ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু তার পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা।
সংঘাতের শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন, এটি ইরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল বা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযান। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তবে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে ইরান তাদের কৌশল পরিবর্তন করে। তারা সরাসরি সামরিক লড়াইয়ের বদলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার দিকে নজর দেয়। এই সংকীর্ণ জলপথটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ এখান দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফলে এই রুটে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। ইরানের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়, কারণ তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বুঝতে পারে, এই গুরুত্বপূর্ণ পথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রচলিত যুদ্ধের তুলনায় বেশি কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা সম্ভব। ফলে জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে ফেলে ওয়াশিংটনকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করা হয়।
অবশেষে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় এই প্রণালির নিরাপত্তা ও পুনরায় চালু রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়। যদিও অতীতে ইরান বারবার হুমকি দিয়েছে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার, বাস্তবে কখনো পুরোপুরি তা করা হয়নি—এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালেও না।
বর্তমানে ইরানের ভেতরে এই প্রণালি ভবিষ্যতে কীভাবে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশটির পার্লামেন্টের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাবও দিয়েছে। এমনকি প্রতি তিন ব্যারেল তেলের জন্য নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের প্রস্তাবও উঠেছে।
যুদ্ধবিরতির পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিজয়ের একটি বর্ণনা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, দেশটি বিদেশি চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। Fars News Agency জানিয়েছে, ইরানের পরিকল্পনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এই বিজয়ের চিত্রের আড়ালে বাস্তবতা বেশ জটিল। সংঘাতে ইরানের সামরিক বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে, যার ফলে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
শান্তি আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান দাবি ছিল। এদিকে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
পরে হোয়াইট হাউস জানায়, এই ধরনের বক্তব্যকে তারা গুরুত্বসহকারে দেখছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ খাতিবজাদেহ বলেন, প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে পরিস্থিতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান এই প্রণালিতে শুল্ক আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, তাহলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলকে মৌলিক অধিকার হিসেবে দেখে—তাই এ ধরনের পদক্ষেপকে তারা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি জলপথ নয়—এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে।
সূত্র: BBC Bangla
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল, তবে এই প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেটার শুক্রবার এ তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলাই ইসরায়েল–লেবানন সম্পর্কের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যে এক দফা টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহকে আলোচনার বাইরে রাখা হলে শান্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, লেবাননের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রের জনমত নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই জটিল বাস্তবতা। দীর্ঘদিন মস্কোতে কর্মরত সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে কীভাবে রাশিয়ার জনগণের যুক্তিবোধ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই প্রক্রিয়া এতটাই গভীরে গিয়েছে যে মানুষ অনেক সময় তথ্যকে মিথ্যা জেনেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়াশিন কারাগারে থাকার সময় এক সহবন্দির কাছ থেকে শুনেছিলেন, ইউক্রেন ‘নাজিতে ভরা’। অথচ সেই বন্দি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই মিথ্যা প্রচার করে। তবুও বিকল্প নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তিনি সেই প্রচারণাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ই পুতিনের প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি—মানুষ জানে তথ্য বিকৃত হতে পারে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় সেটিকেই মেনে নেয়। পুতিনের ভাবমূর্তি গঠনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি। তিনি এমন এক নেতার চিত্র তৈরি করেন, যিনি শক্তিশালী, রহস্যময় এবং জনগণের রক্ষক। এই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ম্যাক্স অটো ভন স্টিয়ারলিটজ-এর আদলে পুতিনকে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় পুতিনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন তিনি সর্বশক্তিমান সিদ্ধান্তদাতা—যিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এমনকি ২০০০ সালের কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ১১৮ নাবিক নিহত হলেও তাঁকে সরাসরি দায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। প্রোপাগান্ডার আরেকটি কৌশল হলো ‘ভালো জার, খারাপ কর্মকর্তা’ তত্ত্ব—রাষ্ট্রে কোনো ব্যর্থতা হলে তা পুতিনের নয়, বরং অধস্তনদের দায় বলে তুলে ধরা হয়। 'এর উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় নেতা আলেক্সান্ডার শেসতুনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি একটি পরিবেশগত প্রকল্পের বিরোধিতা করায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এমনকি ২০১৪ সালে মস্কোর একটি বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশকে টেলিভিশনে প্রায় ফাঁকা দেখানো হয়েছিল। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত মস্কোতেই নেওয়া হয়—ফলে প্রতিবাদের কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করা হয়, যেমন ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উল্লাস। যদিও এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, জীবনমান কমেছে, অনেক এলাকায় মৌলিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। তবুও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এসব বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশল শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রোপাগান্ডা কার্যকর হতে পারে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো ভোটাধিকার। কিন্তু বর্তমানে ভারতে এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পরিচয়হীন করে তোলার অভিযোগ তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি 'কাউন্টার কারেন্টস'-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রান্তিকীকরণের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ভোটার তালিকা থেকে সুপরিকল্পিতভাবে নাম মুছে ফেলা কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এটি হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি গভীর রাজনৈতিক কৌশল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে মুসলিম নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিবন্ধের লেখক একে 'Identity Erasure' বা পরিচয় মুছে ফেলার রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের স্বীকৃতি হারানো। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেবল ভোট দেওয়ার অধিকারই হারাচ্ছেন না, বরং রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রক্রিয়াটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজ ভূমিতেই পরবাসী করে তুলছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে অনেক সময় স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়। তথাকথিত 'ডি-ভোটার' (Doubtful Voter) বা 'সন্দেহভাজন ভোটার' তকমা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে আইনি লড়াইয়ের গোলকধাঁধায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাচ্ছে এবং তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ছিটকে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই প্রবণতাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যখন কোনো রাষ্ট্রের একটি বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে নাগরিক অধিকার হরণের চেষ্টা করা হয়, তখন তা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে এবং উগ্রবাদের পথ প্রশস্ত করে। গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাধিক্যের শাসন নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার নাম। ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তনের মাধ্যমে যে প্রান্তিকীকরণের খেলা শুরু হয়েছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। নাগরিকের পরিচয় এবং ভোটাধিকার রক্ষা করা না গেলে প্রকৃত গণতন্ত্র অধরাই থেকে যাবে। তথ্যসূত্র: কাউন্টার কারেন্টস ডট অর্গ।