ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখার ঘোষণা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই জাপানি শিপিং কোম্পানি মিৎসুই ওএসকে লাইনসের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) কোম্পানিটির এক মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ ‘গ্রিন আশা’ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশের পথে রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের এই প্রধান রুটটি নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করেছে। মিৎসুই ওএসকে লাইনসের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, ‘গ্রিন আশা’র ক্রু সদস্য এবং জাহাজে থাকা পণ্য উভয়ই সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। এটি ছিল জাপান-সংশ্লিষ্ট তৃতীয় জাহাজ, যা উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতেও সফলভাবে প্রণালি পার হতে সক্ষম হলো। এর আগে গত শনিবার ভারত সরকার জানিয়েছিল যে, মিৎসুইয়ের মালিকানাধীন অপর একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন সানভি’ নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। এছাড়া ১ মার্চের পর প্রথম এলএনজি ট্যাঙ্কার হিসেবে মিৎসুইয়ের ‘সোহার এলএনজি’ এই প্রণালি পার হওয়ার রেকর্ড গড়ে। শিপিং সাময়িকী ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যে অল্পসংখ্যক জাহাজ এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করছে, তারা ইরানের অনুমোদিত একটি বিশেষ পথ ব্যবহার করছে যা লারাক দ্বীপের কাছ দিয়ে গেছে। এই পথটি আন্তর্জাতিক মহলে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালির এই বিকল্প ও নিয়ন্ত্রিত রুটটি বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও মার্কিন হুমকির মুখে ইরান এই পথে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে, তবুও জাপানি ও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোর এই নিরাপদ পারাপার আন্তর্জাতিক শিপিং বাণিজ্যের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। সূত্র: এএফপি ও লয়েডস লিস্ট
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে নাইজেরিয়া থেকে ৬৮ হাজার ৬৪৮ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী ‘কুল ভয়েজার’ নামের এই জাহাজটি গত রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মহেশখালীর ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) নোঙর করেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী দেশ কাতার থেকে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎসের দিকে নজর দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিনট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ নাইজেরিয়ার বনি বন্দর থেকে রওনা দিয়ে প্রায় ২৪ দিন পর জাহাজটি মহেশখালী উপকূলে পৌঁছায়। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে এই এলএনজি খালাসের কাজ শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। আরপিজিসিএল-এর উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির জানান, নাইজেরিয়া থেকে আমদানি করা এই এলএনজির দাম মধ্যপ্রাচ্যের দরের কাছাকাছি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চলতি এপ্রিল মাসে এটি এলএনজির দ্বিতীয় চালান। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আরেকটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির উৎস পরিবর্তন ও বহুমুখীকরণ এখন সরকারের অন্যতম কৌশল। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে আটটি জাহাজে করে প্রায় ছয় লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে বাংলাদেশ। দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস চাহিদা মেটাতে এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে চলতি এপ্রিল মাসে আরও আট থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাতার সংকটের প্রভাবে জ্বালানি খাতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বিকল্প সরবরাহ তা কাটিয়ে উঠতে বড় ভূমিকা রাখবে।
বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অর্থমন্ত্রী জানান, বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে খাদ্য ও জ্বালানি—দুই খাতেই স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অনিয়ম দূরীকরণ, ঋণ আদায় জোরদার এবং আমানতকারীদের সুরক্ষায় সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ‘জিটুপি’ পদ্ধতির মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো হবে। এছাড়া রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
বিশ্ব রাজনীতির সাম্প্রতিক উত্তেজনা নতুন এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেখানে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক উন্নয়নশীল দেশ ক্রমশ চীন-নির্ভরতার দিকে ঝুঁকছে। ব্লুমবার্গ-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চীনা ঋণ ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই ধারণা কিছুটা পাল্টে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পাকিস্তান-এর উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে জ্বালানি সংকটে পড়া দেশটি এবার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে চীন থেকে আমদানি করা সস্তা সৌর প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তারকে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির বিপুলসংখ্যক পরিবার এখন সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে, যা জ্বালানি সংকটের ধাক্কা কিছুটা কমিয়েছে। একইভাবে নেপাল-এ সস্তা বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করছে। এসব ক্ষেত্রেই চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। তবে এই নির্ভরতা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। চীন তার সরবরাহ শৃঙ্খল বিশেষ করে বিরল খনিজ ও প্রযুক্তি খাতে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য থেকে কৌশলগতভাবে সরে যান বা হরমুজ প্রণালি-সংকট সমাধানে সক্রিয় না হন, তবে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে একটি বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে তারা কি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর ভরসা রাখবে, নাকি চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার দিকে আরও ঝুঁকবে? বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু আঞ্চলিক নয়; বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে ভারতের তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় উপকূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও প্রায় ছয় লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘পিং শুন’ হঠাৎ গতিপথ বদলে চীনের দিকে রওয়ানা দিয়েছে। শিপ ট্র্যাকিং ডেটা এবং বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত ট্যাংকারটির গন্তব্য গুজরাটের ভাদিনার বন্দর থাকলেও বর্তমানে এটি চীনের শানডং প্রদেশের ডংইং বন্দরের দিকে যাচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রাখলেও, ২১ মার্চ বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। এই সুযোগেই দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম ইরানি তেলের চালান ভারতে পৌঁছানোর কথা ছিল। গুজরাটের এত কাছে এসে ট্যাংকারটির ফিরে যাওয়া আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি শুরু থেকেই এটি চীনের জন্য নির্ধারিত থাকত, তবে এর রুট সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। বাণিজ্যিক সূত্র এবং বিশেষজ্ঞরা এই আকস্মিক দিক পরিবর্তনের পেছনে মূলত ‘পেমেন্ট’ বা অর্থপ্রদান সংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করছেন। কেপলারের রিফাইনিং ম্যানেজার সুমিত রিতোলিয়া জানান, ইরান বর্তমানে ৩০-৬০ দিনের ক্রেডিট সুবিধার পরিবর্তে অগ্রিম বা দ্রুত অর্থ পরিশোধের শর্ত দিচ্ছে। এছাড়া ইরান আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ‘সুইফট’ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কথা ভেবে ভারতীয় ব্যাংকগুলো এই লেনদেনে জড়াতে এখনো দ্বিধাবোধ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন ইরানি তেলের ওপর ছাড় দিয়েছে, তাই এই গতিপথ পরিবর্তন কোনো লুকোচুরি নয় বরং বাণিজ্যিক সমঝোতা না হওয়ারই ইঙ্গিত। তবে পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হলে কার্গোটি আবারও ভারতের দিকে ফিরে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিল যে, লজিস্টিক সুবিধার চেয়েও বর্তমানে বাণিজ্যিক শর্ত ও জটিল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইরানি তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত আপাতত বহাল থাকছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয় অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ায় এই সময়সীমা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জাতীয় স্বার্থে ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি মোকাবিলায় শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করা বাধ্যতামূলক। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে অফিস এবং বাজার বন্ধের যে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, তা কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। দোকান ও শপিংমল মালিক সমিতির নেতারা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা তারা মেনে নেবেন। তবে ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই এই সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে জোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এরই অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসনের ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আকাশচুম্বী দামের কারণে বিভিন্ন দেশে যানবাহন ও কলকারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ কমাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পর এবার পাঞ্জাব প্রদেশেও গণপরিবহন সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা জানান। তিনি জনগণকে এই সুযোগ-সুবিধার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি আরও সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই ভ্রমণের পথ প্রশস্ত করবে। মূলত জ্বালানির দাম বাড়ায় যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পরিবহন খরচ তুঙ্গে, তখন নাগরিকদের স্বস্তি দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। মরিয়ম নওয়াজের এই ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজধানী ইসলামাবাদের গণপরিবহন পরিচালনার সমস্ত খরচ এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরূপ উদ্যোগ অনুসরণ করেই পাঞ্জাব প্রদেশ তাদের নিজস্ব এলাকায় বিনামূল্যে পরিবহন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপটি একা নয়; এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া এবং তাসমানিয়া রাজ্যও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। দেশগুলো জনগণকে ব্যক্তিগত গাড়ি পরিহার করে জ্বালানি সাশ্রয়ে উৎসাহিত করতে গণপরিবহনের ভাড়া মওকুফ করার ঘোষণা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন পাকিস্তানের এই মানবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপটি বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ইরান সরকার তাদের বন্দরগুলোতে খাদ্য ও ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল। একটি চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, যেসব জাহাজ বর্তমানে ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে এবং ইরানের বন্দরের অভিমুখে আসছে, তারা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। তবে এই অনুমতির অর্থ এই নয় যে প্রণালিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এবং নির্ধারিত কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অচলাবস্থার পর অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজের জন্য পথ খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী আমদানির ধারা সচল রাখতেই তেহরান এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের মাঝেই ইরানের পক্ষ থেকে এই নতুন নির্দেশনা এলো। যদিও সাধারণ বাণিজ্যিক বা জ্বালানি তেলের জাহাজের জন্য এখনো পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারিতেই এই সীমিত জাহাজ চলাচল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নতুন এক সংলাপের সূচনা হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মূলত নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চাপ মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সহজে বাংলাদেশে আসতে পারেন, সেজন্য দ্রুত ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আলোচনায় ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো এবং এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) সংস্কারের বিষয়টি উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া মাঝারি উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্সপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত চালুর দাবি জানান তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সংকটগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেসবের একটি বিস্তারিত নোট গ্রহণ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, অতীতে ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার সমাধান হলেও কিছু বিষয় এখনো ঝুলে আছে, যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে। বৈঠকে ডিবিএল, এপেক্স, প্রাণ-আরএফএল, ইনসেপ্টা ও রানার গ্রুপসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কামানের গোলার গর্জনের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামে এখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে যা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে হরমজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখন প্রায় রুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং জোগান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বিশাল ধস নেমেছে যা আন্তর্জাতিক বাজারকে পুরোপুরি অস্থির করে তুলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তেলের দাম মূলত কার নিয়ন্ত্রণে থাকে—এই প্রশ্নটি এখন সবচাইতে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে যেখানে সাধারণ মানুষের কোনো হাত নেই। ঐতিহাসিকভাবে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ওপেকের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর জোট এবং তাদের মিত্র দেশগুলো যারা তেলের উৎপাদন কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সউদী আরব ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো যখনই তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেয় তখনই বিশ্ববাজারে এর অভাব দেখা দেয় এবং দাম তরতর করে আকাশপানে ছুটতে শুরু করে। তবে বর্তমানে কেবল ওপেকের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয় বরং আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক চালও তেলের দাম নির্ধারণে অত্যন্ত বড় ও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে তেলের বাজারে যোগানের চেয়ে চাহিদার এক অসম টানাপোড়েন মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। তেলের দাম বাড়ার পেছনে কেবল যুদ্ধই দায়ী নয় বরং বড় বড় কর্পোরেট হাউসের ফটকা কারবার এবং বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ধারণাও সমানভাবে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। যখনই কোনো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজে তখনই ভবিষ্যতের অভাবের কথা চিন্তা করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় যা পরোক্ষভাবে তেলের দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এই তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং এর ফলে যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচ বেড়ে যায় যার ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন যা মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়। সার ও সেচ কাজের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন খরচও বহুগুণ বাড়ছে যা সরাসরি চাল, ডাল ও তেলের খুচরা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করছে। হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এবং বর্তমানে এই নৌপথটি নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। এই একটি সরু জলপথ যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তবে পুরো বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার এবং বড় বড় শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই উচ্চমূল্য এক মরণফাঁদ কারণ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি বড় অংশই কেবল তেল আমদানিতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমেরিকা যখন তাদের কৌশলগত তেলের মজুদ থেকে বাজারে তেল ছাড়ে তখন সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমে এলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও সমঝোতা। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে তেলের দাম এখন কেবল একটি ব্যবসায়িক পণ্য নয় বরং এটি একটি মরণঘাতী রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে যা দিয়ে বিশ্ব শাসন করা হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা মানেই হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করা যা বড় দেশগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে চলেছে এবং সাধারণ মানুষ ভুগছে। পরিশেষে বলা যায় যে তেলের বাজার এখন এমন এক গোলকধাঁধায় আটকে গেছে যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কেবল কূটনৈতিক আলোচনা ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমেই সম্ভব বলে মনে হয়। বিশ্ব শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং জ্বালানি কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বড় ও নামকরা বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে এবং তেলের এই লাগামহীন দৌড় না থামলে বিশ্ব এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের চলমান জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমনে কোনো স্বস্তি নেই উল্লেখ করে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলগুলো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনা এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং জনগণের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বর্তমান আচরণে ‘ফ্যাসিবাদের সংক্রমণ’ দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ‘ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আফজাল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মসিউল আলম, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আব্দুর জব্বারসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সময় পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সমিতির নেতারা প্রস্তাব করেছেন যে, প্রয়োজনে তারা সকাল ৯টার পরিবর্তে বেলা ১১টায় দোকান খুলতে রাজি আছেন, তবে বন্ধের সময় যেন সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে রাত ৮টা করা হয়। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবিকার কথা বিবেচনা করে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত করা হয়। একই বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল আজ (৩ এপ্রিল) থেকেই সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর আগে গতকাল মালিক সমিতি রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের ঘোষণা দিলেও সরকারের নতুন নির্দেশনায় সময় আরও কমিয়ে আনা হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সন্ধ্যা ৬টায় দোকান বন্ধ করে দিলে খুচরা ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামতে পারে। তাই সকালের সময় কমিয়ে রাতে বাড়তি দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দের জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির ফলে সরকারি তহবিলে চাপ বাড়ায় দেশের স্বার্থে শিগগিরই জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেডে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে সরকারকে অনেক বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আদালত ও সরকারি তহবিলের ওপর চাপের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারি তহবিল যদি এভাবে উচ্চমূল্যে ক্রয়ের কারণে ক্ষয় হতে থাকে, তবে উন্নয়ন ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই দেশের স্বার্থে একটি পর্যায়ে গিয়ে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়েছে। অধিকাংশ জ্বালানি ওই অঞ্চল থেকে আসায় বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস থেকে চড়া দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে সরকারকে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো আপস করছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং চালু করা হয়েছে। তিনি নিজে ৩০ শতাংশ জ্বালানি কম ব্যবহার করছেন উল্লেখ করে বলেন, “এখন পর্যন্ত শিল্পকারখানা, পরিবহন ও কৃষি খাতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সফল হয়েছে।” তবে জ্বালানির দাম বাড়লে সার ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পুঁজিবাজার ও রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দ্রুতই বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। বৈশ্বিক সংকটে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে আয় কিছুটা কমলেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং খাতটির পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির দাম সহনীয় রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরে আফ্রিকার কোনো দেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি না করলেও, বর্তমান সংকট নিরসনে নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া ও মরক্কোর মতো দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে তেলের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি নাইজেরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিয়াহ মো. মাইনুল কবির দেশটির পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে এই প্রস্তাব পেশ করেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে, তার বিকল্প খুঁজতেই এই তৎপরতা। বর্তমানে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো দেশগুলো বাংলাদেশের প্রধান সরবরাহকারী হলেও সরকার এখন দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার কথা ভাবছে। আফ্রিকার ৯টি কূটনৈতিক মিশনে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আলোচনার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও আফ্রিকার মিশনগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জুম মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়া, লিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং আলজেরিয়া দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করে। তবে এই অঞ্চলে ফ্রান্স, ইতালি ও চীনের মতো বড় বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য থাকায় সেখান থেকে তেল নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সম্প্রতি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির আলজেরিয়া সফরও প্রমাণ করে যে, ইউরোপীয় দেশগুলোও এখন আফ্রিকার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে কোনো জ্বালানি ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। তবে আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব Nasimul Ghani সংবাদ সম্মেলনে এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য জানান। অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি: সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা করা হয়েছে। ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকেল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ করতে হবে। বাজার ও বিপণিবিতান: সকল মার্কেট, দোকান ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ থাকবে। জরুরি সেবা যেমন কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও খাবারের দোকান এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে। শিক্ষা ও পরিবহন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক নির্দেশনা শিগগিরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য শুল্কমুক্ত ‘ইলেকট্রিক বাস’ আমদানি ও বাণিজ্যিক ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ২০% শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো বাস আমদানি নিষিদ্ধ। আলোকসজ্জা: বিয়ে বা সামাজিক উৎসব-অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না। ব্যয় সংকোচন: সরকারি জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০% ব্যয় কমানো হয়েছে। আগামী তিন মাস কোনো নতুন সরকারি যানবাহন বা কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০% কমানো হয়েছে। সভা-সেমিনারের খরচও অর্ধেক কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ ও বিকল্প উৎস: সরকার বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে। সরকার আশা করছে, এসব পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি চাহিদা সামলাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব সীমিত করতে সহায়ক হবে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না বলে সতর্ক করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং ই এ মন্তব্য করেছেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ইরানে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই সংঘাত চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে স্বাভাবিকতা ফেরানো সম্ভব হবে না। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ অঞ্চলের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে। তিনি দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের সব ব্যাংক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোর কার্যক্রমও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। রোববার থেকে সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনাও জারি করেছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে রোববার পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সরকারের এই পদক্ষেপ জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ইরানে আরও তীব্র আক্রমণের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই যুদ্ধংদেহী বার্তার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড তেলের দাম ৫.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে। গত বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। শিগগিরই এর সমাপ্তি হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তার ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমাধানের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা সতর্ক করেছেন যে, উত্তেজনা আরও বাড়লে তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের প্রভাবে নৌপথে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ছে। কাতারের জলসীমায় কাতার এনার্জির একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে তেলের পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৭২৮.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। তবে তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে কিছুটা পতন লক্ষ করা গেছে। সূত্র: রয়টার্স
ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট নিরসনের দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নিল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩৫টি দেশ অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ায় থাকছে না। বিশ্বের মোট তেল চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান এই পথটি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে সমুদ্রপথকে মাইনমুক্ত করা এবং পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা সহজ হবে না; এর জন্য সামরিক শক্তি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। ইউরোপীয় দেশগুলো শুরুতে এই সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চাইলেও তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে তারা এখন ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই নৌপথটি উন্মুক্ত করা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সামরিক পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে এ বিষয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশগামী ছয়টি জ্বালানি পরিবাহী জাহাজ চলাচলে ইরান সরকার সবুজ সংকেত দিলেও, তার মধ্যে পাঁচটি চালানেরই কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি বিভাগ থেকে তেহরানে পাঠানো তালিকাটি মূলত পুরোনো নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘ফোর্স মেজর’ বা সরবরাহ স্থগিতের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে ইরানের এই বিশেষ কূটনৈতিক ছাড় বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটে কোনো কাজে আসছে না। জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ জ্বালানি বিভাগ ইরানের কাছে যে তালিকা পাঠায়, তাতে এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য ৫টি এলএনজি কার্গোর কথা উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে চারটি কাতারএনার্জির এবং একটি এক্সিলারেট এনার্জির। তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আরফানুল হক নিশ্চিত করেছেন, কাতার ও ওমান গত ২ ও ৫ মার্চ থেকেই সরবরাহ স্থগিত (ফোর্স মেজর) করেছে, যা আগামী মে মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ফলে তালিকাভুক্ত এই জাহাজগুলো বর্তমানে ‘অস্তিত্বহীন’। মূলত যুদ্ধ-পূর্ববর্তী আমদানির পরিকল্পনার তথ্য পাঠিয়ে এই বিভ্রান্তি তৈরি করেছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে, গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই ছয়টি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু কারিগরি ও নথিপত্রগত ভুলের কারণে এই সুযোগ হারালো বাংলাদেশ। এই ঘাটতি সামাল দিতে এখন উচ্চমূল্যের ‘স্পট মার্কেট’ থেকে নয়টি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ভর্তুকির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প পথ খুঁজছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এছাড়া, কাজাখস্তান থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে নির্দিষ্ট কিছু বন্দর থেকে জ্বালানি সংগ্রহের এই প্রচেষ্টা এখন বাংলাদেশের প্রধান কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিলেটে প্রশাসনের দাবিদাওয়া উপেক্ষা এবং অযথা হয়রানির প্রতিবাদে বিভাগীয় সব পেট্রোল পাম্পে অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল ও সিএনজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন পাম্প মালিকরা। এই সিদ্ধান্তে পুরো সিলেট জুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতারা এ ঘোষণা দেন। পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান নানা সমস্যা ও দাবি-দাওয়া উপেক্ষিত থাকায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। অকস্মিক এই পদক্ষেপের ফলে সিলেটে পরিবহন খাতে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সিলেট বিভাগীয় কমিটির সেক্রেটারি হুমায়ূন আহমেদ বলেন, পাম্প মালিকরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরিমানার আড়ালে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি উপেক্ষিত থাকায় এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে বাধ্য হয়ে বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews