পর্যটক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিদেশি ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই। ‘Dubai Invite’ নামে চালু হওয়া কর্মসূচির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দারা যদি বিদেশে থাকা বন্ধু বা আত্মীয়দের দুবাই ভ্রমণে উৎসাহিত করে আনতে পারেন, তাহলে তারা ৩ হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহামেরও বেশি মূল্যের বিশেষ সুবিধা পাবেন। দুবাইয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজম পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত বাসিন্দাদের জন্য হোটেলে থাকা, রেস্তোরাঁয় ছাড়, বিনোদনকেন্দ্রের টিকিটসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পর্যটন খাতে দেখা দেওয়া বড় ধাক্কা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের একটি বড় অংশ দুবাই সফর থেকে সরে দাঁড়ায়। এর প্রভাব পড়ে বিমান চলাচল, হোটেল ব্যবসা এবং পর্যটননির্ভর সেবাখাতে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত বা সীমিত হওয়ায় যাত্রী সংখ্যাও কমে যায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলতে শুরু করে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনেক হোটেলে কক্ষ খালি পড়ে আছে এবং পর্যটননির্ভর কিছু প্রতিষ্ঠানের আয় ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরবও নির্ধারিত সময়ের আগেই দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারকাজে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়, অতিরিক্ত ফ্রি নাইটসহ বিভিন্ন অফার ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্মসূচি চালুর প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা উদ্যোগটির প্রতি বাসিন্দাদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যটন খাত দুবাইয়ের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ২০২৫ সালে শহরটি প্রায় ২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটককে স্বাগত জানিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাবন্দী হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা কেরি এনওয়াচুকু। দুইজন বাড়িওয়ালার প্রায় ১৯ হাজার পাউন্ড বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ইউএই ত্যাগ করতে পারছেন না। লন্ডনের বাসিন্দা কেরি সথবিজ-এর মার্কেটিং ডিরেক্টরের চাকরি ছেড়ে তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছেলে জন-কে নিয়ে ২০২২ সালের আগস্টে একটি মার্কেটিং এজেন্সি খোলার উদ্দেশ্যে দুবাই যান। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ হাজার পাউন্ডের বেশি বকেয়া বিল না পাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তিনি এই ভাড়া অনাদায়ে পড়েন। ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকারী আদালতের (আরডিসি) দুই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি নিজের ব্যবসায়িক লাইসেন্সও নবায়ন করতে পারেননি। গত ২২ এপ্রিল একটি শপিং মল থেকে তাঁকে আটক করে বার দুবাই পুলিশ স্টেশনে দুই সপ্তাহ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে আল আবির সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়। কারাগারে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কেরি বলেন, শুরুতে তাঁর কোনো ম্যাট্রেস ছিল না এবং তাঁকে খুনের মামলার আসামি ও মাদক বিক্রেতাদের সাথে একই সেলে রাখা হয়েছিল। টয়লেটের মেঝেতে অন্যের প্রস্রাব এড়াতে তিনি ৩ পাউন্ড খরচ করে এক জোড়া স্লিপার কেনেন। কেরির ছেলের বারবার আবেদনের পর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৩,০০০ পাউন্ড পরিশোধের পর ১৫ মাসের কিস্তি চুক্তিতে তিনি সাময়িক মুক্তি পান। তবে তিন সপ্তাহ পর বিচারক সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো অর্থ পরিশোধের জন্য মাত্র ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন। সেই সময়সীমা পার হওয়ায় তিনি এখন যেকোনো মুহূর্তে আবারও গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, ৪,০০০ পাউন্ড সংগ্রহ করতে পারলে বিচারক হয়তো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করতে পারেন, তবে তাও নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্যে তাঁর বন্ধু ও পরিবার দৈনন্দিন খরচ ও ভাড়ার কিস্তি মেটাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ চালু করেছে। কিন্তু কেরি জানিয়েছেন, দুবাইয়ে গোফান্ডমি কোনো অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম নয় এবং এটি ব্যবহারের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো সাজা বা নতুন করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাজ্যের নিজ বাড়িতে ফেরার আকুল অপেক্ষায় থাকা কেরি দুবাইয়ের চাকচিক্যের পেছনের কঠোর ও বিপজ্জনক আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাবলীল করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দুবাই। বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য স্পনসর বা আয়োজক ছাড়াই পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিজিট ভিসা চালু করা হয়েছে। এই নতুন সুবিধার ফলে পর্যটকরা এখন থেকে একটিমাত্র ভিসার মাধ্যমেই আগামী পাঁচ বছর ধরে একাধিকবার দুবাইসহ পুরো আরব আমিরাতে অবাধে প্রবেশের দারুণ এক সুযোগ পাবেন। দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ) সম্প্রতি এই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ভিসার আওতায় একজন দর্শনার্থী প্রতিটি সফরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে পর্যটকরা চাইলে এই মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের একমাত্র শর্ত হলো, কোনোভাবেই এক বছরের মধ্যে মোট অবস্থানের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি অতিক্রম করা যাবে না। জিডিআরএফএ আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিকরাই এই আকর্ষণীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দাখিল করতে হবে। আবেদনের অত্যাবশ্যকীয় শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর সদ্য তোলা রঙিন ছবি এবং কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হবে। এছাড়া আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ন্যূনতম চার হাজার মার্কিন ডলার বা তার সমপরিমাণ ব্যালেন্স দেখাতে হবে। এর পাশাপাশি প্রত্যেক আবেদনকারীর বৈধ স্বাস্থ্য বীমা এবং দেশে ফেরার কনফার্মড রিটার্ন বিমান টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ করে যে কেউ দীর্ঘমেয়াদে আমিরাত ভ্রমণের সুবিধা নিতে পারবেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক ২৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ব্রুক জর্জ নামে ২৩ বছরের এক ব্রিটিশ টিকটক ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। দুবাই পুলিশ তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনেছে। অপরাধী প্রমাণিত হলে স্থানীয় আইন অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াড বা ফায়ারিং দলের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা 'ডিটেইন্ড ইন দুবাই'। তবে ওই তরুণীর দাবি, তিনি কেবল নিজের জীবন বাঁচাতে আত্মরক্ষার্থে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের কেন্টের বাসিন্দা ব্রুক জর্জ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই যুবকের সাথে পরিচিত হন এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে একটি অনলাইন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথমবার দুবাই ভ্রমণ শেষে তিনি এই সম্পর্ক নিয়ে বেশ আনন্দিত ছিলেন। তবে দ্বিতীয়বার দুবাইয়ে আসার পর ওই যুবকের আচরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি ব্রুকের ওপর প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতন ও নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই যুবক ব্রুকের পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে বাধা দিতে শুধুমাত্র ওয়ান-ওয়ে বা একমুখী বিমানের টিকিট কেটে দেন। মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে একটি আইরিশ বারে মদ্যপান করার পর ওই যুবক গাড়ির ভেতরে এবং পরবর্তীতে তাদের ফ্ল্যাটে ফিরে ব্রুককে মারাত্মকভাবে মারধর করেন। ব্রুক যখন কান্নাকাটি করে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চাচ্ছিলেন, তখন তার মুখে সজোরে ঘুষি মারা হয়। ব্রুকের মা তেরেসা জর্জ জানিয়েছেন, ঘটনার পর ব্রুকের সাথে যখন তার ফোনে কথা হয় তখন সে ভয়ে কাঁপছিল এবং মারধরের কারণে তার একটি চোখ প্রচণ্ড ফুলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নিজের জীবন বাঁচাতে মরিয়া হয়ে হাতের কাছে থাকা একটি কিচেন বা রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে ব্রুক আত্মরক্ষা করেন, যার ফলে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। গত ২২ জুন ভোরে দুবাই বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় পুলিশ ব্রুককে গ্রেপ্তার করে বার দুবাই থানায় নিয়ে যায়। ব্রুকের পরিবারের অভিযোগ, থানায় কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছাড়াই পুরুষ কর্মকর্তাদের সামনে তাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে তল্লাশি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক। এছাড়া তাকে ব্রিটিশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি এবং কোনো আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই জোরপূর্বক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই রিয়েল এস্টেট বাজারে বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। দুবাই-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালুস্ট্র্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে আবাসন বিক্রি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান লেনদেনের এই হার গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ভ্যালুস্ট্র্যাট-এর আবাসন গবেষণা বিভাগের প্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, বৈশ্বিক মহামারির পর থেকে তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় ধরনের বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে দুবাইয়ের আরেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেইডিন’-এর পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে মাসে দুবাইয়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (৬.১ বিলিয়ন ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক। দুবাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে শূন্য আয়কর নীতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের আগমনে আবাসন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার এসেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিশেষ করে মার্চ মাসে দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি হলেও বাজার কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আবাসন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধস ঠেকাতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের বিক্রেতারা এখন কোটি কোটি টাকা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত দামি সম্পত্তি কেনাবেচায় নিয়োজিত এক এজেন্ট জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। গত দেড় বছরে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা অতি-ধনী ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিরত থাকছেন। গত ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংকে পেছনে ফেলে বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইয়ের এই অবস্থান এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিব্রাজক অতি-ধনীরা এখন দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। এই আকস্মিক ধসের কারণে দুবাইয়ে গড়ে ওঠা শত শত ছোট রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এজেন্সি এখন ব্যবসা বন্ধ করার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল সহায়তা করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। গত ১২ জুন পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। জানা গেছে, দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে মামলার বিস্তারিত অভিযোগ বা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
দুবাইয়ের প্রতীকী বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরব-এ বড় ধরনের সংস্কারকাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এ কারণে হোটেলটি অন্তত ১৮ মাসের জন্য আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম এত বড় পরিসরে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। হোটেলটির মালিক জুমেইরাহ গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংস্কারকাজ ধাপে ধাপে প্রায় দেড় বছর ধরে চলবে। পুরো প্রকল্পের নকশা তত্ত্বাবধান করবেন প্যারিসভিত্তিক ইন্টেরিয়র স্থপতি ত্রিস্তান অর। তবে এই সময়ে হোটেলটি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, যেসব অতিথির আগাম বুকিং রয়েছে, তাদের জন্য কাছাকাছি অন্য হোটেলে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সংস্কারের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে বন্ধ থাকার সময়সীমা কিছুটা পরিবর্তিতও হতে পারে। পালতোলা নকশার জন্য পরিচিত এই আইকনিক স্থাপনাটি দুবাইয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং জুমেইরাহ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে ইরানের ড্রোন প্রতিরোধের সময় সৃষ্ট কিছু ধ্বংসাবশেষ হোটেলের বাইরের অংশে আঘাত করে সামান্য ক্ষতি করেছিল। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান সংস্কার প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত একটি উন্নয়নকাজ, যা চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতার বাইরে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে পর্যটন খাত কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে—ফ্লাইট বিঘ্নিত হচ্ছে, পর্যটকের সংখ্যাও কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই সময়টিকে সংস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই–এ ইউক্রেনের একটি ড্রোন-বিধ্বংসী অস্ত্রের ডিপোতে হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) চালানো ওই হামলায় ডিপোটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ড–এর এক মুখপাত্র দাবি করেন, হামলার সময় সেখানে ২১ জন ইউক্রেনীয় ড্রোন বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। হামলার পর ডিপোর ভেতরের অবস্থা স্পষ্ট না হওয়ায় তাদের সবাই নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামরিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর গোপন স্থাপনা লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা ইউক্রেনের ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থার ডিপোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংস্থাটির মুখপাত্র জর্জি তিখি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরান প্রায়ই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে। এর আগে শনিবারই এক অনানুষ্ঠানিক সফরে আমিরাতে যান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সফরকালে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা জোরদারের কথা জানান। তার এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ড্রোন ডিপোতে হামলার দাবি সামনে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও এটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।