ইরানের আকাশসীমায় আরও একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির মধ্যাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এর পাইলটের পরিণতি সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো মার্কিন স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করল তেহরান। এর আগে গত ১৯ মার্চও একটি এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান, যদিও ওয়াশিংটন তখন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে শুক্রবারের এই চাঞ্চল্যকর দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করারও দাবি করেছিল ইরান। যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে চলছে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই সংঘাতের প্রলেপ এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে আরব সাগর থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গর্ব হিসেবে পরিচিত বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'। রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি সামরিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইরানি সেনাদের আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে রণতরীটি বর্তমানে ইরানের জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে অবস্থান করছে। ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান শাহরাম ইরানি আজ রোববার এক হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছেন, 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন' ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার (ফায়ারিং রেঞ্জ) মধ্যে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ হবে গত ৪ মার্চ লঙ্কান উপকূলে মার্কিন হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’র শহীদ নাবিকদের রক্তের প্রতিশোধ। উল্লেখ্য, সেই হামলায় ইরানের অন্তত ৮০ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। ইরানি নৌ-কমান্ডারদের মতে, তারা বর্তমানে মার্কিন বাহিনীকে তাদের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার নাগালে আসার জন্য অপেক্ষা করছেন। সমুদ্রের দানব খ্যাত এই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরে মোতায়েন করে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হচ্ছিল। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে না পেরে মার্কিন বাহিনী কৌশলগতভাবে পিছু হটেছে। এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালিসহ ওই অঞ্চলে ইরানের সামরিক আধিপত্য আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান সংঘাত বন্ধে একটি সমঝোতার সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে তা নির্ভর করছে ইরানের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি ইরানকে ‘দক্ষ আলোচক, কিন্তু দুর্বল যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুত ধ্বংস করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকেও কার্যত অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, যেখানে ধারণা করা হয়েছিল ইরান কয়েক সপ্তাহ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, সেখানে বাস্তবে তারা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সামনে এখনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: আল–জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি নয়। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হবে। শর্ত না মানলে নয় যুদ্ধবিরতি ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ, ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, চলমান ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্তের কয়েকটি—বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। ইতোমধ্যে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে সংঘাত ধীরে ধীরে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে। ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী প্রশ্ন উঠেছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ—দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
মধ্যপ্রাচ্যের চার সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে ইরানকে ১৫ দফার একটি বিশদ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি বন্ধুরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। প্রস্তাবটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমাবদ্ধ করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, এই জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষ সম্মত হলে তারা সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে “খুব ভালো ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হয়েছে, তবে ইরান সরাসরি এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে—তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পেয়েছে, কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও বিমান চলাচলেও চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৫ দফার এই প্রস্তাবটি যুদ্ধের ময়দানে একটি কূটনৈতিক জানালা খুলে দিলেও, এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে ইসরায়েলের অবস্থান এবং ইরানের চূড়ান্ত সম্মতির ওপর। সূত্র: আনাদোলু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে বিশ্বব্যাপী মার্কিন ও ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর আক্রোশ ও হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন তার নাগরিকদের সুরক্ষায় একের পর এক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করছে। সোমবার (২৩ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি হালনাগাদ বার্তায় বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের ‘বাড়তি সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় বলা হয়েছে, চলমান উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে যে, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র অথবা আমেরিকানদের সমাগম ঘটে এমন স্থানগুলোতে হামলা চালাতে পারে। সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিবিসি-র প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে থাকা পশ্চিমাদের জন্য এক চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিএনএন ও এসএসআরএস-এর সাম্প্রতিক এক যৌথ জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে হামলার ঘোর বিরোধী। বিপরীতে মাত্র ৪১ শতাংশ নাগরিক এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষিতে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা এখন মার্কিন রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সংকটে রূপ নিয়েছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ নাগরিক আশঙ্কা করছেন যে এই সংঘাত দ্রুত শেষ হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং লক্ষ্য অর্জনে তারা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছেন। তবে জনমত বলছে অন্য কথা—৬০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্টের কাছে আসলে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এছাড়া স্থল সেনা পাঠানোর প্রশ্নেও মার্কিনিরা অনড়; মাত্র ১২ শতাংশ নাগরিক ইরানে সেনা পাঠানোর পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ৬০ শতাংশই এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্রটিও এই জরিপে অত্যন্ত স্পষ্ট। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ এই হামলার সমর্থক হলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সমর্থনের হার মাত্র ১৮ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৬২ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন পরবর্তী যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে ট্রাম্পের উচিত কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু এবং শত শত মানুষের হতাহতের পর তৈরি হওয়া এই নেতিবাচক জনমত আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসেন্ট পরিষ্কারভাবে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না। সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বর্তমান যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মতে, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে ভিন্ন পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সরকার বর্তমানে যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারফির এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ইরানকে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে দেশটির প্রধান তেল অবকাঠামো হাব ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই বিষয়ে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বন্ধ না করে, তবে ট্রাম্প এই কৌশলগত দ্বীপে সরাসরি আঘাত হানার হুমকিও দিয়েছেন। গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে খারগ দ্বীপে একটি বড় ধরনের সূক্ষ্ম লক্ষ্যভেদী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মার্চ পরিচালিত ওই অভিযানে তেল অবকাঠামোর ক্ষতি না করেই দ্বীপের ভেতরে থাকা ৯০টিরও বেশি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই হামলায় ইরানের নৌ-মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করার বাঙ্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তেল সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, খারগ দ্বীপ অবরোধ বা দখল করলে ইরান চাপের মুখে পড়বে এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের আধিপত্য কমাতে বাধ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পরিকল্পনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও ব্যয়বহুল স্টিলথ যুদ্ধবিমান মার্কিন এফ-৩৫ লাইটনিং-২ সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ছোঁড়া ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কিন সামরিক আধুনিক ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তি ও স্টিলথ সক্ষমতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেন্টকমের নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ওপর একটি কমব্যাট মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ বিমান আঞ্চলিক বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। বিভিন্ন ওপেন সোর্স ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ কোটি ডলার মূল্যের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি মাত্র ৩ হাজার ডলার ব্যয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ ইরানি প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর বিমানের পেছনে আগুনের শিখা দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেক বিশ্লেষক। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার প্রভাব কেবল একটি বিমান হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে ইরান এফ-৩৫ বিমানের ‘ইনফ্রারেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা হিট সিগনেচার ডাটা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা মস্কো ও বেইজিংয়ের মতো প্রতিপক্ষের জন্য অমূল্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর ফলে মার্কিন আকাশসীমার শ্রেষ্ঠত্ব বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং এফ-৩৫ পাইলটরা এখন থেকে আর নিজেদের ‘অদৃশ্য’ মনে করতে পারবেন না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক বিমান হারানো গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল এবং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কারের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল সরঞ্জাম। এই ঘটনাটি মার্কিন সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: প্রেস টিভি।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ সৌদি আরব–এর উচ্চপর্যায়ের চাপ ছিল। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে লবিং চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও গোপনে মার্কিন সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেন। একই সময় ইসরায়েল–এর সরকারও ইরানকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছিল। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর অবস্থান শনাক্ত করে পরিকল্পিত হামলার সুযোগ খুঁজছিল। পরে বিমান হামলা চালানো হলে প্রথম দফার অভিযানে খামেনিসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার দাবি করা হয়, যদিও স্বাধীনভাবে এই তথ্য যাচাই করা যায়নি। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না। তবুও হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা কয়েক দশক ধরে অনুসৃত মার্কিন সামরিক নীতিতে পরিবর্তন নির্দেশ করে। হামলার সময় ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত ইতিহাসে ব্যতিক্রমী হতে পারে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের অবস্থানের পেছনে দুটি কৌশল থাকতে পারে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা থেকে নিজেদের তেল অবকাঠামো রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রাখা। এদিকে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে এমন মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ দৈনিক The Guardian। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি নিয়েছেন ইরানে হামলার মাধ্যমে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘শাসন পরিবর্তনের’ লক্ষ্য নিয়ে একতরফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। মার্কিন কংগ্রেস বা জনগণের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়াই নেওয়া এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকা অবস্থায় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। প্রথম দফা হামলার পর দেওয়া ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আত্মসমর্পণ না করলে তাদের ‘সমূলে বিনাশ’ করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নৌবাহিনী ধ্বংসের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভাষণে তিনি ইরানের বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানে সমর্থন জানিয়ে একে ‘অস্তিত্বের হুমকি দূর করার যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দেন। দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরান বর্তমানে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক বড় হুমকি না থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও কমতে থাকা জনপ্রিয়তা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ সংক্রান্ত ক্ষমতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনি বাধা এবং জেফরি এপস্টিন–সংক্রান্ত বিতর্কও রাজনৈতিক চাপে রেখেছে তাঁকে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ ইস্যু থেকে জনদৃষ্টি সরাতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক চাপে পড়লে ট্রাম্প ভারসাম্য হারান ইরান হামলা তারই প্রতিফলন হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে দেখা গেছে কেবল বিমান হামলার মাধ্যমে কোনো সুসংগঠিত শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো কঠিন। ফলে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews