দাবি করেছেন, ট্রাম্প তাকে অনুরোধ করেছিলেন কুশনার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো গোপন বা আপত্তিকর তথ্য (Dirt) খুঁজে বের করতে। উদ্দেশ্য ছিল, সেই তথ্য ব্যবহার করে ইভাঙ্কাকে বিয়ে থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য করা। সেই সময় ক্রিস্টি প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি নিজেই চার্লস কুশনারের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও অন্যান্য মামলার তদন্ত করেছিলেন।
ধর্মান্তর নিয়ে অসন্তুষ্টি: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যারেড কুশনার একজন অর্থোডক্স ইহুদি পরিবারের সন্তান। তাকে বিয়ের জন্য ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে ইহুদি ধর্মে দীক্ষিত হতে হয়েছিল। ট্রাম্প এই বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারেননি। সম্প্রতি ইসরায়েলের নেসেটে দেওয়া এক ভাষণেও ট্রাম্প কৌতুকচ্ছলে উল্লেখ করেন যে, ইভাঙ্কার ইহুদি ধর্ম গ্রহণ তার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।
বিয়ের পর ইভাঙ্কা ও জ্যারেড দুজনেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে এই দম্পতির প্রভাব অনস্বীকার্য। শুরুর দিকে ট্রাম্পের বিরোধিতা থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্যারেড কুশনার ট্রাম্পের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বর্তমানে তারা তিন সন্তান নিয়ে সুখে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছেন। ট্রাম্প ও কুশনার পরিবারের মধ্যকার এই পুরনো দ্বন্দ্বের খবরটি সামনে আসার পর মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতরে রক্ষণশীল এবং মধ্যপন্থী সদস্যদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে কংগ্রেসের স্বাভাবিক কার্যক্রম। শুক্রবার পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না, যা মার্কিন আইনসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাজেট বরাদ্দ, বৈদেশিক সহায়তা এবং অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রিপাবলিকানরা নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারছে না। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থী অংশটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় হাউজ ফ্লোরে কোনো বিল পাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা একে ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট’ বা হিমাঙ্ক অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কোনো আইনই সামনে এগোচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। তারা মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটদের সাথে সমঝোতা করে দলের মূল আদর্শের বিচ্যুতি ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থীরা বলছেন, কট্টরপন্থীদের জেদ আর একগুঁয়েমির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কংগ্রেসের এই স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। সরকারি তহবিল পাসের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় আবারও ‘শাটডাউন’-এর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন বা ইসরায়েলের মতো মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্পিকারের জন্য এই পরিস্থিতি সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ দলের বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হলে তার পদটিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। কংগ্রেসের এই অস্থিরতা কবে নাগাদ কাটবে তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান নেতারাই সন্দিহান। সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার দ্রুত অবসান চান, যাতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিতে আর কোনো দেরি না হয়।
লেবাননে ভয়াবহ মানবিক সংকটের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির খাদ্য সহায়তা বিভাগ ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত দুই দিনে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ এপ্রিল) দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং প্রায় ১,১৫০ জন আহত হয়েছেন। পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। ডব্লিউএফপি-এর লেবানন প্রতিনিধি অ্যালিসন ও’মাহোনি লাউ জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকেই তারা মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে খাদ্য ও নগদ সহায়তা দিচ্ছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, নিরাপদ চলাচলের সুযোগ না থাকলে জরুরি সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তাহীনতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই এখন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: আল জাজিরা
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি–তে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে অবস্থান পাল্টে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি মেনে নেবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। মাত্র একদিন আগেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের প্রস্তাবকে ‘সুন্দর উদ্যোগ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তার অবস্থান বদলে যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানিকারক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর সম্ভাব্য টোল আরোপের ইঙ্গিত দেওয়ার মাধ্যমে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাত ও শিপিং শিল্পে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের টোল কার্যকর হলে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়বে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের নীতিমালার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রণালিটি যেন কোনো বাধা বা অতিরিক্ত শর্ত ছাড়াই সচল থাকে, সেটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক মহলও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় কমিশন এবং জাতিসংঘ–সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত রাখা জরুরি এবং টোল আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিনের মধ্যে ট্রাম্পের পরপর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা তুলে ধরেছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই তেলবাজার, শিপিং কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।