বিশ্ব

সাময়িক বিরতিতে যাচ্ছে ‘বুর্জ আল আরব’

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৭:২৫
বুর্জ আল আরব
বুর্জ আল আরব

দুবাইয়ের প্রতীকী বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরব-এ বড় ধরনের সংস্কারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এ কারণে হোটেলটি অন্তত ১৮ মাসের জন্য আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে।

 

হোটেলটির মালিক জুমেইরাহ গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংস্কারকাজ ধাপে ধাপে প্রায় দেড় বছর ধরে চলবে। পুরো প্রকল্পের নকশা তত্ত্বাবধান করবেন প্যারিসভিত্তিক ইন্টেরিয়র স্থপতি ত্রিস্তান অর। তবে এই সময়ে হোটেলটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

 

অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, যেসব অতিথির আগাম বুকিং রয়েছে, তাদের জন্য কাছাকাছি অন্য হোটেলে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সংস্কারের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে বন্ধ থাকার সময়সীমা কিছুটা পরিবর্তিতও হতে পারে।

 

পালতোলা নকশার জন্য পরিচিত এই আইকনিক স্থাপনাটি দুবাইয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং জুমেইরাহ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে ইরানের ড্রোন প্রতিরোধের সময় সৃষ্ট কিছু ধ্বংসাবশেষ হোটেলের বাইরের অংশে আঘাত করে সামান্য ক্ষতি করেছিল।

 

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সংস্কার প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত একটি উন্নয়নকাজ, যা চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার বাইরে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পর্যটন খাত কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে—ফ্লাইট বিঘ্নিত হচ্ছে, পর্যটকের সংখ্যাও কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই সময়টিকে সংস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
নানইউকিতে মার্কিন ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করছে পুলিশ । ছবি: এএফপি
কেনিয়ায় মার্কিন ইবোলা কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে, গুলিতে নিহত ১

মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইবোলা কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে কেনিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর নানইউকিতে ব্যাপক বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ও বিক্ষোভকারীরা।   স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার শত শত মানুষ নানইউকিতে রাস্তায় নেমে প্রস্তাবিত ৫০ শয্যার ওই কোয়ারেন্টাইন ইউনিটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকার ইবোলা ঝুঁকি নিজেদের দেশে না রেখে কেনিয়ার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, যা স্থানীয় জনগণের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পরে সংঘর্ষ তীব্র হলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। বেসরকারি সংস্থা ভোকাল আফ্রিকা জানায়, পুলিশের গুলিতে একজন ব্যক্তির মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। একই এলাকায় এর আগে হওয়া বিক্ষোভেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী, নানইউকির একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে এই কোয়ারেন্টাইন ইউনিট স্থাপন করা হবে। সেখানে ইবোলা ভাইরাসে সংস্পর্শে আসা কিন্তু উপসর্গবিহীন মার্কিন নাগরিকদের রাখা হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি নিয়ে স্বচ্ছ তথ্যের অভাব রয়েছে এবং সরকার জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করেনি।   বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় মার্কিন সামরিক পরিবহন ও সরঞ্জাম প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।   এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি ইবোলার বিরল বুন্ডিবুগিও ধরন ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এই ধরনের জন্য এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই বলে জানানো হয়েছে, যা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   স্থানীয় চিকিৎসক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, প্রকল্পটি সম্পর্কে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সরকারি পর্যায়ে তথ্যের অভাব জনগণের মধ্যে গভীর অনাস্থা তৈরি করেছে। তাদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নতুন কোনো বড় স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় দেশটি পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬ ১:৪
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চীনে উৎপাদক মূল্যস্ফীতি চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

‘রাষ্ট্রদূত হতে চাই’ বললেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

ফেসবুক পোস্টে নতুন বিতর্ক: ‘রাষ্ট্রদূত হতে চাই’ বললেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি

মমতার বাসভবনে সিআইডি তল্লাশি, তৃণমূলের ভেতরে অস্থিরতা

আশুরার পর আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফন
আশুরার পর আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা-দাফন, আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি জোরদার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান মহররম মাসের প্রথম দশ দিন শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্মরণসভা কমিটি। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর দিয়েছে দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের স্মরণে আয়োজিত জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আগত শোকাহতদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।   কমিটি জানায়, ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠানের প্রতি খামেনির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আশুরার পরই এই আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ মহররমের প্রথম দশ দিনের ধর্মীয় কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।   এদিকে অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সময়সূচি ও আয়োজনসংক্রান্ত জল্পনা-কল্পনা সম্পর্কে সতর্ক করেছে কমিটি। তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য যাচাইবিহীন এবং বিভ্রান্তিকর, যার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই।   স্মরণসভা কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানসংক্রান্ত চূড়ান্ত সময়সূচি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   উল্লেখ্য, খামেনির মৃত্যু এবং এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও দাবি-প্রতিদাবি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া অন্য কোনো খবরের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২০:২৩
আইআরজিসি জেনারেল ভাহিদির মৃত্যু নিয়ে জোর গুঞ্জন

ইরানে হামলার পর আইআরজিসি জেনারেল ভাহিদির মৃত্যু নিয়ে জোর গুঞ্জন

ভারতের পারমাণবিক কৌশলে পরিবর্তন, ১২টি ওয়ারহেড সরাসরি মোতায়েন

ভারতের পারমাণবিক কৌশলে পরিবর্তন, ১২টি ওয়ারহেড সরাসরি মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’, দুই মাসে অন্তত ৩৭ বার একই কথা বলেছেন ট্রাম্প

আমেরিকা বাংলা কোলাজ
যুদ্ধের ধুলো পেরিয়ে ফুটবল মাঠে একসঙ্গে প্রাক্তন যোদ্ধারা, মধ্য আফ্রিকায় শান্তির বার্তা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল উন্মাদনা চলছে, তখন মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের একটি ছোট্ট শহরে ফুটবল হয়ে উঠেছে পুনর্মিলন ও শান্তির প্রতীক।   দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘রেতুর, রেক্লামাসিওঁ, রেয়াবিলিতাসিওঁ’ (৩আর) ২০২৫ সালে অস্ত্র সমর্পণ করার পর নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। এরপর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মিনুস্কার উদ্যোগে শুরু হয় পুনর্মিলন কার্যক্রম।   এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাক্তন বিদ্রোহী যোদ্ধা, সরকারি বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   যারা একসময় সংঘাতের বিপরীত পক্ষে অবস্থান করেছিলেন, তারা এখন একই মাঠে খেলছেন, একে অপরকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং খেলা শেষে করমর্দন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।   পর্যবেক্ষকদের মতে, ফুটবল এখানে শুধু একটি খেলা নয়; এটি আস্থা পুনর্গঠন এবং সামাজিক পুনর্মিলনের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।   মিনুস্কার সেনেগালি কন্টিনজেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গেরাল্ড আরান্দা আসিনে বলেন, কয়েক মাস আগেও এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন ছিল।   তার ভাষায়, “যারা একসময় একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল, আজ তারা একই দলে খেলছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।”   জাতিসংঘের সহায়তায় জেমিওসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে স্কুল পুনরায় চালু হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার নিজ এলাকায় ফিরে আসছে।   স্থানীয় এক সাবেক শিশু সৈনিক, যিনি এখন পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন, বলেন তিনি এখন নিরাপদ বোধ করেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মৌসুমে মধ্য আফ্রিকার এই অভিজ্ঞতা ফুটবলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যম নয়, এটি বিভক্ত সমাজকে একত্রিত করারও শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।   মধ্য আফ্রিকার একটি ছোট্ট শহরের এই ফুটবল ম্যাচ হয়তো বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে জায়গা পাবে না, তবে সংঘাত-পরবর্তী পুনর্মিলনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৫:২৩
হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ২ ক্রু উদ্ধার

রিয়েল আইডিবিহীন বিমানযাত্রীদের ওপর টিএসএ-এর ৪৫ ডলার ফি বাতিলের দাবি রিপাবলিকানদের

রিয়েল আইডিবিহীন বিমানযাত্রীদের ওপর টিএসএ-এর ৪৫ ডলার ফি বাতিলের দাবি রিপাবলিকানদের

তেহরান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু

তেহরান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু, হজযাত্রীদের নিয়ে অবতরণ

0 Comments